কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা-২০০৮

২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সহজলভ্যতা, তাৎক্ষনিকতা ও সর্বত্রগামিতার নিরিখে বেতারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশের পরও তাই এই মাধ্যমটির গুরুত্ব উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত কোনো দেশে হ্রাস পায়নি। এ কারণেই বাংলাদেশে ১৯৩৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় বেতার স্বল্পপরিসরে যাত্রা শুরু করে কালের বিবর্তনে গুণে মানে কলেবরে বহুধা বিস্তৃত হয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ বেতার দেশের প্রাচীনতম এবং একক বৃহত্তম পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টার হিসেবে বিগত প্রায় সাত দশক ধরে তথ্য, বিনোদন ও শিক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি জাতীয় উন্নয়নে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে বহুমাত্রিক উপযোগিতার দাবী মেটাতে দেশে ব্যক্তি মালিকানায় বাণিজ্যিক এফ.এম বেতার কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রধানতঃ নগরকেন্দ্রিক এ সকল চ্যানেল বিনোদন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। কিন্তু সমাজের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জনগোষ্টীর জন্য সম্পূর্ণ নিবেদিত কোনো বেতার এখনো দেশে গড়ে উঠেনি। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষায় তাঁদের অংশগ্রহণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ও পরিচালিত হতে পারে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন, যেখানে তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে, স্থানীয় জনসাধারনের লোকজ জ্ঞান, সম্পদ ও সংস্কৃতি, আধুনিক জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে। কমিউনিটি রেডিও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন-ভারত, শ্রীলংকা ও মালয়েশিয়ায় চালু করা হয়েছে। এ বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের (নিজস্ব) কমিউনিটি রেডিও থাকা অত্যাবশ্যক।

১. সংজ্ঞা-কমিউনিটি রেডিওঃ
(ক) ‘কমিউনিটি’ হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী যার অন্তর্ভূক্ত ব্যক্তিবর্গ সমধর্মী কিছু লোকজ, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টের অধিকারী। তারা সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান যেমন কোনো বিশেষ শহর, গ্রাম কিংবা মহল্লার মধ্যে থেকে পাস্পরিক আদান-প্রদানে অংশগ্রহণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপণন, সেবা ও মালামাল লেনদেনের মাধ্যমে একই অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অভিন্ন অংশীদার হয়ে থাকে।

(খ) ‘কমিউনিটি রেডিও’ সম্প্রচার কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রনে থাকবে একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর মালিকানায় থাকবে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা দল এবং এটি পরিচালিত হবে ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন অথবা কোনো এসোসিয়েশনের মাধ্যমে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কমিউনিটিকে সেবা প্রদান করা এবং স্থানীয় লোকজ, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন-বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এটি এক প্রকার জনসেবামূলক স¤প্রচার প্রতিষ্ঠান যা সমগ্র জাতির উন্নতির পরিবর্তে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করবে। কমিউনিটি রেডিও একটি কমিউনিটির নিজস্ব সম্পদ যা একটি জনপদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা, বিচার-বিবেচনা ও চিন্তা-চেতনার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাবে।

(গ) কমিউনিটি রেডিও এমন একটি মাধ্যম যা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আত্মপ্রকাশ ও বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে, প্রান্তিক মানুষের প্রকাশ বাহন এবং তাদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। সর্বোপরি এটি সমাজের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করে।

(ঘ) কমিউনিটি রেডিও হচ্ছে একটি সম্প্রচার পদ্ধতি যা কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এবং যা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে পরিচালিত হয়।

