প্রথমেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে একটু ভুমিকা লিখে নেই। না হলে অনেকেই এই লেখা পড়ে ভুল বুঝতে পারেন। আমি কোন গবেষক নই। আমার তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতাও খুব সীমিত। আমি জানি, সীমিত তথ্য আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্বল্প জ্ঞান নিয়ে এমন একটা লেখা ঠিক হচ্ছে না। তারপরও এই প্রজন্মের একজন হিসেবে আমি শুধু আমার নিজের ভাবনা শেয়ার করতে চাইছি।
কয়েকদিন আগে সামুতে সম্মানিত একজন ব্লগারের পোস্ট দেখলাম। সেখানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক নয় পাঠক বলা হয়েছে। সাধারণতঃ আমরা ঘোষক কাকে বলি? যিনি সুস্পস্ট ভাবে বা আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন কিছু জানান দেন। 'স্বাধীনতার ঘোষনা' বলতে যদি এর বাইরে কিছু বোঝানো হয় তবে তা ভিন্ন কথা। আমি সে বিষয়ে জানি না। এবার আসুন, পাঠক সর্ম্পকে আমার কি ধারণা শুনি। পাঠক হলেন তিনি যিনি অন্যের লেখা পাঠ করেন। এখানে একটা কথা থেকে যায়। আমি নিজে একটা পেপার লিখলাম। তারপর জনসম্মুখে সেটা দেখে দেখে পড়লাম। তাহলে আমাকে কি বলা যাবে? পাঠক?
'শামসুল হুদা চৌধুরী' রচিত "একাত্তুরের রণাঙ্গন" বইয়ের পৃষ্ঠা ৭৫।
বন্দী হওয়ার পূর্বক্ষণে শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী সহ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার লিখিত বানী ওয়ারলেস যোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করে গেলেন। এই বার্তাটির মুদ্রিত হ্যান্ডবিলই ২৬ শে মার্চ ,৭১ সকালের মধ্যে চট্টগ্রামবাসীর হস্তগত হয়েছিল।
"পাকিস্তান সেনাবাহিনী আকস্মিকভাবে পিলখানা ইপিআর বেস্ এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমন করেছে এবং শহরবাসীকে হত্যা করছে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। আমি বিশ্বের জাতিসমুহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। মাতৃভুমিকে মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধাগন সাহসের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। কোনও আপোষ নয়। আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। আমাদের পবিত্র মাতৃভুমি থেকে শেষ শত্রুটি পর্যন্ত বিতারণ করুন। আমার এই বার্তা সব আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী এবং স্বাধীনতাপ্রিয় সব দেশ প্রেমিকের কাছে পৌছে দিন।
আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।
জয় বাংলা.....।"
আর এটি তথ্য সুত্র: Click This Link
হ্যা ব্লগার বন্ধুরা। এই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা। যেখানে একবারের জন্যও স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষনার কথা আসে নি। তার পরও এটা স্বাধীনতার ঘোষনা। যদিও এটা ছিল মুলত: আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে দেয়া বঙ্গবন্ধুর মেসেজ। আজ এটাই যখন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনা হয়ে গেছে আমিও মেনে নেই। কিন্তু কথা থেকে যায় অন্য খানে। যখন জিয়াউর রহমানের পাঠিত(!) ঘোষনা পত্র এর রেকর্ড শুনি কিম্বা লিখিত রুপ দেখি। সেখানে রাস্ট্রের নাম হিসেবে শুধু বাংলাদেশ কথাটাই বলা হয় নি সাথে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষনাও দেয়া হয়েছে। (এই ঘোষনার কপি প্রায় সবার কাছেই আছে। তাই দেবার প্রয়োজন মনে করলাম না।) যারা জিয়াউর রহমান কে পাঠক বলেন, তারা দয়া করে আবারও ঘোষণার টেপ শুনে নিবেন অথবা লিখিত কপিটি পড়বেন। তারপর আমাকে জানাবেন দয়া করে, বঙ্গবন্ধু কতৃক ঘোষিত স্বাধীনতার বানীর সাথে জিয়াউর রহমানের ঘোষিত বানীর কোন মিল আছে কি না? কোনটাকে আপনার সুনির্দ্দিস্ঠ স্বাধীনতার ঘোষনা মনে হয়? আর জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঘোষণাপত্র পাঠ না করে থাকে তবে তাকে পাঠক বলার যুক্তি কি?
তাই সকল ব্লগার বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করছি, "স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে তাকে সম্মান নাইবা দিলেন পাঠক বলে অপমান করবেন না।" মানুষ হিসাবে নিজের নৈতিকতার কাছে একটু হলেও দায়বদ্ধতা দেখান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

