আমার প্রিয় পোস্ট
- বোকা বাউলের পদ্য: নিজেকে ওভাবে মেলতে নেই - প্রণমি যীশু, মনসুর আল হাল্লাজ অথবা হুমায়ুন আজাদ - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- সিংহপুরের ডায়েরী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- কুয়ালালামপুরের ডায়েরী: গোপালীয় খানাপিনা আর রোবোকন প্রতিযোগিতা - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কুরবাণী করতে হুকুম প্রাণ প্রিয় ধন। গরু ছাগল হইলো কি তোর এতই প্রিয় ধন? - ফিরে দেখা কুরবাণী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমাদের সক্রেটিস - আরজ আলি যেভাবে একজন আরজ আলি হয়ে ওঠেন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- ধর্মান্ধরা মুড়ি খাও: চাঁদ দেখতেই হবে? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শেষ কবে আপনি একেবারে নতুন কিছু করেছেন? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- প্যারাডক্স : সব পূর্ব-নির্ধারিত (প্রিডেস্টিনেশন বা ভাগ্য) হলে আপনার আমার কি দোষ (শেষ বিচার, কর্মফল -এর ধারনা অর্থহীন )? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- 100তম পোস্ট: আগন্তুকের সাথে মৌন কথোপকথন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
হুজুরদের সমকামিতা
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:৪৫
এক.
সাইকিয়াট্রিস্ট গোলাম রহমান অন্যদিনের মতো আজকেও তার চেম্বারে রুগী দেখছেন। দক্ষিন আফ্রিকার ডারবানে মুসলিম প্রধান এলাকায় তার চেম্বার। মূলত ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভুতদের নিয়েই এই এলাকা। অন্যদেশে সংখালঘু হলে যা হয়, অনেকটা প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি রক্ষনশীল এবং গোঁড়া ব্রান্ডের মুসলিম এই এলাকায়।
এগারতম রুগীকে বিদায় করতে না করতে আপাদমস্তক কালো বোরখায় ঢাকা এক রুগী হুড়মুড় করে চেম্বারে প্রবেশ করলো। মুখের উপরেও নেকাব, শুধু চোখটা উন্মুক্ত। সামান্য বিশ্রাম করবেন মনে করেছিলেন ডাক্তার গোলাম রহমান। ঘ্যাচ করে মেজাজটা খারাপ হয়ে উঠলো তার ফ্রন্ট ডেস্কের সহকারীর প্রতি। এমনিতেই তার প্রচুর পাগল, আধা পাগল আর হালকা পাগল নিয়ে কাজ করতে হয়। আগাম না জানিয়ে এরকম রোগী পাঠিয়ে দেওয়ার কোন মানে হয় না।
মনে মনে সহকারীকে চাকুরী থেকে বিদায় করার সিদ্ধান্তটা কেবলই নিয়েছেন এমন সময় মুখের নেকাব সরিয়ে মধ্য বয়সের এই আগন্তুক মহিলা যে কথাটা বলে উঠলেন তার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
- "ডাক্তার সাহেব দেখেন তো আমি দেখতে কি খুব খারাপ?"
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্টের তিন থেকে চার সেকেন্ড সময় লাগলো বুঝতে যে এই ভদ্রমহিলা আর যাই হোক পাগল না। পাগলামীর প্রবণতা চোখে মুখে ধরা যায়। এই মহিলার চোখে পাগলামী নেই। তার প্রশ্নটা অন্য জায়গা থেকে আসছে, পাগলামী থেকে না।
- "ডাক্তার সাহেব বলেন আমাকে, আমার চেহারা কি খুব খারাপ?"
