আমার প্রিয় পোস্ট

খুব জরুরী না ...

সিংহপুরের ডায়েরী

০৭ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১:০০

শেয়ার করুন:                   Facebook

6ই মে, শনিবার। রাত 8টা।
ডোভার রোড, সিংগাপুর।

গত শুক্রবার রাতে (5ই মে, 2006। সিংগাপুর) মাশীদ তার প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাঁচকি মাছ রান্না করে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রন করে আমি সহ আমাদের ল্যাবের আরেক বাংলাদেশী এবং আমাদের আরেক ব্যাচমেইটকে সস্ত্রীক। ল্যাব শেষ করে বাসায় ফিরে রান্না গুছিয়ে উঠতে উঠতে ওর প্রায় রাত দশ। এর ভিতরে কয়েক প্রস্থ এসএমএস বিতরণ করে মাশীদ নিশ্চিত করলো দশটার ভিতরে সব প্রস্তুত হয়ে যাবে, তখন যেন আমরা যাই।

সময় মতো বাস ধরে চলে যাই পোস্ট গ্রাজুয়েটদের বাসস্থান গিলম্যান হাইটসে। মাশীদের এ্যাপার্টমেন্ট প্রায় আঁকাশ ছোয়া পনেরো তলায়। গিয়ে দেখি টেবিল ভর্তি আয়োজন। বারবার কম আইটেম, কম আইটেম বলার পরেও দেখি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মাশীদ তৈরী করে রেখেছে আলু ভতর্া (বেস্ট), ঢেড়স ভাজি (সেকেন্ড বেস্ট), শশা দিয়ে চিংড়ি মাছ (আমার ভাগে ইচ্ছে করে বুড়ো শশাগুলো ছিলো, তবু খাবারটা যথেষ্ট সুস্বাদু, তাড়িয়ে তাড়িয়ে ওটার ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খেয়েছি), ঘন ডাল (সিংগাপুরে ওর প্রথম রান্না ডাল, তবুও বলবো এ ক্লাস) আর মেইন আইটেম কাঁচকি মাছ (এই জিনিস সিংগাপুরে আবিস্কার করাটা একটা বিস্ময়) .. আর কি ছিলো? ও ভাত, আচার (2 পদ)। এত দ্রুত (2 ঘন্টারও কম সময়ে) 'খুব বিরক্তিকর একটা হটপ্লেট' আর একটা মাইক্রো ওভেনে এতগুলো আইটেম কিভাবে রাঁধলো এটা নেক্সট টাইম কাছ থেকে দেখে তবেই রহস্য মীমাংসা করতে হবে! আন্দাজে বলতে পারছি না।

কনুই ডুবিয়ে খেয়েছি। আমি নিজে রান্না বান্না করি কম। যা করি জোড়া তালি, ভাত আর আরেকটা পদ। আলস্য লাগলে পাউরুটি দিয়ে সেরে নেই। বেশিরভাগ সময়ে ভার্সিটির ক্যান্টিনে দক্ষিন ভারতীয় খাবার, মালে, চীনা বা জাপানী খাবার খেয়ে দিন কাটে। আমার জিহ্বায় তাই প্রত্যেকটা খাবার বিশেষ অমৃত লেগেছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কেউ ডাইনিং টেবিলে, কেউ সোফায় পা উঠিয়ে বসে খেলাম। কে বলে জীবন সুন্দর না?! উপভোগ করতে জানলে শর্ষে দিয়ে আলু ভতর্াও স্বগীর্য় মনে হয়।

খাওয়ার মধ্যে হঠাৎ মাশীদের হাক, এই গরুর মাংশ রান্না করা আছে আগের একটু, কেউ খাবি? বাকিদের খাওয়া তখন প্রায় শেষ, আমি উৎসাহে ওকে আশ্বস্ত করি .. 'আমি আছি'। নিজের ভাত খাওয়া ফেলে দৌড়ে ফ্রিজ থেকে বের করে নিয়ে, ওভেনে গরম করে ফ্যালে মুহুর্তের ভিতরে। আমি দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে সোফায় বসে বসে মনে মনে ভাবি, এই মেয়েটা এত ভালো কেন !!

