আমার প্রিয় পোস্ট

মানুষ এবং মানুষ সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়ে আমার দারুন আগ্রহ ……

বান্দরবানের নীলগিরিঃ এ পর্যন্ত জীবনে একটাও কবিতা না লিখে থাকলেও এ নীল রং আপনার চোখে পড়বে...

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৩১

শেয়ারঃ
0 3 0


পৃথিবীর শেষ ঠিকানা

যদি কোন জায়গার নাম বান্দরবান হয়ই — তাহলে, সেখানে বানর নাই কেন...? সহব্লগার সামছা আকিদা জাহানের ছেলে সৌহার্দ্য খুব খাঁটি এই প্রশ্নটি করেছিল তার মা’কে। আমার গত কিস্তির লেখায় সামছা আকিদা জাহানের এ সংক্রান্ত মন্তব্যের অংশ বিশেষ অনেকটা এ রকম —
...বান্দরবনে যেয়ে আমরা সার্কিট হাউজে ছিলাম। ফেরার সময় আমার ছেলের মেজাজ বেশ গরম হয়ে গেল। তুমি বান্দরবনে যাবা বলেছিলে কখন যাবে?? যত বুঝাই এটাই তো বান্দরবন এই তিন দিন ধরেতো আমরা বান্দরবনেই আছি। ওর ঐ একই উত্তর বান্দরবন হলে এখানে বানর নাই কেন???
গত পোষ্টে সামছা আকিদা জাহানের এই মন্তব্য পড়ে, তার ছেলে সৌহার্দ্যর প্রতি আমার মুগ্ধতা বেশ কয়েকগুন বেড়ে গেল... কি অসাধারন পরিবেশ বোধ, কি অসামান্য পর্যবেক্ষন ক্ষমতা, এই এক রত্তি শিশুটির!!! :)

ব্যক্তিগত ভাবে সামছা আকিদা জাহানের বছর চার পাঁচেকের এই দুর্দান্ত পুত্র সন্তানটির সাথে গত ঈদের সময় আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। চারপাশের সবকিছুতে অগাধ কৌতুহল, বিপুল প্রাণশক্তিতে ভরা এই শিশুটিকে দেখলে মুগ্ধ হতে হয়। (সে দিন আমি খুব চেষ্টা করেছিলাম আমার ক্যামেরায় সৌহার্দ্যর একটা ছবি তুলতে, দুঃখের বিষয় আমার সাথের ক্যামেরাটা ততটা উন্নতমানের ছিল না। :(( ফলে তার কোন ছবি তুলতে পারি নাই। পারবো কি ভাবে, আমার ক্যামেরা দিয়ে শুধু স্থির কোন বস্তুর ছবি তোলা যায়!!!)। তবে আশায় আছি, ভবিষ্যতে তেমন অত্যাধুনিক কোন ক্যামেরা নিশ্চয়ই আমি যোগাড় করতে পারবো, যা দিয়ে অনবরতঃ ছুটন্ত এবং আচমকা লাফ দিয়ে পড়া, প্রায় উড়ন্ত কোন শিশুর ছবি তোলা যায়...!!! ;) ;) তবে আমার কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করার প্রয়োজন নাই, বরং এখানে সৌহার্দ্যর একটা বেশ শান্ত শিষ্ট ছবি দেখুন — যা দেখে আপনার ভ্রম হতেই পারে, সে বুঝি লেজ বিশিষ্ট নয়!!!


“সম্প্রীতির বান্দরবান”
বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত “সম্প্রীতির বান্দরবান” নামের একটা ফোল্ডার আমার হাতে এসেছে। আবশ্যিক দ্রষ্টব্য স্থানের নাম বিবরন সহ পর্যটকদের জন্য বিস্তর তথ্য সম্বলিত এই পুস্তিকায় সম্প্রীতির বান্দরবানের নামকরণ ও ক্রমবিকাশঃ শিরোনামে একটি অধ্যায় সেখানে আছে — যা পড়লে আপনারা বুঝতে পারবেন সৌহার্দ্যর “বান্দরবন হলে এখানে বানর নাই কেন???” কত্ত জেনুইন একটা প্রশ্ন!!!

সম্প্রীতির বান্দরবান আমাদের জানাচ্ছে — প্রাচীনকাল থেকে বান্দরবানের নামকরণ নিয়ে রয়েছে একটি কল্পকাহিনী। জানা যায়, সুদুর অতীতে বান্দরবান জেলা সদর অসংখ্য বানরে পরিপূর্ণ ছিল। বানরের দল খাদ্য অন্বেষনের জন্য সারিবদ্ধভাবে শহরের পাশ্ববর্তী খাল পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন জঙ্গল থেকে খাবার সংগ্রহ করতো। সারিবদ্ধভাবে বানরের খাল পারাপারের এ দৃশ্যটি দূর থেকে বাঁধের মতোই মনে হত, যা এ অঞ্চলের বাঙ্গালী এবং উপজাতি জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল। উপজাতিরা এ দৃশ্যকে তাদের ভাষায় ‘ম্যাগসি’ বলতো। ‘ম্যাগ’ শব্দের অর্থ বানর আর ‘সি’ শব্দের অর্থ বাঁধ (আঞ্চলিক ভাষায় ‘বান’)। অর্থ্যাৎ বানরের বাঁধ থেকেই বান্দরবান শব্দের সূচনা।

