somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ
মুনতাসির মামুন ইমরান
মেটরো ইহেনিয়া ০৮০৮০৮

দেশ ঘুরে দেখার দল খুজে পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে এটাও ঠিক নয় যে তার আগে বেড়ান হতো না। বেড়াতে যাবার জন্য চাই সমমনের মানুষের সঙ্গ নয়তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা আর উপভোগের থাকে না। সেকারনেই দল বেধে ঘুড়ার এক মারাত্নক বাজে অভ্যেস হয়েগেছে আমার। দেশটার এফোরওফোর করতে বেশি একটা সময় অবশ্য লাগেনি, দক্ষিন-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব কোন দিকে কি আছে তার জন্য আমাদের বাংলাদেশের ম্যাপটাকে রুমের মাঝে ফেলা হলে দশ বাই বারো ফুটি রুমের মেঝেটাকে অনেক বড় মনে হয় আর আমাদের উৎসুক মন শুধু জেলা শহরের মাঝে কখনই থেমে থাকতো না। তাই ভ্রমন দল বিটিইএফ এর দপ্তর পরিচালক (!) কাম হাউজ কিপার গনি ভাইকে প্রায়ই দেখা যেত ম্যাপটাকে আরও খানিকটা বাড়িয়ে ফেলতে।

বিশেষ জায়গা খোজার ইদুর দৌড় খেলায় গনি ভাই এগিযে থাকতেন সব সময়। তাই বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জেলা শহর-উপশহর প্রায় অনেক জায়গাতেই যাওয়া হয়েছে কিছু দেখার এবং কিছুই না দেখার – স্রেফ বেড়ানর উছিলায়। তা নিছক বেড়ানো ছাড়াও বেশ কিছু ছিল, এক সাথে এতো গুলো মানুষ, একসাথে থাকা আবার স্হানীয়দের সাথে আতাত থাকার কারনে বিশাল দলের পরিব্রাজক টিম হতো প্রায় যেকোন জায়গায় গেলেই। তাই একা থাকা কিংবা একা ভ্রমনের বিলাসিতা কিংবা সাহসিকতা কোনটাই জন্ম নেয়নি আমার মাঝে।

তবে এটাও মারাত্নক সত্য দল বেধে কোথাও যাওয়াটা সব সময়ই সুখের ছিল যতবার বিটিএই এফ সাথে গিয়েছি। তবে ব্যতিক্রমি বীর পুরুষ যে আমাদের সাথে একেবারের ছিলনা তা নয়। উজ্জল ভাই, সারা দুনিয়ার ভিসা অফিসের কড়া আইন গুলোকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে যে ভাবে একে এক ৫৪টি দেশে ঘুরেছেন তার গল্প শোনাও বেশ রোমাঞ্চকর। তার কথা হলো একাই ভাল। কিন্তু ভ্রমন গুরু যখন দেশে ঘুরেন তো কেন জানি একা কোথাও যান না। কেন তা এখনো জানা হয়নি। তবে এতটুকু সত্যি তিনিও মনে হয় কোথাও একা যেতে চান না কেননা তার মত সপ্রতিভ মানুষ একা বেড়ানটা নিতন্ত উপায় না পেয়ে করেন এটা বোঝা যেত মাঝে মাঝে।

আর আমার ক্ষেত্রে ব্যপারটা আরও জটিল। আমি টিম ম্যান আর না পারতে ওয়ান ম্যান আর্মি। ২০০৭ এ ভারতের পাহাড় জয় করে আসার পর থেকে কিছু একটা করার চিন্তা করে যখন আটকে গেলাম ওয়ার্ল্ড টুরের চিন্তায় তখনো খুজতে থাকলাম কাকে পাব সাথে। পাওয়া গেল রিফাত ভাইকে আর সাথে কিছু দিনের জন্য উজ্জল ভাইকে।

