somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মূর্তালা রামাতের কবিতা- ৪১ কসাইপুরে স্বাগতম
শকুনেরা পালিয়েছে আগেই, কাকেরাও যাচ্ছে
ভাগছে কুকুরও

ঘোষণা হয়ে গেছে, এ শহর কেবল মানুষের, মানুষই ঠুকরে খাচ্ছে মানুষের মগজ কলিজা ও বিবেক অবলীলায় বত্রিশ টুকরো করে মানুষকে ডাকযোগে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে মানুষ উঠোনে প্রিয়জনের নাড়ি ভুড়ি টানিয়ে সেখানে শুকাচ্ছে স্নেহ মমতার কোলবালিশ, বাড়িতে বাড়িতে ক্রমাগত বাড়ছে কসাই হবার একান্ত বাসানা, রাজপ্রসাদ থেকে শুরু করে নর্দমার অলিতে গলিতে রক্তের টাটকা ছোপ মানচিত্র বেয়ে বেয়ে মস্ত কসাইখানা যেন আজ এ দেশ যেখানে প্রেমিকার পদ্ম চোখ খুবলে রক্ত চাটছে প্রেমিকের প্রতারক জিভ, পিতার অবিশ্বাসের দোকানে বিক্রি হচ্ছে নবজাতকের পোড়া ঘ্রাণ রোস্ট আর তাদের মায়েরা তা খুবলে নিচ্ছে প্রণয়ের কাঁটাচামচের দূর্গন্ধে - বাতাস স্বয়ং নাকে চেপে আছে রুমাল অথচ সবাই অনাবিল হাসিখুশি, বন্ধুকে অবলীলায় কেটে খেলনা বানিয়ে বেলুন উড়াচ্ছে বন্ধু, হাসতে হাসতে ভাইয়ের হৃৎপিন্ড চিরে মুক্তো হাতাচ্ছে ভাই, সিন্দুকের তালা খুলতে বাবাকে পিটিয়ে চাবি বানাচ্ছে ছেলে, ছেলেকে জবাই করে মোরগককে খাওয়াচ্ছে মা, মায়ের স্তন কেটে নিতম্বের মাংস বাড়ছে মেয়ের, বাড়ছে এবং বাড়তে বাড়তে আব্বুর ঘোলা চোখের আংটায় ঝুলে আছে মাংসের দোকানে, ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ আর ঘ্রাণে মানুষ মাংস আর মৃত্যুর কড়া ডাক মদের মত কড়া নেড়ে নেড়ে প্রকম্পিত করছে লোকালয়, আর্তনাদ ঠেকাতে ছাত্রীর মুখে শিশ্ন পুরে দিচ্ছে স্বরস্বতীর স্বামী, মানুষকে পিটিয়ে কুপিয়ে গ্রামে গঞ্জে চলছে বৃক্ষরোপন উৎসব, মুয়াজ্জিনের হাসিমাখা রক্তে হাবুডুবু খাওয়া শিশুর গোঙানীতে মুসল্লিরা খুঁজছে দলীয় প্রতীক, পিস্তলের ভেতরে ঢুকিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিংড়ানো হচ্ছে আখ মাড়াইয়ের উচ্চতর গবেষণায়, উচ্চফলনশীল ফসল ফলানোর নামে ক্ষেতে বোনা হচ্ছে ক্রসফায়ারের হাইব্রিড বীজ, পল্লী উন্নয়নের ল্যাম্পপোস্ট হয়ে মোড়ে মোড়ে নিভে আছে অষ্টাদশীর ক্ষত বিক্ষত লাশ, লাশের পর লাশ ফেলে ভরাট হচ্ছে নদী খাল বিল পতাকার লাল বৃত্ত সমস্ত কিছু লাশের অধিকারে, লাশ দিয়ে লাশ পেটাচ্ছে ধড় হীন হাত, পেট হীন মাথা, মাথা হীন পা- অন্ধের মত পালন করছে গায়েবি নির্দেশ নামা, স্কুলে স্কুলে পঠিত হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কে হবে সেরা খুনি’র কলাকৌশল, ফাঁসিকাষ্ঠের খুনিও নেমেছে উন্মুক্ত অডিশনে, সকলের মুঠোর ভিতর বিবস্ত্র খুনের উন্মত্ত সঙ্গম, প্রকাশ্য দিবালোকে সময়কে চিরে ফেড়ে দেশেকে কেটে মর্গের বিছানা বানাচ্ছে কতিপয় সংকল্পধারী আদেশ, মানুষ আর মানুষ নেই তাই দল মত নির্বিশেষে ধাবমান আজ পাশবিক প্রত্যয়ে-

জানোয়ার পালিয়েছে তাতে কী
আমরাই দেখিয়ে দেবো জানোয়ার কত প্রকার ও কী কী!

৩০/০৭/২০১১
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।



.
.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29422554 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29422554 2011-07-30 10:33:12
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ৪০ ফেরাফেরি

("ঘর ছেড়ে যে বাইরে গেছে তার থাকে না ঘর বাড়ি--- শহীদ কাদরী")

সব ফেলে
কতবারই তো নেমেছি রাস্তায়
শেষ ট্রেন ফেল করার তাড়াহুড়োয় চেপে বসেছি
আন্তঃনগর হৃদয়ে-
জলের ঝাপসায় চোখ পাথর হয়ে গেলে
বিরতিহীন বাসও বিরতি নেয়- বাইপাস
পথেও ব্যারিকেড থাকে-ঘুর পথে ঘুরতে ঘুরতে
ভুলে যেতে হয় স্নেহের ঠিকানা-

তবুও তো কতবার
বদ্ধ পাগলের মত সব উড়িয়ে গুড়িয়ে
পরিচিত কড়া দুটি নাড়তে গিয়েও
ভেতরের কোলাহলে, লাশ কাটা ভুতের মত থেমে গেছি
দরজায়; বেশতো আছে সব পরিপাটি-
বুকের সেলাই খুলে
তবে কেন এই ছন্দছেঁড়া
ফেরা?

ফিরেও তাই ফিরে যেতে হয়
না ফেরায়,
হে হৃদয়-
ফেরো বললেই কি ফেরা যায়?

১৪/০৮/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29229303 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29229303 2010-08-25 08:55:11
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ৩৯ তোমারামার

'আমার' বলে কিছু
আছে নাকী!

মাঝে মাঝে নিজেকে চিনতে পারি না
আর তুমি!

কতোইবা? বড়োজোর ছ', বেশি হলে দশ
ধরলামই না হয়

শূন্য থেকে পরস্পরকে আমরা চিনি-
(তাই কী!)

তারপরও চকিত চোখে এখনও যখন তাকাও
কেঁপে উঠি-- স্রষ্টার সামনে যেমন
লুপ্ত হয় লৌকিক জীবনজীবিকা...

বা হাতের মসৃণ মুঠোয়
হৃদয়টিকে খোসা ছাড়িয়ে
স্ট্রবেরির মতো স্ট্রেটকাট নিজের করে
চেপে রাখলেই
কী একান্ত হয়ে গেলাম!

হাসানতো বলে গেছে
মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভিষণ রকম একা-
তোমার ঘাড়ের বায়ান্নোতম রোমকূপের ঘ্রাণ নিয়েও
আমি বলি-

তোমার কিছু থাকলেও থাকতে পারে
আমার বলে কিছু নেই...

