somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শতাব্দীর শেষ পূর্ণ সূর্য গ্রহন দেখার জন্য ঢাকার সামহোয়্যারীগনের নিমন্ত্রন
আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে।
- লালন

আগামীকাল (বুধবার, জুলাই ২২, ২০০৮) শতাব্দীর শেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহন। বাংলাদেশে আগামী ১০৫ বছরেও আর দেখা যাবে না এই ধরনের বিরল মহাজাগতিক জাদু। ’জাদু’ শব্দটা কুসংস্কার অর্থে না হলেও প্র্রকৃতি এবং বিজ্ঞানের অর্থে এ নি:সন্দেহে প্রকৃতির এক দারুন হেয়ালী। চাঁদের চাইতে ৪০০ গুন বড় একটা নক্ষত্র সুত্র, অন্যদিকে চাঁদ মামা আর সূর্য দাদুর পৃথিবী থেকে দূরত্বে এতই চমৎকার একটা মহাজাগতিক বোঝাবুঝি, যে ওরা একে অন্যের সামনে এসে যখন দাড়ায় (এ ক্ষেত্রে চাঁদ সুর্যের সামনে) তখন ঢেকে ফেলে একে অন্যকে ’পারফেক্ট’ ভাবে। পূর্ণ সূর্য গ্রহনে ঠিক তেমনটাই ঘটে। যে সূর্যের আলো নিয়ে চাঁদ হয়ে ওঠে রাতের চাঁদ, সেই সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করে দাড়ানোর মহাসন্ধিখন সুযোগ চাঁদের শত বছর ঘুরে এই পূর্ণ সূর্য গ্রহনের সময়টাতেই।

আগামীকাল বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় সংগঠন হিসেবে ’আমাদের পাঠশালা’ ঢাকায় আয়োজন করতে যাচ্ছে পূর্ণ সূর্য গ্রহন পর্যবেক্ষন। দেশের অনেক জায়গাতেই আয়োজন করা হচ্ছে ক্যাম্প। ঢাকার সামহোয়্যারীগন চলে আসতে পারেন ’আমাদের পাঠশালার আয়োজনে’। বোনাস হিসেবে ব্লগীয় আড্ডা, দেখা সাক্ষাৎ আর সুর্যের সাথে চাঁদের লুকোচুরি উপভোগ। আপনাদের সবাইকে নিমন্তন।

স্থান: শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন মাঠ, মিরপুর ১২, ঢাকা
তারিখ: ২২ জুলাই, ২০০৯। বুধবার
সময়: ৬টা ৪৫ মিনিটের ভিতরে চলে আসুন।

আয়োজন: আমাদের পাঠশালা
যোগাযোগ করবেন কার সাথে? রুবেল, ফোন: ০১৭২১৬২৩৬২৭, এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন: ০১৮১৯৯৭৮৯৩৬

খুব সকালে উঠতে হবে, এই টুকুই যা ঝামেলা। সেই ঝামেলাটা সহ্য করে চলে আসতে পারলে বাকি টুকু এ্যাডভেঞ্চার। সূর্যগ্রহনটা আসলে কখন: শুরু হবে ৬টা ৫৯ মিনিটে। মধ্যগ্রহন হবে ৮টার দিকে, আর এই প্রকৃতির এই লীলাখেলা শেষ হবে সকাল ৯টার দিকে। সুতরাং এর ভিতরে চলে আসতে পারলে দেখা হবে আশা করি।

- সাদিক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28981454 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28981454 2009-07-21 14:43:01
জুমলার কারিগর দরকার

কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) সম্পর্কে হালকা পাতলা অথবা ভারী জ্ঞান এবং কাজ করার অভিজ্ঞতা বা সাহস থাকলে যোগাযোগ করার নিমন্ত্রন জানাচ্ছি। অন্যকে জুমলা শিখানোর মত সাহস থাকলে ভালো। জুমলায় কাজ করে থাকলে তার উদাহরন সাইট পাঠিয়ে ইমেইল করতে পারেন। কমেন্টে না কমেন্টাইয়ায়, সরাসরি ইমেইল করেন। ফোন নাম্বার দিলে সুবিধা হয়।

ঠিকানা: mysticsaint@জিমেইল ডট কম।

জুমলার কারিগরীতে দক্ষতা থাকলে কিছু বৈদেশীক কাজের (আউটসোর্সড) ব্যাপারে স্যাপার নিয়ে খ্যাপের আলাপ হতে পারে। পারিশ্রমিকের ধরন ঘন্টা প্রতি / প্রোজেক্ট প্রতি । নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা আর কথা দিয়ে কথা রাখার মানসিকতা না থাকলে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নাই।

জুমলার কারিগরীতে দক্ষতা থাকলে কিছু বৈদেশীক কাজের (আউটসোর্সড) ব্যাপারে স্যাপার নিয়ে খ্যাপের আলাপ হতে পারে। পারিশ্রমিকের ধরন ঘন্টা প্রতি / প্রোজেক্ট প্রতি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28959427 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28959427 2009-06-03 01:33:35
সাদিকের ফটোব্লগ। বৃষ্টি মেঘ, কাকের রিচুয়াল আর হলুদ কদমের বিকেল

বর্ষার থম থমে মেঘ যখন পুরো আকাশটা ছেয়ে যায় তখন শহুরে কাকদের নিজস্ব একটা রিচুয়াল আছে। প্রকৃতির সাথে সংযোগ এই আমরা শহুরে মানুষেরা প্রায় সবটাই হারিয়ে ফেললেও পাখীদের ভিতরে অদৃশ্য বন্ধনটা অনেক বেশি পোক্ত। তাই বৃষ্টি নামার আগেই প্রকৃতির পরিবর্তনকে বুঝে নিয়ে সেটাকে উযযাপনের একটা সাড়া পড়ে যায় পাখীদের ভিতরে। তাই আজকে একটু আগে পুরো ঢাকার উপরে যখন ঘন কালো মেঘ তার আগে থেকেই পাখিদের ভিতরে কি একটা যে ব্যস্ততা সেটা অফিসের ভিতরে বসেও টের পাওয়া যাচ্ছিলো।



আমার বিগত জনমের কোন শুভ আমলের বদৌলতে একেবারে অফিসের বিল্ডিং ঘেষে একটা বিশাল কদমফুল গাছ। জীবনে কদম ফুলগাছের এত কাছে থাকিনি। চার তলার বারান্দায় দাড়ালে বড় গাছটার সাথে নিজেকে সমান ধরে নেওয়া যায়, ওর কান্ডকারখানা আর ফুল পাতার খেলাটা কাছ থেকে দেখা যায়। কদম ফুল গাছের কাছে থাকার একেবারে ঠিক সময় এটাই। বারান্দায় দাড়ালে ফুটে থাকে কয়েকশ কদম ফুলের মাদক গন্ধ আলিঙ্গন করে একসাথে। এই গাছটা যে এত দ্রুততার সাথে নিজেকে হালকা সবুজ সবুজ কদম ফুলের গুটিতে ছেয়ে ফেলবে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা পুষ্ট হলুদ রঙের কদম ফুলে নিজেকে সাজাবে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। প্রায় প্রতিদিন গাছটাকে দেখি, কদম ফুলগুলোর বেড়ে ওঠা দেখি, তারপরেও এখনকার পুরো বড় বড় কদম ফুলগুলো যে কিভাবে কখন এত বড়, এত সুন্দর হয়ে উঠেছে তা ধরা যায় নি একেবারেই।

এই বিরাট কদম গাছের সৌজন্যেই প্রচুর পাখির কিচিরমিচির। বৃষ্টির মেঘ করায় তাদের প্রাণচাঞ্চল্য আরো বিশাল আকার নিয়েছিলো। যখন ঢাকার আকাশ অনেক মেঘ থম থম তখন অফিসের বারান্দায় দাড়াতেই শহুরে কাকদের বৃষ্টি নামার পূর্বের সেলিব্রেশন রিচুয়ালটা চোখে পড়লো। খালি আকাশ, তার উপরে থোকা থোকা বৃষ্টির মেঘের নিচে গোল হয়ে তাদের সবার মিলে সেকি উড়ে বেড়ানো! শিশুরা যেভাবে মাঠে সবাই মিলে হাত ধরে গোল হয়ে খেলার ব্যাপারটা করে, কাকদেরও এর কাছাকাছি একটা ব্যাপার আছে। ওরা প্রায় পাখা স্পর্শ করে গোল হয়ে আকাশে উঠে বেড়ায় বৃষ্টির ঠিক আগে আগে। অথচ যখন বৃষ্টির ফোটারা নেমে আসে তখন কিন্তু ওরা আর ওড়ে না। কোন গাছের কোন পাতার নিচে ততনে তাদের আশ্রয় নেবার কাজ সারা।



ছবিগুলো গুলশান ২, ঢাকার আকাশ, অফিসের পাশের কদমফুল গাছের।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28958287 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28958287 2009-05-31 18:26:37
ফটোব্লগ। বৃষ্টি বিকেলের কৃষ্ণচূড়া





সানে নুজুল। বৈশাখী জৈষ্ঠ্য সময়টার বৃষ্টি আসার ঠিক আগে আগে একটা অদ্ভুত দমকা হাওয়া আসে, যেন বৃষ্টির আগমনী বার্তা নিয়ে। সেই পাগলা হাওয়ার সৌজন্যে আঙ্গিনার বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে অনেকটা জায়গা জুড়ে কৃষ্ণচূড়া ফুলে, আর ফুলের নিবিড় লাল পাপড়িতে এক বিছানো গালিচা তৈরী হয়ে গিয়েছিলো। সেই গালিচার কাছে গিয়ে উবু হয়ে কিছু ম্যাক্রো ছবি তুলতে তুলতেই প্রথমে টুপটাপ, তারপরে বুঝে ওঠার আগেই ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির বড় বড় ফোটারা গাছের শাখা প্রশাখায় হামলে পড়তেই লাল আগুনের গাছ থেকে আস্ত কৃষ্ণচূড়া ফুলের টুপটাপ ঝড়ে পড়া।

তীব্র বৃষ্টিতে ক্যামেরা ভিজে যাওয়ার ভয়ে সেই বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছতলায় বন্দী। গাছটাও তার অতিথির প্রতি মমতা ভরে যতখানি পারে বৃষ্টিকে ঠেকিয়ে রাখছিলো। ক্যামেরার বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া উপেক্ষা করেই কয়েকটা কৃষ্ণচূড়াকে হাতে নিয়ে আবারো ম্যাক্রো তোলার চেষ্টা। এবার ঘন বৃষ্টিটাই ব্যাকড্রপ। ম্যাক্রো ফিচারে সেই ঘন বৃষ্টি আরো ঘোলাটে হয়ে আসে। কাছ থেকে কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির বাহারী নকশা আরেকবার খুব মনখুলে দেখা হয়। ম্যাক্রো ছবি তোলার এই এক সুবিধে। যা 'দেখা হয় না চক্ষু মেলিয়া, কাছে লইয়া' - ঠিক তাকেই খুব কাছ থেকে, চোখ মেলে দেখতে সুযোগ করে দেয়।

কে জানতো দেখতে লাল লাল কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির উপরেও প্রকৃতি পরম মমতায় কি সুন্দর নকশা করে রেখেছে! ভুল করে এমনই এক পাগলা হাওয়ার অলস বিকেলে হয়তো কোনো পথিক তুলে নেবে, দেখবে, মুদ্ধ হবে - এই তার পরম তৃপ্তি, এই সামান্য মুদ্ধতার জন্য প্রকৃতির কত না অসামান্য আয়োজন!


'আমারে তুমি অশেষ করেছো এমনই লীলা তব। ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছো জীবন নব নব। ' - রবি ঠাকুর

লোকেশন। ফুলার রোড, ঢাকা ভার্সিটি ক্যাম্পাস।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28951284 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28951284 2009-05-15 23:20:16
মিশন: ”আমাদের পাঠশালার” জন্য ১০০০ পাঠশালাবান্ধব নিবন্ধন। (আপডেট: অবশিষ্ট ৯৬৮ জন)

টুকুস শুরু:

’আমাদের পাঠশালা’-এর আড্ডা পরবর্তী ’কতো কথা বলেরে!’ টাইপের পোষ্টের পরে আরেকটা সংক্ষিপ্ত, ’ঝেড়ে কাশো টাইপ’ পোস্টের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ’কতো কথা বলেরে!’ পোস্ট নাকি অনেকের ভিতরে ’মন বসে না পড়ার টেবিলে’, থুক্কু, ’মন বসে না ব্লগ পোস্টে’ সিনড্রমের জন্ম দিয়েছে, তারা শেষাবধি পৌছার আগেই দম ফুরিয়ে গেছে। সেই হেতু এবার মেরে কেটে - ’টু দি পয়েন্ট’ পোস্ট।

ঝেড়ে কাশো:

আমাদের পাঠশালায় আমাদের আলোচনায় প্রাথমিকভাবে আমাদের মিশন ১০০০ জন পাঠশালাবান্ধব নিবন্ধনের। সহজভাষায় পাঠশালাবান্ধব ব্যপারটা হচ্ছে এর কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত করার অঙ্গীকার। যেহেতু প্রায় সব ভালো উদ্যোগ টাকার প্রশ্নে এসে হেচকী তোলে তাই আমাদের পাঠশালার জন্যও প্রথমে আমরা আর্থিক সহায়তার কথাটাই ভাবছি (এর বাইরে এতে সময় দেওয়া, লাইব্রেরীর জন্য পুরনো বা নতুন বই কিনে দেওয়া বা দান করা, পুরনো কম্পিউটার পাঠশালায় গিফট করা ইত্যাদি সহায়তাও আসতে পারে)।

টাকা থাকলে পাঠশালার পড়ুয়াদরে বইখাতা, পেন্সিল কলম এবং প্রশিক্ষনের জন্য কম্পিউটারটা কেনা হবে। টাকা থাকলে ক্লাস সিক্স এর পরেও আরো দুটো ক্লাস যোগ করে ক্লাস এইটে উন্নত করা যাবে স্কুলটাকে।

গত শনিবারের আড্ডায় আমরা তুলেছি ৮১০০ টাকার মতো একটা অংক। অনেকে আশাবাদী অংকের অর্থ ডোনেশন করছে, যেমন এক সামহোয়্যার ইন ব্লগার সেদিন পাঠশালা ছাত্র ছাত্রীদের বইখাতা কেনার জন্য ৫০০০ টাকা একাকালীন ডোনেশন করেছেন। এসেছে যার যার সাধ্যমত ৫০০ থেকে ১০০ টাকার ডোনেশন। এক পাঠশালা বান্ধব ক্লাস ৫ ও ৬ এর ৩ জন মেধাবী এতিম ছাত্র / ছাত্রীর জন্য স্কলারশিপের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন একজন।

১০০০ পাঠশালা বান্ধব নিবর্ধনের মিশনটায় আমাদের প্রয়োজন প্রতিমাসে মাত্র ১০০ টাকার আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার।

এ পর্যন্ত মধ্যে সামহোয়্যারের ব্লগার ও তাদের বন্ধুদের ভিতরে পাঠশালাবান্ধব নিবর্ধন হয়েছে ৩২ জন। আমাদের মিশন কমপ্লিট করতে প্রয়োজন আরো ৯৬৮ জনের অংশগ্রহণ ও কন্ট্রিবিউশন।

সামহোয়্যার ইনের ইউনিক ভিজিটরের সংখ্যা প্রায় ৪০০০। এর ভিতর থেকে অন্তত এক চতুর্থাংশ এগিয়ে আসবেন একটা ভালো কাজে সহায়তা করতে, এতটুকু ভরসার জায়গাটা আমরা না হয় সন্মান করি, এগিয়ে আসি। যারা প্রবাসী এবং ডলারে টাকা কামাই তারা ১০টা ডলার না হয় ডোনেট করে দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুযোগটা রাখতে পারি।

কাজের কথা:

নিচের লিংক থেকে ফর্মটি ডাউনলোড করে (মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফরম্যাটের ফাইল) পুরন করুন এবং ইমেইল করে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায় mysticsaint (at) gmail (dot) com

ফর্ম ডাউনলোড লিংক


সরাসরি ব্যাংকে ট্রান্সফারের জন্য:
আবুল হাসান রুবেল
একাউন্ট নং: ১৩৯ ১০১ ১৩৪৪৪
সুইফ্ট কোড: DBBLBDDH
ডাচ বাংলা ব্যাংক
ইমামগঞ্জ শাখা,
ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রবাসীদের জন্য ডোনেশন পন্থা:
http://www.mysticalchemydesign.com/donate.html

এরপরে:

আমরা আবার জমায়েত হতে চাই এবং অনেক বড় আকারে। এবার হয়তো একটা হইচই পিকনিকের আয়োজন হতে পারে, পাঠশালাবান্ধব পরিবারে আরো মানুষ যোগ হোক এই কামনায়। চাঁদপুরে লঞ্চভ্রমনেরও (সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফেরা) একটা জম্পেশ পরিকল্পনা পাইপলাইনে। আপনাদের তরফ থেকে প্রস্তাবনা শোনার জন্য আমরা ’কান পেতে রই’।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28950506 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28950506 2009-05-14 08:41:54
আমাদের পাঠশালা, একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বীজবপন। আড্ডা আর উদ্যোগের গল্প
ছবি: ওদের আছে স্বপ্ন

১.
গরীব ছেলেটা খুব সখ করে পড়তে এসেছে। বাবা স্কুলে আসতে বারণ করেছিলো তাই বাবার সাথে সে কি তার অভিমান। কথা কওয়া বন্ধ সেই তিন দিন। ময়লা কুড়াবে না আর - এই তার প্রতিজ্ঞা, সে সাদা পৃষ্ঠায় ঝকঝকে অ, আ লিখে ভরাবে, পড়তে শিখবে - এইটুকুই তার সাদামাটা স্বপ্ন। তীব্র অভিমান, নাকি কাল বিকেল থেকে না খাওয়া পেটের তীব্র ক্ষুধায় ব্ল্যাকবোর্ড আর বোর্ডের সাদা লেখা সব মিলেমিশে এক হয়ে যায় ছেলেটা বুঝতে পারে না।

ছবি: রুবেলের সাথে কথোপকথন

২.
উপরের শব্দগুলো চয়ন করা হয়তো আমার, কিন্তু ঘটনাটার বর্ণনা রুবেলের। আবুল হাসান রুবেল যার প্রতিষ্ঠায় 'আমাদের পাঠশালা' তৈরী হয়েছে। একদিন ক্লাসের কোনায় কাঁদতে দেখে যখন জানতে চায় তার কাঁদার কারন - অনেক কষ্টে জানা যায় খিদের জ্বালায় কাদছিলো লাজুক ছেলেটা। হয়তো গরীব হতে পারে কিন্তু খিদার কষ্টে ক্লাসে বসে পড়ায় মন না দিতে পেরে কাঁদতে হচ্ছে এটা স্বীকার করতে অনেক লজ্জার বাঁধ ভাঙ্গতে হয়েছিলো ওকে সেই দিন। আমাদের পাঠশালায় আসা অনেক ছেলেমেয়েরা সেই রকম পরিবার থেকেই আসে যেখানে দুই বেলা ভরপেট খাওয়াটা বিলাশিতা, যেখানে বাবা মায়ের সাথে সাথে পাঁচ বছরেরর মাসুম অথবা স্বপনকে জীবিকার সন্ধান করতে হয়। এই শিশুগুলোর স্বপ্নকে, তাদের কেবল অক্ষর জ্ঞানই না তাদের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা দেওয়ার তাগিদ থেকেই আমাদের পাঠশালার জন্ম, কার্যক্রম আর পথ চলা।

৩.
ভারতের বিজ্ঞানী ও বিগত প্রেসিডেন্ট এপিজে আবুল কালামের বই 'ইগনাইটেড মাইন্ড' এর উৎসর্গে তিনি উল্লেখ করেছেন স্নেহাল থাক্কার নামের ১২ ক্লাসের একটা মেয়েকে। উৎসর্গের কারন হিসেবে তিনি লিখেছিলেন: ২০০২ সালে যখন তিনি আনন্দালয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে কথা বলতে গিয়েছেন তখন একটা প্রশ্ন উঠে এসেছিলো, হু ইজ আওয়ার এনিমি? আমাদের প্রকৃত শত্রু কে?

