হঠাৎ করে ঘড়ির দিকে চোখ পরতে শুচি চমকে উঠল। বর্তমানে ফিরে এল। কোন মানে হয় এভাবে সময় নষ্ট করার! কি লাভ পুরোন কথা চিন্তা করে মনটা খারাপ করার! ওর আসলেই কোন গন্ডগোল আছে! টিলিকে জোর করে ঘুম থেকে উঠায়।
অনেক দিন পুলে যাও না। চল নিয়ে যাই।
মাম্মি প্লিজ একটু পরে উঠি।
মামনি দিনটাই শেষ হয়ে গেল! এখন না গেলে বাসায় আসতে সন্ধা হয়ে যাবে!
টিলি মুখ ভার করে উঠে পরে। মুখ ধুয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নেয়।
ওমা কিছু খাবে না?
ওখানে কিছু খেয়ে নিব, চল এখন।আমি চুমকিকে আসতে বলছি।
কেন! কি যে ঝামেলা কর সব সময়। আমি ওকে বাসায় নামাতে পারব না।
তোমার নামাতে হবে না। ওর আব্বু ওকে নিয়ে আসবে।
কেন উনার কাজ নেই?
আছে, আন্কেল আজ কাজে যায়নি। চুমকির হলিডের আজ লাস্ট ডে।আব্বুর তো কোন খেয়ালই নাই! ওর আব্বু ওর জন্য আজ বাসায়!
তোমার আব্বুতো উনার মত , কথা শেষ করতে পারেনা শুচি। টিলিকে এসব বললে বুঝবে না।বাংলাদেশের মত শ্রেণীভেদ এখানে নেই। মোটামুটি সবাই সবার সাথে মেলামেশা করে। কিন্তু তারপরেও কিছু মন গড়া নিয়ম মেনে লোকজন মেশে। সেটা বেশি হয় রানার বেলায়। সে কিছুতেই অন্যধরনের কাজ যারা করে,তাদের সাথে বেশি ঘেঁশতে পারে না!
শুচির অসম্ভব রাগ লাগে নিজের উপর। কি দরকার ছিলো পুলের কথা উঠানোর! এখনতো আবার জমির ভাইয়ের মুখামুখি হতে হবে। শুচি এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে আর এখন হেরে যাবে! কিছুতেই না।
বাড়ির কাছের পুলটাও প্রায় মিনিট পনেরোর পথ। শুচি খুব সাবধানে গাড়ি চালায় সেজন্য তার দশ মিনিট বেশি লাগে! সারাটা পথ টিলি আইপড শুনল। গাড়ি থেকে নামার সময় শুচি খেয়াল করল মেয়ের সাথে জমির ভাবিও এসেছেন। তার খুব ভাল লাগলো অন্তত জমির ভাইয়ের সাথে একা কথা বলতে হবে না। ওদের দেখে চুমকি ছুটে আসে।
আন্টি আমরা ভেতরে যেতে পারি?
যাও! টিলিকে কিছু টাকা বের করে দেয়। দুজন একছুটে চলে যায়।
বাচ্চাদের কান্ডটা দেখলেন! অনুযোগ করেন জমির ভাবি।
বন্ধু পেলে হুঁশ থাকে না। এরা এখনই এরকম, আর কয় বছর পরে তো আর আমাদের চিনবেই না!
শুচি চুপ করে যায়।আসলেই তো যদি সে রকম হয়! বাবা মার কোন খোঁজ যদি টিলি না করে! মাথাটা কেমন দুলে উঠে। ভাবতেই কষ্ট! সেই বা এমন কি বাবা মার খোঁজ নেয়। তার মেয়েতো তার মতই হবে! যা দেখবে তাই শিখবে!
ভাবি আপনি পুলে নামবেন না?
না না আজ না। আমি আজ নামব না। আপনারা নামুন।
শোন তাহলে আমিও নামছি না। তুমি নামলে নাম। জমির ভাবি ভাইকে বলেন।শুচি টাকা বের করে কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে নেয়। একবার ভাবে ওদের টিকেটও সে কিনবে কিনা! পরমুহূর্তেই নিজেকে সংযত করে।কি দরকার! চিন্তা করতে থাকে রানা সাথে থাকলে কি করত।ও কখনোই উপযাজক হয়ে হাত বাড়াত না! তাছাড়া ভদ্রলোক হয়ত মনে করে বসবে শুচি তাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে!
টিলি আর চুমকি সারা সময়ই চুপচাপ করে সাঁতার কাটল। শুচি ভেবে পাচ্ছে না ওরা এত চুপ কেন! এরকম তো হওয়ার কথা না! আবার কি হল!
ভাবি হঠাৎ করে বলে উঠেন আমি দেশে যাচ্ছি কিছুদিনের মধ্যে।
ওমা তাই নাকি! কিছুদিন আগেই না আসলেন! কবে ফিরবেন?
