somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহানা ১৪

১৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসে শুচি খুব অস্হির থাকলো। আরেকবার সজলকে ফোন করে। নাই,আশ্চর্য কোথায় গেল! কোনরকমে কাজ শেষ করে অপেক্ষায় থাকে কখন বাড়ি যাবে! ছুটি হলে কারো সাথে কথা না বলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে। এই যা, একজন উঠছিলেন ধাক্কা লেগে গেল।স্যরি বলে দাঁড়ায় না ছুটতে থাকে শুচি।দারোয়ানকে দিয়ে রিক্সা ডাকিয়ে নেয়। সারা রাস্তা আবোল তাবোল চিন্তা করে। বাসায়ও সজল নাই! কোথায় যেতে পারে! শুচি আর থাকতে পারে না। মা সজল কিছু বলেছে তোমাকে! কখন আসবে? ওর কি দেরী হবে?
যেমন আসে ঠিক সেসময় আসবে। এত কথা জানতে চাচ্ছিস কেন? কি হয়েছে!
কিছু না। শুচি ঘরে চলে আসে। কেমন জানি সব উলট পালট লাগে তার।এটা কি কোন কিছুর পূর্ব লক্ষণ! সজল ফেরে বেশ রাত করে,রাতের খাওয়ারও পরে। এত দেরী করলি যে? মা জানতে চায়। সজল কি বলে শুচির তা শোনা হয় না। সজল একটু শুনে যা, সে ঘর থেকে ডাক দেয়। আসি ।
কি রে কি বলবি বল! তুই ফোন করছিলি, অফিসেই ছিলাম না।একটু কাজে ব্যস্ত ছিলাম!
তোর আবার কি এমন কাজ?
বলা যাবে না। কি, কেন খুঁজছিলি? শুচি দরজা বন্ধ করে বলে,
তুই যে কাল বলছিলি সেই ভদ্রলোক আজ এসেছিলেন অফিসে।
কি যে বলিস বুবু! সে তো এখন ঢাকাতেই নাই। গ্রামে গেছে, মাকে নিয়ে আসতে।আসবে আরো চার পাঁচদিন পরে। তুই কার কথা বলছিস?
সে না দেখে আমাকে পছন্দ করেছে!
কিছুদিন আগে তোর অফিসে গিয়ে দেখেছে।
শুচি বোকা হয়ে যায়। আচ্ছা তোর বিদেশী ভদ্রলোকের নাম কি?
পার্বান চৌধুরী। দেখতে খুব সুন্দর। বেশ লম্বা।
শুচি দমে যায়।তার আর কথা বলার শক্তি থাকে না। নামেরও তো কোন মিল নাই। ঐ লোকটা কে! দুপুরে তার ঘুমের সময় এসেছিল। তাহলে কি সে স্বপ্ন দেখছিল! সজল বোনের মুষড়ে পরা দেখে মজা করতে চেয়েছিল।কিন্ত শুচির চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারে না। এত ভেংগে পরছিস কেন? কি হয়েছে? আমাকে বলবি না!
শুচি সজলকে দুপুরের ঘটনা খুলে বলে। দারুণ তো! লোকটা দেখতে কেমন! আজে বাজে গুন্ডা নাতো?
আমারতো তা মনে হয়নি। তুইও চিনিস না লোকটা কে! আমি কার কাছ থেকে জানব।
তোকে যখন বলেছে ফোন করবে, অপেক্ষা কর, হয়ত দু এক দিনের মধ্যে ফোন করবে।
যদি না করে?
না করলে না করবে। এ নিয়ে তুই ভাবছিস কেন? তুই কি এক দেখায় প্রেমে পড়লি নাকি? তার উপর চিনিস না। বাদ দে। অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাতে যা।
সজল চলে যায় শুচিকে মন কষ্টে রেখে। সে কিছুতেই দুচোখের পাতা এক করতে পারে না।
সকালে উঠে শুচির ভীষণ মাথা ধরে। ফোন করে বলে দেয় যাবে না। চা খেয়ে ওষুধ খেয়ে আবার শুয়ে পরে।অফিসে
একটু পরে মা ঘরে ঢুকে বলে শুচি তোর ফোন।
হ্যালো
আজ আপনি অফিসে যান নি! আমি রানা বলছি।আপনার বসের কাছ থেকে বাসার নাম্বার নিয়েছি।আপনি কিছু মনে করেন নি তো? ভদ্রলোক মনে হয় এক নিঃশ্বাসে কথা বলছে! দাঁড়ি কমা কিছু নাই!
