বিটিআরসি এর সম্পুর্ন অভিব্যক্তি বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন।যার দায়িত্ব সকল প্রকার টেলিকমিউনিকেশ নিয়ন্ত্রন, আইন-পলিসি তৈরী ও এর প্রয়োগ করা।অর্থাৎ বাংলাদেশে সমগ্র টেলিকমিউনিকেশন যেমন রেডিও, এফএম টেলিভিশন, ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ছাড়, ল্যান্ডফোন, পিএসটিএন, মোবাইল অপারেটর লাইসেন্সিং, রেগুলেটিং, যন্ত্রপাতি, মোবাইল সেট আমদানি, ইন্টারনেট, ব্যন্ডউইথ, থ্রিজি, ওয়াইম্যাক্স, তরঙ্গ সহ আরও হাজারটা গুরুত্বপূর্ন সেক্টরের নিয়ন্ত্রন এই বিটিআরসি তথা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জিয়া উদ্দিনের কাঁধে।সেনা বাহীনির লোকেরা তথ্যপ্রযুক্তিতে ভালো হয় বিধায়, আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষনা দিয়ে ক্ষমতায় এসে অনেক ভরসা করে এই ভদ্রলোককে দেয় ডিজিটাল বাংলাদেশের হেডকোয়ার্টারের দায়িত্ব।তারমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের বা ডিজিটাল হেল যেকোনটি বানানোর আসল চাবিকাঠি এই অবসর প্রাপ্ত জেনারেলের হাতে -শেখ হাসিনার হাতেও নেই, তিনি সামান্যতম বুঝতেও পারছেন কি হচ্ছে ? জেনারেল সাহেব গত তিন বছরে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় ও আগামী ভোটের ৭০ ভাগ ভোটারের প্রাণের প্রত্যাশার অন্যতম ম্যনুফেস্টো বাস্তবায়নে তার মেধার কতটুকু জাতিকে দিলেন তা জানার বা বোঝার নূন্যতম জ্ঞান মন্ত্রী পরিষদের একজনেরও আছে কি ? চলুন জাতির স্বার্থে এই বৃদ্ধ জেনারেলের কয়েকটি অবদানের নমুনা দেখা যাক।
ভিওআইপিঃ দেশে এই মুহর্তে গড়ে প্রতিদিন ৬ কোটি মিনিট কল ভিওআইপি হচ্ছে।যার প্রতি মিনিট ৩ সেন্ট করে হিসাব করলেও প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির নিয়ন্ত্রন এই বিটিআরসির হাতে।মাঝে মাঝেই মিডিয়াতে দেখেন আইন প্রয়োগকারীসংস্থা ভিওআইপি যন্ত্রপাতি সহ কাউকে আটক করে, তা পরিচালনা, জরিমানা এই বিটিআরসি'ই করে, সব আই ওয়াশ।কারন বিটিআরসি চাইলে এই মুহুর্তে, এক চিঠিতে বন্ধ করতে পারে প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার এই দুর্নিতীর ভিওআইপি। কিভাবে ? যেমন বর্তমানে বিটিআরসি প্রতিমিনিট কলের মূল্য ৪ সেন্ট থেকে আড়াই বা তিন সেন্ট নির্ধারন করলে ভিওআইপি এমনিতেই থাকবে না, আরও অনেক উপায় করেছে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের সবদেশ করেছে -এমনকি পাকিস্তানও।এতে কোন দেশের রেভিনিউ আর্নিও কমেনি, বরং বেরেছে।কারন রেইট কমলেও লিগেল কল বেরে যাবে।অথচ গত দশক থেকে সমালোচিত এই ভিওআইপি আমরা গত তিন বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী সহ অনেকের মুখে শুনে আসছি, ৬ মাসের মধ্যে ভিওআইপি বৈধ্য করে দেয়া হবে।হচ্ছে না শুধু এই জেনারেল জিয়া উদ্দিনের ভিওআইপির কাঁচা টাকা খাওয়ার লোভে।
