আমার প্রিয় পোস্ট
- বোকা বাউলের পদ্য: নিজেকে ওভাবে মেলতে নেই - প্রণমি যীশু, মনসুর আল হাল্লাজ অথবা হুমায়ুন আজাদ - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- সিংহপুরের ডায়েরী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- কুয়ালালামপুরের ডায়েরী: গোপালীয় খানাপিনা আর রোবোকন প্রতিযোগিতা - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কুরবাণী করতে হুকুম প্রাণ প্রিয় ধন। গরু ছাগল হইলো কি তোর এতই প্রিয় ধন? - ফিরে দেখা কুরবাণী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমাদের সক্রেটিস - আরজ আলি যেভাবে একজন আরজ আলি হয়ে ওঠেন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- ধর্মান্ধরা মুড়ি খাও: চাঁদ দেখতেই হবে? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শেষ কবে আপনি একেবারে নতুন কিছু করেছেন? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- প্যারাডক্স : সব পূর্ব-নির্ধারিত (প্রিডেস্টিনেশন বা ভাগ্য) হলে আপনার আমার কি দোষ (শেষ বিচার, কর্মফল -এর ধারনা অর্থহীন )? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- 100তম পোস্ট: আগন্তুকের সাথে মৌন কথোপকথন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
কেন আহলাল বায়াতদের সংরক্ষিত ইতিহাস জানা, ইসলাম জানার জন্য জরুরী ... ধমর্ান্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামের উদার বাণী জানার জন্য জরুরী ...
০৯ ই মে, ২০০৬ সকাল ১০:৪৪
স্থান আমেরিকার টেক্সাস। শহরের অন্যতম বড় চার্চ। দিন রবিবার। বিকেল বেলা। টেক্সানরা বেশ ধার্মিক, কনজারভেটিভ। চার্চে বিশাল জন সমাগম। এখনও বাচ্চা কাচ্চা থেকে শুরু করে তরুন, বুড়ো বুড়ি সবাই ভিড় করে রবিবার। পাদ্রি তার মূল বক্তব্য শেষ করেছেন। বিভিন্ন ধর্মের বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি এবং কেন খ্রিষ্টান ধর্ম পৃথিবীর সেরা, কেন পৃথিবীর বেশিরভাগ লোক যিশুকে বিশ্বাস করে সে সম্পর্কে খোতবা দিচ্ছিলেন।
পাদ্রির মুখেই শোনা যাক: "আর ঐ মোসলেম ফ্যানাটিকগুলোর যে ধর্ম সেইটার কথা শুনলে তো ঘেন্নায় মাথা কাঁটা যায়।
আরবের মরুভুমিতে একদল জোব্বা পড়া, মাথায় লাল সাদা কাপড় প্যাচানো অশিক্ষিতের ধর্ম ইসলাম। মুখে বলে ইসলাম ইজ পিস, ইসলাম ইজ পিস, কিন্তু তলোয়াড় দিয়ে মানুষকে কনভার্ট করেছে।
এরা দিনে পাঁচ বার মাটিকে চুমু খায়। মরুভুমির মধ্যে একটা চারকোনা বাক্সরে ঘুরে ঘুরে হাউমাউ করে। হাউ মাউ শেষে উট জবাই করে। এদের কোরান হইলো একটা টেরোরিস্ট ম্যানুয়াল। এরা মেয়েদের খোলসে পুড়ে রাখে, ইচ্ছা বিরুদ্ধে তাদের রেইপ করা তাদের ধর্মের নিদের্শ। নারী পুরুষের দাস, শিখিয়ে গেছেন এদের ভন্ড প্রফেট।
এরা প্যাগান মুন গডরে পুজা করে। এরা মুখে বলে এদের গড আর খ্রিস্টান গড একই, কিন্তু আসলে না। এদের ধর্ম যে বানাইছে সে হইলো প্রফেট মাহোমেত। তার মৃগী রোগ ছিলো, তাই হঠাৎ হঠাৎ উলটা পালটা দিবা স্বপ্ন দেখতো এবং সেইগুলো 20 বছর ধরে গোপনে লিখে লিখে সেটাকে ধর্মগ্রন্থ বলে চালায়ে দিছে।
