somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রাখালী কাব্য
অনেক দিন আগে, কোন গল্প শোনা রাতে
দাদিমা শোনাতো মোরে ঘুম পাড়ানোর সাথে।
একটি রাখার ছেলে আর একটি রাখালি মেয়ে
ভালবেসে ছিল তারা সবটুকু দিয়ে।

চড়িয়ে ভেড়ার পার আর গেয়ে গান
রাখার জুরাতো সেই রাখালীর প্রান।
পাহাড়ের কোলে সেই ছোট সবুজ গাঁয়
ছোট ছোট সুখ নিয়ে তাদের দিন কেটে যায়।

এমনি কত রুপার মত শরতের রাতে
রাখালীর মাথা রেখে রাখালের কাঁধে,
হয়েছে ভোর কত স্বপ্ন চোখে নিয়ে
ভরবে উঠোন তাদের সোনালী ফসল দিয়ে।

টুকটুকে লাল শাড়ী আর নাকফুল পড়ে
রাখালী আসবে সেদিন রাখালের ঘরে।
ঘড় আলো করে আসবে কচি দুটো মুখ
এমনি স্বপ্নে ভরে থাকে রাখালির বুক।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28862360 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28862360 2008-10-31 04:11:35
চ্যাটিং-এর ব্যাটিং ( ৮ জন ব্লগারের লেখা গল্প) (এই লেখাটি ৮ জন ব্লগারের মিলিত লেখা। এর প্রতিটি প্যারা একজন করে ব্লগার লিখেছে। এখন আপনাদের বলতে হবে কোন প্যারা কে লিখেছে। বিজয়ীকে কুলুজআপ১ ঘোষনা করা হবে এবং তার জন্য পুরস্কার হিসাবে থাকছে একটি লেটেষ্ট মডেলের বিএমডাব্লি্উ গাড়ী মোছার গামছা ও গাবতলি টু সায়দাবাদ চিটিং সার্ভিসের রিটার্ন টিকেট।)

লেখকরা হলেন : জেবীন, বিষাক্ত মানুষ, তানজিলা হক, রাশেদ, মাথামোটা, নাদান, আউলা এবং মানুষ।



মুবিন আজ সারাদিন বিডিচ্যাটে বসে আছে এই আশায় যে, যদি কোন 'মুরগি' পাওয়া যায়। কিন্তু লিষ্ট ধরে সবগুলো মেয়ে নিক গুলোকে নক করেও এখন পর্যন্ত একজনেরও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বলে এখনো আশা হারায়নি সে। মনে মনে যদিও অনেক বিরক্ত। ভাবছে বিডি চ্যাটে আসলেই সব মেয়ের যেন ভাব বেড়ে যায়। এর মধ্য মা এসে কয়েক বার খেতে ডেকে গেছে। ইউনিভার্সিটির জরুরি প্রজেক্ট করছে বলে মহা বিরক্ত হয়ে মাকে বিদায় করেছে। অবশেষে বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিড়ে- রিমি নামের এক মেয়ে তাকে 'হাই' বলে। একম সময়ে দোস্তের ফোন- বলে চল বেইলি রোড থেকে একটা ফিল্ডিং দিয়ে আসি। ফোন ধরে ব্যাস্ত ভাবে মুবিন বলে দোস্ত বাড়ি ভর্তি মেহমান, আইজ যাইতে পারুম না। তোর লগে পড়ে কথা কমু। এই বলে ফোন রেখে দেয়।

লাল কফির মগটা টেবিলে রেখে মুবিন চেয়ারে বসে , মুখে একচিলতে হাসি তার । মাথার উপর পাখা ঘুরছে তবুও শিহরন বয়ে গেলো মুবিনের শরীরে, বুকের ভিতর একটু দুরুদুরু করছে , যাক অবশেষে শিকে ছিড়লো তাহলে । তবে মনে একটু সন্দেহ করলো - ছেলে না তো আবার !
দেখি আগে যাচাই করে ..
কথা শুরু করার আগে মুবিন গুছিয়ে নেয় কিভাবে শুরু করা যায় !
নিজেকে একটু স্মার্ট হিসেবে দেখাতে হবে । মোটেও ছ্যাবলামো করা যাবে না ।
একটু সময় নিয়ে মুবিন কিবোর্ডে হাত চালালো ---

-হ্যালো !

-হাই

-কেমন আছেন?

-আমি কেমন আছি জাইন্না তোর লাভ কি?

-এমনি জিগেস করছিলাম আর কি?

-খাইয়া কাজ নাই তোর মাইয়া নিক দেখলেই লাফায় পরছ!!!

-ছি আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?

-তয় কেমনে কমু?

-ভদ্র ভাবে বলুন

-তুই আমারে ভদ্রতা শিখানের কে রে?

-আপনি আবার খারাপ ব্যবহার করছেন।

-ভালা না লাগলে ভাগ।কানের সামনে ঘ্যন ঘ্যন করছ কেন?

-আপনিত ইচ্ছে করলে ভালো ভাবে কথা বলতে পারেন

-বলুম না।তুই কি করবি?

-আপনি আবার খারাপ ব্যবহারি করছেন।

সাথে সাথে আফ লাইন হয়ে গেল মেয়েটা

টিনএজ মেয়েদের মত আচরনটা করলো অর্পিতা, ইদানিং কালের ওরা এইযে বাজে ব্যবহার টাকেই “অস্ত্র” মানে । মানুষ আকর্ষন করার হাতিয়ার । ভালো ব্যবহার আজকাল মানুষকে কাছে টানে না, সবাই চায় নতুন কিছু । আসলে সীমা ছাড়িয়ে কল্পনার স্বপ্নটা প্রবল আকর্ষন করে আমাদের ।

এই নিয়ে হাতে গোনা কয়দিন ঢু দিয়েছে চ্যাটরুমে, আজ তো ম্যালা দিন পর । সাধারনত কেউ নক করলে উত্তরও দেয় না । ও কি তবে নাক উঁচা ! আতেল জাতীয় কিছু ! কিন্তু বন্ধুদের কেউ বলতে পারবে না অমন কথা সে বিশ্বাস আছে । আসলে এই চ্যাটিং জাতীয় ব্যপারটায় অভ্যস্ত হয়ে উঠে নি ও । শুধুই সময়ক্ষেপনের জন্য শুরু করা । নাকি নানান মানুষের নানান ঘটনা জানতে পারার উপায় এটা ? যেসব ঘটনার অনেকটাই মনগড়া , তাও কিছু কিছু মানুষ মন ছুয়েঁ যায় । তবে আজ যে চ্যাটিং করার স্বাভাবিকরীতি “ur asl plz” এই কথাটা দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । কি অনায়াসেই না মিথ্যা বলা যায় এর জবাবে , সেটা তো যে কেউ জানে আর কারো সাথে বলার জন্যে এই অনর্থক চিরাচরিত মিথ্যা বলাই বা কেন !