থ্রীজিঃ থ্রীজি-3G হচ্ছে "থার্ড জেনারেশন মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক", বাংলাদেশে আমরা ২০১১ সালেও যে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি একে অন্তত দশ বছর আগের ২.৫জি/(জিপিআরএস-GPRS) বা ২.৭৫জি/(এজ-EDGE) নেটওয়ার্ক দাবি করা হয়।একে থ্রীজিতে আপগ্রেড করতে মোবাইল অপারেটরগুলির সরকারের অনুমোদন লাগবে ও থ্রীজে স্পেকটার্ম ফি দিতে হবে।উল্লেখ্য ১৯৯৮ সালে জাপানে চালু হয়েছিল বিশ্বের প্রথম প্রী-কমার্শিয়াল থ্রীজি নেটওয়ার্ক।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেই বর্তমান সরকার ঘোষনা দিয়েছিল, ৬ মাসের মধ্যে আসছে, বাংলাদেশের একমাত্র ইমিডিয়েট ব্রডব্যান্ড সলুশন, থ্রীজি- বিশ্বের সর্বশেষ দেশ হিসাবে, সুদানে ৩জি রোলআউট হয় ২০০৭ সালে, শৃলংকায় ২০০৪ সালে ৩জি স্পেটার্ম টেস্ট ওপন করে ২০০৫ সালে ৩জি ফ্রি রোলআউট হয়।৯ জুলাই, ২০০৮ সালে বার্মায়, ৬ মে, ২০০৮ সালে ভুটান, মে, ২০০৭ নেপালে, জানুয়ারী, ২০০৮ পাকিস্তান, ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ মালদ্বীপ, ৭ মার্চ, ২০০৮ উগান্ডা।থ্রীজির আবির্ভাবে মোবাইল কমিউনিকেশনে যতনা প্রভাবফেলে তারচেয়ে বহুগুন বেশি প্রভাবফেলে ইন্টারনেটে।মোবাইল ব্রডব্যন্ড বা ইউনিভার্সাল ব্রডব্যন্ড এ্যন্ড ইউজারের হাতে পেয়ে ইন্টারনেট জগতে তোলপার হয়ে যায়।ওয়েব জগতে একের পর এক ঢুকতে থাকে মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের অসংখ্য বিষয়।মূলত গত দশকের শুরুতেই ব্রডব্যন্ড ছাড়া ইন্টারনেট অচল হয়ে যায়।আর তখনও আমাদের এদেশে সেই আদিকালের কপার তাড়ের টেলিফোন সিস্টেম।এই অপটিক ক্যবলে রিপ্লেইস হয়ে সারাদেশের সর্বোচ্চ ১০% হোল্ডিংস পর্যন্তও আগামী ত্রিশ বছরেও পৌছুতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। একদিন জেলা, উপজেলা হাওড়, বাওড় ও পাহাড়ে জালের মত অপটিক ক্যাবল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেব, সেরকম স্বপ্ন দেখা ঘুমের মধ্যেও উচিত হবে না।উল্লেখ্য দক্ষিন কোরিয়া তার অপটিক ক্যবল বেকবোনের কাজ শুরু করেছিল ১৯৮৯ সালে।তাহলে বাংলাদেশ ব্রডব্যন্ড অবকাঠামোর উপায় কি ? ইমিডিয়েট উপায় একটাই, থ্রীজি।সে হিসাবে ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ যখন প্রথম সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হয়ে ছিল সেই সময়টাই ছিল বাংলাদেশে থ্রীজি রোল আউট করার উপযুক্ত ও অপরিহার্য সময়।এর আগে আসলেও যে কথা না আসলেও একই কথা ছিল -কেননা ব্যন্ডউইথই ছিল না, আবার ব্রডব্যন্ড।আবার এত দেরিতে সাবমেরিন ক্যবলে যুক্ত হওয়ায় ক্ষতি সামান্য পুষিয়ে নিতে ব্রডব্যন্ড সহায়তা করতো।তাই থ্রীজি মোবাইল নেটওয়ার্কের চেয়ে থ্রীজি ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ন - একমাত্র ইমিডিয়েট ব্রডব্যন্ড সলিউশন।