somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা, মন জানো না!

৩০ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন, বিবেক, মানসিকতা ইত্যাদি বিষয়গুলো একটা সময় পর্যন্ত দার্শনিকদের ভাবনার বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিলো। মন, বিবেক আসলে রক্ত মাংশের শরীরের অংশ কি না সেটা নিয়েই বিতর্ক হয়েছে এবং এখনও তার শেষ মিমাংসা হয় নাই। দার্শনিকরা ভাবের রাজ্যে বাস করলেও বিজ্ঞানীদের তো সেই সুযোগ নেই, সুতরাং মন, বিবেক আর মানসিকতার জন্ম কোথায় সেই কৌতুহলের পেছনে ছুটতে গিয়ে তাদের উঁকি দিতে হয়েছে যেখানে উঁকি দেওয়ার কথা, সেই মস্তিষ্কের ভিতরে।

এই যে উঁকি দেওয়ার প্রসঙ্গ সেটা সহজ হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে যখন ধীরে ধীরে এমন সব প্রযুক্তি আসতে শুরু করেছে যার মাধ্যমে মাত্রা ছাড়ানো এই রহস্যময় মস্তিষ্কের গলি ঘুপতি সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে।

কেউ যদি এই আধুনিক যুগে বসে অলৌকিকতা খুঁজে বেড়ায়, ছুয়ে দেখতে চায় তবে তাকে মানুষের মস্তিষ্কের কাছে আসলে হতাশ হতে হবে না। মাত্র কয়েক পাউন্ডের একতাল ঐ বস্তুর ভিতরে যেন হাজার হাজার ছায়াপথ লুকানো। স্যার চার্লস শেরিংটন যাকে নিউরোফিজিওলজীর গুরু বলা হয় তার ভাষায়:
the human brain is an enchanted loom where millions of flashing shuttles weave a disolving pattern, always a meaningful pattern, though never an abiding one, a shifting harmony of sub-patterns. It is as if the Milky Way entered upon some cosmic dance'

মানুষের মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যা এক মিলিয়ন মিলিয়ন যা লিখতে ১ এর পরে ১২টা ০ দরকার, ১,০০০,০০০,০০০,০০০। এই প্রতিটা কোষ একেকটা একই সাথে জটিল ইলেকট্রাকেমিক্যাল মেকানিজমের যাদুর বাক্স, শক্তিশালী মাইক্রোডাটা প্রসেসিং ঘর এবং ট্রানসমিটিং সিস্টেম যা তার যাবতীয় জটিলতা নিয়েও আকারে অসম্ভব রকমের ছোট।

বিজ্ঞানীরা কেবলমাত্র ইদানীং বুঝতে শুরু করেছে চিন্তা, মেমোরী কিভাবে জন্ম নেয় কিভাবে কাজ করে। তবে এটা কেবলই বোঝার যাত্রা শুরু। সব রহস্যের জট এখনো খোলেনি। যেটা নিউরোসায়েন্টিস্টদের খুব ভাবায় তা হলো মন (Mind) ধারনাটা। কোথায় এর জন্ম এবং এটা কিভাবে কাজ করে।

ফাংশনাল এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং), পিইটি (পজিট্রন এমিশন টোপোগ্রাফি)এর মতো প্রযু্ক্তির ফলে এখন বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিস্ককে মেশিনে সংযুক্ত করে মজার মজার সব এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে বোঝার চেষ্টায় আছে মন কোথায় কিভাবে কাজ করে।

যেমন একটা এমআরআই স্ক্যানে আপনাকে ঢুকিয়ে দিয়ে আপনার প্রিয়জনের ছবি চোখের সামনে ধরলে দেখা যাবে মস্তিষ্কের নিদিষ্ট জায়গাটা খুব কাজ করছে। মস্তিষ্কের ভিতরে অনেকগুলো ভাগ করা জায়গা আছে, ভাগটা কাল্পনিক। তো দেখা যায় যে নিদিষ্ট কাজের জন্য (ফাংশনালিটি) মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গা দায়ী, তবে সম্পূর্ণভাবে না। যেমন দেখার ইমপালস হয়তো দিচ্ছে মস্তিষ্কের বিশেষ একটা এলাকা, শোনা আরেক জায়গায়, হাটাচলার ব্যালেন্স আরেক জায়গা এরকম।

বিজ্ঞানীরা বিশেষ এলাকায় এক্সিভিটি বাড়ছে না কমছে সেটা বোঝার জন্য ঐ এলাকায় রক্তচলাচল এবং কোষের গ্লুকোজ গ্রহনের হারটা খেয়াল করে থাকে। এটাকে অনেকটা শিশুদের কার্টুনে দেখানো মাথায় আলো জ্বলে ওঠার সাথে তুলনা করা যায়।