বম উপজাতি

কোথাও বেড়াতে গেলে, কি ধরনের প্রাত্যহিক রুটিন মেনে চলা উচিত...? খুব আয়েশী, নাকি চাবুক হাঁকিয়ে ঘোড়া দৌড়ানো...? এসব ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা বলে হয়তো কোন কিছু নাই, যার যা পছন্দ... তবে দলের মাঝে থাকলে — এ সব ক্ষেত্রে সবার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দগুলো মনে হয় বিসর্জন দিয়ে ফেলা উচিত... নাস্তার টেবিলে পরোটা চিবাতে চিবাতে আমি এ সবই ভাবছিলাম। কিন্ত ভাবলে কি হবে, আমার এই বোধোদয় যখন হলো, ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিসর্জনের লগ্ন গেছে পেরিয়ে, বান্দরবানের সুর্য্য ততক্ষনে প্রায় কপালের উপরে।

ভোরবেলায় কোথাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকা — বাস ট্রেন ধরা, এ সব নিয়ে আমার কখনও তেমন সমস্যা হয় না। ব্যক্তিগত ভাবে খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা বরং আমার জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ। এর জন্য আমার শুধু আগের রাতে না ঘুমালেই চলে। B-) B-) সকালের প্রোগ্রাম মিস হওয়ার কোন সুযোগই নাই। গতকাল বিকেলে পৌছানোর পর থেকে ইস্তক বিভিন্ন ধরনের কর্মসুচির কথা আলোচনায় উঠছিল, কিন্ত প্রমাদ গুনলাম (প্রমাদ ক্যমনে গুনতে হয়, তা নিয়ে আমার কোন ধারনা নাই অবশ্য, তবে বিশিষ্ট লিখিয়েদের লেখায় দেখেছি, বিপদের আভাষ পাওয়া গেলে, এ সব ক্ষেত্রে উনারাও প্রমাদ গুনতেন, এটাই নিয়ম) ভোরবেলায় সাঙ্গু নদীর তীরে সুর্যোদয় দেখার কর্মসূচি যখন আলোচ্য সূচিতে উঠে এলো। সারাদিন কক্সবাজার চট্টগ্রাম ঠেঙ্গিয়ে আবার সারারাত বিনিদ্র রজনী...? প্রমাদ ছাড়া এখন আর কিইবা গুনার আছে!!

ভোরে ওঠার প্রসঙ্গ উঠতেই আলোচনার তীরগুলো আমার দিকে ঘুরে এলো এবং স্বাভাবিক ভাবেই আমি গম্ভীর গলায় বললাম, সকালের ঘুম মাটি করে এই সব এডভেঞ্চারে আমি নাই... যে যে যাইতে চাও, যাইতে পারো, সকালে আমাকে যেন কেউ ডাকাডাকি না করে।

কথাটা বলেই বুঝলাম, এই মাত্র কি মারাত্মক একটা ভূল আমি করলাম!!! বলে না, বয়সের দোষে মতিভ্রম। খেয়াল ছিল না, আমাদের দলটা আর আগের মতো নাই, নতুন একজন অতি সন্মানিত ব্যক্তি তার এক সাগরেদ সহ আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন — ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবন এসে। আমি এই বিশিষ্ট ব্যাক্তিটির কথা ভূলেই গিয়েছিলাম। আর এই ভুলের মাসুল দিলাম বিশিষ্ট ঐ ব্যক্তির চোখে একজন খুব নিন্মস্তরের টিমম্যান হিসাবে পরিচিত হয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে সদ্য যোগ দেয়া এই মানুষটির বয়সটাই এমন, পৃথিবীর তাবৎ বিদ্রোহ আর খুনে রাঙা বিপ্লবে তার বয়েসী মানূষদের অবদান, চিরকালের, যুগে যুগে। আদর্শবাদের এই বয়স কোন শৈথিল্য, কোন বিচ্যুতিকে মাফ করে না। ব্যক্তি হিসাবে সমষ্টির স্বার্থে যে নিজকে মেলাতে পারে না, দলের জন্য সে একটা বোঝা ছাড়া আর কি?

