আমার স্মৃতিতে নোয়াখালীর মুক্তিযুদ্ধ (১ম পর্ব)
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯
১৯৬৯ সাল। ৬ দফা ও ১ দফার সংগ্রাম তুঙ্গে। স্বৈরাচার আইয়ুবের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা জনতার দাবীতে পরিণত হয়েছে। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ) এর নোয়াখালী জেলা শাখার সেক্রেটারী। ছাত্র রাজনীতির পাশা-পাশি আমি শ্রমিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছি। নোয়াখালী জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আমি তখন কাজ করছিলাম। সারা দেশে পাড়া মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছে।
মাইজদী বাজারে আঞ্চলিক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলো। মরহুম সফিকুর রহমান হলেন উক্ত সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এবং আমাকে করা হলো সেক্রেটারী। অরুণ স্কুলের একটি কক্ষে মাইজদী বালিকা বিদ্যানিকেতনের অফিস ছিল। সেই অফিসেই আমরা সংগ্রাম পরিষদের অফিসের কাজ করতাম। মাইজদী শহর মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছে। এক দিন অরুণ স্কুলের স্কাউটের ডামি রাইফেল হাতে মাইজদী বাজার থেকে শহরের দিকে এক ঐতিহাসিক মিছিল বের হয়। ডামি রাইফেল কাঁধে নিয়ে আমরা একদল ছাত্র/যুবক মিছিলের পুরো ভাগে শ্লোগান তুললাম, “বীর বাঙালী অস্ত্র ধর – বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। “জাগো জাগো – বাঙালী জাগো”। “জয় বাংলা-জয় বাংলা।“
১৮ ফেব্রয়ারী ১৯৬৯ তারিখে সেনবাগ পাক সেনারা ছাত্র/জনতার মিছিলে গুলি ছুঁড়লে ২ জন বাঙালী নিহত হয়েছিলেন। সেনবাগে সেনাবাহিনীর গুলিতে ২জন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। সেনবাগে গণহত্যার প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রয়ারী সারা জেলায় হরতালের ডাক দেয় নোয়াখালী জেলা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
১৯ ফেব্রয়ারি ১৯৬৯। সেনবাগে গণহত্যার প্রতিবাদে মাইজদী শহরে সর্বাত্মক হরতাল চলছিল। আমরা মাইজদী বাজারের প্রধান সড়কের উপর ইটের স্তুপ দিয়ে বিরাট ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছি। পাক সেনাবাহিনী দক্ষিণ দিক থেকে এসেই ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছি। পাক সেনাবাহিনী দক্ষিণ দিক থেকে এসেই ব্যারিকেডে বাঁধাগ্রস্থ হয়। আমি সেনা বাহিনীর ক্যাপটেনের জিপের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বাধা দিলাম এবং চিৎকার করে বলতে লাগলাম সেনবাগে গুলি করে যাদের হত্যা করা হয়েছে আমরা তাদের লাশ চাই।
(চলবে)
► লেখক: অ্যাডভোকেট সারওয়ার-ই-দীন
মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবি, নোয়াখালী।
► নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক স্বাধীনতা ২০০৩ থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশকালঃ মার্চ ২০০৩।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ, নোয়াখালী, মুক্তিযুদ্ধ, নোয়াখালী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: নোয়াখালী'র সংবাদ বিভাগে ।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ মুকুল। অনেক নতুন জিনিস জানা হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কু দোস্ত
হাসিব বলেছেন:
+++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হাসিব ভাই
লেখক বলেছেন: আপনি কোন দেশের লোক?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
এবং
নুআকালীর রং-ফন্ট একই সাইজের দেয়ার তেব্র নেন্ডা।
নুআকালীর রং বদলাইন।
নুআকালীর ফন্ট কমাইন।
এইডা আমার আদেশ!!
লেখক বলেছেন: জনাব, আপনার যদি ভালো না লাগে, আমার ব্লগে আইসেন না। আমি আপনারে দাওয়াত দিয়া নিয়া আসি নাই। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার লগে অহেতুক প্যাঁচাল পাড়নের টাইম নাই। আবারো কইতাছি, আপনার যদি ভালো না লাগে, আমার ব্লগে আইসেন না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম ভাই। শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শান্ত ভাই। চেষ্টা করছি আঞ্চলিক ইতিহাসও তুলে ধরতে।
জেনারেল বলেছেন:
++++++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জেনারেল
কেল্টু বলেছেন:
Keep this kind of thing posting please
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। চেষ্টা করে যাচ্ছি...
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
মুকুল ভাই একটা অফটপিক অভিযোগ।
আপনারে জি টকের ইনভাইটেশন পাঠাইছি, কিন্তু আপনি অ্যাকসেপ্ট করেন নি......
লেখক বলেছেন: মুকুল আপনার অভিযোগ অস্বীকার করছে। সাথে সাথেই অ্যাকসেপ্ট করেছি। ![]()
কিন্তু জিটকে খুব একটা লগইন করিনা বলে দেখতে পারছেন না। ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই। আপনাদের উৎসাহ প্রেরণা যোগাচ্ছে। আমিও অনুরোধ করবো সবাই যেন নিজ নিজ অঞ্চলের ছড়ানো ছিটানো ইতিহাস ভিত্তিক লেখাগুলো দিক।
লেখক বলেছেন: কথা কওনের মানুষ নাই, তাই জিটকে থাকি না। পুলায় পুলায় কথা কৈয়া কি মজা আছে!!!
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ নিবেদীতা। শুভেচ্ছা।
এস্কিমো বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জিয়া ভাই
নাভদ বলেছেন:
চলুক, +
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নাভদ ভাই
পুতুল বলেছেন:
ধন্যবাদ মুকুল, জাতীয় ভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখা আছে। কিন্তু আঞ্চলিক ভাবে তার সংরক্ষণ খুব কম। আপনার লেখায় তা মূর্ত হয়ে উঠছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পুতুল। আঞ্চলিক ইতিহাস অনলাইনে তুলে ধরার জন্যই আমার এই প্রয়াস। ধন্যবাদ মূল লেখকের প্রাপ্য। আমিতো শুধু টাইপ করছি।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
চমৎকার!! মুকুলের দেখাদেখি আর সবাই লিখুন নিজ নিজ এলাকার ইতিহাসগুলো ... প্রিয় পোস্ট
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা
মনিটর বলেছেন:
“বীর বাঙালী অস্ত্র ধর – বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। “জাগো জাগো – বাঙালী জাগো”। “জয় বাংলা-জয় বাংলা।“
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ মনিটর ভাই



















