এই লেখাটি গতমাসের। কেন জানি না নিজের কাছেই পছন্দ হয়নি, তৃপ্তি আসেনি। যা বলতে চাইছিলাম, তা লেখায় আনতে পারিনি। কবিতা হয়ে উঠেছে বলেও মনে হয়নি। ভেবেছিলাম পরে হয়তো স্বতস্ফূর্তভাবে ভাষা আসবে, তাই ফেলে রেখেছিলাম। কিন্তু যতবারই ফাইলটা খুলেছি, লেখা একটুকুও এগোয়নি। আজ মনে হলো, হোকনা সাহিত্যমানহীন। হোকনা এলোমেলো। কবিতা হিসেবে না হোক, দিনলিপির মত করে কেউ পড়ুক। বন্ধুরা জানুক, ১০ জুলাই কিছু একটা লিখেছিলাম। এই লেখাটা নিভৃতে বয়ে বেড়াতে ভালো লাগছিলো না। কেমন যেন যন্ত্রণা হচ্ছিলো। তাই আজ দিয়েই দিলাম।
কৃষকের উপহার
প্রতিদিন ভোরে নাগরিক ঘুম ভাঙার পূর্বেই
আমাদের কাঁচাবাজারে, দোরগোড়ায়-
আসে ট্রাকে বোঝাই হয়ে, ভ্যান ভর্তি হয়ে,
আসে উত্তর থেকে পূবে থেকে
পশ্চিম থেকে দক্ষিণ থেকে।
আসে শস্যের ভান্ডার, সবুজ সব্জী,
নিত্যপ্রয়োজনীয় যত জীবনের খোরাক।
দ্যাখো, কত সরল ওরা, রক্তের নির্যাস ঢেলে ফসল ফলায়,
নোনা ঘাম শুষে নির্মোহ জমি বিনিময়ে দেয় সোনালী ধান, পাকা ফল।
নিজের খোরাকীটুকু রেখে, বাকিটা পাঠিয়ে দেয়
শুধু কলমের আঁচড় কাটতে শেখা প্রাণহীন ধূসর নগরে।
হে মাথা খাটানো মধ্যসত্ত্বভোগী, আসুন প্রাণ চাষীর প্রতি কৃতজ্ঞ হই।
খাবার টেবিলে অন্তত একবার মনে মনে বলি,
‘এই উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতা’।
ন্যায্য বিনিময় না দিতে পারি, অন্তত একবার আন্তরিক কৃতজ্ঞতায়
স্মরি অর্থনীতির মার প্যাঁচে বন্দী আজীবন দরিদ্র মৌলিক চাষীর ঋণ।
১০ জুলাই, ২০০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


