somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহানা ১৭

২৪ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুচি মেয়ের চোখের দিকে আর তাকাতে পারে না। নিজেকে বড় অপরাধি লাগে। কত কষ্টে যে সে এরকম করে, সেটা মেয়েটা কি বুঝবে! টিলি বুক ভরা অভিমান নিয়ে সরে যায়। মায়ের যে কি হয়েছে। কেন যে এত রেগে যায়। সে সবটা জানে না, যতটুকু বোঝে বাবা কিছু একটা বলে যা মা কিছুতেই টলারেট করতে পারে না। বিশেষ করে মামাদের ব্যাপারে। মা কোন কথাই শুনতে চায় না। একবার তো মা রাগ করে প্রায় চলেই যাচ্ছিল। সেবার বাবা কোনমতে হাতে পায়ে ধরে যেতে দেয়নি। না বাবাটাকে নিয়ে আর পারা গেল না। এত কথা বলার কি দরকার! খামোখা। এখন এই রাগ সামলাতে মায়ের কতদিন লাগবে কে জানে। কি যে খালি নাই নাই ঝামেলা। টিলির আর ভাল লাগে না।
সে ল্যাপটপটা নিয়ে বসে।হঠাৎ করে মনে হয় একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে! বাবা মা কেউই আর তার দিকে বেশি মনযোগ দিবে না।ব্যাপারটা এভাবে সে কখনও ভাবেনি। এখন একটু মনের সুখে সাবুর সাথে চ্যাটিং করতে পারবে! সাবুটা ইদানিং আবার অন্য মেয়ের পিছনে ঘুরছে কিনা সেটা আগে টেস্ট করতে হবে!
অনলাইনে গিয়ে অন্য বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং এর ফাঁকে সাবুকে টেস্ট করা হয়ে যায়। সে একটু নিশ্চিত হয়, তার সাবুতো আছে।
মনের আনন্দে সে স্কুল খুললে কি করবে তার প্ল্যান করা শুরু করে।
দরজায় টোকা পরে। টিলি তোমার ফোন এসেছে।
ধুর এখন আবার কে ফোন করল! একরাশ বিরক্তি নিয়ে টিলি ফোন ধরে।ওর এক চাইনিজ বন্ধু। ফোন করার আর সময় পেলনা। কোনরকমে হু হু করে ফোন রেখে দেয়। এক ফাঁকে ভাবে বাবাকে দেখে আসি। বেচারি বোধহয় খুব মন খারাপ করেছে।
কিসের কি। আব্বুতো ঘুমিয়ে গেছে! ভালই। গন্ডগোল লাগিয়ে দিয়ে কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে। আহা সে যদি বাবার মত হতে পারত। শোয়ার সাথে সাথে ঘুম।কি শান্তি। হঠাৎ করে টিলির খুব রাগ ধরে। অশান্তি লাগিয়ে দিয়ে চুপ করে ঘুমাচ্ছে। ডাক দেয় আব্বু আব্বু ।
রানা উঠে যায়। টিলিকে দেখে একটু অবাক হয়। সাধারনত এরকম ঝগড়ার পর মেয়েটা নিজের ঘরে ঢুকে থাকে, বেশি বেড় টের হয়না। নিজের মত মানিয়ে চলে। আজ কি হলো!
কি বল মামণি!
কাল আমি একটু বন্ধুদের নিয়ে শপিংএ যাব।
তা তোমার মাম্মিকে বল! আমার তো অফিস আছে। আমার সাথে যেতে হলে উইকয়েন্ডে প্রোগ্রাম কর!
টিলির প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম! মাকে এখন বললে তো দাবড়ানি খেতে হবে!আজকেই পুলে নিয়ে গেল।
আব্বু তুমি একটু দেরি করে অফিসে যাও না, আর মাম্মি আমাকে নিয়ে আসুক।ওকে আব্বু! তুমি বুঝনা কেন, আমি কালকে তোমার সাথে যেতে চাই!
আচ্ছা ঠিক আছে। নিয়ে যাব। তাহলে তোমাকে সকালে উঠতে হবে।
উঠব, কোন অসুবিধা নাই। থ্যাংকস আব্বু। ইউ আর দ্য বেস্ট আব্বু।
সবাই সেটা বুঝে না।
টিলি বলে উঠে আমি বলছি বেস্ট আব্বু, নট দ্য বেস্ট হাজবেন্ড!