আগের রান্না করা গরুর মাংশটা ছিলো কাস!! মাংশ যত বাসী হয় তত মজা হয় এই তথ্যতো সবাই জানেন। আর তারচেয়ে বড় কথা ওটার মসলার ব্যবহার ছিলো জটিল, সাথে ছোট আলু, তলানীর ঝোল। আর কিছু বলতে হবে? ভাত খাওয়া শেষ তখন, পেট টইটুম্বুর ... তবুও ভাত টাত ছাড়াই মাংশের টুকরোগুলো খেয়ে নিলাম। শুকর আলহামদুলিল্লাহ।

খাওয়ার পরে কিঞ্চিৎ বাতচিত, আমি মাশীদের বিছানায় পাওয়া গেমবয়টা নিয়ে হালকা বিভিন্ন গেম ট্রাই করছিলাম (শ্রেক টু বেশি ভালো ছিলো)। সেটা হাইজ্যাক করার চিন্তাটাও বলে ফেলেছি, কিন্তু পরে আবার ভুলেও গ্যাছি। হঠাৎ প্রস্তাব সুইমিং পুলের পাড়ে চলো, বাতাস আছে ওখানে; ল্যাপটপে নাটক দেখা হবে।

নাটক দেখা (2টা), শিশুদের কর্ণারে দোলনায় দোল খেতে খেতে আড্ডা, সুইমিং পুলে গভীর রাতে সাতার কাটা দুইজন মানুষের কান্ডজ্ঞান নিয়ে সমবেত গবেষণা, সামহোয়্যারের ব্লগ থেকে বেছে হিমুর দুটি চরম হাসির পোস্ট জোরে জোরে পড়া (মাশীদ পড়ে শুনিয়েছে) সবাই হাসিতে লুটিয়ে পড়া (একই সাথে হিমু ব্যাটা এত ভালো ক্যামনে ল্যাখে এইটা নিয়ে আমাদের হা হুতাশ ও গোপন গর্ব) ইত্যাদি সব শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভোর তখন প্রায় 6টা। মাশীদ তখন আমাদের ক্যাবে উঠিয়ে বিদায় জানাচ্ছে গিলম্যান হাইটসের সিড়ির কাছে দাড়িয়ে।

আকাশে তখন পরম রহস্যময় তার অপরূপ মোহনীয় আলোর বর্ণচ্ছটা ছড়াতে শুরু করেছেন। জীবনের অসংখ্য রাতের ভিতরে এক রাতের স্মরণীয় কিছু স্মৃতি মস্তিষ্কের কোঠরে ধারন করে নিয়ে আমরা ফিরে যাই নিজ নিজ ঘরে।

ভালো থাকিসরে মাশীদ। থ্যাংকস ফর দা ট্রাবলস। তোর জন্য আজীবন শুভ কামনা।

ছবি: কোন এক বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে আমাদের এক বন্ধু সহ, আমি ও মাশীদ।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ৭৮২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: তবুও আমি নজর দিয়া যামু ..বহুৎ দুর থিকা হইলেও...
২. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনারা এতো খান ক্যান?
৩. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: মাশীদ, হলুদ শাড়ী পরিহিতা যদি হন তবে মনে হয় আপনাকে কোথাও দেখেছি। আপনার মুখটা বেশ পরিচিত। কোথায় দেখেছি ঠিক মনে করতে পারছি না। মনে পড়লে জানাবো।
৪. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ছোট বেলায় মক্তবে ফাঁকি দিলে হুজুর লোক পাঠাইতো ধইরা নিতে। আমি আবার ধইরা আনা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলাম একটা টেকনিক্যাল কারণে । একবার একজনরে ধইরা আনতে গিয়া দেখি ও টিয়া পাখি নিয়া খেলে। কিসের ধরাধরি, বাকি গুলারে নিয়া আমিও খেলতে লাইগা গেলাম টিয়া পাখির সনে.... পরের কথা আন্দাজ করতে পারেণ।

