আওয়ামিলীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য যেমন আছে তেমনি আছে সহিংসতা সন্ত্রাসে দানবীয় ইমেজ।দেশের রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় এগিয়ে থাকে আওয়ামী লীগ। সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল যেখানেই থাকে, সব সময়ই মাঠে থাকে আওয়ামী লীগ। ৯৬-এর পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাজপথে সহিংসতায় ছিল ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি। বিরোধী দলের ডাকা হরতালে আওয়ামী লীগের হামলা, বোমাবাজি আর গুলী বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অস্ত্রের মহড়া, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্রের অফিসে হামলা,
১৯৯৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ৬০ ঘণ্টা হরতালে ব্যাপক সংঘর্ষ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া, বিরোধী দলের অফিসে হামলা, ৬ জন নিহত হয়। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ রাজধানীতে ৩০ জন গুলীবিদ্ধ হন। এ দিন মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও দৈনিক সংগ্রাম অফিসে হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ঢাকায় ছাত্রদল কর্মী নিহত সজল চৌধুরীর পিতা এডভোকেট শহিদুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী হত্যা করেছে।’’ সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিএনপির মিছিলে হাজী মকবুলের নেতৃত্বে শান্তি মিছিল থেকে গুলীতে সে মারা যায়।
এ ছাড়া হরতাল চলাকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির মিছিলে হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে গুলী বর্ষণ করলে ছাত্রদল কর্মী ইউনুস (২০) গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ দিন পল্টন মোড়ে জামায়াতের মিছিলে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমা মারার পরপরই পুলিশ গুলী বর্ষণ করে। এতে হামিদুর রহমান আজাদসহ কয়েকজন বুলেটবিদ্ধ হন।এ ছাড়া ১৯৯৮ সালের ১৬ জুলাই হরতাল চলাকালে জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবদুল কাদের মোল্লার নেতৃত্বে মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
বন্দুকের দোকান লুট, গুলী বর্ষণ, ২৭ জানুয়ারি যশোরে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে বোমা হামলা হয়। বন্দুকের দোকান লুট, জাপা কর্মী রাজকুমার নিহত হয়। পুলিশ তার লাশ মাটি চাপা দেয়। দৈনিক জনতা এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। ১৮ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে সারাদেশে ৩ জন নিহত ও আহত হয়েছে সহস্রাধিক। এছাড়া হরতাল চলাকালে মগবাজারে চাষী কল্যাণ সমিতির অফিসে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা। তারা এ সময় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জীপ (ঢাকা-ভ-৪৮৯)সহ ৮টি গাড়ি ভাংচুর করে। আশপাশের দোকান খোলার চাপ দেয়। না হলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
বিরোধী দলের হরতালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, ১৯৯৮ সালের ৯ নবেম্বর বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ৭ বিরোধী দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের শুরুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যাপক সন্ত্রাস, ঢাকায় আওয়ামী লীগের বোমা ও গুলীতে ৪ জন নিহত। পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ১১টার দিকে কোতয়ালী থানার বিএনপির মিছিল মেয়র হানিফের নাজিরা বাজার বাসা অতিক্রম করা কালে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলী করে। এখানে ২জন নিহত হয়।
ধোলাইপাড়ে নিহত হয় দুলাল সর্দার, নাজিরা বাজারে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত হয় সালাম ও উমর ফারুক, কুড়িলে শফিক নিহত হয়। দুই দিনের হরতালে ৬ জন মারা যায়। ১৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৭ দলের ডাকে হরতালে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের গুলীতে ২জন মারা যায়। এসময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও গুলী বর্ষণ করে। এ সময় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। ঐতিহ্যবাহী আওয়ামিলীগের কর্মকান্ড দেশের মানুষের জানা। যদিও নিজেরা বুঝাতে চান ধোয়া তুলসি পাতা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