রানা পাশ ফিরে শোয় মেয়েও তার সাথে এভাবে কথা বলে।শুচিতো আর
আগামি সাত দিন তার চেহারাই দেখবে না।সে আস্তে করে দরজা টেনে দেয়। রানার কষ্ট শুচি বুঝেনা। রানার ভাই বোনেরা সম্পত্তি এমন ভাগ করেছে যে ঢাকায় গিয়ে তার নিজের থাকার মত কোন জায়গা নাই। শ্বশুরবাড়িতে উঠতে হয়।ওদের সম্পত্তি যা ছিল বিক্রি করে ভাই বোনেরা যার যার ভাগ নিয়ে নিয়েছে।বিক্রির সময় কত মিষ্টি মিষ্টি কথা! তুইতো বিদেশে থাকিস, ঢাকায় বাড়ি দিয়ে তুই কি করবি! যখন আসবি সবার বাসায় ভাগাভাগি করে থাকলেই হবে! আপা দুলাভাইয়েরা,ভাইয়া ভাবিরা সব সরকারি চাকুরি করে।ভাইদের কারো বাচ্চা নাই।সরকারি বাড়িতে থাকে।সুতরাং ওরা রানার সমস্যা বুঝেনা। মুখে বলে ঢাকায় যখন আসবি আমাদের বাসায় থাকবি। একবার উঠে দেখেছে। ভাবিরা ভাল চোখে ব্যাপারটা নেয় না।আপাদের বড় সংসার, তার উপর চাকরি ভীষণ ব্যস্ত সময় দিতে পারে না।অগত্যা শুচিদের বাড়িতে উঠতে হয়। তাছাড়া টিলি মামাদের সাথে খুব এটাচড। চাচাদের সাথে না। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রানাকে অনেক কিছু হজম করতে হয়। টিলির মামারা ভাল ব্যবহারই করে, কিন্তু রানার মনের সন্দেহ যায় না। হাজার হোক সৎ ভাই। যদি শুচিকে কিছু না দেয়!। কি করতে পারে ওরা। শুচিতো বোঝেনা।সবটাতেই ইমোশনাল। এত ইমোশনাল হলে তো ভাইয়েরা কিছু দিবেনা। শুচিকে বোঝাবে তুই বাইরে থাকবি তোর আর কি লাগবে। রানাকে যেমন ওর ভাই বোনেরা বুঝিয়েছিল! রানা এতদুর জীবনে যা কিছু অর্জন করেছে নিজেদের চেষ্টায়, বাড়ি থেকে কোন সাহায্য পায়নি। শুচিও যতদূর সম্ভব ওকে সাহায্য করেছে। দুজনের মিলিত প্রচেষ্টা! কেন এখন সব এলোমেলো হয়ে যায় রানা বুঝেনা। সেতো অন্যায় কিছু বলছে না!।
যখন অবস্হা ছিল না, তখনতো বলেনি। এখন অবস্হা ফিরেছে বলতে অসুবিধা কোথায় রানা বোঝেনা। অভিজাত এলাকায় শুচির বাবার কয়েকটা ফ্ল্যাট আছে।সেগুলির ভাড়া থেকে অনেক টাকা আসে। রানার ইচ্ছে শুচি ওর বাবাকে বলুক ওকে ফ্ল্যাট লিখে দিতে। যাতে পরে কোন গন্ডগোল না হয়। আর ফ্ল্যাটের ভাড়া যা হয় সব শুচির একাউন্টে দিতে হবে।শুচি কিছুতেই বলবে না। এটা তার বিবেকে বাধে।কি ভাবে সে বলে। বাবা বেঁচে থাকতে কিভাবে সে ভাগের কথা বলবে। অসম্ভব মনে হয় শুচির কাছে, বাবা কি মনে করবে! এতটা ছোট সে হতে পারবে না। তাছাড়া রানার সাথে প্রথম যেদিন বেড়াতে যায়, সেদিন অনেক কথা হয় । তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যে কথা শুচি বলে সেটা হল তাদের কোন সম্পত্তি নাই!। রানাও বলে আমারও নাই। তারপর দুজনেই হাসে। নিজেই নিজের সম্পত্তি। কোথায় গেল সেই দিন। রানা যখনই সম্পত্তির কথা উঠায় ওর খালি পুরোন স্মৃতি ভাসে। শুচি আর ভাবতে পারেনা। কত কথা রানা সেদিন বলেছিল ।কি ভাবে তার বিয়ে হোল, কেন বিয়েটা টিকলো না।কেন শুচিকে ভাল লাগছে, শুচি তাকে পছন্দ করছে কিনা। আহারে সেদিনগুলি যদি আবার ফিরে পেত।শুচির চোখের পানি আর থামে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×