আমার প্রিয় পোস্ট

কিচ্ছু বুঝি না

স্মৃতি

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:২২

শেয়ারঃ
0 0 0

মানুষের জীবনে কিছু ঘটনার প্রভাব এত তীব্র ভাবে পড়ে যেন সেই দুঃস্বপ্ন তার পিছু ছাড়ে না। নিজের অজান্তেই মানুষকে তা কতখনি বদলিয়ে দেয়, সেটা আমি আমার নিজের জীবনে দেখেছি।
কতইবা বয়স তখন, বিশ কিংবা একুশ। কিছুদিন পর দেশের বাহিরে চলে যাবো তাই সেগুলোই নিয়ে ব্যাস্ততায় দিন কাটে। এমনি একদিন হাতে কাজ না থাকায় রুমে বসে কি যেন একটা বই পড়ছিলাম। হঠৎ ভারি কিছু নিচে পড়ার শব্দ পেলাম। মনে করলাম হয়তো ছাদ থেকে কেউ কার্পেট ফেলেছে কেননা প্রায়ই অনেকে তাদের কার্পেট ছাদে রোদে দিতো এবং রোদে শুকানোর পর কার্পেট রোল করে নিচে ফেলেদিত। সেই ভেবে আমি আবার বইয়ের দিকে চোখ দিলাম। তার আগে বলে নেই আমাদের বিল্ডংটা এমন ভাবে বানানো যেন চারটি বিল্ডং বৃত্তাকারে একসাথে লাগানো এবং মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা যায়গা। অনেকটা শপিং কমপ্লক্সের মত। কিছুক্ষনপর নিচে থেকে হইচইয়ের আওয়াজ শুনে জানালায় এসে দাড়ালাম। কিন্তু নিচে জটলার কারনে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। তাই কি হয়েছে দেখার জন্য নিচে গেলাম। যেয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। দেখি সতের/আঠরো বছর বয়সের ফুটফুটে একটি মেয়ে পড়ে আছে। কোথাও এতটুকু ভাঙ্গেনি বা রক্ত বের হয়নি। একপায়ে এখনো একটা স্লিপার পরা। একজন কে পাঠালাম তার বাসায় খবর দিতে। দেখি তারি সমবয়সি আর একটি মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসছে। শুলালাম মেয়েটি তার ছোট বোন। তার বাসায় এখন কেউ নেই, শুধু সে ঘুমিয়ে ছিল।
অঝড় ধারায় কাঁদছিল মেয়েটি। দেরি না করে ড্রাইভারকে বললাম গাড়ী বের করতে। কোনমতে পিছনের ছিটে শুইয়ে নিয়ে গেলাম পাশের একটি ক্লিনিকে। আমাকে ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে তাকে ওরা ভিতরে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর ক্লিনিকের ডাক্তার বের হয়ে এসে বলে আমাদের এখানে হবে না, বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যান। আমি তাদের বললাম আমার গাড়ীতে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, আপনাদের এ্যাম্বুলেন্সটা দিন। তারা বলে ভাই এ্যাম্বুলেন্স দেয়া যাবেনা। আমি বললাম কেন দেয়া যাবে না? তখন বলে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এখন শুটিং হবে।
কি আর করা, আমার গাড়ীতেই কোন মত তুলে নিয়ে, জানলা দিয়ে চিৎকার করে রিকশা সরিয়ে গেলাম বাংলাদেশ মেডিকেল। ছোটবোনটা তখনো অনবরত কাঁদছিল। একদৌড়ে ইমার্জেন্সিতে যেয়ে একজান কে সাথে নিয়ে ট্রলি নিয়ে আসলাম। এরপর ট্রলি নিয়ে একছুট। যেয়ে দেখি ডাক্তার নাই। সারা হসপিটাল দৌড়াদৌড়ি করে তিনতলা থেকে ডাক্তারকে ধরে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার এসে বলে টিকেট করছেন? টিকেট না করলে দেখ সম্ভব না। তখন তাকে বললাম প্লিজ আপনি দেখেন আমি টিকেট করে নিয়ে আসছি। টিকেট করে নিয়ে আসার কিছুক্ষন পড় ডাক্তার বললো সরি, সি ইজ ডেড। কেমন যেন সব কিছু ফাঁকা লাগলো। বসে থাকলাম কিছুক্ষন। এর মধ্য ওর মা চলে এসেছে। তাকে জরিয়ে ধরে ছোট মেয়েটার কান্না শুনতে পারছিলাম শুধু। আর থাকতে পারছিলাম না, হাসপাতলের বাইরে এসে কি মনে করে কাগজ গুলো ছিড়ে ফেলেদিয়ে ড্রাইভারকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। একটা রিকশা নিয়ে এলোমেলো ভাবে ঘুরলাম সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসে দেখি মেয়েটির লাশ স্পোর্টস রুমে রেখে দিয়েছে। কেন জানি আর একবারো দেখতে যাইনি।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:২৭

লেখক বলেছেন: সরি :(

২. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩৮
রাফা বলেছেন: কষ্ট ,কষ্ট এবং কষ্ট।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:২৮

লেখক বলেছেন: :(:(:(

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: আসলেই আজব।

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: হুমমমমম :(

৫. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৪৫
রুবেল শাহ বলেছেন: মানুষ কতটা আবেগী হলে এমন করতে পারেরে-------- +