মহিলার চোখের দিকে তাকিয়ে গোলাম রহমান গলায় আন্তরিকতা আনার চেষ্টা করেন। "না আপনি দেখতে খারাপ হবেন কেন? আপনি বেশ সুন্দর।"
মহিলার চোখ থেকে ততক্ষনে দরদর করে পানি ঝড়ছে। দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস বলে দেয় সে খুব জোড়ে হেটেছে এখানে আসার পথে। মুখ ইমোশন আর পরিশ্রম - দুটো মিলিয়ে রক্তিম।
চেয়ারে বসতে বলে গোলাম রহমান প্রস্তুত হয় মহিলার কথা শোনার জন্য। মনে হচ্ছে এর অনেক বড় গল্প আছে। রোগীদের কাছ থেকে গল্প শোনাটা সাইকিয়াস্ট্রিস্টের কাছে নতুন কিছু না। গোলাম রহমান গভীর করে শ্বাস নেয়।
দুই.
আগন্তুক মহিলা এক মিনিটেরও কম সময়ে চেয়ারে না বসেই গোলাম রহমানকে যে বৃত্তান্ত শুনায় তা এরকম যে: ভদ্রমহিলার স্বামী, যিনি কিনা ডারবানের একটা বেশ বড় মাদ্রাসার হুজুর তাকে তিনি আবিস্কার করেছেন অন্য আরেক হুজুরের সাথে বিছানায়। নিজেদের বিবাহিত শোবার ঘরের বিছানায়, অসামাজিক অবস্থানে।
এই দৃশ্য এবং আবিস্কারের জন্য সামান্যতম প্রস্তুতিও ছিলো না স্ত্রী। স্বাভাবিক ভাবেই ট্রমাটাইজড, প্রচন্ড শকড। কিন্তু গল্প শেখানেই শেষ না। হুজুরের সমকামি অভ্যাস স্ত্রীর আবিস্কারের পরে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছে যাতে এই তথ্য পাবলিক না হয়। পুরোপুরি গৃহবন্দী।
মানসিক চাপ সহ্য না করতে পেরে আজকে অনেকটা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছেন ডাক্তারের চেম্বারে কারন গোলাম রহমান মোটামুটি ডারবানের মুসলিম কমিউনিটির পরিচিত ও নামী মুখ।
মহিলার বৃত্তান্ত শুনে উঠতে না উঠতে ঝড়ের বেগে আরেক আগন্তুকের প্রবেশ ডাক্তারের চেম্বারে। এবার পেছনে ডাক্তারের সহকারী যে তাকে নিভৃত করার চেষ্টা করছে। এই ব্যক্তি মারাত্নক উত্তেজিত। মুহুর্তেই গোলাম রহমান বুঝে যায় এই সেই হুজুর, স্বামী স্ত্রী দুজনেই উপস্থিত।
ঘরে ঢুকেই বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপন না করেই মহিলার বোরখার উপর দিয়েই চুল ধরে মাথাটা দেয়ালে ঠুকে দেয় সজোরে। গলা যতখানি উপরে উঠানো যায় ততক্ষানি উপরে উঠিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিয়ে প্রকাশ যোগ্য ভাষায় যা বলেন তার সারাংশ হলো, "তোরে না কতদিন বলছি বাসা থেকে বাইর হবি না। বাসার বাইরে আসছিস ক্যান বান্দীর বাচ্চা!"
যত দ্রুততায় এই নাটকীয়তার শুরু তত দ্রুততায় তার সমাপ্তি। টেনে হিচড়ে মহিলাকে নিয়ে যায় ডারবানের মাদ্রাসার সমকামী হুজুর।
তিন.
দুই অনাহুতের প্রস্থানের পরে গোলাম রহমানের সহকারী। এবার মুখ খোলে৷ স্যার, শুড উই কল দি পুলিশ৷ দিস ইজ কিয়ারলি এ্যাবিউজ৷
দ্রুত চিন্তা করতে থাকে গোলাম রহমান ৷ মনের চিন্তা চাপা দিয়ে সহকারীকে বলে, উই শুড নট ইন্টারফিয়ার হিয়ার৷ দি উওমেন ইজ সাফারিং ফ্রম হেলুসিনেশন৷ আরলিয়ার কেইস অফ স্কিটজোফ্রিনিয়া৷ তুমি এবার তোমার ডেস্কে ফিরে যেতে পারো৷ ডোন্ট সেন্ড এনি পেশেন্ট ফর হাফ এন আওয়ার৷ আই নিড সাম রেস্ট৷ প্লিজ কোজ দি ডোর এ্যাজ উই লিভ ৷
চার.