কেন এমন করলো অর্পিতা নিজেও জানে না, কারন সেতো টিনএজ কেও না। মুবিনের নিকটা দেখে মজা লাগছিল. অর্পিতা বলতে চেয়েছিল, শোন.. তোমার একটা 'আই' বাদ গেছে, হবে "মুই বিন"!! মজা করার মুডে ছিল ও, তবুও... কেন জেন মবে হচ্ছে ছেলেটা আবার নক করবে। আসলে বাজে ব্যাবহারের থিওরিতো তাই বলে!! দেখি না কি হয়!! শুধু মজা নেবার জন্যে এমন করতে গিয়ে, শুরু করা ব্যাপারটা নিজেরি খারাপ লাগলো। অর্পিতা কি আর কথা বলবে ওর সাথে? ক্ষমা চাইবে?

অর্পিতা মনে মনে হাসে বিডিচ্যাটের ছেলেদের কাঙাল অবস্থা দেখে। এদের জন্য সাইটে লগইন করাই দায়। মিনিটে দশটা hi আর asl plz উইন্ডো ওপেন হতে থাকে। এই অফিসে আবার চ্যাটিং করা মানা। মার্কেটিং এর গাট্টু বস টা আবার একটু পর পর সবার পেছন থেকে উকি দেয়।

হটাৎ ওর মাথায় নতুন একটা বুদ্ধি ঝিলিক দিয়ে ওঠে। এবার বিডিচ্যাট ওপেন করে সে মুবিন_ঢাকা নামে লগইন করে। দশ মিনিট পরেও কোনো asl plz বা hi রেসপন্স না পেয়ে খুশী হয়ে ভাবে, যাক এবার তাহলে রোমিও উৎপাত কমলো।


এইবার অর্পিতা শান্তিমনে একটা মেয়ে নিক কে নক করলো....সাথে সাথেই রেসপন্স পেল। মেয়েটার সাথে কথপোকথনের শুরুতেই asl জিজ্ঞেস করলো। মেয়েটা টিনএজ। যখন মেয়েটা অর্পিতাকে asl জানতে চাইলো অর্পিতা তার আসল সবকিছু বলে ফেললো্। সাথে সাথেই ওপাশের মেয়েটা তাকে রেসপন্স করা বন্ধ করে দিলো।

এইবার অর্পিতা অনেকগুলো ছেলেকে নক করলো কিন্তু কেউ সাড়া দিল না। অর্পিতা এইবার বাজ, অডিবলস দিয়ে বিরক্ত করতে লাগলো কিছু ছেলে নিক কে। এইবার ছেলেগুলো তাকে গালিগালাজ শুরু করলো।
অর্পিতা ভয়ে চ্যাটরুম থেকে বের হয়ে দেখলো পাশে বস দাড়িয়ে.....

এদিকে মুবিন বিষন্ন মুখে বিড়ি ধরাইছে। কেবল দুইটা টান দিছে, দরজায় নক। বিরক্তমুখে বিছানার কোনা দিয়ে বিড়িটা লুকিয়ে দরজা খুললো। দেখে বাপ দাঁড়িয়ে আছে। বাপ জিজ্ঞাসা করলো বাড়ির বিল দিয়েছে নাকি। মুবিন বিড়বিড় করে বলে, কালকে দেবো!মনে মনে ভাবে, আবার ধার করতে হবে মনে হচ্ছে। সেই টাকাগুলো দিয়ে ওয়েবক্যাম কিনে আনছে একটা। বাপ গজগজ করতে করতে চলে যাওয়ার পরে আবার দরজা বন্ধ করে বিড়িতে টান দিতে দিতে চ্যাট এ বসলো। এবার ভাব ধরা যাবে না চিন্তা করে অন্য একটা মেয়েকে নক করে।পুনরায় গতানুগতিক কথোপকথন

-হাই

-হ্যালো

-এ এস এল প্লীজ

-১৯ এফ বিডি

-এ এস এল?

ওপাশ থেকে ভেসে আসা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও মুবিন থেমে গেল। বিরক্ত লাগছে। বিগত পাঁচ বছর ধরে একইভাবে শুরু হওয়া কথোপকথন আজকাল আর তাকে টানছে না তেমন। আসলে চ্যাটিং করতে করতে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে কোনটার পরে কি কথা হবে মোটামুটি একটা ধারনা করে ফেলতে পারে সে আগে থেকেই। শুধু রিমি নামক আইডিটার কোন মতি গতি বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশের কোন মেয়ের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ আশা করা যায় না, সূতরাং মুবিন ধরে নিল এই নিকের আড়ালে কোন ছেলে রয়েছে।


ওদিকে অর্পিতা মনে মনে ঝাড়ি খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাকে অবাক করে দিয়ে বস বললে বসল,

-দুষ্টু বালিকাদের মতো আচরণ ঠিক না।

-মানে?
অর্পিতা বসের মতিগতি বুঝতে পারছে না।

-এই যে আপনি ছেলে সেজে ছেলেদের জ্বালাচ্ছেন এটা ঠিক না।
কথাটা বলেই বস হাঁটা দিল। আজকেও ব্যাটা সাকুরা থেকে দু-পেগ মেরে এসেছে, মনে মনে ভাবলো অর্পিতা।

কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থেকে কি মনে করে আবার মুবিন কে নক করল সে,

-হাই এগেন

-হাই

-দেখুন আপনার সাথে বাজে ব্যাবহার করার জন্য দুঃখিত

-ইটস ওকে

-আপনাকে একটা কথা বলার জন্য আবার নক করলাম

-কি কথা?

-আপনার নামের বানানে একটা “I” বাদ পড়েছে। বানানটা হবে “MUI BIN”।

অর্পিতাকে ইজ্ঞি মারলো মুবিন। এখন সে নিশ্চিত এটা একটা ছেলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28853590 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28853590 2008-10-11 23:30:39
জীবন যখন থমকে দাঁড়ায় পৃথিবীকে এই টকু অনুরোধ হায়! উপহাস কররো না নিয়ে হৃদয়, দেবদাশ বলোনা আমায়। যারা এমন একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায় তাদের এই সময়ের থেকে বের হয়ে আসার জন্য কয়েটি টিপস।

১। প্রথমে চিন্তা করুন সম্পর্কটা কেমন করে ভেঙ্গে গেল এবং কেন ভেঙ্গে গেল। আপনাকে একটা বিষয়ে খুব ভাল ভাবে পরিস্কার হতে হবে যে, এটা আপনার একার কোন দোষ না অথবা এখানে আপনার কোন দোষই ছিল না। আপনি যখন এটা চিন্তা করবেন তখন এটা আপনার কাছে সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে যে একটি সম্পর্ক তৈরী করতে দুইজন মানুষের দরকার হয় কিন্তু এটা ভেঙ্গে ফেলতে একজন নীতিহীন মানুষই যথেষ্ট। এই চিন্তা গুলি হয়তো ভবিষ্যতে আপনাকে আবার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বাঁচাবে।

