আবুধাবি রাজধানী হলেও প্রায় সব ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাখা দুবাইয়ে, সেখান থেকে পরিচালিত হয় সমস্ত কাজ।
তো গেলাম, এবং টাকা জমা করে ফেরার পথে ভাবলাম কিছুক্ষণ পার্কে বসি। আরব সাগরের কোল ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন পঁয়তাল্লিশটা পার্ক বানিয়েছে আবুধাবি সিটি কর্পোরেশন। দুবাইয়ের মতো ঘিঞ্জি নয়, খোলামেলা বিশাল এলাকা নিয়ে। আমি যে-পার্কটির কথা বলছি সেটা সমুদ্রের কাছাকাছি হলেও নতুন নয়, অনেক পুরনো। অনেকগুলো খেজুর গাছ, একটা ফোয়ারা আর কয়েকটা বেঞ্চ ছাড়া আর তেমন কিছু নেই এটাতে। তারপরও এই ন্যাড়া পার্কটাতেই বসতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে দুপুরবেলা গনগনে গরমের ভেতর যখন তাপমাত্রা থাকে ৪০ এর ওপর। মন খারাপ থাকলে কিংবা, সদ্য আঠারোতে পা রাখা অস্থির মেয়েটার সাথে যখন খুব বেশি ঝগড়া হয়, তখন এখানে এসে বসে থাকি,আর নানা রঙের মানুষ দেখি।
আজ পার্কে ঢুকতেই একটা দৃশ্যে চোখ আটকে গেলো। খেজুর গাছের তলায় সবুজ ঘাসের ওপর শুয়ে আছেন বেশ কয়েকজন ক্লান্ত মানুষ। কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কাজ চলছে ধারে কাছে কোথাও। দুপুরবেলা দু'ঘন্টার কর্মবিরতি, এই অল্পসময়ে শহরের বাইরে ক্যাম্পে গিয়ে খেয়ে ফিরে আসা প্রায় দুরূহ। তাই পার্কে বসেই নাকেমুখে অল্পকিছু গুঁজে দিয়ে অসহনীয় গরমের মধ্যে গাছ তলায় শুয়ে আছেন মানুষগুলো। পরিশ্রমের কাজ, সে-অনুযায়ী বেতন খুবই কম। তারপরও মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা'র মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের যেন অভাব স্পর্শ না করে, তাদেরকে চারদেয়ালের নিরাপদ সুশীতল আশ্রয়ে রাখার জন্যই অকল্পনীয় কষ্ট করে যাচ্ছেন এঁরা। এঁদের অনেকের্ই সুশোভন ঘরবাড়ি আছে, ছেলেমেয়েরা ভালো কাপড় পরে স্কুল-কলেজে যায়। দামি মোবাইলে বন্ধুদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করে। ভালো রেস্তারাঁয় খেতে যায়। কিন্তু তারা কি জানে, কী অমানুষিক পরিশ্রম করে তাদের বাবা, তাদের ভাই টাকাগুলো পাঠাচ্ছেন তাদের জন্য?
হয়তো জানে, হয়তো জানে না!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