এরা প্রত্যেকে চারটা বিয়ে করে। মাহোমেত অবশ্য বিয়ে করেছিলো ডজন খানেক। এই হইলো ইসলাম।
চার্চ ভর্তি সবাই রি রি করে নিজেদের ঘৃনা প্রকাশ করে ইসলাম সম্পর্কে। হল ভর্তি সবার ফিশফাশ শুরু হয় । মহিলার গলাই বেশি শোনা যায়। ফিশফাশ ছাপিয়ে মাঝে মধ্যে শোনা যায়, বর্বর, ইনফিডেল, প্যাগান, মুনগড, প্রফেট মাহোমেত ইত্যাদি টুকরো শব্দগুলো।
---------------------------------------
যে ঘটনার কথা বললাম এটা হলো খ্রিস্টান ফান্ডামেন্টালিস্টদের চার্চে কিভাবে ইসলামকে উপস্থাপন করা হয়। মজার বিষয় হলো একবিংশ শতাব্দিতে এসেও পশ্চিমা বিশ্বে খ্রিস্টানরা তাদের অন্ধবিশ্বাসীদের এভাবেই ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে থাকে।
---------------------------------------
হার্ডকোর খ্রিস্টানদের লেখা ইসলাম সম্পর্কে বই ঘাটলেও এই একই রকম ছবিই পাবেন যেখানে মুসলিম মানেই আরব প্যাগান যারা দিনে পাঁচ বার মাটিতে চুমু খায় এবং বউ পিটায়।
ধরুন আপনি খ্রিস্টান। এখন আপনি যদি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চান তাহলে খ্রিস্টানদের কাছ থেকে যদি জানেন তাহলে সত্যি দৃশ্যটা কি জানতে পারবেন? যে দৃশ্য উপরে বললাম ঠিক সেইরকম একটা ছবি দেখতে পাবেন। ইসলাম জানতে লাইব্রেরিতে গিয়ে কার লেখা বই বের করবেন, রেফারেন্ড ফিলিপ জনসন নামের পাদ্রীর লেখা: "ইসলাম - এ রিলিজিয়ন স্প্রেড বাই সোর্ড" .... নাকি কোন মুসলিম স্কলারের লেখা "ইসলাম : দি মেসেজ"?
---------------------------------------
তুলনামূলক ধর্ম তত্ব আমার প্রিয় বিষয়।
ইসলাম ধর্মের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ইনহারেন্টভাবে একটি কম্প্যারেটিভ রিলিজিয়ন। কুরআনে তাই বারবার খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মের কথা এসেছে, পিপল অফ দি বুকের কথা এসেছে। তখন স্টাডির সময়ে যেটা খুব ভালোভাবে বুজেছি তা হলো ধর্ম বা দর্শন যেকোন ভিউ পয়েন্ট জানতে হলে অন্য পক্ষেরটা জানতে চাইতে সেই পক্ষের মানুষের কাছ থেকে জানতে হবে।
কেবল মুসলিম ঘরে জন্মেছি বলেই যে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে তা নয়। আমি মন খুলে পড়েছি হিন্দু ধর্মের গীতা, উপনিষদ; পড়েছি বাইবেল, বাহাই দের বই এবং বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র বইগুলো ও সেই দর্শগুলো।
ইসলাম সম্পর্কে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী নিশ্চিত ভাবেই বায়াসড করা বলবে। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে উপনিষদ এবং তার ব্যাখ্যা পড়তে হবে যা সেই ধর্মের একজন লিখেছেন। নইলে বিদ্্বেষ মেশানো মিথ্যে একটা ছবিই পাবেন, আর কিছু নয়।
---------------------------------------
