শুচি ছোট রুমে গিয়ে আবার ফোঁপাতে থাকে। সবকিছু অর্থহীন লাগে।কেন এমন হল! সমস্ত হিসাব উলট পালট হয়ে যায়।জীবনের কোন উদ্দেশ্য নাই।স্হবির হয়ে গেছে।এক বিন্দুতে থেমে গেছে। তার সংসারটাই যেন মুখ থুবড়ে আছে। ওর চিন্তা শক্তি লোপ পায়। কতদিন হয়ে গেল এভাবে চলছে! যখনই কোন কিছু নিয়ে শুচি একটু স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে তখনই রানা তাকে এভাবে কষ্ট দেয়। কিন্ত কেন! রানা কি চায় না, ওরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। স্বামী স্ত্রীর পরিচয় খালি নামেই থাকবে! রানা কি আরেক লোকমানে পরিণত হচ্ছে! চিন্তা করতেই শুচির কেমন গা গুলিয়ে উঠে। বাথরুমে গিয়ে মাথায় পানি ঢালে। চুলে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখে। অনেক হয়েছে ।মেয়েটার মাঝে পরিবর্তন আসছে।ওর দিকে নজর দিতে হবে। মন শক্ত করে শুচি বেডরুমের দরজা খোলে। সুইচ অন করে। আলো দেখে রানা চোখ খুলে অবাক হয়ে যায়। শুচি কি স্ট্রাটেজি চেন্জ করল! সে না সবসময় রাগ করলে কম করে হলে সাত দিন কথা বলে না! আজ কি হোল!
ঘুম থেকে উঠ, আমি কথা বলব।
তুমি আজকে আমাকে ভীষণ অপমান করেছ, আমি কোন কথা শুনতে চাইনা।
শুনতে হবে, এখন কেমন লাগে, তুমি যখন আমাকে অপমান কর? শুচির গলার আওয়াজ হিস হিস করে।
গত কয়েক বছর ধরে তুমি আমাকে এই নিয়ে কত হাজার বার অপমান করেছ হিসাব রাখ!এখন দরকারি কথা শোন,টিলি কি বলছিল?
রানা কোন কথা না বলে চুপ করে শুয়ে থাকে। টিলি পায়ে পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। সাংঘাতিক কিছু হতে যাচ্ছে, সে আঁচ করতে পারে।
আচ্ছা মাম্মি কি বলছিল তখন চাচিরা বাচ্চা নেয়না। হুঁ বাচ্চা নিবেনা কেন।আসলে বাচ্চা হয় না ওদের।টিলি ফুপিদের কাছে শুনেছে। বড় ফুপি বলছিল ওদের বাচ্চা হয়না, অনেক চেষ্টা করেছে। সত্যি কি মাম্মি এগুলো জানেনা। আব্বুকে বলে কি লাভ। আব্বুর জেনে কি হবে চাচিদের বাচ্চা হওয়া নিয়ে।আমার এত ভাল স্মার্ট মা যে দিনে দিনে কেমন হয়ে যাচ্ছে। টিলি সবসময় বাবা মাকে নিয়ে প্রাউড ফিল করে। কিন্তু আজ পারছে না। থাক ওদের কথা শুনে আর কি হবে। আবার সেই চিৎকার কান্নাকাটি, দরজা বন্ধ কথা বন্ধ। দূর আর ভাল লাগে না। টিলি গিয়ে শুয়ে পরে। ভীষণ মন খারাপ তার। খিদে পায়। মায়ের কোন হুঁস নাই। খালি রাগ । এত রাগ করে কি হবে।
টিলিকে অবাক করে দিয়ে রানা শুচি দুজনেই ওর ঘরে আসে। টিলির হঠাৎ খুব ভয় করতে থাকে। ওরা কি ডিভোর্স নিচ্ছে নাকি! কি করে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে। ঘটনা কি। সে চোখ বড় বড় করে মায়ের দিকে তাকায়। শুচি আদর করে খেতে ডাকে। রানা বলে আমি বসে গেলাম তোমরা আস। টিলি তখন মাকে ইশারা করে কি ব্যাপার। শুচি বলে কি আর হবে। আমরা চাই না আমাদের ঝামেলার সুযোগ নিয়ে তুমি বেয়াড়া হয়ে যাও।
মানে আমি কখন বেয়াড়া হলাম!