২. কমিউনিটি রেডিও’র মৌলিক নীতিসমূহঃ
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য কমিউনিটি রেডিও’র মূলনীতিগুলো বাংলাদেশেও অনুসৃত হবে। কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যদি কমিউনিটি রেডিও পরিচালনা করতে চায় তাহলে সে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে নিম্নেবর্ণিত নীতিমালা প্রতিপালন করতে হবেঃ
ক. সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই অলাভজনক হতে হবে;
খ. কমিউনিটি রেডিও’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কমপক্ষে পাঁচ বছর কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অবশ্যই থাকতে হবে;
গ. কমিউনিটি রেডিও স্টেশনকে অবশ্যই নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্টভাবে কমিউনিটি’র লোকজনকে সেবা প্রদান করতে হবে;
ঘ. সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ধ্যানধারণার প্রতিফলন সমৃদ্ধ একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকতে হবে।
ঙ. সম্প্রচার অনুষ্ঠানসূচিতে কমিউনিটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজ, নারীর অধিকার, গ্রামীন ও এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, পরিবেশ, আবহাওয়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং এতে অবশ্যই জনগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে;
চ. সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানটির অবশ্যই আইনগত বৈধতা থাকতে হবে; এবং
ছ. সম্প্রচারের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার পর্বে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মূল ধারার গণমাধ্যমের সুযোগ এবং সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার লাভ করবে।

৩. বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি/লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাঃ
৩.১ কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহ আবেদন করার যোগ্য হবে বলে বিবেচিত হবে ঃ
ক. সরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সমূহ যা’ ২নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তাদি প্রতিপালন করবে;
খ. বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহ যাদের কমপক্ষে পাঁচ বছরের দারিদ্র বিমোচন/গণমাধ্যম/তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত কাজের অভিজ্ঞতা আছে এবং যাহা ২নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তাদি প্রতিপালন করবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অবশ্যই আইনগত বৈধতা থাকতে হবে কিংবা এনজিও ব্যুরোর রেজিষ্ট্রিভুক্ত হতে হবে।

৩.২ নিম্নলিখিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে নাঃ
ক. ব্যক্তিগত বা যৌথভাবে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান;
খ. রাজনৈতিক দল বা তাদের অংগসংগঠন যেমন ছাত্র সংগঠন , ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি;
গ. দেশি-বিদেশি যে সব কোম্পানি যারা মালিক বা শেয়ার হোল্ডারকে লভ্যাংশ প্রদান করে থাকে;
ঘ. আন্তর্জাতিক/বিদেশী বেসরকারি সংস্থা বা বিদেশী স¤প্রচার সংস্থা/চ্যানেল; এবং
ঙ. সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা।

৪. লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াঃ
৪.১ বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনে আগ্রহী যোগ্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে এ সংক্রান্ত লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য নিম্নোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবেঃ
৪.১.১ সরকার জনস্বার্থে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনে আগ্রহী যোগ্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নিকট হতে এ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছকে আবেদন আহবান করবে;
৪.১.২ গৃহীত আবেদনপত্রসমূহ যাচাই বাছাই পূর্বক যোগ্য আবেদনকারী নির্বাচনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় একটি রেগুলেটরি কমিটি ও একটি কারিগরি উপ-কমিটি গঠন করবে;
৪.১.৩ কারিগরি উপ-কমিটি ও রেগুলেটরি কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত আবেদনকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করা হবে;
৪.১.৪ অনুমোদন প্রদানের পূর্বে তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) হতে ‘ফ্রিকোয়েন্সি প্রাপ্যতার সম্ভাব্যতা’ প্রতিবেদন গ্রহণ করবে। সম্প্রচার কার্যক্রম আরম্ভ করার জন্য অনুমোদন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে বি.টি.আর.সি. থেকে ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) বরাদ্দ নিতে হবে;
৪.১.৫ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার পর্বে একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কেবলমাত্র একটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স পাবে;
৪.১.৬ প্রাথমিক অনুমোদন প্রাপ্তির ১(এক) বছরের মধ্যে আবেদনকারীকে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন করতে হবে। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে রেডিওর যন্ত্রপাতি আমদানি ও প্রতিস্থাপনের জন্য অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন, বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে বিটিআরসি’র শর্তসমূহ প্রতিপালন করতে হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন/লাইসেন্স পাওয়ার পর স¤প্রচার কার্যক্রম শুরু করবে। প্রথমে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন প্রাপ্তির তারিখ হতে দুই বছরের জন্য পরিক্ষামূলক লাইসেন্স দেওয়া হবে।