জুন মাসে রওনা হলাম ব্যংকক এ। তিন জন। কাজকর্ম দেখানর জন্য উজ্জল ভাই রইলেনও কিছু দিন। কাজকর্মে দারুন ভাবে ফিরে এলাম আমি আর রিফাত। তবে রাতের বেলা বসে আড্ডা দেয়ার সময় শুধু বাংলাদেশের কথা। আসলে আমার মনে হয় যারা দেশের বাইরে থাকেন তাদের কাছে দেশের গল্পই থাকে বেশি। আর আমরা তাও জানি যে চলে যাব কদিন পর কিন্তু তাদের মাঝে বেশির ভাগই তো শেষ কবে গেছেন বা আবার কবে যাবেন তা জানেন না। সময় পরিক্রমায় রিফাতও চলে গেলেন দেশে। আমি আটকে থাকলাম পরিকল্পনায় – বিশ্ব ভ্রমনের মত এক ব্যপক অনুভবে। তবে খুজতে থাকলাম বাংলাদেশ, এখানেও। ব্যংককে। খুজে পেতে খুব কষ্ট হলো না, বাংলাদেশ এ্যমবাসিতে পেলাম- বাংলাদেশ। প্রধান থেকে সবাই। না বল্লেই নয়, মুসতাফা কামাল সাহেব, মশিউর ভাই। সময় দিলেন, ভালবাসা দিলেন, দিলেন বাংলাদেশের স্বাদ। তবে তাদের তো কাজ আছে, আমার মত ভবঘুরের সাথে বসবাস তাদের সম্ভব নয়। আমার খুজার শেষ নাই। যেদিন কাজ থাকে না বাংলাদেশি ভাতের হোটেল কস্তুরী তে বসে থাকি। মানুষ দেখি। দেশি মানুষের কথা শুনি। শেষ মেষ ইব্রাহিম ভাই তার ডেরায় জায়গা করেদিলেন থাকার জন্য। আমিও রাজি। যা হোক কথা তো বলা যাবে। ছোট্ট একটা ঘর। মেঝেতে গদি বিছান।

সারাদিন তিনি ব্যস্ত থাকেন হোটেল নিয়ে, আর আমি আমার কাজে। রাতের বেলা, বেশ রাতে আমাদের শহর দেখা, দোকানের জন্য বাজার করা, গান গুনতে যাওয়া, এই ছিল কাজ। তবে এটা সত্যি আমার কাছে সঙ্গটাই ভাল লাগতো। আর বারতিটুকু পেতাম বোনাস।সন্ধ্যা হলে সোহেল মামা আর শামিম ভাইদের সাথে নদীর পারে বসে প্রমদ তরী গোনাই ছিল কাজ। আর ছিল তাদের কোরিয়ার জীবন এর গল্প। কতো কিছু যে জানতে পারলাম তাদের কথায়। আমি মনে মনে প্রেমে পরে গেলাম কোরিয়ার, যেতেই হবে কোন এক সময়।

শুক্র বার হলে সবাই একসাথে মসজিদে। কত কথা, দেশের কথা, ঢাকার কথা। শুনতে আমার ভাললাগে তাই আসি। ধর্মের আড়ালে আটকে থাকে আমার অনুগমন। আমি ধার্মিক না হলেও বক ধার্মিক নই। নদীর পারের গুজরাটিদের তৈরী করা মসজিদটাকে তাই দারুন লাগে আমার। ভাল লাগে মানুষের সাথে কথা বলতে।

দুবাই এয়ারর্পোটে অনেকক্ষন আটকে থাকতে হবে তা জানতাম না। রওনা দেয়ার পর বুঝতে পারলাম আমার টিকিটের সাথে হোটেল রিজার্ভ করা নাই। তাই বেশ ধাক্কাই খেলাম। অগত্য না দেখে আবার খুজতে লাগলাম আমার মত কেউ, ভাল হলো দেশি, না হলে যে কোন একজন। কোন লাভ হলো না। এয়ারবাস ৭৭৭ এর পেট মোটা বডির ভিতরে যে কতো মানুষ বসতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। তবে আমার সিটের আশেপাশে কচিকাচার মেলা। বিমান ভ্রমন যে কতটা বিরক্তকর তা মনে হয় ইন ফ্লাইট ম্যাগাজিন আর এন্টাটেইনম্যাট ফ্যসিলিটির বাহার দেখলেই বোঝা যায়। তবে এতো যে বিলাসিতা, উপভোগের সৌভাগ্য – যাত্রিরা কি খুব খুশি? আমার তো মনে হলো না। কেন জানি বিমান যাত্রা নিদারুন উপভোগের যোগার মাত্র।

রাতের আধার চিড়ে দুবাইয়ের আলো এসে লাগল আমার উন্ডো সিটে, আমি তাকিয়ে থাকি দূরে, রাস্তার চলে যাওয়া গাড়ি গুলোকে দূর থেকে তো আমাদের ঢাকার মতোই লাগে। মরুভূমির বুকে গাছ লতার আভা, তা টাক মাথায় কেশ গজানর টেকনিক্যল হেয়ার ইমপ্লান্ট করার মতো ব্যপারটা। চোখে লাগে।