১১/০৮/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29228686 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29228686 2010-08-24 09:14:34
অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা- ১ গান (Song)

পৃথিবীর ভার হলো
ভালোবাসা।
নিঃসঙ্গতার বোঝার
নিচে,
অসন্তুষ্টির বোঝার
নিচে

যে ভার
যে ভার আমরা বহন করি
তা হলো ভালোবাসা।

কে করে অস্বীকার?
স্বপ্নে
এটি ছুঁয়ে যায়
শরীর,
ভাবনায়
তৈরি করে
এক অলৌকিকতা
কল্পনায়
যন্ত্রণা দেয়
যতোক্ষণ না জন্ম নেয়
মানুষে-

শুদ্ধতায় জ্বলতে জ্বলতে
হৃদয়ের বাইরে থেকে সে দেখে-
কেননা ভালোবাসাই হলো
জীবনের ভার,
কিন্তু এ ভার আমরা বহন করি
ক্লান্তি নিয়ে,
আর তাই বিশ্রাম নিতে হয়
ভালোবাসার কোলে
অবশেষে,
জিরোতেই হয়
ভালোবাসার কোলে।

কোন বিশ্রাম নেই
ভালোবাসা ছাড়া,
ঘুম নেই
ভালোবাসার-
স্বপ্ন ছাড়া
পাগল হও অথবা শীতল
স্বর্গদূতে আবিষ্ট হও
অথবা যন্ত্রে,
শেষ ইচ্ছাটি হলো
ভালোবাসা
--তিক্ত হতে পারে না
অস্বীকার করা যায় না
অস্বীকার করলে
ধরেও রাখা যায় না:

এ ভার খুবই ভারি

---অবশ্যই দিতে হয়
বিনিময়হীন
যেভাবে ভাবনা
দেয়া হয়
নিঃসঙ্গতায়
এর আধিক্যতার
সমস্ত উৎকর্ষতায়।

উষ্ণ দেহগুলো
একত্রে আলো ছড়ায়
অন্ধকারে,
এগিয়ে যায় হাত
মাংসের
কেন্দ্রের দিকে
কেঁপে ওঠে ত্বক
আনন্দে
আর আত্মা আসে
আত্মহারা হয়ে চোখে-

আর হ্যা, হ্যা
ওটাই তা
যা আমি চেয়েছিলাম,
সবসময়
সবসময়ই আমি চেয়েছিলাম,
ফিরতে
সেই দেহে
যেখানে আমার জন্ম।

সান জোসে, ১৯৫৪


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29225788 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29225788 2010-08-19 15:22:26
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ৩৭,৩৮ কানামাছি

দৌড়াই দৌড়াই...
দাঁড়া নদী দাঁড়া-
নদী সরে সরে যায়
ক্লান্ত পা পুনরায় পোড়ে

নদী ডাকে আয়...
ছুঁয়ে দেখ, মেখে দেখ, চেখে দেখ-
দৌড়াই ফের-
জলের দীঘল ছায়া, ধূ ধূ গন্ধের বালি
আঙ্গুলের ফাঁক গলে পড়ে
যেন ব্যর্থ মোহর!

স্রোতের সিন্দুকে চড়ে বেলা যায়
দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ দড়ি হাতে আমি তার পিছু পিছু
দূরত্ব মেপে চলি বরাবর আর
নদীর শূন্য দাগ হয়ে থাকি...

২৭/০২/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

জল জ্বলে

নামলে জলে ছলে বলে
উঠতে না চায় মন
জলের তলে যুদ্ধ হলে
জাগে অন্যজন!

অন্যজনের অনেক চাওয়া
জলের নিচে জালের হাওয়া
মাছ লুকিয়ে জলের পরী
যতোই করো সময় চুরি
লাভ হবে না-
জলের ছেলে
দস্যি জেলে
মাছ না পেলে
বৃথাই যে তার নৌকা বাওয়া...

এরচে' ভালো, জলকে বলো
তোমার মনিমুক্তোগুলো
ছড়িয়ে দিতে জলের ক্ষেতে
জলের নহর ভালোবেসে
জোনাক বেশে জলোদেশে
অন্ধরাতে দু'হাত পেতে
যে নেমেছে বন্ধু হতে
তার সে দু'হাত তোমার হাতে বন্দী করো
জলের দোহাই জলের মেয়ে সন্ধি করো সন্ধি করো...

তা না হলে
জলেই যাবে
তোমার জলে জল কুড়ানো
জ্বলজ্বলে ওই জোছনাগুলো।

১৫/০২/১০
সাউদারল্যান্ড, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29224422 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29224422 2010-08-17 10:01:50
মূর্তালা রামাতের কবিতা ৩৩,৩৪,৩৫,৩৬ ডাক

যে তুমি ঘাস হয়ে আছো
পাখিদের ঠোটে
দিচ্ছো পাড়ি
পরিত্যাক্ত হৃদয়-

জানি যাবে বহুদূর পর
পালকের নীড়ে হবে
শয্যার ওম

দূরে আরো দূরে
জলের শহরে
সেই ছায়া বুঝি মেঘ হয়ে ভাসে

এমন ঝড়ের দিনে আজ
তোমার ঘুমের চোখে
বিপন্ন যদি কেউ হতে চায়
এতোটুকু ঘাস
তুমি কি মাটির পথে ফিরবে আবার?


২৯/০৭/১০
সিডনি,অস্ট্রেলিয়া

জামাবন্দী

জলপাই জড়ানো তোমার হাতে যখন
গর্জে ওঠে রাইফেল আর
মূর্ছা যায় সারি সারি সিঁদুর...
তহন কি তুমি আর মোগো গাঁর রহিমুদ্দী থাহো?
তহন কি ঝাঁক ঝাঁক বেহেশতি কৈতর
দরাজ ভাইটালি টানে ধরফর করতি করতি
বানের পানির লাহান আসমান ছিঁড়া নাইমা আসে
তুমার তালুতি বাপ?

অথবা যখন তুমি
সাহেবের বেশে হাজার তলার চিমনিতে বসে
কলমের তুচ্ছ খোঁচায়
পাজরের অলিতে গলিতে চালিয়ে দাও বুলডোজার
তহন, দাতাল শুয়ারের গপ্পো কবার যাইয়া
মা-মরা নদীতো তুমার কতাই কয়
নাকি?

ভুল আমাগোরই বাজান
তুমারে যে চিনবার পারতিছিনে!
সর্ষ্যা ফুলের ঘ্রাণ গায়ে
ছলাৎ ছলাৎ গাঙ চোহে
আমাগোর রহুমুদ্দী কি
জজ বারেস্টার হইয়া
ঘাস ফড়িংয়ের গলা টিপপার পারে
কও?

জামা পরা মানুষ তুমি কিডা?
পোশাকের পোষ থিকা বাইর হও-
গোরস্তানের তন
পরানের আইল ধইরা
তুমারে আমরা
জুছনার ধানখ্যাতে নিয়া যাই...

৩১/০৭/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

পোষা কথা

পোষা কিছু কথা আছে
যাদের ডানা নেই,
যারা ঘরেই থাকে সারাদিন
আর হাততালি দেয়
যখন যেভাবে মন চায়...

পিছু ছাড়ে না কিছুতেই
যখন বাইরে যাই
কথারা কীভাবে যেন
কানের কাছে কারো
শেখানো বুলি আউড়ায়-

নামীদামি কথানাশক দিয়ে বহুবার চেষ্টা করে দেখেছি
কাজ হয়নি, নিরুদ্দেশে গেলেও
দুঁদে গোয়েন্দার মতো মুহূর্তেই
তারা হাজির হয়েছে অজ্ঞাতবাসে-

অতঃপর ঘরের তালাও বদলেছি ইচ্ছামতো
তবু তারা ঘরে ঢোকে, ধূলো ঝেড়ে
এটা ওটা নেড়েচেড়ে দেখে-অবলীলায়
তাহার মতোই তারা
ভালোবেসে হৃদয় ঠোরায়...

১/০৮/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

চক্রনাট্য

দেখো চোখ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
কতো চিত্রনাট্য, কুশীলব আর
মঞ্চস্থ সংলাপ-

তোমাকে রেখেই তুমি দেখো চলে যাও
হেসে, গেয়ে, নেচে- যেভাবে
নদীর জ্বলন্ত জল ভাঙ্গে পাড়...

তুমিও তেমন সর্বশ্রান্ত হও
পাউরুটির খয়েরি কোনার মতো
এঁটো থালাটির মাখন মাখানো চামচের নিচে
চাপা পড়ে থাকো-

কেউ কি তোমাকে দেখে?

দেখো সন্ধ্যা হয়েছে বলে
মাছিরা অন্ধ আজ (তোমার পাশেই ওড়ে তোমাকে ছোঁয় না), রক্তের দিক ভুলে চেনা বাদুড়ও গেছে নিরামিষ বনে আর
ফাঁদ ভেবে তোমাকে দেখেও দেখছে না
ঘরোয়া ইঁদুরের দল!

অথচ তুমি আছো
হাড়ির শেষ মুঠো চালের মতো হৃদয়ে তোমাকে চেপে সে আছে
আছে সেই নিঃশ্বাস যারা
ঘড়ির অবনত কাঁটার মতো ঘুরে ঘুরে
তোমার নিঃশ্বাস নেয়-

এই মুহূর্তটিও এখন তোমাকে ঘিরে আছে শুধু
তুমি আর আসছো না ফিরে
তোমার মুখোমুখি....

