somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহানা ১৮

২৮ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুচি ছোট রুমে গিয়ে আবার ফোঁপাতে থাকে। সবকিছু অর্থহীন লাগে।কেন এমন হল! সমস্ত হিসাব উলট পালট হয়ে যায়।জীবনের কোন উদ্দেশ্য নাই।স্হবির হয়ে গেছে।এক বিন্দুতে থেমে গেছে। তার সংসারটাই যেন মুখ থুবড়ে আছে। ওর চিন্তা শক্তি লোপ পায়। কতদিন হয়ে গেল এভাবে চলছে! যখনই কোন কিছু নিয়ে শুচি একটু স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে তখনই রানা তাকে এভাবে কষ্ট দেয়। কিন্ত কেন! রানা কি চায় না, ওরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। স্বামী স্ত্রীর পরিচয় খালি নামেই থাকবে! রানা কি আরেক লোকমানে পরিণত হচ্ছে! চিন্তা করতেই শুচির কেমন গা গুলিয়ে উঠে। বাথরুমে গিয়ে মাথায় পানি ঢালে। চুলে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখে। অনেক হয়েছে ।মেয়েটার মাঝে পরিবর্তন আসছে।ওর দিকে নজর দিতে হবে। মন শক্ত করে শুচি বেডরুমের দরজা খোলে। সুইচ অন করে। আলো দেখে রানা চোখ খুলে অবাক হয়ে যায়। শুচি কি স্ট্রাটেজি চেন্জ করল! সে না সবসময় রাগ করলে কম করে হলে সাত দিন কথা বলে না! আজ কি হোল!
ঘুম থেকে উঠ, আমি কথা বলব।
তুমি আজকে আমাকে ভীষণ অপমান করেছ, আমি কোন কথা শুনতে চাইনা।
শুনতে হবে, এখন কেমন লাগে, তুমি যখন আমাকে অপমান কর? শুচির গলার আওয়াজ হিস হিস করে।
গত কয়েক বছর ধরে তুমি আমাকে এই নিয়ে কত হাজার বার অপমান করেছ হিসাব রাখ!এখন দরকারি কথা শোন,টিলি কি বলছিল?
রানা কোন কথা না বলে চুপ করে শুয়ে থাকে। টিলি পায়ে পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। সাংঘাতিক কিছু হতে যাচ্ছে, সে আঁচ করতে পারে।
আচ্ছা মাম্মি কি বলছিল তখন চাচিরা বাচ্চা নেয়না। হুঁ বাচ্চা নিবেনা কেন।আসলে বাচ্চা হয় না ওদের।টিলি ফুপিদের কাছে শুনেছে। বড় ফুপি বলছিল ওদের বাচ্চা হয়না, অনেক চেষ্টা করেছে। সত্যি কি মাম্মি এগুলো জানেনা। আব্বুকে বলে কি লাভ। আব্বুর জেনে কি হবে চাচিদের বাচ্চা হওয়া নিয়ে।আমার এত ভাল স্মার্ট মা যে দিনে দিনে কেমন হয়ে যাচ্ছে। টিলি সবসময় বাবা মাকে নিয়ে প্রাউড ফিল করে। কিন্তু আজ পারছে না। থাক ওদের কথা শুনে আর কি হবে। আবার সেই চিৎকার কান্নাকাটি, দরজা বন্ধ কথা বন্ধ। দূর আর ভাল লাগে না। টিলি গিয়ে শুয়ে পরে। ভীষণ মন খারাপ তার। খিদে পায়। মায়ের কোন হুঁস নাই। খালি রাগ । এত রাগ করে কি হবে।
টিলিকে অবাক করে দিয়ে রানা শুচি দুজনেই ওর ঘরে আসে। টিলির হঠাৎ খুব ভয় করতে থাকে। ওরা কি ডিভোর্স নিচ্ছে নাকি! কি করে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে। ঘটনা কি। সে চোখ বড় বড় করে মায়ের দিকে তাকায়। শুচি আদর করে খেতে ডাকে। রানা বলে আমি বসে গেলাম তোমরা আস। টিলি তখন মাকে ইশারা করে কি ব্যাপার। শুচি বলে কি আর হবে। আমরা চাই না আমাদের ঝামেলার সুযোগ নিয়ে তুমি বেয়াড়া হয়ে যাও।
মানে আমি কখন বেয়াড়া হলাম!
এই যে তুমি কালকে সকালে আবার শপিং এ যাচ্ছ। আসলে তো অন্য জায়গায় যাচ্ছ তাইনা?
টিলি কথা খুঁজে পায়না। ওর মাম্মি কি ভাবে যেন ধরে ফেলে ও কি করতে চায়! ঢোঁক গিলে বলে এই একটু সোফি আর সাবুর সাথে ঘুরতে চাচ্ছিলাম।
ভাল কথা ।মিথ্যা কথা বললে কেন! শপিং এ না বাইরে বেড়াতে যাচ্ছ, তাও ঐ ছেলেটার সাথে, যাকে আমি পছন্দ করি না। তুমি আর ছেলে খুঁজে পেলে না, শেষ পর্যন্ত পাকিস্হানি এক ছেলের পাল্লায় পরলে!
টিলির চোখ মুখ লাল হয়ে যায় ধরা পরে। মরিয়া হয়ে বলে ওরা তো দেশে যায় না, তাছাড়া ওর ফ্যামিলি লাস্ট থার্টি ইয়ারস এখানে থাকে।
টিলি আমিতো তোমাকে বলেছি পাকিস্হানিরা আমাদের সাথে কি করেছে। কি ভাবে তুমি ওদের সাথে নরম্যাল বিহেভিয়ার এক্সপেক্ট কর।
মাম্মি আমিতো ওকে বিয়ে করতে যাচ্ছিনা।সবাই ওকে লাইক করে। উই আর জাস্ট হ্যাভিং সাম ফান স্পেন্ডিং সাম টাইম টুগেদার।খালিতো ওর সাথে একা যাব না। সোফিও থাকবে। মাম প্লিজ।
না
মাম প্লিজ প্রোগ্রাম করে ফেলছি। তুমি কি ভাব সবাই ওরা খারাপ?কেন আমাদের দেশের সাথে ওদের যোগাযোগ নাই! আমাদের খেলার টিম ওদের দেশে যায় না? ওরা আসে না?
টিলির অকাট্য যুক্তির কাছে শুচি নীরব হয়ে যায়। ক্রিকেট নিয়ে দুই দেশের উন্মাদনার কথা কে না জানে!
মাম ডোন্ট বি সো হিপোক্রিট।তুমি আসলে কোন ছেলের সাথে আমার রিলেশনশিপ চাও না! লাস্ট ইয়ারে টুটুলকে নিয়েও তুমি কমপ্লেন করেছ। আসলে তুমি কি চাও?
ক্যানসেল কর। এখন খেতে আস। আমাকে আর জ্বালিয়ে নাতো।

ওহ কি হবে এখন,টিলি চেয়ারে বসে পরে। আগেই ভাল ছিল। মা রাগ করে থাকে, বাবা নিজের মত সে তার মত। ধুর কি ঝামেলা লেগে গেল এখন। আবার সবাইকে সে জানাতে হবে সে আসতে পারবে না। মা টা যে কেন এত চালাক সে বুঝে না। সব কিছু ধরে ফেলে। টিলির মাথার মধ্যে কি হচ্ছে শুচি মনে হয় পড়তে পারে। বাবাই ভরসা। আস্তে করে রানার কাছে গিয়ে খেতে বসে টিলি। আব্বু তুমি একটু মাম্মিকে বুঝাও, সবাই আসবে আমি না গেলে খারাপ দেখায়,বেশিক্ষণ থাকবনা। আব্বু প্লিজ।
কে সবাই শুধু দুজন!
আমাকে নিয়ে তিনজন!
আচ্ছা ঠিক আছে, এবারের মত যাক, আর এরকম করবে না, বলে দাও। রানা শুচির দিকে তাকিয়ে বলে।
টিলির খুশি দেখে মনে হয় হাতে চাঁদ পেয়েছে।



সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×