somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরব আমিরাতে The 3rd Largest Mosque in the World

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আরব আমিরাত এখন বিশ্বের অন্যতম ট্যুরিষ্ট কান্ট্রি। রাজধানী আবুধাবী আর বানিজ্য শহর দুবাই ছাড়াও আল-আইন, শারজাহ, রাস-আল-খাইমাহ -সবই সৌন্দর্য্যের অপার লিলাভূমি। সি বিচ, শপিং মল, হাই রেস বিল্ডিং ও অত্যাধুনিক গার্ডেন নিয়ে আবুধাবী সমৃদ্ধ। আর দুবাইয়ের পাম সিটি, বারজ্ জুমেইরা ও নতুন ডিনামিক বিল্ডিং তো ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। আল-আইনের সবুজে ভরা পাহাড়ী এলাকা, চিড়িয়াখানা আর শারজাহর ক্রিকেট স্টেডিয়াম তো রয়েছেই।

এসব ছাড়াও আরব আমিরাতের অন্যতম আকর্ষণ হল মুসলমানদের উপাসনালয় মসজিদসমূহ। সুউচ্চ মিনার, সুদৃশ্য গম্বুজ আর বৈচিত্র্যময় কারুকাজ এসব মসজিদের কমন বৈশিষ্ট্য। আমাদের ঢাকার ন্যায় আবুধাবীও মসজিদের শহর। শহরটির যেকোন জায়গায়ই দাঁড়ান না কেন, সামনে, পেছনে, ডানে ও বাঁয়ে কোন না কোন মসজিদের মিনার থাকবেই। আর আজানের সময়... সে তো এক স্বর্গীয় অনুভূতি। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত।

সম্প্রতি আরব আমিরাতে তৈরী হল মক্কা ও মদীনার হারামাইনের পর পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম মসজিদ। ২০০৭ সালের রমজান মাসে কর্তৃপক্ষ তা অফিসিয়ালি খুলে দেয়া হয়। গত ঈদে সেখানে আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তা নিয়েই আজকের এই লেখা।

সেদিন ঠিক কি বার ছিল মনে নেই। লোকেশনটাও প্রথমে জানা ছিল না। বন্ধুর কাছ থেকে জেনে নিলাম। মুসাফফা ব্রীজ ও মাকতা ব্রীজের মাঝামাঝি এর অবস্থান। খুঁজে পাব কিনা একটু চিন্তিতই ছিলাম। স্লো স্পিডে ড্রাইভিং করে চলছি। হঠাৎ-ই একটা বিলবোর্ডে নজর পড়ল। আমরা ঠিকমতই এসেছি। ডানে গিয়ে মসজিদের বিশাল পার্কিংয়ে গাড়ী পার্ক করলাম।

প্রথমেই চোখ পড়ল দৃষ্টিনন্দন সুউচ্চ মিনারের দিকে। মসজিদের চার কোণায় ১১৫ মিটার উচ্চতার রয়েছে এরকম চারটি মিনার। আর সাথে আছে সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা অলংকৃত ৫৭ টি গম্বুজ, যেগুলোর ভেতরটা মার্বেলেরই তৈরী। মসজিদের বাইরে এখনো কিছু কাজ চলছে। সম্মুখ দিকের পানির ফোয়ারা দু’টি এখনো চালু হয়নি। আমরা হাঁটতে হাঁটতে মসজিদের বিশাল গেটে পোঁছুলাম। সেন্ডেল-জুতো ভেতরে রাখার ব্যবস্থা আছে। বক্সে রেখে তা চাবি দিয়ে লক করে নিজের কাছে চাবি রাখতে হয়। সিস্টেমটা ভালই।





ভেতরে যতই যাচ্ছি ততই দৃষ্টিনন্দন কারুকাজগুলো দেখে মুগ্ধ হচ্ছি। ইতোমধ্যে আসরের নামাজের আযান হল। আমরা অযূ করার জায়গা খুঁজতে লাগলাম। হাতের বাঁ পাশ ধরে অনেক দূর হাঁটতে হবে। হাঁটতে হাঁটতে যেন আর শেষ হয়না। অবশেষে পেলাম। এস্কেলেটর দিয়ে নিচে নামতে হবে। এত সুন্দর কারুকাজ করা প্রতিটি ওয়াল.. আর অযূখানা তো এক কথায় অসাধারণ।






অযূ করে আবার এতদূর হাঁটা। মূল মসজিদ এখনো অনেক ভেতরে। মাঝে খোলা আকাশের নিচে মার্বেলের উপর ফুলের ডিজাইন করা কারুকাজময় বিশাল মাঠ। পরিধি ১৭,০০০ বর্গ মিটার। মসজিদের বারান্দা ধরে হাঁটছি আমরা। খেজুর গাছের ডিজাইনে স্বর্ণের প্রলেপ করা প্রতিটি পিলারে। খুব সুন্দর লাগছে। এরই মধ্যে পোঁছে গেলাম মূল মসজিদের গেটে। এত উঁচু গেট.. ভেতরে ঢুকলাম।