৫/০৮/১০
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29221888 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29221888 2010-08-13 22:10:47
মূর্তালা রামাতের কবিতা-৩২ অতঃপর...

থেমে আছে, বিরতিহীন গাড়ি
নেমে গেছে সবাই যার যার বাড়ি-
কেবল চালক ও তার সহকারী
নিশ্চল চাকার মতো নিশ্চুপ লাশ...

ক্রমাগত জমেছে ময়লা আড়ালে আড়ালে
পাওয়া যেতো সহজেই হাতটা বাড়ালে
সময় হয়নি তাই
যাত্রাপথে আজ, যাত্রা নাই !

গাড়ি যাবে জম্পেশ, দুজনেই ধরেছিলো বাজি
এবেলায় দোষ নিতে কেউ নয় রাজি
দুই দিকে মুখ দিয়ে দুইজন
করে দুই গন্তব্যের আয়োজন !

বরাবর ফেলে দীর্ঘশ্বাস, গাড়ি হাসে
এভাবেই ক্রমাগত কতজন যায় আর আসে-
পরিচিত প্রণয়ের আশেপাশে
সর্বদা কেন জানি উঁকি দেয় বিবর্ণ ঘাস...

১৭/০২/১০
সাউদারল্যানড, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29113545 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29113545 2010-03-10 10:04:19
মূর্তালা রামাতের কবিতা-৩১ সুখ

সুখ আসলে সত্যিকারের সুখ হয় না...আমি সুখি, কিন্তু আসলে সুখি না-

সুখ হন্যে হয়ে হাঁটে
মলে শপিং করে, বারে
মাতাল হয়, হুড খুলে লং ড্রাইভে যায়
মধ্যরাতে-

সুখ অসুখীর বেগে গাড়ি চালায়
লাল চোখে লাল সিগন্যাল
পার হয়ে যায়,
সুখের গন্তব্য মানে
নক্ষত্রের আতশবাজি-

সুখ পোড়ে, পিনপতনে পোড়ায়
সুখে পুড়তে পুড়তে সন্ন্যাসী বনে গেলো
কতো স্বপ্ন কারো কারো
সুখ নির্বিকার-
ক্যাসিনোতে কোটি কোটি টাকা ওড়ায়
নর্তকীর কোমরের শেষ টুকরো হয়ে খুলে
পড়ে, সুখ-
অবেলার অসুখে ঝিম মেরে থাকে
কার্তিকের কাকের মতো কাঁপে,
বুক খোলা সফেদ বকের ভেতর
সুখ রক্তবিন্দু হয়ে ঝরে....

৩/১০/০৯
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29025657 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/29025657 2009-10-14 14:32:09
মূর্তালা রামাতের কবিতা-৩০
যাওয়া যেতে পারে নিমেষেই লক্ষ কোটি দূর
বুকের গভীর মানে চেনা রোদ্দুর

আজ কাল, কাল আজ একইতো সময়
দূরের গভীর মানে কাছের প্রণয়

নদী যায়, বয়ে যায় উথাল পাথাল
মনের গভীর মানে বেহেড মাতাল

সাগরে উঠলে ঝড়, তার ঠোঁটে হাসি
ভুলে গেছো যতোবার ততো ভালোবাসি...

১২/০৮/০৯
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28998396 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28998396 2009-08-23 11:28:17
মূর্তালা রামাতের কবিতা-২৯ ফিরছি....

অতীত বর্তমান সম্মুখ
সব মিলেই এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখানেই
আমরা আসলে থেমে থাকি
তেপান্তরের মধ্যবিন্দুর মতো
আমরা ব্স্তুত নক্ষত্রের পুঞ্জিভূত ইশারা

ফের বুঝেছি তাই ফিরবো না আর
কোনো ডাকে, সেই ডাক যে কিনা পাড় ভেঙ্গে
জল হয়ে আসে
অন্য সকলের মতো
তারও অপেক্ষার প্রয়োজন আছে,
তারও বিরহ চাই

তাই ফিরতি পথেই ফের ফিরছি
ফিরবোই...

১২/০৩/০৯
মহাখালি, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28923199 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28923199 2009-03-12 11:26:23
অনুবাদ কবিতার মোড়ক উন্মোচন
বইয়ের নাম: অনুবাদ কবিতা
অনুবাদক : মূর্তালা রামাত

স্থান: নজরুল মঞ্চ, বাংলা একাডেমী
সময়: সন্ধ্যা ৭টা
তারিখ: ১২/০২/০৯, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজই

প্রকাশক: বাতিঘর
প্রাপ্তিস্থান: ২৩৮ নং স্টল এবং শালুক, লিটিল ম্যাগাজিন কর্নার

আপনার উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। ধন্যবাদ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28910188 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28910188 2009-02-12 15:29:58
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২৮ সাপকথা

পোষা সাপ কথা কয় এতোদিন পর
ঢেলে দেয় ইতিহাস বংশপরম্পরা

বিষের গল্প উঠে আসে
মৃত হাড় থেকে
ধুলোর সাথে ঝরে ঝরে পড়ে
গুপ্তঘাতকের লীলা

বিশ্বাস কেঁপে ওঠে বিস্ময়ের চেরা জিভে
দেহের ভেতরের দাহ
ঝড় থেকে ঝরে ঝড়ের পূর্বাভাস
দেয়-

পোষা সাপ!!!
হে পবিত্র শিরা উপশিরা
পেচিয়েছো যাকে এতোকাল পর
অথবা তুলেছো ফনা যার পানে
অবিরল নদীতে তোমার
সেতো পুঞ্জীভূত যৌবনিক স্রোত...


১/০১/০৯
মহাখালি, ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28905270 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28905270 2009-02-01 15:39:52
নতুন দেখা ছবি-১
ইদানীং মুভি কিনে কিনেই দেখি। কম টাকায় বেশি মুভি দেখার নিয়ত বিধায় এক মুভির ডিস্কগুলোর দিকে ফিরেও তাকাই না। তিন মুভি বা ছয় মুভির ডিস্কগুলোই বেশি খুঁজি। এবারও অর্কিড প্লাজায় গিয়ে কিছু মুভি কিনে আনলাম। ইংলিশ গুলো এখনও দেখা হয়নি তবে পুরো বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার মিলিয়ে হিন্দি ছবিগুলো দেখলাম।

দোস্তানা

ছবিটা ভালোই লেগেছে। বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য জন আব্রাহাম আর অভিষেকের সমকামী সাজার অভিনয়টা দারুণ। প্রিয়ংকা চোপড়ার বাসায় থাকতে থাকতে এই তিনজনের ভেতর জম্পেশ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। প্রিয়ংকা একসময় জানতে পারে জন, অভিষেক আসলে সমকামী নয়। ওরা দুজন আবার প্রিয়ংকাকে ভালোবেসেও ফেলে। শেষে ভালোবাসা নয় বন্ধুত্বেরই জয় হয়।এই সুন্দর কাহিনী নিয়েই হালের হিট মুভি দোস্তনা। গানগুলো ভালোই, লোকেশনও। সবচে' ভালো লেগেছে প্রিয়ংকার অভিনয়। তবে ছবিটা দেখার পর থেকে মনটা খচখচ করছে, কোথায় যেনো এমন একটা ছবি দেখেছি! হয় ইংলিশ মুভি না হয় ফরাসী কোনো মুভি। অনেক ভেবেও বের করতে পারলাম না।
তবে যাই হোক না কোনা ছবিটা দেখে মনটা ফুরফুরাই লাগলো।

১/১২/০৮
মহাখালি, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28876837 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28876837 2008-12-01 18:00:47
মূর্তালা রামাতের কবিতা-২৭ ড্রইংরুমের কবিতা

লবণের হ্রদ থেকে উঠে আসে চোরা স্রোত
হেঁটে যায় লোকালয়ে
সারারাত উদ্দাম নৃত্যের পর
যেখানে ঘুমায় সারি সারি বিবস্ত্র প্রেম

স্রোত ঘুরে বেড়ায়
শরীর থেকে শরীলে আর
বিস্মৃত নদীর মুখ
জেগে ওঠে পুরাতন কবরের ভাঁজে,
তার চোখের কোটর থেকে
ঝাঁক ঝাঁক মাছের স্বপ্ন ওড়ে

জননীর কোল নিয়ে সেইসব গ্রাম
পাহাড়ের চূড়া থেকে একদিন যারা
চিত্রকলায় চাপা পড়েছিলো
ড্রইংরুমের দেয়ালে তারা ক্রুশে করে ছটফট
তুমি ঘুম
মেটালিক হৃদয়ের নিচে থই থই জল
এসে ঘুরে যায়...

