আমার প্রিয় পোস্ট

যে ঘড়ি তৈয়ার করে - সে - লুকায় ঘড়ির ভিতরে

সাদিকের ফটোব্লগ। বৃষ্টি মেঘ, কাকের রিচুয়াল আর হলুদ কদমের বিকেল

৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬

শেয়ারঃ
0 0 0



বর্ষার থম থমে মেঘ যখন পুরো আকাশটা ছেয়ে যায় তখন শহুরে কাকদের নিজস্ব একটা রিচুয়াল আছে। প্রকৃতির সাথে সংযোগ এই আমরা শহুরে মানুষেরা প্রায় সবটাই হারিয়ে ফেললেও পাখীদের ভিতরে অদৃশ্য বন্ধনটা অনেক বেশি পোক্ত। তাই বৃষ্টি নামার আগেই প্রকৃতির পরিবর্তনকে বুঝে নিয়ে সেটাকে উযযাপনের একটা সাড়া পড়ে যায় পাখীদের ভিতরে। তাই আজকে একটু আগে পুরো ঢাকার উপরে যখন ঘন কালো মেঘ তার আগে থেকেই পাখিদের ভিতরে কি একটা যে ব্যস্ততা সেটা অফিসের ভিতরে বসেও টের পাওয়া যাচ্ছিলো।



আমার বিগত জনমের কোন শুভ আমলের বদৌলতে একেবারে অফিসের বিল্ডিং ঘেষে একটা বিশাল কদমফুল গাছ। জীবনে কদম ফুলগাছের এত কাছে থাকিনি। চার তলার বারান্দায় দাড়ালে বড় গাছটার সাথে নিজেকে সমান ধরে নেওয়া যায়, ওর কান্ডকারখানা আর ফুল পাতার খেলাটা কাছ থেকে দেখা যায়। কদম ফুল গাছের কাছে থাকার একেবারে ঠিক সময় এটাই। বারান্দায় দাড়ালে ফুটে থাকে কয়েকশ কদম ফুলের মাদক গন্ধ আলিঙ্গন করে একসাথে। এই গাছটা যে এত দ্রুততার সাথে নিজেকে হালকা সবুজ সবুজ কদম ফুলের গুটিতে ছেয়ে ফেলবে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা পুষ্ট হলুদ রঙের কদম ফুলে নিজেকে সাজাবে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। প্রায় প্রতিদিন গাছটাকে দেখি, কদম ফুলগুলোর বেড়ে ওঠা দেখি, তারপরেও এখনকার পুরো বড় বড় কদম ফুলগুলো যে কিভাবে কখন এত বড়, এত সুন্দর হয়ে উঠেছে তা ধরা যায় নি একেবারেই।

এই বিরাট কদম গাছের সৌজন্যেই প্রচুর পাখির কিচিরমিচির। বৃষ্টির মেঘ করায় তাদের প্রাণচাঞ্চল্য আরো বিশাল আকার নিয়েছিলো। যখন ঢাকার আকাশ অনেক মেঘ থম থম তখন অফিসের বারান্দায় দাড়াতেই শহুরে কাকদের বৃষ্টি নামার পূর্বের সেলিব্রেশন রিচুয়ালটা চোখে পড়লো। খালি আকাশ, তার উপরে থোকা থোকা বৃষ্টির মেঘের নিচে গোল হয়ে তাদের সবার মিলে সেকি উড়ে বেড়ানো! শিশুরা যেভাবে মাঠে সবাই মিলে হাত ধরে গোল হয়ে খেলার ব্যাপারটা করে, কাকদেরও এর কাছাকাছি একটা ব্যাপার আছে। ওরা প্রায় পাখা স্পর্শ করে গোল হয়ে আকাশে উঠে বেড়ায় বৃষ্টির ঠিক আগে আগে। অথচ যখন বৃষ্টির ফোটারা নেমে আসে তখন কিন্তু ওরা আর ওড়ে না। কোন গাছের কোন পাতার নিচে ততনে তাদের আশ্রয় নেবার কাজ সারা।