এবার আসুন ইসলাম সম্পর্কে। মেইন স্ট্রিম ইসলাম, মেইন স্ট্রিম হিস্ট্রি বলে যারা চিল্লা পাল্লা করেন তাদের জন্য বলছি যে ইসলামের ইতিহাস এত সরল নয় যে বেশিরভাগ মানুষ যা করছে তা দেখে সেটা সত্য ধরে নিতে হবে। মুসলিমদের ধমর্ান্ধতার পেছনে এই মনোভাবটিই মুলত দায়ী। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই তো খ্রিষ্টান, তাই বলে পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্রিষ্টানরা কি ইসলাম সম্পর্কে জানছে না? জেনে মনে প্রাণে গ্রহনও করছে হাজারে হাজারে।
মুহাম্মদ (তার প্রতি সালাম) মৃতু্যর সাথে সাথে একটা ট্রানসফরমেশনের মধ্যে দিয়ে যায় পুরো মুসলিম কমিউনিটি। যে নবীর পরিবারকে কুরআনে এবং নবী নিজে বারবার মযর্াদা দিতে বলেছেন তাদের সুকৌশলে হত্যা করতে শুরু করে একদল নরপিশাচ, উদ্দেশ্য ক্ষমতার ভোগদখল।
নবীর পরিবার ও লিনিয়েজ এতটাই সন্মানের যে আজো প্রতি নামাজের শেষে নবীর সাথে তার পরিবারের প্রতি স্রষ্টার রহমত কামনা করা হয়। Allah humma sal-li 'ala Muhammadin wa 'ala aali Muhammadin
এখানেই বোঝা যায় নবীর সমপর্যায়ে তাদের নাম উচ্চারনের মাধ্যমে তাদের কতটা সন্মান দিতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।
যাই হোক, এখন নবীর মৃতু্যর প্রায় 50 বছর যেতে না যেতেই হাসান হুসেইন দুইজনকে শহীদ করা হয়। ততদিনে মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতা নরপিশাচদের হাতে চলে এসেছে। মুয়াবিয়া, ইয়াজিদরা খলিফা বা শাসনকর্তা।
এদিকে ততদিনে সুসংবদ্ধ ধর্ম হিসেবে ইসলামের চেহারাটি কি দেখা যাক। নবীর মৃতু্যর প্রায় 25 বছর লেগেছে পুরো কুরআন কমপাইল করতে। হাতে গোনা কিছু মানুষ কেবল লিখতে ও পড়তে পারতো। অনেক হাফেজে কুরআন বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত। সিংহভাগ মানুষ পড়তে জানে না।
খেয়াল করুন ইমাম বুখারীর বা অন্যান্য সুন্নী ইমামদের নবীর শিক্ষাগুলো কমপাইল করা হয়েছে নবীর মৃতু্যর প্রায় 200 থেকে 250 বছর পরে। অন্যান্য হাদীসের বইগুলো আরো পরে।
মুয়াবিয়া, ইয়াজীদরা যেহেতু অনৈতিক শাসক ছিলো তাই তারা ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করে, যা ঘটে নবীর মৃতু্যর মাত্র অর্ধ শতক বছরের পরেই। আজকের দিনের রাজনৈতিক দলবাজ বুদ্ধিজীবিদের মতো, শাসকদের তোষনকারী ধর্মপুতুলদের হাতে দায়িত্ব পরে ধর্মকে শোষকদের মতো করে তৈরী করা।
নবীর লিনিয়েজ ও পরিবারের মানুষজনের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া এইসব তোষক ধর্ম পুতুলদের একটা বড় কাজ ছিলো। ফলাফল স্বরূপ নবীর শিক্ষা যারা সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছে সেই মানুষদের রেফারেনস ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলো (যেমন আলী, খেয়াল করবেন সহীহ বুখারী বা মুসলিমে নবীর নিজ রক্তের মানুষজনের কাছ থেকে খুব কম হাদীসই পাবেন)।
কারবালার সাথে সাথে আহলাল বায়াতদের অথর্াৎ নবীর লিনিয়েজের মানুষদের একেবারেই কোনঠাসা করে দেওয়া হয়, ভুখন্ড থেকে তাদের বারবার হিজরত করতে বাধ্য করা হয় যেমন করা হয়েছিলো পবিত্র নবীকে। কিন্তু তারা ইসলামের শিক্ষা এবং ইতিহাসকে পবিত্রভাবে সংরক্ষন করেছে। তাদেরকে বলা হয় আহলাল বায়েত।