যদি ওয়াইম্যাক্স তাহলে বলবো গত প্রায় চার বছরেও যেই ওয়াইম্যাক্স শুধু ঢাকার মানুষের কাছেই পৌছুতে পারছে না তাহলে এই ব্রডব্যেন্ড সুনামগঞ্জের শাল্লায় পৌছাতে পুরো একবিংশ শতাব্দী লেগে যাবে ! সুতরাং থ্রীজি অন্য যেকারো তুলনায় আমাদের জন্য একমাত্র আশির্বাদ অথচ এই থ্রীজি নিয়ে সেনা বাহিনীর কলংক অবসর প্রাপ্ত এই জেনারেল সাহেব কি করলেন !আমাদের থ্রীজি লাইসেন্সিং নীতিমালা তৈরী করতে করতে ২০০৯ থেকে সাড়ে তিন বছর লাগিয়ে দিলেন - এখনও ইনকমপ্লিট- যদিও কেয়ারটেকার সরকার না এলে ২০০৮ সালের মধ্যে এখানে ৩জি ওপেন হওয়ার কনফার্ম ছিল।এত দেরি হওয়ার পরও আরও সাড়ে তিন বছর লাগিয়ে এই ইডিয়ট-ইভিল জেনারেল যা একটা নীতিমালা করলেন! নয় কোটি মোবাইল ইউজারের এই দেশে, প্রথমে আট লাখ গ্রাহকের টেলিটককে পরীক্ষামূলক অনুমতি দেওয়া হবে - শোনা যাচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ আসছে - চিন্তা করুন অবস্থা ! ছয় মাস পরীক্ষার পর ওপেন করা হবে বাকি অপারেটরদের জন্য, এরপর হবে থ্রীজি স্পেকটার্ম নিলাম, এরপর চালু।অথচ গ্রামীন সহ কয়েকটি মোবাইল অপারেটর তাদের নেটওয়ার্ক অলরেডি আপগ্রেড করে রেখেছে -সবুজ বাতি বিজ্ঞাপনটি দেখবেন - এই মুহুর্তে অনুমতি দিলে তিন ঘন্টার মধ্যে সারা ঢাকায় থ্রীজি চালু করতে পারবে। তারমানে শুধু জিয়া উদ্দিন সাহেবের মর্জিতে ছয় মাসের থ্রীজি আসতে আসতেই সাড়ে চার বছর লেগে যাবে।
ব্যান্ডউইথঃ তথ্য প্রযুক্তির তিনটি পিলার হলো ব্যান্ডউইথ, অনলাইন ইন্টারফেইস টেকনোলজি ও ডিভাইস।ডমেস্টিক ব্যান্ডউইথ ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার।এই তিনটির মথ্যে আবার ব্যান্ডউইথ অন্যতম।সকল কিছু পরিমাপ করার জন্য যেমন কোন না কোন পরিমাপের ব্যবস্থা থাকে তেমনি একটা দেশ তথ্য প্রযুক্তিতে কতটুকু অগ্রগতি করেছে বা তার আইসিটি এ্যাকটিভিটির পরিমান কত তা জানতে ঐ দেশের জাতীয় ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমান জানতে হবে।আবার বলা যেতে পারে কোন দেশের মাথাপিছু ব্যান্ডউথ ব্যবহারই ঐ দেশের তথ্য প্রযুক্তির অর্জন। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি বা ব্যান্ডউইথ নিয়ে যে অচল অবস্থা, বিশ্বের সর্বনিম্ন গতি, তা কিন্তু আমাদের ব্যান্ডউইথ না থাকার কারনে না, বরং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ সাহেবের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার নীতিমালার কারনে।কারন তার ব্রডব্যান্ডের সংগা ও ব্যান্ডউইথ ব্যবহার নীতিমালার করনে এই মুহুর্তে আমাদের সাবমেরিন ক্যবলে গত বছর অক্টবর মাসে থার্ড আপগ্রেডেশনে যোগ হওয়া নতুন ১১০ জিবিপিএস ও ২০০৮ থেকে থাকা আগের ৪৪ সহ ১৬৪ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ১১ ভাগের মাত্র ১ ভাগ ব্যবহার হচ্ছে ও ১০ ভাগ অব্যবহৃত থাকছে - ঠিক থাকে না নষ্ট হয়।