জয়িতা, অচেনা বাঙালি, ছায়ার আলো, িসহাব চৌধুরী, মনের কথা, প্রিয়তি, নীল সমুদ্র, তুষারমানব, পজিটিভ, বকলম, ৈকলাশ, েজবীন, অলস, রুধীণ, সুমি, অন্যরকম, মোসতফা মনির সৌরভ, মেহরাব শাহরিয়ার, রাশেদ, মানুষ, আহমেদ শারফুদ্দীন, বিহংগ, তানজিলা হক, মুকুল ভাই কে উৎসর্গ করলাম।
ভুলে ভরা ডাইরি - শেষ পর্ব
অনিচ্ছা সত্বেও মায়ের কাছে থেকে চিঠিটা নেয় পরী। খুব অবাক হয় রঞ্জন ভাইয়ের চিঠিটা দেখে। রঞ্জন ভাই নীলের খুব কাছের বন্ধু। কৌতুহলী হয়ে তারাতারি চিঠিটা খোলে পরী। রঞ্জন ভাই লিখেছে গত মাসের বাইশ তারিখে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে নীল। পরীকে লেখা একটি চিঠি নীলের পকেটে ছিল। সেটি পরীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন উনি।
এইটুকু পড়ার পর পরীর মনে হয় পৃথিবীর সব যেন শব্দ থেমে গেছে। একফোটা বাতাসের জন্য তার বুকটা মনে হয় ফেটে যাবে এখন। তারপর আর কিছু বলতে পারেনা পরী। চেতনা হারায় পরী।
এরপর প্রায় তিন মাস কেটে গেছে। সারাদিন রাত নীলের চিঠিটা নিয়ে বসে থাকে পরী। নীল লিখেছে...
পরী
তোমাকে কি বলে সন্মোধন করবো সেই চিন্তা করতে করতে অনেক ক্ষন ধরে কাগজ কলম নিয়ে বসে আছি। কোন কিছুই যেন যথার্থ মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে পৃথিবীর এমন কোন ভাষা নেই যা আমার বুকের এই মহাবোধকে ধারন করতে পারে। তারপর হঠাৎ মনে হলো তোমার এই সাধারন অথচ বিষ্ময়কর নাম নামটি ছাড়া যেন কোন কিছুই যথার্থ হতে পারেনা। তুমি হয়তো "বিষ্ময়কর" শব্দটি শুনে ইতিমধ্যে ভুরু কুঁচকে ফেলেছো। বিষ্ময়কর কেন বলবনা বলো, এই একটি নাম শুনলে আজও আমার মনে হয় এই একটি মাত্র শব্দ ছাড়া পৃথিবীতে আমি আর কোন ভাষা জানিনা। এই একটি নাম আজো আমার প্রতিটি রক্তবিন্দুকে পাড় মাতাল করে তোলে, মনে হয় অবলীলায় আমি তাজমহল দান করতে পারি কোন ভিখিরিকে।
জানি, হাসছো আমার কথা শুনে, ভাবছো কি বোকা ছেলেরে বাবা। হয়তো আমি বোকাই। বোকারাই পারে ভালবেসে সব দিয়ে দিতে। এত হিসেব কষেতো ভালবাসা যায় না। এ এমন এক অবুঝ অলৌকিক বোধ যা ছাড়া মানুষ কোনদিন হয়তো তার নিজেকে সত্বাকে চিনতে পারে না। শুধু তোমাকে ভালবেসে আমি উপলব্ধি করেছি জীবনের পরম সত্যকে। তাইতো হারানোর ভয় করিনা আর কোন কিছুকে।
তুমি কেমন আছো জানতে চাইবো না। আমি জানি তুমি ভাল আছো কারন আমার সারা জীবনের ভাল কাজটুকুর বিনিময়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে তোমার ভাল থাকা টুকু চেয়ে নিয়েছি। আর আমি? অনেক ভাল আছি। জাগতিক কোন দুঃখ কোনদিন আর আমাকে আর স্পর্শ করতে পারবে না।
এখন ভাবি, একদিন কত অবুঝ ছিলাম আমি। স্বপ্ন দেখতাম কোন পূর্ণিমা রাতে আমাদের ছোট্ট কুঠিরের উঠোনে খেলা করবে আমাদেরি ছোট ছোট দুটি নীল পরী। তখন সবকিছু চিন্তা করতাম আমার করে। তোমাকে ভালবেসে আজ আমি সেই ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাই সামনের মাসের সাত তারিখে একটি স্কুল মাষ্টারের চাকরি নিয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছি। আমার ভালবাসা দিয়ে সেখানে ফোটাতে চাই শত শত নীল পদ্ম।
নিজের প্রতি খেয়াল রেখো আর তোমার মাথা ব্যথার অষুধ খেতে ভুলে যেওনা কখনো। মন খারাপ হলে সন্ধ্যাতারাটিকে সব কিছু বলে দিও। আমি তার কাছে থেকে সব কিছু জেনে নেবো।
ইতি
নীলাভ
যতবার নীলের চিঠিটি পড়ে, ততবার চোখের পানিতে প্লাবিত হয় পরী। একটি মহৎ ভালবাসা একজনকে কতটা ঐশ্বর্যবান করে তোলে তা নীলকে দেখে বুঝেছে পরী। নিজেকে আজ তার নিঃশ্ব রিক্ত মনে হয়। নীল বলেছে...
ভালবেসে ভূল কোরো নাকো তুমি
ভূল করে একবার ভালোবেসো ।
তোমার নীল রংঙের তুলি দিয়ে
আঁচর কেট একবার
তাকে মূর্ত করে তুলো নাকো কখনো ।
পৃথিবীতে থাক না কিছু ভালবাসা
ঘাসফুল হয়ে --- তোমার আমার
শালিকের চোখ নিয়ে
জলছবি নয়, জলে আঁকা ছবি হয়ে...
কোনদিন যদি বুঁনো ফুলের গন্ধ
তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়...
সেদিন তার দেখা পাবে তুমি.. হয়তো
একটি ঘাস ফড়িং হয়ে তোমার পাশে ।
পৃথিবীতে সব ভালবাসা
ভালবাসা হয়না...
ভালবাসা পাখি হয়, নদী হয়
চোখের কাঁজল মেশানো নদী...
হয়তো তেমন ভালবাসাই চেয়েছিনু আমরা ।
আজ বসে বসে পরী ভাবে, নিজেকে সে এভাবে হেরে যেতে দেবেনা। নীলকে এভাবে চলে যেতে দেবেনা সে। নীলকে সে বাঁচিয়ে রাখবে, নীলের স্বপ্ন গুলকে পূর্ণতা দিয়ে। নীলের দেয়া ভালবাসাকে সে ছড়িয়ে দেবে, ছোট ছোট শিশুদের মুখের হাসি ফুটিয়ে তুলতে। অনেক দিন পর পরীর বুক থেকে মনে হয় একটা পাথরের বোঝা নেমে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


