আমার প্রিয় পোস্ট
- সাদা - রাগ ইমন
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- একজন ব্লগারের নিষ্ঠা ও আমাদের নির্লিপ্ততার আক্কেল সেলামি - রাগ ইমন
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- মা'কে বলিস--এল আর বি - রাশেদ
- আমার হাতে এক পেয়ালা দেবদারুর ছায়া - বিষাক্ত মানুষ
- নির্বাসন ..... (ওয়ারফেজ) - বিষাক্ত মানুষ
- আর রেখোনা আঁধারে আমায়; দেখতে দাও... (প্রসঙ্গঃ আরজ আলী মাতুব্বর-এর ধর্মদর্শন) - কানা বাবা
- ইন্টারনেটে "স্যামসদ" ডিকশনারী - তাজুল ইসলাম মুন্না
- সেই সব মা জননীদের আমাদের প্রনাম - ইরতেজা
- হাসির ঝুলি-২
(ক্লোজআপহাসি) - তুষারমানব
- কবর - সুমি
- একটি কবিতা হয়ে যাক... - সমকালের গান
- ঝেঁপে আসা চোখের জল তবুও গাল ভরিয়ে ঝরে পড়ে - মৃন্ময় আহমেদ
- অনলাইনে রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান। বাংলায় - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- ঝামেলামানুষ-২; ভ্যলেরি টেইলর, আপনাকে - জানালা
- নারীকে ক্ষমতাহীন করেছে একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা-১ (উত্সর্গঃ জামাল ভাস্কর) - দীক্ষক দ্রাবিড়
স্মৃতি
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:২২
মানুষের জীবনে কিছু ঘটনার প্রভাব এত তীব্র ভাবে পড়ে যেন সেই দুঃস্বপ্ন তার পিছু ছাড়ে না। নিজের অজান্তেই মানুষকে তা কতখনি বদলিয়ে দেয়, সেটা আমি আমার নিজের জীবনে দেখেছি।
কতইবা বয়স তখন, বিশ কিংবা একুশ। কিছুদিন পর দেশের বাহিরে চলে যাবো তাই সেগুলোই নিয়ে ব্যাস্ততায় দিন কাটে। এমনি একদিন হাতে কাজ না থাকায় রুমে বসে কি যেন একটা বই পড়ছিলাম। হঠৎ ভারি কিছু নিচে পড়ার শব্দ পেলাম। মনে করলাম হয়তো ছাদ থেকে কেউ কার্পেট ফেলেছে কেননা প্রায়ই অনেকে তাদের কার্পেট ছাদে রোদে দিতো এবং রোদে শুকানোর পর কার্পেট রোল করে নিচে ফেলেদিত। সেই ভেবে আমি আবার বইয়ের দিকে চোখ দিলাম। তার আগে বলে নেই আমাদের বিল্ডংটা এমন ভাবে বানানো যেন চারটি বিল্ডং বৃত্তাকারে একসাথে লাগানো এবং মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা যায়গা। অনেকটা শপিং কমপ্লক্সের মত। কিছুক্ষনপর নিচে থেকে হইচইয়ের আওয়াজ শুনে জানালায় এসে দাড়ালাম। কিন্তু নিচে জটলার কারনে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। তাই কি হয়েছে দেখার জন্য নিচে গেলাম। যেয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। দেখি সতের/আঠরো বছর বয়সের ফুটফুটে একটি মেয়ে পড়ে আছে। কোথাও এতটুকু ভাঙ্গেনি বা রক্ত বের হয়নি। একপায়ে এখনো একটা স্লিপার পরা। একজন কে পাঠালাম তার বাসায় খবর দিতে। দেখি তারি সমবয়সি আর একটি মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসছে। শুলালাম মেয়েটি তার ছোট বোন। তার বাসায় এখন কেউ নেই, শুধু সে ঘুমিয়ে ছিল।
অঝড় ধারায় কাঁদছিল মেয়েটি। দেরি না করে ড্রাইভারকে বললাম গাড়ী বের করতে। কোনমতে পিছনের ছিটে শুইয়ে নিয়ে গেলাম পাশের একটি ক্লিনিকে। আমাকে ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে তাকে ওরা ভিতরে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর ক্লিনিকের ডাক্তার বের হয়ে এসে বলে আমাদের এখানে হবে না, বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যান। আমি তাদের বললাম আমার গাড়ীতে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, আপনাদের এ্যাম্বুলেন্সটা দিন। তারা বলে ভাই এ্যাম্বুলেন্স দেয়া যাবেনা। আমি বললাম কেন দেয়া যাবে না? তখন বলে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এখন শুটিং হবে।