অন্যদিকে শোষকরা ইতোমধ্যেই সংখ্যা গরিষ্ট। তারা ইচ্ছে মতো ইতিহাস লিখেছে, হাদীস পরিবর্তন করেছে, ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ অনুসারে লিখেছে। তাদের ইতিহাসটাই বিজিতের ইতিহাস হিসেবে পৃথিবীর সুন্নীদের কাছে চলে এসেছে।
সুন্নী পৃথিবীতে পবিত্র নবীর লিনিয়েজ সম্পর্কে কুটকৌশলে এতটাই বিদ্্বেষ ছড়ানো হয়েছে যে সেখানে শিয়া একটা গালি সমতুল্য টার্ম আজকে। শিয়া ইতিহাস মানে মিথ্যা ইতিহাস, শিয়া ইসলাম মানে মুতাদি।
---------------------------------------
এই যখন দুইটা দিক তখন আমার বক্তব্য পরিস্কার। ঠিক যেভাবে একজন ধমর্ান্ধ খ্রিস্টান পাদ্রীর কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কেজানতে চাইলে আপনাকে অন্ধকারেই থাকতে হবে প্রকৃত সত্যের থেকে; তেমনি ইসলামের সত্যিকারের ইতিহাস জানতে হলে কেবল সুন্নীদের লেখা ইতিহাস জানলেই হবে না। নবীর পবিত্র লিনিয়েজরে সংরক্ষিত, রক্তাক্ত ইতিহাসও জানতে হবে। তাদের পক্ষ থেকে পড়লে তবেই বুঝতে পারবেন ইসলামের উদার বাণী ঠিক, কোথায়, কখন বারবার ধমর্ান্ধদের দ্্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। ইভেন কারবালার যে ইতিহাস সুন্নীরা পড়ে আসছে সেটা কারা লিখেছে? লিখেছে যারা খুন করে জিতে আসলো তাদের তাবেদার ধর্ম পুতুলরা। সুতরাং সেখানেও গলদ আছে আমাদের জানার। কারবালা ও সমসাময়িক সময়টা সম্পর্কে তাই আহলাল বায়াতদের সোর্স থেকে পড়ুন। তারা তাদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক বেশি সত্যবাদী, অন্তত কুচক্রি খুনিদের চাইতে। (তুলনাটা অনেকটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো। পাকিস্তানে দেখা হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটা গন্ডগোল এবং ভারতের কুট ষড়যন্ত্রে মুসলিম জাতির বিখন্ড হওয়া; আর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ মানে হলো লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে দেশবাসীর চরম আত্নত্যাগ। কারবালায় পরাজিত নবীর লিনিয়েজরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তুলনা করা যেতে পারে । তাদের কথা ঐ পাকিস্তানীদের কাছ থেকে শুনতে চাইলে কি ছবি পাবেন বুঝতেই পারছেন। শহীদ সেই মহাপুরুষদের কথা জানতে তাই তাদের মুখ থেকেই শুনতে হবে।)
এ কারনেই আমি বলেছিলাম আহলাল বায়াতদের লিটারেচার পড়ার জন্য। সুন্নী আলেমদের ঢালাওভাবে দোষ দিচ্ছি না, শিয়াদেরও ধোয়া তুলসীপাতা বলছি না। মূল কথা হলো ইসলামের উদারবাণীর পরিবর্তন ঘটেছে। তাই ইন্টেলেকচুয়াল ইসলাম, উদার ইসলাম, নবীর প্রকৃত শিক্ষার ইসলামের কথা জানতে হলে দি আদার সাইড অফ দি কয়েনটা জানা খুব জরুরী।
ভুলে যান শিয়া বা সুন্নী টার্ম দুটি। এরকম কোন টার্ম মহান নবী শিখিয়ে জান নি তার উম্মতকে বিভক্ত করতে। নিজেকে শুধু মুসলিম বলে পরিচয় দিন এবং ইতিহাসের সাথে পরিচিত হতে চেষ্টা করুন। কারন ঐ ইতিহাসেই লেখা আছে ইসলাম আসলে কতটা ইন্টেলেকচুয়াল একটা দর্শন। এটা ওয়াহাবী, ইয়াজিদ বা মুয়াবিয়ার দর্শনে রূপ নিয়েছে কিভাবে সেটাও বুঝতে পারবেন।