আমার পরের ১৫ ঘন্টার বাসস্থান হলো দুবাই ইন্টানেশনাল এয়ারপোর্ট। বাইরে আমার দাবারু ভাই মঞ্জু অপেক্ষায় আছে, তবে তাকে জানাবার জন্য উপায়ন্ত না দেখে ইমেইল করে দিলাম। ঘিঞ্জির মত চারদিক, মানুষ আর মানুষ। হঠাৎ করে বাংলাদেশ খুজে পেলাম। গেল বার পরিব্রাজক টিম বিটিইএফ যখন প্যাডেল স্টিমার করে মংলা যাওয়ার জন্য ভর রোজায় অফিস-ক্লাস-কাজ ছেড়ে সদরঘাটের সদর দরজায় যখন উকি মারছিলাম তখন পিটের পিছনের ব্যগ সামলান আর তার পিছনের কম টাকায় থাকার “বোর্ডিং” প্রায় শতকোটি মানুষ এর দিকে তাকিযে থাকি! দুবাইয়ের খরা মরুর বুকের মাঝের এই এয়ারপোর্টের অবস্থার এর চেয়ে একটু ভাল। এটা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। রেলিঙ এ মানুষ, সিড়িতে মানুষ, চেয়ারে মানুষ, মেঝেতে মানুষ। বসা মানুষ, শুয়ে থাকা মানুষ। ল্যাপটপের স্ক্রিনে মুখ গোজা মানুষ, কফি হাতে মানুষ। সাদা মানুষ, কালো মানুষ, কালা মানুষ, ধ্বলা মানুষ। মানুষ আর মানুষ। আমিও দাড়িয়ে আছি তাদের মাঝে। তবে আমি বাংলাদেশ খুজতে থাকি দুচোখ দিয়ে, প্রানপনে। কথা বলা দরকার, আমি একা থাকতে একদমই পারি না!

ট্রানজিট যাত্রিদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। খাওয়া খুজতে গিয়ে বাংলার শব্দ পেলাম। কোথায় জানি। আশে পাশে কোথাও। খেই হাড়িয়ে আবার “সামুচা” মন দিলাম। তবে বুঝে গেছি, আছে, আমরা আছি। রাত ২টা হবে, একমাথা থেকে অপর মাথা হাটাহাটি করে সময় কাটানো ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা। বসবো যে তারো জো নাই। এ কথাটা বিশ্বাস হয়তো আমার মা করবে না, কিন্তু আমার বন্ধুরা যারা গুলশানে অফিস করেন তারা জানেন শতশত বাস আর টেক্সিতে পা রাখা যায় না সময় মত। আমি বসার জায়গা খুজলাম আর দেখলাম ল্যাপটপটাকে জিইয়ে রাখা যায় কিভাবে তার জন্য পাওয়ার পয়েন্ট। তবে আমার চেয়ে আরও আগে এবং বেশি সময় নিয়ে আছে কিংবা থাকবেন এমন মানুষের যে পরিমান কমও নয়। তারা আমার আগে থেকে বসে আছে জায়গা মত।

অগত্য হাটা ধরলাম। নিচে গেলাম, উপরে উঠে এলাম, নিচতলার মাকের্টে উচুতলার জিনিস, আমার জন্য না তাই পালিয়ে এলাম। পুরো “ দি টার্মিনাল “ ছবির মতো অবস্থা। এর মাঝে ট্রলির আইল ঠেলতে দেখলাম কিছু লোককে। ভাল করে খেয়াল করার পর দেখা গেল, বাংলাদেশি। আমার বয়সি বা তার চেয়ে কমই হবে। কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলাম। ৬মাস আগে এসেছেন। এখানেই কাজ। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা। ভালই আছেন। কারন তার কাজ এই বিশাল এয়ারপোর্ট বিল্ডিং এর মাঝে নয় তো মরু ভূমির লু হাওয়ায় কয়লা হয়ে যেতেন এই তার ভাস্য। কথা হলো তার জীবন প্রনালী নিয়ে। বেশ সুখেই আছেন।