অর্থাৎ আমাদের মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার মাত্র ১৫ জিবিপিএস।কারন ব্যন্ডউইথ ব্যবহার করা না করা সব বিটিআরসির ব্যান্ডউইথ পলিসি ও নীতিমালার উপর নির্ভরশিল - এরপরও দেখবেন ফেয়ার ইউজ পলিসি নামে কন্টেন্ট লিমিটেশনও আছে।এক হিসাবে দেখা যায়ঃ সাবমেরিন ক্যবলে গত ৩ বছরে (৩০ x ৬০ x ৬০ x ২৪ x ৩৬৫ x ৩) ভাগ ১০০০ = ২৮,৩৮,২৪০ টেরাবিট বা প্রায় ৩০ লক্ষ টেরাবিট কন্টেন্ট অব্যবহৃত ছিল - যেখানে ১ জিবি কন্টেন্ট বর্তমান বাংলাদেশে ভ্যাট ছাড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।এখন প্রতি জিবি কন্টেন্ট ১০০/- টাকা করে ধরলেও এই ক্ষতির আর্থিক পরিমান ২৮,৩৮,২৪০ x ১০০ x ১০০০ = ২৮৩,৮২,৪০,০০,০০০ টাকা বা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।
পাঠক হয়তো ভাবছেন এই বিডাব্লিউ নিয়ে এত হিসাব কেন ? তাহলে এই ব্যান্ডউইথ আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ন দেখেন।ব্যান্ডউইথ দুই প্রকার - ১. ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ, ২. ন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ।কল্পনা করতে পারেন, দেশের ভেতরে একে অন্যের সাথে মোবাইলে কল ও দেশ থেকে বিদেশে কোথাও মোবাইল কল - বা পিএমও ডটগভ ডটবিডি ওয়েবসাইট ব্রাউজ ও ফেইসবুক ব্রাউজ।তবে ব্যান্ডউইথ বলতে আমরা এখানে শুধু ইন্টারনেট বুঝবো।যেমন দক্ষিন কোরিয়ার এই মুহুর্তে তার ১১টি সাবমেরিন ক্যবলে ২৫ টেরাবিট/সেকেন্ড এবং ভিস্যাট ও স্যাটালাইটে ৫১০ জিবিপিএস সহ মোট ২৫৫১০ জিবিপিএস ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ এবং এরচেয়ে বহু বহু গুন বেশি ন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে -মাত্র সাড়ে পাঁচ কোটি পপুলেশন অথচ আমরা ১৫ কোটি ১৫ জিবিপিএস।কারন ওদের জনগণের বেশির ভাগ লোকাল ওয়েব কমিউনিকেশনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে হয় না, কোরিয়ার সরকারী বেসরকারী সকল সাইট ও এ্যাপলিকেশন নিজেদের দেশেই হোস্ট করা।বলতে পারেন ঘরে ঘরে সার্ভার আছে।আর এদিকে বাংলাদেশ এই মুহুর্তে তার একটি সাবমেরিন ক্যবলের ১৬৪ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের মধ্যে ব্যবহার করছে ১৫ জিবিপিএস এবং আমাদের ন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ প্রায় শূন্য বলা চলে।বাংলাদেশে বিসিসির একটি সার্ভারে সরকারী কিছু ওয়েবসাইট ও বেসরকারী দু একটি সার্ভারে কিছু সাইট/এ্যাপলিকেশন ছাড়া দেশের অনলাইন সংবাদপত্রগুলো পর্যন্ত বাইরে হোস্ট করা - আমাদের অনলাইন এ্যাকটিভিটির ৯৯% ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথের উপর নির্ভরশিল।