অনেক উত্তর পান সেদিন আবুল কালাম, কিন্তু যেটার সাথে সবাই একমত হয় সেটা হলো, আওয়ার এনিমি ইজ পভার্টি। 'আমাদের শত্রু দারিদ্রতা'।

এপিজে আবুল কালাম উৎসর্গে মোটাদাগে বলেছিলেন, "এই দারিদ্রতাই আমাদের সব সমস্যার মূল কারন এবং একে মোকাবেল করাই হোক আমাদের একমাত্র কাজ।"

যে ছেলেটার কথা দিয়ে এই পোস্টের শুরু তার মতো শিশুদের মানুষ হয়ে ওঠাকে গলা টিপে প্রতিদিন যে দানবটা হত্যা করেই যাচ্ছে তার নাম দারিদ্রতা। এ এক গণহত্যা।

কেবল শিক্ষার নামে বিদেশী এনজিওরা নাম লিখতে শিখানোর স্কুলের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করবে, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা যা এখনো কেরানী বানানোর শিক্ষা এবং শিক্ষাকে আনন্দময় করার সামান্যতম প্রচেষ্টা যেখানে নেই তা দিয়ে এই গণহত্যার প্রতিকার করা সম্ভব নয়। সম্ভব অন্যরকম প্রচেষ্টার যা নতুন পথ দেখাবে, শেখাবে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের এবং সেইরকম এক প্রচেষ্টার নাম 'আমাদের পাঠশালা'।



৪.
উপরের ভুমিকাটুকু যথেষ্ট নয় এই গণহত্যার আনুষাঙ্গিক সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য। তারপরেও ওখানেই থামছি। প্রসঙ্গটা গত শনিবারে সামহোয়্যার ইনের পাঠকদের 'আমাদের পাঠশালা'য় আড্ডা এবং সেই আড্ডায় আমরা যে উদ্যোগের খসড়া করেছি সেইটা। এইবার তাতেই ঢোকা যাক।

প্রথমত ঘোষক হিসেবে আমার একটা ক্ষমাপ্রার্থনা প্রয়োজন। মুড়ি ও পিয়াজুর কথা বলা হইলেও ভর দুপুরে ঢাকায় যে পিয়াজু ভাজা হয় না, বিশেষ করে মিরপুরে, তা সম্পর্কে আমার চরম অজ্ঞানতার কারনে (জানা গ্যাছে বিকাল ৪টা পরে তা ভাজা শুরু করে)। পিয়াজুর অভাব পুরন করেছে তার খালাতো ভাই সিঙ্গারা। পরে অবশ্য আমরা দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম যারা থাকতে পেরেছে তাদের নিয়ে এবং তারপরে যারা শেষতক থেকে ছিলাম তারা চা খেলাম কৌশিকের বৈঠকখানায়।

আড্ডায় প্রায় ত্রিশ জনের মতো আড্ডাবাজ জড়ো হয়েছিলো। কারো নাম বাদ পড়লে মন্তব্যে যোগ করে দিয়েন, আমি আপডেট করে দেবো:
আরিফ জেবতিক ও ভাবী, আরিল ও জানা (সাথে কিন্নরী), রাসেল (সাথে ঋক), জামাল ভাস্কর, কৌশিক, রাসেল (২), পথিক, লিটা, অনঙ্গ, অন্য আনন, মানচুমারা, স্বর্ণা, আইরিন সুলতানা, সাদিক, শামীম, মুন্সিয়ানা, মেসবাহ য়াজাদ, অনন্ত, মুজাহিদ আলম, প্রতু্ৎপন্নমতি। এছাড়াও পাঠশালার রুবেল এবং আমাদের পাঠশালার শিক্ষকদের ভেতরে কয়েকজন।

"আগে গেলে বাঘে খায়, পিছে গেলে সোনা পায়" থিওরী অনুসারে একদম শেষ পর্যন্ত আমরা যারা ছিলাম (হাতে গোনা পাঁচ কুতুব) তারা মাটিতে আর সোফায় লেটকে পেটকে আড্ডা দিলাম কৌশিকের ড্রইংরুমে। সেইটা ছিলো বিশুদ্ধ আড্ডা, কেবলই ব্লগের আড্ডা।

৫.
অন্যান্য পোষ্টে আমাদের পাঠশালা সম্পর্কে কথা হয়েছে, রাসেল অনেক আগে পোস্টে স্কুলটা সম্পর্কে লিখেছিলো। তারপরে কৌশিক এবং আমিও লিখেছি। তাই সেই বিস্তারিততে যাচ্ছি না। যাচ্ছি কাজের কথায়। আমাদের পাঠশালার কি দরকার এবং আপনি আমি কি করতে পারে।

প্রথমত: এটা পরিস্কার হওয়ার দরকার যে আমাদের পাঠশালা একটা সফল এক্সপেরিমেন্টাল মডেল যেখান গতানুগতিক মুখস্ত বিদ্যা সর্বস্ব এবং উপনীবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার তলানী চেটেপুটে খাওয়া কেরানী বানানোর শিক্ষাকে প্রতিস্থাপন করার চমৎকার উদাহরন। এটা কেবল দু:স্থ শিশুদের স্কুল হয়ে থাকতে চায় না, কিন্তু আপাতত গরীবদের জন্য দুয়ার খুলেছে কারন তাদের জন্য অন্য সব দরজা হয় বন্ধ অথবা দরজার ওপারে অন্ধকার। আমাদের পাঠশালার শিক্ষা দেওয়া নিয়ে যা কিছু ভাবনা তা আমাদের দেশের আর হাজারটা স্কুলে ইমপ্লিমেন্ট করানো গেলে সোজা ভাষায় মেধার উৎকর্ষতার বিপ্লব আনার যায়গাটায় যাওয়া যায়।

ঠিক সেই জায়গায় দাড়িয়ে আমাদের এই উদ্যোগকে কেবল একটা স্কুলের জন্য কিছু করা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আমাদের পাঠশালার জন্য সহায়তার এই উদ্যোগটা আমরা মডেলের পূর্ণাঙ্গতার দিকে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখতে চাই এবং মডেলটাকে যাতে আরো রেপ্লিকেট করা যায় আরো গড়ে তোলা যায় আমাদের পাঠশালা তারই ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে চাই।

৫.
গরীবের স্কুল, কিন্তু বিদেশী সাহায্য নিয়ে কেন নয়?

আমাদের দেশে এই ধরনের প্রোজেক্টগুলোতে যেখানে বিদেশী এনজিওর অর্থ সাহায্যে সয়লাব অবস্থা সেখানে স্বভাবতই আমরা ধরে নেই যে বিদেশের এনজিও থেকে টাকা এনেইতো এরকম স্কুলের খরচ দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে আমরা রহিম করিমরা কেন নিজেদের পকেট স্কুল চালাবো?

প্রথমত: বিদেশী সাহায্যে ও ম্যানেজমেন্টে এই এনজিও পরিচালিত অনেক স্কুলই বেজায় ফাঁকির একটা জায়গা। এই বিষয়ে যারা খুব কাছ থেকে এনজিওগুলো দেখেছেন, তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে ফার্স্টহ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স নিয়েছেন তারা অনেক ভালো জানাতে পারবেন যে কতটা ফাঁকিবাজী তাদের প্রোজেক্টগুলোতে। শিক্ষার নামে অনেক জায়গাতেই চলে মাস শেষে কখন রিপোর্ট লিখে পরের কিস্তির ফান্ডিং তোলা, কি করে ফান্ডের টাকার সিংহভাবে মালিকদের পকেটে নেওয়া যায় এবং কি করে ১২০০ টাকায় একজন শিক্ষক দিয়ে ৪০০ ছাত্রকে পড়ানো যায়। এমনও উদাহরন আছে এইসব বিদেশী এনজিওর স্কুল প্রোজেক্টে শিক্ষার নামে দু:স্থ শিশুদের কেবল নাম স্বাক্ষর করা শেখানো হয়, শেখানো হয় অক্ষর জ্ঞান, ব্যস ঐ পর্যন্তই। কিন্তু শিক্ষা বলতে যা বোঝায় নাম স্বাক্ষর করার ক্ষমতা - এদুটো কখনোই এক নয়। শিক্ষার সামগ্রিক জায়গাটায় এরা ব্যর্থ এবং তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই কারন তাদের কাছে এটা টাকার লেনদেনের প্রোজেক্ট।

আমাদের পাঠশালাকে অনেক বিদেশী সংস্থা অর্থ সাহায্য দিতে চাইলেও তা গ্রহন করা হয় নি ঠিক এই কারনে যে আমরা স্বনির্ভর হতে চাই, আমরা সমাজের অংশগ্রহন চাই। কারন সেটাই টেকশই উন্নয়নের একমাত্র পথ।



৬.
বুঝলাম, এবার তবে ক্যালকুলেটর

আমাদের পাঠশালাকে ঠিকভাবে চালাতে প্রতি মাসে দরকার হয় ৭৫,০০০ টাকা। শিক্ষকদের বেতন এখানে ততটুকুই দেওয়া হয় যা না দিলে ঢাকায় সন্মানের সাথে একজন মানুষ জীবন যাপন করতে পারে না। এখানে অপচয় যেমন নেই তেমনি কার্পণ্যও নেই পাঠশালার। এছাড়া খরচ আছে বাসা ভাড়ার, ইলেকট্রিক বিল, গ্যাস ও পানির। খরচ আছে সব ছাত্রছাত্রীর বইখাতা, পেন্সিল, রং, তুলি ইত্যাদির।

এই যে ৭৫,০০০ টাকা এর পুরোটাই ব্যক্তিগত ডোনেশনের মাধ্যমেই এসে থাকে। আমাদের পাঠশালার বান্ধব হিসেবে অনেকে এককালীণ, মাসিক বা বাৎসরিক কনট্রিবিউশন করে থাকেন।

আমরা যদি ১০০০ জন মানুষ প্রতি মাসে ১০০ টাকা আমাদের পাঠশালায় দিতে পারি তবে এক লক্ষ টাকার একটা ফান্ড সহজেই উঠে আসে। আজকালকার ফাস্টফুডের যুগে প্রতি মাসে ১০০ টাকা খুব আহামরী কিছু নয়। এরচে ঢের অপচয় আপনি আমি করে থাকি।

আপাতত আমরা চাই আপনাদের সহায়তা, পাঠশালার বান্ধব হিসেবে নিজেদের সংযুক্ত করায়। এককালীণ অর্থ সাহায্যও হতে পারে। পাঠশালার একটা লাইব্রেরী গড়ে উঠছে খুব দারিদ্রতার ভিতরে। তাতে শিশুদের পড়ার উপযোগী দান করা যেতে পারে। প্রয়োজন অন্তত দুটো কম্পিউটার যাতে উপরের ক্লাসের বাচ্চাদের কম্পিউটার জ্ঞান দেওয়া যায়। প্রয়োজন ক্লাস সিক্স থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত এর সম্প্রসারণ।

এই যখন ঘটনা তখন আপনাদের কাছে আমাদের পাঠশালার এইটুকুই দাবী যে আপনার পাঠশালার বন্ধু হয়ে একে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবেন। যেটা খুব আশার কথা তা হলো আমাদের আড্ডায় আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের পাঠশালার বান্ধব হিসেব নাম লিখিয়েছি, আমাদের পকেটে হাত পৌছেছি এবং আমাদের অঙ্গীকার করেছি গেল শনিবার। এবার আপনাদের সেই অঙ্গীকারে আমন্ত্রন জানাই

৫.
যেখানে টাকা পাঠাবেন:

আবুল হাসান রুবেল
একাউন্ট নং: ১৩৯ ১০১ ১৩৪৪৪
সুইফ্ট কোড: DBBLBDDH
ডাচ বাংলা ব্যাংক
ইমামগঞ্জ শাখা
ঢাকা, বাংলাদেশ।

যারা দেশের বাইরে আছেন এবং আমাদের পাঠশালায় কন্ট্রিবিউট করতে চান তাদের জন্য পেপ‌্যাল একাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন ডোনেশন:
http://www.mysticalchemydesign.com/donate.html

পাঠশালার বান্ধবা হওয়ার একটা ফর্ম আছে। রুবেলকে অনুরোধ করছি ফর্মটার একটা স্ক্যান কপি পাঠাতে। আশা রাখি কয়েকদিনের মধ্যে তা শেয়ার করতে পারবো।

স্বচ্ছতা নিশ্চতি করতে আপনাদের সব ডোনেশনের টাকার অংক (নাম উল্লেখ ব্যতীত) আমাদের পাঠশালার ব্লগের আপডেট করা হবে।

ঠিকানা:
http://amaderpathshala.blogspot.com/

আমাদের পাঠশালার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০০ জনের বান্ধব সংগ্রহে আপনাদের তরফ থেকে অনলাইন ও অফলাইন সব ধরনের সহায়তা কামনা করছি।

৬.
বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে। আপনিও থাকুন, আপনিও অংশ নিন।

প্রথমত: সমই নাই।
দ্বিতীয়ত: এখনই সময়।
তৃতীয়ত: আপনি না থাকলেও ব্যাপারটা ঘটবে, তবু আপনাকেই চাই।

ত বু আ প না কে ই চা ই ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28949115 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28949115 2009-05-11 02:21:32
আমাদের পাঠশালার ভিডিও ও ছবি

আমাদের পাঠশালায় আড্ডা, পাঠশালা নিয়ে উদ্যোগ ও কিভাবে আপনারাও অংশ নিতে পারেন এই ইস্কুলের যাত্রায় সেটা নিয়ে পোস্ট আসিতেছে।



যারা এসেছিলেন তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।



আপাতত কিছু ছবি আর একটা ভিডিও শেয়ার করছি। ভিডিওটা দেখার পরে আফসোস যে কেন আরো ভিডিও করলাম না। যাই হোক নেক্সটে হইবেনে।

আলোচনা, উদ্যোগ সম্পর্কে শিঘ্রি বিস্তারিত জানাচ্ছি।















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28948534 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28948534 2009-05-09 21:51:26
বাংলাদেশে Edge আর Zoom এর মধ্যে কার সার্ভিস / স্পিড ভালো?
যাদের ফাস্ট হ্যান্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে তারা যদি আওয়াজ দেন তবে কৃতজ্ঞ হই।

মাসে খরচ কতো?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28948169 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28948169 2009-05-08 23:45:03
বাকী বিল্লাহ-এর নেহাতই আধুনিক ও অন্যান্য গল্প। প্রথমে মুগ্ধতা ঘটনা দুটোর মধ্যে একটা হতে পারে। প্রথম হাইপোথিসিস হতে পারে যে আমি অনেকদিন বাংলা বই পড়ি নাই, বিশেষ করে ফিকশন তাই বাকীর বই পড়তে শুরু করে আমি বিষমভাবে মুদ্ধতায় আক্রান্ত। ওইযে অনেকদিন কোন বিশেষ একটা খাবার না খেয়ে অনেক দিন পরে যুতসই ক্ষুধা পেটে সেটা খেলে যেরম আহাউহু মুদ্ধতা হয় সেই রকম অনেকটা। সেক্ষেত্রে খাবারটা বাড়াবাড়ি রকমের ভালো না হলেও তৃপ্তিটা বেজায় হয়। বাকীর বইটার লেখা হয়তো ততটা ভালো না, আমার খিদে ছিলো মারাত্নক। তাই পড়ে পাতায় পাতায় মুগ্ধতা।

এছাড়া অন্য হাইপোথিসিসটা হলো বাকী বিল্লাহ আসলেই এক ছুপা রুস্তম লেখক এবং সাহস করে বলেও ফেলতে পারি এই সময়ের অন্যতম ছুপা রুস্তম।

পাঠক আপনাদের দুটো হাইপোথিসিসের কোনটাই বেমক্কা বিশ্বাস করার দরকার নেই (অন্ধ বিশ্বাস সবসময়েই স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর) তবে এর মাঝামাঝি একটা অবস্থানে আপাতত নিজেকে আটকে নিন।

২.
সকালে শাহবাগে ৬ নম্বর বাসে উঠেই সিট পেয়ে বাকী বিল্লাহর বইটা বের করে পাতা উল্টে অগোছালোভাবে একটা পাতা খুলে পড়া শুরু করে দিলাম। অনেকদিন ননফিকশন পড়তে পড়তে এই বাজে অভ্যাসটা হয়ে গেছে। ঢুস করে বইয়ের মধ্য থেকে পড়ার বেয়াদবী। এইক্ষেত্রে বার্কীর গল্পগুলো প্রতিটাই এতটা ইন্টারেস্টিং যায়গার মধ্য দিয়ে যায় আমাকে ট্রেস করে করে প্রথমে চলে আসতে বাধ্য হতে হয়েছে।

রাস্তায় জ্যাম ছিলো মাশাল্লা, তারসাথে দ্রুত পড়ার অভ্যাসে প্রায় পুরো বইটাই শেষ করা গেছে এক অফিস যাত্রার শুরুতেই (একটা গল্প বাদ দিয়ে যেটা পড়ার আগেই বাস থেকে নেমে যেতে হয়েছে, প্লাস আমার পাসের সিটে ছিলেন এক খুব ইন্টারেস্টিং ফকির। তার কথায় জড়তা সত্ত্বেও তার সাথে টুকটাক কথাও বেশ কিছু সময় খেয়ে নিলো। বাসে করে ফকির তার ভিক্ষার গন্তব্যে যাচ্ছে আর আমি যাচ্ছি আমার খ্যাপ মারতে, প‌্যারালাল ঘটনা হলেও ফকিরটা বেশ ইন্টারেস্টিং আর মায়াকাড়া মানুষ ছিলো)।

যাই হোক, বাকীর বইয়ের অনেকগুলো গল্পই হঠাৎ হঠাৎ যা খুশি পাতা খুলে যা খুশি জায়গা থেকে পড়তে গিয়ে (বাকী ক্ষমা করিও এই বদভ্যাসের জন্য) শুধু আগ্রহই তৈরীই করেনি, আহাউহু টাইপ মুদ্ধতা তৈরী করেছে ভিতরে।

৩.
বাকী বিল্লাহর লেখার মধ্যে একটা ব্যক্তিগত ব্যাপারটা আছে যা প্রথমেই মন টেনেছে। আগেই বলেছি আমার অনেকদিন বাংলা ফিকশন পড়া হয় নাই, সুতরাং আজকালের লেখকদের লেখার সাথে আমার সখ্যতা কম। কিন্তু তাতে বাকীর লেখার ভালোলাগার সম্পর্ক নেই বললেই চলে।

বাকী চমৎকার সুরিয়্যালিজম আনতে পারে যা আমাকে গল্পগুলোর ফরম্যাটের রীতিমতো ফ্যান করেছে। পরাবাস্তবতার ব্যাপারটাও জোস। অন্যদিকে সমাজের খুব নিবীড়, ভিতরের কতগুলো দিক বাকী তুলে আনে তার গল্পের মালমসলা হিসেবে যা সব লেখক এত স্মার্টভাবে তুলে আনতে বহুত কাঠখড় পোড়াতে হয়। সাহসী লেখক খুব বেশী দেখা যায় না। ছুপা রুস্তম বাকীর সেই সাহসটা আছে। বিশেষ করে গল্পের ফরম্যাট আর বিষয় নির্বাচনের এক্সমেরিমেন্টটা দারুন।

এক্সপেরিমেন্টের জন্য বাহবা।

৪.
বইটাতে মোট ৯টা গল্প আছে।

কোনটাতে তীব্র শ্লেষ, কোনটাতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মেশামেশি, রাজনৈতিক দর্শনকে নিয়ে ব্যাঙ্গ, বিভিন্ন সমাজবন্ধ মানুষের স্বপ্নভঙ্গ, কোনটাতে মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে দু:খ মিশানো হাসি - এই নিয়েই বাকী বিল্লাহর নেহাতই আধুনিক ও অন্যান্য গল্প বইটা।

প্রায় সবগুলো গল্পতে বাকী নিজেই খলনায়ক অথবা গল্পের একেবারে প্রথম পুরুষের ন্যারেটর। যেভাবে অনেক সময়ে খবর পরিবেশনের ঢংয়ে বাকী তার গল্প শুরু করে তাতে পাঠক যেন অনেকটা সিরিয়াস হয়ে যায় শুরুতেই, তারপরেই বাকী শুরু করে তার চমকগুলো। রিয়েলিজমকে কখন সুরিয়ালিজমে বাকী মিশিয়ে ফেলবে সেই মিশ্রনের জায়গাটা আমার খুব মজা লেগেছে। লেখক হিসেবে সেটা বাকীর কৃতিত্ব্।

৫.
বইটা সবার ভালো লাগার কথা না। একেবারেই নিশ্চিতভাবেই এটা বলা যায়। এর স্বাদ আর মেটাফোর, এর সুরিয়ালিজম অথবা র-নেস অনেকের ভালো না লাগারই কথা। সব জামা সবার গায়ে বসানো ঠিক না, তাই আশা করাও ঠিক না যে একই মুদ্ধতা সবাইকে ছুয়ে যাবে।

আমার ভালো লাগার অন্যতম একটা কারন এক্সপেরিমেন্টাল ফরম্যাট, পরাবাস্তববতা এবং অবশ্যই অন্যরকম একটা চমক তৈরী করা। এই চমকের জায়গাটায় বাকী রীতিমতো শিল্পী। ভাষার ব্যাবহারে বাকীর কাজ অনেকটা সালভাদর দালির সুরিয়ালিস্ট চিত্রকর্মের মতো। দর্শকের মাথা যা এক্সপেক্ট করে, যেভাবে করে দুম করে ক্যানভাস জুড়ে তার বীপরীত রিয়েলিটি তৈরী করতে দালির জুড়ি ছিলো না।

৬.
বাকীর গল্পের নমুনা:

একটি বানানো সত্যি গল্প এভাবে শুরু হয়েছে:
"হঠাৎ করে মরে যাওয়া, মরণ পরবর্তীকালে মালুম করতে না পারা কখন মরলাম, কীভাবে মরলাম এবং সর্বোপরী একটি আস্ত পরকালের সামনে পড়া - এই পুরো ঘটনাচক্র একজন মার্কসবাদী তরুণের জন্য নি:সন্দেহে হতাশাজনক। ঘটনার সূচনালগ্নে অনুভূত হচ্ছিলো একটি তীব্র গোলকধাধা যেখানে একই সাথে অসীম পরিমাণ অন্ধকার এবং দুর্বোধ্যতা বিরাজমান ছিলো। ..."

৭.
"গল্পটি টলস্টয় লিখেছিলেন" একটা চমৎকার প্লট। খুব সম্ভবত আমার সবচে প্রিয়। এটাতেও সুরিয়্যালিজম (নাকি পরাবাস্তবতা, নাকি উত্তর আধুনিকতা - বিশেষন যেটাই হোক) এর একটা মজা আছে। এর প্রধান চরিত্র গামেন্টস মালিক মোয়াজ্জেম তরফদার তারই গামেন্টসের এক ২৪ বছর বয়সী তরুনীর দেহে নিজেকে আবিস্কার করে। যাকে খুন করা হবে খুনী নিজেকে তার দেহে বন্দী আবিস্কার করা অভিজ্ঞতাটা খুব সুখকর নয় বলাই বাহু্ল এবং লেখক পুরো কাহিনীটা রস করেই তৈরী করেছেন। খুব ভালো লেখার কাজ এবং গতি।

গল্পের একটা জায়গা এরকম:
"ডিক্লাসিফিকেশন অব সেক্সুয়ালিটি বলে একটা ধারনা তরফদারের বন্ধু মহলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সম্প্রতি। .. ধারনাটিকে একটা সমস্যা বা লক্ষন বলে চিহ্নিত করা যায়। ঘরের সুন্দরী বউ বা উচ্চমূল্যে কেনা উচ্চ শ্রেনীর নারী (কলগার্ল) মোটা দাগে নিজেদের শ্রেনীতে যৌনচর্চায় চরম অনীহা এ লক্ষনের প্রথম ধাপ। লক্ষনের দ্বিতীয় ধাপের একটি সাধারন বৈশিস্ট সবার ক্ষেত্র অভিন্ন হচ্ছে - অপুষ্টিজনিত রোগাপটকা গামেন্টসের মেয়েগুলোর প্রতি আগ্রহ। ভালা করে খেতে না পেয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মেয়েটি, যার হাত পা গুলি লম্বা লম্বা কাঠির মতো, খালি পায়ে নির্জীব হাটার সময় পেছন থেকে যাকে কোনমতেই যুবতী নারী হিসেবে সনাক্ত করা যায় না - এরকম একটি মেয়েই হয়ে উঠছে যৌন উত্তেজনার আধার। বাংলায় একে কী বলা যায়? শ্রেণীচু্ত যৌন প্রেষণা?"