বেলজিয়াম যান আর হল্যান্ড... বেশী দূর না দাদা। ধইরা আনতে গেলে কী দিয়া বুঝ দিবেন, টিয়া পাখিতো আর নাই !
৫. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: হাহাহা.... টিয়া পাখি না থাউক, মাঠ ভরা টিউলিপ আছে না !!
৬. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: সাইমুম বলেছেন: আমি খাই নাই, তাই রেটিংও দিমু না, কমেন্টও করুম না।
৭. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: সাদিক, গল্পের শেষে পুনশ্চ দিতে ভুলে কী করে হয় দাদা?
"হিমু এবং মাশীদের এই লিখা পড়া নিষেধ !"

তা আসার আগে রেসিপি গুলা বুচকি বেঁধে নিয়া আসতে ভুলে যাইয়ান না। আপনার রান্নার গিনিপিগ হবার দিন গুনতেছি ! টের পাইবেন, এখানকার পাবলিক রে খাবারের লোভ দেখাইলে কী হয় (চালহাসি)

বদ্দা কিছু যোগ করেণ দেখি...।
৮. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: গভীর রাতে (2টা বাজে) ল্যাবে বসে দমকা না হাসায়ে ছাড়লেন না আপনার। ধুসর আপনি হাসাইতেও পারেন।

লগে ভয় ঢুকায়ে দিলেন তো মিয়া !! জামর্ানী থুইয়া বেলজিয়াম নাইলে হল্যান্ড যামুগা কিন্তু।
৯. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অরূপ বলেছেন: শালার আইনের ভাইরাই সব খাইলো...
১০. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: আপনার বর্ণনা শুনে আমার আবারও একবার সিঙ্গাপুর যেতে ইচ্ছা করছে। অফিসের কাজে 87 থেকে 95 পর্যন্ত চার বার বেড়ানো হয়েছে। আমার প্রিয় একটা শহর। এবার আড্ডা মারতে যেতে ইচ্ছা করছে। সাদিক আপনি সময় বের করে রাখবেন হুট করে চলে আসতে পারি।
১১. ০৭ ই মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাগ্যিস খাবারটা হজম করে পোস্টটা দিয়েছিলাম। আপনাদের ভাব ভঙ্গি দেখে তো মনে হচ্ছে আগে দিলে পেটের খবর হয়ে যেতো।

এ্যাত্তো নজর কেউ দেয় নাকি !!
১২. ০৭ ই মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: কালপুরুষ একটা ইমেইল ড্রপ করে চলে আসেন যেকোন সময়। আমি থাকি না থাকি, বন্ধু পেয়ে যাবেন অনেক এখানে।
১৩. ০৭ ই মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: আমি আছি অন্য টেনশনে। গত একমাস মায়ের হাতের রান্না খেতে ওজন 5 কিলো বেড়েছে। আজ রাত থেকে সালাদ খাওয়া শুরু।আর একটা সমস্যা- প্রতি সপ্তাহে দাওয়াতের ধুম পড়ে গেছে। এমনিতেই যে পরিমান মুরগি আর গরুর মাংস খাওয়া হয়, তাতে খুব শিগ্রই রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে হবে। আমার জিমে যাওয়ার নাম শুনলে জ্বর আসে।
১৪. ০৭ ই মে, ২০০৬ রাত ১০:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: এই ব্লগ পড়লে মনে হয় পৃথিবীতে বিষয় একটাই। ধর্ম।
অথচ সাদিকের এই দিনপঞ্জি কত বেশি না আবেদনময়।
জীবনের এইসব ছোটখাটো অথচ মন-আকুল করা ঘটনার কথা লিখবেন সাদিক। বেশি করে লিখবেন।

কিতাবের ধর্মের চেয়ে জীবনের ধর্মের সাথে আমাদের আলাপ-পরিচয় বেশি করে হবে। অনেক জরুরি সেটা।
অনেক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ হলদে পরী, নব্য রাঁধুনি মাশীদকেও।
১৫. ০৮ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: থ্যাংকস শোহেইল ভাই। ব্লগের বর্তমান হালচাল দেখিয়া আমি নিজেও যারপর নাই বিব্রত ও লজ্জিত।