কি আর করা, আমার গাড়ীতেই কোন মত তুলে নিয়ে, জানলা দিয়ে চিৎকার করে রিকশা সরিয়ে গেলাম বাংলাদেশ মেডিকেল। ছোটবোনটা তখনো অনবরত কাঁদছিল। একদৌড়ে ইমার্জেন্সিতে যেয়ে একজান কে সাথে নিয়ে ট্রলি নিয়ে আসলাম। এরপর ট্রলি নিয়ে একছুট। যেয়ে দেখি ডাক্তার নাই। সারা হসপিটাল দৌড়াদৌড়ি করে তিনতলা থেকে ডাক্তারকে ধরে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার এসে বলে টিকেট করছেন? টিকেট না করলে দেখ সম্ভব না। তখন তাকে বললাম প্লিজ আপনি দেখেন আমি টিকেট করে নিয়ে আসছি। টিকেট করে নিয়ে আসার কিছুক্ষন পড় ডাক্তার বললো সরি, সি ইজ ডেড। কেমন যেন সব কিছু ফাঁকা লাগলো। বসে থাকলাম কিছুক্ষন। এর মধ্য ওর মা চলে এসেছে। তাকে জরিয়ে ধরে ছোট মেয়েটার কান্না শুনতে পারছিলাম শুধু। আর থাকতে পারছিলাম না, হাসপাতলের বাইরে এসে কি মনে করে কাগজ গুলো ছিড়ে ফেলেদিয়ে ড্রাইভারকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। একটা রিকশা নিয়ে এলোমেলো ভাবে ঘুরলাম সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসে দেখি মেয়েটির লাশ স্পোর্টস রুমে রেখে দিয়েছে। কেন জানি আর একবারো দেখতে যাইনি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তানজিলা হক বলেছেন:
মন খারাপ করায় দিলা।
লেখক বলেছেন: সরি ![]()
রাফা বলেছেন:
কষ্ট ,কষ্ট এবং কষ্ট।
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আজব দুনিয়া।
লেখক বলেছেন: আসলেই আজব।
লেখক বলেছেন: হুমমমমম ![]()
রুবেল শাহ বলেছেন:
মানুষ কতটা আবেগী হলে এমন করতে পারেরে-------- +( এসে দেখি মেয়েটির লাশ স্পোর্টস রুমে রেখে দিয়েছে। কেন জানি আর একবারো দেখতে যাইনি।)
লেখক বলেছেন: কি বলবো বুঝতে পারছি না। ভাল থাকিস।
মিরাজ বলেছেন:
হাসপাতালগুলিতে প্রিয়জন নিয়ে কাছাকাছি একটি অভিজ্ঞতা আছে । পার্থক্য যে আমার প্রিয় একজন মানুষ মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে এসেছিলো । গুরুতর রোগী দেখার আগে টিকেট, রেজিষ্ট্রার এগুলির বাড়াবাড়ি অসহ্য রকমের যন্ত্রণাদায়ক ।
লেখক বলেছেন: সেদিন বুঝেছি মিরাজ ভাই, কত দুঃখজনক এই ব্যাপার গুলো।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মশিউর রহমান মেহেদী বলেছেন:
আসলেই মন খারাপ করে দেবার মত পোষ্ট । ছবিটাও ঠিক তাই । ছবিটা সেভ করে রাখলাম । আপত্তি না থাকলে হয়ত নিজের প্রোফাইলেও ইউজ করতে পারি ।
লেখক বলেছেন: কোন অসুবিধা নাই, ছবিটা সানন্দে ব্যাবহার করতে পারেন আর পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমিও আজও বুঝিনি।
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
রাশেদ বলেছেন:
হায়রে! আজব দুনিয়া!
লেখক বলেছেন: হায়রে দুনিয়া কিসরো লাগিয়া কত যত্নে বানাইলাম ঘর।
প্রিয়তি বলেছেন:
সবার মত বলবো না মন খারাপ হয়ে গেছে, কিন্তু যেটা না বললেই নয়, মেয়েটাকে বাচানোর যে তীব্র চেষ্টা ছিল সেটাই মনটা ছুয়ে গেছে।হাসপাতালের এমবুলেন্স দিয়ে শুটিং চলে, তো ওরা ছিনেমায় যোগ দিলেই পারে, চিকিৎসার নামে শুধু ফাইজলামি।মেয়েটা হয়ত বেচেই যেত যদি হাসপাতাল গুলো অবহেলা না করতো।
লেখক বলেছেন: কি আর করবো বলো। কাকে দোষ দিবো। দোষ মেয়েটার ভাগ্যের। এভাবেই আমাদের দেশটা চলে।
রাশেদ বলেছেন:
এটা কি স্মৃতি থেকে লেখা, নাকি অন্য কিছুর রূপক?
লেখক বলেছেন: এটা স্মৃতি থেকে লেখা একটি সত্যি ঘটনা।
রাশেদ বলেছেন:
হোকে।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
কষ্ট পাইলাম।+
লেখক বলেছেন: ![]()
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
মন খারাপ করার মত পোষ্ট।খুবই দুঃখজনক।
সেদিন এ্যম্বুলেন্সটা পেলে কিংবা ডাক্তার ঠিকমত থাকলে আর রেজিস্টারের ঝামেলা না থাকলে হয়ত সে মেয়েটি বেঁচে যেত। আফসোস....
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন পড়ার জন্য। কি আর বলবো... মেয়েটির ভাগ্যের দোষ দেয়া ছাড়া।
লেখক বলেছেন: সেটাই চিন্তা করি ছালু। অসহায় লাগে।
রাশেদ বলেছেন:
শুভ নববর্ষ!
তানজিলা হক বলেছেন:
নববর্ষের শুভেচ্ছা
েজবীন বলেছেন:
নতুন কিছু স্বপ্ন নতুন কিছু চাওয়ানতুন কিছু আনন্দ নতুন কিছু পাওয়া
নতুন কিছু হাসি নতুন কিছু আশা
মুছে দিক সকল কষ্ট আর হতাশা
শুভ নববর্ষ.....
নিহন বলেছেন:
শুভ বাংলা নববর্ষ-১৪১৫
প্রীটি সোনিয়া বলেছেন:
হুমমম ... মেয়েটার জন্য আর হাসপাতাল গুলোর জন্য কোন কিছু বলার নাই।তবে আপনার যে তাকে বাঁচানোর তীব্র চেষ্টা ছিল যে সহানুভূতি ছিল যে আবেগটা ছিল সেটার জন্য ++++++ আর একটা সেলিউট।আমাদের সবার মধ্যে এই অনুভূতিটা থাকা অনেক অনেক দরকার।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সোনিয়া, ভাল থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














.jpg)