শর্মিলাকে (বানিয়ে লেখা নাম) আমি প্রথম যখন দেখি, সে সময় কলা ভবনের বদলে সে ক্লাস করতে যেত বৃটিশ কাউন্সিলের উল্টোদিকে উদয়ন স্কুলে। সেই বয়সেই সে বেশ পরিচিত মুখ। একুশে টিভির বেশ জনপ্রিয় কি যেন একটা ধারাবাহিক নাটক চলছিল, শিশু শিল্পী হিসাবে তাকে নিয়মিত সে নাটকে অভিনয় করতে দেখা যেত। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হিসাবেও তাকে দেখেছি মনে পড়ে। কিন্তু আমার সাথে শর্মিলার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে খুব কম। আমার যাবতীয় নৈকট্য শর্মিলার মায়ের সাথে। শর্মিলাদের পরিবারের সাথে আমার পরিচয় ইমরান আর তার স্ত্রীর মাধ্যমে।

শর্মিলার মাকে আমরা ডাকি আপা হিসাবে। আমার অত্যান্ত প্রিয় বন্ধুসমা এই মানুষটির সাথে, সারাদিনরাত মজার মজার আড্ডার অজস্র স্মৃতি আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটি মেয়েদের হলে প্রশাসন চালানোর দ্বায়ীত্বে থাকা এই ভদ্রমহিলা পারিবারিক ভাবে আমাদের খুব কাছের মানুষ। আমাদের অনেক বিপদের দিনে উনি আপনজনের মতোই আমাদের পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে ইমরানের বউ তার সবিশেষ স্নেহধন্যা। আগে অল্প সময়ের জন্য ঢাকায় এলে ইমরান অনেক সময়ই আপার বাসায় ওঠেছে। সে হিসাবে ইমরান শর্মিলার ফেভারিট মামাদের একজন। যদিও সে আমাদের সবাইকে ডাকে নাম ধরে। আমাদের কক্সবাজারে থাকার ২য় দিনেই আমরা জানতে পারি শর্মিলার বান্দরবান সফরের কথা। আপা ইমরানকে ফোন করে বলে দিয়েছিলেন, শর্মিলা বান্দরবান আসছে, সাথে তার এক বন্ধু।

বান্দরবানে আমাকে প্রথম দেখে শর্মিলার মন্তব্য ছিল খুব মজার। ... ও, তুমিও এসেছো... তোমাকে চিনতে পেরেছি। তুমিতো দেখি অনেক বড় হয়ে গেছো... X(X(


মহাভারতের যুধিষ্ঠিরএর স্বর্গারোহনের সঙ্গী
শেষ পর্যন্ত আমাকে পুরো খলনায়ক বানিয়ে পরদিন সকালে আমাদের সুর্যোদয় দেখতে যাওয়া হয় নাই। যেন খুবই বোরিং টাইপের একটা পাবলিক আমি, যার জীবনে জোশ বলতে আর কিছু নাই, দলের সামগ্রিক উৎফুল্লতার স্বার্থে আমার কয়েক ঘন্টার ঘুম আমি বিসর্জন দিতে পারি না। আমার মত টিমমেট থাকলে যে কোন টিমেরই স্পিরিট তলানীতে গিয়ে ঠেকার কথা। শর্মিলাদের মতো উদ্দীপিত তরুনদের কাছে তো এটা স্রেফ ক্যালাসনেস। অসহ্য... !

অথচ আমরা সবাই মনে মনে জানি এটা আদতেই যতটা না সিরিয়াস তার চেয়ে বেশি একটা অবাস্তব পরিকল্পনা ছিল — সব কিছু খুটিনাটি ভেবে চিন্তে বানানো টাইপের কোন প্ল্যান, এটা ছিলনা। ভোর কয়টায় আমাদের শুরু করতে হতো, রুটম্যাপ কি হতো, সব কিছুর উপরে যানবাহনের কি ব্যবস্থা হবে — এ সবের কোন কিছু নিয়েই আমরা ভাবি নাই। যেখানে কটেজ থেকে ডাইনিং রুম পর্যন্ত চড়াই উৎরাই পেরিয়ে হেঁটে আসতেই আমাদের হাফ ধরে যায় — অত সকালে নিশ্চয়ই আমরা পায়ে হেঁটে সুর্যোদয় দেখতে যেতে পারতাম না।

একদিন পরেই রোজা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। বেশ সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে শাওয়ার সেরে প্রায় ১০টার দিকে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখি কেউ নাই। আমাকে বাদ দিয়েই সবাই নাস্তা খেয়ে ফেলেছে। আমার কথা মতো কেউই আমাকে সকালে ডাকে নাই। বেশ ভাল, এ ভাবেই তাহলে সবকিছু চলুক...

