আমার প্রিয় পোস্ট

সুপার সিক্সটি নাইন-২

২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫০

শেয়ারঃ
0 0 0

এরি মধ্যে আমাদের প্রত্যাশিত বাস ,সুপার সিক্সটি নাই'’ চলে এসেছে। বাসে প্রচন্ড ভীড়। ঠাসাঠাসি অবস্থা। আমি কোন রকমে ওঠতে পারলেও স্বর্ণকে আর ওঠানো যাচ্ছেনা। আমি দুই সিঁড়ি পেরুতে পেরেছি, স্বর্ণ মাত্র পা ফেলতে পেরেছে। মেয়ে মানুষতো আর ওভাবে গেইটে ঝুলে যেতে পারবেনা! ওখান থেকেই চিৎকার করে বলছে,' হেল্প মি, অনিন্দ্য, হেল্প মি । হাতটা একটু ধরেন।' সবাইকে রিকোয়েস্ট করি ওকে একটু ওঠানোর জন্য যেন রাস্তা বের করে দেয়। অবশেষে সবাইকে এড়িয়ে ওর দুহাত ধরে টেনে হিচড়ে ওকে বাসের ভেতরে ওঠানো সম্ভব হলো। বাসে এমন ঠাসাঠাসি যে, একজন, আরেকজনের গায়ে ল্যাপ্টালেপ্টির মতো অবস্থা। একজন যাত্রির গায়ের ঘামে আরেকজনের জামা ভিজে যাওয়ার মতো অবস্থা। স্বর্ণ আর আমি মুখোমুখী এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছি যে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্ট-বিট আমি টের পাচ্ছি। আমার পার্লস ওঠানামার শব্দ যেন ও শুনতে পাচ্ছে। এক হাতে বাসের রড ধরে আরেক হাতে ওকে ধরে রাখছি। ওর চোখ ভিজে ওঠেছে। 'আপনি না থাকলে কি যে হতো। আমি আর কখনো এরকম অবস্থায় পড়িনি। আমার খুউবই কান্না পাচ্ছে। জানেন, কোন সিএনজি অটো রিক্সা বা ট্যাক্সি যেতে রাজি হলোনা। এরপর ট্রান্সপোর্ট সুবিধা না পেলে আর কোন এসাইনমেন্টে আসবোনা'।
ওকে বেবি ওকে। রিলেক্স। পথে ঘাটে এরকম হয়ই। নিজেদের ভিইকল না থাকলে মাঝে মাঝে এরকম হ্যানস্থায় পড়তে হয়।
তখনো ও স্বাভাবিক হতে পারেনি। অনেকটা নেতিয়ে পড়েছে। আমার শরীরের ওপর ভর দিয়ে নিজের শরীরের হাল ছেড়ে দিয়েছে। ওর মাথাটা এখন আমার বুকে। মনে হচ্ছে ও ঘুমিয়ে পড়বে। আশে পাশে তাকিয়ে সিটে বসা লোকগুলোকে মনেমনে হিংসা করা শুরু করলাম। কেন ওরা নামছেনা কেউ? কেন আমরা বসতে পারছিনা, এ কারণে সবার ওপর রাগ করতে শুরু করলাম মনেমনে। ততক্ষণে বাস মহাখালী চলে এসেছে। ঠিক তখনি আমাদের পাশের সিটের দুই ভদ্রলোক দুটি সিট খালি করে মহাখালী নেমে গেলেন। সিট দুটো পেয়ে মনে হলো আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছি। চাঁদ পেলে মানুষ এতোটা খুশী হয় কিনা জানিনা। তবে সিট দুটো পেয়ে আমার কাছে দূর্লভ কিছু মনে হচ্ছিল। জানালার পাশে স্বর্ণকে বসিয়ে আমি তার পাশের সিটে বসলাম। স্বর্ণ আমার কাঁধে ওর মাথাটা রেখে চোখ বন্ধ করে দিলো। মনে হলো ও এখন কিছুটা কমফোর্ট ফিল করছে। চুলগুলো বেয়ে কিছু আমার নাকে এসে ঝাপটা মারছে। জানালার বাতাসে চুলের বড় বেণীটা আমার পিঠে এবং ঘাড়ে এসে ঠেকছে। আমার ডান হাতের কয়েকটা আঙুল দিয়ে ওর কপালের পাশের চুল নেড়েচেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন সমস্যা? খারাপ লাগছে?'
চোখ বন্ধ করেই বললো, 'মাথাটা ঝিমঝিম করছে'।
