somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারত আর কতদিন বাংলাদেশ কে উলঙ্গ করবে?

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেলানি কে কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখার বর্ষপূর্তিতে যেন বিএসএফ এর গুন্ডারা হাবিব কে বর্বর ভাবে নির্যাতন চালায় উলঙ্গ করে। তারা তো শুধু ফেলানি কে হত্যা করে কাটাতারে ঝুলায় নি, ঝুলিয়েছে বাংলাদেশ কে। হাবিব কে উলঙ্গ করে নির্যাতন করে নি করেছে সারা বাংলাদেশ উলঙ্গ নির্যাতন। যদি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাওয়া হত তাহলে বিএস এফ নামের এই নরপশুরা এমন সব লোমহর্ষক ঘটনা দিনের পর দিন ঘটাতে সাহত পেত না। বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তকে ‘মৃত্যুর দেয়াল’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ইসরাইল-ফিলিস্তিন সীমান্তের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এ থেকেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আসল চেহারা সবার চোখে পরিষ্কার হয়ে যায়।


সরকার ঘুমিয়ে কিংবা ভারত প্রীতিতে ব্যস্ত। ভারত থেকে বিভিন্ন পুরুস্কার পাচ্ছেন শেখ হাসিনা তাই তিনি চুপ থাকা স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা পেলেন যা কোন অভারতীয় পায় নি। তিনি সাধারণ মানুষের ক্রন্দন হয়তো শুনতে পারবেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্তর কেঁদেছে এদৃশ্য দেখে। বিশ্ববিবেক তো হতবাক। আর নয় লুকালুকি। এবার বিশ্ববাসীর কাছে অসভ্য ভারতীয়দের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে হবে। এরা মানুষ নয়। হায়েনা। এতগুলি মানুষ কিভাবে একজন মানুষকে উলঙ্গ করে হাত পা বাশের সাথে বেঁধে সারা রাত নির্যাতন করল। যদি এই ফুটেজ দেখা না যেত তাহলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হত। পর্দার আড়ালে এভাবে কতদিন কতরাত বাংলাদেশ কে উলঙ্গ করছে ভারতের হায়েনারা আমরা কি বলতে পারব? ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ঠিক কত লোক হত্যার শিকার হন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। কলকাতাভিত্তিক বেসরকারি সংগঠন মাসুম-এর মতে, ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দুটি জেলা মুর্শিদাবাদ ও উত্তর চব্বিশপরগনা সীমান্তে ১৬৫ জন হত্যার শিকার হন। এই দুটি জেলা গোটা পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ৮ ভাগ এলাকা নিয়ে গঠিত। শহর থেকে অনেক দূরের এই ঝাপসা ভূখণ্ডের সীমান্তে হামেশাই মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, মাদক ব্যবসা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাবমতে, গত ১০ বছরে ভারতীয় বিএসএফ কমপক্ষে এক হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪৭ বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বিএসএফ। বিএসএফের হাতে এ সময় ১৬৪ জন ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়। বিএসএফের মহাপরিচালক রমণ শ্রীবাস্তব ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিএসএফ কোনো নিরাপরাধ নাগরিককে হত্যা করে দায়মুক্তি পেতে পারে না। বিএসএফ শুধু আত্মরক্ষার জন্যই গুলি করতে পারে। কিন্তু এই সুযোগের চরম অপব্যবহার করে আসছে বিএসএফ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৩ বছরের আসিফ ইকবাল, ১৫ বছর বয়স্ক শাহীন শেখকে হত্যা করে বিএসএফ। ১৫ বছর বয়স্ক সুমন্ত মন্ডলকে মাঠে সরিষা তোলার সময় হত্যা করে বিএসএফ। আবদুস সালাম নামের এক দিনমজুরকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। মাসুমের প্রতিষ্ঠাতা কৃতী রায় বলেন, ‘এসব অপরাধের জন্য কোনো বিএসএফ সদস্যকে গ্রেফতার কিংবা দায়ী করা হয়নি। সীমান্তরক্ষা আইন অনুযায়ী বেসামরিক আদালতে বিএসএফ সদস্যদের বিচার করা যায় না।’ বিএসএফের নিজস্ব আদালতে এসবের ‘বিচার’ করা হয়; কিন্তু আদালতের রায় প্রকাশ করা হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:১০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×