না কিছু মনে করি নাই।
আপনি এখন কেমন আছেন?
শুচির মাথাব্যথা চলে গেছে।সে মনে হয় হাওয়ায় উড়ছে।
এখন ভাল।
ভেরি গুড। রানা আরো কি বলতে চায়। শুচি বাধা দিয়ে বলে,
কিছু মনে করবেন না আপনি কি করেন? আর আমার কথা কার কাছে শুনেছেন!
ও সেটাই বলা হয়নি। স্যরি। আমি একজন প্রকৌশলী। সরকারী চাকরি করি, দুই বোন তিন ভাই।বোনেরা বড়। আমি সবার ছোট।কিছুদিনের মধ্যে দেশের বাইরে যাব। বিয়ে করেছিলাম সংসার টিকে নাই।কিছু দোষ আমার কিছু তার ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আপনার কথা বড় বোনের বান্ধবির কাছে শুনেছি। উনি আপনাদের দূর সম্পর্কের আত্নীয়। কাল অফিসে যাবেন তো?
হ্যা যাব।
গুড, কাল ফোন করব। রাখি।
আচ্ছা
শুচি মনে হয় এতক্ষণ ঘোরের মধ্যে ছিল। সারাদিন খালি রানার কথাই মনের মাঝে ঘুরপাক খায়।দুপরে ভাত খেয়ে আবার ঘুমের চেষ্টা চালায়।পারে না।বিকেলে সজল কাজল ফিরলে ওদের সাথে বসে আড্ডা দিতে চায়। জমে না। দূর কি যে হল তার শুচি বিরক্ত হয় নিজের উপর। হঠাৎ মনে হোল লোকটার বউ কি আর এমনি গেছে! নিশ্চয়ই এমন অত্যাচার করেছে বেচারি চলে গিয়ে বেঁচে গেছে। শুচি এতক্ষণে একটু শান্তি পেল। রানার দোষ বের করতে পেরে ভাল লাগছে।ভালোমানুষি করার আর জায়গা পায় না।সে হোল পোড় খাওয়া মানুষ, সহজে কাউকে বিশ্বাস করবে না।
পরদিন অফিসে খুব মন দিয়ে কাজ করে ।রানার চিন্তা মাথায় আনেনা। বস বোধহয় ব্যাপারটা খেয়াল করেন।অন্য দিনের তুলনায় শুচি বেশ চুপচাপ। দুপুরে খাওয়ার সময় শুচিকে বলেন আমার কিন্তু ভদ্রলোককে ভাল লেগেছে।
শুচি তাকিয়ে থাকে।কার কথা বলছেন!
কাল যে ভদ্রলোক তোমাকে খুঁজতে এসেছিল, বেশ আলাপি।
অফিসে এসেছিলেন?
হ্যা তুমি নাই শুনে চলে যাচ্ছিলেন, তখন আমিই তোমার বাসার নাম্বার দিলাম। ফোন করেনি?
করেছে।
বস মিটিং এ চলে গেলেন।মনটা হঠাৎ উদাস হয়ে যায়।লোকটা বললো ফোন করবে, আর এখন খবরই নাই! শুচি অফিস ছুটি হলে বাসায় যাবে না একটু ঘুরে যাবে ভাবছে।ঠিক তখনই রানার ফোন এল।
কেমন আছেন? সারাদিন এত ব্যস্ত ছিলাম ফোন করার সুযোগ পাইনি।কি করছেন?
বাড়ি যাব।অফিস শেষ করলাম। আপনি কি করছেন?
আপনার সাথে কথা বলছি! আমিও বাড়ি যাব।কিছু জরুরি কথা বলার ছিল।আপনি কি কাল আমাকে একটু সময় দিবেন?
আচ্ছা বলে শুচি ফোন রেখে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২২
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×