প্রসঙ্গ পাল্টে আবার জিজ্ঞেস করলাম, সুমন কি পড়ে?
বুয়েটে, ফাইনাল ইয়ারে।
ওর গ্রামের বাড়ি কোথায়?
লক্ষীপুর।
চোখ বন্ধ করেই আমার সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছে।
লক্ষীপুর মানে নোয়াখালীর লক্ষীপুর।
হুম।
ওর সাথে কিভাবে পরিচয় হলো তোমার?
মন খুউব ভালো গান করে। টাচি গান। আমাদের নবীণ বরণে গাইতে এসেছিলো। আমিই এগিয়ে গিয়ে ওর সাথে পরিচিত হলাম। সেই থেকে.....।
এইবার মাথাটা তুললো। আপনি এত কথা জানতে চাচ্ছেন কেন অনিন্দ্য?
না মানে কৌতুহল, জাস্ট কিউরিসিটি। স্যরি।
ইটস ওকে। আমি এমনিতেই সব বলতাম আপনাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলতে ভালো লাগছেনা।
ঠিক আছে। আপনার যখন ইচ্ছে বলবেন, কিন্তু সামনে তো আমার বাস স্টপেজ। আমাকেতো নেমে যেতে হচ্ছে।
স্বার্থপরের মতো আমাকে একা রেখে নেমে যাবেন? দেখছেন না আমি সিক। আপনার কি বুকে লোম আছে?
বুকে লোম? কেন বলুন তো?
না মানে আপনি একটু পাষাণ প্রকৃতির। দয়া-মায়া নেই। শুনেছি বুকে যাদের লোম নেই, তারা এরকম নিষ্ঠুর হয়।
আমি হো হো করে হেসে ওঠলাম। এতো বড় মেয়ে, এমন বাচ্চা বাচ্চা কথা বলে?
আমার এতোক্ষণের আচরণে কি আমাকে পাষাণ প্রকৃতির মনে হয়েছে?
এতক্ষণ মনে হয়নি। এখন মনে হচ্ছে। এতক্ষণতো আমাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক আমার বাবার মতো অথবা আমার যদি বড় কোন ভাই থাকতো, সেই বড় ভাইয়ের মতো অথবা আমার বন্ধুর মতো। জানেন অনিন্দ্য! আমার যে বয়ফ্রেন্ড মন, তার কাঁধেও কখনো আমি মাথা রাখিনি বা রাখার সুযোগ পাইনি। আপনার কাঁধে মাথা রেখে মনে হয়েছে আপনার কাঁধটি আমার একটা শান্তির জায়গা। এরকম শান্তি আমি কখনো পাইনি।
কি পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন? আপনি অসুস্থ্য। মাথাটা ঝিমঝিম করছিলো, তাই হয়তো এমন মনে হচ্ছে আপনার।
আপনি এতো আপনি আপনি করছেন কেন? আমি কি আপনার চেয়ে সিনিয়র? বাজে লাগছে শুনতে।
আরে বাবা, এইতো পরিচয় হলো। পরিচয়ের প্রথম দিনেই কেই তুমি করে বলে?
এইতো পরিচয় হলো মানে? আপনার সাথে আমার আরো বিশ বছর আগে পরিচয় ছিলো। সেই ছোট বেলা থেকেই আমরা বন্ধু ছিলাম। আপনি তখন যশোরে থাকতেন। একই পাড়ায় দুজনে থাকতাম। এই কয়েক বছর আপনি হারিয়ে গিয়েছিলেন। আপনার মনে নেই, সেই যে মেলাতে গিয়ে আপনি আমার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন?
আমি আবার হো হো করে হেসে ওঠলাম। আপনারতো সেন্স অব হিউমার খুউব শার্প! আপনিওতো হাসাতে পারেন খুউব। চমৎকার একটি গল্প বানালেন। ঠিক ফিল্মী স্টাইল। কিন্তু জানেন, সত্যি সত্যি আমি যখন ফোরে পড়ি, আমরা তখন যশোর থাকতাম। সত্যি সত্যি যদি আপনার সাথে পরিচয় থাকতো?
আবার আপনি? আমরা না শিশুকালের বন্ধু। সো নো মোর আপনি। ওকে?
ওকে। বাট ইউ অলসো শুডনট বি ইউজড আপনি। বিকজ উই আর ফ্রেন্ড ফ্রম ভেরি চাইল্ডহুড। ওকে? হা হা হা।
ওকে।


(চলবে)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বড়গল্প ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৯
বৃত্তবন্দী বলেছেন: এতো দেখি পুরররররা ফিল্মী

২. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০৯
মুনমুন বলেছেন:
অপেক্ষা করছিলাম, তারপর কি হয়। আমিতো উত্তেজনায় কাঁপছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মি. ফারুকী।

পরেরটার জন্য আবারঅপেক্ষার পারা।
৩. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৮
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: কোন কমেন্ট করুম না ...আপনে আমার আগের পর্বের কমেন্ট মুছে দিসেন ...
৪. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৬
প্রচেত্য বলেছেন:
কয় নায়ক নায়িকা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি, মনে হল আপাতত ১ নায়িকা, ২ নায়ক

যাই হোক, চালিয়ে যান, সাথে আছি - এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী গল্প কিংবা সত্য কোন ঘটনার স্মৃতি স্বাক্ষী হয়ে

লেখাটার বিন্যাস চমতকার ছিল, তাই একসুরেই পড়ে গিয়েছি
৫. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩২
তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে বলেছেন: চামে তো ভালোই চান্স নিয়েছেন।
৭. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:০৯
রূপান্তর বলেছেন: অনে--ক ভালো লেগেছে। এক দমে শেষ করার মতো গল্প।শুভ কামনা আপনার জন্য।
৮. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:১২
যীশূ বলেছেন: এট্টু বেশী হইয়া গেছে।
৯. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
রূপান্তর বলেছেন:
স্বর্ণ কি শেষ পর্যন্ত সুমনেরই থাকবে নাকি অনিন্দ্যর। প্লিজ, কিছুটা ক্লীয়ার করেন।
১০. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:২০
রফিকুল ইসলাম ফারুকী১১ বলেছেন:
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন, আপনার কমেন্ট মুছে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমার তো তা মনে পড়ছেনা। কোন লেখায়, কোন মন্তব্য?

রূপান্তরকে বলছি, স্বর্ণ কার হবে এই মুহূর্তেতো বলা যাচ্ছেনা ভাই? একটু অপেক্ষা করুন সমাধান পেয়ে যাবেন।

কষ্ট করে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো না লাগলে গঠন মূলক সমালোচনা করুন। যাতে ইন ফিউচারে আরো ভালো হয়।
১২. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৫৯
বুমবুম বলেছেন: যীশূ বলেছেন: এট্টু বেশী হইয়া গেছে।

একটু না বেশি বেশি হইয়া গেছে।
২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৫৪

লেখক বলেছেন:
যীশূ বলেছেন: এট্টু বেশী হইয়া গেছে।

বুমবুম বলেছেন, একটু না বেশি বেশি হইয়া গেছে।

কি বেশি হয়ে গেছে, তাতো বলেননি?
প্লিজ উল্লেখ করুন।

১৩. ২৫ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
অক্ষর বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
১৪. ২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ৮:৫৬
রফিকুল ইসলাম ফারুকী১১ বলেছেন: যীশূ বলেছেন: এট্টু বেশী হইয়া গেছে।

বুমবুম বলেছেন, একটু না বেশি বেশি হইয়া গেছে।

কি বেশি হয়ে গেছে, তাতো বলেননি?
প্লিজ উল্লেখ করুন।

গল্পের প্রয়োজনে কিছু প্লট তৈরী করতে হয়। তা, কোনটি বেশী হয়ে গেল সেটি দয়া করে উল্লেখ করুন।
কাউন্টার সার্ভিসে যারা যাতায়াত করেন, তারা বুঝতে পারবেন, মোটেও বেশী হয়নি।
১৫. ২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ৯:৩০
সোনারমানুষ বলেছেন: গল্পটি খুউবই প্রানবন্ত লেগেছে। না পড়ে অন্য কোথায় যাওয়া যাবেনা, এমন একটি গল্প। আমিও এর পরবর্তী পর্বের জন্য আশায় রইলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৬৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। ভালোবাসি কবিতা, গান. বাংলাদেশকে আর বাংলাদেশের মানুষকে। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের স্বাধীনতা যারা এনে দিয়েছেন,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