একটু দেরি হবে। আমি চুমকিকে নিয়ে যাব।
এখন গেলে ওর পড়ার অসুবিধা হবে না। নতুন ক্লাশ শুরু হবে।
একটু তো হবেই।ঠিক হয়ে যাবে!
শুচির খুব জানতে ইচ্ছে করছিল হঠাৎ করে কেন দেশে যাবেন এখন। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে পারে না। এটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ও কেন নাক গলাতে যায়!
টিলি একটু পরে এসে বলে তুমি কিছু কিনো আমার জন্য আমি খাব। চেন্জ হয়ে আসি।
শুচির কাছ থেকে জমির ভাবি উঠে গেলেন।চুমকির কাছে গিয়ে জিনিশ গোছান শেষ করে ভাইকে ডেকে বলেন চল যাই। চুমকির সুইম হয়ে গেছে।
কেন চুমকি আর থাকতে চায় না!
না! চল যাই।
খামোখা এত অল্প সময়ের জন্য আসার কোন মানে হয়! জমির ভাই মনে হয় বিরক্ত হয়েছেন।
টিলি মায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। খাবার নিয়ে শুচি অপেক্ষায় ছিল।টিলি গোগ্রাসে খাওয়া শুরু করে। চুমকি ওর থেকে কয়েকটা চিপস্ নিয়ে খায়।
ভাবি আমরা আসি। পরে কথা হবে।
চুমকিরা চলে গেলে শুচি বলে, টিলি তোমরা আজ এত চুপ ছিলে কেন? মেয়ে কোন জবাব না দিয়ে খেতে থাকে। পরে বলে তুমি জান আন্টি আর চুমকি দেশে চলে যাচ্ছে, আর আসবে না!
কি বলে আর আসবে না। আমাকে তো খালি বললো দেশে যাচ্ছি! কি যে বল তুমি। চুমকি তোমার সাথে জোক করেছে।
টিলি কোন কথা না বলে চুপ করে থাকে। শুচি ভাবে বন্ধু চলে যাচ্ছে তাই হয়ত টিলিটা আজ এত চুপ! খাওয়াটা শেষ করে নাও, তারপর যাই।
মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুচির বুকটা ধরাস করে উঠে! টিলির চোখে পানি! মেয়ের চোখের পানি শুচি সহ্য করতে পারে না। মামণি কি হয়েছে কাঁদছ কেন?
আন্টি দেশে যাচ্ছে কারণ ও আর আন্কেলের সাথে থাকতে চায় না! সে অন্য একটা লোককে লাইক করে।
শুচি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। আমি তো কিছু জানি না।
মনে মনে চিন্তা করে মহিলা কাকে পছন্দ করল? এখানে না দেশে!
মাম্মি তুমিতো সবসময় আব্বুর সাথে ঝগড়া কর! তুমিও কি আলাদা হয়ে যেতে চাও?
কিসের মধ্যে কি কথা। আমি ঝগড়া করি আমার রিজন আছে। তোমার আব্বুও সেটা ভাল করে জানে। তাই বলে আলাদা হব কেন? তুমি জান না আমরা দুজনে কত স্ট্রাগল করে বিয়ে করেছি! সবকিছুতে বাজে চিন্তা করতে হয় না। আর তাছাড়া ঝগড়াঝাঁটি সব ফ্যামিলিতেই হয় তাই বলে সবাই কি আলাদা হয়ে যায়!
শুচি পরিস্হিতি হালকা করার জন্য বলে ,
তুমি যখন বিয়ে করবে তখন তুমিও মাঝে মাঝে ঝগড়া করবে। আর আমি যদি তখন বেঁচে থাকি তো বলতে পারব, এই টিলি তুমি কি আলাদা হতে চাও!
টিলি হেসে ফেলে। মাম্মি তুমি যে কি বল না। আমি তো এখনই বন্ধুদের সাথে ঝগড়া করি।সাম টাইমস দে আর সো ইনটলারেবল! স্পেসিয়ালি দ্য বয়েজ!
মা মেয়ে দুজনেই হেসে উঠে। শুচি বলে চল উঠি তোমার আব্বু হয়ত বাসায় চলে আসছে। চিন্তা করবে।
টিলির ফোন বাজে। ঠিক রানা ফোন করেছে। তোমরা কোথায়!
আব্বু আমি পুলে এসেছি। একটু পরে আসছি। নাও মাম্মির সাথে কথা বল।
আমাকে একটু বললে কি হত! এসে দেখি নাই। কেন যে খালি চিন্তায় রাখ বুঝিনা।
তুমি খালি একাই কথা বলবে না আমারটাও শুনবে! মেয়েটার ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই ভাবলাম নিয়ে আসি। আমরা এখনই বের হচ্ছি। এই ধর বিশ মিনিটে চলে আসব।
আমি এখনও চা খাইনি।
একসাথে খাব, আসছি।শুচি হঠাৎ করে উৎফুল্ল হয়ে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

