এই ব্লগে আসার আগে নাস্তিকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল।আমার ধারনা ছিল,আমাদের সমাজে আস্তিকতা হয় দেখে দেখে,সংস্কারবশ:ত।আর নাস্তিক হতে গেলে,সমাজের কোন প্রথার বাইরে যেতে হলে পড়াশুনা লাগে,লাগে অপরিসীম সাহস।আস্তিক মানুষের মধ্যে জানতে চাওয়ার চাইতে মানতে পারার,অনুসরন আর অনুকরনের প্রবনতা বেশী।কারন এই সমাজে আস্তিকতাই স্বাভাবিক,নাস্তিকতা ব্যতিক্রম।ব্যতিক্রম হতে পারাটা মোটেই সহজ নয়।আবার যে সমাজে নাস্তিকদের সংখ্যা অনেক অনেক বেশী,সেখানে চিত্রটা পুরো উল্টো।
তাই ধারনা ছিল,নাস্তিকেরা দারুন যুক্তিবাদি আর খোলামনের হন।যুক্তিই হয় তাদের মুলমন্ত্র।একজন যুক্তিবাদি মানুষ যুক্তি দিয়ে জবাব দেন,অশ্লীল গালাগাল দেননা।তিনি মানুষ দেখে নয়,মানুষের কথার উপর ভিত্তি করে তার মত প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি মানেন,একজন খারাপ মানুষের মাঝেও ভাল গুন থাকে,তার কথায় ভাল কোন দিক থাকতে পারে।আবার একজন ভাল মানুষেরও ভুল হতে পারে,তিনিও কোন অযৌক্তিক আচরন করতে পারেন।যুক্তিবাদীর কাছে মানুষ নয়,মানুষের কর্মই মুখ্য,চিন্তাই বিবেচ্য।
কিন্তু দুখের বিষয় ব্লগে এসে আমার সে ধারনা আমুল পাল্টে গেল।নাসতিকদের ব্লগগুলোতে ধর্ম আর ধার্মিকদের প্রতি এত অশ্লীল গালাগাল,একজন ভাল আস্তিকের সে শব্দ উচ্চারন করতে বুক কেপে উঠবে।ব্লগে এসে বুঝলাম,নাস্তিকতাও না বুঝে হয়,দেখে দেখে সৃষ্টি হয়।নাস্তিকরাও অনেকে চরম উগ্র তাদের মতের প্রতি।ভিন্ন মতের প্রতি তারাও একইভাবে অসহনশীল।নাস্তিকদের মাঝেও এমন অনেকেই আছেন,যারা ধর্মে নিয়ে ভালমত পড়াশুনা না করেই,শুধু অন্যের মুখে সমালোচনা শুনেই নাস্তিক।
পার্থক্য হল,আস্তিকেরা নিজেদের মুক্তমনা দাবি করেননা।(আমার মতে মুক্তমনা মানুষের কোন অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই।এটা স্রেফ বইয়ের ভাষা।সবাই আমরা নির্দিষ্ট মতের,সে মতের আলোকেই আমরা সব বিচার করি,মুক্তমন দিয়ে নয়)।কিন্তু নাস্তিকেরা সবসময় সে দাবিতে সোচ্চার।তাদের কাছে ধর্মকে কঠিন গালি দিতে পারাটাই মুক্তমনের সমার্থক,হাল আমলের প্রগতি আর মুক্তবুদ্ধির পরিচয়।তাদের মতে ধার্মিক মানুষ কখনো এই সব গুনের হতেই পারেননা।বরং ধার্মিকেরা বেশীর ভাগই একেকজন আহামমক।তারা ধরেই নেন,সুস্থবুদ্ধির কেউ ধার্মিক হতে পারেননা।কোন মানুষ যুক্তি দিয়ে,বুঝে শুনে ধার্মিক হতে পারেন..এটি তাদের বোধের বাইরে।
প্রিয় পাঠক,আপনার কি মত?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