৪.২ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবেঃ
ক. কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যে এলাকায় কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনে আগ্রহী সেখানকার স্থানীয় জনগণের সাথে উন্নয়নমূলক কাজের অন্ততঃপক্ষে পাঁচ বছরের প্রমাণিত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;
খ. কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যে ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করতে ইচ্ছুক তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করে আবেদন পত্রের সাথে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হবে;
গ. প্রস্তাবিত রেডিও স্টেশনের ব্যবস্থাপনা কাঠামো, অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সম্প্রচারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাত্রার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে;
ঘ. কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনের তহবিলের উৎস জানাতে হবে। কোনো বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নেয়া হলে বা বেসরকারি সংস্থা নিজে উদ্যোক্তা হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এনজিও এ্যাফেয়ার্স ব্যুরো থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে;
ঙ. যে সকল প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা প্রান্তিক এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছে তাদের আবেদনকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে ।

৪.৩ লাইসেন্স ফিঃ
কমিউনিটি রেডিও একটি উন্নয়নমূলক প্রয়াস এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিধায় সরকার এ জন্য যুক্তিযুক্ত লাইসেন্স ফি ধার্য্য করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি স্টেশনের জন্য লাইসেন্স ফি ২০,০০০.০০ (বিশ হাজার) টাকা এবং বাজেয়াপ্তযোগ্য জামানত ১,০০,০০০.০০ (এক লক্ষ) টাকা ধার্য করা হয়। সরকার যে কোনো সময় এ ফি বা জামানতের পরিমান পুনঃ নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। ফ্রিকোয়েন্সী ফি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
৫. কারিগরি কাঠামোঃ
৫.১ প্রত্যেকটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের ব্যাপ্তি হবে এর অবস্থানকে কেন্দ্র করে চতুর্দিক ১৭ কিলোমিটার। এ জন্য সর্বোচ্চ ১০০ ওয়াট স¤প্রচার শক্তির ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা যাবে। তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কারিগরি উপ-কমিটি ও জাতীয় রেগুলেটরি কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অবস্থান বা অসমতল ভৌগলিক অবস্থার ক্ষেত্রে ট্রান্সমিটারের ক্ষমতা ১০০ ওয়াট হতে বৃদ্ধি করে ২৫০ ওয়াট পর্যন্ত করা যেতে পারে;
৫.২ এন্টিনা টাওয়ারের উচ্চতা হবে ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ৩২ মিটার। তবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জনবসতিপূর্ণ এলাকা যেমন- চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকাতে কাক্ষিত কাভারেজ পাওয়ার জন্য উল্লেখিত উচ্চতার তারতম্য হতে পারে। সকল ক্ষেত্রে এন্টিনা গেইন অবশ্যই ৬ ডিবি -এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে;
৫.৩ এফ. এম. ব্যান্ডে ন্যাশানাল ফ্রিকোয়েন্সি এ্যালোকেশান প্ল্যান অনুযায়ী কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পরিচালনার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) প্রদান করা হবে।