বান্দরবানকে আমার সব সময়ই দার্জিলিং এর সাথে তুলনা করতে ইচ্ছা করে। সেই একই রকম দম আটকে যাওয়া সৌন্দর্য্যময় প্রকৃতি, সবুজ উপত্যকা। তফাত যে টুকু তা যেন পর্যটকদের সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে। নিঃসন্দেহে দার্জিলিং সারা বছর যে পরিমান দেশী-বিদেশী ট্যুরিষ্ট পায়, সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভিত্তি অনেক মজবুত, তার পরিধি অনেক বেশী। তাদের ট্যুরিজমের টোটাল টার্ণওভার এর অংকটা অনেক বিশাল। সে দিক থেকে বান্দরবান তো অনেক পিছিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অশান্তির কারনে দীর্ঘদিন বান্দরবান ছিল অনেকটা নিষিদ্ধ এলাকার মতো। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে, তবুও সাধারন মানুষের নিরাপত্তাই এখনও পর্যন্ত সেনাবাহিনীর প্রধান মাথাব্যাথা। বান্দরবানে ঢোকার মুখে সেনাবাহিনীর চেক পোষ্টে জানিয়ে যেতে হয় কয়জন লোক ঢুকলো এবং বেরিয়ে গেলো কয়জন। সাধারনভাবে এখনও পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ অনুমতি ব্যাতিরেকে বিদেশীদের এই এলাকায় প্রবেশাধিকার নাই। এত চমৎকার, যেন মাটিতে নেমে আসা একটুকরা স্বর্গকে — আমরা কিভাবে গোটা দুনিয়া থেকে অর্গলবদ্ধ করে রেখে দিয়েছি, ভাবলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়।


নীলগিরি

সবুজ একটা ল্যান্ডক্রজার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। চিম্বুক রোড থেকে পেরিয়ে বান্দরবান থানছি রোডের উদ্দেশ্যে আমরা রওনা হলাম, আমাদের গন্তব্য নীলগিরি। গাড়ীতে উঠে আমি শর্মিলাকে জিজ্ঞেস করলাম- তুই তো দার্জিলিং গেছিস, বান্দরবানের সাথে দার্জিলিং এর কি তফাৎ বলতো।

—দার্জিলিং আমার মতে একটু বেশি গোছানো, সু্যোগ সুবিধা বেশি... সে তুলনায় বান্দরবান অনেক বেশি ‘র’, অনেক বেশি আনটাচড। তবে বান্দরবান বেশি সুন্দর লাগছে আমার কাছে। যেমন ধরো ম্যালের দিকটা, যা দার্জিলিংএর ভেরি স্পেশাল... অথচ দেখো, ম্যালের চেয়ে অনেক সুন্দর জায়গা কিন্ত এখানেই আছে...

— যাই বল, আমার খুব ভাল লাগছে, আমাদের দেশেও এত সুন্দর একটা জায়গা আছে, যা দার্জিলিং এর মতো একটা জায়গার যোগ্য জবাব হতে পারে...


রাস্তার দুই পাশে গভীর খাদ, আর চুলের কাটার মতো তীক্ষ্ণ বাঁক পেরিয়ে আমরা চলছি । পথ কখনও খাড়া রাস্তা বেয়ে উচুতে-স্পেশাল গিয়ারে গাড়ী উপরে উঠছে তো উঠছেই, কিছুক্ষন পরেই হয়তো আবার ঢাল বেয়ে নীচের দিকে। ব্রেকের প্যাডে পা রেখে ড্রাইভার খুবই দক্ষ হাতে গাড়ী নিয়ন্ত্রন করছে। রাস্তায় গাড়ীর ভিড় তেমন নাই, কিন্ত মাঝে মাঝেই হঠাৎ করে বিপরীত দিক থেকে আগত গাড়ীগুলো একেবারে নাকের ডগায় এসে উপস্থিত হচ্ছে। গাড়ীর জানালা দিয়ে তাকালে কয়েকশ ফুট নীচের খাদ শুধু চোখে পড়ে। ঘন্টা খানেকের জার্নি... তাও রাস্তায় দু’বার থেমেছিলাম প্রকৃতি দেখার জন্য। মাথার উপর থেকে কুয়াশার মতো সাদা মেঘ এসে সবদিক ঢেকে দেওয়া, বান্দরবানের এই পরিবেশের কথা অনেক শুনেছি, চাক্ষুশ দেখলাম নীলগিরিতে পৌছে।


ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা

মাথার উপর এই সাদা মেঘ — আমরা যারা সমতলের বাসিন্দা, তাদের কাছে শীতের ভোরে হাইওয়েতে জমে থাকা কুয়াশার মতো মনে হবে। সে রকম সাদা ফ্যাকাশে ধোঁয়ার মত চাপ চাপ কুয়াশা, আচমকা উপর থেকে হামলে পড়ে, গ্রাস করে আশে পাশের সব কিছু, ক্রমশঃ আচ্ছন্ন করে তোলে চোখের দৃষ্টিকে। চারদিক ঢেকে ফেলে রহস্যময়তার গাঢ় চাদরে। কয়েক হাত দুরের দৃশ্যও তখন ঠাওর করা যায় না। এভাবে মেঘের আস্তরন থাকবে কয়েক মিনিট... পাঁচ ছয় বা একটু বেশী। তারপর আবার মেঘ সরে গেলেই ঝলমলে আলো, রোদের আভাস। নীলগিরির পাহাড় আর তার উপত্যকা জুড়ে সারাটা দিন চলছে এই মেঘের আনাগোনা।