সময় যেমন শুরুর পর থেকে থেমে নেই তেমনি আমি সকাল দেখলাম। এবার আটলান্টিক পারি দিতে হবে। যাব ব্রাজিল। অনেক দূর আমার দেশ থেকে। কাউকে জানি না যারা বাংলাদেশী। তাই বাধ্য হয়ে আমার লোকাল বন্ধুর সরনাপন্য হতে হয়েছিল।বেশ লম্বা ট্রিপ। প্রায় সব মিলিয়ে ১৩ ঘন্টা সময় তাড়িয়ে বয়স কমিয়ে ফেল্লাম খানিকটা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার একটু পরেই নেমে এলাম প্লেন থেকে। যথারীতির কার্যক্রম, ব্যতিক্রম হলো এখানে কোন বাংলাদেশি কিংবা ইন্ডিয়ান দেখতে পেলাম না। তবে ইন্ডিয়ানদের আনাগোনা যে আছে এখানে তা না বল্লেই নয়। অনেককেই দেখলাম দুবাই থেকে এ পথে আসতে। তবে তারা কি করেন তার কোন ধারনা পেলাম না।

বন্ধু লু-এর সাথে এবারই প্রথম দেখা। বেশ আগে থেকে কথা হলেও সামনাসামনি এবারই প্রথম। সোজা তার বাসায়। শরীর খুব ক্লান্ত। কখন যে ঘুময়ে পরেছিলাম জানি না। তবে যখন উঠলাম তখন বেশ রাত। প্রায় নির্ঘুম ভাবেই কেটে গেল বাকিটা। আজ আমাদের সাও পাওলোর বাইরে যাবার কথা। তাই করলাম। চলে এলাম ক্যাম্পিনাস-এ। এখানেই আমার সাইকেল চালনা শুরু। তবে মনের মাঝে একটাই খোচা, একটু বাংলাদেশ চাই। এদিক ওদিক তাকাই, কোথাও কেউ নেই। পরে ভাবলাম মনে হয়ে মূল শহর থেকে দূরে এসেছি বলে দেখা পাচ্ছি না। তবে আছে কোথাও, নিশ্চয়ই আছে।

ফিরে আসার পর ম্যক্সিকোতে যাওয়ার বন্দবস্ত করার ফাকে ফাকে এদিক ওদিন ঘুরে দেখতে গেলাম, শহরটা কেমন! আর মনের কোনর বাসনাটা হলো কোথায় আছে কেউ, অন্তত একজন বাংলাদেশ। কত জায়গা ঘুরলাম, রিপাবলিকা, মিউনিসিপাল থিয়েটারের আসে পাশ, সবচেযে বড় মিউনিসিপালটিসের মার্কেট। সাথে লু্। কিন্তু কোথাও পেলাম না। অগত্যা মসজিদ খুজা শুরু করলাম। পেয়েও গেলাম বাড়ির কাছে তবে কোনো শুক্র বারে হানা দিতে পারলাম না বলে দেখা করা গেলনা কারো সাথে। আমার বিশ্বাস ওখানেই পেয়ে যেতাম কাউকে না কাউকে।

পেরু হয়ে মেক্সিকো যাওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সময় আরও কিছু জটিলতার জন্য আর যাওয়া হয়ে উঠলো না।ট্রানজিটের জন্যও ভিসা লাগে আমাদের। তাই ল্যন পেরু’র ফ্লাইট ধরা হলো না। অগত্য এ্যরো মেক্সিকো’র সরাসরি ফ্লাইট ধরে নিলাম। সারারাতের যার্নি শেষে যখন কেবল বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে এগুতে শুরু করতে না করতে ইমিগ্রেশন পুলিশের নেক নজরে পরে গেলাম। প্রথমে “পাসাপোর্টটা” এবং “ভিসতা” দেখতে চাইলেন। দেখালাম। এহাত, ওহাত হতে হতেই শুতে পেলাম-পারফেক্টট। কিছুই বুঝতে পারলাম না। আসলাম পতুগিজ রাজ্য থেকে স্প্যানিয়ার্ডদের দেশে। তাই আমার ‘দেশি ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুড়ায়’ মাধ্যমিকে পড়া কবিতার সারমর্ম মনে পড়ে গেল কেনা জানি। আমার ভাষাগত বিদ্যা খুবই খারাপ আর বাংলা বাদে অন্যান্য ভাষা শেখার চেষ্টা চালালেও ফলাফল শূন্যের কোঠায়। আমি বাংলা অনেক ভালবাসি!