৬. নীতিমালার অন্যান্য শর্তাবলীঃ
৬.১ অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে যে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের মধ্যে এমন কিছুই অন্তর্ভূক্ত হবে না যা-
৬.১.১ অন্য দেশের সমালোচনা করে বা বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে;
৬.১.২ প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে যে কোনো ধর্ম, সম্প্রদায় অথবা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি কটাক্ষ করা হয়, যাতে সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি হয়, যার ফলে উপদলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটে, যা জাতিগত অসন্তোষ তৈরি করে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে;
৬.১.৩ অশ্লীল, মানহানিকর যে কোনো বিষয় অথবা কোনো ব্যক্তি (বর্গ), দল বা সংস্থার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য পরিবেশন বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে;
৬.১.৪ হিংসা বা দ্বেষকে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করার আশংকা থাকে অথবা আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী অথবা বিজাতীয় ধারণা বা মনোভাবকে উৎসাহিত করে;
৬.১.৫ আদালত অবমাননা অথবা দেশের ঐক্য নষ্ট করে;
৬.১.৬ রাষ্ট্র এবং সরকারের বিরূপ সমালোচনা ও অহেতুক রটনা করে;
৬.১.৭ দেশের কাউকে ব্যক্তিগত, দলীয় অথবা সমাজের কোন অংশকে অপবাদ বা কুৎসা রটনার মধ্যদিয়ে সমালোচনা করে;
৬.১.৮ কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসে উৎসাহ দেয়;
৬.১.৯ নারী সমাজকে অবহেলা করে;
৬.১.১০ শিশুকে অবহেলা করে;
৬.১.১১ প্রতিবন্ধীকে অবহেলা করে;
৬.১.১২ এ্যালকোহল, মাদক ও ধূমপানে উৎসাহ প্রদান এবং সমর্থন করে;
৬.১.১৩ জাতিগোষ্ঠী, জাতীয়তা, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ, বয়স অথবা শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো ব্যক্তি, দলের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়া, কুৎসা রটনা করে বা ঘৃণা প্রকাশ করে বা করার উদ্যোগ নেয়;
৬.১.১৪ ধর্মীয় অনুভূতি বা সংবেদনশীলতাকে হীনস্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয় এমন কিছু; এবং
৬.১.১৫ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী ও বিশ্বাসকে খাটো করে দেখা হয়।

৭. অন্যান্য নির্দেশাবলীঃ
৭.১ কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার মৌলিক উদ্দেশ্য হবে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সেবা করা এবং তাদেরকে বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচারে অন্তর্ভূক্ত করা।
৭.২ কেবল অলাভজনক সংস্থা/প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবেঃ
৭.২.১ লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিটি স্টেশনের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকবে। স্টেশন পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনায় উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে;
৭.২.২ প্রতিটি স্টেশনে স্থানীয় প্রশাসন, যেমন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার (TNO), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (যেখানে স্টেশনটি জেলা শহরে অবস্থিত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, জাতি গঠনমূলক কাজে নিয়োজিত বিভাগসমূহ যেমন- কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, বন ও পরিবেশ, আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য, বাংলাদেশ বেতারের স্থানীয় স্টেশনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি করে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে হবে;
৭.২.৩ অনুমতি/লাইসেন্স প্রাপ্ত স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও অনুষ্ঠানে সমতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও লিঙ্গ বিবেচনা সাপেক্ষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করবে;
৭.২.৪ অনুমতি/লাইসেন্স প্রাপ্ত স্টেশন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কমিউনিটির লোকদের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
৭.৩ দু’বছরের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হবে। অনুমোদনের বিধি ও শর্ত মেনে চললে এবং কোনো বিধি ভঙ্গ না করলে, সফল সমাপ্তি শেষে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বোক্ত সময়সীমার মতো অনুমোদনের সময়সীমা গ্রহীতা সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে নবায়ন করা যাবে।
৭.৪ লাইসেন্স স্বত্ত্ব হস্তান্তর করা যাবে না। গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কোন সাংগঠনিক পরিবর্তন হলে তা তাৎক্ষনিক লিখিতভাবে সরকার-কে অবহিত করতে হবে।
৭.৫ বাংলাদেশ বেতারে যদি স্থানীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয় তাহলে বিভিন্ন কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময়ের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অথবা কোন নির্দিষ্ট এলাকা সম্পর্কিত কোন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিউনিটি রেডিও স্টেশনগুলোতে সে অনুষ্ঠান পুন:প্রচার করতে হবে। যেমন জাতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী/উপদেষ্টার ভাষণ, কোনো জাতীয় দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুষ্ঠান ও আবহাওয়া সংবাদ, সরকার বা বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক প্রেরিত অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার বা পুন:প্রচার করতে হবে। এছাড়া এলাকা/কমিউনিটি ভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে স¤প্রচার করতে হবে।
৭.৬ কমিউনিটি রেডিওর অনুষ্ঠানমালার বিষয়বস্তুর মধ্যে কৃষি, বয়স্ক ও শিশু শিক্ষা, জেন্ডার ইস্যু, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও আবহাওয়া, সমাজ কল্যাণ, বর্তমান বাজার দর, কৃষিজাত পণ্যের চাহিদা, গ্রামীণ এবং এলাকা ভিত্তিক উন্নয়ন, শিশুর যত্ন, মাতৃ স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, বাংলাদেশ বেতারের জাতীয় সংবাদ, স্থানীয় জনগোষ্ঠির আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থাৎ কমিউনিটি রেডিওর অনুষ্ঠানমালায় সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিশেষভাবে প্রতিফলিত হবে।
৭.৭ কমিউনিটি রেডিও’তে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিও’র সকল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও মূল্যায়নে অংশ গ্রহণ করবেন।
৭.৭.১ লাইসেন্স গ্রহীতা সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রেক্ষাপটে তার রেডিও'তে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার মূল্যায়নের পাশাপাশি কমিউনিটির জনগনের অংশ গ্রহণ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে তাদের আগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করবেন;
৭.৭.২ উন্নয়ন ইস্যু ও নীতির ব্যাপারে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য কমিউনিটি রেডিও স্টেশনে সম্প্রচারিত হবে;
৭.৭.৩ অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে স্থানীয় তথ্য, ঘটনা এবং প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন), স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিচয় এবং স্থানীয় ভাষাকে তুলে ধরতে হবে;
৭.৭.৪ অনুষ্ঠান কাঠামো, বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা ও ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