এই যে তুমি কালকে সকালে আবার শপিং এ যাচ্ছ। আসলে তো অন্য জায়গায় যাচ্ছ তাইনা?
টিলি কথা খুঁজে পায়না। ওর মাম্মি কি ভাবে যেন ধরে ফেলে ও কি করতে চায়! ঢোঁক গিলে বলে এই একটু সোফি আর সাবুর সাথে ঘুরতে চাচ্ছিলাম।
ভাল কথা ।মিথ্যা কথা বললে কেন! শপিং এ না বাইরে বেড়াতে যাচ্ছ, তাও ঐ ছেলেটার সাথে, যাকে আমি পছন্দ করি না। তুমি আর ছেলে খুঁজে পেলে না, শেষ পর্যন্ত পাকিস্হানি এক ছেলের পাল্লায় পরলে!
টিলির চোখ মুখ লাল হয়ে যায় ধরা পরে। মরিয়া হয়ে বলে ওরা তো দেশে যায় না, তাছাড়া ওর ফ্যামিলি লাস্ট থার্টি ইয়ারস এখানে থাকে।
টিলি আমিতো তোমাকে বলেছি পাকিস্হানিরা আমাদের সাথে কি করেছে। কি ভাবে তুমি ওদের সাথে নরম্যাল বিহেভিয়ার এক্সপেক্ট কর।
মাম্মি আমিতো ওকে বিয়ে করতে যাচ্ছিনা।সবাই ওকে লাইক করে। উই আর জাস্ট হ্যাভিং সাম ফান স্পেন্ডিং সাম টাইম টুগেদার।খালিতো ওর সাথে একা যাব না। সোফিও থাকবে। মাম প্লিজ।
না
মাম প্লিজ প্রোগ্রাম করে ফেলছি। তুমি কি ভাব সবাই ওরা খারাপ?কেন আমাদের দেশের সাথে ওদের যোগাযোগ নাই! আমাদের খেলার টিম ওদের দেশে যায় না? ওরা আসে না?
টিলির অকাট্য যুক্তির কাছে শুচি নীরব হয়ে যায়। ক্রিকেট নিয়ে দুই দেশের উন্মাদনার কথা কে না জানে!
মাম ডোন্ট বি সো হিপোক্রিট।তুমি আসলে কোন ছেলের সাথে আমার রিলেশনশিপ চাও না! লাস্ট ইয়ারে টুটুলকে নিয়েও তুমি কমপ্লেন করেছ। আসলে তুমি কি চাও?
ক্যানসেল কর। এখন খেতে আস। আমাকে আর জ্বালিয়ে নাতো।
ওহ কি হবে এখন,টিলি চেয়ারে বসে পরে। আগেই ভাল ছিল। মা রাগ করে থাকে, বাবা নিজের মত সে তার মত। ধুর কি ঝামেলা লেগে গেল এখন। আবার সবাইকে সে জানাতে হবে সে আসতে পারবে না। মা টা যে কেন এত চালাক সে বুঝে না। সব কিছু ধরে ফেলে। টিলির মাথার মধ্যে কি হচ্ছে শুচি মনে হয় পড়তে পারে। বাবাই ভরসা। আস্তে করে রানার কাছে গিয়ে খেতে বসে টিলি। আব্বু তুমি একটু মাম্মিকে বুঝাও, সবাই আসবে আমি না গেলে খারাপ দেখায়,বেশিক্ষণ থাকবনা। আব্বু প্লিজ।
কে সবাই শুধু দুজন!
আমাকে নিয়ে তিনজন!
আচ্ছা ঠিক আছে, এবারের মত যাক, আর এরকম করবে না, বলে দাও। রানা শুচির দিকে তাকিয়ে বলে।
টিলির খুশি দেখে মনে হয় হাতে চাঁদ পেয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