২।আপনার কষ্টগুলোকে উপেক্ষা করবেন না। যদি আপনার কাঁদতে ইচ্ছে করে তবে মন খুলে কাঁদুন। কষ্ট পাওয়া, নিজেকে একদম একা মনে করা, জীবনের সব কিছু ওলট পালট হয়ে যাওয়া, এসব আপনার মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে যে আপনার নিজেরও একটু হাত ছিলো সেটা ভাবা কিন্ত অন্যায় নয়। তবে এটা আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে যে, এপনি আসলেই একজন ভাল মানুষ এবং আপনার সাথে যা করা হয়েছে সেখানে আপনার করার তেমন কিছুই ছিল না। তবে এটুকু যদি স্বীকার করেন যে আপনিও এর কিছুটা হলেও দায়ী তাহলে সব কিছু ভুলে যেতে আপনারই সুবিধা হবে।

৩। তার সাথে সব যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করেদিন। অবশ্যই দেখা করবেন না। ফোন, ম্যাসেন্জার সবকিছু থেকে তাকে মুছেদিন। অনেক সময় আমরা বলি যে, আমরা ভাল বন্ধু হয়ে থেকে যাবো। এই কাজটি কখনো করতে যাবেন না। যতদিন পর্যন্ত না তাকে আর দশটা মানুষের মত ভাবতে পারবেনা ততদিন কোন যোগাযোগ করবেন না।

৪। সবকিছু মাথা দিয়ে চিন্তা করুন। যতবার খুশি যুক্তি দিয়ে এটা চিন্তা করুন ঠিক কোন কোন কারনে এই সম্পর্কটা টিকেনি। চিন্তা করলে দেখবেন এর পিছনে নিশ্চয় কোন একটা কারন আছে যেটা অদৌ ভাল কিছু না। আপনি হয়তো তার সাথে কিছু ভাল সময় কাটিয়েছেন কিন্তু শুধু এটাই একটা সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট না। সত্যিকার ভাবেই এই সম্পর্ক আপনার জন্য ভাল কিছুই বয়ে নিয়ে আসতো না।

৫। আপনার রাগ ও ঘৃনা গুলোকে মোকাবেলা করুন। এই সময়টা আপনি রাগে অন্ধ হয়ে থাকবেন। এটাই স্বাভাবিক। আপনার এই রাগ বা ঘৃণা কতটা তীব্র হবে এবং কতদিন এটা আপনাকে ভোগাবে তা নির্ভর করে কখন, কোথায় এবং কিভাবে আপনাদের ছাড়াছাড়িটা হয়েছে তার উপড়। আপনার জীবনের এই সময় গুলো নষ্ট করে দেবার জন্য তাকে শাস্তি দিতে ইচ্ছা করবে। মনে হবে আপনি এটা কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না। নিজেকে ঘৃনা করতে ইচ্ছা হবে। প্রথমে আপানর এই অনুভূতি গুলোকে ঝেটিয়ে বিদায় করুন। যাকে আপনি কোন ভাবেই ঠিক করতে পারেনি তার উপড় রাগ করে নিজেকে ছিন্নভিন্ন করার কোন মানে হয়না।

৬। ভাল বন্ধুদের সাথে কথা বলুন। একজন ভাল বন্ধু সব সময়ই আপনাকে বুঝবে। সব সময় তাদের আশেপাশে থাকুন যারা আপনাকে ভালবাসে, যারা আপননাকে বুঝতে পারে। তাদের ভালবাসায় আপনি আবার বুঝবেন আপনি একা নন। আপনাকে সবাই ভালবাসে এবং আপনি ভালবাসা পাওয়ার মত একজন মানুষ।

৭। আপনার অনুভূতি গুলোকে লিখুন। গল্প, কবিতা, নিজের ভাবনা, অনুভূতি যা ইছে করে তাই লিখুন কিন্তু নিজের অনুভূতি গুলোর সাথে সৎ থাকবেন। কে কি মনে করলো তাতে কিছু আসে যায় না। এক সময় আপনি অবাক হয়ে লক্ষ করবেন আপনি আপনার নিজের জীবন থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু শিখছেন। জীবনে একটা সম্পর্ক টিকেনি তার মানে এই না যে, আপনি জীবনে যা হতে চান সেটার রাস্তায় এটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। জীবনের ভুল থেকে শেখার রাস্তা কখনো বন্ধ করবেন না।

৮। সব কিছু একদম পরিস্কার করে ফেলুন। একটার শেষ মানেই আর একটা নতুন জীবনের শুরু। নিজের সব কিছু পরিস্কার করে নতুন কিছু আসবার জায়গা করে দিন। উপহার, চিঠি, ছবি সহ যা কিছু আছে সবকিছু একেবারে নষ্ট করে ফেলুন। এগুলো আপনাকে শুধু একই জায়গার বন্দি করে রাখার চেষ্টা করবে। আপনি আপনার মুক্ত চলার পথে এগুলোকে কখনো বাধা হয়ে আসতে দিবেন না।

৯। সময় কে উপভোগ করুন। অনেক সময় কিছু জিনিষ আছে যেমন কিছু গান বা কোন জায়গা বা কোন ছবি যা আপনাকে আপনার পুরোনো সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেবে যা আপনাকে অনেক মনকে আরও খারাপ করে দেবে। সেগুলোকে পাত্তা না দিয়ে সময়টাকে উপভোগ করুন। সেই খারাপ স্মৃতির গুলোকে বদলে ফেলে নতুন স্মৃতি তৈরী করুন ভবিষ্যতের জন্য।

১০। জীবনের সবখানে আনন্দ খুজে নিন। সেটা হতে পারে বন্ধুদের সথে আড্ডা দেয়া, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা ভাল কোন বই পড়া বা সিনেমা দেখা। যে কোন কিছুই হতে পারে। আপনার সব চেয়ে ভাল প্রতিশোধ নেয়া হবে নিজে সবচেয়ে ভাল থাকা।

১১। কখনো নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখবেন না। নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন। নিয়মিত শরীর চর্চা করুন। প্রতিদিন সময় করে কিছু সময় দৌড়ান অথবা খেলাধুলা করুন। এগুলো আপনার মনকে একদম ফ্রেস রাখবে আর আপনার রাগ ঘৃণা গুলোকেও আস্তে আস্তে কমিয়ে দেবে।

১২। যেতে দিতে শিখুন। যে চলে গেছে তাকে নিয়ে মন খারাপ করে থাকার কোন মানে হয় না। হয়তো তার সাথে আপানার অনেক কিছু মিল ছিল বা তার অনেক কিছু আপনার ভাল লাগতো। নিজেকে অভিনন্দিত করেন যে আপনি তাকে ভালবেসে ছিলেন কিন্তু সেটা সে ধরে রাখতে পারেনি। এটা তার ব্যার্থতা। আপনি ভালবেসে যে কোন জনকেই সুখী করতে পারবেন। হয়তো এইবার আপনার ভালবাসা আপনাকে কিছু দেয়নি কিন্তু হয়তো পরের বার আপনি আপানার সত্যিকার ভালবাসা খুজে পাবেন।

