somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... লাল শাড়ী’র মালিকিনী আমি দুলি
আমি আড় চোখে চাইতে চাইতে
কানাগলি দিয়া হাঁটি।

ওগো লাল শাড়ীর মালিকিনী
তুমি কোথা হইতে কোথা যাও
আমি বুঝিতে না পারি।

আমি আড় চোখে চাইতে চাইতে
কানাগলি দিয়া হাঁটি।


১ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১.৩০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/29003190 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/29003190 2009-09-01 23:49:02
আমার কবিতার বই জালছেঁড়া নদী <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_40.gif" width="23" height="22" alt=":``" style="border:0;" />
এবারের বইমেলায় আমার একটা কবিতার বই বেরুচ্ছে।
বইয়ের নাম জালছেঁড়া নদী
প্রচ্ছদ কিছুক্ষণ আগে পেলাম।

প্রকাশক: ভাষাচিত্র, ঢাকা
প্রচ্ছদ: মোস্তাফিজ কারিগর


:``>> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28903680 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28903680 2009-01-28 22:58:08
আমাদের নারীরা সুখে থাকুক তাহাদের পঞ্চদশ তলার ফ্ল্যাটে গুচ্ছ গুচ্ছ গোলাপঝাড় বেড়ে উঠুক।
তাহাদের বিছানায় মাখনের মত আদরের বৃষ্টি ঝরুক
তাহাদের রমণীয় মুখের দিকে টিভি ক্যামেরা হা করে থাকুক প্রতিদিন।
তাহাদের রন্ধন প্রণালী সুগন্ধ ছড়াক চ্যানেলে চ্যানেলে।
স্টারপ্লাসের মেগা সিরিয়ালের মত তীব্র আলোকিত হোক অন্দরমহল,
পরিপাটি মেকআপ নিয়েই প্রতিদিন তাহাদের ঘুম ভাঙুক,
ইভিনিং ইন প্যারিস সৌরভ ছড়াক তাহাদের দেহে মনে।

তাহাদের ঈদের বাজার হোক কলকাতা
অথবা সিঙ্গাপুর, নিদেনপক্ষে নব্য ফিউশন পার্ক।

তাহাদের অন্তর্বাস হোক স্পোর্টিং,
স্যানিটারী টাওয়েল হোক মেড ইন ইন্ডিয়া, নিশ্ছিদ্র সুরক্ষিত;
তাহাদের নখে, আঙুলে, কপালে, ঠোঁটে, স্তনে, জঙ্ঘায় সুখের স্ফীতি ঘটুক
তাহাদের কোমল ত্বক অলিভ অয়েল সুরক্ষায় থাকুক।

তাহাদের এটিএম বুথে ব্যালান্স কখনোই না কমুক,
তাহাদের ফিক্সড ডিপোজিটের সংখ্যা বাড়তেই থাকুক।

আমাদের নারীরা সুখে থাকুক
তাহাদের মনে নিশিদিন সুখের বৃষ্টি ঝরে ঝরে পড়ুক।


- - -
মাইজদী ,নোয়াখালী ২৩ জানুয়ারি ২০০৯]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28901363 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28901363 2009-01-23 14:52:46
রহিমার রহস্যময় বিয়ে (আমার লেখা জীবনের প্রথম গল্প!) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />
মিজান সাহেব আমাদের পাশের বাড়ীতে থাকেন। বয়স প্রায় ৮০ ছুই ছুই। সন্ধ্যার পর আমাদের আড্ডা হয় তার দোতলা বাড়ীর ছাদে। মিজান সাহেবের ছাদ আবার একটু অন্ধকার। গাছের আড়ালের কারণে ল্যাম্পপোস্টের আলো পুরোপুরি পৌছায় না। একেবারেই ভুতুড়ে পরিবেশ। আজ হঠাত করে আড্ডায় মধ্যে ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার বয়ান শুরু হলো। এই বিষয়ে মিজান সাহেবের দেখলাম ব্যাপক আগ্রহ। তার নাকি জীবনে অনেক অদ্ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা আছে। তার একটি আজ বলবেন। সবাই আগ্রহ নিয়ে কান খাড়া করে আছি। পরিবেশটাই ভুতের গল্প শোনার জন্য মানানসই।

মিজান সাহেব আবার বলতে শুরু করলেন। আমার দিকে ফিরে বললেন, বুঝলেন নাফিদ সাহেব, ঘটনাটা আজও একটা রহস্য হয়ে আছে। যা বলছিলাম, রহিমার বয়স তখন ১৪। গ্রামে আমাদের প্রতিবেশী। তখনকার দিনে এই বয়সের আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেতো। রহিমার বিয়ে একটু দেরিতেই হয়েছিলো। মা বাবার আদরের ছিলো বলে দেরিতে বিয়ে দিয়েছিলো।

রহিমার বিয়ে কার সাথে হচ্ছিলো, আমরা পরিস্কার জানতাম না। রহিমার বাবা ফকির দরবেশ টাইপ মানুষ ছিলেন। খেয়ালি প্রকৃতির। হঠাত করে তার এক মুরিদের পাল্লায় পড়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন। বরের সম্পর্কে আগাম কিছুই আমাদের জানা ছিলোনা। রহিমার বাবাকে ভয় মিশ্রিত ভক্তি শ্রদ্ধা করতাম বলে কিছু জিজ্ঞেসও করা হয়নি কারো। ফকির দরবেশ মানুষ। কার উপর গোস্বা হয় কে জানে!