তো আপনার সামনে আপনার প্রিয়জনের ছবি যদি ধরা হয় তবে এমআরআই বা পিইটি স্ক্যানে দেখা যাবে মস্তিষ্কের কয়েক জায়গায় আলো জ্বলে উঠছে।

দেখার বিষয় মাথার যে অংশ প্রসেস করে সেটাও নি:সন্দেহে ব্যস্ত হয়ে যাবে। রঙ, আকার আকৃতি, সেই রঙ আইডেন্টিফিকেশন, লাইন, ডেপথ, আলো ছায়ার অর্থ করা - হাজারটা কান্ড ঘটবে ওখানে। কোটি কোটি নিউরনের পথ জুড়ে নিউরোট্রান্সমিটার নামের কেমিক্যালেরা ব্যস্ত হয়ে উঠবে।

ফেস রেকগনিশন অংশ নি:সন্দেহে সচল হবে। আপনার দেখা হাজার হাজার মুখের মেমোরী থেকে এই মুখটি আইডেন্টিফাই করবে ব্রেইন। শুধু এই আইডেন্টিফিকেশন পদ্ধতিটাই মারাতনক যাদুর মতো।

তারপরে স্মৃতিকোঠরে সাঁইসাঁই পুরনো স্মৃতির বাছাই থেকে বের হবে সবচেয়ে শক্তিশালী ইমোশনটা। যেমন মায়ের ছবি দেখলে হয়তো কারো মনে হতে পার মায়ের গায়ের গন্ধ, কারো হয়তো মা রান্নাঘরে দাড়িয়ে রান্না করছে সেই দৃশ্য অথবা কারো বা মায়ের বলা কোন কথা অথবা আজ অফিসে আসার আগে ঘুম থেকে জাগতে দেরী করায় মায়ের বকুনী ইত্যাদি।

অর্থাত এই যে আমাদের মন বলে যে জিনিসটা সেইটায় ঐ ছবিটা যে একটা ইমোশন জেনারেট করছে সেটা বোঝার জন্যই এতো ঝক্কি। কেন বিশেষ মুখ বিশেষ অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে, কিভাবে সেই অনুভূতির জন্ম নেওয়া তার মেকানিজমটা বোঝার চেষ্টা।

একটা শব্দ, একটা ঘ্রান, একটা গান মনের গভীর থেকে তুলে নিয়ে আসে যে ইমোশন, যে ভাবের বণ্যা তার শারীরিক জন্ম কিন্তি মাথার ঐ কুঠুরীতেই। যাকে মন বলি তা হয়তো মস্তিষ্কের ইমপালস -এমনটা অনেক বিজ্ঞানীদের মতামত। কিন্তু গল্পটা যে এত সরলীকৃত না সেটাও স্বীকার করেন ডাকসাইটে নিউরোসায়েন্টিস্টরা।

আমরা একটা অপূর্ব সুন্দর ফুলের বায়োলজী, তার পরাগায়ন, পাতার সালোক সংশ্লেষণ বিজ্ঞানের মাধ্যমে জানলেও গাছের ভিতরে যে প্রাণ তার অলৌকিক রহস্যময়তাটা কিন্তু ধরাছোয়ার বাইরেই থেকে যায়। জটিল কেমিক্যাল সিনথেসিসে হুবহু নকল জবা তৈরী করা সম্ভব হলেও প্রকৃতি বিপুল মমতায় যে ফুল ফোটায় তার ভিতরের মুগ্ধতাটা বিজ্ঞানীদের ল্যাবের বিষয় না। তার জন্ম অন্য কোথাও। কিভাবে শু্ক্রানু, ডিম্বানু থেকে ভ্রুন হয় এবং তার বেড়ে ওঠা চলে মায়ের গর্ভে তা বিজ্ঞান বলতে পারলেও প্রাণ নামের অলৌকিক ফেনোমেনার রহস্য আমরা জানি না। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের প্রেমে পড়লে মায়ের ব্রেনের কোন অংশে কি নিউরোট্রান্সমিটার ব্যতিব্যস্ত হয় বিজ্ঞান বলে দিতে পারে আজ, কিন্তু ঐ নবজাতক সন্তানটার জন্য তীব্র প্রেমে পড়ার মুদ্ধতার ব্যাপারটা প্রকৃতির অন্য নিয়মে চলে। তা অন্যভূবনের অন্যকিছূ।

লেখার শিরোনামটা মূলত মস্তিষ্কের ভিতরের এক প‌্যারাডক্সের কথা বলার জন্যই দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই গল্প অন্য কিস্তিতে। মনের মধ্য আসলেই বাস করে কয়জনা সেই গল্পটা তাই বেশি বড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে এই পোস্টে ঠাঁই পেলো না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৩
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×