১৩। সময় নিন। এমন একজনকে খুজুন যাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন এবং যার কাছে গেলে মনটা ভাল হয়ে যায়। এতে যত সময় লাগে লাগুক। একজন ভুল মানুষের সাথে থাকার চেয়ে একা থাকা অনেক ভাল। হয়তো একদিন আপনি আপনার জন্য সঠিক মানুষটি খুজে পাবেন।

১৪। সব কিছু ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন। আপনি এখন স্বাধীন, অতএব আপনি যে কারো সাথে ঘুরতে পারেন। নিজের ইচ্ছা মত মজা করতে পারেন, আপনাকে কেউ কোন কথা শুনাতে পারবে না। নিজেকে পরিবর্তন করুন যা আপানর চিন্তাধারা কেও পরিবর্তন করবে। নিজেকে নতুন করে সাজান। অন্যের মতামতকে সন্মান করুন এনং নিজের প্রতি সৎ থাকুন সব সময়।

১৫। এই শেষ কথাটি আমি বিশেষ ভাবে বলবো সে কখনো আর তাকে ফিরে নেবার চিন্তা মাথায় রাখবেন না। আপনি যদি মনে করে থাকেন যে, সে তার ভুল বুঝতে পারবে এবং ফিরে আসবে তারপর আপনি তাকে আবার ফিরে নিবেন তাহলে এটা থেকে আপনি কোন দিন বের হয়ে আসতে পারবেন না। যে একবার যেতে পারে সে বারবার চলে যাবে। যা চলে গেছে তা গেছে, সেটা একদম মাথা থেকে বের করে দিবেন।




পোষ্টটা দোস্ত প্রিয়তিকে উৎসর্গ করলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28804637 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28804637 2008-05-31 00:43:18
শুভ জন্মদিন তানজিলা তানজিলা হক ওরফে জিলাপীর জন্মদিন। ব্লগবাসীর পক্ষথেকে অনেক শুভেচ্ছা। ক্যাক আর কুকের ব্যাবস্থা আমরাই করলাম।





অনেক গুলো ক্যাক দিলাম। সেটা খুশি নিন।




কুক দেখেন কোনটা ভাল লাগে <img src=" style="border:0;" />




সবগুলো ফুল জিলাপীরে <img src=" style="border:0;" />


সব শেষে একটা মিনি কোবতে <img src=" style="border:0;" />

মঙ্গল আলোয় ভেসে যাক আজ
অতীতের জীর্ণ দিন,
অনাগত কাল বরণ করুক
বাজিয়ে সোনার বীণ,
শত মাস কালে ফিরে ফিরে আসুক
তানজিলার জন্মদিন।

---শুভেচ্ছান্তে

ব্লগবাসী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28802583 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28802583 2008-05-25 14:58:57
বেশী কিছু চাইনি
একবার শুধু ঘাস ফড়িং হইয়া
ধানের পারাগ মাখা কার্তিকের বাতাসে
কাইট্যা যাওয়া ঘুড্ডির পিছে ছুটতে চাইছিলাম।
আর চাইছিলাম আমার ঘামে মাখা মুখ খানি
আমার মায়ের আচলে মুছতে।
আমিতো তোমাগো কাছে খুব বেশী কিছু চাইনি...

জ্বরের ঘোরে পৃথিবী আমার সাদাকালো হইয়া গেলে,
আমি চাইছিলাম একবার, শুধু একবার আমার কপালে
কেউ একটা ভালবাসার হাত রাখুক।
তোমাগো চোখে একটু মমতার মেঘ ভাসুক।
আমিতো তোমাগো কাছে বেশী কিছু চাইনি...

বন্ধুগো মত আমার কোন দিন টিফিনা খাওয়া হয়নি।
আমার ছুটির অপেক্ষায় থাকেনি কখনো কেউ।
শুধু ক্ষিদায় চোখে জল এলে, মাকে জরাইয়া একবার
আবদার করতে চাইছিলাম। কইতে চাইছিলাম মাগো
তুই ভাত মেখে না দিলে আমার পেট ভরে না।
সত্যি করে করে কইতাছি, আমি এর বেশি কিছু চাইনি।

তোমাগো উৎসবে আমি দাড়াইছি তোমাগো দরজায়
বকের পালকের মত বালক বালিকারা
ছুইট্যা বেড়াইছে ইন্দ্রের উদ্যানে ডানায় আতরের গন্ধ নিয়া।
অবাক চোখে তাকাইয়া থাকছি শুধু, আর মনে মনে কইছি
শুধু একবার আইসা আমার হাতটা ধরো।
আমি এর চাইতে বেশি কখনো কিছু চাইনি।

অনেক কষ্টে যখন জাইগা রইছি অন্তহীন রাইত,
শুধু চাইছি একবার কেও ভালবাইসা কান্ধে রাখুক হাত,
পাশে বইসা নিক একটু চোখের পানির ভাগ
বিশ্বাস কর, আমি কোনদিন এর চাইতে বেশি কিছু চাইনি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28799429 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28799429 2008-05-18 17:58:46
নবীনদের জন্য সামহয়্যার ইন ব্লগে যেসব ইমটিকোন ব্যাবহার করা হয় সেগুলো কমেন্টে ব্যাবহার করার জন্য নিচের লিষ্ট অনুসরণ করুন।





কমেন্টে ছবি দেবার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।



১। আপনার ব্লগ লিখুন লিংকে ক্লিক করে ব্লগ লিখার পেজে যান।
২। যে ছবিটি আপলোড করতে চান সেটি ছবি যুক্ত করুন লিংক ব্যাবহার আপলোড করুন।
৩। এবারআপানর কার্সরটি ব্লগ লিখার টেক্সট বক্সে রেখে আপনার আপলোডকৃত ছবিটির উপড় ক্লিক করুন।
৪। অপসান গুলোর মধ্যে থেকে [insert] লিংকে ক্লিক করুন। একটি লিংক আপনার টেক্সট বক্সে চলে আসবে।
৫। এবার লিংকটি কপি করে কমেন্টে পোষ্ট করুন।

কমেন্টে ইউটিউব ভিডিও দেবার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।



যে ভিডিওটি দিতে চান তার লিংকের v= এর পরের অংশটুকু কপি করে উপড়ের ছবির মত করে লিখুন।

কমেন্টে লিংক দেবার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।




১। লাল আন্ডার লাইন করা অংশ আপনার পেজের লিংক।
২। সবুজ আন্ডার লাইন করা অংশ আপনার লিংকের হেডিং।