১৮/১১/০৮
মহাখালি, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28870609 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28870609 2008-11-18 11:56:39
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২৬ পুঁজিপোক

নিজেকে আমার পোকা ব্যতীত কিছুই মনে হয় না যখন সকাল না হওয়া সকালে ঢুলঢুল চোখে পিলপিল বাসের হাতলে লটকে ঝিমুনীর লাইনে
দাঁড়িয়ে কিলবিল অফিসে ঢুকে যাই তারপর হিসেব না রাখা ঘন্টায়
নিরবিচ্ছিন্ন পদদলিত হবার পর থ্যাঁতলানো পিঁপড়ের মত আস্তাকুঁড়ের ঘ্রাণযুক্ত ছারপোকা ডেরায় ফিরে এসে আধপেটা ভাবি- এইতো মাস শেষ...বহুমূত্রে আক্রান্ত আঙ্গুল ফোলা আড়তমালিক লোকটি ঠোঁটের কোন খুটে দশ বারো দানা চিনি ছিটিয়ে উপদেশমূলক নির্দেশে বলবেন 'বুঝলে হে, চিনি স্বাদে মিষ্টি কিন্ত পরিণামে তিক্ত, হুঁশিয়ার সাবধান...আমি মানুষ, তুমি আরো সুদক্ষ পোকা হও...'

০৭/০৫/০৮
মহাখালী, ঢাকা।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28870209 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28870209 2008-11-17 13:24:01
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২৫ ঘোর

আষাঢ়ের লুকোচুরি রাতে
যূথিকার একান্ত গাঢ় তিলে
ঘোর কৈশোর ঘোরে,
চোখ বুজলেই

দূরত্ব বেশি নয়
ঘাড় ঘেঁষা নিঃশ্বাসেই
জেগে ওঠে ডুবোচর
চকচকে মূদ্রার মতো শীত শীত ঘ্রাণ
জলডুবে চুপচাপ

পষ্ট দেখা যায়
কুয়াশার বুনো ঝোপে সেইসব নতজানু বিস্ময়
নাইতে নেমে যারা হারিয়েছে
প্রতিধ্বনির পথে
বিবর্তিত পাথরের ঢেউভাঙ্গা কোনে
এতো ফিসফাস তবুও
নিভু নিভু অর্কিডে তারা ক্রমশ হু হু হয়ে ওঠে...

১৩/১১/০৮
মহাখালি, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28868527 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28868527 2008-11-13 12:02:02
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২৪ এইসব মিলমিশ

ভেবে নেয়া ভাবনাগুলো
মুড়মুড় করে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়
যেনো এমনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হবার কথা ছিলো

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিলো
নাস্তার টেবিলে আসতে পারে সূর্য স্বয়ং
জোতিষের বাণীতে ছিলো
প্রেম
এমনকী গতরাতে বিকল সেতারেও সুর উঠেছিলো
হবে
আর আমিও হতে চেয়েছিলাম কারো কারো...

হতে হতে এমন অনেক কিছুই হয় না
যেমন মুখোমুখিও পরস্পরকে চিনতে পারেনি
যমজ যন্ত্রণা- বহুবার এমন হয়েছে যে
রাতজাগা চোখ ঘুমের কাছে অন্ধ সেজে বসে ছিলো
আর এভাবেই
এসে চলে গেছে গন্তব্য

যারা তোমরা পথের সাথে কথা বলো রাতদিন
অথবা পথই যাদের পায়ে পায়ে ঘোরে
জেনে রেখো এইসব মিলমিশ-
ছেড়েছুড়ে তার চে' বেশি দূরও যাওয়া যেতে পারে...


১২/১১/০৮
মহাখালি, ঢাকা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28868063 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28868063 2008-11-12 12:03:02
আধুনিক গ্রিক কবি দিমিত্রিস পি.ক্রানিওটিস-এর একগুচ্ছ কবিতা দিমিত্রিস পি.ক্রানিওটিস ১৯৬৬ সালের ১৫ জুলাই গ্রীসের স্টোমিও-তে জনমগ্রহণ করেন।পেশাগত জীবনে ডাক্তার এই গ্রিক কবি ওয়ার্ল্ড পোয়েটস সোসাইটি (ডব্লুপিএস) এর সভাপতি; হেলেনিক লিটারারি সোসাইটি (ইইএল), ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব গ্রিক রাইটারস(ডিইইএল), ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব আর্টস এ্যান্ড
কালচার(ডব্লুএএসি),উইনাইটেড পোয়েটস লিটারেচার ইন্টারন্যাশনাল (ইউপিএলআই), ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটিস অব পোয়েটস (আইএসপি), পোয়েট্রি সোসাইটি অব আমেরিকা (পিএসএ) প্রভৃতি সংগঠনের সদস্য। ট্রেসেস(১৯৮৫), ক্লে ফেসেস (১৯৯২), ফিকটিসাস লাইন (২০০৫)-তার এ তিনটি কাব্যগ্রন্থই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এছাড়াও গ্রিক পোয়েট, ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট, হেলেনিক ওয়ার্ডস- নামের তিনটি অনলাইন সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক তিনি। পোয়েট অব দি ইয়ার ২০০৫, গোল্ডেন পেন এ্যাওয়ার্ড ২০০৫, উনিভার্সেল এ্যাওয়ার্ড অব এ্যাকমপ্লিশমেন্ট ২০০৬ সহ এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নিচের কবিতাগুলো তার ফিকটিসাস লাইন (২০০৫) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

আবিষ্কৃত চরণ

সিগারেট
আর কফিপূর্ণ,
মগগুলোর
ধোঁয়া
কল্পিত চরণের
পরেই
যেখানে
শব্দচক্র
হেলান দেয়
আর কুর্নিশ করে,
আহত,
আমার নীরবতাকে।

আদর্শ

তুষারাবৃত পর্বতমালা,
প্রাচীন কীর্তিস্তম্ভ,
উত্তুরে বাতাস যা মাথা নোয়ায় আমাদের প্রতি।
এক চিন্তা যা প্রবাহিত,
চিত্রকল্প যা অনুপ্রাণিত
ইতিহাসের স্তোত্রগীতের সাথে,
শব্দ অথবা চিহ্নগুলো
জ্যামিতির আদর্শের সাথে।

নিয়ম ও অন্তদৃষ্টি

জীবন গোনে
নিয়ম;
সূর্যাস্ত, তাদের প্রত্যাশাগুলো।
বৃষ্টি পান করে
শতাব্দী;
বসন্ত আমাদের স্বপ্নগুলো।
ঈগল দেখে
সূর্যরশ্মি
আর যৌবন, অন্তদৃষ্টিগুলো।

মোহগুলো

হৈ চৈ বিহীন ভাঁজ
আমাদের কপালে
ইতিহাসের সীমান্তসমূহ,
বিকীর্ণ করে তীর্যক চাহুনী
হোমার পংক্তির প্রতি।
অপরাধে পূর্ণ
মোহগুলো
পাপমুক্ত করে
ব্যথিত ফিসফিসানী
যা প্রতিধ্বনিত হয়েছিলো
বোকা আর নিরীহদের
আলোকিত গুহায়।

সমাপ্তি

সুমিষ্ট ফলের স্বাদ
এখোনো লেগে আছে
মুখে,
কিন্তু কথামালার তিক্ততা
বিধ্বস্ত করে মেঘদল
আর মুচড়িয়ে তুষার
শিলাখণ্ড গোনে।
অথচ তুমি কখনো আমাকে বলোনি,
কেনো আমায় ঠকিয়েছিলে
বেদনা আর অন্যায়ের সাথে
যেনো তুমি বলতে
চেয়েছিলে যে সমাপ্তি
অশ্রুতে সর্বদা
নিবদ্ধ থাকে অগ্নিশিখায়।