... বাকীর গল্পে এরকম মজার কমেন্টারী প্রচুর পাওয়া যায় যা গল্প পড়ার জায়গা ছাড়াও লেখকের মাথায় ঢুকতে খুবই সাহায্য করে। অনেকটা জায়গার বাকীর নিজস্ব রাজনৈতিক সচেতনতা এবং তা থেকে বেরিয়া আশা শ্লেষ ধরা যায় স্পষ্ট ভাবে। বাকী বিল্লাহ লেখক স্বত্বার বাইরেও যে একজন ভাবিয়ে (ভাবেন ও ভাবান) তাতে সন্দেহ থাকেনা।

এ সব মিলিয়েই বাকী বিল্লাহর বইখানা "নেহাতই আধুনিক ও অন্যান্য গল্প" এর প্রথম মুদ্ধতা। বইটা মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত। ২০০৯ এর ফ্রেব্রুয়ারীতে।


* লেখক বাকী বিল্লাহর প্রতি নোট: কৌশিকের ব্যক্তিগত কপি লইয়া রিভিউ করলাম। আমার জন্য একখান অটোগ্রাফ সহ কপি রাখিয়েন। কিনিয়া লইব, সংগ্রহে রাখার আগ্রহ। কসম ভালো লাগছে, শক্তিশালী লেখা। বাড়তি যেটা মনে হলো তা হচ্ছে আপনার লেখা খুব ভালো নাটক হইতে পারে। আমি আলাপ করবো এক নাটক বানিয়ের সাথে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28947801 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28947801 2009-05-08 04:12:19
আমাদের পাঠশালার জন্য, পাঠশালায় আড্ডা ও মুড়ি পিয়াজুর নিমন্তণ
এক.
যেই মানুষ ভাবলো বৃষ্টি হ। আন্তরিকভাবেই ভাবল বৃষ্টি হ, তাতে বৃষ্টি হতে বাধ্য। এমনকি শালিক পাখিও যদি ভাবে বৃষ্টি হ, তাতে বৃষ্টি হতে বাধ্য। এমনকি পিঁপড়েও যদি ভাবে বৃষ্টি হ, তাহলেও বৃষ্টি হতে বাধ্য।
- বিনয় মজুমদার

আসলেই, বৃষ্টি হতে বাধ্য। না আকাশ ভেঙ্গে, মেঘের দেশ থেকে নেমে আসা পানির ফোটার বৃষ্টি না, অন্যরকম বৃষ্টির কথা বলা হোক। বৃষ্টিটা প্রতীকি। প্রতীকে এমন এক বৃষ্টির কথা হোক যে বৃষ্টি ছুয়ে গেলে, চুইয়ে গেলে জন্ম হয় অন্যরকম এক সবুজের, জন্ম হয় অন্য এক সতেজতার। বিনয় মজুমদারের এই কবিতা গদ্যে ’আন্তরিক’ শব্দটাই সবচে শক্তিশালী। মানুষ যখন আন্তরিকভাবে ভাবে কোন কিছু - (আর ভাবনার আরেক নামই স্বপ্ন , কেউ বলে দিবাস্বপ্ন) মানুষ যখন আন্তরিকভাবে স্বপ্ন দেখে কোন কিছুর, আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে তার স্বপ্নে তাহলে নেমে আসতে বাধ্য বৃষ্টি। স্বপ্ন ও আকাংখা তখন রূপ নেয় করে সত্যিকারের করে দেখানো কাজে।

দুই.
কথা হচ্ছিলো কয়েকজন সমমনা বন্ধুর সাথে, বিষয় স্বপ্নময় কাজের রূপায়ন এবং সেইরকম কাজের পেছনে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে। প্রত্যেকের সাধ্য হয়তো অল্প কিন্তু মিলিতভাবে সেই সাধ্যটা অনেক বড় রূপ নিতে পারে। আন্তরিকভাবে স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন রূপ দেওয়ার মানুষগুলো আমাদের সমাজে খুব একটা দেখা যায় না। তাই খুঁজতে হয়, আর খুঁজে পাওয়ার পরে হারিয়ে যেতে দিতে নেই হেলাফেলায়। তার অংশ হতে হয়।

আমরা কেউ কেউ কখনো কখনো খুঁজি এরকম আন্তরিক স্বপ্নময় কাজ ও সেই কাজের রূপকার কাউকে। উদ্দেশ্য থাকে প্রথম কাজটা সম্পর্কে জানা, অন্যকে জানানো এবং সাধ্যমতো কিছুটা সাহায্য করা। সেই সুত্রেই জানা হলো রুবেলের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ’আমাদের পাঠশালা’ স্কুলটার কথা। এই জানাজানির পেছনে সামহোয়্যার ইনের অনেকের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা। পরে কথাও হলো রুবেলের সাথে।

বিনয় মজুমদার যে আন্তরিকভাবে ভাবার কথা উল্লেখ করেছেন, রুবেলের উদ্যোগে তৈরী এই আমাদের পাঠশালা সেইরকম এক আন্তরিকভাবে ভাবা, আন্তরিকভাবে স্বপ্ন দেখা ও সেই স্বপ্নকে করে দেখানোর চমৎকার এক মডেল।

তিন.
রুবেলের পাঠশালা সম্পর্কে লিখতে গেলে অনেক কিছুই লেখা যায়। পাঠশালার প্রকাশিত প্রকাশনা প্রাণের হাটের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত করছি কিছু দরকারী কথা: ”আমাদের পাঠশালা বঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে বঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বললেই যে মলিন, ছিন্ন ভাব আমাদের মনের মধ্যে জাগে আমাদের পাঠশালা ঠিক সেরকম নয়। একটু অন্যরকম। বিকল্প বলতে ভয় হয়, বিকল্পের নামে প্রকল্প বাগানোর এতো আয়োজন চারিদিকে যে খানিকটা লজ্জাও লাগে। আর বিকল্পের নামেতো সেই এক গৎবাধা পুরানো জিনিস চলছে মোড়ক বদলিয়ে বদলিয়ে।

বঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত মানবিক শিক্ষা’র স্লোগান নিয়ে ২০০৮ এর জানুয়ারী থেকে যাত্রা শুরু করে আমাদের পাঠশালা। যেখানে আধিপত্যকারী ধারণা হলো গরিবের জন্য গরিবী শিক্ষা, সেখানে পাঠশালা সবসময়েই সম্ভব সবচে ভালো শিক্ষার লক্ষ্যে কাজ করছে।”

অন্য আর একশটা স্কুল থেকে আমাদের পাঠশালার পার্থক্য অনেক। না স্কুল বিল্ডিংয়ের দেয়াল, চেয়ারটেবিল অথবা ছাদ দেখে সেই পার্থক্যটা বোঝা যাবে না। যেমনটা আগেই বলা হলো যে আমাদের পাঠশালার প্রচেষ্টার প্রধান হাইলাইট হলো বঞ্চিত শিশুদের জন্য সবচে ভালো শিক্ষার নিশ্চয়তা, প্রচেষ্টা। অর্থাৎ বড়লোকের জন্য বড়লোকি শিক্ষা আর গরীবের জন্য গরীবি শিক্ষা; বড়লোকের ছেলে মেয়েদের হাতে চকমকে বই আর গরীবের ছেলেমেয়ের হাতে ছেড়া বই, ছেড়া খাতা, ভাঙ্গা পেন্সিল এই বৈষম্যের জায়গাটাকে চ্যালেঞ্জ করতেই আমাদের পাঠশালা। শুধু তাই নয় পুরো শিক্ষাদানের দর্শন অনেক আলাদা এখানে। এটা এমন এক ইস্কুল যেখানে কোন হোমওয়ার্ক নেই, যেখানে ছেলেমেয়েরা ছুটির বদলে উল্টো স্কুলে আসতে চায়, বলে ’ছুটি ভালো লাগে না স্যার’ - এটা এমন এক স্কুল যেখানে সবার জন্য পুরুস্কার থাকে; যেখানের ছাত্ররা বলে ’এই ইশকুলটায় যাইতে খুব ইচ্ছা হয়।’

চার.
কিভাবে গড়ে উঠলো আমাদের পাঠশালা? পেছনের গল্পটা কি? কিভাবে এটা চলে, কারা চালায়? কে পড়ায়, কি পড়ায়? কেমন দেখতে আমাদের পাঠশালা? বঞ্চিত শিশুরা কেমন দেখতে, ওরা কি আসলেই পড়াশুনা করে নাকি এটা স্কুলের নামে ধান্দাবাজী? পাঠশালা গড়ে তোলা, প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহ এটাকে চালাতে যে পরিমান শ্রম আর ধৈর্য্য লাগে সেই শ্রম আর ধৈর্য্য যারা ধারন করে তাদের চেহারাটা কিরকম? যদি ভালো লাগে আমাদের পাঠশালা তবে কি করে আমরাও সাহায্য করতে পারি, হতে পারি এর ভলান্টিয়ার অথবা বান্ধব অথবা মুখপাত্র?

এরকম অনেক প্রশ্ন আর তার উত্তর জানতে আমাদের পাঠশালায় একটা ব্লগীয় আড্ডার আয়োজন করছি আমরা। অনেকদিন নাকি ব্লগবাসীদের বিশুদ্ধ আড্ডা হয় না (ব্লগের মজাটাইতো নেটওয়ার্কিং, চেনা জানা আর অফলাইনের আড্ডা, সেটা না থাকলে এইসব উবু হয়ে কম্পুটার স্ক্রীনে বসে থাকে কোন উজবুক!)। এবার তাই এবং তার সাথে কিছু স্বপ্নের কথা, কিছু আন্তরিক ভাবনার কথা। আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেশ কিছু নেশারু ব্লগার।

এই মুড়ি আর পিয়াজুর (মেনু পাল্টে জেতে পারে) অতিথি হতে আপনাদের নিমন্ত্রন করছে রুবেল এবং তার আমাদের পাঠশালার সকলে, যার মধ্যে আছে সব ছাত্রছাত্রী। দিনক্ষন শনিবার (৯ই মে)। দুপুর ১১টা। (দিনক্ষন পাক্কা, নড়চড় করা যাবে না, যাদের অফিস আছে, অফিস কামাই করেন বুকের পাটা থাকলে, নাইলে উপায় নাই। শনিবারই আমাদের পাঠশালার শেষ দিন, তারপরে গ্রীষ্মের ছুটিতে যাচ্ছে পিচ্চুরা। শুক্রবার ছাত্রছাত্রীদের আসতে বলা যাবে না, কারন বিবিধ)


পাঁচ.
আইলে তো আইলাম, কিন্তু কি হইবো ওইখানে?

আড্ডা, আবার কি? সঙ্গে মুড়ি আর ইয়ে তো থাকবেই।

আর কিছু না হোক মুড়ি আর ইয়ের লোভেই চলে আসুন, সঙ্গে একজন দুইজন বন্ধু বান্ধবীকেও আনুন যার ভিতরে একটা বড় কলিজা আছে, যে স্বপ্ন দেখতে এখনো ভোলেনি, যে ভালো কাজ দেখলে অন্যদিকে উদাস মুখ করে হেটে যায় না - চকচকে চোখে আগ্রহ করে এগিয়ে আছে আর যে হাত বাড়াতে জানে।

ছয়.
কি করে পৌছানো যাবে আমাদের পাঠশালায়?

আমাদের পাঠশালার ঠিকানা হচ্ছে:
বাড়ি ৪০, লাইন (লেন) ২৫, ব্লক ডি, সেকশন ১২ (প্রচলিত নাম সাড়ে এগারো), পল্লবী, মিরপুর। ঢাকা।

ঠিকানা একবারে খুঁজে পাবেন এই ভরসা না করাই ভালো, যদিনা ওদিকটা অনেক পরিচিত থাকে। সাড়ে এগারো, ব্লক ডি কে রেফারেন্স ধরে মানুষকে জিজ্ঞেস করে এগিয়ে এসে লাইন ২৫ বের করে বাড়ির নম্বর খুঁজলে পাবেন আশা করি। না হলে হোস্টকে একটা ফোন দিন। রুবেলের ফোন নাম্বার: ০১৭২১৬২৩৬২৭।

সাত.
আমাদের পাঠশালার যারা অন্তরঙ্গ বন্ধু তাদের দাবী যে আমাদের পাঠশালায় একটা সিন্দুক আছ, সিন্দুক ভারা প্রাণ-আনন্দ-ভালোবাসা-স্বপ্ন। এবং এই সিন্দুকের কোনো তালা নেই।

আমি একটু আড়িপেতে দেখে এসেছি একদিন সেই সিন্দুক। সিন্দুক আসলেই আছে। এবার নিমন্ত্রন রইলো আপনাদের সেই সিন্দুকের দর্শনে।

আট.
না গেলে কি আসে যায়?

নূরুল আলম আতিকের গ্রন্থনায় প্রকাশিত একটা ছোট্ট বই, নাম 'নতুন সিনেমা, সময়ের প্রয়োজন'। সেই বইটার একদম শেষ মলাটে তিনটে লাইন থেকে উত্তরটা দেওয়া যেতে পারে যারা হইতো ভাবছেন, সময় কোথায় এইসব ছাইপাশ স্কুলে যাওয়ার, সময় কোথায় এইসব টুটাফুটা ফকিরনীর বাচ্চাগোর কারবার দেখতে, যেতে পারি কিন্তু আমি কেন যাবো? এই গরমে দুপুর এগারোটা, উফ না একদম না - ইত্যাদি হাজারটা ফালতু বায়ানাক্কা।

তাদের জন্য নুরুল আলম আতিকের সেই বইতে খুব সহজ ভাষায় এভাবে বলা আছে:

প্রথমত: সময় নাই।
দ্বিতীয়ত: এখনই সময়।
তৃতীয়ত: তুমি না থাকলেও ব্যাপারটা ঘটবে, তবু তোমাকেই চাই।

যা বলতে চেয়েছি তার প্রায় সব বলা হয়ে গেছে। যারা আসতে পারবেন আগামী শনিবার তারা একটু আওয়াজ দিয়েন মন্তব্যে বা ইমেইলে। ব্লগীয় দলাদলি থেকে এই আড্ডা মুক্ত। আমরা কাজের মানুষদের আড্ডা চাই, যে আড্ডায় উদ্যোগের জন্ম নেয় সেই আড্ডা চাই, আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই, যারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে তাদের বলতে চাই 'এই আমার বাড়ানো হাত'। ব্যস। দলাদলি, চুলাচুলি, এ গেলে আমি নাই, অমুকে অন্য পার্টির ইত্যাদি এটিচুড নিয়ে রাজনীতিকরা ব্যস্ত থাকুক (এবং মরুক) । আমরা এবার কাজ করি।

প্রথমত: সময় নাই। দ্বিতীয়ত: এখনই সময়। তৃতীয়ত: তুমি না থাকলেও ব্যাপারটা ঘটবে, তবু তোমাকেই চাই।

তোমাকেই চাই।

অনেকদিন পর সামহোয়্যারইনে আসা, সবাইকে নিরন্তর শুভেচ্ছা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28946893 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28946893 2009-05-06 00:38:42
মাশার বইয়ের খসড়া প্রচ্ছদ এবং মাশার কাছে ব্লগিও পত্র
সোনারগাঁয়ে ঘুরতে ঘুরতে পানাম শহরে বেশ কিছু ভালো ফ্রেম পাইছিলাম ছবি তোলার। ভাঙ্গা ক্যামেরাও তার ত্রুটি ভুইলা যায় পানাম শহরের দারুন সব সাবজেক্টে।

মাশা গেলবার ওর কবিতার বইয়ের জন্য একটা প্রচ্ছদ বানায়ে দেওয়ার আবদার করছিলো। সোনারগাঁয়ে তোলা ছবিগুলো ব্যবহার করে কয়েকটা খসড়া করে দিছিলাম দেশ ছাড়া কয়েকদিন আগে আগে।

সেই প্রচ্ছদগুলোর একটা এইখানে পোস্ট দিলাম। মাশার কবিতার বইটা কি প্রকাশ হইলো নাকি আরো কবিতা জমলে এই কবি তার বই বাইর করবে তা জানি না। ব্যাটার সাথে যোগাযোগও নাই। কই আছে, কি করে খোদায় জানে।

বাকি খসড়া প্রচ্ছদগুলো

মাশার বাচ্চা, পোস্ট পড়লে জিমেইল ইমেইল করিও ()। আমি ইয়াহু ব্যবহার করি না বাছা, সুতরাং জিমেইলই ভরসা। হক মাওলা।

বই ছাপাইলে একটা কপি আমার বাপরে দিয়া আসলে বহুত খুশি হইতাম। ভালো কথা তোমার কাছে উইলিয়াম ব্লেকের বইখান আছে আমার। হারাইয়ো না । আদরের বই ওইটা। তোমার পড়া আর নাড়া চাড়া হইলে বাসায় ড্রপ করিও।

ইতি,
তোমার বইয়ের প্রচ্ছদ আকিয়ে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28778279 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28778279 2008-03-11 14:42:22
রবীন্দ্রনাথের ভাঙ্গা গান। যে বাউল গানের সুর থেকে জন্ম আমার সোনার বাংলার
আমাদের জাতীয় সংগীত, আমার সোনার বাংলার সুর যে বাউল গান থেকে নেওয়া তার মূল কথাগুলো এরকম (কথা: গগন হরকরা)। গানটা শুনলে বোঝা যায় গানটির কথাও সোনার বাংলার কথার সাথে অনেকাংশেই মিলে যায়।

আমি কোথায় পাবো তারে?

আমি কোথায় পাবো তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশ্য
আমি বেড়াই ঘুড়ে দেশে দেশে।

লাগে সে হৃদয় শশী
সদা প্রাণ হয় উদাসী
পেলে মন হতো খুশি
দিবানিশি দেখতাম নয়ন ভরে
আমার প্রেমাণলে মরলাম জ্বলে
নিভাই কেমন করে
মরি হায়!

ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে
ওরে দেখনা তোরা হৃদয় চিরে
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।

দিবো তার তুলনা কি?!
যার প্রেমে জগৎ সুখী
হেরে যে জুড়ায় আখি
সামান্যে কি দেখতে পাবি তারে।
তারে যে দেখেছে সে মজেছে
ছাই দিয়ে সংসারে
মরি হায়।

ওরে না জানি কি কুহক জানে
অলক্ষে মন চুরি করে
আমি কোথায় পাবো তারে?

কুলমান সব গেলোরে
তবু না পেলাম তারে,
প্রেমের লেশ নাই অন্তরে
তাই তো মোরে দেয়না দেখা সে রে।

ও তার বসত কোথা না জেনে
কয় গগন ভেবে মরে
যদি সেই মানুষের হদিশ জানিস
কৃপা করে আমার সুহৃদ হয়ে
আমার গেতি হয়ে বলে দেরে
কোথায় পাবো তারে
আমার মনে মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশ্য
আমি বেড়াই ঘুড়ে দেশে দেশে।
কোথায় পাবো তারে
আমার মনে মানুষ যে রে।



পূণ্যদাস বাউলের গাওয়া এই গানটি শুনতে হলে ক্লিক করুন

গানের দর্শন:
গগন হরকরার এই গানটি যে মরমী দর্শনের উপরে নির্মিত তাকে ইসলামী সুফি দর্শনে ইনসানে কামিল বা সম্পূর্ণ মানুষ বলে। বাউল দর্শনে এই মানুষের নাম: সহজ মানুষ। নবীর সাথে সাহাবীর যে গভীর সম্পর্ক ঠিক তাকে অনুসরন করেই আধ্যাত্নিক শিক্ষকের রূপ নেয় "সম্পূর্ণ মানুষ", আর তার সন্ধান শিষ্যের।

আমি কোথায় পাবো তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশ্য
আমি বেড়াই ঘুড়ে দেশে দেশে - সেই সহজ মানুষের সন্ধানের ব্যাকুলতা।

ছবি: বাউল আসর, চারুকলার মরা পুকুর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28778271 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28778271 2008-03-11 14:09:29
বার্কলে শহরের গল্প
বার্কলের শহরের সাথে সাথে এর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (সংক্ষেপে, ইউসি বার্কলে) -এর সুনাম আমেরিকা জোড়া। অনুষ্ঠান শেষে আমি আমার সঙ্গীকে অনুরোধ করলাম আমাকে শহরের মূল রাস্তায় পৌছে দিতে যেখানে অনেক মানুষ দেখা যাবে। কিছুক্ষনের ভিতরে বার্কলের সরু সরু রাস্তা ঘুরে শহরের সবচেয়ে জমজমাট রাস্তা, টেলিগ্রাফে পৌছলাম। বিশাল এক বইয়ের দোকানের সামনে নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে। পুরোদিন হাতে, উদ্দেশ্য বার্কলের হরেকরকম মানুষ দেখা, বইয়ের দোকানে সময় কাটানো, পুরো টেলিগ্রাফ ঘুরে আশে পাশে যতটা দেখা যায় হন্টন পদ্ধতিতে চক্কর দেওয়া। জমজমাট এলাকা। প্রচুর ইউসি বার্কলের ছেলে ছোকরারা, এবং টু্রিস্টরাই বেশি। বলে রাখা ভালো যে এই টেলিগ্রাফ এভিনিউ একসময়ে বার্কলের হিপ্পিদের আড্ডার এলাকা হিসেবে বিখ্যাত। এখনো টেলিগ্রাফে হাটলে সেই হিপ্পি ভাবটা চোখে পড়ে।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট এত বড়সড় যে এক শহর থেকে আরেক শহরের হাবভাব পুরো আলাদা। সান ফ্রান্সিসকোর খুব কাছের শহর বার্কলের একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। আমেরিকার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য সময়গুলোতে বার্কলে, বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (সংক্ষেপে, ইউসি বার্কলে) সবসময় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বার্কলের পরিচয় মূলত সংস্কৃতিমনা, উদার, যুদ্ধবিরোধী, নাগরিক অধিকার সচেতন শহর হিসেবে। বার্কলের অধিবাসীরাও আমেরিকার অন্যতম ইন্টেলকচুয়াল, সচেতন মানুষ হিসেবে বাইরে পরিচিত।