কারন বাংলাদেশে সার্ভার সেটাপ দেয়াও অবাস্তব ও অযৌক্তিক, কেননা এখানে ২৪ ঘন্টা পাওয়ার ব্যাকাপ দেয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ, সার্ভারের চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকায় জেনারেটর ও অনলাইন আইপিএস কিনতে হয়।অথচ ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে এই মুহুর্তে এক গিগাবিট সার্ভার স্পেইসের রেট বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ৪০ টাকা/বছর।তাই বলবো আগামী দশ বছর বাংলাদেশে শুধু ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথের উপর নির্ভর করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ, কারন ল্যান্ডলক দেশ না হওয়ায় ব্যান্ডউইথ যোগ করা আমাদের জন্য সমস্যা না, তবে কোথাও আনইন্টারাপটেড পাওয়ার সাপ্লাই জোন করে হলেও সার্ভার সেটআপের কাজটি অতি গুরুত্বপূর্ন ইন্ডিকেটর।
নেটের গতিঃ বর্তমানে গ্রামীন সহ অন্যান্য মোবাইল অপারেটররা যেহেতু আগের ২০০৮ সালের ১২৭,০০০/- টাকায় ১ মেগাবিটের পরিবর্তে এখন ৮০০০ টাকায় মেগাবিট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে সেখানে ইউজার এন্ডে বর্তমান গড় গতি ৫ কিলোবাইট/সেকেন্ডের পরিবর্তে অনেক গুন বেশি না হলেও অন্তত এজ নেটেওয়ার্কের সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট না হলেও ৫০ কেবিপিএস হওয়া উচিত।হারামজাদা মোবাইল অপারেটররা অবশ্যই আমাদের সাথে প্রতারনা করছে ? এমনিতেই বাতাস বেঁচে বিদেশিরা দেশের টাকা নিয়ে গেল এইরকম দেশপ্রেমে আমাদের সপ্তাহে একবার স্বপ্ন দোষ হয়।অথচ বুঝে না কি দিয়া কারে কি বুঝাইতেছে আর জনগণেরই বারটা বাজাইতেছে।
আচ্ছা এই যে কারেন্টে আমরা বাতি জ্বালাই, ফ্যান চালাই, এই কারেন্ট কিসের ভেতর দিয়ে পাস হয় ? উত্তর সবার জানা। কারেন্টের তাড়ের ভিতর দিয়ে কারেন্ট পাস হয়! আচ্ছা অপটিক ক্যাবলের ভিতর দিয়ে কি পাস হয় ? এর উত্তরও অনেকেই জানে, ব্যান্ডউইথ/ইন্টারনেট পাস হয়। তাহলে বলুন, এই যে মোবাইল চলে, মোবাইলে, ওয়াইম্যাক্সে আমরা ইন্টারনেট পাই তা কিসের ভিতর দিয়ে পাস হয়ে ইউজারের মডেমে ঢুকে ?
হ্যাঁ, ঐ জিনিষটা তরঙ্গ! তরঙ্গের মাধ্যমে। মোববাইল, মোবাইল ইন্টারনেট, ওয়াইম্যাক্স, থ্রিজি সহ তাড়বিহীন সকল যোগাযোগের প্রাণ হলো এই তরঙ্গ - যা প্রাকৃতিক সম্পদ। পৃথিবীতে অঞ্চল ভেদে নানা খনিজ সম্পদের তারতম্য থাকলেও এর কোন তারতম্য নেই, আমেরিকায় যা বাংলাদেশেও তাই। তবে এর ব্যবহার নিয়ে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে চলে গণবিরোধী অসংখ্য নীতি ও রাজনীতির খেলা।জন্মগত ভাবেই মানুষ তার মাথার উপর আকাশের তরঙ্গে উপর অধিকার লাভ করে।বাংলাদেশের সামরিক, একনায়ক, গণতন্ত্রের নামে ইজারাতান্ত্রীক সরকার ও রাজনীতি জনগণকে তাদের এই অধিকার থেকে ৯৮% বঞ্চিত রেখেছে।বাংলাদেশে মূলত কোন তরঙ্গ নীতিমালাই নেই।যা চলছে তা পৃথিবীতে নজির বিহীন।