আমি যা চাই

একটি সুতোর গুটি
আমার প্রার্থনাগুলো
ফিসফাস
ভয়ার্ত।
বোকা 'আমি'
শ্বাসরুদ্ধ হই
তোমাকে ছাড়া কখনো
না জেনেই
আমি যা চাই।

'না' সমূহ আর 'শূণ্যতা' গুলো

রাতটি
যা শ্বাসরুদ্ধ করেছিলো
সমাপ্তিহীন মুহূর্তগুলো
আমার বাঁচার
আকাক্সক্ষা,
মোমবাতি
জ্বালানোর আগেই
পার হয়েছিলো আর
আমি আকুল হয়েছিলাম
সব 'না' আর 'শূণ্যতা'গুলো কে
উদ্দীপ্ত করতে।

প্রত্যাখানসমূহ

গাড়ির গর্জন
শর্টকাট উত্তরে
অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখানে
সকালকে সিলগালা করে দেয়
যার সুনির্দিষ্ট
পুণরাবৃত্তি হয়
প্রত্যেক সূর্যাস্তে।

বিজয়

ছোট্ট
বিজয়ীর জীবন।
এঁটে থাকে
ভুলের কাদার ওপর,
পথের কাদার ওপর।























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28867747 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28867747 2008-11-11 17:52:00
সুরিয়ালিস্ট কবি পল কলিনেট-এর ৫ টি কবিতা
লোককথা

গ্রামের এক ঘন্টি টাওয়ার ছিলো নিদ্রালু।

গাছপালার ছোট্ট বলয়ে সে নিজেকে মুড়িয়ে নিয়েছিলো, তারপর তিন গুনে
ঘুমিয়ে পড়েছিলো।

যখন সে জাগলো, তখন সেখানে শরীরে রূপালী শিশির নিয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলো অল্প কিছু গাছ ।

কাগজের জ্বলন্ত ক্রস তাদের কপালে ছাপ ফেলছিলো।


বেলগওর্ড-এর ভদ্রলোক

ভদ্রলোকটি ক্যারিজ থেকে নামলেন।

এটি পাহাড়ি উপত্যকার একটি শহর।

বৃদ্ধ হাতের সাদা অবয়ব হাজারো মসলা-কৌটার
টুপি বোনে।

কাচারিতে চলছে জন্তুর সাজগোজ।

ডিনার জ্যাকেট পরা শেয়াল, লালচে আগুন তার
লেজে।

ভদ্রলোকটি মোমবাতি জ্বালায় আর খায় খরগোশের স্যুপ।


মেঘেরা

যখন ভোরের হৃদয় চালু হয়ে যায়, উঁচু থেকে ছোটো মেঘগুলো
বৃক্ষের সাথে নাশ্তা করতে নেমে আসে।

*
মুখোশ পরা মেঘের পেছনে বেজে যায় ঢোল, আসল
মেঘেরা, স্থির আর স্বপ্নালু, চুপচাপ
তারা আকাশের স্মৃতি।

*
পথহীন আকাশে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত, এক ঘন কালো
মেঘ অরণ্যে মরতে গিয়েছে।


প্রদেশগুলো

শনিবারটি আমরা আরব্য বিছানার অভ্যর্থনা কক্ষে কাটানোর
আশা করেছিলাম।

বিছানাটি হাতে মই আর কাঁধে হাতুড়ির বেল্ট পরতে
অভ্যস্ত ছিলো।

পুরোনো নাশপাতির গন্ধ নিয়ে ঘড়িটি বাজছিলো
সতর্কতায়।

সুতোর একটি গুটি ইজিচেয়ারে অলস সময় নষ্ট করছিলো: যা ছিলো
সাপ্তাহিক মজুরী।


দূর্ভাগ্য

হ্যান্ডবিলের নির্দেশাবলী ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ
করেছিলো।

সতর্কতা, বিচক্ষণতার সাথে কাগজটিকে ও তিন ভাগ
তারপর দশ ভাগ, অতঃপর আবার হাজারটা সমান ছোট ত্রিভুজে
ভাঁজ করেছিলো।

কাজ শেষে, সারারাত ও লুকিয়েছিলো, বালিশের
নিচে।

এতকিছুর পরেও, সকালে অপরিচিত এক নির্লজ্জ মহিলাকে,
ও দেখলো আয়নার কাছেই ধোঁয়ামোছা করছে ।

কুয়াশায়, কারো নিশ্চুপ আঙ্গুল এঁকেছিলো পানপাত্রের
কোকড়ানো চুল।

কাগজটি, যা ভাঁজ হয়েছিল বহুবার, অদৃশ্য তখন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28866697 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28866697 2008-11-09 14:22:17
মার্কিন কবি শ্যারন ওল্ড- এর ৩ টি কবিতা শ্যারন ওল্ড ১৯৪২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণ করেন। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণকারী শ্যারন-এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ স্যাটান সেইজ ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতার বৈচিত্রময় বিষয়বস্তু এবং বর্ণিল ভাষা ও বিচিত্র চিত্রকল্পের জন্য তিনি অল্পদিনেই সুখ্যাতি লাভ করেন। স্যাটান সেইজ-এর জন্য তিনি সানফ্রান্সিসকো পোয়েট্রি সেন্টার পুরস্কার লাভ করেন। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দ্যা ডেড এ্যান্ড দ্যা লিভিং-এর জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ দ্যা ফাদার ইংল্যান্ডের টি.এস এলিয়ট পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন তালিকায় স্থান লাভ করে।

আদিম

সভ্যদের ব্যাপারে শুনেছি,
তাদের পরিণয়গুলো কথামালায়, রুচিশীল, বিশ্বস্ত ও যৌক্তিক হয়।
অথচ তুমি আমি
অসভ্য আদিম। তুমি ব্যাগ হাতে এসে
নিরবে আমার দিকে বাড়িয়ে দাও
সুঘ্রানে চিনে নেই ম্যাকডোনাল্ডস আর
তোমার ইশারা বুঝে যাই। গতরাতে
পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিয়েছিলাম। আমরা
নিরবে বসি, পাশাপাশি, খাই,
লম্বা প্যানকেকগুলো দোল খেয়ে কাঁপে,
ঝরে ঘ্রাণালো সস,
আর পরস্পরের দিকে আড়চোখে তাকায়, বাকহীন,
আমাদের চোখের কোনগুলো পরিষ্কার যেনো বর্শার ঝলক
চৌকাঠে লেপ্টে থেকে দেখায়
বন্ধুর সাথে বন্ধু বসে এখানে।

ভালোবাসাহীন মিলন

তারা কীভাবে এটা করে, সেইজন যে ভালোবাসা ছাড়াই
ভালোবাসে? নর্তকীর মত সুন্দর,
বরফের উপর আইস-স্কেটারের মত পরস্পর পরস্পরের ওপর উড়ে চলা,
একে অন্যের শরীরে গেঁথে দেয়া নখ,কাবাবের মত লাল মুখ, লাল মদ, সেই শিশুদের
প্রসবকালের মত ভেজা, যাদের মায়েরা তাদেরকে উগরে দিতে যাচ্ছে।
তারা কীভাবে আসে, আসে আর আসে প্রভুর কাছে, আসে
স্তব্ধ জলের কাছে, আর ভালোবাসা নয়
সেইজন যে তাদের সাথে ওখানে এসেছিলো, আলো
জাগে ধীরে যেন তাদের যুগল শরীর থেকে ধোঁয়া ওঠে?
এসবই সত্য ধার্মিক, বিশুদ্ধবাদী, পতিতা, একজন যে
মিথ্যা মসিহ্ স্বীকার করেনা, প্রভুর বদলে পুরোহিত ভালোবাসে।
নিজের আনন্দের জন্য তারা প্রিয়তমাকে ভ্রান্ত করেনা,
মহান দৌঁড়বিদের মতো: তারা জানে পথের উপরিভাগের মতোই
তারা একা, ঠান্ডা, একাকী বাতাস,
তাদের জুতার ফিতা, সামগ্রিক কার্ডিও-ভাসকুলার শরীর শুধুই একটা ব্যাপার,
বিছানার সঙ্গীর মতই, আর সত্য নয়, যেটি
নিজের সুসময়ের বিপরীতে একটি শরীর একা এই বিশ্বে

হপ্তাখানেক পর

হপ্তাখানেক পর এক বন্ধুকে বলেছিলাম: ভাবিনি
কখনো এ সম্বন্ধে লিখতে পারবো।
হয়তো এক বছরে আমি কিছু লিখতে পারবো।
আমার ভেতরের কথাগুলো হয়ত কোনো একদিন
লেখা হবে; এখন তারা সাজানো, গোছানো
এবং সাজানো, স্কুলের নোটের মতো। আর আমার স্বপ্নে
কেউ একজন তাস খেলে যাচ্ছে, আর বাতাসে ছুড়ে দেয়া
বিশাল, জবরদস্ত ইস্কাপনের গোলাম
পড়ছে আগুনের ওপর। আর ঘুম ভেঙ্গে দেখি
যেদিন আমার স্বামীকে শেষ দেখেছিলাম সেদিন থেকে গুনে
যাচ্ছি দিন-মাত্র দু'বছর, সামান্য কিছু হপ্তা
আর ঘন্টা। কাগজে সই করে আমরা ক্রিসলার বিল্ডিংয়ের
নিচ তলায় নেমে দাঁড়ালাম, লবির অখন্ড সৌন্দর্য যেনো
রাজার সমাধিশালা, ছাদের ম্যুরালে ছোট্ট বিমান, উড়ে যায়। আর
প্রবেশ করে আমার পাথুরে হৃদয়ে, এই সকাল,
নিরবে, লাজুক যেনো সতর্ক,
অন্তরঙ্গতাহীন, প্রাঞ্জলতার বৃহত্তর বোধ
আর তার বহমান জীবনের অনেকটাই
অজানা, অদেখা আমার,
অশ্রুত, অস্পর্শ-অথচ পরিচিত।
আর এটা একই সময়ে অনেকগুলো মুহূর্ত
হয়ে এসেছিলো, মুহূর্তের পর মুহূর্ত,
নিজের প্রবোধ দিয়ে খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে
যাই হোক সেতো তার পছন্দের নারীর সাথেই আছে
আর আমি মায়ের কথা
ভাবছিলাম, তার মৃত্যুর আগের কয়েক মিনিট, তার জন্মের আগের
পচাঁশি বছর, আমার হাতের নিচে তার মুড়মুড়ে হাড়গুলো,
ডিমখোলসের খুলি, যেনো সে পরিষ্কার বিছানায়
খানিক শান্তিতে শুয়ে আছে, আর আমি তাকে আমার নিঃস্বতার
সর্বোচ্চটুকু বলতে পারতাম, আমি চিৎকার করে
তাকে জানাতে পারতাম একপক্ষীয় ভালোবাসার কথা
যদিও বিধি আর বিলাস সে ঘন্টায় আমি দেখেছিলাম।

















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28865516 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28865516 2008-11-06 15:15:00
অগডেন ন্যাশ-এর ৮টি কবিতা
সবাই আমাকে সবকিছু বলে

চলতি খবরে আগ্রহ দেখানো
আমার জন্য খুব কষ্টকর।
বিশেষত আপনি যখন ভাবেন যে ব্যাপারটি যেহেতু এতো কদর্য
সেহেতু এটি আর জঘন্য হতে পারেনা, এটিই জঘন্যতর,
আর এজন্যই আমি খবরে আস্থা রাখিনা, কারণ এ যুগের মতো
যুগ কখনোই আসেনি যখন এতো বেঠিক লোকের জন্য
এতো কিছু এতো সঠিকভাবে প্রযোজ্য হয়েছিলো।

সর্বদা একজন বাসন্তী কন্যাকে বিয়ে করো

সম্মোহনে প্রশংসা আর আশীর্বাদ করে মায়াকে,
বসন্ত পেলাম আমি দু'বাহুর ছায়াতে।
বসন্ত সোনালী, মেঘলার পুত্র
উদার, পাষন্ড, কোমল, রুদ্র;
ফুলেল আলস্যে বসন্ত নম্র,
হুট রাগ শীতলতা বসন্ত ধর্ম,
সর্বদা সত্য, সর্বদা পাল্টাও-
বসন্ত ভালোবাসি, তোমার ঐ গালটাও।

স্বামীদের প্রতি একটি শব্দ

প্রেমের পেয়ালা ভর্তি ভালোবাসাসহ,
সংসার রাখতে পরিপূর্ণ খুব,
স্বীকার করো, ভুলটি যখন তোমার;
যখন তুমি ঠিক, বলো ‍"একদম চুপ"।

সবার জন্য একটি সতর্কবাণী

খেয়াল করুন;
ওক্ পাখি বিলুপ্তির পথে কেনোনা ওড়া ভুলে সে শুধু কথাই বলতো।
মানুষের কথা ভাবুন, সম্ভবত তারাও বিলুপ্ত হবে
কারণ হাঁটা ভুলে, ভাবার আগেই তারা ওড়ার শিক্ষা নিচ্ছে।

কিপলিংয়ের খ্রিষ্টরাজ্য

গ্রীষ্ম যেনো রাজার মরণ,
আর সব বিধবা গাছ
খ্রিষ্টীয় চোখের অগ্নিক্ষরণ
এক ভিনদেশী ছুটি আজ।

চার্চে যাইনি আজ

চার্চে যাইনি আজ,
আশা রাখি বুঝবেন যীশু।
বেলাভূমি কুঞ্চিত নীল আর সাদা,
বালুতে খেলছে সব শিশু।
তিনি জ্ঞাত, তিনি জানেন আমার জীবন,
সংক্ষিপ্ত কত এই গ্রীষ্মের বায়ু,
তিনি জানেন যখন আমি তার ডাকে যাবো
দুজনের হাতেই থাকবে অফুরান আয়ু

দাদা লজ্জিত হলেন

"পরে, দাদু" মানে "কখনোই না"
এটি বুঝতে একটি শিশুর খুব বেশি বুদ্ধির প্রয়োজন হয়না।

জীববৈজ্ঞানিক প্রতিফলন

তার চেয়ে আমার জন্য ভালো সেই মেয়ে
লালচে আভায় যার গাল গেছে ছেয়ে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28863993 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28863993 2008-11-03 13:17:26
মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ৭, ৮, ৯
তারা বাড়ি গিয়েছিলো

তারা বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে বলে,
সারাজীবনে একটিবারের জন্যও,
আমার মতো মেয়ের সাথে তাদের পরিচয় হয়নি,
যদিও.....তারা বাড়ি গিয়েছিলো।

আমার বাড়ি চকচকে পরিষ্কার তারা বলে,
কখনোই বোঝা যায় এমন শব্দ আমি বলিনা,
আমাকে ঘিরে থাকে রহস্য এক,
যদিও....তারা বাড়ি গিয়েছিলো।

তাবৎ পুরুষের ঠোঁটে স্তুতি
আমার হাসি, বুদ্ধি আর পশ্চাৎদেশে তারা বুঁদ
এক অথবা দুই, তিন রাত্রি তারা কাটিয়েছিলো।
যদিও......

যখন তুমি আসো

যখন তুমি আসো, অনাহূত,
ইশারায় আমাকে ডাকো
অনেককাল আগের কক্ষগুলোয়
যেখানে স্মৃতিরা বিদ্যমান

প্রস্তাব পাই, যেভাবে একটি শিশু, একটি চিলকোঠা পায়
গুটিকতক দিনের সমাবেশ।
চুরি যাওয়া চুমুর খেলনা।
ধার করা ভালোবাসার অলংকার।
গোপন শব্দের শুঁড়,

আমি কাঁদি।

স্মরণ

তোমার হাত স্বাচ্ছন্দ্যে
বিরক্ত করে আমার চুলের মৌচাকের
মৌমাছিদের, তোমার হাসি
আমার চিবুকের ঢালে। শরীরে
তোমার স্পর্শ আবেগোচ্ছল, প্রবাহিত
ঔৎসুক্য, রহস্যময় বলাৎকার
আমার চেতনায়

যখন তুমি নিজেকে সরিয়ে
নাও আর জাদু, যখন
আমার স্তন খাঁজে কেবল তোমার
অনুরাগের সুবাস দীর্ঘস্থায়ী, তখন,
কেবল তখনই, আমি কি লোভির মতো পারি
নিঃশেষ করতে তোমার পরশ।



মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ১, ২ পাবেন এখানে
Click This Link
মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ৩, ৪, ৫,৬ পাবেন এখানে
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28863448 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28863448 2008-11-02 13:39:59
মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ৩, ৪, ৫, ৬ আই নো হোয়াই দ্যা কেইজ বার্ড সিং, এ সং ফ্লাং আপ টু হ্যাভেন, ইভেন দ্যা স্টারস লুক লোনসাম, ফেনোমেনাল ওয়োম্যান প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

একটি মন্তব্য

তোমার হাতখানি দাও

কাব্যক্রোধের ওপারে
খানিকটা স্থান দাও যাতে দেখাতে পারি
পথ
আর অনুসরণ করতে পারি তোমায়।

শব্দ স্পর্শের গোপনীয়তাটুকু
আর ভালোবাসাহীনতার ভালোবাসা
অন্যেরা পাক।

আমার জন্য কেবল
তোমার হাতখানি দাও।

অনিদ্রা

কিছু কিছু রাত্রি আসে যখন
উদাসীন তাচ্ছিল্যে,
লাজুক খেলা খেলে ঘুম।

আর তাকে পক্ষে টেনে
বিজয়ী হবার জন্য রোপিত
সমস্ত চাতুরী আমার
আহত গর্বের মতো বাতিল
আর অসহ্য হয়ে যায়।

সময় কাটানো

ভোরের মতো ত্বক তোমার
আমার মৃগনাভির মতো

নিশ্চিত সমাপ্তির শুরু আঁকে
একজন।

চিরন্তন শুরুর শেষ আঁকে
অন্যজন।

প্রত্যাখান

প্রিয়তম,
আর কোন জনমে বা জায়গায়
তোমার ঠোঁটগুলো পাই
তোমার হাত
আর শ্বাসহীন সাহসী
হাসি।
ঐ সুমিষ্ট খুনসুটিগুলো যা
আমি ভালোবাসি খুব।
কী নিশ্চয়তা আছে
আমরা মিলবো আবার,
অন্য কোনো দুনিয়ায়, তারিখহীন
কোনো ভবিষ্যতে।
শরীরের তাড়াকে আমি গ্রাহ্য করিনা।
প্রতিশ্রুতি ছাড়াই
আরেকটি অনাবিল অপ্রত্যাশিত স্বাক্ষাতের প্রয়োজনে
আমি মৃত্যুকে কৃপা করবো না।



মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ১, ২ পাবেন এখানে-
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28861951 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28861951 2008-10-30 11:28:56
মায়া অ্যাঞ্জেলু এর কবিতা- ১,২ মায়া অ্যাঞ্জেলু ১৯২৮ সালের ৪ এপ্রিল, মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে জন্মগ্রহন করেন। সমসাময়িক সাহিত্য অঙ্গনে কালোদের পক্ষে তিনি এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এবং নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। পাঁচটি আত্মজীবনীমূলক রচনার পাশাপাশি তার লেখা পাঁচটি কাব্যগ্রন্থও মার্কিন সাহিত্যজগতে আলোড়ন তোলে। আই নো হোয়াই দ্যা কেইজ বার্ড সিং, এ সং ফ্লাং আপ টু হ্যাভেন, ইভেন দ্যা স্টারস লুক লোনসাম, ফেনোমেনাল ওয়োম্যান প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

বিচ্ছিন্নজন

আমরা মারা যাই,
অন্ধকার ক্লোজেটে ব্লুবিয়ার্ড আর,
উন্মুক্ত গলায় হন্তারকদের স্বাগতম জানিয়ে,
হন্তারকগণ, যাদের ভ্রƒক্ষেপ নেই অথবা
জানার সামান্য আগ্রহ নেই যে
অভ্যন্তরে মরণ।

আমরা প্রার্থনা করি,
দাঁতে আটকানো মিথ্যার স্বাদ উপভোগ করে আর,
ভিনদেশি দেবতার সামনে মাটিতে মাথা ঠেকানো,
ঈশ্বরগণ, যারা একেবারেই জানেনা অথবা
জানার কোনো ইচ্ছাও করেনা যে
অভ্যন্তরে নরক।

আমরা ভালোবাসি,
দস্তানা ঢাকা হাতে নগ্নতাগুলো মুছে দিতে আর,
জিহ্বা জড়ানো চুম্বনে আমাদের মুখগুলো লেপ্টাতে,
চুম্বনেরা যারা স্পর্শও করেনা আবার
স্পর্শের আগ্রহও দেখায়না অথচ
অভ্যন্তরে ভালোবাসা।

দৃষ্টান্তটি

আমি পূণরায় মরে যেতে থাকি
শিরাগুলো থমকায়, খুলে যায়
ঘুমন্ত শিশুদের
ছোট্ট মুঠির মতো।
পুরোনো কবরের স্মৃতি
দেহের পচা মাংস আর কেঁচোগুলো
চ্যালেঞ্জের বিপরীতে আমাকে
বোঝাতে ব্যর্থ। বয়স
আর শীতল পরাজয় আমার
মুখজোড়া বলিরেখার গভিরে বিদ্যমান।
তারা আমার চোখদুটো ঘোলাটে করে দেয়, তবুও
আমি মরে যেতে থাকি
কারণ আমি এভাবেই বাঁচতে ভালোবাসি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28861531 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28861531 2008-10-29 13:34:30
স্পাইক মিলিগানের একগুচ্ছ কবিতা
বাড়িতে স্বাগতম

আমার অপরাধ না জেনেই
তারা আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো।

আমি জীবনদন্ড পেলাম....
তাকে ছাড়া।

অদ্ভূত বিচার
জজ নেই
জুরি নেই।

আমার দর্শনার্থী কারা হবে ভেবে আমি বিস্মিত।

একটি তুচ্ছ কবিতা

বলে হ্যামলেট ওফেলিয়াকে
আঁকবো আমি তোমার ছবি
কোন পেনসিল হলে ভালো হয় বলো ?
২বি অর নট ২বি ?

কুকুর প্রেমিকেরা

তারা তোমাকে কিনেছিলো
আর রেখেছিলো
সুরম্য বাড়িতে
এসি
টিভি
ডিপ ফ্রিজসহ
একটি সুরম্য বাড়ি-
কেবল তোমাকে নেয়নি কেউ
দুরন্ত দৌঁড়ঝাপে
এছাড়া
‘খুব সুরম্য বাড়ি’
যতক্ষণ না তুমি প্রাণশক্তিতে ক্লান্ত পাগলপারা হয়ে
পালিয়েছিলে আর দৌঁড়াতে
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে গাড়িচাপা পড়েছিলে,
ততক্ষণ তোমাকে দেয়া হয়েছিলো আদর আর মাংসের চাপ
বাকি ছিলো কেবল দুরন্ত দৌঁড়ঝাপ।
আজ তোমার জন্য তারা কাঁদবে
কালও, তবে অন্য কুকুরের জন্য।

আয়না, আয়না

এক তরুণী বসন্ত ছোঁয়া মেয়ে
আঁচড়াচ্ছিলো তার উচ্ছল চুল
“তুমি খুবই কুৎসিত” আয়না বলেছিলো
যদিও,
তার ঠোঁটে মাখা ছিলো
গোপন-নরম অনুরাগের একচিলতে হাসি
কেনোনা ওই সকালেই অন্ধ ছেলেটি তাকে
বলেছিলো
‘তুমি সুন্দর’!

আমার বোন লরা

আমার থেকে বড় অনেক আমার বোন লরা
তার জন্য সহজ খুবই আমায় তুলে ধরা
আমি তাকে তুলতে পারিনা চেষ্টা যতই করি
হৃদয়ে তার এমন কিছু মস্ত যেটা ভারি।

বিদায় এস.এস

যাও মেয়ে, চলে যাও
আমাকে আমার স্বপ্নগুলো গোছাতে দাও
বিবর্ণ জোড়াতালিতে জরাজীর্ণ
বিগত বছরগুলো এতোদিন কোথায় রেখেছিলাম
ওগুলোকে ঝেঁটিয়ে পাঠাবো কোথায়
হা ঈশ্বর তারা এখনো নতুন
দরজায় ট্যাক্সি অপেক্ষমান
কিন্তু সেখানে কেবল তোমার আয়োজন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28858052 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28858052 2008-10-22 11:17:22
কো উন- এর একগুচ্ছ কবিতা
নামহীন

১.
দুই ভিক্ষুক
ভাগ করে খায় খাবার

নতুন চাঁদ তীব্র আলো ছড়ায়।

২.
গরিব বাড়ির আঙ্গিনায়
চাঁদ যেনো ভাপা পিঠাকেও হার মানায়।

৩.
বন্ধু হও
শত্রুকে জানো
শত্রু হও
বন্ধুকে চেনো

এ কেমনতর খেলা?