বিয়ের সময় মাগরিবের পরে ঠিক হয়েছিলো। পাত্র পক্ষ মাগরিবের পরে অন্ধকার নামতেই হাজির হলো। বরের সাথে মাত্র দুইজন মানুষ। একজন রহিমার বাবার মুরিদ সেই মানুষটি, পাত্রের মামা। আরেকজন পাত্রের বাবা। এত কম বরযাত্রী আসাতে আমরা সবাই অবাক হলেও কিছু বললাম না। খেয়ে দেয়া হুজুর কলেমা পড়ালেন। পাত্রের চেহারা দেখলাম তখন। চেহারাটা কেন জানি সুবিধার লাগলো না। চোখগুলো ঘোলাটো ঘোলাটে। প্রথম দর্শনেই আমাদের কারো পছন্দ হলো না। কিন্তু কিছুই করার নাই। আমরা খেয়েদেয়ে বাড়ীতে চলে এলাম। পরের দিন ভোরে হইচই শুনে ঘুম ভাঙলো। রহিমাদের বাড়ীতে প্রচন্ড গোলমালের আওয়াজ পেলাম। এক দৌড়ে গিয়ে হাজির হলাম।

দেখলাম রহিমা অজ্ঞান পড়ে আছে। সবাই তার মুখে পানির ছিটকা দিচ্ছে। জ্ঞান ফেরার পর সবার কথায় ঘটনা পরিস্কার হলো আমাদের কাছে।

জানলাম, বরপক্ষের দুইজন বরকে রেখে রাতেই চলে যায়। রহিমার বাসর ঘরে যখন বর প্রবেশ করে, তখন রাত হয়েছে অনেক। গ্রামের বাড়ী। চারদিক ততক্ষণে নিশ্চুপ। শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। হারিকেনের মৃদু আলো জ্বলছে। বরের মুখ একবার মাত্র দেখেছিলো রহিমা। ঘোলাটে চোখ দেখেই ভয়ের একটা শিরশিরে অনুভূতি তাকে ঘিরে ধরে। আরো ভালো করে দেখার আগেই বর হারিকেনের আলো এক ঝটকায় নিভিয়ে দিলো। তারপর নি:শব্দে রহিমার পাশে এসে বসলো। রহিমার কেন যেন অস্বস্তি লেগে উঠলো। তবুও কিছু করার নেই। এই ছেলেই এখন তার সবকিছূর মালিক। সহ্য তো করতেই হবে। কিন্তু ছেলেটি যখন তাকে জড়িয়ে ধরলো, হাতগুলো কেমন যেন লোমশ লোমশ লাগলো। গা সিড়সিড় করে উঠলো রহিমার। অস্বস্তিকর অনুভূতি নিয়েই স্বামীসঙ্গ হলো। তার পুরো শরীর কেমন যেন অসাড় হয়ে উঠলো। তান্ডব শেষে ক্লান্ত রহিমা মরার মত ঘুমালো। ভোরে যখন ঘুম ভাঙলো, পাশ ফিরতেই দেখলো তার বিছানা খালি।

বাইরে তখন গন্ডগোলের শব্দ। রহিমার বাবা দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। দরজা খোলার পরপরই তিনি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেদে উঠলেন। তারপরের ঘটনা শুনেই রহিমাও অজ্ঞান।

ঘটনা হলো, যার সাথে রহিমার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো, তারা নৌকায় করে আগের দিন দুপুরে রওনা দিয়েছিলো। কিন্তু আসার পথে বিকেলে নৌকাডুবিতে পাত্র তার দুই সাথী সহ মারা যায়। সকাল বেলা তাদের লাশ ভেসে উঠে নদীতে। গ্রামের মনু মাঝি লাশগুলো পাড়ে নিয়ে আসে।

- এই হলো ঘটনা। বুঝলেন নাফিদ সাহেব। এইটা এখনো এক রহস্য আমার কাছে। পাত্র যদি আগেই মারা যায়, রহিমার বাসর হলো তাহলে কার সাথে! আরো অবাক করা ঘটনা হলো, রহিমা পরবর্তীতে গর্ভবতী হয়। একটি সন্তানও হয়। ছেলে সন্তান। চেহারা অবিকল বাবার মতই। চোখগুলো ঘোলাটে ঘোলাটে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28900607 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28900607 2009-01-21 22:55:39
একটি গান গাও আজ শীত সকালের রোদ্দুরের মত নম্র উষ্ণ,
চড়ুইয়ের পালকের মত মোলায়েম, আদরমাখা।

দুরুত্ব ঘুচে যাক বেতারে; কানের কাছে ফিস ফিস করে উঠুক ছন্দিত তরঙ্গ।
যাই হোক, তবু কিছু একটা হোক; কিছু একটা গুণগুণ করুক।
কিছু একটা তুফানের মত ছুঁয়ে যাক,
হাজার রাত্রির নীরবতা ভেঙে কিছু একটা গ্রাস করুক,
আমাদের অগ্রন্থিত ভাবাবেগ প্রকাশ্য মিছিলে আসুক...




মাইজদী, নোয়াখালী ১০ জানুয়ারি, ২০০৯]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28895421 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28895421 2009-01-10 11:23:47
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Peace
আমার ভাগ্নে ইভান। এআইইউবিতে পড়ছে। পোলাপান বড় হলে যা হয়, কখন কি করে সব খবর রাখা হয় না। মাঝে মাঝে শুনি, ওরা বন্ধুরা মিলে পরীক্ষামূলক ফিল্ম বানায়। কিন্তু দেখা হয়ে ওঠেনি।

আজ মেসেঞ্জারে নক করে বললো, ওর একটা স্বল্প দৈর্ঘ্য ফিল্ম ইউটিউবে আপলোড করেছে। এটা নাকি গত বছর ঢাকা আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উতসবেপ্রদর্শিত হয়েছিলো। লিঙ্ক পেয়ে অনেক সময় নিয়ে ডাউনলোড করে দেখলাম। আপনাদের জন্য লিঙ্কটা দিচ্ছি।

ফিল্মটার নাম Peace । ইভান আর তার বন্ধু রাব্বী, দুজনে মিলে বানিয়েছে। চিত্রনাট্য, অভিনয়, ক্যামেরা, এডিটিং- সব কিছুই ওদের করা।

