সরকার ঘুমিয়ে কিংবা ভারত প্রীতিতে ব্যস্ত। ভারত থেকে বিভিন্ন পুরুস্কার পাচ্ছেন শেখ হাসিনা তাই তিনি চুপ থাকা স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা পেলেন যা কোন অভারতীয় পায় নি। তিনি সাধারণ মানুষের ক্রন্দন হয়তো শুনতে পারবেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্তর কেঁদেছে এদৃশ্য দেখে। বিশ্ববিবেক তো হতবাক। আর নয় লুকালুকি। এবার বিশ্ববাসীর কাছে অসভ্য ভারতীয়দের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে হবে। এরা মানুষ নয়। হায়েনা। এতগুলি মানুষ কিভাবে একজন মানুষকে উলঙ্গ করে হাত পা বাশের সাথে বেঁধে সারা রাত নির্যাতন করল। যদি এই ফুটেজ দেখা না যেত তাহলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হত। পর্দার আড়ালে এভাবে কতদিন কতরাত বাংলাদেশ কে উলঙ্গ করছে ভারতের হায়েনারা আমরা কি বলতে পারব? ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ঠিক কত লোক হত্যার শিকার হন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। কলকাতাভিত্তিক বেসরকারি সংগঠন মাসুম-এর মতে, ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দুটি জেলা মুর্শিদাবাদ ও উত্তর চব্বিশপরগনা সীমান্তে ১৬৫ জন হত্যার শিকার হন। এই দুটি জেলা গোটা পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ৮ ভাগ এলাকা নিয়ে গঠিত। শহর থেকে অনেক দূরের এই ঝাপসা ভূখণ্ডের সীমান্তে হামেশাই মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, মাদক ব্যবসা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাবমতে, গত ১০ বছরে ভারতীয় বিএসএফ কমপক্ষে এক হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪৭ বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বিএসএফ। বিএসএফের হাতে এ সময় ১৬৪ জন ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়। বিএসএফের মহাপরিচালক রমণ শ্রীবাস্তব ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিএসএফ কোনো নিরাপরাধ নাগরিককে হত্যা করে দায়মুক্তি পেতে পারে না। বিএসএফ শুধু আত্মরক্ষার জন্যই গুলি করতে পারে। কিন্তু এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করে আসছে বিএসএফ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৩ বছরের আসিফ ইকবাল, ১৫ বছর বয়স্ক শাহীন শেখকে হত্যা করে বিএসএফ। ১৫ বছর বয়স্ক সুমন্ত মন্ডলকে মাঠে সরিষা তোলার সময় হত্যা করে বিএসএফ। আবদুস সালাম নামের এক দিনমজুরকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। মাসুমের প্রতিষ্ঠাতা কৃতী রায় বলেন, ‘এসব অপরাধের জন্য কোনো বিএসএফ সদস্যকে গ্রেফতার কিংবা দায়ী করা হয়নি। সীমান্তরক্ষা আইন অনুযায়ী বেসামরিক আদালতে বিএসএফ সদস্যদের বিচার করা যায় না।’ বিএসএফের নিজস্ব আদালতে এসবের ‘বিচার’ করা হয়; কিন্তু আদালতের রায় প্রকাশ করা হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