সহকারী চলে গেলে তার আরাম কেদারায় গা ডুবায় গোলাম রহমান৷ ভদ্রমহিলার জন্য খারাপ লাগলেও তার প েপুলিশকে কল করা সম্ভব না৷ অসম্ভব শক না পেলে ভদ্রমহিলা আরো ভালো করে যদি খেয়াল করতো তবে সেদিনকে ওনার শোবার ঘরে হুজুরের সমকামী পার্টনারের জায়গায় ডাক্তার গোলামকেই দেখতে পেতো৷
টীকা: সত্য ঘটনা অবলম্বনে৷ গল্পের কারনে শেষাংশে কাল্পনিক নাটকীয়তা যোগ করা হলেও আলোচিত ভদ্রমহিলার ঘটনা সত্য এবং সত্য তার অভিযোগটি৷ দু:খজনক অংশটি হলো: ভদ্রমহিলার অভিযোগ কোন বিহিত বয়ে আনে নি৷ বরং তাকে ফিরি যেতে হয়েছে এ্যাবিউসিভ সমকামী স্বামীর কাছেই৷ যার কাছে বাস্তবে অভিযোগ জানানো হয়েছিলো তিনি নিজে হুজুরের সমকামীতার খবর সেন্সর করার অজুহাতে পুলিশে খবর দ্ওেয়া থেকে বিরত থেকেছেন৷ তিনি হুজুরের প্রতি সিমপ্যাথেটিক!
গত রমজানের সময়ে দক্ষিন আফ্রিকার এক মাদ্রাসায় অপ্রাপ্ত বয়সী ছাত্রদের ভিতরে সমকামিতার ব্যাপক ছড়ানো সমস্যা আবিস্কারের পরে তা আবার আবার কায়দা করে ধামা চাপা দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি মুসলিম কমিউনিটির মানুষ জনই এই নোংরামী কার্পেটের নিচে লুকানোর জন্য যৌণ আক্রমনের স্বীকার অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পুলিশের সাথে কথা বলার উপরে নিজস্ব সেন্সর আরোপ করেছে৷
মাদ্রাসায় সমকামীতা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের উপরে যৌন নীপিড়নের সমস্যা আমাদের দেশের্ও বাস্তবতা যাকে ট্যাবু বানিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালেই রেখে দেওয়া হয়৷ অন্যদিকে নিপীড়িত হয় শতশত নিস্পাপ শিশু৷
নাঈম বলেছেন:
সহমত, বাংলাদেশের কিছু কিছু মাদ্রাসাগুলোতে আজকাল এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
সুমন বলেছেন:
বাংলাদেশে অনেক আবাসিক মাদ্রাসায় এই সমস্যা অনেক আগের। আমরা ও এইসবকে ঢেকে রাখছি না দেখার ভান করছি। সাদিক ভাই কেমন আছেন? অনেকদিন লেখেন না।
মুকুল বলেছেন:
ধন্যবাদ
আরিফুর রহমান বলেছেন:
ধর্মে নারীকে নিষিদ্ধ ও পাপের উ্ৎস বানানোর সাইকোলজিকাল সাইড এফেক্ট হলো মাদ্রাসায় পড়া ছাত্রের সমকামিতার প্রতি উৎসাহ।
ভক্কডা বলেছেন:
ধর্মই সব নষ্টের গোড়া
আরিফুর রহমান বলেছেন:
ভক্কডা, দেইখেন, কালকে আপনার কল্লা কোন মাদ্রাসার সামনে পৈরা থাকতে পারে!