কোরআন হাতে টেরোরিস্টরা তো এমনি দাড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেয় না। একটা জীবনকে এভাবে বিলাতে উদ্্বুদ্ধ করতে কিছু ডকট্রিন প্রয়োজন। সেই ডকট্রিনগুলো সুন্নী ডকট্রিনের ভিতরেই আছে। হাদীস থেকে বিধমর্ীদের নির্বিচারে হত্যা, তাদের প্রতি বিদ্্বেষগুলো বিশেষ কিছু আলেমদের (!) গবেষণাপ্রসুত কাজ, যার শুরুটা হয়েছিলো নবীর মৃতু্যর খুব কাছাকাছি সময়ে।
প্রকাশ করা হয়েছে: ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও, ধর্ম ইত্যাদি বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
যাকে দেখলে ডারউইনের বিবর্তনবাদের কথা মিথ্যা বলে মনে হয় না (বুশ), সেই এলাকার খ্রীষ্টানদের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। আর আরবের ঐ বখরিগুলোর কথা কি না বল্ললেই নয়। ঐ বখরিদের জন্য আমাদের মুসলিমদের আজ এই অবসহ। নবী যদি ঐ এলাকায় না আসতেন, তবে শুধু আমি কেন অনেকেই মনে হয় ঐদিকে পেচ্চাব (সরি, ভাল কোন কিছু পেলাম না) ও করতো না।যেখানে আপনি নিজেও বলতেছেন, নবী (স
অতিথি বলেছেন:
সাদী, আপনি বৃত্তের বাইরে এসে দেখতে শুরু করছেন সবকিছু; জানছেন, বুঝছেন এবং গ্রহন আর বর্জন করছেন। আপনার দেখা আর কুয়োর ভিতরে ব্যাঙ হয়ে জগত দেখা এক নয়। যারা কুয়োটাকে জগত ভাবে এ সব তারা বুঝবে না।
অতিথি বলেছেন:
শোহেইল ভাই আপনার আগ্রহের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার কেন যেন মনে হয় আপনিও এ বিষয়ে খুব ভালো জানেন। ভালো বইয়ের সন্ধান থাকলে জানাতে পারেন।
অতিথি বলেছেন:
ফ্রুলিংস আপনাকে সালাম, আজানে পরিবর্তনের মজার কথা জানাবো আরেক সময়ে। শুধু আপাতত জানিয়ে রাখি, ফযরের নামাজের সময়ে একটি লাইন, "ঘুম হইতে নামাজ উত্তম এটি নামাজে যোগ করেছিলেন নবী নয়, আরেকজন মানুষ, নবীর মৃতু্যর পরে।"দেখি তো আপনি খুঁজে বের করতে পারেন কি না ?!!
আর হ্যা, হাদীস নিভর্ুল নয় এটা একটা সরল সত্য কথা নয়। হাদীস নিভর্ুল নয় এর ইমপ্লিকেশন বা প্রয়োগ কিন্তু অনেক বড়। কারন সুন্নী ডকট্রিন অনুসারে, হাদীস কুরআনকে ব্যাখ্যা করে... কোরআন ইসলামকে ব্যাখ্যা করে . ..এবং বেশিরভাগ কাঠমোল্লাদের ইসলাম সম্পর্কে যে লিমিটেড ও ভুল আন্ডাস্ট্যান্ডিং তার মূল সোর্স হচ্ছে ঐ ভুলে ভরা, ফ্যাব্রিকেটেড হাদীস বইগুলো।
এ কারনে আমি নিজেকে সুন্নীও বলি না, শিয়াও বলি না। দুটো দলের কোনটাতে নাম না লেখালেই ভালো। গা থেকে আবরন ছুড়ে দিয়ে তারপরে সত্য জানার চেষ্টা করাই ভালো। নইলে মনের ও অন্ধ ধারনার ক্রসফায়ারে পড়তে পারেন।
অতিথি বলেছেন:
সাদিক ভাই, শিরোনামটা বেশি বড়ো হয়ে গেল না, এ রকম দুই চার জন শিরোনাম দিলে তো মন্তব্র কোন লেখা পাওয়া যাবে না।
অতিথি বলেছেন:
জয় চৌধুরী মাঝে মধ্যে একটু ব্যতিক্রম থাকা ভালো। আর শেষ মন্তব্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় দেখায়। তাতে শিরোনাম বড় বা ছোট হলে ক্ষতি নেই।
রাঙাভাই বলেছেন:
দি আদার সাইড অব দি কয়েন সম্পর্কেজানতে চাই। বইপত্র কোথায় কি পেতে পারি, একটা সাজেশন দিবেন?