৭.৮ কমিউনিটি রেডিও যেহেতু স্থানীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে তাই স্থানীয় উন্নয়ন সংবাদ সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হবে। তবে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিষয় সম্প্রচার, সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচার ও বিজ্ঞাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন শুধু দেশি-বিদেশি রেকর্ডকৃত বিনোদনমূলক ও প্রামাণ্য অনুষ্ঠান বেতার সেন্সর নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে সীমিতভাবে প্রচার করতে পারবে। বিদেশী স¤প্রচার সংস্থা/চ্যানেলের সংবাদ ও চলতি ঘটনাভিত্তিক অনুষ্ঠান, আলোচনা ও টক শো সরাসরি বা রেকর্ড করে স¤প্রচার করতে পারবে না।
৭.৯ নিম্নে বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে উন্নয়নমূলক সেবা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে:
৭.৯.১ বিজ্ঞাপন উন্নয়নমূলক সেবা সংশ্লিষ্ট হতে হবে এবং নিদিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে;
৭.৯.২ কমিউনিটি রেডিও স্টেশন নিশ্চিত করবে যে অনুষ্ঠান অর্থায়নকারীরা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বা অনুষ্ঠানমালার বিষয়-বস্তু কিংবা স্টাইল এবং স্টেশনের নীতিমালার ব্যাপারে কোন প্রভাব বিস্তার করছে না;
৭.৯.৩ বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
৭.১০ প্রয়োজনে যে কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ যে কোন কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও মনিটর করতে পারবে। তাই লাইসেন্স গ্রহীতাকে এ ধরণের যে কোন নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।
৭.১১ লাইসেন্স গ্রহিতা তথ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট প্রেরণ করবে। লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করবেন। এ ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের ব্যর্থতার জন্য সরকার প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্ট জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্তকরণসহ অনুমতি/লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে।
৭.১২ সরকার কিংবা সরকার অনুমোদিত প্রতিনিধি যে কোনো কমিউনিটি রেডিও স্টেশন ও এর স্থাপনা পরিদর্শন এবং উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
৭.১৩ জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি অবস্থা/যুদ্ধ অথবা বিরোধমূলক পরিস্থিতি অথবা এ জাতীয় কোনো পরিস্থিতির কারণে সরকার যে কোনো সংখ্যক বা সকল কমিউনিটি রেডিও স্টেশন অধিগ্রহণ বা এর/এগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করতে পারবে। এসকল ক্ষেত্রে সরকার যে কোনো সংখ্যক বা সকল কমিউনিটি রেডিও স্টেশন-এর অনুমতি/লাইসেন্স বাতিল করার অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তিকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনার ক্ষমতা রাখে।