দস্যু বনহুর বলেছেন:
আলোচ্য বিষয়ে কগু ওর্ফে আইকমবাইক ওর্ফে মুক্তজিণুকের বিদগ্ধ মন্তব্য কামনা কর্ছি...
ভক্কডা বলেছেন:
@ আরিফ ডরাইছি!!!!!!!!!!!!!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
এই এক চিজ একলাই যথেষ্ট যেকোন আন্দোলনকে দুটুকরা করে দিতে। সেই বিটিশ আমল থেকে এখন পর্যন্ত এই অষুদের গুনাগুন অবিকল অটুট!
সমালোচনাকারী বলেছেন:
কেলিফোরনিয়ায় সমকামি বিয়া এ্যালঊড শুনছি। সাদিক মিয়ার মতলব কি? বিয়া করো শিগগির!! মাথায় উঠতাছে মনে লয় সব লিক্যুড!দস্যু বনহুর বলেছেন: আলোচ্য বিষয়ে কগু ওর্ফে আইকমবাইক ওর্ফে মুক্তজিণুকের বিদগ্ধ মন্তব্য কামনা কর্ছি...
আহমেদ শারফুদ্দীন বলেছেন:
ডেখো সব সময় হুজুর থেকে দুরে থাকবা বিশেষ করে যারা মিডা কথা কইয়ে চা নাস্তা খাওয়ানোর কথা কয়,
বুড়া শাহরীয়ার বলেছেন:
এই সমস্যা টা সব চেয়ে বেশী ছিল ক্রিসচিয়ান ফাদার দের ভিতরে।অদের নিয়ে একটা লিখা আশা করছি।
হুজুর দের ভিতরে যদি এমন সমকামিতা দেখা দেই তাদের শাস্তি ইস্লামি আইনে হলে খুশি হব।
মুহিব বলেছেন:
আমি বাচ্চাদের হুজুরের কাছ থেকে দূরে রাখি
রণদীপম বসু বলেছেন:
অবদমিত কামনা। যে ধর্মে বেড়িটা শক্ত বেশি, এসব গোপন সমস্যাও সেখানে বেশি। চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে গেলেই এর মহামারিত্ব বুঝা যায়।
কবিআব্দুল বলেছেন:
আমাদের কে জ্ঞানের আলোতে আসেত হবে। এই সমস্যাটা একটা কাল যা আমাদেরও আধকালা করে রেখেছে। লজ্জা এবং মান ইজ্জতের ভয়ে কেউ মুখ খুলেন।
কবিআব্দুল বলেছেন:
খুলেনা
ইরতেজা বলেছেন:
ধন্যবাদ
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
বাচ্চাদের হুজুরদের কাছ থেকে দূরে রাখা জরুরী । হুজুরেরা বাচ্চা পোলাপাইনরে বেশী মহব্বত করে !
ময়ুরবাহন বলেছেন:
শেষাংশটা দারুন নাটকীয়।
শাওন বলেছেন:
ইতা খিতা পড়িলাম আমি
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
পরলিঙ্গের উপর ভীষন আক্রোশ থেকে সমকামীতার সূত্রপাত হয়, নাকি পরলিঙ্গের প্রতি গভীর আকর্ষন এবং অপ্রাপ্তি থেক সমকামিতার সূত্রপাত হয়---সাদিক জানিস নাকি?
সাইকলিজষ্ট কি বলে।
সিরিয়াস বলেছেন:
ইস্কুলের এক টিচার নির্দিষ্ট কয়েকটা পোলাপানরে ডাইকা ক্লাসের মইধ্যেই অগো জিনিস হাতাইতো... ওই শালা হিন্দু আছিল...



















এই ব্লগের তিনকোনা ছাগু এক সময় মাদ্রাসায় পড়তেন শোনা যায় তিনিও নাকি সমকামী।
মাদ্রাসা এবং সমকামী নিয়ে অনেক কিছু জানলাম,ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।