নীলগিরির নীলরং

এবং অবাক কান্ড, নীলগিরির এই নীল রং চোখে দেখা যায়! মেঘ এর রাজত্বকাল শেষ হয়ে, ঝলমলে আলোর জমানা শুরু হয়ে গেলেই, চোখে পড়ে দিগন্ত থেকে নেমে আসা নীলচে আভা। উচু টিলার উপর দাঁড়িয়ে নিচে উপত্যকার দিকে তাকালেই টের পাওয়া যায় নীল আলোর জ্যোতির্ময়তা, ক্রমশঃ গড়িয়ে পড়ছে পাহাড় চূড়া থেকে... থেমে থেমে নামছে নিচের দিকে। নীল আলোর নরম মায়াবী চাদর গভীর খাদের নীচ থেকে মুড়ে আনছে দিগন্ত ছোঁয়া পুরোটা চরাচর।

এ পর্যন্ত জীবনে একটাও কবিতা না লিখে থাকলেও এ নীল রং আপনার চোখে পড়বে, ফটোগ্রাফিতে ছোটখাট পুরস্কারও যদি না জুটে থাকে, আপনি এ দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করতে পারবেন। দয়া করে আমাকে বিশ্বাস করুন...


আরও কিছু ছবি দেখুন...

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভ্রমনবান্দরবাননীলগিরি ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, কালপুরুষদা...

২. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪৮
শ।মসীর বলেছেন: কিছু ছবি দিলাম :

বান্দরবান নীলগিরি
Click This Link
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: খুব ভাল লেগেছে আপনার তোলা ছবি...

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৩. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫১
পথে-প্রান্তরে বলেছেন: আমি গিয়েছিলাম অনেক আগে । আবারো যাবার প্লান করছি । আসলেই সুন্দর ।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০৪

লেখক বলেছেন: এই জায়গা বারে বারে যাওয়ার মতই... আমিও সুযোগ পেলেই আবার যেতে চাই।

কবে যাচ্ছেন আপনি? আশা করি এটা নিয়ে একটা পোষ্ট দিবেন।

৪. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০৭
সহেলী বলেছেন: ভাগ্যিস আপনার বেড়ানো হলো , তা নাহলে এমন বর্ননা উপভোগের সুযোগ হাতছাড়া হোত !
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: আমার বর্ণনা যদি আপনাকে উদ্দীপিত করে থাকে, আমার পরামর্শ প্রথম সুযোগেই আপনি বেড়িয়ে পড়ুন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। নিজের চোখে এই সৌন্দর্য্য দেখুন। বিশ্বাস করেন বাস্তবের নীলগিরি আমার লিখার চাইতে অনেক বেশি সুন্দর...

তখন হয়তো বুঝবেন, নীলগিরির আসল রুপের কোন বর্ণনাই আমার লেখায় ফুটিয়ে তুলতে পারি নাই।

৫. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:১৩
তারার হাসি বলেছেন:
বান্দরবন আর দার্জিলিং এর মাঝে কোন মিলই নেই...
বান্দরবনের নীলগিরিতে আছে নীরবতা যা বর্তমানের দার্জিলিং এ নেই।
নীলগিরিতে মেঘের সাথে বসবাস আর দার্জিলিং এর ক্ষেত্রে মেঘ বরাবর পৌঁছালে মনে করবেন আরো অর্ধেক পথ বাকি দার্জিলিং পৌঁছানোর।
দুইয়ের সুন্দর দুইরকম।

আহ সবুজ !
আহ নীল !
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: হয়তো মিল নেই... তবুও কেন জানি বান্দরবান গিয়ে আমার দার্জিলিং এর কথা মনে হয়েছে। আমার আফসোস হয়েছে-- দার্জিলিং নিয়ে এত মাতামাতি আর আদিখ্যেতা... তবে বান্দরবান নিয়ে হবে না কেন?

আপনি একটা কথা বলতে ভুলে গেছেন, ইদানিং কালের দার্জিলিং অত্যান্ত নোংরা আর ঘিঞ্জি একটা শহরে পরিনত হয়েছে... টাইগার হিলের আশে পাশে রীতিমতো আবর্জনা দেখতে পাওয়া যায়।

তুলনায় বান্দরবান আমার কাছে বেশী পছন্দের...

৬. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০১
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: কিছু কিছু বম এবং কিছু রাখাইন মেয়ে আছে, লোকালয়ে এনে বিয়ে করতে ইচ্ছে করে।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:২২

লেখক বলেছেন: এগুলো দেখতে পারেন...

৭. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০৬
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: নীলগিরিতে থাকার মতো পয়সা যদি থাকতো!/:) আর্মি অফিসারদের জন্য ৪-৫০০টাকা, আম্রার জন্য ৩০০০৳:(
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: আর্মির লেইগা দেখি সব খানেই সাতখুন মাফ... /:)

একটা খুব সহজ বুদ্ধি ধরেন, পরিচিত কোন আর্মিরে পাকড়ান, হ্যারে দিয়া বুকিং দেওয়ান... তারপর তার ছুট ভাই হিসাবে চইলা যান সিধা... B-))

৮. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৯
মহাকালর্ষি বলেছেন: পোস্টের জন্য অগণন ধন্যবাদ। তুলে রাখলাম সময় করে পড়তে।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ...

