সময় জিনিসটা বড় গোলমেলে৷ আদতে সময় বলে আমরা যা যান্ত্রিক অথবা ডিজিটাল ঘড়ির কাটায় মেপে যাই সেটা সময়ানুভব থেকে অনেক সময়েই আলাদা৷ বিরক্তিকর কাজের জন্য অপেক্ষায় সময় যেন কাটতেই চায় না অথবা খুব প্রিয় কাজে ব্যস্ত থাকলে সময় চোখের পলকে দৌড়ে পালায়; যদিও সেটা একই দৈর্ঘ্যের সময় হলেও৷ আবার গতির সাথে সময় কতটা ব্যাসকম হয় সেটা নিয়ে আইনেস্টাইনের যুগান্তকারী রিলেটিভিটির কথাতো বলাই বাহুল্য।
অনেকে বলেন সূর্য্যের উদয় অস্তের উপর নির্ভরশীল পৃথিবীর গতানুগতিক সময়ের পরিমাপটা সময়ের মূল রিয়েলিটি থেকে বেশ দূরে৷ ঘড়ির সময় কেবলই এক স্থূল পরিমাপের মামলা। সময় তার চেয়ে ঢের বেশি রহস্যময়৷ কসমোলজি বা মহাবিশ্বের জন্মরহস্য নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরও খুব ভাবায় এই সময়ের গোলমালটা তাই তারাও অংক কষে বের করার চেষ্টায় আছে সময়ের জন্ম কোথায়, কোথায় বা এর শেষ হতে পারে৷
২.
যদি খুব গভীর জ্ঞান কপচাকপচি অথবা দর্শন আপাতত দূরে সরিয়ে রাখি, খুব সহজ অবজার্ভেশন থেকেও সময়ের রহস্যময়তার কিছুটা স্পর্শ পাওয়া সম্ভব৷ সময় ধারনা আসলে আমরা সাধারনত তিনটা ভাগে সেটাকে ভাগ করে ফেলি৷ অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যত৷ কিন্তু মজাটা হলো, অতীত এবং ভবিষ্যত দুটোই ধরা ছোয়ার বাইরের জিনিস, আনরিয়াল৷ অনলি রিয়াল ইজ নাও। বর্তমান, তবে সেটাও আদতে স্থায়ী নয় একেবারেই। এই মুহুর্তে যাকে আমি বর্তমান বলি, বলা শেষ হওয়ার আগেই সেটা অতীত হয়ে গ্যালো৷ এমনকি ১০, ২০ বছর আগের অতীতও মনের ভিতরে মনে হয় এইতো সেদিন, এইতো কয়েক মিনিট আগেই যেন! প্রতি মুহুর্ত সাই সাই করে অতীত, অতীত, অতীত হয়ে যাচ্ছে৷ নিয়ন্ত্রনের বাইরে৷ কি ভয়ংকর ব্যাপার!
আর ভবিষ্যততো আরো বড় ধান্দাবাজি৷ আদতে অস্তিতই নেই ভবিষ্যতের (বর্তমানে বসে যদি বলি), তা আমরা যতভাবেই প্রেডিক্ট করার চেষ্টা করি না কেন৷ এ কেবলই একটা প্রোজেকশন অফ মাইন্ড বা মনের ভেতরের কল্পনা৷ ভবিষ্যতের প্রতিটা টুকরা তৈরী হয় বর্তমানের উপরে ভিত্তি করে৷ আমার এই বর্তমানের সামেশন বা যোগফল হলো ভবিষ্যত এবং সেটা এতটাই ডাইনামিক যে প্রতিটা মুহুর্তের সাথে অসীম সংখ্যক ভবিষ্যত স্টেট তৈরী হতে পারে৷
ভবিষ্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার, পুরোটাই কল্পনা৷ কাব্যিক করে তাই বলা যায়, টুমরো নেভার ডাই৷ ঐ নেভার ডাই টুমরো আসলে কল্পনার ফানুস৷ যা একমাত্র আমাদের সাথে সবচেয়ে স্পষ্ট তা হলো বর্তমান৷ কিন্তু যেটা অস্বস্তিকর সেটা হলো খুব খেয়াল করলে বোঝা যায়, প্রতিটা বর্তমান কতটা পলকা৷ মুহুর্তগুলো অসম্ভব তীব্র গতিতে যেন অজানা কোন এক ব্ল্যাকহোলে গায়েব হয়ে যাচ্ছে৷ হুহু করে, কল্পনাকে হার মানানো বেগে৷
এই ভয়ংকর ব্যাপারটা যে মানুষের জন্য সবচে বিপজ্জনক তার নির্দেশই বোধ হয় কুরআনে সময় নামের পরিচ্ছদে এভাবে,
Witness Time!
Surely Man is in a state of loss, (103:1,2)
৩.