ইউসি বার্কলের প্রতি এতটাই সমীহ ছিলো যে ভয়ে এখানে এ্যাপ্লাই করি নি। এই শহরটার আবেদন অন্যরকম, ঘুরে ফিরে দেখে মনে হচ্ছিলো এখানে থাকতে পারলে মন্দ হতো না।

দুইদিন আগে বার্কলের রেসিডেন্সিয়াল এলাকা দেখে আমার উত্তর ভারতে ছিমছাম পাহাড়ী শহর মানালির কথা মনে পড়ে গ্যালো। বার্কলে ঠিক তত পাহাড়ি না হলেও টিলার মতো উচু নিচু পথ পাওয়া যায়, রাস্তার আসে পাশের বাড়িঘরগুলো ক্যামন পুরনো পুরনো। টেলিগ্রাফ এভিনিউ ফুটপাত জোড়া বিভিন্ন হকার একেবারে দেশীয় স্টাইলে ব্যাবসা করছে। কানের দুল থেকে শুরু করে রঙ চঙ্গা টিশার্ট আর দুনিয়ার ফালতু জিনিস। এমন দৃশ্য লস এ্যাঞ্জেলেসে দেখা বিরল। গুলিস্তানের স্মৃতি বুদবুদ।

এমনিতে লস এ্যাঞ্জেলেস খুব মাল্টিকালচারাল, কিন্তু বার্কলে এসে টের পেলাম এখানে তার স্বাদ আরো কড়া। প্রচুর এথনিক দোকান, দশ মিনিটের হাটায় মনে হয় ভিয়েতনামি থেকে শুরু করে তিব্বত, থাই, ভারতীয়, মেক্সিকান, চাইনীজ ... পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের খাবারের রেস্তোরা চোখে পড়লো। খিদে চাঙ্গা হেতে এক উপমহাদেশীয় রেস্তোরায় একেবারে স্টার কাবাবের মেনু খুজে পেলাম। এইনা হলে বার্কলে।

টেলিগ্রাফ স্ট্রেটের এক প্রান্তে বিখ্যাত ইউসি বার্কলের ক্যাম্পাস শুরু। সব ইউসির আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। অনেক জায়গায় ইউসি লস এ্যাঞ্জেলেসের সাথে মিল পেলেও বার্কলের ক্যাম্পাস খুবই নিজস্ব। শহরের নিজস্ব ঐতিহ্য ক্যাম্পাসেও চোখে পড়ে। খুব খোলা মেলা একটা ক্যাম্পাস। পুরোটা দেখার আগেই পা টনটন, ঐদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধা হওয়ার আগেই ম্যাপ খুজে বাসার পথে পা বাড়াতে হবে।

তাই ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে ফুটপাতে স্টিকার বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম ডাউনটাউন কোনদিকে। সোজাগিয়ে আট ব্লক পার হয়ে ডান দিকে গেলেই ডাউনটাউন। ডাউনটাউনে একটা চমৎকার বইয়ের দোকানে কিছুক্ষন আটকা পড়ে গেলাম। তুর্কি দোকানে কফি আর মিষ্টি খেতে যাওয়ার পথে ফুটপাতে এক গ্রীনপিসের স্বেচ্ছাসেবী সুন্দরী ক্রিস্টিন পথ আটকালো। বহুক্ষন লেকচার শুনিয়ে গ্রীনপিসের সদস্য বানিয়ে তবেই পথ ছাড়বে। আমিও ক্রিস্টিনকে গ্লোবাল ওয়াননেস প্রোজেক্টের খুটিনাটি জানিয়ে তুর্কি দোকানের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। বড় পর্দায় সেখানে তুরস্কের দুই ফুটবল ক্লাবের খেলা চলছে।

গালাতাসারে আর কোনিয়া। ওয়েটারকে যখন হাকান সুকারের কথা জিজ্ঞেস করলাম ব্যাটার মুখ হা! অবাক আমেরিকায় যেখান সকার (ফুটবল) এত অজনপ্রিয় সেখানে ওদের প্রিয় খেলোয়ারের খবর আমি ক্যামনে জানলাম!

বার্কলের ডাউনটাউন খুব ব্যস্ত কিছু না। পুরো বার্কলেটাই একটু ঠান্ডা, চুপচাপ টাইপ, অন্তত লস এ্যাঞ্জেলেসের তুলনায় ঢের। লস এ্যাঞ্জেলেস যদি ঢাকা হয় তবে বার্কলে অনেকটা সিলেটের কোন মফস্বল শহর। বার্কলেতে নেমেই আমি আমার হোস্টকে বলেছিলাম এই শহরটাকে আমি ইতিমধ্যেই মিস করতে আরম্ভ করেছি। আসলেই তাই। বার্কলের তুলনা বার্কলেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28774815 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28774815 2008-02-28 14:17:41
বহুদিন পরে, সামহোয়্যারে
এরপরে ক্রিসমাসে দাওয়াত ছিলো স্যান ডিয়াগোর কাছে ইস্কুন্ডো নামের একটা শহরের বাইরে একটা ফার্মে। লস এ্যাঞ্জেলেসর ব্যস্ততার বাইরে একেবারে গ্রাম গ্রাম জায়গায়, তার উপরে ফ্যামিলি ফার্ম যেখানে মুরগী, ফল ফলাদির চাষ, চেরী, কমলার বাগান - সবমিলিয়ে খুব শান্তিময় জায়ঘা। আমেরিকায় আমার প্রথম ক্রিসমাস পালন খুব স্মরনীয় রাখার পেছনে পুরো কৃতিত্ব্ আমার বন্ধু ব্রেন্ডা আর ওর স্বামী জনের।

ছুটি শেষ হওয়ার আগে আগে শেষ ভ্রমন হিসেবে এখন সুমন (ব্লগার এস এম মাহবুব মুর্শেদের) বাড়ি, এ্যারিজোনায়। আমার এক চাচাতো বোন আর বোন জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসতেই এখানে আসা যার শুরুটায় সুমন আর ওর বৌ মৌটুসীর বাড়িতে একরাত কাটানোর মতলব। ইতিমধ্যে ওদের ইউনিভার্সিটি ঘুরে, ভরপেট খিচুড়ি মুরগী, অত:পর পায়েশ পর্বের পর এখন রাত্রিকালীন ভ্রমন পর্বের প্রস্তুতি চলছে।

অনেকদিন পরে একটু ফুরসত পেয়ে মৌটুসীর ল্যাপটপে বসে সামহোয়্যার ইনে ঢুকে বেশ ভালো লাগলো। বোধহয় সামহোয়্যারে লেখালেখির পরে সবচে বড় ব্রেক (প্রায় তিন কি চার মাস বাদে) এর পরে আবার লগ ইন করা। চোখে পড়ছে প্রচুর পরিবর্তন। বিশেষ করে সতেজ সবুজ শিরোনাম গ্রাফিক্সটা ভালো লাগলো। গ্রুপ ব্লগের কনসেপ্ট চালূ হবে হবে, হয়ে গেছে দেখলাম। ইন্টারফেসে আরো অনেক পরিবর্তন যার সব এখনো ঘাটা হয়নি।

বহুদিন পরে, সামহোয়্যারে
নিরন্তর শুভেচ্ছা সবাইকে।

শুভ নববর্ষ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28755047 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28755047 2007-12-30 11:10:19
আদম এখনো আদমকেই সিজদা করে
কুরআনের বর্ণনা অনুসারে আদমের দেহে স্রষ্টার নিজস্ব রুহ ফুঁকে দিয়ে (কুরআন ৩২:৯) আদকে প্রাণ দান করে স্রষ্টা প্রথমে আদমকে সব কিছুর নাম শেখান (কুরআন ২:৩১)। এই 'সবকিছুর নাম' শিখানোর সিম্বলিক অর্থ বিশ্বজগতের যাবতীয় জ্ঞান আদম ও আদমের অনাগত বংশধরের ইন্টেলেক্ট বা বুদ্ধিবৃততির করায়ত্ব করা, অর্থাৎ সৃষ্টির সব ধরনের জ্ঞানকে মানবজাতি করায়ত্ত করতে পারবে তার বীজ বপন। এই ইন্টেলেকচুয়াল সুপেরিয়রিটি এবং ফ্রি উইল বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা আদমকে উপহার দেওয়ার বদৌলতে সৃষ্টির অন্য যে কারো থেকে আদমের (এবং সার্বিকভাবে মানবজাতির) সন্মান সবচেয়ে বেশি। ইন্টেলেকচুয়াল সুপেরিয়রিটির দিক থেকে মানুষ তাই সৃষ্টির সেরা জীব উপাধিত। ফলে ফেরেশতাকে (যাদের ভিতরে ফ্রি উইল বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা নেই) নির্দেশ দেওয়া হয় আদমের শ্রেষ্ঠত্ব একনলেজ করা। এই শ্রেষ্ঠত্ব একনলেজ করা বা স্বীকার করে নেওয়ার সিম্বলিক বহি:প্রকাশ ছিলো সিজদা করা (কুরআন ২:৩৪)। স্রষ্টার নির্দেশ মেনে অত:পর ফেরেশতারা সবাই আদমকে সিজদা করলো ইবলিশ ব্যাতীত। সিজদা পর্বের নাটকীয়তার সেই শুরু।

২. সিজদা মানে কি কেবল দৈহিক মাথা নত করা?

উহু।

কুরআন শরীফে সিজদা কেবল বিশেষ দৈহিক অবস্থা যেমন মাথা নত করার কনটেক্সটেই আসেনি। এসেছে আরো কয়েকভাবে। যেমন বলা হয়েছে স্রষ্টাকে মহাবিশ্বের ও প্রকৃতির সবকিছু সেজদা করে (কুরআন ১৩:১৫, ২২:১৮। স্রষ্টাকে সিজদা করে যা কিছু আছে আসমান ও জমীনের ভিতরে। আর আসমান জমীনের সবকিছুর মাথা নেই মানুষের মতো যা মাটিতে স্পর্শ করে সেজদা করতে পারে)। এখানে সেজদার গ্লোবাল যে অর্থ তা হলো স্রষ্টার নিয়মের আনুগত্য করা। অনু বা পরমানু যে ফিজিক্যাল 'ল বা নিয়মের অনুসরন করে তা স্রষ্টার নির্দেশ বা নিয়মের প্রতিনিধি। গ্যালাক্সি থেকে শুরু করে পরমানুর ভিতরে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন সুনির্দিষ্ট ও পূর্ব নির্ধারিত নিয়মের ব্যতিক্রম করে না। এবং এই স্রষ্টা পূর্ব নির্ধারিত প্রকৃতির ফিজিক্যাল 'ল এর আনুগত্যই স্রষ্টাকে সিজদা করা বা স্রষ্টার নিয়মের প্রতি সমর্পন।

৩. সামাজিক রীতি পূর্ব নবীদের আইনে (শরীয়ায়) মানুষ মানুষকে সিজদা করা অনুমোদিত ছিলো

অনেকে হয়তো ওয়াকিবহাল নয় যে কুরাআনের সুরা ইউসুফে ইউসুফ নবীকে (বাইবেলে যার নাম জোসেফ) তার পিতামাতা উভয়ে সিজদা করেছিলো যা উল্লেখ আছে। শুধু সেজদা করাই নয়, ইউসুফ অল্প বয়সে যে স্বপ্ন দেখেছিলো তার ভিতরেও (১২:৪) সিজদা করার সিম্বলিক অর্থ ছিলো যা পরবর্তীতে সত্যে পরিণত হয় এবং ইউসুফ নবী মিশরের বড় প্রশাসনিক পদ পাওয়ার পরে তার পিতা মাতা তার কাছে এসে তাকে সিজদা করে (কুরআন ১২:১০০)।

মানুষকে সিজদা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সালাম) এর সময়ে এসে শরীয়তে বা ধর্মীয় বিধানে নিষিদ্ধ হলেও আগের নবীদের সময়ে তা অনুমোদিত ছিলো। বিশ্বের অন্যান্য সামাজিক রীতিতে বয়:জেষ্ঠদের সন্মান প্রদর্শনের জন্য সিজদা করা প্রাচীন যুগে যেমন প্রচলিত ছিলো, তেমনি এখনো প্রচলিত। যেমন জাপানে সম্রাটকে, বয়স্কদের শিন্টো ধর্মে এখনো সিজদা করা হয় সন্মান প্রদর্শনের রীতি হিসেবে। বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মীয় গুরুকে সিজদা করা প্রচলিত। আদিবাসী অনেক সমাজে শীর্ষ সন্মানের রীতি হিসেবে সিজদা করা প্রচলিত।

হযরত মুহাম্মদ (সালাম) নিজেও বলেছিলেন, (জাহিরি শরীয়তে) মানুষকে সিজদা যদি নিষিদ্ধ করা না হতো তা হলে সন্তান পিতা মাতাকে, স্ত্রীর স্বামীকে সিজদা করার (সন্মান অর্থে, উপাসনা নয়) নির্দেশ দেওয়া হতো।

৪. যদি বলি আদম এখনো আদমকে (অথবা আরো পরিস্কার করে বললে আদমের অন্তরের রুহকে) সিজদা করে!

কাবা শরীফে যাদের স্বশরীরে দেখার সুযোগ হয়েছে বা যাদের অন্তত কাবা শরীফের ছবি দেখার সুযোগ হয়েছে তাদের একটু কাবার দৃশ্য কল্পনা করতে হবে। যদি আপনার স্মৃতি ঠিকঠাক মতো কাজ করে তাহলে হয়তো মনে করতে পারবেন যে কাবার সবদিকে, ৩৬০ ডিগ্রী ঘিরে মানুষ সিজদা করে থাকে। কাবা কি? একটা চৌকো ঘর। কাবা শব্দের আরিক অর্থ কিউব। এখন কল্পনা করুন ৩৬০ ডিগ্রি ঘিরে সিজদা রত মানুষেরা সবাই সিজদা করছে একটা কেন্দ্রবিন্দুকে, সেই কেন্দ্রে হলো কাবা।

এখন সেই কল্পনার ছবি থেকে কাবাকে তুলে নেওয়া যাক। কাবাকে কাবার জায়গা থেকে তুলে নিলে দৃশ্যে যা বাকি থাকে তা হলো প্রত্যেক আদম সন্তানেরা অন্য আদম সন্তানকে সিজদা করছে। ৩৬০ ডিগ্রী ঘিরে চলছে আদমের আদমকে সিজদা করা।

শুনতে যতখানি ব্লাসফেমাস বা হেরেটিকই মনে হউক না কেন, ইসলামিক ইসোটেরিক বা বাতেনী কনটেক্সটে সিজদার সিম্বলজি সেই পথেই হাটে। যে তার নফসকে চিনেছে, সে খোদাকে চিনেছে - নবী মুহাম্মদ (সালাম)।

মারেফাত বা নসিস (নলেজ অফ গড) এর ভাষায় স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যে ডিগ্রি অফ সেপারেশন অসম্ভব সুক্ষ। সেই সুক্ষতার হিন্টস কুরআনেও আছে যেখানে বলা হয়েছে স্রষ্টা তোমাদের গ্রীবাস্থ ধমনীর চাইতেও নিকটস্থ (৫০:১৬)। যেদিকে তাকাবে সেইদিকে খোদার বাতেনী সুরত দেখতে পাবে (২:১১৫)।

কাবাকে ঘিরে আদমের আদমকে সিজদা করা প্রসঙ্গে শামসে তাবরীজের (রুমির শিক্ষক) একটা চমৎকার কবিতা আছে যা কাবার সিম্বলজি ধারন করা ছাড়াও সিজদার ইসোটেরিক ডাইমেনশন প্রসঙ্গে কথা বলে। আবারো মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে: মানুষের দেহে যে রুহ তা খোদার ফুঁকে দেওয়া রুহ।

কাবা ইজ ইন দি মিডল অফ দি ওয়ার্ল্ড
অল ফেইসেস টার্ন টুয়ার্ডস ইট।
টেইক ইট এ্যাওয়ে। সি!
ইচ ইজ ওরশিপিং দি সউল অফ ইচ।

কাবা পৃথিবীর মাঝখানে
সব মুখ কাবার পানে
উঠিয়ে নাও কাবা। এইবার দেখো!
প্রত্যেকে রুহ অপর রুহের ইবাদতে রত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28735224 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28735224 2007-10-03 10:35:17
ওয়েলকাম টু ইউসিএলএ। পশ্চিম উপকূলের ডায়েরী ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বা সংক্ষেপে ইউসি'র অনেকগুলো শাখার মধ্যে সবচাইতে ডাকসাইটে ধরা হয় ইউসি বার্কলে। তারপরে ধরা যায় ইউসি লস এ্যাঞ্জেলেস, কখনো ডেভিস। এ ছাড়াও ইউসির অন্যান্য ইউনভার্সিটিগুলো সারা ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে আছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরভাইন, সান ডিয়াগো, রিভারসাইড, সান ফ্রান্সিসকো ইত্যাদি। মর্যাদার দিক থেকে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এ্যাঞ্জেলেসকে আমেরিকার তো বটেই, পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্কুল ধরা হয়।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ইউসিএলএর অবস্থান এক থেকে পাঁচের ভিতরে যার পেছনে মূলত ক্রেডিট দেওয়া যায় এখানকার খুব নামী মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউটগুলোকে। এইসিএলএর হসপিটাল পশ্চিম উপকূলের রেংকিং-এ এক নম্বর। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলামে মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউটের যোগসাজস খুব বেশ বলে ইউনিভার্সিটির হাসপাতালের একটা বড় ভূমিকা থাকে। হাসপাতালের পাশাপাশি এখানে ব্রেইন ম্যাপিং ইন্সটিটিউট, জিন ম্যাপিং ইত্যাদি অনেকগুলো হাইটেক সুযোগসুবিধা আছে।

২.
গত দুই সপ্তাহ গেলো ওরেয়েন্টেশনের পর ওরিয়েন্টেশনে। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসাবে এক গাদা ওরিয়েন্টেশন, তারপরে গ্রাজুয়েট স্কুলের, তারপরে নিজ ডিপার্টমেন্টে। ইউসিএলএ এতটাই বিশাল ইউনিভার্সিটি যে এটাকে অনেকেই আলাদা শহর বলে থাকে। ইউনির্ভার্সিটির ক্যাম্পাসটা বিশাল, অনেকটা জায়গা নিয়ে। বিশালত্বের ধারনা পাওয়া যাবে যদি বলি ইউনির্ভার্সিটির ভেতরে নিজস্ব পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (বিখ্যাত এলএপিডি) থেকে শুরু করে পাওয়ার প্ল্যান্ট - কি নাই!

ইউনির্ভার্সিটির বিশাল ভলিউমের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তাই হাজার রকম সার্ভিস আর সেগুলো সম্পর্কে অল্প বলতে গেলেও পুরো দুই সপ্তাহ লাগলো ওরিয়েন্টেশনে।

৩.
ইউসিএলএ তে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম আমেরিকার ও বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রোগ্রাম। অসম্ভব কম্পিটেটিভ এবং এখানে খুব বেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা চান্স পায় না। আমেরিকার নিজস্ব মেধাবীরাই ভিড় জমায় ইউসিএলএতে। সেই হিসাবে বাংলাদেশী হিসেবে সরাসরি ফেলোশিপে পিইএচডি প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বসে নিজেকে অদ্ভুত লাগছিলো। অদ্ভুত কারন প্রথমত আমি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে এখানে আসি নি, অথচ আসেপাশের সব গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টরা প্রায় সবাই বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেজর করা। আমি আমার সাথে বয়ে বেড়াই গরীব একটা দেশের গরীব একটা ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী এবং সেটাও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। বায়োর ধারে কাছেও নয়। অন্যদিকে আমার আশেপাশে যারা বসে আছে তারা কেবল বায়োইঞ্জিনিয়ারিংই না, কেউ জন হপকিন্স থেকে, কেউ এমআইটি, কেউ স্বয়ং ইউসিএলএ বা ইউসি বার্কলী থেকে এসেছে। অদ্ভুত কোন এক যোগসাজশে এইরকম একটা প্রোগ্রামে ফেলোশিপ (যেখানে অনেকে এখনো ফান্ডিং পায় নি) নিয়ে বসে ইউনিভার্সিটি ডিনের ভাষণ শুনতে পুরো বিস্ময়করই লাগছিলো। উপরওয়ালা নিতান্তই রহস্যময়!

৪.
কোথা থেকে এসেছো, উততের বাংলাদেশ বললে অনেকেরই কিছু সময় লাগে নামটা বুঝতে! কয়েকজনতো কনফিডেন্সের সাথে বলেই বসে, ও বাংলাদেশ তো ভারতে তাই না?! এক মদন সবচেয়ে হাসির রিয়্যাকশন দিয়েছিলো, বলে বাংলাদেশতো ভারতের রাজধানী, তাই না?!

আমার বুঝায়ে বলতে হয়, না এইটা ভারতে না। ভারতের পাশের একটা দেশ। আশ্চর্য্য এই আমেরিকানরা! নিজের দেশের বাইরে দুনিয়া সম্পর্কে পুরা বেখবর!