কেমন হলো জানাবেন। খারাপ হলে খুব করে ধমকে দেবো ওদের! <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28894403 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28894403 2009-01-07 22:26:52
সামহোয়্যারে "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই" শিরোনামে ব্যানার চাই যারা তর্ক করছেন তাদের অনেকেই মনে করছেন এডাল্ট সাইটে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করে দাবীটাকে হেয় করা হয়েছে, এবং অনেকেই মনে করছেন যে সব জায়গা থেকেই এই দাবী তোলা উচিত।
পিয়ালের দাবী হচ্ছে যে তিনি যৌবনযাত্রার বিশাল ইউজার গোষ্ঠীকে একীভূত করে দাবীর পক্ষে জনমত তৈরী করছেন।

দেখার বিষয় যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করার বিষয়ে সবাই একমত। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঠিক আছে, পিয়াল ভাই উনার যৌবনযাত্রায় জনমত সংগঠিত করতে থাকুন।

সামহোয়্যারও একটি জনপ্রিয় সাইট। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত একটা সুন্দর সাইটও বটে। যৌবনযাত্রার লোকজন যে দাবী তুলতে পারে, তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর অবস্থান থেকে সামহোয়্যারও এই দাবী তুলতে পারে ।

তাই সামহোয়্যারের কাছে আবেদন, আপনারাও "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই" নামে একটি ব্যানার ব্লগের প্রথম পাতার কোথাও দৃষ্টিনন্দন করে লাগিয়ে দিন।

আমরা ব্লগাররা এখান থেকেই জনমত তৈরীর কাজে নামি।

এই দাবীর প্রতি যাদের সমর্থন আছে, তারা দয়া করে কমেন্টের ঘরে সিগনেচার করে যান।
ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28884544 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28884544 2008-12-18 22:43:48
অতিথি
আবার বিষণ্ণ বিকেল নামে
অতিথিরা যায় দক্ষিণের পথে
হিম নামলে সুদুরের পরিব্রাজক
কি এক টানে পেরোয় মহাদেশ।

পুরোনো পথের নতুন উত্তরাধিকার
মুছে ফ্যালে পারাবারের ক্লান্তি
ক্ষণিক জলকেলি শেষে অন্তরঙ্গ দল
নদীর কাছে খোঁজে তৃষ্ণার জল।

হিম ফুরোলে পর অতিথিরা
চলে যায় ফিরতি পথে
আসা যাওয়ার চক্রের মাঝে
রেখে যায় কিছু পালক।

আর কিছু নয়…

- - -
১৮ নভেম্বর ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28870891 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28870891 2008-11-18 22:27:01
আজ কোন কাজ নয় আজ আলসেমির গলা জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকবো।

যে যাই বলুক,
আজ কোন কথা নয়
হাসি নয় ঠাট্টা নয়
রাগ নয় অভিমান নয়
আজ দুঃখগুলোকে হিমঘরে পাঠিয়ে
পর্দা টানবো কাঁথা মুড়ি দেবো।

আজ কোন ফোনকল নয় টিভি নয়
স্মৃতিকাতরতা নয় সংক্ষিপ্ত বার্তা নয়
চুলোয় দাউ দাউ আগুণ নয়
জলকেলি নয় প্রার্থনা নয়
বাইনারী আবেগ বিনিময় নয়
কামনা জর্জরিত কল্পনাবিলাস নয়।

আজ নিজস্ব কঠিন কঠোর সাব্বাথ;
আজ কোন কাজ নয়
আজ আলসেমির গলা জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকবো।



১৪ নভেম্বর ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28868935 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28868935 2008-11-14 11:26:22
ইভ সারাদিন এবং সারারাত্রি
তপ্ত মরুময়-
প্রেমাস্পদের বিহনে
কাটে অথবা কাটেনা
পাথর সময়;
সুরভী মাখে গায়ে বুঝিবা ব্যর্থতার,
উর্ণনাভ জাল বুনে কষ্টের স্বরলিপি তার।

প্রেয়সীর আঙুল যেন এক একটি
প্রবাহিত ঝর্ণাধারার স্পর্শ,
স্বর্গীয় নহর, কুসুম গরম।
আহ! স্পর্শে স্পর্শে আনন্দ বারেবার!
এক সুতীব্র আবেগ গ্রাস করে যখন
নিজস্বতা হারিয়ে বিলীন আলিঙ্গনাবদ্ধ আমিত্ব!
এক একটি চুম্বন, এক একটি সম্মতির সিঁড়ি
অতিক্রম করে যখন আহবান করে--
তীব্র আনন্দ খুবলে খায় হৃদয়ের লাল,
প্রবাহিত উষ্ণ রক্তস্রোত, জ্বলন্ত লাভা।

প্রেয়সীর আঁখি পল্লব যখন পিটপিট করে
হাসে আনন্দে এবং পরিতৃপ্তিতে,
প্রেমিক মনের আনন্দ অপ্রকাশিতই থেকে যায়
সমস্ত অনুভূতি প্রকাশের পরেও একান্ত ভাষায়।
কানে ভেসে আসে স্বর্গীয় ঐকতান... চাই আনন্দ চিরকাল...

হায়! নিষ্ঠুরতা আমাদের প্রেমের সঙ্গে কখন কিভাবে যেন
অঙ্গাঅঙ্গি জড়িয়ে যায়, যেমন জলে মিশে লবণ--স্বচ্ছ দ্রবণ;
নেমে আসে শাস্তি -- বিচ্ছেদের, হতাশায় নিমজ্জিত প্রাণ।

জানা হলো না,
আদিম সর্প দিয়েছিলো
কী কুটিল প্ররোচনা!

- - -
মাইজদী, নোয়াখালী ৪ নভেম্বর, ২০০৮

* ছবিসূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28864687 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28864687 2008-11-04 21:21:09
আকাশের গল্প দু'বছর আগেও নিয়ম করে প্রতি সন্ধ্যায়
অন্তত: একবার আকাশ ছুঁতাম।
আমাদের সম্পর্ক ছিলো বন্ধুত্বপূর্ণ,
সূর্যাস্তের পর আকাশ ছাদের খুব কাছাকাছি চলে আসতো
হাঁটতে হাঁটতে পাশাপাশি দুই বন্ধুর মত আমি
আকাশের হাত ধরে মৃদু ঝাঁকুনি দিতাম।

দু'বছর আগেও দুপুরবেলা রোদ গাঢ় হলে পর
ঘর্মাক্ত গায়ে আকাশকে ডেকে নরম বকুনি দিতাম।
নরম ধমকেই কাজ হতো, আকাশ আমার কথা শুনতো,
কখনো পাঠিয়ে দিতো ছায়ার মত যাযাবর মেঘদল,
কখনো বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলে হামলে পড়তো ঠান্ডা হাওয়া।
উদাসী হাওয়ায় স্বস্তি পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে মোল্লার চা দোকানে বসে
এককাপ গরম চা, সাথে সদ্য প্যাকেট ভাঙা তাজা তামাক...

সন্ধ্যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়টাতে আড়াইতলার খোলা বারান্দায়
আকাশের সাথে জমজমাট আড্ডা হতো,
আকাশের বন্ধুরা-- মিল্কিওয়ে, অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ, আরো যতো খটোমটো
নামের অজানা অচেনা মহাজাগতিক বন্ধুরাও সাথী হতো।

আড্ডার অন্তরঙ্গতায় তোমার কথাও হতো;
আকাশ সবই জানতো--
প্রথম দেখাদেখির সলাজ দৌড়, ফোনে খুনসুটির নানান সূত্র
ধরে হাসি ঠাট্টাও চলতো।
এমনকি কখনো কখনো আকাশ আমাদের সম্মানে উপহার দিতো
তারা খসার দৃশ্য- ভবিষ্যত সুখ কল্পনায় সংস্কারাচ্ছ্‌ন আমরা
মোনাজাতের ভঙ্গিতে মুখে হাত বুলিয়ে নিতাম।
শত মাইল দূর থেকেও মহাজাগতিক ঘটনাগুলো
দু'জনে মিলে উপভোগ করা যেতো--
যেমন পূর্ণিমা দেখতাম দু'জনে একই সাথে - যদিও মধ্যিখানে একবেলার পথ!
আমি আকাশকে নিয়ে সদ্য লিখিত কোন কবিতা উৎসর্গ
করবো বলে মনে মনে ঠিক করেছিলাম, একদিন তুমুল
আড্ডার ফাঁকে তাকে সে কথা জানিয়েও দিয়েছিলাম।

আমি কথা রাখতে পারিনি, যেমন তুমি রাখোনি;
আকাশকে নিয়ে কোন কবিতা লেখা হয়নি আর।
তুমি চলে যাওয়ার পর গত দু'বছর ধরে
আমি তাই একটিবারও আকাশের মুখোমুখি হইনি।



২ নভেম্বর, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28863710 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28863710 2008-11-02 23:08:41
একজীবনে (কুট্টিকালের একখান কোবতে) নিঃস্ব হলাম বিশ্বলয়ে
সকল স্বপন হারিয়ে গেলো
অন্ধকারের অচিন গাঁয়ে।

সকল স্মৃতি সকল প্রীতি
শূন্য হল এক নিমেষে
স্থবির হলাম বধির হলাম
হৃদয় জ্বলে বিষে।


২৯.৩.১৯৯৭
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28861215 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28861215 2008-10-28 20:48:53
কন্যা সিনান করিতে যায় হিয়া দোলে তাহার টানে
ঢেউ খেলে পুকুরের পাড়ে
আমার মনটা আনচান করে।

কন্যা সিনান করিতে যায়
আঁচল লুটিয়া পড়ে ঘাটে
গলার ভাঁজে শ্যামল ত্বকে
রুপার চমক ঝিলিক মারে।

জলেশ্বরী জলেতে নামে
ডুব ডুব ডুব খেলে নরম স্রোতে
ভরা গতরের মায়া মিশে যায়
নিস্তরঙ্গ দেশে প্লাবন উঠায়।

তাহার দীঘল ঘন কেশে
আষাঢ়ের কালো মেঘেরা লুকায়
ভেজা ভেজা কেশে
যেন জলপ্রপাত ঝরে।

দূরে বসে দে‍খি সঙ্গোপনে
আর কেউ না দেখুক
আর কেউ না জানুক
শুধু আমি দেখিবো রুপের ঝলক।


- - -
মাইজদী, নোয়াখালী ২৪ অক্টোবর ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28859203 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28859203 2008-10-24 22:05:50
শততম দুঃখ গাঁথা কলেজ পড়ুয়া তরুণীরা বরাবরের মতই মুখরিত
আনন্দে প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে যাবে,
বাতাসে তাদের বেণী দুলবে নিয়মিত ছন্দে।
মুঠোফোনে, এসএমএসে, ইমেইলে বিনিময় হবে হৃদয়ের মৌলিক ভাষা।
আমার মৃত্যুর পর শহরের প্রতিটি রাস্তায়
ট্রাফিক সিগনালগুলো নিয়মিত বিরতিতে জ্বলবে নিভবে
যান্ত্রিক সময় নির্ধারক একমুহুর্তও এদিক ওদিক করবে না।
আমার মৃত্যুর পর সিনেমাহলগুলোতে উপচে পড়া ভীড়ের কমতি হবে না
বক্স অফিসে নতুন নতুন হিট ছবি নতুন আয়োজনে আসতেই থাকবে;
সন্ধ্যার পর জেগে উঠবে মার্কেট, পার্ক, নিষিদ্ধ আনন্দের ঘর।
আমার মৃত্যুর পর শহরের প্রতিটি অলিগলিতে হবে স্বাভাবিক কলরব,
লেকের পাড়ের ঝুলন্ত রেস্তোরায় হাসবে সদ্য প্রেমে পড়া তরুণ তরুণীরা,
কোথাও সুনসান নিরবতা নামবে না, যেমন নেমেছিলো এক কারফিউর রাত্রিতে।
আমার মৃত্যুর পর আন্তর্জালের জগতে আলোড়ন উঠবে না,
সার্চের ঘরে কৌতুহলী কেউ লিখবে না নাম, জানতে চাইবে না
ঐ মায়ার জগতে আমার কোন অনুভূতি ছড়ানো আছে কি না।

আমার মৃত্যুর পর স্বজনরা কাঁদবে, ওদের কান্নাটাই স্বাভাবিক
— ওটা অস্বাভাবিক নয়, ভীষণ রকম প্রত্যাশিত।
আমার মৃত্যুর পর সবকিছুই স্বাভাবিক থাকবে
কেবল অস্বাভাবিক হবে এক জোড়া জীবিত চোখ
একদিন যে চোখে উপেক্ষার বাণী ছিলো, ছেড়ে যাবার
তাড়না ছিলো, সেই জোড়া চোখ ম্লান হবে মুহুর্তের অপরাধবোধে…



মাইজদী, নোয়াখালী ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28848292 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28848292 2008-09-26 23:15:07
শরৎ বিকেলে আঘাত হানে বিকেলের ঘুমে।
কাশরঙা মেঘ চঞ্চলতা দেখায়
এই আসে এই যায়।

চপলা তরুণীরা হেঁটে যায়
তাদের ই‍ষৎ সলজ্জ গালে চুমু
খেয়ে যায় কনে দেখা আলো;
কি নির্মম সুন্দর হেঁটে যায়!

শরৎ মেঘ কোথায় যায়?
কোথায় হারায়?
তরুণীরা হেঁটে যায়,
তরুণীরা কোথায় যায়?


মাইজদী, নোয়াখালী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28845143 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28845143 2008-09-19 10:15:26
যখন তোমার শহরে যাই আর কোন শহর আপন মনে হয় না; আপন হয়ে ওঠে না।
তুমি যে শহরে আছো, সে আমার জন্ম শহর নয়।
স্বভাবতই আমার আপন শহর নয়,
প্রিয় নয়, নয় পুরোনো ভৃত্যের মত বিশ্বস্ত।
তোমার সুবাদে ওই শহরের প্রতিটি রাস্তা আমার হয়ে ওঠার প্রবল
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, আমার হয়ে ওঠে না।
তোমার শহর তার সমস্ত ঐশ্বর্যের ডালি মেলে ধরেও
আমাকে সুখী করতে পারে না,
অসুস্থ্য বোধ করি কৃত্রিম চাকচিক্যের শহরে।

তোমার শহর আমার শহর নয়,
তবু তা আমার হয়ে উঠেছিলো কয়েকটি মাস।
যেমন হাসপাতালের নার্সগুলো আপন হয়ে ওঠে কিছুকাল।
তারপর রোগ সারলে পরে ভুলে যাওয়া হয় ক'দিন পরেই।

তোমার শহরের প্রতিটি ধূলিকনা আমাকে উত্তপ্ত লেজারবীমের মত আঘাত করে,
আমাকে অসুস্থ্য করে। তারপরও আমি যাই, কখনো যেতে হয় দায়িত্বের টানে।
তখন ওই শহরের প্রতিটি রিক্সা খেয়াল করি,
প্রতিটি সিএনজি, প্রতিটি বাসের জানালার পাশের সীট।
প্রতিটি রাস্তার পাশের আকাশ ছোঁয়া অ্যাপার্টমেন্টের জানালার পর্দা গলে উঁকি দেয় তোমার মুখ-
তোমার মুখের আদলের মত ছায়া ক্রমাগত বিভ্রমে নিমজ্জিত করে আমায় ।

তোমার শহরের সকল তরুণী সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়
আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ করে দেয়,
সবার মাঝে যেন তোমার ছায়া দেখে চমকে উঠি;
পরক্ষণেই ভুল বুঝতে পেরে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই।

তোমার শহরে গেলে আকাশছোঁয়া দালানের শোভা দেখি না,
শপিং মল খুঁজি না, লোভনীয় অ্যাপার্টমেন্টের বিজ্ঞাপন সন্ধান করি না।
তোমার শহরে আমি শেয়ার কেনাবেচা করতে যাই না,
উচ্চ বেতনের চাকরির ইন্টারভ্যু ও দিতে যাই না।

বিশ্বাস করো, জাগতিক কাজের ছুতোয়
ওই নির্মম শহরে কেবল তোমাকেই খুঁজতে যাই
আর কিছু নয়...


১৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28843907 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28843907 2008-09-16 12:20:08
তুই সারাক্ষণ ভ্রু কুঁচকে রাখছিস আজকাল।
তুই এখন শরীরের যত্ন নিচ্ছিস না, ঘামে ভেজা কাপড়
দলা করে রাখছিস আলনায়, খেয়াল আছে?
লোডশেডিং এর অবসরে চাঁদ দেখিস না বারান্দায় বসে,
পূর্ণিমা তোর কাছে অসহ্য লাগে?
তুই দুর্ব্যবহার করছিস ঘরের মানুষের সাথে,
বন্ধুদের কথার পিঠে ঠেস মারছিস বেশি বেশি।
তুই সিগারেট বেশি টানছিস এখন,
ছাই ফেলে নোংরা করছিস মেঝে।
তুই অসামাজিক হয়ে যাচ্ছিস,
কাউকে ফোন করিস না, একসাথে বসে
সিনেমা দেখিস না, গুণগুণ করে গান গাইতে গাইতে
পাড়ার রাস্তা দিয়ে হাঁটিস না।
কথার ফাঁকে তোর মুখে এখন খিস্তি আসে
তোর কপালে গোপন রাগের ভাঁজ ফুটে ওঠে আনমনে;
কিসের অভিমানে?
তু্ই আগের মত নেই; তোর কী হয়েছে?


১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28842583 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28842583 2008-09-13 14:38:52
বহুগামী জুতো পাল্টাই ছ’মাসে একবার,
মুঠোফোনের মডেল পাল্টে একবার বছরে,
খাদ্যাভ্যাস তিনবেলায় তিনরকম!

সিগারেট শুরু গোল্ডলীফে, তারপর
ট্রিপল ফাইভ হয়ে বেনসন।
প্রতিদিনকার আড্ডায় নবাগত মুখ
নিত্য নতুন বৈচিত্র্যে ভরপুর।

ভালো লাগে নতুন ফিল্ম, নতুন সুগন্ধী,
নতুন অর্কিড, নতুন প্রযুক্তি।

স্বভাবে বহুগামী, চিন্তায় বহুগামী,
সচেতনে বহুগামী, অবচেতনেও বহুগামী।
কেবল তোমার বেলায় বিপরীত-
সেই যে প্রেমে পড়লাম, নতুন করে আর
কাউকে পাওয়ার ইচ্ছে জাগলো না!


মাইজদী, নোয়াখালী ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28839503 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28839503 2008-09-06 14:18:19
চিন্তাটা ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তাটা খুবই সংকীর্ণ; তুমিই তার সোজাসাপটা লক্ষ্য প্রিয়তমা।
নির্মম পৃথিবীতে তোমার বঞ্চনা আমি সইতে পারবো না।
তাই আমি চাই মানবাধিকার সংবেদনশীল সমাজ।
আমি যে শিশু অধিকারের কথা আওড়াই, তার সাথেও তোমার স্বার্থ জড়িত;
তোমার, মানে আমাদের শিশুকে সুন্দর একটি পৃথিবী উপহার দিতে চাই বলে।
আমি যে সমানাধিকারের কথা বলি, তা কোন লৈঙ্গিক সমতার
চেতনা থেকে নয়-স্রেফ তোমার স্বার্থে।
আমি কি তোমার চেয়ে বেশি পেতে পারি কিছু?
কিভাবে ভালোবাসার সাথে বৈষম্য বসবাস করবে বলো?
আমি তাই সমানাধিকারের কথা বলি, ন্যায্যতার কথা বলি।
আমি যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলি,
সে তোমার জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র চাই বলে। আমার প্রিয়তমাকে
নৈরাজ্যের মাঝে রেখে আমি কি নিশ্চিন্তে ঘুমুতে পারি?

এবার বুঝতে পারছো কেন আমি মহ‌ৎ বুলি আওড়াই?
বন্ধুরা যেমনটি ভাবে, আদতে তেমন উদার নই আমি; বলতে পারো চরম ব্যক্তিস্বার্থবাদী।
আমি শুদ্ধ হয়ে ওঠার আপ্রাণ সাধনা করি তোমার কষ্ট চাই না বলে।

সুধীজনের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তুমি চলে যাওয়ার পরও কেন আমি এসব বলে যাই!
কেন ভালোবাসার দায়মুক্ত হয়েও আমার ভেতরে জন্ম নেয় না ক্রুদ্ধ ফ্যাসিস্ট?
তবে কি এখনো, একটি মুহুর্তও তোমায় ভালো না বেসে থাকি না?


মাইজদী, নোয়াখালী ২৯ আগস্ট, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28836290 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28836290 2008-08-29 12:19:50
কোন কিছুই ব্যক্তিগত নয় ( হোসেইনের কবিতাঞ্জাল ) আমার খুবই প্রিয় একজন কবি হোসেইন। আমার খুব সৌভাগ্য যে তিনি আমাকে তাঁর একটি কবিতা উৎসর্গ করেছিলেন। কবিতাটি "আমারব্লগে" প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত: ওয়েবমাস্টারের ভুলে পোস্টটি মুছে যায়। তাই আমার এই ব্লগে লেখাটির কপি তুলে রাখলাম।




কোন কিছুই ব্যক্তিগত নয় ( হোসেইনের কবিতাঞ্জাল )
শুক্র, অগা 8, 2008

( উৎসর্গ : মুকুল )
বাবার একটা কালো ইয়থ কলম ছিল ,
রোজ রবিবারের ছুটির দিনে সেই কলমটাকে
হালকা গরম পানিতে ধুয়া হতো আয়েশ করে ।
আমার চাচার একটা রেজর ছিল জার্মানি মেড ।
ব্রাশে সাবান ঘষে ঘষে গালভর্তি ফেনা করে ,
সেই জার্মান মেড রেজরে দাড়ি কামাতেন বারান্দার কোনায় বসে ,
প্রতিদিন অফিস যাওয়ার আগে ।
তাদের প্রত্যেকেরই ছিল নির্দিষ্ট গ্লাস , প্লেট ,
চশমার মোটা ফ্রেম , পুলওভার ,খড়ম ।
মারা যাওয়ার পরেও সেই জিনিষগুলো এখনও পরম যত্নে
দাদী আগলে রেখেছেন তার টিনের ট্রান্কে ,
ফুলের ছবি দেয়া সেই ট্রান্কটিও দাদীর ব্যক্তিগত
কলকাতা থেকে দাদা এনেছিলেন বিয়াল্লিশ বছর আগে ।
আজও সেই জিনিষগুলোর মাঝে আমি বাবাকে পাই , চাচাকে পাই।
চরম উৎকর্ষের যুগে , আমিই পরিবারের সর্বোচ্চ শিক্ষিত
কিন্তু আমার কোন নির্দিষ্ট কলম নেই সারাটা জীবন ধরেই ।
বলপয়েন্টগুলো ডজন হিসেবে কিনে আনি আর হারাই ,
জিলেটের ওয়ানটাইম রেজরগুলো সপ্তাহ শেষে ছুড়ে ফেলি ডাস্টবিনে ।
প্রতিবছর পাল্টাই মোবাইল সেট , সানগ্লাস , ডিনার সেটের নতুন ডিজাইনের প্লেট , আরো যতো টুকিটাকি ।
মৃত্যুর পর কোন দ্রব্যে আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না ,
কারন ওসব আমার ব্যক্তিগত ছিল না ।
আমি যেমন বাবাকে খুঁজি , মৃত্যুর পরে আমাকে কেউ খুঁজবে না
কারন বাবার ব্যক্তিগত দ্রব্য ছিল , নিজের সন্তান ছিল ।
ভুল সময়ে জন্মানোর কারনে , আমার ব্যক্তিগত কিছুই ছিল না কোনকালে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28836090 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28836090 2008-08-28 22:19:19
কৃষকের উপহার এই লেখাটি গতমাসের। কেন জানি না নিজের কাছেই পছন্দ হয়নি, তৃপ্তি আসেনি। যা বলতে চাইছিলাম, তা লেখায় আনতে পারিনি। কবিতা হয়ে উঠেছে বলেও মনে হয়নি। ভেবেছিলাম পরে হয়তো স্বতস্ফূর্তভাবে ভাষা আসবে, তাই ফেলে রেখেছিলাম। কিন্তু যতবারই ফাইলটা খুলেছি, লেখা একটুকুও এগোয়নি। আজ মনে হলো, হোকনা সাহিত্যমানহীন। হোকনা এলোমেলো। কবিতা হিসেবে না হোক, দিনলিপির মত করে কেউ পড়ুক। বন্ধুরা জানুক, ১০ জুলাই কিছু একটা লিখেছিলাম। এই লেখাটা নিভৃতে বয়ে বেড়াতে ভালো লাগছিলো না। কেমন যেন যন্ত্রণা হচ্ছিলো। তাই আজ দিয়েই দিলাম।



কৃষকের উপহার

প্রতিদিন ভোরে নাগরিক ঘুম ভাঙার পূর্বেই
আমাদের কাঁচাবাজারে, দোরগোড়ায়-
আসে ট্রাকে বোঝাই হয়ে, ভ্যান ভর্তি হয়ে,
আসে উত্তর থেকে পূবে থেকে
পশ্চিম থেকে দক্ষিণ থেকে।
আসে শস্যের ভান্ডার, সবুজ সব্জী,
নিত্যপ্রয়োজনীয় যত জীবনের খোরাক।

দ্যাখো, কত সরল ওরা, রক্তের নির্যাস ঢেলে ফসল ফলায়,
নোনা ঘাম শুষে নির্মোহ জমি বিনিময়ে দেয় সোনালী ধান, পাকা ফল।
নিজের খোরাকীটুকু রেখে, বাকিটা পাঠিয়ে দেয়
শুধু কলমের আঁচড় কাটতে শেখা প্রাণহীন ধূসর নগরে।

হে মাথা খাটানো মধ্যসত্ত্বভোগী, আসুন প্রাণ চাষীর প্রতি কৃতজ্ঞ হই।
খাবার টেবিলে অন্তত একবার মনে মনে বলি,
‘এই উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতা’।
ন্যায্য বিনিময় না দিতে পারি, অন্তত একবার আন্তরিক কৃতজ্ঞতায়
স্মরি অর্থনীতির মার প্যাঁচে বন্দী আজীবন দরিদ্র মৌলিক চাষীর ঋণ।


১০ জুলাই, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28835311 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28835311 2008-08-26 20:40:42
মায়াবী ঘাতক তার শ্যামল চোখে অনাগত স্বপ্নের হাতছানি;
বৃত্তের ভেতর বৃত্তের আল্পনার ছোপ ছোপ দাগ
সাজিয়ে আমারে ডেকেছিলো ভীষণ মায়ায়।

আমি সেই প্রজাপতি ছুঁয়ে বর্ণীল আলোয়
ঘুরে বেড়িয়েছি শহরের ভেতরের শহর।
পাঁচ আঙুলের সাথে পাঁচ আঙুলের দিনমান বন্ধন,
স্নায়ুগ্রন্থী বেয়ে মাতাল করতো অলৌকিক শারাব।

শ্যামল প্রজাপতি, শেষকাষ্ঠ জ্বালানো মায়াবী ঘাতক;
তরল আগুন লুকোতেই কি অভিনয়ে হেসেছিলে লাজুক?


১২ আগস্ট ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28830270 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28830270 2008-08-12 23:42:35
সাত আগস্ট দু’হাজার ছয় সর্বনাশের শুরু। ঘটনার শেষ চক্রের ঘনঘটায়
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলেও টের
পাওয়া যায় না, সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে।
কখনো এমন হয়, সমাপ্তির পর বোঝা যায় শুরুর
ছোট্ট দৃশ্যের তাৎপর্য; সবশেষে বিদায় নেবার পর অর্থহীন
হাপিত্যেশে যায় দিন, মুখিয়ে ওঠা সরব স্মৃতিরা খুঁজে পায়
বেদনার জলপ্রপাতের উৎসমুখ - ভুলত্রুটির কার্যকারণ।

তার আগ পর্যন্ত ভুল বিশ্বাসে ভুলে থাকে মন
শুরুর ক্ষণ থেকে শেষ মুহুর্তটি পর্যন্ত।
যেমন শুরু হয়েছিলো সাত আগস্ট দু’হাজার ছয় সন্ধ্যা;
তারপর একদিন উচ্চারিত হয় – ‘সমাপ্ত হলো’।



- - -
মাইজদী, নোয়াখালী ৭ আগস্ট, ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28828520 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28828520 2008-08-07 23:10:25
ফিরে এসো মানুষের কাছাকাছি।
ঐ উচুতে বসবাসে কি আনন্দ?
কী আরাম হিম শীতল পর্বতের চূড়ায়?
ওখানে কি বসতি আছে? শুভ্র মেষ পাল?

উঁচুতে উঠতে উঠতে ছায়াপথ ছাড়িয়ে যাও,
মিটিমিটি তারাদের ছুঁয়ে যাও
ইশারায় জ্বালিয়ে দাও স্ফটিক স্বচ্ছ ঝাড়বাতি;
আর আমরা ডুবে থাকি মিশমিশে কালো অন্ধকারে!

বাঁকানো উপত্যকা বেয়ে নেমে এসো সমতলে
ভালোবাসার জন্য, এসো,
খুঁজে নাও ভবিষ্যত সুখী গৃহস্বামী।
এখানে দ্যাখো ধান আছে, গম আছে, আছে ডালের প্রাচুর্য।
প্রতিদিনের তাজা তরকারী আছে, পুকুরে মাছ আছে;
এখানে বাতাস আরামদায়ক, আছে পরিমানমত সতেজ বৃষ্টি,
ঋতুর পরিবর্তনে আকাশ রঙ বদলায় - চারদিক কেমন কোমল সুন্দর!

ফিরে এসো মেয়ে, মানুষের কাছাকাছি;
এবার সরিয়ে নাও সপ্ত নেকাব,
জেনো, প্রতীক্ষায় আছে সেই হারানো মেষপালক।


৪ আগস্ট, ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28827423 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28827423 2008-08-04 22:04:07
প্রজাপতি ছুঁয়ে দিলে ওম্নি গুনগুন করে উঠলো
প্রণয়ের সিম্ফোনী।

প্রজাপতি ছুঁয়ে দিলে
বেসামাল হয় পিয়াসী মন
সার্থক হয় নিশিযাপন।



২৪ জুলাই ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28823869 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28823869 2008-07-24 22:48:28
কন্ঠবার্তা
অনেক ভালোবাসি তোমাকে...
অনেক...
অবাক হচ্ছো?
আমিও হই, জানো?
তারপরেও বলছি--
তোমাকে অনেক অনেক অনেক...
ভালোবাসি সোনা...




[বি: দ্র: ইহা কোন মৌলিক লেখা নয়।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28823635 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28823635 2008-07-24 12:22:13
ভালোবাসা কৃষিকাজের মত সোজা নয় ভালোবাসা এক আগ্রাসী যুদ্ধ -
তাতে যুদ্ধনীতি আছে, কূটনীতি আছে।
অভিজ্ঞ সমরবিদের মত পরিকল্পনা সাজাতে হয়
গবেষণা করে বের করতে হয় প্রতিপক্ষের দূর্বলতা,
সামান্য অন্যমনস্কতায় একটু এদিক ওদিক হলেই
দূর্ভেদ্য দূর্গ উড়ে যেতে পারে কামানের গোলায়।
ভালোবাসা টেকাতে হলে আবিস্কার করতে হয় নিত্য নতুন মারণাস্ত্র,
প্রতিপক্ষের চেয়ে কম বিধ্বংসী হলে ময়দানে নামার
আগেই পরাজিত হতে হয় স্নায়ু যুদ্ধে।

অথচ আমি কি না ভেবেছিলাম-
শ্রম ঘাম দিয়ে বীজ বুনলে,
সময় সময় আগাছা নিড়িয়ে দিলে,
মাটির রঙ বুঝে হাট থেকে সার কিনে দিলে অথবা
আরো ভালো হয় জৈব সার দিলে শস্যক্ষেতে
এবং কয়েকবার করে সেচ দিলেই ফসল ফলবে সোনারঙা!

আমি শালার আজন্ম চাষা,
আজও সৈনিক হলাম না!



১৬ জুলাই, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28821054 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28821054 2008-07-16 21:29:53
তুই আঁর বুকের লগে মিশি থাক আঁই খালি বালিশ লই ইমুই উমুই গড়াগড়ি করি।
তোর কি ঠিকমত ঘুম অয়নি বউ?
হেই যে বাফের বাড়ী গেলি
একবারও কি আঁর কতা মনে হড়ে ন তোর?
বউ তুই হিরি আয়
আঁরে আর কষ্ট দিছনা
কসম, আঁই ও তোরে আর কষ্ট দিতাম ন।
তুই আঁর বুকের লগে মিশি থাক,
আঁই হারা রাইত শান্তির ঘুম যামু।


- - -
মাইজদী, নোয়াখালী ১৪ জুলাই, ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28820339 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28820339 2008-07-14 23:47:18
কবিতার জন্য ঋণস্বীকার সবুজ বৃক্ষরাজির কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।

জোনাক জ্বলা খুব নিশুতি
জ্বলজ্বলে এক রাতের কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।

অবহেলায় উড়ে যাওয়া
ছোট্ট প্রজাপতির কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।

খুব গোপনে ছুঁয়ে যাওয়া
ছোট্ট একটি ব্যথার কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।

ছয়টি দিনের স্মৃতির কাছে
চলে যাওয়া তোমার কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।


১১ জুলাই, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28819279 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28819279 2008-07-11 23:39:23
একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি গতকল্য বিকাল‍ ছয় ঘটিকায়
ম্লান গোধূলীবেলায় একজন যুবক
মানুষের পৃথিবী থেকে হারাইয়া গিয়াছে।

যুবকটির গায়ের রঙ চরের মাটির মত শ্যামল
চোখের রঙ শতবর্ষী পুকুরের জলের মত কালচে তরল,
কুঞ্চিত কেশদল ঘোর কৃষ্ণকায়, ঘাড় ছেয়ে কাঁধের কাছে নিঃশ্বাস ফেলিতেছিলো।
যুবকটি উচ্চতায় ছোট টিলার সমান কিন্তু পাহাড়ের চেয়ে খাটো।

যুবকটির বুক পকেটে ছিলো তিনটি জ্বলজ্বলে নক্ষত্র
প্যান্টের বাম পকেটে ছিলো একটি আস্ত নীহারিকা
ডান পকেটে ছিলো সর্বগ্রাসী এক কৃষ্ণগহবর,
যুবকটির পরণে ছিলো মিহি কুয়াশার চাদর।

হারাইয়া যাইবার আগ মুহুর্তে যুবকটিকে
আষাঢ়ের ঘন কালো মেঘমালা আবৃত করিয়া রাখে
মিনিট খানেক, মেঘ সরিয়া যাইতেই যুবকটিকে
আর দৃষ্টির সীমানায় পাওয়া যায় নাই।

যুবকটির সন্ধান না পাইয়া তাহার মাতা গভীর শোকে শয্যাশায়ী
তাহার সহোদর এবং সহোদরাগণ চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাইতেছেন।
যদি কেহ যুবকটির সন্ধান পাইয়া থাকেন
তাহাকে নিম্নবর্ণিত ঠিকানায় যোগাযোগ করিবার জন্য অনুরোধ করা যাইতেছে-
ঠিকানা: মেঘনা পাড়ের ধবল জোৎস্নার ঘাট।


- - -
মাইজদী, নোয়াখালী ৫ জুলাই, ২০০৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28817125 http://www.somewhereinblog.net/blog/mukulbdblog/28817125 2008-07-05 22:13:45