৭.১৪ কোন এলাকা বা জায়গায় সম্প্রচার কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হবে সে ক্ষেত্রে সরকারেরর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। কোনো বিশেষ বার্তা সম্প্রচারের জন্য বা প্রত্যাশিত ও জরুরি প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি রেডিও-কে অবশ্যই মানতে হবে।
৭.১৫ লাইসেন্স গ্রহীতাকে অডিট করা বার্ষিক হিসাব এবং বার্ষিক রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
৭.১৬ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহীতা স¤প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হলে সরকার অনুমতি/লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে।
৭.১৭ কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উৎস, সামর্থ বাড়ানো, প্রযুক্তি গবেষণা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুণগত
মান বৃদ্ধির জন্যে সরকার কমিউনিটি রেডিও উন্নয়ন তহবিল গড়ে তোলার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারবে।
৭.১৮ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে তরঙ্গ ও বেতার যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিটিআরসি কর্তৃক আরোপিত সকল শর্তাবলী মেনে চলতে হবে।
৭.১৯ কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের জন্য স্থাপিত টাওয়ার বেসরকারী টেলিফোন অপারেটরদেরকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না। এ ছাড়া অন্য কোন বেসরকারি কাজেও এসব টাওয়ার ব্যবহার করা যাবে না।
৭.২০ কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থা নিজস্ব অর্থায়নে সশস্ত্র আনসার দ্বারা স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী কোনো সম্প্রচার হয়েছে কি না এ মর্মে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিমাসে একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণ করবে।
৭.২১ জনস্বার্থে অথবা যথাযথ সম্প্রচারের জন্য অথবা জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার এই নীতিমালার বিধি ও শর্ত পরিবর্তনের অধিকার সংরক্ষণ করে।
৭.২২ জনস্বার্থে অথবা সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করার দায়ে সরকার যে কোনো সময় কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের অনুমতি/লাইসেন্স বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করে।

৮. কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচার মনিটরিংঃ
৮.১ সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি বা সংস্থা কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের কার্যক্রম মনিটরিং ও নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সম্প্রচারকৃত কোনো অনুষ্ঠানের সিডি(ঈউ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন জমা দিতে বাধ্য থাকবে;
৮.২ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি, বাংলাদেশ বেতারের স্থানীয় স্টেশনের প্রতিনিধি, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সমন্বয়ে একটি স্থানীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে হবে। ঐ কমিটি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের কার্যক্রম মনিটর করবে এবং প্রতিমাসে সরকারের নিকট একটি প্রতিবেদন জমা দেবে;
৮.৩ উপদেষ্টা কমিটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের শক্তি ও দুর্বলতার নিরিখে সংশ্লিষ্ট স্টেশনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে;
৮.৪ কমিউনিটি রেডিও’র অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণকে উপদেষ্টা কমিটি উৎসাহিত করবে;
৮.৫ কমিউনিটি রেডিও’র মাধ্যমে উন্নয়ন বিষয়ক বিজ্ঞাপন/সরকারি বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যাপারে উপদেষ্টা কমিটি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করবে;
৮.৬ অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নের জন্য কমিউনিটি রেডিওর জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটি সময় সময় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং সেবা দেবে;
৮.৭ তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি কমিউনিটি রেডিও পরিচালনা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে তদারকি করবে এবং সময় সময় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।

----------------------------------------
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
তথ্য মন্ত্রণালয়
১২ মার্চ, ২০০৮
----------------------------------------