৫.
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে গিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইউসিএলএর আর্কিটেকচার। অনেকগুলো মূল ভবনের ডিজাইন সেই ৬০এর দশকের ডিজাইনে। দেখতে খুব রাজকীয়। খুব ক্লাসিক ডিজাইনের। বিশেষ করে পাওয়েল লাইব্রেরীটার ভবনটা অসাধারন। দেখলে মনে হবে যেন ১০০ বছর পেছনে চলে এসেছি।


...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28734958 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28734958 2007-10-02 04:15:34
পশ্চিম উপকূলের ডায়েরী। পর্ব১ পুরো মহাদেশের এমাথা ও মাথা জুড়ে মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়া আমেরিকার পূর্ব উপকূল (ইস্ট কোস্ট) ঘেষে অতলান্তিক মহাসাগর (আটলান্টিক মহাসাগর) আর পশ্চিম উপকূল (ওয়েস্ট কোস্ট) ঘেষে প্রশান্ত। প্রশান্ত মহাসাগরের লাগোয়া বিশাল রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। তার প্রধান শহর লস এ্যাঞ্জলেস। পুরো নাম এক সময়ে আদর করে রাখা হয়েছিলো, এল পুয়েবলো দে নুয়েস্ট্রা সেনোরা লা রেয়েনা দে লস এ্যাঞ্জেলেস দে পোরসিউচুলা। বাংলা করলে দাড়াতে পারে, "আমাদের বরণীয় মাতা, এ্যাঞ্জলদের রানীর এক টুকরো শহর।" সংক্ষেপে এক সময় নাম হয়ে ওঠে লস এ্যাঞ্জেলেস। স্প্যানিসে লস মানে দি। এখন আরো সংক্ষেপ। এলএ।

২.
লস এ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে প্লেন থেকে নেমে ইমিগ্রেশনে পার হয়ে ব্যাগ ঠেলে ঠুলে যখন বাইরে আসি তখন মানুষ জনের ভিড়ে ক্যারোলিনকে ক্যামনে চিনবো ভাবছিলাম। ক্যারোলিনের সাথে পরিচয় ইংরেজী ব্লগের খাতিরে। সে আর আমার প্রিয় স্পিরিচুয়াল শিক্ষক লুয়ালিন ভন লি, সালাম। বহুদিন আগে লুয়ালিন ভন লি-এর সম্পর্কে গুগল সার্চ করতে গিয়ে ক্যারোলিনের আমার সাইটের সাথে পরিচয়। দুই জনেই তখন লুয়ালিনের একই ডিসকোর্স (অডিও লেকচার) শুনছিলাম। সেই আগ্রহ থেকে পরিচয়। লুয়ালিনের সাথে ক্যারোলিনের সম্পর্ক ক্লাসিক সুফি গুরু-শিষ্যের চেয়েও অনেক বেশি। লুয়ালিন সাধারনত ক্যারোলিনের স্বপ্নের ভিতরে এসে ইনসট্রাকশন দিয়ে থাকে, যা মূলত খুব সীমিত শিষ্যের কাছে প্রকাশিত হয়। ক্যারোলিন সেই বাছাই করা শিষ্যেদের একজন, যাকে মিস্টিসিজমের ভাষায় খুব ইভলভড সোল বলা হয়। ক্যারোলিন নিজেই বলে, সম্ভবত এই মানব জনম আমার শেষ জন্ম। এরপরে ঘরে ফেরা।

৩.
কোন বিচিত্র কারনে (সম্ভবত লুয়ালিন আমারও প্রিয় সুফি মাস্টার বলে) ক্যারোলিনের আমার প্রতি স্নেহ অপরিসীম। সেই স্নেহ থেকেই ক্যারোলিনের কাজ থেকে ছুটি বের করে আমি আসবো তাই ক্যানসাস (যা একেবারেই মধ্য আমেরিকা, দূরত্ব অনেকখানি) থেকে লস এ্যাঞ্জেলেস চলে এসেছে। ওর এক মেয়ে কলেজে পড়ছে, ছেলে হাইস্কুলে। আমি ওর কাছে সন্তানসম, আবার বন্ধুও।

সিঙ্গেল মা ক্যারোলিনের গল্প ফুরাবে না। ক্রিশ্চান ট্রাডিশনে গার্ডিয়ান এ্যাঞ্জেল বলে একটা ধারনা আছে। ক্যারোলিনের ভূমিকা অনেকটা সেই গার্ডিয়ান এ্যাঞ্জেলের মতো আমার জন্য, যার কাজ হলো বিপদ আপদে অদৃশ্য থেকে রক্ষা করা। পার্থক্য হলো ক্যারোলিন এই এ্যাঞ্জেলের শহরে রক্তমাংশের গার্ডিয়ান এ্যাঞ্জেল হিসেবে হাজির। সেই মোটামুটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সাদিক নামের গরীব, অচেনা মুসাফিরকে নিজ হিফাজতে দেখভাল করবে। সেই নিয়তে নিজের কাজ রেখে মধ্য আমেরিকা থেকে হাজির পশ্চিম উপকূলে।

যারা সহজে মুদ্ধ হয় তাদের জীবনে সম্ভবত ধুমায়ে মুদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনার ঘনঘটা আসতেই থাকে। আমার মুদ্ধ হওয়ার পর্ব এই শুরু।

৪.
এয়ারপোর্টে যা ভয় করছিলাম যে মানুষের ভিড়ে ক্যারোলিনকে চিনবো কিভাবে? ভয় ভূল প্রমানিত করে দেখি একটু দূরেই ক্যারোলিন নিজের ব্যাগ নিয়ে অপেক্ষা করছে। বেচারী পাক্কা ২ ঘন্টা আগে এসে পৌছেছে। ক্যারোলিন শুধু আমাকে রিসিভ করতেই আসে নি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ওর এক পুরাতন বন্ধুর বাড়ির মেহমান রুমে থাকার বন্দোবস্থ করে এসেছে।

আধা ঘন্টা পরে আমরা শাটল (মাইক্রোবাসের মতো ট্যাক্সি)- এ বসে, লস এ্যাঞ্জেলেসের হাইওয়ে ধরে ক্লারেমন্ট নামের এক শহরের পথে। ক্লারেমন্টেই আপাতত আমার ঠিকানা যা ইউনিভার্সিটি থেকে মেলা দূরে! ক্ল্যারেমন্টে ক্যারোলিনের বান্ধবী শীলা (শেইলা)'র বাসায় যতদিন ঘর না পাচ্ছি থাকবো এমনটাই ঠিক করা।

শিলার বাড়িতে পৌছতে পৌছতে রাত দশটা। এয়ারপোর্টে পৌছেছি সাড়ে ছয়টায়। পাক্কা চার ঘন্টা লাগলো ইমিগ্রেশন, রাস্তার জ্যাম ঠেলে আশ্রয়ে পৌছতে। বেচারা ক্যারোলিনকে বলছিলাম তুমি সেই বিকাল ৪টায় আসছো, আমার ২ ঘন্টা আগে, আর ৬ ঘন্টা পরে বাড়ি পৌছাচ্ছি আমরা। তোমার অনেক কষ্ট হলো। প্রতি উত্তরে যা গার্ডিয়ান এ্যাঞ্জেলদেরই মানায় সেইরকম কিছুটা গার্ডিয়ান ভাব, কিছুটা এ্যাঞ্জলের হাসি ক্যারোলিনের মুখে।

শাটল জ্যাম ছাড়িয়ে আসতেই সাইঁসাই করে গতি বাড়ায় ইন্টারস্টেট হাইওয়েতে। লস এ্যাঞ্জেলেসে রাত তখন ভালো মতোই কালো চাদর দিয়ে শহুরে আলোর সাথে অন্ধকার-আলোর প্রতিযোগিতায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28730685 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28730685 2007-09-12 01:21:22
সহজিয়া। কাজ আর অকাজ। এ্যাকশন এন্ড এ্যাক্টিভিটি
এ্যাকশন আর এ্যাক্টিভিটি এক না, বরং যোজন যোজন পার্থক্যের। এদের চরিত্র অনেকটা আকাশ আর পাতাল।

action is when situation demands it, you act, you respond. Activity is when the situation doesn't matter, it is not a response; you are so restless within that the situation is just an excuse to be active.

এ্যাকশন আর এ্যাক্টিভিটির ভিতের উপরের আপাত: সরল ব্যাখ্যাটা ওশোর দেওয়া। যদিও সরল কিন্তু আমাদের আধুনিক (!) এই স্ট্রেসফুল, দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ বা মানসিক চাপযুক্ত সময়ে, ক্রমবর্ধমান স্ট্রেসের কারন বোঝার জন্য এই এ্যাকশন আর এ্যাক্টিভিটি বেশ কৌতুহলউদ্দীপক।

সহজ মানুষের আচরন হওয়ার কথা সহজ। অথচ তার বিপরীতে শহুরে জীবন হয়ে উঠছে দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ, নানান রকমের মানসিক চাপের বোঝায় জর্জরিত। এর পেছনের একটা বড় ভূমিকা যার তা হলো অতিরিক্ত এ্যাক্টিভিটি, অপ্রয়োজনীয় অকাজে জড়ানো।

এ্যাকশনের অন্যতম শর্ত হলো রেলিভ্যান্স বা সম্পর্কযুক্ত হওয়া। যা করবেন তা অর্থবোধক হবে, ইট শুড মেইক সেন্স। নাই কাজ তো খইভাজ - টাইপ না। সেটা এ্যাক্টিভিটি। এ কারনে এ্যাক্টিভিটির রেলিভ্যান্স থাকে না, যদিও আনমাইন্ডফুল, অসচেতন লাইফস্টাইলের বদঅভ্যাসে আমরা কোনটা রেলিভ্যান্ট আর কোনটা ইরেলিভ্যান্ট সেই সেন্সটা হারিয়ে ফেলছি এবং অনেকে পুরো হারিয়েও ফেলেছি। ঠিক প্রয়োজনে ফোন করা এ্যাকশন, বিনাপ্রয়োজনে ফোন করে বকবক করা এ্যাক্টিভিটি। দুইটাতেই আপনি সময় খরচ করেন যদিও।

এ্যাকশনের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মোমেন্ট টু মোমেন্ট। প্রতিটা সময়ে যা দরকার তা করা, স্বত:স্ফুর্ত ও স্বাভাবিক। অন্যদিকে এ্যাক্টিভিটি সবসময় অতীতের সাথে জড়িত যা বর্তমান সময়ের রেসপন্স না; বরং রেস্টলেস মনের বহি:প্রকাশ যা মূলত অতীতের কোন অভিজ্ঞতা থেকে বহন করা।

এ্যাকশন যেখানে ক্রিয়েটিভ, এ্যাক্টিভিটি সেখানে ডেস্ট্রাকটিভ। একজন ভালো লেখক যখন নিজের ভিতরে সত্যিকারের লেখার তাগিদে একটা ভালো লেখা নামিয়ে ফেলেন ঐ মুহুর্তের লেখক মনের ডাকে (স্পন্টেনিয়াস); সেখানে একজন ফালতু ব্লগার কি পোস্ট করবে, কি পোস্ট করবে ভাবতে ভাবতে ফ্লাডিং করতে শুরু করে- একটা জঘন্য ছবি, দুই লাইনের কথা দিয়ে পোস্ট করে। অথচ একটা ক্রিয়েটিভ যেখানে নতুন কিছু সৃষ্টি হয়, অন্যটায় সময় ক্ষেপন ছাড়া আর কিছুই হয় না। বরং অন্যের বিরক্তি তৈরী হয়।

যখন একজন ক্ষুধার্ত সে খায়, সেটা হলো এ্যাকশন। আবার একজন ক্ষুধার্ত না অথচ ফাস্টফুডের দোকানে হল্লা করে মুরগী রান চিবোয়, ইয়া বড় বার্গার সাটায় বিনাক্ষুধায় - সেটা হলো এ্যাক্টিভিটি। এই দ্বিতীয় ধরনের খাওয়া হলো ধ্বংসাত্বক। ওশো বলেন: THis eating is like violence; you destroy food, you crush your teeth and destroy food; it gives you little release of your inner restlessness. You are eating not because of hunger, you are simply eating beacause of an inner need, an urge to be violent.

এই যে শারীরিক প্রয়োজন তা ছাড়াই খাবার গ্রহন করা, এটা কেবলমাত্র প্রাণীকূলের ভিতরে মানুষই করে থাকে এবং অভ্যাসটা তুলনামূলকভাবে খুব নতুন। অতি আধুনিকায়নের এক পাশ্বপ্রতিক্রিয়ামূলক বদঅভ্যাস। ফলাফল? হাজারটা অসুখ। অল্প বয়সে ডায়াবেটিস এবং আরো শত রোগ। কেবলমাত্র অপ্রয়োজনে হাবিজাবি খাওয়ার অভ্যাসে শরীরে যে মেদজমে তার কারনে সাডেন ডেথ (হার্ট এ্যাটাক ও অন্যান্য) অতি আধুনিক ফেনোমেনা যা খুব বেড়ে গেছে আমাদের সময়ে এবং বাড়তেই থাকবে। দরকার নেই তারপরেও একগাদা চিনি আর দুধ দিয়ে দিনের ভিতরে বারবার ১৪বার চা খাওয়া আরেকটা উদাহরন।

অনেক ধরনের অবসেশন মূলত: অকাজ বা এ্যাক্টিভিটি। টিভির পর্দার দিকে বিনা প্রয়োজনে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকা এবং তাবত চ্যানেলের রিমোট ঘুরানোর পরিচিত অভ্যাস থেকে শুরু করে চুইংগাম চিবানোর মতো অসংখ্য এ্যাক্টিভিটিতে আধুনিক মানুষ ডুবন্ত। ব্লগে হুদাই আসক্তিও অনুরূপ এক এ্যাক্টিভিটি। সিগারেট খাওয়াও অপ্রয়োজনীয় অকাজের উদাহরন যা নি:সন্দেহে একটা এ্যাক্টিভিটি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। অহেতুক রেগে ওঠার বদঅভ্যাস অনেকের জন্য এ্যাক্টিভিটি। কেউ অফিসে বসগিরি করতে এই এ্যাক্টিভিটিতে এনগেজ হয়ে মনে করে খুব ভালো ম্যানেজ করছেন তিনি। আসলে কচু!

এ্যাক্টিভিটির জন্য মানুষ রিল্যাক্সড হতে পারে না, কারন রেস্টলেস মাইন্ড সব সময় কিছু না কিছু অকাজে ডুবতে চায়। ইগো প্রজেক্ট করে যেন সে খুব ব্যস্ত, আসলে সে এ্যাক্টিভিটি বা অকাজে এনগেজড। মোটেও প্রোডাক্টিভ বা ক্রিয়েটিভ না।

ওশোর কথায়:
Action is beautiful, actions comes as a spontaneous responsel; life needs response. You are hungry you seek food, you are sleepy you sleep. It is out of total situation that you act.

এ্যাকশন আর এ্যাক্টিভিটির ভিতরে পার্থক্যটা জানতে ও বুঝতে পারার পরে একদিন ল্যাবে এক্সপেরিমেন্ট করছি। হঠাত নিজে বোঝার আগেই দেখি অভ্যাশ বশত: আমি কফি খাওয়ার ভেন্ডিং মেশিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। মাথায় কে যেন বলছে কফি খেতে যাওয়া উচিত। কিভাবে যেন তখন হঠাত মনে হলো এটা আসলে (কফি খাওয়ার নির্দোষ) প্রয়োজন থেকে যাওয়া নাকি স্রেফ অভ্যাসের জন্য? বুঝলাম অভ্যাস। কফি খাওয়া কোন রেসপন্স না, আমার ঘুমও পায়নি বা অন্যকিছু। আসলে অভ্যস্ততা (এ্যাক্টিভিট সবসময় অতীতের সাথে রিলেটেড যেমন বারবার করার ফলে তৈরী অভ্যাস)। সাইকোলজীক্যালি অন্যভাবে দেখলে আসলে তখনকার ব্যস্ত এক্সপেরিমেন্ট থেকে সরে আসার অবচেতন মনও এর (এ্যাক্টিভিটি) পেছনে দায়ী। কাজ রেখে অকাজে ছোটা রেস্টলেস মনের একটা সহজাত প্রবণতা।

কিন্তু এই কনসাসনেসটা বা সচেতনতাটা থাকলে কাজ থেকে অকাজের পার্থক্যটা বোঝা যায়। টাইম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট সবগুলোই লালনের ভাষায় 'সহজ মানুষের' সহজিয়া উপায়ে করা সহজ হতে পারে কোনটা এ্যাকশন আর কোনটা এ্যাক্টিভিটি সেইটা বুঝতে শিখলে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726669 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726669 2007-08-20 00:27:38
অনলাইনে রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান। বাংলায় "মেঘ বলেছে যাবো যাবো" এর কথাগুলো খুঁজতে গিয়ে ইন্টারনেটে আতিপাতি খুঁজেছিলাম গীতবিতান।

সোমেন্দ্র মোহন ভট্রাচার্য্যের সৌজন্যে অনলাইনে রবীন্দ্রনাথের পুরো গীতবিতানটাই বাংলায় পাওয়া যায়। সোমেন ফিজিক্সের মানুষ হয়েও অনলাইনে বহুত খেঁটেখুটে এই বিশাল কাজটা যে করেছেন সেটা খুব সাধুবাদ পেতে পারে। পিডিএফ আকারে কেবল অখন্ড সূচীপত্রই নয়, গানের অক্ষরানুসারে সার্চ করা, গানের কথায় সরাসরি চলে যাওয়া ইত্যাদি অনেক ফিচার রয়েছে। আগ্রহীদের জন্য লিংকগুলো:

- মূল সাইটের ঠিকানা

- পিডিএফ ফাইল আকারে অখন্ড সূচীপত্র

- খোঁজা


http://www.iopb.res.in/~somen/gitobitan.html]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726404 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726404 2007-08-18 02:27:32
আমার একটা শিশুতোষ লেখা লিখতে মন চায়। বিষয় এইবারও সচলায়তন হাসান এক সময়ে সামহোয়্যারের খুব জমানো ব্লগার ছিলেন। তার অন্যকোথায় লেখা এক লেখায় দেখলাম এখনো তিনি অভ্যাসমতো সামহোয়্যারে ঢু মারেন তিনি। অত্যন্ত ভালো লেখকের লেখা (সচলায়তনের লেখক, হে! হে!) পড়তে গিয়ে দেখলাম তিনি সামহোয়্যারের চরিত্রের (অশ্রু) বিষয়ে কথা বলছেন।

তিনি বলছেন,
"অভ্যাসমতো সামহোয়ারইনে ঢুঁকেছিলাম ঢুঁ মারতে। বেশ মজা(!!!) পাচ্ছিলাম ব্লগগুলো পড়ে। ত্রিভুজের একজন প্রেমিক / প্রেমিকা জুটেছে, নাম অশ্রু। বেশ কিছুদিন ধরে সে একের পর এক অখাদ্য প্রেমপদ্য লিখে চলেছে, আর পাবলিকে মজা পেয়ে রেটিং বাড়িয়ে বাড়িয়ে সেরা পোষ্টে তুলে দিয়েছে। আর লাই পেয়ে আজকে সে একের পর এক হুংকার দিয়ে তার মুসলমান ভাই বোনদের ডাক দিচ্ছে তথাকথিক ইহুদিবাদের এজেন্ট আইজুদ্দিন ও তার দলবলকে একসাথে বহিস্কার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তার লেখা ভাষা পড়লে হাসতে হাসতে উল্টে পড়ার জোগাড়।"

২.
হাসান একা না, সচলায়তনের অনেকের লেখায়, মন্তব্যে বড্ড সামহোয়্যার ইন চলে আসে। এমনকি কাকে সচলায়তনে লেখক (!) হিসেবে মালা পড়ানো হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার সামহোয়্যারেরর ব্লগ পড়ে, সামহোয়্যারে তা ইমেজ কি রকম ছিলো, সামহোয়্যারের প্রাক্তন লেখকেরা তাকে কিভাবে লম্বর দেন তার উপরে।

জিজ্ঞেস করেন, তাতে তোর কি বেটা মুর্খ সাদিক?!!

৩.
আমার আর কি! তেমন কিছু না। একদল মহাজ্ঞানী মুক্তমনারা নতুন সাইট খুলেছেন - 'এইখানে বড্ড বায়াসড মডারেশন হচ্ছে' এই অভিযোগে। সব জামাতী এইখানে, ধুস! লেখা যায় নাকি - ইত্যাদি কান্নায় কাদতে কাদতে সচলায়তনে খোলা হলো। রথিমহারথিরা চলে গেলেন। যাওয়ার পরে রথিমহারথিদের মহামূল্যবান সাইট ও তাদের আচরন নিয়ে সমালোচনা করলেই সচলায়তনের নিয়মিত দালালদের তীব্র প্রতিবাদ: হ্যা, সচলায়তন নিয়ে সামহোয়্যারে কিসের কথা?! এত চুলকানী কিসের?! সচলায়নতন সচলায়তনের মতো থাকবে - এ নিয়ে সামহোয়্যারে আলোচনার দরকার কি?! হ্যান ত্যান নানান জ্ঞানগর্ভ পোস্ট।

আর সেই জ্ঞানীদের ভিতরেই সচলায়তয়নের পোস্টে, মন্তব্য প্রায়শই সামহোয়্যারে হ্যান, সামহোয়্যারে ত্যান।

৩.
আমাদের মহাজ্ঞানী ও একদা সামহোয়্যার ইন কাপানো লেখক শোহেইল মতাহির চৌধুরী -ও অমিত, হাসিব, হোসেইন, চোরের মানসিকতায় নেমে গেছেন দেখে দু:খই পেলাম। তার মন্তব্য পড়লাম:

শোহেইল মতাহির চৌধুরী | মঙ্গল, ২০০৭-০৮-১৪ ১৬:৪০

"অশ্রু-র চালাকি ওখানে যারা যায় তারা অনেকেই ধরতে পেরেছে বোধহয়। হাসান হয়তো সব লেখা দেখেনি।"

ছাগল তাড়ানোর রাখালিয়া সিমটম বড়সড় মানুষদের উপরেও পড়ছে তাহলে! এর আগেও বলছিলাম, ছাগল নিয়া অবশেসড থাকতে থাকতে রাখালদের ভিতরে ছাগল সিমটম ঢুকে যেতে পারে। হইছেও তাই। তাই বলে শোহেইল মতাহির চৌধুরীও!

৪.
বলাই বাহুল্য অশ্রু সামহোয়্যারের কোন এক ব্লগারের নিক ফিক। মোদ্দা কথা হলো, সচলায়তনের সমালোচনা এইখানে করা হইছে। সেইটার প্রেতিবাদ আসছে। কেন অন্য সাইট নিয়া এত মাতামাতি। সেই একই প্রশ্নটা বিজ্ঞ সচলায়তনের রাইটার্স কমিউনিটিরি মহাজ্ঞানীদেরকেও ঘুরায়ে করা যায়।

কেন এত মহাজ্ঞানী ইন্টেলেকচুয়ালরা এখনো সামহোয়্যারের মতো ফালতু সাইটের আলাপ সারেন ঐখানে?