ছবিগুলো গুলশান ২, ঢাকার আকাশ, অফিসের পাশের কদমফুল গাছের।



 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: প্রথম ছবিটা- গন্ধসম।
পরেরটা- বাংলা-এখন।
তারপরগুলি -অবিরল জীবন।



*ফুলার রোডের সেই ভেজা লাল কৃষ্ণচূড়া আজও মনে আছে ...
২. ৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫১
স্বপ্নময় বলেছেন:
দারুন রেজু। আমার সনি মারা গেছে। নকি ৬৩০০ শেষ ভরসা।

কেমন যাচ্ছে দিন কাল?
৩. ৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭
কৌশিক বলেছেন: আমার ক্যামেরটা ইন্তিকাল করছে পড়শু!
৪. ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:০৬
শ।মসীর বলেছেন: ভাল লাগল বর্ষার আগমনী দেখে।
৫. ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:১৪
কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি বলেছেন: মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি ভালো লাগে না, তবুও মেঘলা আকাশে পাখির উড়া-উড়ির ছবিটা ভালো লাগলো।
কদম ফুল কত বছর পরে যে দেখলাম! :(

বৃষ্টিভেজা শুভেচ্ছা
৬. ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:২০
মে ঘ দূ ত বলেছেন: কদমের এতো সুন্দর ছবি আগে দেখিনি।

একেবারে গন্ধসম ছবি। ইমনদা যথার্থই বলেছেন।
৭. ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:৫৮
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: সবাইকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

কারো আইডিয়া আছে, কদম ফুলের ইংরেজী নামটা কি? জানলে সুবিধে হতো।
৮. ৩১ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:১৬
সুনীল সমুদ্র বলেছেন:

সাদিক, কতোদিন পর আপনাকে পেলাম আবার !
এই চমৎকার ফটোব্লগ আপনার সেই সেরা লেখাগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে আবার।

আছেন কোথায়?
এখন কী ঢাকাতেই আছেন?
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: প্রিয় সুনীল,
হ্যা ঢাকাতেই এখন। আপনার সাথে একদিন দেখা হলে খুশি হবো।

আমারই ইমেইল:

৯. ০১ লা জুন, ২০০৯ রাত ২:৩৬
লাইল্যাক বলেছেন: সুন্দর ছবি। ইচ্ছা করছে কয়টা ফুল ছিঁড়ে বাসায় নিয়ে যাই।
১০. ০১ লা জুন, ২০০৯ রাত ২:৩৮
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: কদম ফুলের ছবি দুটি সুন্দর।
১১. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
আকাশ অম্বর বলেছেন:

সুন্দর ছবিগুলো। +
_________________

অ.ট - আপনার সুফীজম নিয়ে অন্য ব্লগের লেখা ভালো লেগেছে।

+

আপনি যে স্কুলটা করেছেন, সেটার ব্যাপারে আগে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর আমার এ নিয়ে যদি কোন কৌতুহল থাকে, আমি কি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারি?
_________________

ভালো থাকবেন সাদিক ভাই।
শুভকামনা।
০৩ রা জুন, ২০০৯ রাত ১:৫১

লেখক বলেছেন: অবশ্যই যোগাযোগ করতে পারেন।

শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকবেন।

১২. ১৬ ই মে, ২০১০ সকাল ১১:৪৫
সাজিদ বলেছেন: বস, কদম ফুলটা এই দেশগুলোতে কেন দেখা যায় না বুঝি না। এত চমৎকার একটা ফুল। কদমা নামের একটা মিষ্টিও আছে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১০০৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রথমত: সময় নাই। দ্বিতীয়ত এখনই সময়। তৃতীয়ত: আমি না থাকলেও ব্যাপারটা ঘটবে, তবু আমাকেই চাই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