* কমিউনিটি রেডিও স্থাপনে উৎসাহীদের কাজে লাগবে ভেবে দিলাম।
** সূত্র: তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইট
*** ওয়ার্ড ফরম্যাটে ডাউনলোড লিংক

 

 

  • ৩৭ টি মন্তব্য
  • ৩৪২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
comment by: প্রচেত্য বলেছেন: তথ্যবহুল পোষ্ট
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: পুরোটাই তথ্য। কপি পেস্ট করেছি। আশা করি কেউ কিছু মনে করবেন না। :)

২. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১
comment by: অচেনা বাঙালি বলেছেন: পোর্চুর তথ্য।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০২

লেখক বলেছেন: তথ্যে তথ্যে সয়লাব :)

৩. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: বিশাল নীতিমালা । এই নীতিমালা পড়তেই তো একবছর লেগে যাবে ।

কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনে ৫ বছরের কমিউনিটি কাজের অভিজ্ঞতা লাগবে , এই শর্তটি হচ্ছে আমাদের আমলাদের বুদ্ধিবৃত্তির চরম দীনতার একটা উদাহরন ।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: জেবতিক ভাই,
৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিটি প্রায় প্রতিটি জেলাতেই আছে। সেক্ষেত্রে হয়তো এই নীতিটি খুব একটা অসুবিধা করবে না। তবে আমিও একমত এটা কম হলে ভালো হতো। হয়তো হঠাৎ গজিয়ে উঠা সংস্থাকে দূরে রাখতেই এটা করা হয়েছে। ধন্যবাদ।

৪. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৩
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
খুব অল্প পরিসরের ক্ষমতাসম্পন্ন, যেমন একটা গ্রামের জন্যে কমিউনিটি রেডিও তৈরি করার জন্যে কীরকম খরচ পড়তে পারে, বলতে পারবেন?
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০১

লেখক বলেছেন: আমি সঠিক তথ্যটি দিতে পারবো না এ মুহুর্তে। যদ্দুর জানি, ৫/৭ লক্ষ টাকা লাগে নূন্যতম।

৫. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৬
comment by: নাজিরুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৬. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: আরণ্যক , আগে নীতিমালাটি পড়ুন । আপনি বা আমি যদি চাই গ্রামে একটা ছোট্ট স্টেশন বসাবো , সেটা আপনি পারবেন না কারন আপনাকে এর আগে থেকেই পাচঁ বছর গ্রামের উন্নয়নের কাজে ব্যস্ত ধান্দাবাজ এনজিও হতে হবে ।

আবার টিভি স্টেশন বসানোর ক্ষেত্রে এমন কোন নীতিমালা নেই যে আপনাকে এর আগের পাচঁ বছর বা দশ বছর নাচ গানে ব্যস্ত থাকতে হবে । তাহলে হয়তো ছায়ানট , বুলবুল একাডেমী এরা ছাড়া আর কেউ টিভি লাইসেন্স পেতো না ।
৭. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: মুকুল , আপনাকে বুঝতে হবে যে উন্নয়ন সংস্থা আর মিডিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয় । পাচঁ বছর ব্যাপী ব্যস্ত সংস্থা তাদের নিজেদের কাজ করতে থাকুক , মিডিয়াটা ওদের হাতে দেয়ার দরকার কী ?

আমাদের গ্রামে তরুণ ছেলে মেয়েদের একটা ক্লাব আছে , তারা ব্যাডমিন্টন টূর্নামেন্ট থেকে শুরু করে পচা গলা পুকুর উদ্ধার..বিভিন্ন ধরনের কাজ করে । আমি একটা পাঠাগার করার জন্য তাদেরকে উৎসাহিত করছি ।

এখন আমি যদি তাদের হাতে একটা ছোট্ট রেডিও স্টেশন দিতে পারি এবং সেই স্টেশন যদি বিশ কিলোমিটারের মাঝে প্রচারিত হয় তাহলে কী চমৎকার একটা ব্যাপার হয় ভেবে দেখুন ।

উন্নয়ন সংস্থার " ক্ষুদ্র ঋণের বৃহৎ সুদ " আদায়ের জন্য এই অস্ত্রটি তাদের হাতে না দিলেও চলে , তাদের হাতে আরো অনেক অস্ত্র আছে ।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১১

লেখক বলেছেন: আমি আপনার সাথে একমত যে, এটা আরো উন্মুক্ত হওয়া উচিত।
গ্রামে, মফস্বলে ও অনেক বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে। তারা সুযোগটা নিতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে সেটাও বিবেচনা করা উচিত। আবার এটাকে টেকসইভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাংগঠনিক দক্ষতাও দরকার।

৮. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
বুঝলাম।
আমার অনর্থক ও হাস্যকর ভবিষ্যত পরিকল্পনাগুলো নিয়ে নড়াচড়া করার আগে জেবতিক আরিফ লোকটার সাথে আমার দেখা হওয়া দরকার।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: কোন স্বপ্নই অনর্থক নয় যাযাবর ভাই। স্বপ্ন আগে না দেখলে বাস্তবায়নতো অনেক দূরের বিষয়। :)

৯. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৫
comment by: মনিটর বলেছেন: শর্টকার্ট লেখার জন্য কপি পেস্ট।
শর্টকার্ট পড়ার জন্য কোনো টেকনিক আছে?

(চোখ বুলালাম) ;)
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৭

লেখক বলেছেন: জ্ঞান অর্জনের কোন শর্টকাট পথ নাই ;)

১০. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৯
comment by: সাগর নীল বলেছেন: Very informative post. The govt should use this concept to create awareness in different issues.
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এটি নীতি সরকারই তৈরি করেছে। আশা করছি সারাদেশে অঞ্চলভিত্তিক কমিউনিটি রেডিও চালু হবে।

১১. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৯
comment by: রাশেদ বলেছেন: কত বড় লেখারে!
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

লেখক বলেছেন: :P

১২. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
comment by: মনের কথা বলেছেন: অচেনা বাঙালি বলেছেন: পোর্চুর তথ্য।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

লেখক বলেছেন: :) ;)

১৩. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১
comment by: নিবেদীতা বলেছেন: ধন্যবাদ।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ নিবেদীতা

১৪. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২০
comment by: রাতমজুর বলেছেন: গুড জব
২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৫. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:২৭
comment by: অভী চৌধুরী বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম আপনার লেখাটি পড়ে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ :) এটি আমার লেখা নয়। কপি পেস্ট করেছি মাত্র। আমার পোস্ট বলতে পারেন। :)

১৬. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৩১
comment by: প্রণব আচার্য বলেছেন: হয়রান হইয়া গেলাম....
২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৩৭

লেখক বলেছেন: :P

১৭. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
comment by: রাতিফ বলেছেন: তথ্যবহুল পোষ্........তবে হয়রান হইয়া গেছি মুকুল ভাই।
২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৫৩

লেখক বলেছেন: :P

১৮. ২১ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: পোস্ট কই!!
২১ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: এইমাত্র দিলাম :)

১৯. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৬
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরিষেবাটি জাস্ট ক' দিন আগে চালু হলো। হ্যাম নিয়ে আমার অই লেখাটা তুমি দেখেছো না ( blog # 28745866 )?
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: যাদবপুর সহ আপনাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা পোস্ট দিতে পারেন। তাহলে কাজে লাগবে অনেকের। যেহেতু এই দেশে মাত্র শুরু হলো। হ্যাম নিয়ে আপনার লেখাটা পড়িনি এখনো। পড়বো নিশ্চয়।

 



 


আমি যেন সেই লোকশ্রূত ল্যাজারাস;
তিন দিন ছিলাম কবরে, মৃত।
পূনর্জীবনের মায়াস্পর্শে আবার এসেছি ফিরে পৃথিবীর রোদে।
পোশাকের জেল্লা তবু পারেনা লুকোতো কোন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৩৮১০৬