ঘরের জানালাগুলা হালকা খোলা রাইখা এবং দরজা বন্ধ কইরা বৈঠকখানার পারস্পরিক পিঠ চুলকানো কবে বন্ধ হইবে? হাজার হইলেও ঐখানে যারে নিয়া সমালোচনা, আলোচনা হয় তাদেরকে যখন ঢুকতে দেওয়া হয় না, তখন এই "জানলা খোলা - দরজা বন্ধ" সিস্টেমে আলাপটা বেস্ট প্র্যাকটিসের পর্যায়ে পড়ে না। গরীবের সারকাস্টিক স্টাইলের সাদা কথা একটু ভাবিয়া দেখিয়েন।


. রেফারেন্স:
http://www.sachalayatan.com/next/hasan/7944

ক.
গরীরে শিশুতোষ কথায় মাইন্ড খাইয়েন না। আমরা সামহোয়্যারের ফাউল লেখক। লেখাও ফাউল, বড্ড শিশুতোষ। শিশুতোষ কথা গোনায় নিতে নাই।

খ.
এই পোস্টের মন্তব্য সচলায়তন স্টাইলে মডারেট করা হবে। যার চেহারা ভালো লাগবে রাখিবো, যার না, রাখবো না। পুরা সচলায়তন ইস্টাইল। আপনারা বাকি জনগন যেকোন এক বা একাধিক কমেন্টারদের পক্ষে বিপক্ষে মতামতও দিতে পারেন সচলায়তন স্টাইলে। যার পেছনে যত রেকমেন্ডেশন তত পাইপলাইনের সামনে। তয় ফাইনালী কমেন্ট থাকা না থাকার তালগাছটা অরূপ বা অন্য সচলায়তনের মডুগনের মতো এই পোস্টে আমার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726224 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726224 2007-08-16 19:50:01
দি সেকেন্ড জাহিলিয়া। ইনফরমড ইগনোরেন্স কবীর হেলমিনস্কির একটা আর্টিকেল পড়ার সময়ে আজকের দিনে জাহিলিয়াতের উদাহরন দিতে গিয়ে তিনি ভায়োলেন্সের কথা উল্লেখ করছিলেন।

The great jahiliyyah is the belief that violence solves problems, whether through the bullying tactics of national power or the tactics of terror that justify the killing of non-combatants. These people do not understand that unjustified violence, which is the vast majority of violence today, is a downward spiral that takes us from the light into the darkness

নবী মুহাম্মদ, যার প্রতি সালাম তার নবুয়্যতের আগের সময়টাকে জাহিলিয়াতের সময় বলে পরিচিত। জাহিলিয়া কাছাকাছি অনুবাদ হলো অজ্ঞতা, অন্ধকারাচ্ছন্নতা। থিওলজীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে ইসলামে এর অর্থ: "ignorance of divine guidance" or "the state of ignorance of the guidance from God"

কিন্তু থিওলজীর অর্থ ছাড়াও এটার আসল অর্থটি মূলত সাইকোলজীক্যাল। সহজ করে বলতে গেলে, গ্রুপ অর কালেক্টিভ সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন।

সাইকোলজীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে জাহিলিয়াত অর্থ হলো, deep rooted ignorance in the mind of the people and at the same time being arrogant of that ignorance in behaviour and practice। কেউ কেউ একে বলেন, বর্বরতা।

কবীর হেলমিনস্কির আর্টিকেলটা পড়ার সময়ে জাহিলিয়াতের ক্যারেক্টারিস্টিক নিয়ে পড়তে গিয়ে সেকেন্ড জাহিলিয়া সম্পর্কে নবীর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা চোখে পড়েছিলো। তিনি বলতেন, “The second Jahiliyya is going to be worst than the first one.”।

তবে প্রথম জাহিলিয়া (নবীর সময়ে) সময়ে মানুষের মনমানসিকতা কতটা জঘন্য ও পাশবিক ছিলো সেটা বুঝতে একটা ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। ইসলাম গ্রহন করার পরে জাহিল আচরনে নিমজ্জিত অনেক সাহাবী নবীর কাছে তাদের পূর্ব বর্বর আচরনের কথা বলতেন। এরকম এক বর্ণনায় এক সাহাবী বলছেন,
O Messenger of God, I had a daughter. One day I told her mother to dress her as I was taking her to her uncle - the poor mother knew what this meant, but she could do nothing but obey and weep. My wife dressed the infant, who was rejoicing at the news of going to the uncle. I took her near a well, and told her to look down into the well. While she was looking into the well, I kicked her into it. While she was rolling down, she was shouting ‘Dad, Dad!’

As he was recounting this, the Prophet, upon him be peace and blessings, sobbed as if he had lost one of his nearest kinsfolk.


এই রকম কুতসিত বর্বরতা এবং মানবিক গুন থেকে বিচ্ছিন্ন পাশবিক মানসিকতায় রূপান্তরিত হয়েছিলো জাহিলিয়াতের সময়ের মানুষগুলো। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কুপ খনন করা হতো জীবন্ত কন্যা সন্তান পুঁতে ফেলার জন্য, অসহায় দাসদের অমানবিক নির্যাতন করার জন্য।

কিন্তু নবীর ভবিষ্যতবাণী ছিলো, সেকেন্ড জাহিলিয়া হবে প্রথমটির থেকেও ভয়ংকর।

২.
আজকেই দেখছিলাম: ইরাকের দুইটি গ্রামে চারটি সুইসাইড বোমায় নিহত হয়েছে ৫০০ জন মানুষ, পুরো গ্রাম মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভবত আরো অনেক মানুষ ধুকে ধুকে মারা যাবে, চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হবে শতশত। ইরাকে এভাবে সুইসাইড বোমায় প্রতিদিন নারী, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে মারা যাচ্ছে। মানবিকতার লেশ মাত্র নেই এই জঘন্য অপরাধে।

দৈনন্দিনের কাঁচা বাজারে, ঘরে, গ্রামে, শহরে সর্বত্র নিরীহ সিভিলিয়ান মানুষকে এইভাবে হত্যা করার নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে এই একবিংশ শতাব্দীতে দেখতে হবে এ অকল্পনীয়। এই সুইসাইড বোমায় হত্যা করাকে জেনোসাইড ডাকা হচ্ছে। ধর্ম বাদ দিলাম, বিশ্ব রাজনীতির নোংরামী, তেলের দখল সব বাদ দিলেও - একটা গ্রামে ৫০০ জনকে ঠান্ডা মাথায় বোমা মেরে সেই মানুষকে হত্যা করার এই যে প্রবণতা এ বড় ভয়ংকর।

নিউজ মিডিয়ায় অহরহ দেখতে দেখতে আমাদের মন ভোঁতা হয়ে গেলেও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে এ শিউরে ওঠার মতো। পাশবিকতার কাছে মানবিকতার বিসর্জন। আর জাহিলিয়াতের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো, জাহিল আচরন নিয়ে নির্বিকার থাকা যা আজকের দিনে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। আফ্রিকায় এখনো কলোনাইজেশনের শোষণে দূর্ভিক্ষ, সোনা, তেল আর হীরার খনির দখলে পুরো আফ্রিকা জুড়ে গৃহযুদ্ধ, দূর্ভিক্ষ, শিশুদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভাড়াটে সৈনিক হিসাবে, এইডস মহামারী - অথচ তার ঔষধটুকু নিয়েও চলছে নোংরা কর্পোরেট ব্যাবসা, মানব ইতিহাসের জঘন্যতম দারিদ্র অথচ বিপুল সম্পদের পৃথিবীর বাকিরা নির্বিকার। ইরাকে প্রতিদিন শত নিরাপরাধ সিভিলিয়ান মারা যাচ্ছে, তাদের সাথে অমানুষিক যন্ত্রনা, কষ্টে নিমজ্জিত হচ্ছে শতশত পরিবার, স্বজন হারা - পৃথিবী নির্বিকার। কতো তথ্য, কত প্রযুক্তি, ইনফরমেশন ওভারলোড, অথচ কারো কিছু যায় আসে না। সেকেন্ড জাহিলিয়াতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই 'ইনফরমড ইগনোরেন্স'।

Holy Prophet (peace be upon him) is saying, “They are going to be ignorant with what they read and write. They are going to become ignorant with the knowledge that they know.”

দু:খজনক হলেও সত্য আমরা বাস করছি এই সময়ে যখন চারিদিকে ইনফরমড ইগনোরেন্সের ছড়াছড়ি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726203 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28726203 2007-08-16 18:03:33
ঢাকায় রিকশা ভাড়ার ইভোলিউশন স্কুলে পড়ার সময় ৩ টাকায় রিকশা ভাড়া ছিলো স্ট্যান্ডার্ড। অল্প দূরত্বের ক স্থান থেকে খ স্থানে যেতে চাইলে ৩ টাকা কোন কথা ছাড়াই দেওয়ার যেতো। ঢাকায় অল্প দূরত্বে ৩ টাকা / একটু দূরে গেলে ৫ টাকা। ৮ টাকা, ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া মানে সিরিয়াস দূরত্ব। তখন নানা বাড়িতে গিয়ে ছিমছাম ছোট মফস্বলে গিয়ে দেখতাম ২ টাকায় বহু দূর যাওয়া যায়, ৮ টাকায় পুরো শহর দখলে তখন বেশ মজাই লাগতো।

মিনিমাম দূরত্বে ৩ টাকার রিক্সা ভাড়া বেড়ে গিয়ে ৪ টাকা, তারপরে ৫ টাকা। ৫ টাকার কমে দিলে রিকশা ওয়ালারা এমন ভাবে তাকাইতো যেন আমি মহা মিছকিন, ভুল কইরা পেগাসাস তুল্য অতি দামী বাহনে চড়ছি।

এইবার ঢাকায় এসে রিকশা ভাড়ার নতুন ইভোলিউশন দেখা যাইতেছে। এক ধাপে মিনিমাম রিকশা ভাড়া ১০টাকার আশে পাশে। এর কমের দূরত্বের ভাড়ায় - হয় রিকশা ওয়ালা যাইতে অস্বীকার করে নাইলে বাধ্য হয়ে ১০টাকায় রাজী করাইতে হয়। আর আগের ৮ / ১০ টাকার দূরত্বে গেলে অনায়াসে ৩০ টাকা দিতে হয়। একটা সিএনজি আর রিকশার ভাড়ার মধ্য সুক্ষ পার্থক্যের দিন দ্রুতই ফুরাচ্ছে।

যে দূরত্ব হাটা দিলে ৭ মিনিটে যাওয়া যায় (যেমন ঢাকা ভার্সিটির ভিসির বাসা থেকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট) সেই জায়গাও ইদানীং ১০টাকার কমে যাইতে চায় না। সাথে মুরব্বী কেউ থাকলে ৭ মিনিটের হাটা রাস্তা ২০ মিনিটে রিক্সায় গিয়া ১০ টাকা ভাড়া দাও। এর মধ্যে ১৩ বার পিছন থেকে অন্য রিকশার ধাক্কা খাও, হাতল ধরে কুজো হয়ে বসো - আরো কতো বায়ানাক্কা। এর আগে তো একটা রিকশা খুঁজে বের করার স্ট্রাগলটা অনুল্লেখই রাখলাম। সেইটাও এক মহা যন্ত্রনা। এই অবস্থার মধ্যদিয়া ঢাকাবাসী তাও যদি একটু হাটা শিখতো, এর বাইরে আর কিছু প্রার্থনা নাই।

জিনিসপত্রের যা দাম বাড়তেছে তাতে বাজারের খবর শুনে মনে হচ্ছে লিভিং এক্সপেনসের দিক থেকে ঢাকা অতি দ্রুত শীর্ষ খরুচে শহরে নাম লেখাবে। যতদূর মনে পড়ে সিংগাপুরেও অনেক কিছু বাংলাদেশের চাইতে সস্তা। সত্যি কথা।

নিউমার্কেটের ইলিশ মাছ সত্যি সত্যি সিংগাপুরে রপ্তানী হওয়া মাছের চাইতে দাম বেশি। আরো বহুত আইটেমের। এই যদি হয় অবস্থা তাতে বেচারার রিকশা চালকদের ভাড়ার ইভোলিউশন একটু সিমপ‌্যাথীর দৃষ্টিতে দেখাই যায়। হাজার হইলেও বেচারাদেরতো সংসার চালাইতে হয়। তবে ভাবসাবে মনে হচ্ছে অনতিবিলম্বে ঢাকার রিকশাভাড়া সিএনজি ছাড়িয়ে ট্যাক্সি ক্যাবের কাছাকাছি পৌছবে।

২.
রিকশাওয়ালা ইদানীং তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে আরো পরিশীলিত হচ্ছে বোঝা যায়। দিন বেশি দূরে নাই যেদিন রিকশা চালকদের কাউকে বিনা দ্বিধায় সুধী সমাজের আলোচনায় ডাকা যাবে। সেদিন একজনকে রিকশয় মা পাশে থেকে বর্তমান রাজনীতির হালচাল নিয়া হালকা প্রশ্ন করতেই মহা পলিশড একটা বক্তৃমা শুনলাম যাতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দর্শন অতি চমতকার উপস্থাপিত হইলো। কলম দিয়ে ধুয়া বের করা কলামিস্টরাও রীতিমতো লজ্জিত হইয়া যাইতো। শুনে আমি মুদ্ধ ও যথারীতি বাক্যহারা। ঢাকার রিকশা চালকরা আগেও "ইনভিজিবল পলিটিক্যাল ইনটেলেকচুয়াল" ছিলো, এখনও আছে।

জয় বাংলা!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28725679 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28725679 2007-08-14 12:12:35
'নেভার সে গুডবাই' । মাশীদের জন্মদিনে মিনিংফুল কো-ইনসিডেন্সের গল্প ১৫ই জুলাই অস্থির, হাইপার, পাগলীর জন্মদিন। অনেকবার লিখে রাখবো লিখে রাখবো মনে করি, আর ভুলে যাই। আজকে ভাবলাম নাহ, এবার সেটা লিখে ফেলানোই যাক। মাশীদ যেদিন সিংহপুরের নিবাসগুটিয়ে মালয়শিয়ায় চলে যাবে সেদিকের গল্প। কতদিন আগের কথারে মাশীদ? (আমার আবার দিনতারিখ মনে থাকে না!)

এক.
মাশীদের জামাই ইতিমধ্যে মালয়শিয়ায় মোটামুটি কাজের খাতিরে স্থায়ী। সুতরাং এখানে মাস্টার্সের কাজে ফাঁকে ফাঁকে মাশীদ সিংহপুর - মালয়শিয়ার অভিযাত্রী। কতবার যে উইকএন্ডে মালয়শিয়া গেছে তা ওর পাসপোর্টের সিল না গুনলে বলা মুশকিল। ত্রিশবার, নাকি? সিংহপুর খুব উদার। ন্যাশনাল ইউনির ছাত্র হিসেবে আমাদের স্টুডেন্ট পাসের কল্যানে যতবার খুশি আসাযাওয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা থাকায় মালয়শিয়া যাওয়া ডাল ভাত।

সুতরাং সব গুটিয়ে মাশীদ মালয়শিয়া চলে যাচ্ছে এ বহুবার ঘটে যাওয়া ঘটনা। তারপরেও সেবারের শেষ বারের মতো যাওয়াটা ছিলো তার থেকে বেশি কিছু। মাশীদ এবার পুরোপুরি চলে যাচ্ছে। হয়তো আবার আসবে, হয়তো আসা হবে না।

আমার চেয়ে ইন্দ্রনীল বেচারার মনটা বেজায় খারাপ। আমি চুপচাপ নিরিবিলি মানুষ। একা ঘুট করে বসে থাকতে পারি। ওদিকে ইন্দ্রনীলের জন্য মাশীদ ছিলো খুব ভালো বন্ধু এবং ভাইস ভার্সা। সুতরাং ওর মিস করার ইনটেনসিটি অনেকগুন বেশি হবে সেটা অনুভব করা যাচ্ছিলো।

কলকাতায় গিয়ে ইন্দ্রনীলের বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময়ে কাকিমা বলছিলেন, তুমি মাশীদ সিংগাপুর থেকে চলে যাবে, নীলটা (ইন্দ্রনীলের বাড়ির ডাক নাম) যে কিভাবে থাকবে। ইন্দ্রের যত রাজ্যের খাতির ঐ মাশীদের সাথে। থ্যাংকস গড যে আজকাল মেসেঞ্জার ফেসেঞ্জার আছে। যেখানেই যাও একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। তারপরেও টুক করে রবিবারে ঘুরতে যাও, মন ভালো না লাগলে একটা উদ্দেশ্যবিহীন বাসে সঙ্গী হয়ে বেরিয়ে পড়ো সেসব তো আর থাকছে না।

দুই.
মাশীদ চলে যাবে, চলে যাবে - করতে করতে এক সময়ে সত্যই মাশীদের গুডবাই সময় চলে আসলো। শেষ কয়েকটাদিন আমরা ধুমায়ে সময় কাটিয়েছি নিজেদের কাছাকাছি। আমরা মানে আমি, মাশীদ, ইন্দ্রনীল আর কখনো কখনো শোভন, সাজিদ, আরেফিন দম্পতি। "এমনি করে যায় যদি দিন, যাক না" টাইপ অবস্থা। আমি যখন বাংলাদেশে তখন আমাদের সুপার হিরোইন এন্ড পপুলার মাশীদের ফেয়ারওয়েলটা পর্যন্ত হয়ে গ্যাছে, মিস করেছি সেটা।

অবশেষে মাশীদের যাওয়ার সময় আসন্ন। বিভিন্ন কিস্তিতে যাবতীয় জিনিসপত্র ইতিমধ্যে বর্ডার পার হয়েছে। সুতরাং ওর সাথে এবার অল্প কিছু জিনিস। ঢাউস একটা ব্যাকপ‌্যাক আর টুকিটাকি হন্ডিপন্ডি। ইন্দ্রের বাড়ি থেকেই যাওয়া হচ্ছিলো। সবার মনটন খারাপ। মাশীদের একটু আগ পর্যন্ত লাফালাফি, হাসিখুশি অবস্থার বিরতি। এখন তার মুখে মন খারাপের অন্ধকার যা আমাবশ্যার চাঁদ। (অন্য সময়ে মন মেজাজ খারাপ থাকলে তার কুটনামী বন্ধ হয় না, বাকিদের জ্বালাতে থাকে। হাইপার যে!)

ইন্দ্রের মন খারাপ, আরেফিনের বউয়ের মন খারাপ, সাজিদের, শোভনের মন খারাপ। মাশীদ যাইতাছে গা!

তিন.
মালয়শিয়া সম্প্রতি ফরমুলা ওয়ান চালু করতে যাচ্ছে এবং মাশীদের সাথে তিনজন জুনিয়ার ইউনিভার্সিটির ছেলে একসাথে মালয়শিয়া যাচ্ছে সেই ফরমুলা ওয়ানের ভুম ভুম রেস দেখতে।
ওদের পিকআপ করার জন্য ট্যাক্সিতে ওঠা হলো। আমি, মাশীদ আর সাজিদ যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই মাশীদের চোখে পানি। ইন্দ্রনীলের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া হলো, নেওয়া হলো আরেফিন দম্পতির কাছ থেকে।

গাড়িতে উঠে মাশীদের মন খারাপের ভলিউম হুহু করে বেড়ে উঠছে। কখনো বেচারার মাথায় হাত রাখি, কখনো অস্ফুট বিড়বিড় করে বলি মন খারাপ করিস না (সব সময় ঠিক কথাগুলোও মনে আসতে চায় না, কচুর মাথা!)। বোধ হয় বলেছিলাম, আমি ইন্দ্র কয়েকদিন পরেই তোর বাড়িতে বেড়াতে যাবো - ইত্যাদি ইত্যাদি (যা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফলোআপ করা হয়েছিলো)।

ঠিক সেই সময়, ঠিক সেই সময়ে একটা ঘটনা ঘটেছিলো। অনেকে সেটাকে ডাকে মিনিংফুল কো-ইনসিডেন্স, কখনো অনেকে ডাকে সিনক্রোনোসিটি।

চার.
ট্যাক্সির পেছনের সিটে আমরা তিনজন। ট্যাক্সির রেডিওতে এফএম চলছে। মাশীদের মুখ বেয়ে চোখের জল। পরিবেশ গুরুগম্ভীর। সবার মন খারাপ বলাই বাহুল্য।

আমি বোধ হয় অস্ফুট স্বরে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আবার নিরবতা, হাতে গোঁজা টিস্যু। কখনো নিজেকে লুকাতে ট্যাক্সির জানালা দিয়ে মনোযাগের সাথে বাইরের দৃশ্য দেখার সাজানো ভান। আবার কখনো টুকটাক কথায় মন খারাপ ভুলানোর চেষ্টা। তখন আমার সান্তনা দেওয়ার ব্যর্থতাকে ব্যঙ্গ করতেই বোধ হয় রেডিওতে বেজে উঠলো, 'নেভার সে গুডবাই'।

মনখারাপের অন্ধকার সরিয়ে আলো জ্বরে ওঠে মাশীদের মুখেও। মাশীদ আর আমি দুজনেই ফিক করে হেসে উঠি এক জন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে। আবার একই লাইন, টেনে টেনে খুব দরদ দিয়ে গাইছে গায়ক। ঠিক সময়ে ঠিক গান। 'নেভার সে গুডবাই'। ঐ মুহুর্তের জন্য এরচে ভালো গান আর কি হতে পারে, এরচে ভালো কথা আর কি বলা যায়?

আসলেই, নেভার সে গুডবাই। দরকার কি?

জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভালো থাকিস, যেখানেই থাকিস। সিংহপুর ছাড়ার আগে আরেকবার দেখা হতে পারে, নাও পারে। ঠিক নেই। তবে... পৃথিবী আজকাল বড্ড ছোট্ট হয়ে গেছে। গুডবাই বলার দিন ফুরিয়েছে। তাই আবারও বলি, নেভার সে গুডবাই। এন্ড হ্যাপি বার্থডে মাশীদ।

আমার সবাই পাল্লা দিয়ে বুড়ো হচ্ছি। কি মজা!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720971 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720971 2007-07-15 10:50:04
নারীর নামাজে নেতৃত্ব দেওয়া। নারীরা এখনও সোস্যাল ট্যাবু
নবী বিদায় হজ্জের ভাষনে আবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, অনারবের উপরে আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। খোদার সৃষ্টিতে সবাই সমান। কোন হাবসী, কালো কালো চামড়ার দাসের বংশধরও যদি যোগ্যহয়, তবে তাকে খলিফা মেনে নিতে হবে। তারপরেও ১৪০০ বছর পার হওয়ার পরেও আরবদের মাইন্ডসেট খুব একটা পরিবর্তন হয় নাই। তারা এখনও অনারব মুসলমানদের মুসলমান মনে করতে কুন্ঠা বোধ করে। ঠিক একই ধরনের মাইন্ডসেট নিয়া ধর্মরে ইন্টারপ্রেট করলে কি হয় সেইটার উদাহরন তো লক্ষ কোটি।

মাজহাব বা স্কুল অফ থটগুলো সময়ের সাথে সাথে মানুষের তৈরী। কারা ঐ মানুষগুলা ছিলো। তারা মূলত আরবদের সমাজের আচার আচরন, যেখান নারীর মূলত কোন ধরনের অধিকার নেই, সেইরকম আচার আচরন মাথায় নিয়েই বড় হয়েছে। ফলে হাজার বছর আগে ইসলামের ইন্টারপ্রেটেশন, তার রুলিং তৈরীতে সেগুলোই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে।

তাই এখনও জোব্বায় বন্দী নারী যাদের চোখটাও মশারীর কাপড় দিয়ে ঢাকা এবং তারা সেটাকেই ইসলামের আইন বলে চালাতে চায়।

একটা কুতসিত সময় গেছে ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন ধর্মকে ব্যবহার করে কুতসিত সব শাসকেরা শোষণ করেছে। আর সেই শোষণ খুব সুবিধার হয় যদি তাদের যাবতীয় শোষণের সামনে ও পেছণে ধর্মের মোল্লাদের মাধ্যমে 'ইয়েস' বলিয়ে নেওয়া যায়। সেটা ঘটেছে এবং ইসলাম বদলেছে সময়ে সময়ে। জন্ম নিয়েছে রাজনীতি।

সেই রাজনীতির স্বীকার কেবল ধর্মের মূল জায়গাগুলো না, স্বীকার হয়েছে ধর্ম পালনকারীর আচার আচরনেও। যেখানে ইসলামে নারীর লিবারেশন হওয়ার কথা, সেই খানে আরব মোচলমানদের কালচারাল প্রভাবে মুসলিম নারী মানেই অপ্রেসড, অধিকারহীন, জোব্বার নিচের একতাল মাংশপিন্ড যার মুখটাকেও ঢেকে রাখার নিয়মটাও ধর্মের মাধ্যমে বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আফসোস।

হাদীস নিয়েও এই শোষণ রাজনীতি কম হয় নি। ঐ শোষক শাসকদের গদী টিকানো এবং ইচ্ছেমতো নিজেদের বক্তব্য ধর্মের মাধ্যমে হালাল করতে ব্যবহার করা হয়েছে হাদীসকে। নিজেদের সামাজিক আচরনকে, যতটাই খারাপ লাগুক তাকে হালাল করতেও ব্যবহার করা হয়েছে হাদীস।

নারীর প্রতি বৈষম্যের হাদীসের মাধ্যমে হালালী করনের একটা অতি কটু উদাহরন দেখতে বেশিদুর যেতে হয় না। সো কলড সহীহ (!!!) হাদীসে গেলেই চলবে যেখানে নারীকে তুলনা করা হয়েছে কুকুর আর গাধার কাতারে এবং সেটাকে নবীর মুখের বানী হিসেবে বসানো হয়েছে।

Hadiths insult women.
Sahih Bukhary 8/102 and Hanbel 4/86

"If a monkey, a black dog or a woman passes infront of a praying person, his prayer is nullified."

This hadith that was narrated by Abu Hurayra was strongly denied by Aysha, the Prophet's wife and accused Abu Hurayra of not telling the truth. Despite that this hadiths is still found in the middle of the so called authentic (Sahih) hadiths.

নবী স্ত্রী আয়েশা কেন এই হাদীসের বিরোধীতা করেছেন? কারন নবী নিজেই তার ছোট্ট কুটিরে যখন নামাজ পড়তেন, অনেক সময়েই আয়েশা তার জায়নামাজের সামনে বিশ্রাম নিতেন। কখনো আয়েশা ঘুমিয়ে আছেন, নবী একদিকে কোনভাবে জায়গা করে নামাজ পড়ে নিতেন। নবী বিলাশ বৈভবে বাস করতেন না। এ কারনে নবী স্ত্রী ভালো করেই জানতেন এভাবে নামাজ নষ্ট হয় না এবং নবী কখনোই একথা বলতে পারেন না।

আফসোস আসলেই। এই হইলো মাইন্ডসেট আমাদের এবং সেইটার উততোরনের কথা বলতে গেলেই, "হ! ব্যাটা তুই বেশি জানস!!" টাইপ গান শুরু হয়ে যায়।

বলাই বাহুল্য, বেশিরভাগ মাজহাব বা স্কুল অফ থট মানুষের তৈরী ইন্টারপ্রেটেশন এইটা বুঝতে আল আজহারের ডিগ্রী লাগে না। সুতরাং যেইখানে মাজহাবের সমালোচনা করা হয়, তার পরিবর্তনের দিকে আহবান করা হয়, সেইটা মূলত ইসলামের ডাইনামিজমকেই এ্যাপ্রিসিয়েশন করার জন্যই করা হয়। ১৪০০ বছর আগের আরব কালচারের বায়াসনেস থেকে বের হওয়ার জন্যই করা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সেই বায়াসনেস থেকে বের হইতে রেজিস্ট্যান্স প্রচুর এবং তাদের মাধ্যমেই যারা নিজেদের ধর্মের হেফাজতকারী মনে করে।

সৌদিতে আছে এরকম একদল হেফাজতকারী যারা মক্কার চাবি পারিবারিকভাবে রক্ষনাবেক্ষন করে নিজেদের অতি উচ্চ বংশ মনে করে সেই সৌদি রাজবংশ এবং তাদের তাবেদার মোল্লা গ্রুপ, ওয়াহাবীরা। সমস্যা হইলো পয়সার জোরে ইসলামের হার্ড-ইন্টারপ্রেটেশনের ব্রেইনওয়াশা এই ওয়াহাবীদের স্পন্সরেই হয়।

যেখানে নবীর সময়ে তিনি নারী পুরুষ সবাইকে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য আহবান করেছেন, মসজিদে নারীর প্রবেশাধিকার ছিলো পুরুষের সমান; সেইখানে আমাদের ওয়াহাবী ভাইজানদের স্পন্সর করা মসজিদে নারীরা আসেন না। কারন তাদের জায়গা ড্রইংরুমে জি টিভির সামনে। পাছে বৌরা বেগানা হয়ে যায়! নারীরা এখনও সোস্যাল ট্যাবু। আরবের অন্ধকার সময়েও যা ছিলো তা থেকে খুব একটা উন্নত হয় নাই সেই সেন্স, বিশেষ করে ধর্মের ক্ষেত্রে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720849 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720849 2007-07-14 11:48:04
ধর্মান্ধরা মুড়ি খাও। মহিলারা নামাজের নেতৃত্ব দিতে পারবে না কেন? ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান থেকে পিএইচিধারী এবং একই সাথে আল আজহারের ডিগ্রীধারী আমিনা ওয়াদুদের একটা সাক্ষাতকার (হোয়াট ইজ এনলাইটেনমেন্ট ম্যাগাজিনে) পড়ার আগে জানা ছিলো না এই ভদ্রমহিলাই ২০০৫ সালের মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক সিটিতে মহিলা ও পুরুষদের একসাথের এক জমায়েতে নামাজের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বভাবতই আমি কৌতুহল বোধ করি।

আমার কাছে মহিলাদের নামাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে তেমন কোন সমস্যা মনে হয় না। এটা স্রেফ একটা সোশ্যাল ট্যাবু মাত্র এবং ইসলামের মাজহাব তৈরীর সময়েও সেই ট্যাবু থেকেই আইন তৈরী হয়েছে যা বলে মহিলারা পুরুষের নামাজের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। অনেক মাজহাবে বলে নারীরা কেবল নারীদের নামাজে নেতৃত্ব দিতে পারবে, তাও যদি নফল হয়। আবার কোন মাজহাব বলে ফরজ পারবে। আশ্চর্য লাগে যখন জানি যে নবী স্ত্রী আয়েশা নামাজে আজান দিয়েছেন, ইমাম হয়ে নামাজ পড়িয়েছেন। অবাক হই যখন জানি নবী নিজে মহিলা সাহাবী উম্ম ওরাকাকে নামাজ শিখিয়ে তার ট্রাইবে ইমাম হিসেবে পাঠিয়েছেন।

তারপরেও ধর্মান্ধরা তাদের ট্যাবু ছাড়তে পারে না। আরে আশ্চর্য্য প্রার্থনা হইলো প্রার্থনা। তাতে একজন নারী যদি প্রার্থনার বাক্য উচ্চারন করে তাতে পার্থক্যটা কি হয়? অনেকে নারীর শারীরিক আকর্ষনের খোটা দিয়ে বসেন। ভাবখান এমন যেন নারী পোষাক ছাড়াই ঐখানে দাড়াবে। হাস্যকর চিন্তা, হাস্যকর আউটলুক।

২.
আমিনা ওয়াদুদ প্রথম না। সাম্প্রতিক সময়ে আসরা নোমানীও মহিলা ও পুরুষ একসাথে প্রার্থনার শীর্ষে দাড়িয়ে প্রার্থনা করিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই সমালোচনার ঝড় গেছে। মহিলা ইমাম, তওবা তওবা টাইপ মনোভাব। কনসপিরেসি থিওরীও বেরিয়ে এসেছে: আরে এগুলো হলো পাবলিসিটি স্টান্ট, ইহুদীদের ইসলাম ধর্ম নষ্ট করার পায়তারা ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ কারোরই ইসলামের ইতিহাস ঘেটে দেখার মুরোদ নেই এই চিল্লানোর আগে।

একবিংশ শতাব্দীতে ইসলাম ও মুসলিম আর তাই সমার্থক শব্দ না, বরং বিপরীতার্থক শব্দ। ক্যামনে কি, খুইলা বলি সংক্ষেপে।

৩.
নবী মুহাম্মদকে, যার প্রতি সালাম, তাকে যদি ফেমিনিস্ট বলা হয় তাইলে খুব ভুল হবে না। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই শুধু না, নারীদের অধিকার সম্পর্কে নতুন ধারনা এবং শত বছরের সামাজিক রীতিকে ভাঙ্গতে তিনি শুধু থিওরীটিক্যাল প্রস্তাবই করেন নাই; সফলও হয়েছেন সুবিশাল ক্যানভাসে।

যেখানে কেনাবেচার হাটে পশুর কাতারে নারীকে বিক্রি করা হতো, সেইখানে চিন্তাভাবনা ছাড়াই মেয়ে শিশুকে জ্যান্ত পুতে ফেলা হতো সেই সমাজে নারীদের ডিগনিটি বা সন্মান আবার পুনরুদ্ধারকারী হিসেবে নবী মুহাম্মদের রেডিকেল ভিশন ছিলো অত্যন্ত বোল্ড এবং সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি তার স্ত্রীদের পরামর্শ নিয়েছেন। খাদিজার ভূমিকা তার সামাজিক জীবনে, এমনিক নবী হওয়ার পরেও অনেকাংশে ছিলো এ্যাডভাইজারের।

সেই নবী মুহাম্মদের সময়ে নারী পুরুষ নির্বিশেষ সবার জন্য শিক্ষা অত্যবশ্যকীয় ঘোষনা করেছেন যা এখনো আধুনিক এই সময়ে আমরা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি। সব মিলিয়ে নবী মুহাম্মদ যে একজন ফেমিনিস্ট, নারী অধিকার সচেতন কোন সন্দেহ নেই। শতবছরের সোশ্যাল বায়াসনেসের কারনে জাহিলিয়াতের সময়ে নারীদের প্রতি যে ধরনের আচরন ছিলো, আরব বিশ্ব সহ মুসলিম অনেক জায়গাতে ঘটনা তাই একই রকম আছে। কিন্তু নবী মুহাম্মদের সময়ের কিছু ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে। বিশেষ করে নারী নেতৃত্বে গোত্রের নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রার্থনার উদাহরন কিন্তু সেই সময়ের।

৪.
উইবেক ওয়ালথারের উওমেন ইন ইসলাম বইয়ে ইসলামের প্রাচীন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ ঘটনা থেকে জানা যায় উম্ম ওরাকা বিনতে আবদাল্লাহর কথা। তাকে নবী নিজে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তার পুরো গোত্রের জন্য নামাজের নেতৃত্বের অনুমতি দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। এবং ইনিই সেই উম্ম ওরাকা যে কুরআন লিপিবদ্ধ হওয়ার সময়ে ভূমিকা রেখেছেন সংরক্ষিত এবং টুকরো টুকরো কুরআনের বানীকে একত্রিত করায়।

ইসলামের একেবারে শুরুর দিকে মহিলারা আজান দিয়েছেন, মহিলারা মদীনায় মসজিদ বানাতে সাহায্য করেছেন। নবী স্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই নবীর ট্রাডিশন বা হাদীস লিপিবদ্ধ করাতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। তাদের বক্তব্য ইসলামের ইতিহাস তৈরী করেছে।

উদাহরন আছে নবীর নাতনী উমাইয়া, যে নবী কন্যা জয়নাবের মেয়ে, সেই নাতনীকে কোলে নিয়েই নামাজে যেতেন নবী। তাকে কোলে নিয়েই নামাজে দাড়াতেন, সিজদার সময়ে নামিয়ে রাখতেন, সিজদা থেকে উঠে আবার কোলে নিতেন।

নবীর সময়ে মসজিদে নারী পুরুষ একই লাইনে দাড়িয়ে নামাজ পড়েছে। মাঝখানে একটা আইড় (আইল) তার এ পাশে পুরুষ, ওপাশে নারীরা দাড়িয়ে প্রার্থনা করেছে নবীর সময়ে। আর এখন আমরা মহিলাদের মসজিদে জায়গাটুকু দিতেও কুন্ঠা বোধ করি। আর নারীর ইমাম হওয়াতো বহুত দূরের কথা।

উম্ম ওরাকা বিনতে আবদাল্লাহর উদাহরনটা ছাড়াও আরো উদাহরন আছে যেখানে নারীরা নামাজে নেতৃত্ব দিয়েছে। আছে নবী পতনী আয়েশার কথাও।
The hadith of `A’ishah and Umm Salamah (may Allah be pleased with them). `Abdur-Raziq (5086), Ad-Daraqutni (1/404) and Al-Bayhaqi (3/131) reported from the narration of Abu Hazim Maysarah ibn Habib from Ra’itah Al-Hanafiyyah from `A’ishah that she led women in Prayer and stood among them in an obligatory Prayer. Moreover, Ibn Abi Shaybah (2/89) reported from the chain of narrators of Ibn Abi Layla from `Ata’ that `A’ishah used to say the Adhan, the Iqamah, and lead women in Prayer while standing among them in the same row.

৫.
এই যখন ইতিহাস তখন ভাবতে খারাপই লাগে আমরা প্রোগ্রেসিভ না হয়ে আরো জাহেলিয়াতের দিকে গিয়ে নিজেদের আরো ধার্মিক প্রমাণে ব্যস্ত হয়। হাস্যকর আমরা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720794 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28720794 2007-07-13 20:17:38
ওদের জন্য ব্যাক ডেটে পোস্ট করেছিলাম মূলত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করার জন্য। পে প‌্যালের মাধ্যেম ২১ই জুন পর্যন্ত সংগ্রহ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬০,০০০ টাকা। যতখানি আশা করেছিলাম নি:সন্দেহে তার চেয়ে অনেক কম পরিমানটা।

আরিলের পরিকল্পনা অনুসারে যাদের সত্যিকারের সাহায্য দরকার তাদের চিহ্নিত করার পরে তাদেরকে তিন মাস সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আমাদের। মূলত এই ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগে যে প্রবণতা দেখা যায় তা হলো যাবতীয় মনোযোগ অতি অল্প টাইম ফ্রেমেই ফুরিয়ে যায়। দূর্যোগের সাথে সাথে মিডিয়ার ঝকমারীতে সরকারী আমলা, সাহায্যকারী সংস্থাদের আনাগোনা কয়েক দিন, সপ্তাহখানিক পরেই থিতিয়ে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। অথচ ঐ দূর্যোগ কবলিত মানুষগুলোর অবস্থা প্রাথমিক শকের পরে মোটেও যে খুব ভালো হয়ে ওঠে রাতারাতি তা নয়। বরং সপ্তাহ ঘুরলে তা আরো করুন হতে থাকে।

পরিবারের সবাইকে হারিয়ে অনেক নি:স্ব, রাতে মাথার উপরে নেই চাল, নেই নিরাপদে বাঁচার সংস্থানটি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আরিলের দীর্ঘ মেয়াদী সাহায্য করার পরিকল্পনাটাকে জোরদার করতে পুনরায় চট্রগ্রাম ল্যান্ডস্লাইডের জন্য সাহায্য আবেদন করলাম আজকে আবার।

আমি মূলত অন্য স্পিরিচুয়ালিটি, ইন্টিগ্রাল মিস্টিসিজম এবং কম্প‌্যারেটিভ রিলিজিয়ন নিয়ে ব্লগিং করি। তাই প্রথমে দোটানায় ছিলাম সাইটের নিয়মিত ভিজিটরদের কাছে এই ডোনেশনের ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দাড়ানো উচিত হবে কি না।

সম্প্রতি আমার সাইটি থিংকিং ব্লগার্স এওয়ার্ড এবং ওপেন মাইন্ড ব্লগার এওয়ার্ডে মনোনিত হয়েছে। সাইটটিতে প্রতিদিন ৩০০ এর বেশি ভিজিটর আসেন। মূলত নিয়মিত ভিজিটরেরা নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের যাদের ইনকাম রেইঞ্জ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই ভাবছিলাম ওদের কাছে আপিল করে যতখানি সাহায্য পাওয়া যায় সেটা বেশ কার্যকর হবে। সেই ভাবনা থেকেই নতুন করে পোস্ট করা যা আগামী তিন মাস চট্রগ্রামের ভূমি ধ্বস আক্রান্ত মানুষদের সাহায্য করতে কাজে লাগবে।

অনলাইন ডোনেশনের আপিলটির লিংক এখানে

আরিলের ভূমিকাকে প্রশংসা করে নওয়েজিয়ান সাইট]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718937 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718937 2007-07-02 19:46:57
ছিমছাম অস্থির সময়ের ডায়েরী
ল্যাপটপ স্ক্রিনে ঝাঁক ঝাঁক ইলিশের ফটোগ্রাফ কেন নাকে ইলিসের গন্ধ আনে? আসলে নাকে না, নিউরনের মায়াময় কোঠরে। সেই কবে থাল চেটেপুটে ইলিশ খেয়ে হাতময় সুবাস বয়ে বেড়ানো। সাবানের সাধ্যি কি তার সাথে যুদ্ধে এটে ওঠা?