৪.
সহস্র ফোঁটা
মরা ডাল থেকে ঝুলে আছে

বৃষ্টি অহেতুক ঝরে নাই

৫.
নিঃশব্দে

মাটিচাপা রজন হলদে পাথর হয়ে গেলো
ওপরে ঝরছিলো তুষার।

১৫ এপ্রিল, ১৯৯২[

সারাদিন ঘরেই ছিলাম।
বন্ধুরা এসেছিলো
চলেও গিয়েছিলো।
তাদের যাবার পর হয়েছিলো
বৃষ্টিঝড়।
তিব্বতের, লাসায়,
সর্দার লামা মারা গিয়েছিলো।

১৬ এপ্রিল, ১৯৯২

সারাদিন ঘরেই ছিলাম।
কেউ আসেনি।
মৃত লামাকে এক পাহাড়চূড়োয় নেয়া হয়েছিলো।
ক্ষুধার্ত শকুনের ভেতর
গোটাতক ভারতবর্ষে
জড়ো হয়ে, পবিত্র লাশটির ওপর অশ্র“বর্ষণ করছিলো।

১৭ এপ্রিল, ১৯৯২

আবারো সারাদিন ঘরেই
ছিলাম। এনসাইক্লেপিডিয়া পড়ছিলাম,
যা পড়ছিলাম, ঝটপট ভুলেও যাচ্ছিলাম।
লামার হাড়গুলোই কেবল পড়েছিলো।
ওহ্ শাশ্বত নির্ভানা!

১৮ এপ্রিল, ১৯৯২

আজও সারাদিন ঘরেই।
অনুভব করলাম
লামার অজ্ঞাতেই তার
এক ছেলে ছিলো।
এক রাতে সে মৃত লামার পড়ে থাকা হাড়গোড়
নিয়ে চলে গেলো;
সূর্য ওঠার পর , হাড়ের
একজোড়া নেকলেস বানালো সে,
একটি নিজের জন্য
অপরটি আমেরিকান কবি
অ্যালেন গিন্সবার্গের কাছে
বিক্রির জন্য, চমৎকার
নির্ভানা এখন নিউইয়র্ক এবং
লাসায়!

শীত ভ্রমণ

শীত বাতাসের সৌরভ না নিয়েই
শীত দিয়ে কীভাবে তুমি এটা বানাবে?

ব্যাঙ, আর মাটির নিচের
সাপের কাছে
ঐ সুগন্ধের স্বপ্ন
পুরোপুরি অচেনা।

পুরোপুরি অচেনা,
আর সবশেষে তুমি ওখানেই পৌঁছাবে।

পুরেপুরি একদম, অচেনা!

ছোট্ট ঝরনাটি

ইয়ংতুন গ্রাম কীভাবে গ্রাম হবে
ছোট্ট ঝরনাটি ছাড়া?
তুষারপুতুলগুলো বিরতিহীন
ঝরনার গাঢ় জলে ঝরে
আর মিশে যায়।
কী স্নিগ্ধ স্থির স্থিরতা,
যেনো গায়ে তুষার জড়িয়ে
ইয়ং-সালের বৌ জল আনতে যায়,
সরু ছোট্ট জগটি মাটিতে নামিয়ে,
কলস তুলে নিয়ে সে তুষারপুতুলের মিশে যাওয়া দেখতে দেখতে
জল নিতে ভুলে যায়:
সেই স্নিগ্ধ স্থির স্থিরতা।

চাঁদ

প্রতি চাঁদ রাতেই, সে প্রার্থনা করতো।
অবশেষে, চল্লিশে এসে, উলনামের মায়ের ছেলে জন্মালো।
গর্ভের আগে স্বপ্নে,
সে গোগ্রাসে খেতো চাঁদ ।
ছেলের জন্মের পর, উলনামের মা তাই
প্রতি চাঁদ রাতেই
আনমনা হয়ে যেতো।
গভীর এক রাতে, বাসন ধোয়ার সময়
তার হাত ফসকে একটি থালা ভেঙ্গে যেতেই-
মেঘের আড়ালে লুকালো চাঁদ
আর পৃথিবীটা অন্ধ হয়ে গেলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28857282 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28857282 2008-10-20 11:50:52
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২৩ চক্র

হন্তারক যারা হও একবার
হত্যা তাকে আততায়ীর মতো খোঁজে
মন্ত্র জানা সাপুড়ের মনও
জেনে রেখো পুরাতন দংশনে অসহায়

যে তোমরা আজ
পৃথিবীর সঘন নিঃশ্বাসে বীরত্বের সর্বোচ্চ খেতাব,
হৃদয়ে উড়িয়ে ধুলো ধাবমান নিমিষ
জেনে রেখো
ডানাহত প্রজাপতি মানে
আয়োজনের অলিতে গলিতে
অপেক্ষার উদ্যত ফনা...

১৮/১০/০৮
মহাখালী, ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28856799 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28856799 2008-10-19 12:27:59
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২২ শ্রাবণ সন্ধ্যা

কিঞ্চিৎ না না, সামান্য জোর
পর্যাপ্ত প্রশ্রয়
১০,১২ দুরন্ত চুমু, ১৩ পিস হাসি
ফোঁটা দুই জল, একটু একটু রাগ
অভিশাপ ১৯ টা, চার পাঁচ গালি
অভিমান খানিকটা
২০ ড্রপ ক্ষমা

সামান্য নাড়াচাড়া, ব্যাস

এক গ্লাস অবাক শ্রাবণ।


১৫/০১/২০০৮
গাজীপুর।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854960 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854960 2008-10-15 12:54:00
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২১ রূপকথা-চুপকথা

জলকেলী, ফিসফাস
হাসির টুকটাক চুড়ি টুংটাং
আর খুনসুটি- ফিকে অন্ধকারে
রায়বাড়ির মেয়েরা বুঝি জলকন্যার দল

দুধসাদা গালে ভরাট পূর্ণিমা য্যানো
প্রতিমায় টানা চোখ
নিঃশ্বাসে মখমল মিহি
তারা ঝিকমিক ঠোঁটে এক ভিন জাগতিক ঘোর
গল্পে গল্প রটে-

ইস্ যদি একবার চাটুজ্জে হওয়া যেতো
দখিনের লুকোচুরি আঙ্গিনায় তবে
দেবী দর্শন হতো-সুস্মিতা রায় কল্পনায়
কতোবার কতোবার বহুকাছে
হাওয়ার হাহাকার হয়ে গ্যাছে...

হৃদয়ের চুপে থাকা
শান বাধা ইঁদারার সেই ঘাট
মীর্জাবাড়িতে শুনশান
বছরের পর বছর-
শোনা যায় রায়ের মেয়েরা সব হাওড়ার ঘিঞ্জিতে থাকে

হয়তো, হয়তো না-
অপার রহস্য তারা আজও
অবিরাম কৈশোরে অবিকল...

১৪/১০/০৮
মহাখালী, ঢাকা



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854527 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854527 2008-10-14 12:54:47
মূর্তালা রামাতের কবিতা- ২০ মধ্যরাতের ফেরি

আলোই সম্বল শুধু
অদ্ভূত আঁধারের পেটে, কুয়াশানগরে
চোখ যায় যতদূর
মনে হয় স্থির ক্যানভাস

যাত্রার শুরু ছিলো বেশ
কোটি তারা ভেসেছিলো স্রোতে
আর গল্পের মুগ্ধতায় দূরত্ব মগ্ন ছিলো ঘুমে

তারপর
অনেকটা পথের পর
জেগে নেই কেউ
কেবল একটি আলো,
গোপন হৃদয়ে জ্বলন্ত নক্ষত্র এক
বহুদূর থেকে বহুকাছে
নিশুতির দীর্ঘশ্বাসে
মুঠো মুঠো গন্তব্য ছড়ায়...

১৩/১০/০৮
মহাখালী, ঢাকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854114 http://www.somewhereinblog.net/blog/murtala31/28854114 2008-10-13 11:36:48