৯. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: বান্দরবন যাওয়া হলোনা এখনো, কবে যে যাবো?
এই ট্যুরিস্ট স্পট বানানো নিয়ে আমার অবাস্তব চিন্তাভাবনা আছে একটা। জাফলং আর সেন্ট মার্টিন্সের যেভাবে আমরা ১২টা বাজিয়ে দিয়েছি ট্যুরিস্টস্পট বানিয়ে, তাতে মাঝে মাঝে মনে হয় এমন জায়গাগুলো আমাদের নাগালের খানিক বাইরেই থাকুক।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: ফারহান, এটা ভেবে হয়তো সান্ত্বনা পেতে পারেন... আপনার বয়সে আমিও বান্দরবান সহ অনেক কিছু দেখি নাই!!! /:)

চিন্তা কি ফারহান, সামনের পুরোটা জীবনই তো পড়ে আছে।


কোন জায়গার বারোটা বাজানোতে বাঙ্গালী যে কি পরিমান দক্ষ তার আর একটা প্রমান-- এখনকার কক্সবাজার। সারি বেঁধে যে হারে হোটেল বানানো শুরু হইছে... কোথায় গিয়ে যে থামবে...! এর পর হয়তো নদী দখলের মতো বঙ্গোপসাগর দখল শুরু হবে।

বান্দরবান এখনও অনেক ভার্জিন, এটাই তার আকর্ষনের একটা মুল কারন। আধুনিক সুযোগ সুবিধার প্রয়োজন আছে... কিন্ত তা যেন একটা সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আসে।

১০. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
বিডি আইডল বলেছেন: ফিউশন ফাইভ বলেছেন: কিছু কিছু বম এবং কিছু রাখাইন মেয়ে আছে, লোকালয়ে এনে বিয়ে করতে ইচ্ছে করে।

লুকাল্দা কি আনম্যারেড নাকি?!?

চমৎকার পোষ্ট...গিয়েছি একাধিকবার....
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:১৯

লেখক বলেছেন: বিডি আছেন কেমন...? পুচ্চি কেমুন আছে? তিনি কি পোলা না মাইয়া...?

অনেক দোয়া থাকলো... :)



লোকালদাকে কিছু ছবি দেখাইছি... পছন্দ করনের লেইগ্যা। B-)

১১. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩
শয়তান বলেছেন: বান্দরবানের নাম বান্দরবান কেন ।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:২৩

লেখক বলেছেন: বান্দরের বান (বানর দের বাঁধ)...


মহামান্য যদি পুষ্টে কিঞ্চিৎ মুনোযুগ দিতেন... তালি উত্তরটা পায়া যাইতেন... /:)

১২. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:২১
বিডি আইডল বলেছেন: পিচ্চি মেয়ে...মেয়েরে কোলে নিয়া বলগিং করি :)
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:২৭

লেখক বলেছেন: মাশাল্লা, খুব খুশি হইলাম... আল্লাহ তারে হাসি খুশিতে রাখুক... ভালো থাইকেন...

১৩. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫
শয়তান বলেছেন: আর মুনোযুগ দিমু না ঠিক করসি |-)
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:২৯

লেখক বলেছেন: কিতা হইছে রে ভাই... বহুত উদাস উদাস লাগতেছে... :(

১৪. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৭
শয়তান বলেছেন: বহুৎ ভ্যাজালে আছি তিন চার দিন । মন দিল এ শান্তি নাই । চোউক্ষে নাই ঘুম । একটা গিট্টু খুলি তো আরও নতুন তিনটা লাগে । কৈ রাখমু এত দুঃখ :((
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:২৭

লেখক বলেছেন: আসেন একদিন মন খুইলা আড্ডা দেই... সব গিট্টু খুইলা যাইবো গিয়া...।

১৫. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৮
মেহবুবা বলেছেন: গত শীতে যেতে চেয়েছিলাম , সাথের একজন বেড়িয়ে এসে গল্প করাতে । বাজেট তখন দাড় করাতে গিয়ে দেখি ওনার আর আমাদের বিশাল পার্থক্য । উনি আর্মি অফিসারের বউ । ওনাদের অনেক ডিসকাউন্ট থাকে ।

আপনার পোষ্ট দেখে ভাল লাগল ।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: বাজেটটা অবশ্যই একটা বড় বিষয়... বিশেষ করে যদি সপরিবারে যেতে হয়।

কিন্ত আপনার মন্তব্য পড়ে আবার আমি নিজের বিলগুলো চেক করলাম। আপনাকে আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করতে পারি।

বান্দরবানে আমরা ছিলাম মিলনছড়িতে, জায়গাটা বান্দরবান শহর থেকে আড়াই মাইল দূরে চিম্বুক রোডের ওপর। গাইড ট্যুরস লিমিটেড এর রেষ্ট হাউস হিলসাইড রিসোর্ট এই মিলনছড়িতেই। আমাদের দলটা ছিল পাঁচজনের একটা দল।