অডিও ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য

আনেক সময় আমারা বিভিন্ন সাইট থেকে গান শুনি বা ভিডিও দেখি যেগুলো ওয়েব পেজের সাথে এমবেডেড করা। এগুলোর কোন ডাউনলোড লিংক থাকে না। যেমন esnips , youtube ইত্যাদি। এই সব সাইট থেকে গান ডাউনলোড করার জন্য খুব ছোট্ট একটা সফটওয়্যারের লিংক দিলাম। এটা সম্পূর্ন ফ্রি। কিভাবে ব্যাবহার করতে হয় তা এখানে পাবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28797199 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28797199 2008-05-13 06:15:00
ছায়া মানবী
নীলিমার সাথে যখন তার পরিচয় হয় তখন তার নিজের পৃথিবী ঝড়ের পরে বিধ্বস্ত পৃথিবীর মত নিঃস্ব,রিক্ত। কত রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছে অন্ধকার ঘরে ভূতের মত। কখনো তার একাকিত্ব, তার নিঃসঙ্গতা বুকের উপর এমন করে চেপে বসেছে যেনএকমুঠো বাতাসের জন্য হাহাকার করে উঠেছে বুক। এমনি এক সময়ে ছায়ার মত নীরবে শুভ্রর পাশে পাশে হেঁটেছে নীলিমা। শুভ্র কখনো কাছে টেনে নিয়েছে বন্ধুর মত, কখনো পৃথিবীর প্রতি এক অজানা আক্রোশে দূরে ঠেলে দিয়েছে নিলীমাকে। কত যে অবহেলা সয়েছে মেয়েটি, কত কত রাত নীরবে চোখের পানি ফেলেছে, তবুও শুভ্রর মুখে একটু হাসি ফোটাবার জন্য নিজের দুঃখ গুলো চাপা দিয়ে রেখে শুভ্রর চারিপাশে একটি ভালবাসার বলয় তৈরি করে রেখেছে সব সময়।
পৃথিবীতে কিছু ভালবাসা আছে যা প্রথমেই অনেক ভাললাগা দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় তারপর সময়ের সাথে মলিন হতে হতে একটা সময় মনেহয় হয়তো কোথাও কোনদিন কোনকিছু ছিলইনা আবার কিছু ভালবাসার নিজের অজান্তেই থেকে যায় প্রথমে, তারপর প্রতিদিন একটি বিন্দু করে জমা হতে থাকে সেখানে। এক সময় এই ভালবাসা নিজেকে স্বত্বা কে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। তেমনি এক মায়ার বাঁধনে বেধেছিল মেয়েটি তারে। কিন্তু আজ যে নিজেকেই এতটুকু ভালবাসতে পারেনা তার দেবারই বা আর কি সাধ্য থাকে। তবুও স্বার্থপরের মত ভাবে, এই পৃথিবী থেকে পালিয়ে গেলেও অন্তত একটা ছোট পৃথিবী তার আছে সেখানে সে নিশ্চিন্তে একটু আশ্রয় পেতে পারে। বোকা মেয়েটি সারা জীনব শুধু দিয়েই গেলো, বিধাতার করুণা ভান্ডারের কনাটুকু কোনদিন তার জন্য জুটলো না

মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় শুভ্রর। যে জীবন তাকে ফেলে চলে গেছে সেই জীবনের জন্য কোন কষ্ট নয়, কোন না পাওয়ার কষ্ট নয়, এই কষ্ট দিতে না পারার কষ্ট। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেকে তার নিঃস্ব মনে হয়। শীতের পাতা ঝরে যাওয়া গাছটির মত তার আজ শুধু প্রানটাই আছে, পাতা ঝরে গেছে গেছে সেই কবেই। ধীরে ধীরে আকাশের দিকে মুখ তুলে সে মনে মনে বলে যদি বিধাতা বলে কেও কোথাও থাকো তাহলে এই দুখিনী মেয়েটিকে একটু সুখী করো।



এই লেখাটি দোস্তো জয়িতা, প্রিয়তি ও ছোট ভাই আরাফাত শান্ত কে উৎসর্গ করলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28794308 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28794308 2008-05-05 05:04:50
ঘটকের পুথি ( ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য জবাব) ষড়যন্ত্রকারীদের এবার করিব বর্ণন
ব্লগে আছে লেজকাটা কিছু হনুমান
ষড়যন্ত্র কইরা খাইলো মানি লোকের মান
ঠিক সময়ে ইহাদের বিয়া না দিয়া
বিপদের পড়িছে সবাই ইহাদের নিয়া।

প্রথমে করিব বর্ণন যার নাম তার বিমা
সামনে পাইলে তারে করিতাম কিমা
কোকিল কন্ঠি সে সুমধুর গলা
মাইয়া দেখিলেই বলে প্রানে মোর জ্বালা
দুঃখে কাতর হইয়া মাইয়া পানি নিয়া আসে
এভাবেই বোকা মাইয়া বিমার ফান্দে ফাসে
এমন চরিত্র দেখে নান্দু ঘটক কয়
এই পোলা এক মাইয়ার পিছে থাকার নয়।

এবার করিব বর্ণন যার নাম তার মানু
মাইয়া পটাইতে সে অতিশয় ঝানু
দেখিতে হিরুর মত অতি মনোহর
মাইয়া দেখিলেই তার মনে ওঠে ঝড়
শত শত মাইয়া তার গলা ধরে ঝোলে
ব্লগে আসিয়া সে হাভাইত্যা গুরুপ খোলে
ইহার চরিত্র দেখিয়া ঘটক অতিশয় ভীত
ইহারে বিবাহ দিলে মাইয়া হবে মৃত।

এবারে করিব বর্ণন যার নাম তার রাশু
দেখে শুনে মনে হয় সে দেবুদা হবে আশু
নৌকা নিয়া সে ঘোরে ঘাটে ঘাটে
কপালে যদি কোন জরিনা জোটে
কিন্তু কপাল তার এমনি পোড়া
বৃথাই গেলো তার মাইয়ার পিছে ঘোরা
মাইয়া দেখিলেই যে পোলা পিছু নেয়
নান্দু ঘটক তারে ক্যামনে মাইয়া দেয়!

এবারে করিব বর্ণন যার নাম তার জেবু
তাহার কথা চোটে নান্দু ঘটক কাবু
দোস্ত হইয়া মোরে দিলো এমন ডলা
ঠিক যেন ঘসেটী বেগমের ছোট খালা
দেখিতে বড়ই সুবোধ বালিকা তিনি
মনে মনে সে কিন্তু বান্দরের শিরোমনি
এমন মাইয়ারে দিতে গিয়ে বিয়া
প্যাদানি খাইতে হবে জালি বেত দিয়া।

এবারে করিব বর্ণন তার নাম জিলাপি
বড় বড় কথা কইলেও সে বোকা অতি
চালাকি দেখাতে যাইয়া বার বার ফাসে
তাহার বোকামি দেখে বান্দরকূল হাসে
ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে মিলাইয়া হাত
হাসিতে যাইয়া তার পড়ে যায় দাঁত
এমন মাইয়ারে দিতে গিয়ে বিয়া
ইজ্জত হারাতে হবে বিয়া বাড়ী গিয়া।