আপনার অনুরোধ মাথায় থাকবে। লিখবো জীবনের আনন্দ বেদনার কাব্য নিয়ে। এই জীবন যে স্রষ্টার অসাধারন এক দান সেটা সাধারনত ভুলি না পুরো সময়টা।
১৬. ০৮ ই মে, ২০০৬ সকাল ৭:০৫
comment by: মাশীদ বলেছেন: তোর মতলব কি রে? ইমুন পাবলিকলি এইরকম তেল কেউ দেয়? আমি যাই কই? তুই নির্ঘাত প্রতি শুক্রবারেই এরকম আশা করছিস, না? ভাগ্যিস প্রতি শুক্রবার সিঙ্গাপুরে থাকি না...অবশ্য মালয়েশিয়া গেলেও বেটা অরূপ কম যন্ত্রণা করে না.......কপাল!

যাই হোক, বেশি তেল আমার খুবই ভাল লাগে। তোর পোস্ট পড়ে বহুত খুশি খুশি লাগছে। থ্যাংকু, থ্যাংকু। নেক্সট টাইম আলু ভর্তা বানালে তোকে আবার দাওয়াত দেব নে, যা!

কালপুরুষ ভাই, আমাকে চেনা-চেনা (বা হিমুর ভাষায় চীনা-চীনা) লাগলে হয়ত আপনি আমাকে বুয়েটে বা ছায়ানটে দেখে থাকতে পারেন।

শোমচৌ বস, আমি খুব বেশি রান্না না জানলেও ঠিক নব্যও না। বাসার কাজের বুয়া চলে গেলেই আমাকে টেম্পোর্যারিলি বুয়ার কাজ করতে হত :-( সে বিদ্যা আজকাল কাজে লাগছে মাঝে মাঝে।
১৭. ০৮ ই মে, ২০০৬ বিকাল ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: হা...হা... মাশীদ নো মতলব। কিছু ভালো লাগলে বা খারাপ লাগলে টুক করে লিখে ফেলার বদভ্যাস বদতে পারিস।

থিসিস লেখার যন্ত্রনায় আছি। আপাতত প্রতি উইকএন্ডে পোলাই কোর্মার দাওয়াত দিলেও আমি নাই।

তবে নেক্সট টাইম শর্ষের তেল দিয়ে আলু ভতর্া বানাইলে প্যাকেটে প্যাচাইয়া নিয়ে আসিস ল্যাবে (দুটো কচি সবুজ দেখে কাঁচা মরিচসহ), আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যান্টিনে ভাতের সাথে চালিয়ে দিবো নে।
১৮. ০৫ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৩১
comment by: সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: মাশীদ তোর কমেন্ট আইজকা আবার পড়লাম এতদিন পরে।
১৯. ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩৪
comment by: রশ্মি বলেছেন: লেখাটা অন্যরকম ভালো। পড়ে যাই মাঝে মাঝেই।
মাশিদ আপু তো এমনিতেই অনেক ভালো।
২০. ২৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৪৮
comment by: মাশীদ বলেছেন: তোর প্রিয় পোস্টের তালিকায় দেখে আবার পড়লাম। বলাই বাহুল্য যে এটা আমারো একটা প্রিয় পোস্ট :-)। ঠিক এক বছর পর তোর কমেন্টটা দেখলাম। আহা! সেই দিনগুলো কই গেল! খুব ভাল কেটেছিল সেই রাতটা। অনেক রাতের মধ্যে স্মরণীয়। সিঙ্গাপুরে তোদের সাথে এরকম বেশ কিছু রাত কাটালাম। মাঝে মাঝেই ভাবি, এক জীবনে এই বা কম কী! বরং অনেক অ-নে-ক বেশি।

ভাল থাকিস রে পাগলা!

 



 


পাগলামী থাকা না থাকা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৬৬৫১৪