আমরা যে কটেজে ছিলাম তার ভাড়া ১৫০০ টাকা এবং এটা টুইন শেয়ার। যদি সপরিবারে যান, তাহলে একটা কটেজেই হয়ে যাওয়ার কথা। আর খাওয়ার বিলও বেশ রিজনেবল--- ঢাকায় রেস্টুরেন্টে খেলে যেমন বিল আসে তেমনই। আমি দেখতে পাচ্ছি আমাদের পাঁচজনের কোন একবেলায় সর্বোচ্চ বিল এসেছিল ১৯০০ টাকার মতো, আর সর্বনিন্ম ৮০০ টাকার মতো। ঢাকায় মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে ৫ জন মিলে খেলে এর চেয়ে কম বিল তো হয় না।

এরপর আছে লোকাল ট্রান্সপোর্ট, একটা বড় ল্যান্ডক্রজার ৬ জন খুব আরামে বসতে পারে, সারাদিনের জন্য ভাড়া ৩০০০টাকা। সারা দিনের জন্য নিলে এক ট্রিপেই নীলগিরি, বগা লেক, বৌদ্ধদের স্বর্ণজাদি, শৈল প্রপাত বেড়িয়ে আসতে পারবেন।

হিল সাইড রিসোর্টের ফোন নাম্বার 01199275691 , ওখানে খোকন ভাইয়ের সাথে কথা বললে খরচের আরও পরিস্কার একটা ধারনা পেয়ে যাবেন।

আমার ধারনা কোন উইক এন্ডে ২দিনের একটা ট্রিপের কথা আপনি ভাবতেই পারেন।

১৬. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
তারার হাসি বলেছেন:
হ্যাঁ, সেটা আমিও দেখেছি...
একটা শহর যেখানে অনেকে বেড়াতে যায় এবং ভাললাগা নিয়ে ফিরে আসে, সে শহর নিয়ে আমি নেগেটিভ কিছু লিখতে চাইনি।
শুভকামনা।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন: আমি আপনার সাথে একমত... যা অনেকের ভাল লাগা শহর তা নিয়ে নেতিবাচক কিছু না লেখাই ভাল।

আসলে আমার কথাটা ছিল দুটো স্থানের তুল্য বিচারের প্রশ্নে...

আপনার জন্য অনেক শুভকামনা...

১৭. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৬
মিহির আহমেদ বলেছেন: বান্দরবান গিয়েছিলাম অনেক ছোটবেলায়, পরে আর যাওয়া হয় নাই। ইচ্ছে আছে এই শীতে বেড়াতে যাওয়ার।

খুব ভাল লাগলো আপনার ভ্রমন কাহিনী।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:১০

লেখক বলেছেন: বান্দরবান বেড়িয়ে আসুন... ভাল লাগবে।

১৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:১১
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: শিরোনামটা ছোট করা যায় না? অনেক বিশাল।

এসব দেখলে যাইতে মঞ্চায়। /:)
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: সেজন্যই তো আমি কবি নই!!! :( আফচুশ...

সাড়ে তিন লাইন না লিখলে গদ্যকাররা মনের ভাব ফোটাতেই পারে না...







মঞ্চায়ইলে মন্রে কষ্ট দেওন ঠিক না... :)

১৯. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:১৮
আরিফ থেকে আনা বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম, পরে পড়ব
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ... আরিফ থেকে আনা...

২০. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৫০
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কবে যে বান্দরবন........
ব্লগে আপনার এবং আরো কয়েকজনের লেখা পড়ে কি যে যেতে ইচ্ছা করতেছে...........
আপনার আগের পোষ্টে দেয়া সেই বারান্দায় বসে আকাশ দেখার খুব ইচ্ছা.......এত সুন্দর নীল ........
অনেক সুন্দর বেড়ানোর গল্প.....
দারুণ বেড়ালাম।
শুভেচ্ছা।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:২৬

লেখক বলেছেন: সুযোগ হলে বান্দরবান দেখতে যাওয়া মিস করবেন না... সাজি।

অনেক ভাল থাকুন, সবাইকে নিয়ে। বাবুদের আদর দিবেন।

২১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১
তাজা কলম বলেছেন: সুন্দর গদ্যে, ছবিতে ভ্রমণ কাহিনী। সরাসরি প্রিয়তে। ধন্যবাদ বন্ধু।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা... সেই সাথে কৃতজ্ঞতা।

২২. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৪
পাগল রাজা বলেছেন: আমি অল্প টাকায় থাকতারী সুন্ডরজায়গা আমগো জন্য কম টাকা লাগে
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০৪

লেখক বলেছেন: অল্পটাকায় ভ্রমন করার ক্ষমতা অবশ্যই একটা বিশেষ গুন। আপনাকে ধন্যবাদ।

২৩. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:১৬
মুহিব বলেছেন: একবার যেতেই হয় দেখছি।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: এবং আমার ধারনা, আফসোস করার কোন কারন আপনি খুঁজে পাবেন না।

আমি নিশ্চিত...

