আমার প্রিয় পোস্ট
- বোকা বাউলের পদ্য: নিজেকে ওভাবে মেলতে নেই - প্রণমি যীশু, মনসুর আল হাল্লাজ অথবা হুমায়ুন আজাদ - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- সিংহপুরের ডায়েরী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- কুয়ালালামপুরের ডায়েরী: গোপালীয় খানাপিনা আর রোবোকন প্রতিযোগিতা - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কুরবাণী করতে হুকুম প্রাণ প্রিয় ধন। গরু ছাগল হইলো কি তোর এতই প্রিয় ধন? - ফিরে দেখা কুরবাণী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমাদের সক্রেটিস - আরজ আলি যেভাবে একজন আরজ আলি হয়ে ওঠেন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- ধর্মান্ধরা মুড়ি খাও: চাঁদ দেখতেই হবে? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শেষ কবে আপনি একেবারে নতুন কিছু করেছেন? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- প্যারাডক্স : সব পূর্ব-নির্ধারিত (প্রিডেস্টিনেশন বা ভাগ্য) হলে আপনার আমার কি দোষ (শেষ বিচার, কর্মফল -এর ধারনা অর্থহীন )? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- 100তম পোস্ট: আগন্তুকের সাথে মৌন কথোপকথন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
বেগুনের দাম!
২০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:২৩
১.
জয়তু মাইক্রোওয়েভ ওভেন @ ক্যাম্পাস!
ভাগ্যিস এখানে ইউনিভার্সিটির ভেন্ডিং মেশিনগুলোর পাশে একটা করে মাইক্রোওয়েভ ওভেন আছে যা সব ছাত্র/ছাত্রীর জন্য উন্মুক্ত! সকাল বেলা ফ্রিজ থেকে বের করে নিয়ে আসা কাল রাতে ভেজে রাখা বেগুন আর রান্না করা ভাত (সাথে মুশরীর ডাল চচ্চড়ী, বাচ্চা টমেটো ছড়িয়ে দেওয়া) নইলে এরকম গরম গরম আর খাওয়া হতো না। ক্যালিফোর্নিয়া আমেরিকার অন্যতম খরুচে শহর, তার উপরে এই এলাকা। এক বেলা ক্যাম্পাসে কিনে খেতে যাও ৫ থেকে ৬ ডলারের কমে কোন খাবার নেই। সুতরাং গরীব দেশের গরীব ছাত্রদের বাড়ি থেকে খাবারটা নিয়ে আসাটাই নিরাপদ। সেই পিচ্চি কালের স্কুলের পরে জীবনে টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার টানাটানির অভ্যাস ছিলো না। এইবার আর উপায় নাই! তাও ভালো মাইক্রোওভেন থাকায় ২ মিনিটে গরম করে নেওয়া যায়। সুতরাং ভাত তরকারী জাতীয় খাবার আনলেও কোন অসুবিধা নেই। শুকনা স্যান্ডিউচ বার্গারের উপরে নির্ভরতটা কমে।
২.
এইখানের মাত্রাছাড়ানো খরচের একটা উদাহরন দেই। গত সপ্তাহে তরকারী কিনতে গিয়ে একটা মোটামুটি নাদুস সাইজের একটা বেগুন কিনেছিলাম। দাম খুটিয়ে না দেখেই শপিং ঝুড়িতে নিয়ে বাকি সবকিছুর সাথে দাম দিয়ে পরে বাড়ি এসে রিসিট দেখে অবাক। একটা বেগুনের ওজন হিসেবে দাম এসেছে বাংলাদেশী টাকায় আড়াইশ টাকা! প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি।
কোন এক বিচিত্র কারনে বেগুনভাজির প্রতি দূর্বলতা বহন করে বড় হইলাম। সুতরাং দাম নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। যস্মিন দেশে যদাচার। আমেরিকার কৃষকের হাতে ফলানো বেগুন ভাজি খাবে তো একটা বেগুন ২৫০ টাকা দিয়েই খাও! নাইলে নাই।
৩.
বেগুন মানে যার কোন গুন নাই। প্রিয় তরকারীর প্রতি অন্যায় ও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক নামকরন। আমার এক ইরানীয়ান বন্ধু যেদিন বললো যে বেগুনের নাম ওদের ভাষাতেও একই অর্থ করে, ফার্সিতে যার কোন গুন নেই। ('বে' আসলে ফার্সি প্রত্যয় যতদূর স্কুলের বাংলা ব্যাকরণ মনে পড়ে)।
অবাককর কান্ডকারখানা। বেগুন বিদ্বেষ খালি বাংলা মুলুকেই না, এ চক্রান্ত আন্তজাতিক!
ক্যান্টিনে বসে খেতে খেতে লিখা আর লিখতে লিখতে খাওয়া করতে গিয়ে আমার খাবারটাই প্রায় ঠান্ডা হবার জোগাড়! ধুরু সামহোয়্যার!
প্রকাশ করা হয়েছে: পাগলামী, প্রবাস ভাবনা বিভাগে ।
তানভীর বলেছেন:
ভাই, ক্যাম্পাসে বেশী দেশী রান্না খাইয়েন না
, যে গন্ধ উঠবে, ওরা মুখে কিছু না বললেও আড়ালে নাক কুঁচকাবে আর আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে
আমেরিকায় বেগুনের দাম বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশী, ওয়ালমার্টে মাঝে মাঝে কম পয়সায় দেয়, তখন বেশী করে কিনে রাইখেন