অতিথি বলেছেন:
আমি তাই বলি... শিয়া সুন্নী লেবেলটা বিচ্ছিরি লাগে। তথাকথিত শিয়ারাও সুন্নী, কারণ তারা মুহাম্মদ (সা) এর সুন্নাহ কে তো অস্বীকার করেন না! শিয়া সুন্নী বিভেদটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। এটা পুরোপুরি না দেখার ভান করা প্র্যাকটিক্যাল না। এ ব্যপারে আল আজহারের আলেম ইউসুফ আল কারাদাওয়ীর পরামর্শ হচ্ছে, ডিফারেনস গুলোতে মনোযোগ না দিয়ে মিলগুলোতে মনযোগ দেয়া... আমি সেই মূলনীতি মানার চেষ্টা করি...
পড়তে পারেন এটা (গুগল করে পেলাম, ওয়েব সাইটের অন্য ম্যাটেরিয়ালের কথা জানি না। তবে আলেম হিসেবে তিনি চমৎকার): http://www.law.emory.edu/IHR/yogi9.html
অতিথি বলেছেন:
http://www.al-islam.org/এই সাইটটি থেকে শুরু করতে পারেন রাঙা।
সত্য জানতে আপনার আগ্রহের জন্য স্রষ্টা আপনাকে পুরুস্কৃত করুক, এই কামনায়।
তবে কোন কিছুই অন্ধভাবে গ্রহন করার প্রয়োজন নেই। বিবেক বুদ্ধি ব্যবহার করুন, ক্রস রেফারেনস এবং কমন সেনস ব্যবহার করুন।
আধুনিক সময়ে মানুষের ইন্টেলেকট অনেক উন্নত হবে বলেই এক সময়ে এসে শেষ নবী পাঠানো হয়েছে এবং শেষ কিতাব পাঠানো হয়েছে। কারন মানুষের এখন সেই ক্ষমতা আছে সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করার, জ্ঞানের এ্যাক্সেস অনেক সহজ। এ কারনেই আর নতুন শিক্ষকের (নবী বা রাসুল) প্রয়োজন নেই। কিন্তু তারপরেও যদি আমরা অন্ধ থাকি, তাহলে তো মুশকিল।
পরবতর্ীতে বইয়ের নাম দেওয়া যাবে। আমি নিজে যে বইগুলো পড়ছি তা আরেকটু যাচাই বাছাই করে নেই।
অতিথি বলেছেন:
বাই দি ওয়ে, যারা বিদেশে আছেন তারা সরাসরি শিয়া ইসলামিক সেন্টার বা তাদের মসজিদের লাইব্রেরী চলে যান। শিয়া মুসলিমদের ভিতরে কাউকে জিজ্ঞেস করুন। তারা অনেক ভালো ম্যাটেরিয়াল দিতে পারবে। তবে যাই করুন, নিজেকে শিয়া বা সুন্নী লেবেলে ডাকা পরিহার করুন। নিজেকে মুসলিম, শুধু মুসলিম পরিচয়ে পরিচয় দিন।
এতে নবী শেষ বিচারের দিনে খুশি হবেন যে, না কয়েকজন অনুসারী অন্তত খুব কঠিন সময়েও তার বাণীকে নিয়ে কাটাকুটি খেলা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, সত্যের কাছে পৌছানোর চেষ্টাটুকু করেছে। আমীন।
অতিথি বলেছেন:
থ্যাংকস আস্ত। ডিফারেনসগুলো জানা দরকার এই কারনে, নইলে অন্যের প্রতি সন্মান দেখানো যায় না। অন্যের পার্থক্যের জায়গাগুলো সম্পর্কে সঠিক পার্সপেক্টিভে জানলে ভুল বায়াসে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
লিংকটির জন্য শুকরিয়া।
অতিথি বলেছেন:
আর বিশেষ কিছু বলতে দেখি না সাদিক আপনাকে এ বিষয়ে। ব্যস্ত খুব। নাকি মোষ তাড়ানো মনে হয় একে?