২৪. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:২৬
সুবিদ্ বলেছেন: এখনো যাওয়া হয়নি নীলগিরি......ইস! কবে যে যেতে পারবো
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮

লেখক বলেছেন: প্রথম সুযোগেই ঘুরে আসুন...

২৫. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: কাল আমি যে মন্তব্য তা যে কোথায় গেল বুঝতে পারছি না।

আপনি আমার ছেলেকে যে ভাবে পর্যবেক্ষন করেছেন তাতেই আপনার অনেক অনেক ধন্যবাদ পাওনা। এই কয়েক মিনিটেই আপনি তাকে সঠিক ভাবে মুল্যায়ন করেছেন।
আপনার পর্যবেক্ষন ও বর্ননার ক্ষমতা কিছুটা সৈয়দ মুজতবা আলীর কাছাকাছি।

তাই আপনার ভ্রমন কাহিনী যে অনবদ্য হবেই তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ভালো থাকুন।


ওহ অনেক অনেক ধন্যবাদ।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য কোন বাগের খপ্পরে পড়েছে।

যাই হোক, আপনার মন্তব্য পড়ে অনেক মজা লাগলো... ভাল থাকবেন...

২৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯
বিপ্লব রহমান বলেছেন: ১। পার্বত্য চট্টগ্রামকে সুশীল সমাজের কাছে নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের জলপাই রাজনীতির এক প্রকল্প নীলগিরি। এর নামকরণ, রাস্তা, রেস্ট হাউজ ও রেঁস্তরো নির্মাণ-সবই সেনা বাহিনীর তত্বাবধানে চলে।

লক্ষ্যনীয়, নীলগিরির রেস্ট হাউজ দুটির একটি সারাবছর থাকে সামরিক কর্তাদের দখলে, আরেকটিতে নিরাপত্তার অভাবে 'ব্লাডি সিভিলিয়ানরা' রাতের বেলা থাকতে সাহস পান না।

২। দেশের এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে আটের দশক থেকে হাজার একর বন ও পাহাড় উজাড় এবং দখল করে ছয়টি স্থায়ী সেনা নিবাস এবং সাড়ে পাঁচশ সেনা ছাউনি নির্মাণ করে, শান্তিচুক্তির আগে শান্তিবাহিনী দমনের নামে লোগাং, নানিয়ারচর, লংগদু, পানছড়ি, বরকল, কাউখালি, দিঘীনালাসহ অসংখ্য পাহাড়ি গ্রামে গণহত্যা চালিয়ে, বাঙালি সেটেলারদের সব ধরণের মানবাধিকার লংঘনের জন্য প্রকাশ্যে মদদ দিয়ে, চুক্তির পরে প্রথমে 'অপারেশন উত্তরণ' ও এখন 'অপারেশন দাবানল' নামক সেনা অভিযান চালিয়ে,,,সংক্ষেপে, পার্বত্যাঞ্চলকে সামরিকীকরণের যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় নীলগিরি হচ্ছে সেনা বাহিনীর পর্যটন শিল্প সৃষ্টির একটি পরিপাটি প্রহসন! ...

তবে এর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী সত্যিই মনমুগ্ধকর।

৩। আপনি পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে লিখছেন, আপনার লেখায় ব্লগাররা সাড়াও দিচ্ছেন বেশ, তাই আশা করেছিলাম, দৃষ্টিসুখের মোহের বাইরে অন্তর্নিহিত দৃষ্টি নিয়েই পাহাড়কে দেখবেন...ভাসা ভাসা...পাখির চোখে নয়।

কিন্তু পুরো লেখা ও ছবিতে এর কোনোটাই না পেয়ে বেশ খানিকটা হতাশই হলাম। ১৯০০ সালের বিশেষ শাসনবিধি ও শান্তিচুক্তিতে কথিত 'উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলটি' কথিত পাহাড়ি মানুষের কথা না হয় বাদই দিলাম।

-- অনেক ধন্যবাদ।
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য।

২৭. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: মনটা উদাস হইল।
কবে যাব পাহাড়ে!
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪০

লেখক বলেছেন: ঠিকই ধরেছেন, পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া মন ভাল করার একটা কার্যকরী ওষুধ!

২৮. ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২০
অজানামন বলেছেন: আমি এক পরিচিত আর্মিরে ভারা কম রাখা ষায় কি না ......... কইছীলাম উনি কয় ভাই আমার বাপ আসলে ও ভারা ৫০০০ টাকা
২৯. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৩
রেজওয়ান মাহবুব তানিম বলেছেন: লেখা ভাল হয়েছে কিন্তু আরো ছবি দেয়া উচিত ছিল । বান্দরবান বিষয়ক আমার পোস্ট -

Click This Link

 

মোট সময় লেগেছে ২.৭৮৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ ধরনী পরে- সকলে আমরা সকলের জন্য- প্রত্যেকে আমরা পরের তরে-
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই