সামহোয়্যারের প্রথম প্রজন্মের শক্তিমান লেখক ব্লগাররা তখনো ছিলো। মুগ্ধ হয়ে তাদের লেখা পড়তাম। আর ভাবতাম, এত সুন্দর করে সবাই কিভাবে লিখে! সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিলো লেখার বৈচিত্র্য। এত বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা যেতে পারে যেটা মূলধারার মাধ্যমে কিংবা বইতে সহজলভ্য ছিলো না। তাছাড়া প্রতিটি লেখার সাথে লেখকের সাথে সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ থাকাতে দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো ব্লগিং মাধ্যমটা। যদিও প্রথম দিকে আমি নিয়মিত ব্লগে থাকতাম না। পোস্ট দিয়েই চলে যেতাম। তাই ব্লগারদের সাথে সম্পর্কটা ঘনিষ্ট হয়ে উঠেনি।
এর মধ্যে আবার ব্যক্তিগত একটা বিপর্যয়ের কারণে ব্লগ ছেড়ে দিয়েছিলাম। এমনকি ব্যক্তিগত ব্লগস্পট ব্লগ, ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর কখনোই লিখবো না। যদিও ব্লগে তখন খুব একটা পরিচিত ছিলাম না বলে কারো হয়তো দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি বিষয়টি। নোটিশবোর্ডকেও অনুরোধ করেছিলাম আমার ব্লগটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য্। ভাগ্যিস তারা তা করেনি! শেষ পর্যন্ত বন্ধুদের চাপে আর নিজের অবসর সময়টা কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রয়োজনে আবার শুরু করি। তারপর থেকে প্রায় নিয়মিতই ব্লগে আছি।
নিজের লেখালেখির কথা বলতে গেলে, আমি গদ্যে একেবারেই দূর্বল। সেই ব্যর্থতা থেকে কবিতা লেখার প্রয়াস। যদিও কবিতাও যে খুব জুইতের লিখি তা নয়, কিন্তু কিছু একটা তো করছি! (জুইত শব্দটা জামাল ভাস্কর ভাই বেশি ব্যবহার করে। এই ধরনের শব্দ খুব মজার লাগে। আন্তরিক ভাব আছে। ব্লগে এসে এ ধরনের কথ্য শব্দের ব্যবহার শুরু করেছি। ভালোই লাগে) ইন্টারমিডিয়েটের পর কলেজ জীবনে বলতে গেলে কিছুই লিখিনি। আর কখনো যে লিখবো, সে চিন্তাও ছিলো না। আসলে ব্লগের উৎসাহেই আবার লেখালেখি শুরু।
লিখতে লিখতে আর অন্যের ব্লগ পড়তে পড়তে কিছু বন্ধুও জুটে গেলো। মজার ব্যাপার হলো বন্ধুদের বেশির ভাগই কাছাকাছি ব্যাচের। বয়সও সবার প্রায় একই। চিন্তাভাবনারও অনেক মিল। তাই জমে গেলো তাদের সাথে। এই বন্ধুরা না থাকলে ব্লগিং নিঃসন্দেহে পানসে হয়ে যেতো। বন্ধুরা আছে বলেই ব্লগে আনন্দ পাই। সাধারণ একটা লেখাতেও তারা যখন কমেন্ট করে, উৎসাহ দেয়, তখন নতুন কিছু লেখার প্রেরণা পাই।
এইসব ব্লগব্লগানির মধ্যে খুব বিরক্তিকর ছিলো স্বাধীনতাবিরোধী জামাতশিবির চক্রের পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো। এসব বরাহ শাবকদের কারণে ব্লগের পরিবেশ প্রায়ই অস্থির হয়ে যেতো এখনো মাঝে মাঝে হয়। ভরসা পেতাম স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ দেশ বিদেশের ব্লগারদের দেখে। বরাহের উৎপাত ঠেকাতে এ-টীম সহ সাধারণ ব্লগারদের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার মত।
বিভিন্ন ইস্যুতে মডারেশন প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে বেশ কয়েকবারই আন্দোলন হয়েছে। সেই মিছিলে আমিও ছিলাম। কে জানে, সেজন্য হয়তো কর্তৃপক্ষের সুনজরে (!) আছি। তবে বিষয়টি খুব মজার। বাস্তবের মত ভার্চুয়াল জগতেও যে আন্দোলন সংগ্রাম হতে পারে, এটা কখনো চিন্তাতেই আসেনি। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।
ব্লগিং এর জগতে এসে অনেক কিছুই শিখেছি। এ কথা অকপটে বলতে পারি। প্রত্যেকটা মানুষই কিছু না কিছু জানে। এই জানা অজানা জ্ঞানগুলো পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যমে একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন এগিয়ে যাবে বিশ্বাস করি। সেই যাত্রায় ইন্টারনেটের জগত একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এই সুযোগটা এখনো সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীই পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য প্রযুক্তির সুফল আমাদের দেশে এখনো যায়নি। কিভাবে এ সুযোগ সবাই পেতে পারে, তা ভাববার বিষয়।
সে যাই হোক, বাংলা ব্লগিং ফোরাম সামহোয়্যারইনের একজন হয়ে এক বছর পূর্ণ হলো আজ। হয়তো এটা অন্যের কাছে কোন তাৎপর্য বহন করে না। কিন্তু আমার কাছে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই। তাই সামহোয়্যারইনের আমার লেখার জমিনে লিখে রাখলাম। অনেক অনেক বছর পর যদি তখনো সাইটটি টিকে থাকে, এই লেখাগুলো নিজের কাছেই স্মৃতিরোমন্থনের বড় উৎস হয়ে থাকবে। সময়ের সাথে সাথে নিজের লেখালেখি, চিন্তাভাবনার বিবর্তনটা নিজের কাছেই বিশেষভাবে ধরা পড়বে হয়তো।
নাহ! লেখাটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কি চিন্তা করে লেখাটা শুরু করেছিলাম, ভুলে গেছি। এক বছর অনেক লম্বা সময়। অনেক স্মৃতি। অনেক না বলা কথা জমে যায়। যাক, কথা আর বাড়াবো না। কষ্ট করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পোস্ট পড়ার জন্য আমার ব্লগের বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