ফ্রি উইল বা মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতার প্যারাডক্সটা বোঝার জন্য (আদতেই মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে নাকি, "যেমনি নাচাও তেমনি নাঁচি পুতুলের কি দোষ!" সিচুয়েশন) সময়ের রহস্যময়তা ধরতে পারাটা খুব জরুরী৷ কিন্তু সেই প্যাচাল আরেকদিন৷ বরং সময়ের সাথে ঈশ্বরের একটা গোপনযোগসুত্র খোলাসা করা যাক৷
সাচিকো মুরাতার তাও অফ ইসলামে চাইনিজ কসমোলজির উদাহরন টেনে ইসলামের কনসেপ্টে স্রষ্টার দুটো রূপের উপরে আলোকপাত করা হয়েছে৷ প্রথমত পার্সোনাল, দ্বিতীয়ত ইমপার্সোনাল৷
In one respect, God is infinitely beyond the cosmos. Here, the theological term is tanzih, which means "to declare God incomparable" with everything that exist. In this respect god is completely inaccessible to His creatures and beyond their understanding. This point of view is the classical position of "Kalãm" ("Islamic dogmatic theology"). Many verses could be cited to show how the Koran takes this point of view, such as "Glory to be God, the Lord of Inaccessibility, above everything that they describe" (37:180) or in simpler terms, "Nothing is like Him" (42:11).
In this respect, God is an impersonal reality far beyond human concerns. He is the God of negative theology.
তার বাইরে স্রষ্টার আরেকটা রূপ হলো পার্সোনাল৷যেখান স্রষ্টা গ্রীবাস্থ ধমনীর চেয়ে কাছের। আপন মায়ের চেয়েও প্রেমময়।
সাচিকো মুরাতার ভাষায়: But the God of the Koran, the Prophet, and the spiritual authorities of Islam is a God who is supremely lovable, since He is dominated by concern for His creatures. As the Koran puts it, "He loves them, and they love Him" (5:54). God’s love for creation produces in the creatures love for God. This God of compassion and love can be grasped and understood. To use the theological term, He must be "declared similar" (tashbih) in some mysterious fashion to His creation. We can rightly conceive of Him in human attributes. This is the point of view of God’s immanence in all things, and it is clearly supported by such Koranic verses as "Wherever you turn, there is the face of God" (2:115) and "We are nearer to man than the jugular vein" (50:16). In this respect, God is a personal God.
সাধারনত মানুষ স্রষ্টার পার্সোনাল রূপ নিয়েই বেশি ব্যস্ত৷ কারন সেটা কল্পনা সহজ। মানুষের কল্পনার সীমাবদ্ধতায় তাই ঈশ্বর বিভিন্ন রূপে পার্সোনাল গড হিসেবেই ম্যানিফেস্ট হয়৷ ঈশ্বরের ট্রানসেনডাল ন্যাচার তাই বেশিরভাগ সময় থিওলজিয়ান বা ফিলোসফারদের জন্যই বরাদ্দ৷ এর এক্সট্রিম এন্ড হলো প্যানথিয়িজম বা সর্বেশ্বরবাদ যা কুরআন দিয়েও প্রমান করা যায়, যেটা ইসলামী এসোটেরিক সায়েন্সের বিষয়। ইসলামী কসমোলজীতে ঈশ্বরের দুই কম্পোনেন্ট, পার্সোনাল ও ট্রানসেনডাল - উভয়ই বর্তমান৷
সময়ের কনসেপ্টে ইসলামে স্রষ্টা সম্পর্কে এক অকল্পনীয় স্টেটমেন্ট আছে স্যাক্রেড হাদীস বা হাদীস কুদসীতে৷ বুখারী, মুসলিম সহ হাদীসে কুদসীর সেই হাদীসানুসারে ঈশ্বর স্বয়ং নিজেকেই সময় হিসেবে ঘোষনা দিচ্ছেন, যা ট্রানসেন্ডাল ন্যাচার অফ গড বা সীমিত ধারনা ও কল্পনার বাইরের ঈশ্বরের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়৷ নবী মুহাম্মদ, যার প্রতি সালাম, ঐ হাদীসটিতে বলছেন: God says: Sons of Adam complain against Time, and I am Time.
(হাদীস কুদসী, ৪)
ঈশ্বর নিজেকে স্বয়ং সময় দাবী করে যেন সময়ের গোলমালটাকে বহুত জটিল করেই তুললেন।
৪.
আমার দেখা অন্যতম গভীর-মিস্টিক ও বন্ধু ক্যারোলিনকে আমি জিজ্ঞেস করি, ক্যারোলিন সময় বলে আসলেই কি কিছু আছে? ক্যারোলিন স্মিত হাসে। একটু চুপ থেকে বলে, না। সময় স্রেফ মায়া। মনের কারসাজি। ঈশ্বরের মতো মায়াময়। আমি নিশ্চুপ শুনে যাই।
রেফারেন্স
সাচিকো মুরাতার তাও অফ ইসলাম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