ঢলঢলে নীল পূর্ণিমায় নিজের চারদিকে রামধনু বৃতত তৈরীর আলোকময় চাঁদ আর ওটাকে স্বাক্ষী রেখে মুঠোফোনে টুংটাং ফুরালে জড়ানো বিছানা খুলে নিয়ে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়ার সময়। সূর্য টুকটাক কখন উঠে পড়ে জানি না।

সময় এখন বিকেল চারটে; অথচ পাগলা মেঘলা আকাশটাকে দেখলে কে বলতে পারে, এখন সময় এগারোটা নাকি চারটে?!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718756 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718756 2007-07-01 14:15:55
তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা, মন জানো না!
এই যে উঁকি দেওয়ার প্রসঙ্গ সেটা সহজ হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে যখন ধীরে ধীরে এমন সব প্রযুক্তি আসতে শুরু করেছে যার মাধ্যমে মাত্রা ছাড়ানো এই রহস্যময় মস্তিষ্কের গলি ঘুপতি সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে।

কেউ যদি এই আধুনিক যুগে বসে অলৌকিকতা খুঁজে বেড়ায়, ছুয়ে দেখতে চায় তবে তাকে মানুষের মস্তিষ্কের কাছে আসলে হতাশ হতে হবে না। মাত্র কয়েক পাউন্ডের একতাল ঐ বস্তুর ভিতরে যেন হাজার হাজার ছায়াপথ লুকানো। স্যার চার্লস শেরিংটন যাকে নিউরোফিজিওলজীর গুরু বলা হয় তার ভাষায়:
the human brain is an enchanted loom where millions of flashing shuttles weave a disolving pattern, always a meaningful pattern, though never an abiding one, a shifting harmony of sub-patterns. It is as if the Milky Way entered upon some cosmic dance'

মানুষের মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যা এক মিলিয়ন মিলিয়ন যা লিখতে ১ এর পরে ১২টা ০ দরকার, ১,০০০,০০০,০০০,০০০। এই প্রতিটা কোষ একেকটা একই সাথে জটিল ইলেকট্রাকেমিক্যাল মেকানিজমের যাদুর বাক্স, শক্তিশালী মাইক্রোডাটা প্রসেসিং ঘর এবং ট্রানসমিটিং সিস্টেম যা তার যাবতীয় জটিলতা নিয়েও আকারে অসম্ভব রকমের ছোট।

বিজ্ঞানীরা কেবলমাত্র ইদানীং বুঝতে শুরু করেছে চিন্তা, মেমোরী কিভাবে জন্ম নেয় কিভাবে কাজ করে। তবে এটা কেবলই বোঝার যাত্রা শুরু। সব রহস্যের জট এখনো খোলেনি। যেটা নিউরোসায়েন্টিস্টদের খুব ভাবায় তা হলো মন (Mind) ধারনাটা। কোথায় এর জন্ম এবং এটা কিভাবে কাজ করে।

ফাংশনাল এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং), পিইটি (পজিট্রন এমিশন টোপোগ্রাফি)এর মতো প্রযু্ক্তির ফলে এখন বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিস্ককে মেশিনে সংযুক্ত করে মজার মজার সব এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে বোঝার চেষ্টায় আছে মন কোথায় কিভাবে কাজ করে।

যেমন একটা এমআরআই স্ক্যানে আপনাকে ঢুকিয়ে দিয়ে আপনার প্রিয়জনের ছবি চোখের সামনে ধরলে দেখা যাবে মস্তিষ্কের নিদিষ্ট জায়গাটা খুব কাজ করছে। মস্তিষ্কের ভিতরে অনেকগুলো ভাগ করা জায়গা আছে, ভাগটা কাল্পনিক। তো দেখা যায় যে নিদিষ্ট কাজের জন্য (ফাংশনালিটি) মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গা দায়ী, তবে সম্পূর্ণভাবে না। যেমন দেখার ইমপালস হয়তো দিচ্ছে মস্তিষ্কের বিশেষ একটা এলাকা, শোনা আরেক জায়গায়, হাটাচলার ব্যালেন্স আরেক জায়গা এরকম।

বিজ্ঞানীরা বিশেষ এলাকায় এক্সিভিটি বাড়ছে না কমছে সেটা বোঝার জন্য ঐ এলাকায় রক্তচলাচল এবং কোষের গ্লুকোজ গ্রহনের হারটা খেয়াল করে থাকে। এটাকে অনেকটা শিশুদের কার্টুনে দেখানো মাথায় আলো জ্বলে ওঠার সাথে তুলনা করা যায়।

তো আপনার সামনে আপনার প্রিয়জনের ছবি যদি ধরা হয় তবে এমআরআই বা পিইটি স্ক্যানে দেখা যাবে মস্তিষ্কের কয়েক জায়গায় আলো জ্বলে উঠছে।

দেখার বিষয় মাথার যে অংশ প্রসেস করে সেটাও নি:সন্দেহে ব্যস্ত হয়ে যাবে। রঙ, আকার আকৃতি, সেই রঙ আইডেন্টিফিকেশন, লাইন, ডেপথ, আলো ছায়ার অর্থ করা - হাজারটা কান্ড ঘটবে ওখানে। কোটি কোটি নিউরনের পথ জুড়ে নিউরোট্রান্সমিটার নামের কেমিক্যালেরা ব্যস্ত হয়ে উঠবে।

ফেস রেকগনিশন অংশ নি:সন্দেহে সচল হবে। আপনার দেখা হাজার হাজার মুখের মেমোরী থেকে এই মুখটি আইডেন্টিফাই করবে ব্রেইন। শুধু এই আইডেন্টিফিকেশন পদ্ধতিটাই মারাতনক যাদুর মতো।

তারপরে স্মৃতিকোঠরে সাঁইসাঁই পুরনো স্মৃতির বাছাই থেকে বের হবে সবচেয়ে শক্তিশালী ইমোশনটা। যেমন মায়ের ছবি দেখলে হয়তো কারো মনে হতে পার মায়ের গায়ের গন্ধ, কারো হয়তো মা রান্নাঘরে দাড়িয়ে রান্না করছে সেই দৃশ্য অথবা কারো বা মায়ের বলা কোন কথা অথবা আজ অফিসে আসার আগে ঘুম থেকে জাগতে দেরী করায় মায়ের বকুনী ইত্যাদি।

অর্থাত এই যে আমাদের মন বলে যে জিনিসটা সেইটায় ঐ ছবিটা যে একটা ইমোশন জেনারেট করছে সেটা বোঝার জন্যই এতো ঝক্কি। কেন বিশেষ মুখ বিশেষ অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে, কিভাবে সেই অনুভূতির জন্ম নেওয়া তার মেকানিজমটা বোঝার চেষ্টা।

একটা শব্দ, একটা ঘ্রান, একটা গান মনের গভীর থেকে তুলে নিয়ে আসে যে ইমোশন, যে ভাবের বণ্যা তার শারীরিক জন্ম কিন্তি মাথার ঐ কুঠুরীতেই। যাকে মন বলি তা হয়তো মস্তিষ্কের ইমপালস -এমনটা অনেক বিজ্ঞানীদের মতামত। কিন্তু গল্পটা যে এত সরলীকৃত না সেটাও স্বীকার করেন ডাকসাইটে নিউরোসায়েন্টিস্টরা।

আমরা একটা অপূর্ব সুন্দর ফুলের বায়োলজী, তার পরাগায়ন, পাতার সালোক সংশ্লেষণ বিজ্ঞানের মাধ্যমে জানলেও গাছের ভিতরে যে প্রাণ তার অলৌকিক রহস্যময়তাটা কিন্তু ধরাছোয়ার বাইরেই থেকে যায়। জটিল কেমিক্যাল সিনথেসিসে হুবহু নকল জবা তৈরী করা সম্ভব হলেও প্রকৃতি বিপুল মমতায় যে ফুল ফোটায় তার ভিতরের মুগ্ধতাটা বিজ্ঞানীদের ল্যাবের বিষয় না। তার জন্ম অন্য কোথাও। কিভাবে শু্ক্রানু, ডিম্বানু থেকে ভ্রুন হয় এবং তার বেড়ে ওঠা চলে মায়ের গর্ভে তা বিজ্ঞান বলতে পারলেও প্রাণ নামের অলৌকিক ফেনোমেনার রহস্য আমরা জানি না। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের প্রেমে পড়লে মায়ের ব্রেনের কোন অংশে কি নিউরোট্রান্সমিটার ব্যতিব্যস্ত হয় বিজ্ঞান বলে দিতে পারে আজ, কিন্তু ঐ নবজাতক সন্তানটার জন্য তীব্র প্রেমে পড়ার মুদ্ধতার ব্যাপারটা প্রকৃতির অন্য নিয়মে চলে। তা অন্যভূবনের অন্যকিছূ।

লেখার শিরোনামটা মূলত মস্তিষ্কের ভিতরের এক প‌্যারাডক্সের কথা বলার জন্যই দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই গল্প অন্য কিস্তিতে। মনের মধ্য আসলেই বাস করে কয়জনা সেই গল্পটা তাই বেশি বড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে এই পোস্টে ঠাঁই পেলো না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718631 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718631 2007-06-30 15:16:34
প্রযু্ক্তি কথন। প্রাইভেসীর স্যাক্রিফাইস জীবনের পরতে পরতে এখন থেকে ২০ বছর আগে বসে ২০১০ সাল টাইপের সময়টাকে কল্পনা করা হতো সায়েন্স ফিকশন টাইপ জামানা। সাই সাই করে উড়ন্ত গাড়ি, আকাশ ফুড়ে ওঠা ঘরবাড়ি, রোবোট সব ঘরের কাজ করে দেবে টাইপ সময়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভয়াবহ গতিতে এগিয়েছে গত কুড়ি কি ত্রিশ বছরে, যে সময়টায় মানুষের অনেক অর্জন বিগত পুরো মানবসভ্যতার ইতিহাসের বিপরীতে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই।

এই ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়টায় বসে আমরা সেই একসময়ে সায়েন্সফিকশন গল্পে পড়া ম্যাজিকাল সময় ২০১০, বা ২০২০ সাল থেকে খুব দূরে নেই। এই ২০০৭ সালে যখন দেখি কেউ কেউ মোবাইল ব্যবহার করে না, তখন এক ধরনের ঈর্ষাই হয়। ভালা লাগার ঈর্ষা। মনে হয়, আহারে আমিও যদি এই মরার মোবাইলটা ছুড়ে ফেলে দিতে পারতাম।

২.
মোবাইলের মতো প্রাইভেসীতে হস্তক্ষেপ আর কোন আধুনিক প্রযুক্তির ফল আমাদের করে বলে আমার মনে হয় না। অফিসে বসে আছো, কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা; অথবা ক্লান্তিকর দিন শেষে বাড়ি ফিরে একটু বিছানায় গা এলিয়ে না শেষ করা প্রিয় বইটা তুলে নিলাম - ওমনি মোবাইল বেজে উঠছে। আরে বাপ, আমার তো কথা বলতে নাও ইচ্ছা করতে পারে এখন! কিন্তু ক্যামনে অপর পক্ষরে সেইটা বুঝাই।

উইকএন্ড, ঠিক করেছি দিন কাটাবো নিজের মতো, অলস দিন কাটবে পুরো স্বাধীনতায়। নো হাংকি পাংকি। হঠাৎ জুনিয়ার নিংসঙ্গ প্রবাসী কেউ ফোন করে বসলো, 'চলেন সাদিক ভাই ঘুইরা আসি লিটিল ইন্ডিয়া থেইকা, ভালো লাগতাছে না।' লে ঠেলা। সব সময় বলাও যায় না: 'ইচ্ছা করছে না, তুমি একলা যাও।' অথবা ব্ন্ধুরা ঠিক করলো ঘুরতে যাবে, নয়তো খাবে, নয়তো সিনেমা দেখবে। ফোন করে আয় আয় ডাকা ডাকি। ইচ্ছার বিরুদ্ধতা হজম করে ফালতু সিনেমা গিলো।

অথবা আরো ভয়ংকর হলো উইকএন্ডে বা অফিস সময়ের বাইরে মোবাইলে বসের ফোন, নতুন কাজ ধরিয়ে দেওয়া।

মেজাজটা তখন গরম হয় মোবাইলটার উপরে।

৩.
"নিজের মতো থাকতে চাই টাইপ গোবেচারী মানুষদের" বিপদে ফলার পিছনে মোবাইলের এত ভূমিকা থাকা সত্বে এ মাল ফেলে দেওয়া সম্ভব না। দুপুরে, রাতে ঠিকঠাক খেয়ে নিয়েছি কি না সেটা জানতে বাবা এসএমএস করবে। দ্রুত এসএমএস রিপ্লাই না করলে টেনশন শুরু! তিন চারদিন পরেপরে প্রিয় সন্তানের কন্ঠ শুনে আস্বস্ত হতে ফোন করবে মা। মুঠোফোনে গলা শুনে দূরদেশে বসে তারা স্বস্তিপান ছেলে ভালো আছে। আর যদি এর উপরে থাকে একখান প্রেমিকা, পুরা সাড়ে বাইশ। প্রাইভেসীর এসপার ওসপার। সময় অসময়ে ফোন এসএমএসে জীবন কেরোসিন।

তারপরেও সব ছাপিয়ে দ্রুত যোগাযোগ আর নিজেকে এ্যাভেইলেবেল করতেও মোবাইলটার ভূমিকটা অস্বীকারই বা করি কিভাবে। তাই ফেলে দিতে গিয়েও দিতে পারি না এমওয়ান এর এই মোবাইল কানেকশনটা। প্রতি মাসে ফিক্স লাইন চার্জ ছাড়িয়ে কতগুলা টাকা যে দিলাম, বাংলাদেশী টাকায় হিসাবে গেলে মেজাজটাই খিচরে যাবে, তাই সেই গণিত ভূলেও কষি না।

৪.
গুগল ইন্টারনেটের মেগাগুরু, সেই থেকে শুরু ... এখন হার্ডডিস্কের ভিতরেও পৌছে যাচ্ছে এই গুগুল। গুগলডেস্কটপ এরকম একটা ফিচার যা কম্পিউটারের আনাচে কানাচে সার্চ করছে, সেভ করে রাখছে। ইন্টারেনেটে সারাদিন সংযুক্ত থাকা একটা মেশিন তখন স্বভাবতই প্রাইভেসী সংকটে পড়ে।

সম্প্রতি ওয়েব হিস্টোরি ফিচার দিয়ে গুগল আরেকধাপ মাতব্বরি চালাবে আমাদের ওয়েব এ্যাক্টিভিটি মনিটর সম্পর্কে। অনেক ওয়েবসাইটে বসানো কুকিজ, স্পাইওয়ার তো ঝাকে ঝাকে।

তবে যা বুঝি যে এই প্রাইভেসী হরন সম্পর্কে বেশি চিন্তা বা দূশ্চিন্তা করে লাভ নাই। প্রযুক্তির সর্বগ্রাসীতায় প্রাইভেসীর স্যাক্রিফাইস - হইতেই থাকবো, হইতেই থাকবো। প্রযুক্তির সুবিধার নামে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এই প্রাইভেসী স্যাক্রিফাইসের ট্রেন্ড আমরাই ঢালাও জড়িয়ে নিচ্ছি জীবনে।

আমরাই জেনেশুনে বিষপান করেই চলেছি এই "হতে পারে সায়েন্সফিকশনের জামানায়"।

অনুপ্রেরণা: মাহবুব মোর্শেদের ব্লগে ক্লেবেনেটের গুগল নিয়ে করা কার্টুনটা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718056 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28718056 2007-06-27 13:47:19
সময়ের গোলমাল ও ট্রানসেনডেন্ট ঈশ্বর সময় জিনিসটা বড় গোলমেলে৷ আদতে সময় বলে আমরা যা যান্ত্রিক অথবা ডিজিটাল ঘড়ির কাটায় মেপে যাই সেটা সময়ানুভব থেকে অনেক সময়েই আলাদা৷ বিরক্তিকর কাজের জন্য অপেক্ষায় সময় যেন কাটতেই চায় না অথবা খুব প্রিয় কাজে ব্যস্ত থাকলে সময় চোখের পলকে দৌড়ে পালায়; যদিও সেটা একই দৈর্ঘ্যের সময় হলেও৷ আবার গতির সাথে সময় কতটা ব্যাসকম হয় সেটা নিয়ে আইনেস্টাইনের যুগান্তকারী রিলেটিভিটির কথাতো বলাই বাহুল্য।

অনেকে বলেন সূর্য্যের উদয় অস্তের উপর নির্ভরশীল পৃথিবীর গতানুগতিক সময়ের পরিমাপটা সময়ের মূল রিয়েলিটি থেকে বেশ দূরে৷ ঘড়ির সময় কেবলই এক স্থূল পরিমাপের মামলা। সময় তার চেয়ে ঢের বেশি রহস্যময়৷ কসমোলজি বা মহাবিশ্বের জন্মরহস্য নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরও খুব ভাবায় এই সময়ের গোলমালটা তাই তারাও অংক কষে বের করার চেষ্টায় আছে সময়ের জন্ম কোথায়, কোথায় বা এর শেষ হতে পারে৷

২.
যদি খুব গভীর জ্ঞান কপচাকপচি অথবা দর্শন আপাতত দূরে সরিয়ে রাখি, খুব সহজ অবজার্ভেশন থেকেও সময়ের রহস্যময়তার কিছুটা স্পর্শ পাওয়া সম্ভব৷ সময় ধারনা আসলে আমরা সাধারনত তিনটা ভাগে সেটাকে ভাগ করে ফেলি৷ অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যত৷ কিন্তু মজাটা হলো, অতীত এবং ভবিষ্যত দুটোই ধরা ছোয়ার বাইরের জিনিস, আনরিয়াল৷ অনলি রিয়াল ইজ নাও। বর্তমান, তবে সেটাও আদতে স্থায়ী নয় একেবারেই। এই মুহুর্তে যাকে আমি বর্তমান বলি, বলা শেষ হওয়ার আগেই সেটা অতীত হয়ে গ্যালো৷ এমনকি ১০, ২০ বছর আগের অতীতও মনের ভিতরে মনে হয় এইতো সেদিন, এইতো কয়েক মিনিট আগেই যেন! প্রতি মুহুর্ত সাই সাই করে অতীত, অতীত, অতীত হয়ে যাচ্ছে৷ নিয়ন্ত্রনের বাইরে৷ কি ভয়ংকর ব্যাপার!

আর ভবিষ্যততো আরো বড় ধান্দাবাজি৷ আদতে অস্তিতই নেই ভবিষ্যতের (বর্তমানে বসে যদি বলি), তা আমরা যতভাবেই প্রেডিক্ট করার চেষ্টা করি না কেন৷ এ কেবলই একটা প্রোজেকশন অফ মাইন্ড বা মনের ভেতরের কল্পনা৷ ভবিষ্যতের প্রতিটা টুকরা তৈরী হয় বর্তমানের উপরে ভিত্তি করে৷ আমার এই বর্তমানের সামেশন বা যোগফল হলো ভবিষ্যত এবং সেটা এতটাই ডাইনামিক যে প্রতিটা মুহুর্তের সাথে অসীম সংখ্যক ভবিষ্যত স্টেট তৈরী হতে পারে৷

ভবিষ্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার, পুরোটাই কল্পনা৷ কাব্যিক করে তাই বলা যায়, টুমরো নেভার ডাই৷ ঐ নেভার ডাই টুমরো আসলে কল্পনার ফানুস৷ যা একমাত্র আমাদের সাথে সবচেয়ে স্পষ্ট তা হলো বর্তমান৷ কিন্তু যেটা অস্বস্তিকর সেটা হলো খুব খেয়াল করলে বোঝা যায়, প্রতিটা বর্তমান কতটা পলকা৷ মুহুর্তগুলো অসম্ভব তীব্র গতিতে যেন অজানা কোন এক ব্ল্যাকহোলে গায়েব হয়ে যাচ্ছে৷ হুহু করে, কল্পনাকে হার মানানো বেগে৷

এই ভয়ংকর ব্যাপারটা যে মানুষের জন্য সবচে বিপজ্জনক তার নির্দেশই বোধ হয় কুরআনে সময় নামের পরিচ্ছদে এভাবে,

Witness Time!
Surely Man is in a state of loss, (103:1,2)


৩.
ফ্রি উইল বা মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতার প্যারাডক্সটা বোঝার জন্য (আদতেই মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে নাকি, "যেমনি নাচাও তেমনি নাঁচি পুতুলের কি দোষ!" সিচুয়েশন) সময়ের রহস্যময়তা ধরতে পারাটা খুব জরুরী৷ কিন্তু সেই প্যাচাল আরেকদিন৷ বরং সময়ের সাথে ঈশ্বরের একটা গোপনযোগসুত্র খোলাসা করা যাক৷

সাচিকো মুরাতার তাও অফ ইসলামে চাইনিজ কসমোলজির উদাহরন টেনে ইসলামের কনসেপ্টে স্রষ্টার দুটো রূপের উপরে আলোকপাত করা হয়েছে৷ প্রথমত পার্সোনাল, দ্বিতীয়ত ইমপার্সোনাল৷

In one respect, God is infinitely beyond the cosmos. Here, the theological term is tanzih, which means "to declare God incomparable" with everything that exist. In this respect god is completely inaccessible to His creatures and beyond their understanding. This point of view is the classical position of "Kalãm" ("Islamic dogmatic theology"). Many verses could be cited to show how the Koran takes this point of view, such as "Glory to be God, the Lord of Inaccessibility, above everything that they describe" (37:180) or in simpler terms, "Nothing is like Him" (42:11).

In this respect, God is an impersonal reality far beyond human concerns. He is the God of negative theology.


তার বাইরে স্রষ্টার আরেকটা রূপ হলো পার্সোনাল৷যেখান স্রষ্টা গ্রীবাস্থ ধমনীর চেয়ে কাছের। আপন মায়ের চেয়েও প্রেমময়।

সাচিকো মুরাতার ভাষায়: But the God of the Koran, the Prophet, and the spiritual authorities of Islam is a God who is supremely lovable, since He is dominated by concern for His creatures. As the Koran puts it, "He loves them, and they love Him" (5:54). God’s love for creation produces in the creatures love for God. This God of compassion and love can be grasped and understood. To use the theological term, He must be "declared similar" (tashbih) in some mysterious fashion to His creation. We can rightly conceive of Him in human attributes. This is the point of view of God’s immanence in all things, and it is clearly supported by such Koranic verses as "Wherever you turn, there is the face of God" (2:115) and "We are nearer to man than the jugular vein" (50:16). In this respect, God is a personal God.

সাধারনত মানুষ স্রষ্টার পার্সোনাল রূপ নিয়েই বেশি ব্যস্ত৷ কারন সেটা কল্পনা সহজ। মানুষের কল্পনার সীমাবদ্ধতায় তাই ঈশ্বর বিভিন্ন রূপে পার্সোনাল গড হিসেবেই ম্যানিফেস্ট হয়৷ ঈশ্বরের ট্রানসেনডাল ন্যাচার তাই বেশিরভাগ সময় থিওলজিয়ান বা ফিলোসফারদের জন্যই বরাদ্দ৷ এর এক্সট্রিম এন্ড হলো প‌্যানথিয়িজম বা সর্বেশ্বরবাদ যা কুরআন দিয়েও প্রমান করা যায়, যেটা ইসলামী এসোটেরিক সায়েন্সের বিষয়। ইসলামী কসমোলজীতে ঈশ্বরের দুই কম্পোনেন্ট, পার্সোনাল ও ট্রানসেনডাল - উভয়ই বর্তমান৷

সময়ের কনসেপ্টে ইসলামে স্রষ্টা সম্পর্কে এক অকল্পনীয় স্টেটমেন্ট আছে স্যাক্রেড হাদীস বা হাদীস কুদসীতে৷ বুখারী, মুসলিম সহ হাদীসে কুদসীর সেই হাদীসানুসারে ঈশ্বর স্বয়ং নিজেকেই সময় হিসেবে ঘোষনা দিচ্ছেন, যা ট্রানসেন্ডাল ন্যাচার অফ গড বা সীমিত ধারনা ও কল্পনার বাইরের ঈশ্বরের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়৷ নবী মুহাম্মদ, যার প্রতি সালাম, ঐ হাদীসটিতে বলছেন: God says: Sons of Adam complain against Time, and I am Time.
(হাদীস কুদসী, ৪)

ঈশ্বর নিজেকে স্বয়ং সময় দাবী করে যেন সময়ের গোলমালটাকে বহুত জটিল করেই তুললেন।

৪.
আমার দেখা অন্যতম গভীর-মিস্টিক ও বন্ধু ক্যারোলিনকে আমি জিজ্ঞেস করি, ক্যারোলিন সময় বলে আসলেই কি কিছু আছে? ক্যারোলিন স্মিত হাসে। একটু চুপ থেকে বলে, না। সময় স্রেফ মায়া। মনের কারসাজি। ঈশ্বরের মতো মায়াময়। আমি নিশ্চুপ শুনে যাই।

রেফারেন্স
সাচিকো মুরাতার তাও অফ ইসলাম]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28717024 http://www.somewhereinblog.net/blog/mysticsaint/28717024 2007-06-22 11:47:40