somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্গাপূজার রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত

২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাংলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উত্সব হলো শারদীয় দুর্গোত্সব। একসময় দেবী দুর্গা ছিলেন গৃহদেবী। মোগল আমলে ১৬০৬ সালের দিকে বাদশাহদের উত্সাহে প্রথম শারদীয় দুর্গোত্সব চালু হয় রাজশাহীর তাহেরপুরের রাজা কংশ নারায়ণের উদ্যোগে। একই সঙ্গে নদিয়ার জমিদার ভবানন্দ মজুমদারও শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। এর আগে বাংলায় দুর্গাপূজা পালিত হতো চৈত্র মাস বা মার্চ-এপ্রিল মাসে। পরে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয় শরত্কাল বা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। ১৭৫৭ সালের জুন মাসে পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে জয়লাভের পর লর্ড ক্লাইভ একটা বিজয় উত্সব করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু কীভাবে, কেমন করে, কোথায় করবেন, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় শোভা বাজারের রাজা নবকৃষ্ণ জানালেন, তিনি বৃহত্ আকারে দুর্গোত্সব করতে আগ্রহী, যেখানে যুদ্ধ বিজয়ী ইংরেজ নেতারাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। শোভা বাজারের ওই দুর্গোত্সবই ছিল পলাশী যুদ্ধের বিজয় উত্সব। পলাশীর পর মিলিত হিন্দু শক্তি লর্ড ক্লাইভকে সমর্থন দিয়েছিল। এসব হলো ইতিহাসের কথা। এর বাইরেও কথা আছে। তাহলো গণমানুষের বিশ্বাস। ভারতীয় হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, সুপ্রাচীনকালে ভারত অসুরের অত্যাচারে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অত্যাচারিত নির্যাতিত মানুষ অসুরের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করে। সব দেবতা নিজেদের শক্তি দান করেন দেবী দুর্গাকে। তাই তিনি হলেন দশভুজা। অসুর বধ করে তিনি হলেন মহিষাসুর মর্দিনী। সর্বভারতীয় দেবতা অবতার রাজা দশরথের প্রথম সন্তান রাম অসুর রাজ রাবনকে বধ করে সর্বভারতে শান্তি স্থাপন করেন।
গবেষকদের মতে, রামায়ণের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত হলো রাম একজন আর্যপুত্র। তিনি একজন বিদেশি রাজা, রাজ্য জয়ে ভারতে আগমন করেন বা তার পূর্ব পুরুষ ভারতে আগমন করেন। আর্যাবর্ত বা উত্তর ভারত জয়ের পর দাক্ষিণাত্যের দিকে রওনা দিলে রাম স্থানীয় রাজা রাবনের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। রাম স্থানীয় কিছু শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে রাবন রাজ্য আক্রমণ করেন এবং দাক্ষিণাত্যকে অসুর মুক্ত করেন। ভারতের দক্ষিণে এবং শ্রীলঙ্কায় এখনও রাবন পূজা হয়। প্রাচীন বাংলার রাজা মহেশকে আর্যদেবী বা আর্য বীর নারী দেবী দুর্গা সব রাজন্যবর্গের সহযোগিতা নিয়ে পরাজিত করেন। প্রকৃত অর্থে মহেশ ছিলেন একজন দ্রাবিড় রাজা। তিনি স্বদেশকে বিদেশি শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে পরাজিত হন। তাই বিজয়ী শক্তি তাকে অসুর বলে আখ্যায়িত করেছে। ভারতের উত্তরাঞ্চল দখল করে আর্যরা এই জনপদের নাম দিয়েছে আর্যাবর্ত। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা প্রমাণ করে ভারতের প্রাচীন সভ্যতা আর্যদের চেয়ে অনেক উন্নত ছিল। আর্যরা ছিল যাযাবর পশু শিকারি আর ভারতীয়রা ছিল গৃহী এবং উন্নত কৃষি কাজে পারদর্শী। আর্যরাই ভারতের প্রাচীন সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে।
ভারতে ইংরেজ শাসনকে হিন্দুরা বহুকাল আশীর্বাদ হিসেবে মেনে নিয়েছিল। দাদাভাই নওরোজী তার ‘পোভার্ট ইন ইন্ডিয়া’ বইতে ইংরেজ শোষণের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মুসলমানরা এ দেশকে নিজেদের মাতৃভূমি মনে করত। তারা কখনই এ দেশকে শোষণ বা লুণ্ঠন করেনি। হান্টার সাহেব বলেছেন, ইংরেজ শোষণের ফলে সোনার বাংলা শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। আর্যদের অনুদার সাহিত্য সংস্কৃতি ও মৌলবাদী ধর্মীয় অনুশাসন থেকে আধুনিক ভারত আজও মুক্ত হতে পারেনি। তাই সেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে আছে। অছ্যুত দলিত আর হরিজনদের ওপর হাজার বছর ধরে অমানবিক অত্যাচার অবিচার চলছে। হাজারো চেষ্টা করেও আধুনিক ভারতের প্রগতিশীল নেতারা মুক্ত হতে পারেনি।
সারা পৃথিবী যখন সব মানুষের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াইরত, ভারতের ধর্ম তখনও হরিজনদের শিক্ষার অধিকার মেনে নেয়নি। এসবই হচ্ছে ধর্মের তথাকথিত অনুশাসনের কারণে। ভারতের শাসনতন্ত্রের প্রণেতা বিখ্যাত জনদরদী নেতা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন একজন হরিজন হিসেবে। বিগত ৬০ বছরে কোনো হরিজন বা দলিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। ভারত ছাড়া বিশ্বের কোথাও মহাকাব্য বা মিথকে ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয় না। বাবরি মসজিদের রায় আবারও প্রমাণ করেছে ভারতের বিচারপতিরাও কাব্য মিথকে কল্পনাকে বাস্তব বলেই মনে করেন। অথচ এই দেশটাই একটা শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হতে চায়। এ দেশের ২০ কোটি মানুষ এখনও প্রতিদিন খেতে পায় না। সেদিকে ভারতের খেয়াল নেই। তারা ব্যস্ত আছে আণবিক বোমা তৈরির কাজে। এই ভারতই বিগত ৬০ বছর ধরে স্বদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষকে অসুর বানিয়ে বধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের দেবতারূপী তথাকথিত নেতারা কখনও কিছু বলেননি।
পাকিস্তানিরাও এক সময় ইসলাম ও মুসলমানিত্বের নামে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। শেষ পর্যান্ত ’৭১ সালে বাংলাদেশকে আক্রমণ করে লাখ লাখ নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে। বিশ্ব শান্তির নেতা ও উকিল আধুনিক বিশ্বের দেবতা অসুর বধের নামে ইরাক আক্রমণ করে সাদ্দামকে হত্যা করেছে। এখনও সেই দেশে দেশপ্রেমিক মানুষকে হত্যা করে চলেছে। আল-কায়েদা ও লাদেনকে খুঁজে বের করার নামে আফগানিস্তানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রতীকী হলেও দেবী দুর্গা মর্তে এসেছিলেন অসুরদের হত্যা করে মানুষকে রক্ষা করার জন্য। দুঃখের বিষয় হলো, পলাশীর যুদ্ধের পর কলকাতার রাজা মহারাজারা লর্ড ক্লাইভকে মুক্তিদাতা ও দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করে সংবর্ধনা দিয়েছে
#এরশাদ মজুমদার
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×