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
গতকালকে একটা পোস্ট দিছিলাম। বাংল৭১ নিকে ফ্রন্ট পেইজে লিংক দিছিলাম যেহেতু প্রথম পাতায় ব্যান করা হইছে। আইজকা লগইন করতে গিয়া দেখি হয় না। ব্যাকে গিয়া öদেখি পোস্ট গায়েব। আমার পোস্টে কি ছিল কন তো? যে গায়েব হইলো?????পোস্টটা তুইলা দিলাম :
মুক্তিযুদ্ধ কারা করছিল? আসলে কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে? "গায়ের জোরে স্বপক্ষ শক্তি" মানে কি? রাজাকার-আল বদর-আল শামস রাই কি তাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা? ১৯৭১ সালের মার্চ-ডিসেম্বরে যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সামরিক সংগ্রামে ছিল , ১৯৭১ এর সাপেক্ষে তাগো ছাড়া আর কাউরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি কওনের কোন চান্স অন্তত ইতিহাসের রেফারেন্স থিকা নাই। কাদের সিদ্দিকি, মায়া চৌধুরী চোর-ছ্যাচ্চর যাই হোক ১৯৭১ এর ভুমিকা অনুসারে তারা মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানে জামায়াতে ইসলামী,মুসলীম লীগ(কাইয়ুম),মুসলীম লীগ(কনভেনশন),নেজামে ইসলামী এই রাজনৈতিক দলগুলারে বুঝায়।
(চীনপন্থীরা দুই কুকুরের লড়াই কইছিল ঠিক। কিন্তু তার এক কুকুর যেহেতু পাকিস্থানী সেনাবাহিনি+জামাত-মুসলীম লীগের বাস্টার্ডরা সুতরাং তাগো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষ কওয়া যায় না। তারা কোন অবস্থান থিকা আওয়ামী নেতৃত্বের বিরোধীতা করছে সেইটা বুঝতে গেলে বকরির বেরেন ফরম্যাট করা লাগবো। সবচাইতে বড় কথা জামাতের লগে রাজনৈতিক সম্পর্ক। জামাতের লগে সিরাজ শিকদার-হক-তোয়াহাদের সম্পর্ক রক্তারক্তির।এই জন্যই ১৯৯২ সালে ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির লগে সর্বহারা-পূর্ববাংলারা সক্রিয় ছিল। )
মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা থিকাই হইছে। ধর্মনিরেপেক্ষ চেতনা মানতে না পারলে থাকো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী গো লগে ! অসুবিধা কি? আইনত তো সেইটা নিষিদ্ধ না! তারা ১৯৭২ থিকা ১৯৭৫ হারাম ছিল। রাজনীতির অধিকার পাইছে মেলেটারিগো কাছে। মেলেটারিরা বন্দুক দিয়া সংবিধান বদলাইছে, যেইটা আবার সুপ্রীম কোর্টে টিকে নাই। এরপর মেলেটারি আইতাছে ঘুইরা ঘুইরা। তারাই তোমার শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ সাঈদী-নিজামীগো টিকাইয়া রাখছে। সেই দিক থিকা আইনের দোহাই দিয়া তুমি অস্তিত্বের বৈধতা দাবী করতেই পারো। কিন্তু পাবলিকের গালি থিকা মুক্তি পাওনের আশা করতে পারো না। পাবলিক আম্লীগ,বিএম্পিরে গাইল দেয়,আরো দিবো কিন্তু তাতে তোমাগো জন্য বরাদ্দ করা গালির স্টকে শর্ট পড়বো না।
আবার স্মরণ করি অমি রহমান পিয়ালের মহাবাক্য :
"থাকলে এমনেই থাকতো হইবো নাইলে ফুট"
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