আমার ভাতিজিরে আমি ডাকি আম্মাজান
তাহার যড়যন্ত্র দেখে কাঁদে মোর প্রাণ
নান্দু ঘটক সকলকে কহে করিয়া পেন্নাম
ঘটকালি হইতে সে কাটিয়া দিল নাম
এই কলিকালে যে ঘটকালি করে
বিনা দোষে তার মুখে চুলকালি পড়ে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28791001 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28791001 2008-04-25 07:20:32
এই আবেগটুকু বোঝা কি এতই কঠিন? উৎসর্গ : রাশেদ ও এস্কিমো ভাই। যে কুলাঙ্গার গুলো বাংলার বীর শ্রেষ্টদের পোষ্ট মাইনাস দিয়ে যায়, আজ দেখুন তাদের উৎসব। রাশেদ, এস্কিমো কে ব্যান করে সেই উৎসবে আপনারাও কি যোগ দেননি? আপনাদের হাতে সব ক্ষমতা, আমি খুব সাধারন একজন ব্লগার মাত্র। আপনাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে আমার যতটুকু সাধ্য আছে ততটুকু আমি করবো। কারন দেশের প্রয়োজনে, আমার ভাই শহীদ হলে তার রাইফেল নিয়ে আমি এগিয়ে যাবো। তারা আনব্যান না হওয়া পর্যন্ত আমার এই প্রতিবাদ চলবে। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28783950 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28783950 2008-03-30 22:39:50 স্মৃতি কতইবা বয়স তখন, বিশ কিংবা একুশ। কিছুদিন পর দেশের বাহিরে চলে যাবো তাই সেগুলোই নিয়ে ব্যাস্ততায় দিন কাটে। এমনি একদিন হাতে কাজ না থাকায় রুমে বসে কি যেন একটা বই পড়ছিলাম। হঠৎ ভারি কিছু নিচে পড়ার শব্দ পেলাম। মনে করলাম হয়তো ছাদ থেকে কেউ কার্পেট ফেলেছে কেননা প্রায়ই অনেকে তাদের কার্পেট ছাদে রোদে দিতো এবং রোদে শুকানোর পর কার্পেট রোল করে নিচে ফেলেদিত। সেই ভেবে আমি আবার বইয়ের দিকে চোখ দিলাম। তার আগে বলে নেই আমাদের বিল্ডংটা এমন ভাবে বানানো যেন চারটি বিল্ডং বৃত্তাকারে একসাথে লাগানো এবং মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা যায়গা। অনেকটা শপিং কমপ্লক্সের মত। কিছুক্ষনপর নিচে থেকে হইচইয়ের আওয়াজ শুনে জানালায় এসে দাড়ালাম। কিন্তু নিচে জটলার কারনে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। তাই কি হয়েছে দেখার জন্য নিচে গেলাম। যেয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। দেখি সতের/আঠরো বছর বয়সের ফুটফুটে একটি মেয়ে পড়ে আছে। কোথাও এতটুকু ভাঙ্গেনি বা রক্ত বের হয়নি। একপায়ে এখনো একটা স্লিপার পরা। একজন কে পাঠালাম তার বাসায় খবর দিতে। দেখি তারি সমবয়সি আর একটি মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসছে। শুলালাম মেয়েটি তার ছোট বোন। তার বাসায় এখন কেউ নেই, শুধু সে ঘুমিয়ে ছিল।
অঝড় ধারায় কাঁদছিল মেয়েটি। দেরি না করে ড্রাইভারকে বললাম গাড়ী বের করতে। কোনমতে পিছনের ছিটে শুইয়ে নিয়ে গেলাম পাশের একটি ক্লিনিকে। আমাকে ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে তাকে ওরা ভিতরে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন পর ক্লিনিকের ডাক্তার বের হয়ে এসে বলে আমাদের এখানে হবে না, বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যান। আমি তাদের বললাম আমার গাড়ীতে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, আপনাদের এ্যাম্বুলেন্সটা দিন। তারা বলে ভাই এ্যাম্বুলেন্স দেয়া যাবেনা। আমি বললাম কেন দেয়া যাবে না? তখন বলে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এখন শুটিং হবে।
কি আর করা, আমার গাড়ীতেই কোন মত তুলে নিয়ে, জানলা দিয়ে চিৎকার করে রিকশা সরিয়ে গেলাম বাংলাদেশ মেডিকেল। ছোটবোনটা তখনো অনবরত কাঁদছিল। একদৌড়ে ইমার্জেন্সিতে যেয়ে একজান কে সাথে নিয়ে ট্রলি নিয়ে আসলাম। এরপর ট্রলি নিয়ে একছুট। যেয়ে দেখি ডাক্তার নাই। সারা হসপিটাল দৌড়াদৌড়ি করে তিনতলা থেকে ডাক্তারকে ধরে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার এসে বলে টিকেট করছেন? টিকেট না করলে দেখ সম্ভব না। তখন তাকে বললাম প্লিজ আপনি দেখেন আমি টিকেট করে নিয়ে আসছি। টিকেট করে নিয়ে আসার কিছুক্ষন পড় ডাক্তার বললো সরি, সি ইজ ডেড। কেমন যেন সব কিছু ফাঁকা লাগলো। বসে থাকলাম কিছুক্ষন। এর মধ্য ওর মা চলে এসেছে। তাকে জরিয়ে ধরে ছোট মেয়েটার কান্না শুনতে পারছিলাম শুধু। আর থাকতে পারছিলাম না, হাসপাতলের বাইরে এসে কি মনে করে কাগজ গুলো ছিড়ে ফেলেদিয়ে ড্রাইভারকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। একটা রিকশা নিয়ে এলোমেলো ভাবে ঘুরলাম সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসে দেখি মেয়েটির লাশ স্পোর্টস রুমে রেখে দিয়েছে। কেন জানি আর একবারো দেখতে যাইনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28783683 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28783683 2008-03-30 02:22:21
আমার প্রণয়িনীরা... পর্ব-১
দ্বিতীয় প্রেমে পড়লাম তিনটি চঞ্চলা গ্রাম্য কিশরীর। তিনটি টিয়া পাখি। আমাদের গ্রামের এক বর্বর খাচায় পুরে যখন তাদের বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো, তখন সেই তিনটি ভীত কিশরীর চোখের অকুল চাহনীতে আমার বুকের মধ্যে প্রেমের বিণা বেজে উঠলো। মনের হলো কোন আরব্য সুন্দরী দাসিকে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমার প্রেমিক মন বিদ্রোহ করে উঠলো। নিজের গচ্ছিত কিছু মুদ্রার বিনিময়ে আমি তাদের উদ্ধার করলাম। কিন্তু তারা তখনো উড়তে শিখেনি, তাই নিজের কাছেই কিছু দিন রাখবো বলে মনঃস্থির করলাম। কিন্তু হায়! আমার কপালে এত সুখ সইবে কেনো। তাদের একটি বড় ঝুড়ির মধ্যে রেখে আমি যখন খাচার ব্যাবস্থা করতে গিয়েছি, এসে দেখি ঝুড়ির মধ্যে কুকুর মুখ দিয়েছে। দৌড়ে এসে দেখি তিন কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে আছে। স্বজন হারানোর ব্যথায় মনের মধ্যে ক্রধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম এর প্রতিশোধ আমাকে নিতেই হবে। ডেকে পাঠালাম আমার পিচ্চি লাঠিয়াল বাহিনীকে। ৮/১০ জনের লাঠিয়ার বাহিনীকে নিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়লাম সেই ঘাতকের সন্ধানে। চর মারফাত খবর পেলাম কিছু দূরে তাকে দেখা গেছে। তখনি শুরু হলো ধাওয়া। সেই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা গ্রাম ধাওয়া খাবার পর সন্ধ্যায় ঘাতক একটি ড্রেনর মধ্যে নেমে আর্ত সমর্পন করলো তখন আমার রক্ত টকবক করে ফুটছে। ইচ্ছা মত কতগুলো উৎতম মাধ্যম তাকে দেয়া হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে প্রান ভিক্ষা দিলাম। এরপর থেকে ঐ কুকুর আমাকে রাস্তাদিয়ে হেঁটে যাওয়া দেখলে মির্জা সাহেব মনে করে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে নিচে ধানের জমির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমি চলে গেলে তারপর রাস্তায় উঠতো।