( এসে দেখি মেয়েটির লাশ স্পোর্টস রুমে রেখে দিয়েছে। কেন জানি আর একবারো দেখতে যাইনি।)
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩০

লেখক বলেছেন: কি বলবো বুঝতে পারছি না। ভাল থাকিস।

৬. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৪৫
মিরাজ বলেছেন: হাসপাতালগুলিতে প্রিয়জন নিয়ে কাছাকাছি একটি অভিজ্ঞতা আছে । পার্থক্য যে আমার প্রিয় একজন মানুষ মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে এসেছিলো ।

গুরুতর রোগী দেখার আগে টিকেট, রেজিষ্ট্রার এগুলির বাড়াবাড়ি অসহ্য রকমের যন্ত্রণাদায়ক ।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩২

লেখক বলেছেন: সেদিন বুঝেছি মিরাজ ভাই, কত দুঃখজনক এই ব্যাপার গুলো।

৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:০৭
কাকলী বলেছেন: মন খারাপ করে দেবার মত পোষ্ট ।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩২

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৯. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:১০
মশিউর রহমান মেহেদী বলেছেন: আসলেই মন খারাপ করে দেবার মত পোষ্ট । ছবিটাও ঠিক তাই । ছবিটা সেভ করে রাখলাম । আপত্তি না থাকলে হয়ত নিজের প্রোফাইলেও ইউজ করতে পারি ।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: কোন অসুবিধা নাই, ছবিটা সানন্দে ব্যাবহার করতে পারেন আর পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

১০. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:১৫
মেহেদী হাসান নাসিম বলেছেন: বুঝ পাইলাম না ।কি অইছিলো ।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: আমিও আজও বুঝিনি।

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: :(:(:(

১২. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৭
রাশেদ বলেছেন: হায়রে! আজব দুনিয়া!
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: হায়রে দুনিয়া কিসরো লাগিয়া কত যত্নে বানাইলাম ঘর।

১৩. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৩৯
প্রিয়তি বলেছেন: সবার মত বলবো না মন খারাপ হয়ে গেছে, কিন্তু যেটা না বললেই নয়, মেয়েটাকে বাচানোর যে তীব্র চেষ্টা ছিল সেটাই মনটা ছুয়ে গেছে।
হাসপাতালের এমবুলেন্স দিয়ে শুটিং চলে, তো ওরা ছিনেমায় যোগ দিলেই পারে, চিকিৎসার নামে শুধু ফাইজলামি।মেয়েটা হয়ত বেচেই যেত যদি হাসপাতাল গুলো অবহেলা না করতো।


৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪৪

লেখক বলেছেন: কি আর করবো বলো। কাকে দোষ দিবো। দোষ মেয়েটার ভাগ্যের। এভাবেই আমাদের দেশটা চলে।

১৪. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪১
রাশেদ বলেছেন: এটা কি স্মৃতি থেকে লেখা, নাকি অন্য কিছুর রূপক?
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪২

লেখক বলেছেন: এটা স্মৃতি থেকে লেখা একটি সত্যি ঘটনা।

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: :(

১৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: মন খারাপ করার মত পোষ্ট।
খুবই দুঃখজনক।
সেদিন এ্যম্বুলেন্সটা পেলে কিংবা ডাক্তার ঠিকমত থাকলে আর রেজিস্টারের ঝামেলা না থাকলে হয়ত সে মেয়েটি বেঁচে যেত। আফসোস....:(
ভালো থাকুন।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন পড়ার জন্য। কি আর বলবো... মেয়েটির ভাগ্যের দোষ দেয়া ছাড়া।

১৮. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩
ছায়ার আলো বলেছেন: ভাইরে, গাড়িতে করে নিয়ে গেসো তাইই এই ব্যাবহার...চিন্তা করো গরীব মানুষের সাথে এরা কি করে! :(
১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৬

লেখক বলেছেন: সেটাই চিন্তা করি ছালু। অসহায় লাগে।

২১. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:০০
চিকনমিয়া বলেছেন: শুভ নববর্ষ! নান্দু:)
২২. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৩১
েজবীন বলেছেন: নতুন কিছু স্বপ্ন নতুন কিছু চাওয়া
নতুন কিছু আনন্দ নতুন কিছু পাওয়া
নতুন কিছু হাসি নতুন কিছু আশা
মুছে দিক সকল কষ্ট আর হতাশা

শুভ নববর্ষ.....:):):)
২৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:৩৩
নিহন বলেছেন: শুভ বাংলা নববর্ষ-১৪১৫
২৪. ০৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯
প্রীটি সোনিয়া বলেছেন: হুমমম ... মেয়েটার জন্য আর হাসপাতাল গুলোর জন্য কোন কিছু বলার নাই।

তবে আপনার যে তাকে বাঁচানোর তীব্র চেষ্টা ছিল যে সহানুভূতি ছিল যে আবেগটা ছিল সেটার জন্য ++++++ আর একটা সেলিউট।আমাদের সবার মধ্যে এই অনুভূতিটা থাকা অনেক অনেক দরকার।

ভালো থাকবেন।
০৫ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৪৭

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সোনিয়া, ভাল থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৮১৬৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
I dont want the world 2see me, Cause I don´t think they´d understand,When everything´s made 2 b broken,just want u...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই