……… ছোটবেলায় আমার প্রিয় একটা খেলনা ভেঙ্গে যাওয়ার দু;খে আমি অনেক কেঁদেছিলাম-খেলনার শোকে কাতর আমার ছোট্ট হৃদয়টা যেন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাচ্ছিল। বালকের শোক বড় তীব্র হয়……
সে রাতে আল্লাকে আমি প্রানপনে ডাকছিলাম--ঘুমাতে যাওয়ার আগে, এমন কি বিছানায় শুয়ে শুয়েও। হে রাব্বুল আলামিন আমার ভাঙ্গা খেলনাটা তুমি ঠিক করে দাও। হে আল্লাহ- আমার প্রিয় খেলনা……
সকালে ঘুম ভেঙ্গেছিল একরাশ মন খারাপ আর সেই সাথে তীব্র উৎকন্ঠা নিয়ে- আল্লাহ কি আমার মোনাজাত কবুল করেছেন?? হে আল্লাহ- আমার প্রিয় খেলনা……
উপরের বর্নিত অভিজ্ঞতা কবি শহীদ কাদরীর নিজের জীবনের। যখন আমি প্রথম পড়েছিলাম আমার বয়স তখন কৈশোরের শেষ প্রান্তে। সেই স্মৃতিকথামুলক রচনা পড়লে জানা যাবে- বাল্যকালে কবির সেই মোনাজাত বলা বাহুল্য আল্লাহ কবুল করেননি- সেই ভাঙ্গা খেলনা আর জোড়া লাগেনি……
আমার মনে পুরা ঘটনার একটা গভীর ছাপ পড়েছিল- আমার ঈশ্বর বিশ্বাস বেশ নাড়া খেয়েছিল…
ছোট বেলায় জায়নামাজে দাদীকে আমার কাছে অসম্ভব রুপবতী মনে হত। উনি ছিলেন আমার কাছে দুনিয়ার সেরা রুপসী। কিন্ত জায়নামাজে দাড়ালেই দাদির চেহারায় একটা বাড়তি উজ্জ্বলতা ফুটে উঠতো—রুপের অতীত এক সৌন্দর্য্যময়তা ঘিরে থাকতো দাদীর অবয়বে।
দূরে কোথাও যাওয়ার আগে যতবার দাদীর কাছে বিদায় নিতে গেছি-উনি এসেছেন সদর দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে- পা ছুয়ে সালাম করলেই উনি মনে মনে দরুদ পড়া শুরু করতেন- এ সময় দাদীর চেহারা পুরা বদলে যেত-পাতলা ঠোট দুইটা তির তির করে কাঁপত-চোখের দৃষ্টি লক্ষ্য করলে বুঝা যেত দাদী আমাকে দেখছেন না, চোখের দৃষ্টি আমার শরীর ছাড়িয়ে হারিয়ে গেছে অজানা কোন উর্ধ্বলোকে। যেতে যেতে আমি বার বার পেছন ফিরে তাকাতাম-যতক্ষন দাদীকে দেখা যায়।
দাদীর এই সৌন্দর্য্যময়তার জন্য আমি আল্লার কাছে অসম্ভব কৃতজ্ঞ থাকতাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