গতকালকে একটা পোস্ট দিছিলাম। বাংল৭১ নিকে ফ্রন্ট পেইজে লিংক দিছিলাম যেহেতু প্রথম পাতায় ব্যান করা হইছে। আইজকা লগইন করতে গিয়া দেখি হয় না। ব্যাকে গিয়া öদেখি পোস্ট গায়েব। আমার পোস্টে কি ছিল কন তো? যে গায়েব হইলো?????পোস্টটা তুইলা দিলাম :
মুক্তিযুদ্ধ কারা করছিল? আসলে কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে? "গায়ের জোরে স্বপক্ষ শক্তি" মানে কি? রাজাকার-আল বদর-আল শামস রাই কি তাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা? ১৯৭১ সালের মার্চ-ডিসেম্বরে যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সামরিক সংগ্রামে ছিল , ১৯৭১ এর সাপেক্ষে তাগো ছাড়া আর কাউরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি কওনের কোন চান্স অন্তত ইতিহাসের রেফারেন্স থিকা নাই। কাদের সিদ্দিকি, মায়া চৌধুরী চোর-ছ্যাচ্চর যাই হোক ১৯৭১ এর ভুমিকা অনুসারে তারা মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানে জামায়াতে ইসলামী,মুসলীম লীগ(কাইয়ুম),মুসলীম লীগ(কনভেনশন),নেজামে ইসলামী এই রাজনৈতিক দলগুলারে বুঝায়।
(চীনপন্থীরা দুই কুকুরের লড়াই কইছিল ঠিক। কিন্তু তার এক কুকুর যেহেতু পাকিস্থানী সেনাবাহিনি+জামাত-মুসলীম লীগের বাস্টার্ডরা সুতরাং তাগো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষ কওয়া যায় না। তারা কোন অবস্থান থিকা আওয়ামী নেতৃত্বের বিরোধীতা করছে সেইটা বুঝতে গেলে বকরির বেরেন ফরম্যাট করা লাগবো। সবচাইতে বড় কথা জামাতের লগে রাজনৈতিক সম্পর্ক। জামাতের লগে সিরাজ শিকদার-হক-তোয়াহাদের সম্পর্ক রক্তারক্তির।এই জন্যই ১৯৯২ সালে ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির লগে সর্বহারা-পূর্ববাংলারা সক্রিয় ছিল। )
মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা থিকাই হইছে। ধর্মনিরেপেক্ষ চেতনা মানতে না পারলে থাকো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী গো লগে ! অসুবিধা কি? আইনত তো সেইটা নিষিদ্ধ না! তারা ১৯৭২ থিকা ১৯৭৫ হারাম ছিল। রাজনীতির অধিকার পাইছে মেলেটারিগো কাছে। মেলেটারিরা বন্দুক দিয়া সংবিধান বদলাইছে, যেইটা আবার সুপ্রীম কোর্টে টিকে নাই। এরপর মেলেটারি আইতাছে ঘুইরা ঘুইরা। তারাই তোমার শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ সাঈদী-নিজামীগো টিকাইয়া রাখছে। সেই দিক থিকা আইনের দোহাই দিয়া তুমি অস্তিত্বের বৈধতা দাবী করতেই পারো। কিন্তু পাবলিকের গালি থিকা মুক্তি পাওনের আশা করতে পারো না। পাবলিক আম্লীগ,বিএম্পিরে গাইল দেয়,আরো দিবো কিন্তু তাতে তোমাগো জন্য বরাদ্দ করা গালির স্টকে শর্ট পড়বো না।
আবার স্মরণ করি অমি রহমান পিয়ালের মহাবাক্য :
"থাকলে এমনেই থাকতো হইবো নাইলে ফুট"
রেয়লেবঙ্গল বলেছেন:
সাধক শঙ্কু,তোমার পোটকীতে খাইজ্জানী বেশি। গাইল দিবা গাইল খাইবা।
মীর আশরাফ-উল-আলাম আশরাফী বলেছেন:
আপনাদের লেখাটি পড়লাম, খুবই ভাল লেগেছে ...সত্য আমাদের হাতের নাগালেই, সত্য পাবার জন্য অন্তর দৃষ্টির প্রয়োজন ...



















যারা চেঁচিয়ে উঠার জন্য মুখিয়ে থাকে, তারাও পড়বে। লিখে যান সাদিক।