somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহানা ১৩

১১ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুচি প্রায় বছর খানেক ঐ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। খুব ভাল লাগত তার মনে হত জীবনের একটা উদ্দেশ্য আছে। সকালে উঠে রেডি হয়ে অফিসে যাওয়া , সহকর্মিদের সাথে দুপুরের খাওয়া, বিকেলে হয়ত একটু চা নিয়ে সবাই মিলে গল্প করা।শুচির কাছে ভীষণ ভাল লাগার মুহূর্ত ছিল ওগুলো! ওর বস ছিলেন কড়া মহিলা। কিন্তু শুচিকে উনি স্নেহ করতেন। অনেক উপদেশ দিতেন যেহেতু শুচির বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না সে যাতে হতাশ না হয়! ওর অবশ্য মজাই লাগত।কেউ ওকে নিয়ে চিন্তা করছে ভাবতেই মনটা ভাল হয়ে যেত।
অফিসে মাঝে মাঝে সজল নামিয়ে দিয়ে যেত। সেও ইতিমধ্যে একটা ব্যাংকে কাজ পেয়ে যায়।শুচি অফিস থেকে বাসায় ফিরে রান্নাঘরে যায়।মায়ের সাথে এটা ওটা নিয়ে কথা বলে। বাবাকে চা দেয়। হৈ হৈ করে দুভাই ফিরে। কাজল বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সে খুব আশাবাদী।ছয়মাসের মধ্যে তার টাকার যোগাড় হয়ে যাবে।তাই বলে সে মন খারাপ করে থাকে না। সেও টুকটাক কাজ করে।

সজল ফিস ফিস করে কাজলের সাথে, আবার দুজনেই চুপ হয়ে যায়।শুচি বুঝে কিছু ওরা বলবে।সে ওদের কাছে গিয়ে বসে। কাজল কথা শুরু করে বুবু তোর চাকরি কেমন চলছে! তোকে কেউ বিরক্ত করে নাতো?
কি নিয়ে বিরক্ত করবে! কেনই বা বিরক্ত করবে!
শোন দুজন ভদ্রলোক তোকে দেখে পছন্দ করেছে।তোকে বিয়ে করতে চায়।একজন সজলের বন্ধুর বড় ভাই, আরেক জন শুচির এক কলিগের বন্ধু!প্রথমজন বিদেশে থাকেন, সাদা মেয়ে বিয়ে করেছিলেন, দুটো বাচ্চা আছে।বাচ্চাদের রেখে বউ চলে গেছে। খুব অসুবিধার মধ্যে আছে, তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায়।আরেকজন সরকারি চাকরি করে, এখন ডেপুটেশেনে বাইরে আছেন, বিয়ে করেন নাই।
শুচির বেশ বিরক্ত লাগে। তার ভাল লাগার মনটা তেতো হয়ে যায়। নিজেকে কেবল সামাল দিতে পারছে, আবার বিয়ে করতে হবে তাও দুই বাচ্চার দায়িত্ব নিতে হবে! ধ্যাৎ কার মুখ দেখে যে আজকে উঠেছিল!
পরিষ্কার গলায় শুচি প্রথম প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।আর দ্বিতীয়জনের কথায় জানতে চায় আমি ডিভোর্সি, উনি আনম্যারেড, আমাকে কেন বিয়ে করবেন?
তোকে উনি খুব পছন্দ করেছেন। আমরা কথা বলে দেখেছি। ভদ্রলোক বেশ ভাল। চাসতো তুইও কথা বলে দেখ।
আচ্ছা কথা বলব।
ভার মনে শুচি উঠে ঘরে যায়। রাতে খাওয়ার সময়ও কথা টথা বেশী বলে না।আবার বিয়ে করতে হবে চিন্তা করেই তার অস্হির লাগতে থাকে। রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না। সকালে উঠে অফিস চলে যায়, সজলের জন্য অপেক্ষা না করেই।

কাজেও মন দিতে পারে না। খালি হাই তুলতে থাকে।বস একবার বলেই বসেন কি ব্যাপার ঘুম হয়নি। শুচি চুপ করে থাকে। বস মিটিং এ চলে গেলে সে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে! টেবিলের উপরে হাত দিয়ে মাথাটা নামিয়ে দেয়। ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। মনে হয় মাথার কাছে কে জানি টেবিলে টোকা মারছে। শুচি চমকে উঠে। চোখ খুলে দেখে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। স্যরি ডিস্টার্ব করলাম। আপনি শুচি? আমার নাম ইউসুফ খান।
আপনি কোথা থেকে এসেছেন! কেন এসেছেন?
আমাকে আপনার কথা একজন বলেছে।তাই আমি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি।
কি চান?
চাই তো অনেক কিছু।এখানে অফিসে এত কথা বলা যাবে না। আচ্ছা আমি পরে ফোন করে আপনার সাথে কথা বলব।
কিন্তু আমিতো আপনাকে চিনি না।
পরিচয়তো হোল। আস্তে আস্তে চিনে নিবেন। আজ আসি। আমার ডাক নাম রানা।
শুচি কেমন ঘোরের মধ্যে ছিল। কে এই লোক! একি সেই ভদ্রলোক। বোধ হয় । সে সজলের অফিসে ফোন করে। সজল নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:২৭
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×