আপনার আমেরিকান জীবন সুখের হোক
জেনারেল বলেছেন:
তানভীর ভাই জায়গামত হিট করছে!!
লাকসাম বলেছেন:
যাক আমি একটা বেগুন গাছ লাগাইছি আমার তাই ছিন্তা নাই/ তাজা তাজা খাই ছিন্তা নাই এবাবে আপনারা আমার মত বেগুন গাছ লাগান তাহলে বেগুন নিয়ে এত ছিন্তা করতে হবেনা
মাহবুব সুমন বলেছেন:
বৈদেশে এসে আমারও একই অবস্থা হইতো, দেশী খাবার, দাম বেশী, পকের গড়ের মাঠ !! ওফ, কি অবস্থ। আপনার মতো একি কাজ করতাম । বাসায় রান্না, ল্যাবে/ অফিসে গিয়া মাইক্রোওয়েব । সাদারা কি ভাবলো আর কি ভাবলো সেইটায় আসে যায় না।
মনিটর বলেছেন:
গুড লাক
তানভীর বলেছেন:
সাদারা কি ভাবলো সেইটায় আসে যায় না; তবে ব্যক্তির সাথে তো দেশের নামও চলে আসে, তখন আসে যায়। বিদেশে তো আসলে সবাই নিজ দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে @ মাহবুব সুমন
লাল দরজা বলেছেন:
আমি আছি ১০০ ঝামেলা, সে হইছে বেগুনালা!
মানুষের আর গুনের শেষ নাই। আল্লাহ আল্লাহ!

নির্মল গুনরে বললে কবিতা লিখবে,
গুন
বাগুন
নির্গুন
গুনগুন
ধুনফুন
পুনপুন
বাইগুন
মাহবুব সুমন বলেছেন:
তা ঠিক ভাই, আমাদের যে ধরনের খাবার সেটা এরা ইন্ডিয়ান ফুড বলে, এ ধরনের খাবারের স্পাইসি ভাবটা এরা পছন্দ করে। তবে অনেক সময় গন্ধটা পছন্দ নাও করতে পারে, যেমন আমি করি মুখ থেকে ভকভক করে ভেসে আসা বিয়ার বা স্পিরিটর গন্ধ।আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করি এটা ঠিক তবে ব্যক্তিস্বাতন্তৃ কথাটি মাথায় রাখতে হয়। আমি আমার খাবার খাচ্ছি তা অন্যের সমস্যা না করেই। সেটাতে বড় অন্যের সমস্যা হলে সবার সামনে করবো না, তবে অন্যদের জন্য সব ছেড়ে ছুড়ে দেয়া কি সম্ভব ??
রাশেদ বলেছেন:
মজা পাইলাম।
বিবণ বলেছেন:
ভাল লাগল। ভীন্নতা অাছে।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
ডলারকে টাকায় কনভার্ট করা ছাড়েন।নতুন নতুন অবশ্য এরকম হবে।
৫/৬ ডলারে লান্চতো সস্তাই বলতে হবে।
আর তানভীরের সাথে একমত। আড়ালে বলবে , ওর গা থেকে কারির গন্ধ আসে। হাতে/নখে যাতে হলুদের দাগ না পড়ে থাকে দেখবেন।
আনন্দময় বলেছেন:
তোর যেটা পছন্দ তুই সেটাই খাবি কেমন।এবার আয় দেশে তোকে বেগুন খাওয়াতে...........।
ভালো থাকিস@সাদি
শিলা বলেছেন:
বেগুনের নামকরণের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আবিষ্কারের জন্য আপনাকে ৫ দিলাম। নোবেল কমিটি কি করে তা বলতে পারবোনা।
ৃৃমম বলেছেন:
ভাই, ব্যক্তিস্বাতন্তরো এবং দেশের দুতিয়ালী দুটোই দরকারী। এ-দু'য়ের ব্যালান্সটা রপ্ত ক'রতে ক'রতেই প্রবাসীদের প্রথম প্রজন্ম কেটে যায়। দ্বিতীয় প্রজন্ম আপনাথেকেই মুলধারার (পড়ুন, সংখ্যাগরিস্টের) সাথে তাল মেলাতে শুরু ক'রে, কাউকে বলে দিতে হয় না।



















বাংলাদেশ থেকে এখানে বেগুন সস্থা। তাই মনে মনে ভাবছিলাম এখান থেকে বাংলাদেশে ব্যাবসায়ীরা কেন বেগুন আমদানী করে না।