আমার তৃতীয় প্রনয়িণীরা হইলো তিনি সাদা ইদুর। অনেক কুকর্মের সাথী হিসাবে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এগুলো উপহার পেলাম আমার ফুপাতো ভাইয়ের কাছে থেকে। এগুলোও সুদূর ঈশ্বরদী হতে আগত। আহা কি তাদের রং আর রূপ। এক একটা যেন পশ্চিমের স্বেতাঙ্গিনী। তাহমহল তাদের জন্য বানাতে পারিনি ঠিক কিন্তু জুতার বাক্স দিয়ে আমি তাদের জন্য প্রাসাদ তৈরী করে দিলাম। মাতার ঘোর আপত্তি থাকা সত্বেও আমার বাসায় তাদের স্থাল হলো কিন্তু পাশের বাড়ীর বিড়ালের গোঁফের নিচ দিরে হাসি দেখে অনেক চিন্তায় পরে গেলাম। পাড়লে আমি তাদের সৌদি বোরকা পড়িয়ে রাখি কিন্তু নারী স্বাধীনতার কথা চিন্তা করে আমি তা করতে পারলাম না। ইহাই ছিল আমার জীবনের একটি বড় ভুল। পাঠক এরপর আমি আর কিছু বর্ণনা করতে পারছি না সেই নিদারুন ইতিহাসের। আমার হাত কাঁপছে আমার চোখের অশ্রুর বন্যা।

মনের শোক কাটিয়ে ওঠার পর আমার প্রেমিক মন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। এবার সরাসরি চলে গেলাম কাঁটাবন। দেখে শুনে বাংলা ছিঃনেমার নায়িকার মত স্বাস্থবতী দুইটা খরগোশ কিনলাম। তাদের রূপের আর নাইবা বর্ণনা করলাম। একটু ভুল করলাম, তাদের একটি ছেলে ছিল। বক্স অফিস হিট জুটিকে দুটিকে দুইটি ব্রাউন পেপার প্যাকেট ভরে আমার হাতে দিলো। আমি মহা আনন্দে তাদের দুই হাতে দুটিকে নিয়ে একটি রিকসা নিলাম। ধানমন্ডি আট নাম্বারের কাছে যখন আসলাম তখন পায়ে অনুভব করলাম গরম পানির স্রোত। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি সুন্দরী প্যাকেটের মধ্যে এক নাম্বার প্রকৃতিক ডাকের সারা দিয়ে কাগজের প্যাকেটি ছিড়ে ফেলেছে। তারপর দুচোখ বন্ধ করে ভোঁ-দৌড়। ট্টফিক জ্যামে আটকেপড়া পাবলিক এতক্ষনে বুঝে ফেলেছি একটি সু্ন্দরী পালায়নপর। সবাই যানবাহন থেকে নেমে সুন্দরীর পিছনে দৌড়। বেশীদূর পালিয়ে বাঁচতে পারেনি। জান বাঁচাতে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলে দোকানের লোকজন পাকড়াও করে একটি নতুন কার্টুনে তাকে তুলে দেয়। কিন্তু পরিবার পরিল্পনার উহাদের ব্যাপক অনিহা থাকায় মাতাজী ঘোষনা করলো হয় তুই বাড়িতে থাকবি না হলে তোর খরগোশ। দুঃখ কষ্ট বুকে চেপে রেখে তাদের বনবাস দিয়ে আসলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28781108 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28781108 2008-03-21 09:01:18
জীবন এখন তার ছাই পরে থাকে আমার বুকের পরে-
কোন শলিকের ঠোঁটের ভালবাসা আজ
বিরহী হয়ে কেঁদে ফেরে পৃথিবীর তরে।

যে জীবন ছিল উচ্ছল নির্ঝর,
অথবা শিশির বিন্দু হয়ে পদ্ম পাতার পর,
যাযাবর মেঘ এসে নিয়ে গেছে তারে
হেমন্তর পাতার মত যখন স্বপ্ন ঝড়ে পড়ে।

ভালবেসে একবার পৃথিবীর হলে
আকাশ চলে যায় তাকে একাকী ফেলে,
পাখির পালকের মত জীবন তখন
কানে কানে বিবাগীর কথা বলে।

নক্ষত্রের রাত ফেলে, যে জীবন গেছে চলে,
যেথায় সন্ধ্যা সকরুণ পাখা মেলে
সেই জীবনের ভার সহেনা আর
নক্ষত্রের ভালবাসা পেলে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28772252 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28772252 2008-02-20 10:22:19
একটি চন্দ্র বালিকার গল্প।
অথচ তার জীবনটা এমন হবার কথা ছিলো না। কত বিন্দু বিন্দু ভালবাসা দিয়ে সে সাজিয়েছিল তার স্বপ্ন গুলো। কত দীর্ঘ অপেক্ষার রাত কাটিয়েছে সে এই স্বপ্ন গুলো বুকে নিয়ে। একজন মানুষ কেমন করে পারে তার ক্রদ্ধ হাত দিয়ে কারো হৃদপিন্ডটিকে ছিন্নভিন্ন করে তার স্বপ্ন গুলোকে কেড়ে নিয়ে যেতে!