পুলিশ সাহেবের সাথে হাটা শুরু করলাম। খানিকটা থেমে তাকে আমার ইনভাইটেশনটা দেখানর পর আবার শুনতে পেলাম – পারফেক্টট। বেশিক্ষণ আর কথা হলো না। সোজা সিল দিয়ে দিলেন আর বলেল বইনস দিয়েস - ওয়েল কাম। বেরুতেই দেবরুপ কে পেলাম। খুবই ভাল লাগল। এতদিন পর আবার বন্ধুটির দেখা পেলাম। শেষ বার সেই ২০০৪ এ। তার আগে পাহাড়ে – গারওয়াল। শিক্ষকতা করে এখানে। কোলকাতার বাঙ্গালী হলেও পূর্ব পুরুষের পূর্ব বঙ্গীয় ভাব এবং বিলাসিতা এখনো তার মাঝে প্রকট। তাই খানিকটা রিলিফ্ড হলাম তাকে দেখার পর। তার দেরায় গুজে গেলাম। সপ্তাখানেক নিজের কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে আর বন্ধ – বন্ধু পত্নির আতিথিয়তায় বাংলাদেশ খোজার তাড়া অনুভব করলাম না। আমি এসেছি সাইকেল নিয়ে বিশ্ব ভ্রমনে। কারনও আছে আমি এইচ আই ভি দের নিয়ে কাজ করছিলাম দেশে এবং সে কারনেই এখানে আসা। মেক্সিকসিটি ইউথ ফোর্সের হয়ে ইয়ুথ জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করব। সাথে নিজেরও কাজ গুলো শেষ করতে করতে প্রায় ৩ সপ্তাহ চলে গেল। আমার ভ্রমন গুরুর কথায় মধ্য আমেরিকার দেশ দর্শনের জন্য প্রথম যখন গুয়েতেমালার ভিসার জন্য গেলাম- তখনই বুঝেগেলাম হবে না।

অগত্য দেশ খোজায় মন দিলাম আবার, তাও বাংলাদেশ। কিন্তু কোথায় পাই। আবার পুরোনো পন্থা ধরে মসজিদের দিকে মন দিলাম। কিন্তু কোথায়? কেউ জানে না। এত বড় শহরের প্রায় বেশির ভাগ রাস্তাই কেউ চিনে না আরতো মসজিদ। ইন্টানেটে দুদিন কাটিয়ে পাচটি ঠিকানা পেলাম। এবং তিন ঠিকানায় আর কিছুই নাই গিয়ে খোজ নিলাম। শেষে এক বৃহস্পতি বারে ইউক্লিদিস রাস্তার মাঝামাঝি দ্বিতল বাড়ির ভিতরে মসজিদটাকে আবিস্কার করলাম। ফ্রান্সিকো নামের এক ভদ্রলোক দরজা খুলে দিলেন। দেখলাম মেঝের কার্পেট পরিস্কার করছিলেন। বসে না থেকে বহু দিন পর নামাজ পরলাম। মরক্কোর আরেকজন এলেন। কথা হলো তবে বুঝতে পারলাম না এখানে তিনি কি করেন। দুপুর গড়িয়ে যাচ্চে, খেতে হবে। ভাবলাম সবাই একসাথে যাব। কিন্তু আমাকে বসে রেখে তারা বাইরে গেলে, যখন ফিরলেন, বুঝতে আমার অসুবিধা হলো না তারা কোথায় গিয়েছিলেন। আমি খানিকটা অবাকই হয়েগেলাম।

আজ শুক্রবার, সকাল সকাল বেরিয়ে গেলাম। দুপুর ২টা থেকে নামাজ। উপরের তলায় একে বারে শেষ কাতারে জায়গা নিলাম যাতে সবার দিকে চোখ রাখা যায়। খানিক বাদে সবার মাঝে একজনকে মনে হলো বাংলাদেশি। তাই কথা বলার জন্য উদগ্রিব হয়ে থাকলাম। মনের মাঝে নামাজের চেয়ে তার আকর্ষন আমার কাছে অনেক বেশি।কেন তা জানি না। নামাজ শেষে খাওয়ার সময় আমার দৃষ্টি তার দিকে। আমি শিয়র হয়ে গেলাম তিনি আমার দেশের, বাংলায় কথা বলেন। বাইরে এসে পেলাম আরো কয়েকজনকে। সবাই থাকেন এখানে। আজাদ মামার সাথে সখ্যতা হলো। কথা হলো অনেক। বলেলন তার বাসায় উঠতে। আমি তো এককথায় রাজি।

অনেক দিন বাদে, শেষমেষ প্রায় ২৮দিন পর মনে হলো আবার, পৃথিবীর পথে খুজে পেলাম আমার বাংলাদেশ।




১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×