কিন্তু না, এটাও মেইন গেট না। এই গেটের ভেতর একটা বড় প্যাসেজ। এরপর আসল গেট। এই প্যাসেজটার ভেতরে সবচেয়ে বেশি কারুকাজ। প্রতিটা দেয়ালে শিল্পীর ছোঁয়া। এগুলো দেখতে দেখতেই মেইন গেট এসে গেল। এই গেটের কারুকাজ তো আরো বেশি। (দুঃখিত, আমার শব্দভান্ডার এমনিতেই কম। তাই কারুকাজ, অসাধারণ, চমৎকার ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।)




ভেতরে ঢুকলাম। এ এক বি-শা—ল হল। এ পাশ থেকে যেন ও পাশটা দেখাই যায় না। পুরো মসজিদে একটা মাত্র কার্পেট। ইরানী শিল্পী আলী খালিকীর ডিজাইনে ইরানের কার্পেট কম্পানীর তেরী এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কার্পেট। এর দৈর্ঘ্য ৫,৬২৭ বর্গ মিটার। ওজন ৪৭ টন। একসাথে ৯,০০০ মুসল্লী নামাজ পড়তে পারবে এই হলটিতে। আর এর পাশেই মহিলাদের জন্য রয়েছে আরো দুটো রুম যার প্রতিটিতে ১,৫০০ জন করে নামাজ পড়তে পারবে। আর সব মিলিয়ে পুরো মসজিদে নামাজ পড়তে পারবে ৪০,০০০ জন।



যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। নামাজের সময় হলে নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর আবার ঘুরে ঘুরে দেখা। ইমাম সাহেবের মিম্বরের উপরের যে ওয়ালটি, তাতে আল্লাহর নিরানব্বইটা নাম লেখা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ালই অসাধারণ সুন্দর কারুকাজ করা। লাইভ টেলেকাস্ট করার জন্য সেট করা আছে ক্যামেরা সরঞ্জামাদি। এছাড়া পিলারগুলো, খতিবের খুৎবা দেয়ার জায়গা –সবই দেখার মত।








আমার মত কত দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছে সেদিন। ক্যামেরার ক্লিক শোনা যাচ্ছে শুধু। শহর থেকে একটু দূরে হওয়ায় মসজিদটিতে নামাজের চেয়ে বেশি সকলে তা দেখতেই যায়। নন মুসলিমদেরও আগমন ঘটে। মজার ব্যাপার হল, আমরা গেটে কয়েকজন হাফ প্যান্ট পড়া ফিলিপিনো মহিলা দেখলাম যাদের কর্তৃপক্ষ হাতের ইশারায় অন্য দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর সেখান থেকে তারা বোরখা পড়ে বের হচ্ছে। আশ্চর্য। পরে জানলাম, সেখানে অসংখ্য বোরখা রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। সেগুলো পড়ে ভেতরে ঢুকতে দেয় কর্তৃপক্ষ। যদিও নন-মুসলিমদের মসজিদে ঢোকা আরব আমিরাতে নিষিদ্ধ, তবু ইসলামী সংস্কৃতি ও ভাবধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে কেবল এই মসজিদটিকে মুসলিম ও নন মুসলিম সকলের জন্যই উন্মুক্ত করে দিয়েছে আবুধাবী ট্যুরিজম অথোরিটি।

দেখতে দেখতে যাওয়ার সময় হয়ে গেল। আমরা বেরিয়ে পড়লাম। পাশেই শেখ জায়েদের কবর। তিনি আরব আমিরাতের ফাউন্ডার এবং প্রথম প্রসিডেন্ট। বছর দু’এক হল তিনি মারা গেছেন। তার নামেই মসজিদটির নাম রাখা হয় ‘শেখ জায়েদ মসক্’। আমরা কবর জিয়ারতের জন্য গেলেও কর্তৃপক্ষ সেখানে কাউকে দাঁড়াতে দেয় না। তাই চলে আসলাম।



বাসায় ফিরছি আর নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে.. হয়ত পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের কোনটিই আমার দেখা হয়নি, কিন্তু পৃথিবীর ১ম, ২য় ও ৩য় বৃহত্তম মসজিদ তো আমি দেখেছি, সেগুলোতে নামাজও পড়েছি। এ তৃপ্তি শুধু সপ্তাশ্চর্য কেন, হাজারাশ্চর্যের চেয়েও বহুগুণ বেশি। আলহামদুলিল্লাহ।

তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া
ছবি: নিজ
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×