somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপাঙতেয় ১৫

০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নূরীর সাথে খোকনকে দেখে তালুকদার সাহেবের চোখ একটু ছোট হয়ে গেল। ছেলেটা না জানি মেয়েটার কান ভারী করে ফেলছে। উনি তাড়াতাড়ি বলে উঠেন নূরী তোমার আম্মাকে খাবার দিতে বল, আমরা খেয়েই বেরুব। লিচুকে ডাকতে পাঠাও।
ওদের খাওয়া শেষ হয়ে গেল লিচু এল না। নূরীর আম্মা অনেক যত্ন করে রান্না করেছেন। জামাইএর খাওয়া নিয়ে নিয়ম মেনে চলতে হয়, তা তিনি জানেন। জাভেদের জন্য আলাদা তরকারি করে দিয়েছেন লবন ছাড়া। খাওয়া শেষ করে খোকন জাভেদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যায়, তার খুব দরকারি কাজ আছে। রাতে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়।

লিচুর জন্য নূরীর দুশ্চিন্তা শুরু হয়। তবে কি নয়নের সাথে ওদের বাড়ি চলে গেল! কাজের ছেলেটা ফিরে এল। ভাইজান পরে আইব। হের খুদা নাই। নূরী বসে বসে সবার কাজ করা দেখে। নিজের সংসারের কথা মনে হয়। একটু অস্হির হয়ে যায়, কবে ফিরবে কে জানে। যে ভয় ঢুকে গেছে, সহজে কাটবে বলে মনে হয় না। বসে থেকেই নূরীর চোখ ধরে এল, হঠাৎ কানে বাজে, মা উঠো না, আমি খাব।
চোখ মেলে দেখে লিচু দাঁড়িয়ে আছে, সাথে নয়ন। কি রে এত দেরি, সবাই খেয়ে উঠল, তোর দেখাই নাই। কোথায় গেলি যে খাওয়ার কথা মনে নাই!

মা জানো নদীর ধার দিয়ে হাঁটতে খুব ভাল লাগছিল। চল এবার তোমাকে নিয়ে যাব। আগে খেয়ে নেই।
খেতে বসে লিচু নয়নের সাথে ফিস ফিস করে, যেটা নূরীর চোখ এড়ায় না। কি রে হঠাৎ করে কি বলছিস!
মা জান, এখান থেকে অনেকেই ঢাকায় যাবে কাল, পরশুদিন বিরাট মিটিং হবে।
তা দিয়ে আমাদের কি বাবা। এসবে যাওয়া মানেই গন্ডগোলে পরা।

লিচু একটু চুপ করে বলে, আমার খুব যেতে ইচ্ছে করছে।

না রে লিচু, আমরা সাধারন মানুষ আমাদের মিটিং মিছিলে যাওয়া ঠিক না। হয়ত হঠাৎ করে মারামারি লেগে যাবে, কি কেউ তোকে গুলি মেরে দিবে।

মা তুমি সব সময় ভয় পাও আর খালি বাজে চিন্তা কর। কত হাজার হাজার লোক যাবে এই মিটিং এ জান। সারা দেশের লোক যাবে। লিচু খাওয়া বন্ধ করে কথা বলতে থাকে।

ওহ আমি বাজে চিন্তা করি। কি হল আমাদের ওখানে দেখ, কোন কিছুই না, তবু জান হাতে করে পালিয়ে আসতে হল। আরে বাবা সময়টা ভাল না। সবাই উত্তেজিত হয়ে আছে কিছু একটা হয়েই যাবে।
বড় মামাও তো ঢাকা যাবে।
খবরটা নতুন নূরীর কাছে। তার বড়ভাই রাজনীতিতে জড়িয়ে পরছে, এবং আম্মার সায় আছে, কিছুক্ষণ আগেই শুনেছে। যে আম্মা চিরদিন আব্বার রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। তার কাছে কেমন সব অচেনা মনে হচ্ছে। আচ্ছা শেষ কবে সে গ্রামে এসেছিল? বছর দুয়েক হয়ে গেছে, এর মধ্য এত পরিবর্তন হবে কে ভেবেছিল!

মা তুমি খালি ভয় পাও, দেখ নানি একদম ভয় পায় না।তোমার এত কিসের ভয়?
থাক তোকে এত মাতব্বরি করতে হবে না। আমার মতন যখন তোর বয়স হবে, তখন তুইও ভয় পাবি সব কিছুতে।
লিচু গোঁ ধরে বলে নানি তো তোমার চেয়ে বয়সে বড়, উনি তো সাহস পান। তুমি পাও না কেন?
নূরী আর থাকতে পারল না। শোন তোর নানির চার চারটা ছেলে, দুই মেয়ে!সুতরাং তার সাহস হবেই, আমার মতন এক ছেলের মা না! আর বেশি কথা না বলে খেয়ে নে।

বাইরের বারান্দায় হৈ চৈ শোনা যায়। লিচুর খালা ঘরে ঢুকল। ঢিপ করে নূরীর পায়ে সালাম করে। আপা তুমি কেমন আছ! কখন থেকে আসব আসব করছি সময় করতে পারছি না। দুলাভাই কই? এই লিচু কেমন আছিস? এক সাথে সব প্রশ্ন করে উত্তরের অপেক্ষা না করেই লিচুর পাশে প্লেট নিয়ে বসে যায়। বাহ্‌ আম্মা দেখি তোমাদের জন্য একবারে এলাহি আয়োজন করেছে। এই নয়ন, দে তরকারির বাটিটা আমাকে দে।

নূরী তরকারির বাটি থেকে মাংস উঠিয়ে দেয়। তার কত আদরের ছোটবোন। অথচ এমন বিয়ে করল যে সব আদর ভুলে গেল। কি যে বিজুর পছন্দ! নূরী দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সে একটু বেশি করে পোলাউ উঠিয়ে দেয় বিজুর পাতে। আহা কাজ করে করে বিজুর চেহারায় কালশিটে পরে গেছে। বোনের দুরবস্হার জন্য সব রাগ গিয়ে পরে লতিফের উপর। এত বড় সংসার। দুই মেয়ে তিন ছেলে।মেয়ে দুটোকে নিয়ে বিজু আর লতিফ ঢাকায় থাকে। নয়ন জাভেদের ওখানে কাজে ঢুকে গেছে।বড় দুই ছেলে গ্রামে লতিফের বাবামায়ের কাছে থাকে, এখানেই মিলে কাজ করে। তার এত আদরের বোন পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে পুরো পরিবারটাকে উলটপালট করে দিয়েছিল। দুবোন যখন হাইস্কুলে পড়ে, তখনই বিজু পালিয়ে যায়। লতিফকে গ্রামে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতে দেখেছে, জানত না বিজুর সাথে মন দেয়া নেয়ার কথা। যখন জানলো তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।লজ্জায় তালুকদার সাহেবের মাথা হেঁট হয়ে যায়। উনি গ্রামের বাস উঠিয়ে দিয়ে শহরে চলে যান। বড়বোনের আগেই ছোটবোনের বিয়ে হওয়াকে লোকজন ভালভাবে নেয়নি। যখন নূরীর জন্য পাত্র খোঁজা শুরূ হল তখন ব্যপারটা চরম ভাবে সবাই উপলব্ধি করে। ভাল পরিবারের যোগ্য ছেলের সাথে বিয়ের পাত্র যোগাড়ে ক্রমাগত ব্যর্থ হওয়ার পর,হঠাৎ করেই জাভেদের খোঁজ পাওয়া যায়। একই গ্রামের ছেলে, শহরে হোস্টেলে থেকে কলেজে বিএ পড়ছে।
তালুকদার সাহেব হাতে চাঁদ পেলেন। দেরি না করে উনি নূরীর বিয়ে দিলেন।খুবই সাধারন কৃষক পরিবারের ছেলে জাভেদ। বংশের মধ্য সেই প্রথম পড়াশোনা করছে। নূরীকে দেখে সে খুবই পছন্দ করে। তার বাবা মাও কোন আপত্তি করেন নাই। সে সব দিনের কথা মনে করে নূরীর আবার দীর্ঘশ্বাস পরে। কুড়িটা বছর হয়ে গেল। বিয়ের পরের বছরই লিচুর জন্ম হল। আস্তে আস্তে নূরী সংসার জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেল। এখানে তো সে আসে বেড়াতে, নিজের বাড়ি তার শহরেই। হঠাৎ করে মনে হয় জীবনটা অন্যরকমও তো হতে পারত! হয়ত স্বামী বড় সরকারী চাকুরিজীবি হত, ঢাকা শহরে কি বিদেশে থাকত। অনেক অনেক দিন পরে গ্রামে আসত! কি আবোল তাবোল ভাবছে, হাসি পায় নূরীর, এখনই সে কি প্রতিমাসে গ্রামে আসতে পারে! কি যে হল আজ তার, সব উল্টা পাল্টা চিন্তাভাবনা করছে। মনকে শাসন করে নূরী।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×