somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপার সিক্সটি নাইন-৪ (ধারাবাহিক গল্প)

০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা একটা গুছানো টেবিলে গিয়ে বসলাম। কি কি খেতে হবে তার দায়িত্ব স্বর্ণ নিয়ে নিলো। মনে হলো এখানকার লোকজন থেকে শুরু করে সবকিছু ওর চেনা।
তা সুমন, পড়াশুনার অবস্থা কি? কেমন চলছে? খুউবই ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করতে হবে কিন্তু। তা না হলে আমার গার্জেনগিরির বারোটা বেজে যাবে। স্বর্ণ'র ভালো রেজাল্ট করার পেছনেও তোমার অবদান থাকতে হবে। ওকে লেখা-পড়ায় এনকারেজ করতে হবে। জীবনটাতো পড়ে রইলোই। অনেক এনজয় করা যাবে। বাট রেজাল্ট একবার খারাপ হয়ে গেলে আর শোধরানো যাবেনা।
কিন্তু দাদা আমাকেতো লেখাপড়া, বিয়ে, সংসার এরকম সীমাবদ্ধতায় টানেনা। আমার মন ছুটে চলে দেশ থেকে দেশান্তরে, নদীর তীরে, পাল খাটানো নৌকায়, কখনো বেদে সম্প্রদায়ের দলে মিশে যেতে ইচ্ছে করে। কখনো আবার দিগন্ত পেরিয়ে খোলা আকাশের নীচে তাবু খাটিয়ে যাযাবর জীবন যাপন করা। গলা ছেড়ে নিজের মতো কবরে গান করা। সুরে সুরে ডুবে থাকা। কোন ছোট্ট গন্ডিতে বাঁধা জীবন আমার ভালো লাগেনা।
সর্ব্বনাস.... তোমার এই প্ল্যানের কথা কি স্বর্ণ জানে? ওতো তোমাকে নিয়ে অ....নেক দূর এগিয়েছে।
নাহ্, স্বর্ণ জানেনা। ও একটা ইন্নোসেন্ট মেয়ে। আমি ওকে অসম্ভব ভালোবাসি। ওকে আঘাত দিতেও চাইনা। স্বর্ণ খুউব ভালো মেয়ে দাদা। ওকে কিভাবে সামলাবো, সেটিও বুঝতে পারছিনা।
এরি মধ্যে স্বর্ণ হাতে মুখে পানি ছিটিয়ে ফ্রেস হয়ে আমাদের কথায় জয়েন করেছে।
কি বুঝতে পারছোনা মন?
নাহ্ মানে দাদা বলছিলেন দুজনের রেজাল্ট যাতে ব্রিলিয়ান্ট হয়।
আমিওতো তাই ভাবছি। আমাদের রেজাল্ট ভালো করতেই হবে। অনিন্দ্যর মতো একজন অ্যাতো ভালো বন্ধু কাম গার্জেন পাশে থাকলে ভালো রেজাল্ট করা মোটেই কঠিন নয়।
এরি মধ্যে অর্ডার অনুযায়ী সব খাবার চলে এসেছে। ৩/৪ রকমের ভর্তাসহ চিংড়ী মাছের দোপিয়াজি, ইলিশ ভুনা। খাবারের মান এবং স্বাদ খুউব চমৎকার। আমরা যে টেবিলটাতে বসেছি, তার পাশের কাঁচের জানালাটার পর্দা সরানো। আলো আঁধারী এই পরিবেশে চাদের আলো এসে একটা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। খাবার শেষ করে ¯প্রাইটের গ্লাস নিয়ে চুমুক দিতেই আমি সুমনকে বললাম, সবইতো হলো কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে গেল। হয়ে যাক তোমার একটা গান। সুমন একটু আপত্তি করতে চাইলেও স্বর্ণ আমার প্রস্তাব সমর্থন করে বললো, তুমি ঠিকই বলেছো অনিন্দ্য। মনের গান ছাড়া আজকের আসর অপূর্ণই থেকে যাবে।
কিন্তু দাদা আপনিতো একটা বিষয় জানেননা, স্বর্ণও খুউব চমৎকার গায়।
তাই নাকি? তাহলে স্বর্ণের গান দিয়েই আজকের আসর শুরু করা যাক।
স্বর্ণ আপত্তি জানিয়ে বললো, একদম বাজে কথা, অনিন্দ্য। আমি তেমন ভালো গাইতে পারিনা। যা গাই তা মনের তুলে দেয়া কিছু অপচেষ্টা। সুরের ভুবনে একদম আনাড়ি আমি। গাইতে শুরু করলে তোমরা পালাবে। সুর একবার যাত্রাবাড়ি ছুটেতো একবার গাবতলী দৌড়ে পালায়। সো এরকম অপচেষ্টা না করাই ভালো।
সুমন মানতে পালোনা স্বর্ণের কথা। 'বাজে কথা বলবেনা স্বর্ণ। ঐযে ঐ গানটা, ঐ যে জোছনার গানটা? এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসোনা গল্প করি... কি যে ভালো গাও, তা তুমি নিজেই জানোনা'।
অনিন্দ্যের কাছে আমাকে তুমি পঁচাচ্ছো মন।
ওদের তর্ক থামাই আমি। 'প্লিজ স্বর্ণ তুমিই শুরু করো। সুরের কোন সমস্যা হলেও আমার অসুবিধে নেই।'
এরপর স্বর্ণ শুরু করে....।
এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসোনা গল্প করি।
দ্যাখো ওই ঝিলিমিলি চাঁদ সারারাত আকাশে শলমাজুরি..।
এই রূপসী রাত আর ঐ রূপালী চাঁদ, বলে জেগে থাকো-
এ লগন আর কখনো ফিরে পাবে নাকো।
মখমলের ঐ সজনে ঘাসে
বসলে না হয় একটু পাশে
মনে হয় মহুয়ারই আতর মেখে তোমার কোলে ঘুমিয়ে পড়ি-
দ্যাখো ওই ঝিলিমিলি চাঁদ সারারাত আকাশে শলমাজুরি..।

চমৎকার গাইলো স্বর্ণ। আমার শুষ্ক মনটা যেন ভিজিয়ে দিয়েছে।
এর পর সুমনের পালা। সুমন জানালো, স্বর্ণকে উদ্দেশ্য করে আজই একটা গান বেঁধেছি। গানের কথা, সুর সবই কাঁচা। আজই তোলা হলো। তো সেটাই শোনাতে পারি তোমরা অভয় দিলে।

তুমি আমার মেঘলা আকাশ রঙধনুটার সৃষ্টি
তুমি আমার খাঁখাঁ রোদে একটু খানি বৃষ্টি।
তুমি আমার তপ্তরোদে রপ্তকরা ক্লান্তি
তুমি আমার স্বপ্নে দেখা লক্ষ-কোটি ভ্রান্তি।

তুমি আমার বৈশাখী ঝড় আম-কাঁঠালের গন্ধ
তুমি আমার বৃষ্টির সুরে দাদরা তালের ছন্দ।
তুমি আমার দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা-
তুমি আমার পাড়া পড়শি, বন্ধু-শত্রু নিন্দুকেরা।

আমি শুধু ভালোবাসা ভালোবাসা খুঁজি
ভালোবাসা বলতে আমি তোমাকেই বুঝি।
তবুও সারাক্ষণ তোমাকেই ভাবছি।
আবেগের তাড়ণায় এই আমি কাঁপছি।
আবেগের তাড়ণায় এই আমি কাঁপছি।।
আবেগের তাড়ণায় এই আমি কাঁপছি।।।

সুমন অসম্ভব মিষ্টি সুরে গানটি গেয়ে শোনালো। স্বর্ণের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর চোখ ভিজে উঠেছে। আবেগের তাড়নায় সুমনের সাথে যেন সেও কেঁপে ওঠছে। বারবার ওড়নার আঁচলে চোখ মুছছে। আর আমি ওদের ভালোবাসার গভীর বন্ধন দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি।


লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বড় গল্প ;

(চলবে)







সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×