বিটিআরসি'কে বাংলাদেশে বর্তমানে ১ মেগাহার্ড্স তরঙ্গের জন্য গড়ে ৫০০ কোটি টাকা ফি দিতে হয় -সেই সাথে ভয়েস ও ডাটা ভিন্ন শতাংশের হিসাব, ব্যাকহাউলিং কস্ট তো আছেই।এদিকে গত তিন বছরেও বিটিআরসি থ্রিজি স্পেকটার্ম অকশন নীতিমালা করতে পারেনি।ওয়াইম্যাক্স স্পেকটার্ম নিয়ে যত বেশি তরঙ্গ ব্যবহার না করে ফেলে রাখা যায় তত মঙ্গল, এই নীতিমালায় চলছে - পুলিশকে বিনা কাজে ১০ মেগাহার্স্ড ফাউ দিয়ে রেখেছে।ওয়াইড ব্যান্ড, ৪জি স্পেকটার্ম সম্পর্কে সচেতনতাও নেই।তাছাড়া ভিএইচএফ, এফএম সহ আরও হাজার রকমের নীতিহীনতায় ভুগছে দেশের সমগ্র তাড়বিহীন তথ্যযোগাযোগ ব্যবস্থা ও সম্ভাবনা এই জেনারেল সাহেবের কারনে।অথচ এই তাড় বিহীন যোগাযোগকেই হতে হবে বাংলাদেশের ডমেস্টিক কানেক্টিভিটির প্রথম ও অন্যতম মাধ্যম। কারন এদেশে কখনওই দেশ জুরে টেলিফোন সিস্টেম ক্যাবল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেনি এবং ভৌগলিক অবস্থার জন্য সম্ভবও না।আর বিটিআরসির পলিসি অনুযায়ী ২০১২ সালে দেশে ২০০ কিলোমিটার অপটিক ক্যবল স্থাপন হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে -যেখানে বাকি বিশ্ব ২০০০ সালের আগে ন্যাশনাল অপটিক ব্যাকবোন দ্বিতীয় মেয়াদে আপগ্রেড করে ফেলেছিল।তাই সারাদেশ তাড় দিয়ে কানেক্টিভিটির কথা আপনার সামনে যদি কেউ বলে, নির্দিধায় তাকে একটা থাপ্পর মেরে বলতে পারেন /মোবাইল/ওয়ারলেস ব্রডব্যন্ড'ই হবে বাংলাদেশের ডমেস্টিক ব্রডব্যন্ড বেকবোন।এর সবই বিটিআরসির অবদান।
টেলিযোগাযোগ আইন সহ আরও কমপক্ষে একশটা মাঝারি ও ছোট অবদানের নমুনা দেখানোর থাকলেও লেখা বড় করে পাঠকের বিরক্তি এড়াতে এখানেই শেষ করলাম।লাস্ট বাট নট লিস্টি, ইন্টারনেটে বাক স্বাধীনতা হরনের উদ্দেশ্যে করা নতুন পলিসিটা নিয়ে মাডিয়া যারা তোলপার করছেন তারা একটি ফেইসবুক পেইজ খুলে এর সম্পর্কে ডাটা কালেকশন করে রাখেন, প্রতিটি তরুন প্রজন্মের কানে জেনারেল সাহেবের অবদানের নিউজ পৌছে দেন।কারন জনগণ সচেতন হলে ব্যর্থ ডিজিটাল বাংলাদেশের দায়ে খোদ ছাত্রলীগের পুলাপান'ই উনাকে সবার আগে ধরবে।কেননা উনাকে ক্ষমা করলে ডিজিটাল বাংলাদেশের অভিশাপ লাগবে আর ডিজিটাল বাংলাদেশের অভিশাপ লাগলে দেশ দোজখে পরিনত হবে।একে ভয় পেলে চলবে না, ছাত্রলীগের পুলাপানদেরই আগে এগিয়ে আসতে হবে কারন এই অপদার্থ, দুর্নীতিবাজ জেনারেল তাদের নেত্রীর স্বপ্ন হওয়ার আগেই বনসাই বানিয়ে দিয়েছে।নিচে চেয়ারম্যান সাহেবের একটা ভিডিও দিলাম - দেখেন খুব ছোট ৩ এমবি বাট খুব গুরুত্বপূর্ন।
হাজার কোটি টাকা এমন ভাবে বলছে যেন, এটা কোন পরিমান'ই না।
তথ্যসূত্রঃ ১. ইন্টারনেট হোয়াইট পেপার কোরিয়া, ২. বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যবল কম্পানী ওয়েবসাইট।
জয়েনঃ Digital Bangladesh Warriors
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