মৃদুল তার জীবনে যখন এসেছিল হৃদিতা তখন বেণী দোলানো এক উচ্ছল কিশোরী। সারাদিন প্রজাপতি হয়ে প্রজাপতির পিছনে ছুটতো। সেই সময় মৃদুল তার জীবনে এসে হাত ধরে এক স্বপ্নের দেশে নিয়ে যায়। বর্ষার বাঁধ ভাঙ্গা নদীর মত হৃদিতার পৃথিবীটা ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক অবাক করা সুখে। মনে হয় এই সম্পূর্ণ পৃথিবীকে তার ছোট্ট বুকে ধারন করতে পারবে সে। কিন্তু সেদিন সে, বোঝেনি, ভালবাসা যা দিয়ে যায়, নিয়ে যায় তার থেকে নিয়ে যায় অনেক বেশী। মৃদুল একদিন তার জীবনের স্বপ্নের কথাগুলো হৃদিতাকে খুলে বলে, সে জীবনে অনেক দূর যেতে চায়। জীবনে কিছু একটা হতে চায় সে। তাই উচ্চ শিক্ষার জন্য সে বিদেশে পড়ালেখা করতে যাবে। সেদিন হৃদিতা মৃদুলের হাত ধরে বলেছিল তোমার স্বপ্ন আজ আমারো স্বপ্ন। আমি বলেতো এখন কিছু নেই আমার। আমার সব কিছুই তুমি। যেখানেই যাও আমি সব সময় তোমার পাশেই থাকবো। কিন্তু যখন সত্যি সত্যি যাবার সময় আসলো আসলো নিজের মনকে কিছুতেই মানাইতে পারেনা হৃদিতা। মনে হয় তার হৃদপিন্ডটা কে যেন ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবুও হৃদয়ে পাথড় চাপা দিয়ে তাকে বিদায় জানিয়ে আসার পড় মাসের পর মাস লুকিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছে পাগলি মেয়েটি।

কথা ছিল প্রতি দুই সপ্তাহে একটা করে চিঠি লিখে জানাবে। তখনতো এখনকারমত ই মেইল ছিল না। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে এত ফোন করারো সামর্থ ছিল না। তবুও তার জন্মদিনে মায়ের দেয়া নিজের কানের দুলটুকু বিক্রি করে তার জন্য উপহার পাঠিয়েছিল সে। তার মনে হত আমার অলংকার দিয়ে কি হবে, সেইতো আমার অলংকার। তারপর আস্তে আস্তে তার চিঠির সংখ্যা কমতে থাকে। ফোন করলে বিরক্ত হয়। একদিন কেঁদেকেটে বললাম প্লিজ কি হয়েছে আমাকে বলো। আমাকে কিচ্ছু বললো না। আমি উপায় না দেখে তার বন্ধুর কাছে ফোন করে জানলাম সে টাকার জন্য ইউনিভর্সিটি ছেড়ে দিয়েছে এবং রেফিউজি হিসেবে থাকার জন্য আবেদন করেছে। এটা শুনে কত যে কেঁদেছি আমি সে শুধু আমার সৃষ্টিকর্তা জানেন। দিন যায় তার রেফিউজি মামলা চলতে থাকে। কবে ফিরতে পারবে সেটাও অনিশ্চিৎত। মনে মনে বলি আমি কিচ্ছু চাইনা শুধু তুমি ফিরে আসো তবুও তাকে বললাম আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে থাকবো সারা জীবন। এমন করে কেটে যায় দশটি বছর। বাসা থেকে চাপদেয় বিয়ে দেবার জন্য। শেষে কথা বলা বন্ধ করে দেয় বাবা আমার সাথে। আমি বসে থাকি আমার মৃদুলের জন্য। একা একা তাকিয়ে থাকি চাদের দিকে।

একদিন আমাকে ডেকে ছিল চাঁদ
বলেছিল কি চাও আমার কাছে?
বলেছিলাম তাকে, যদি দেখা হয় তার সাথে
তোমার একটু আলো দিয়ে পথ দেখিও তাকে।

বলে ছিলো সে মৃদু হেসে,
সূর্যের মত ভালবাসা ঘিরে রেখেছে যারে,
আমার আলোর কি সাধ্য আছে
তার কাছে পৌছুতে পারে।

অবশেষে সে একদিন জানালো সে ফিরে আসছে। আমার অন্ধকার আকাশ ভরে উঠলো রুপালী আলোয়। আমার জান, আমার মৃদুল আমার কাছে ফিরে আসছে। আমি কি করবো ভেবে পাইনা। মনে হ্য় এক স্বপ্নের মধ্য আছি আমি। এতদিন পর নিজের দিকে নজর দিলাম একটু। কেমন যেন বুড়িয়ে গেছি আমি। চোখের নিচে কালি জমেছে তার জন্য রাত জেগে জেগে। সারাদিল কেটে যায় সে আসলে কি করবো না করবো এইসব ভেবে। তার আসার দিন যত কাছে আসতে থাকলো প্রতিটি মিনিট কে মনে হ্য় এক একটি বছর। আবশেষে যেদিন তার সাথে দেখা হলো তাকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রেখে অনেক ক্ষন কাঁদলাম আমি। মনে হলো আমার পৃথিবীকে আমার বুকের মধ্যে পেয়েছি আমি। তারপরেও মনে হলো আমার আগের মৃদুলকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি আমি। সে শুধু বললো "এমন বুড়িয়ে গেছো কেন? নিজের দিকে খেয়াল রাখোনা?" তারপর কাজ আছে বলে তারাহুরো করে চলে গেলো। এর পর প্রয় পনেরো দিন তার কোন খোজ পাইনি। ফোন করলেও ধরে না। একদিন তার বন্ধুকে ফোন করে বললাম তুমি আমার ভাইয়ের মত, তুমি সত্যি করে বলো সে এখন কোথায়। সে বলে মৃদুল কম বয়সি এক সুন্দরি মেয়ে কে বিয়ে করে গতকাল বিদেশ চলে গেছে। আমি নাকি বুড়িয়ে গেছি। তার সোসাইটিতে আমাকে মানাবে না।
আজ তবুও দোয়া করি অনেক সুখি হোক সে। আমরা একি আকাশের নিচে আছি। একই চাঁদ আমাদের আলো দেয়। এই সান্তনা টুকু নিয়ে আমি আমার বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারবো।


"আমরা তো জানি কত সুন্দর জিনিস আছে,
সুমেরু শিখর আছে , তুষার মৌলি হিমালয় আছে,
আমরা কি যেতে পারি?
জানি তারা আমারই আছে, তবু কি পেতে পারি?
তাই বলে সেটা ভোলা নয়,
সে আমার গোপনতম সত্তায় লগ্ন সুন্দরতম স্বপ্ন। " ---মহামতি জেবীন


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28771733 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28771733 2008-02-18 17:40:36
আমাদের বিমার গাওয়া (বিষাক্ত মানুষ) একটি গান। (এ্যালবাম স্বপ্নচূড়া -২) ও আমার একটি কবিতা। কেটে যায় কত যে সময়
জীবনের তাড়নায় ছুঁটতে ছুঁটতে ভাবি
জীবনটা কত গতিময় ।।

হঠাৎ থমকে যাই, চমকে তাকিয়ে দেখি
বিচিত্র এই জাহান।
আঁধারে তোমার খুজি,
আলোতে অবহেলায়,
জানি যদিও সবি তোমার।

প্রেমিকার হাত অথবা সোনার হরিন চেপে
যেন স্বর্গ নেমে আসে,
মিথ্যা স্বর্গের নিয়মের তিক্ততায়
নরক যেন আড়ালে হাসে ।।

হঠাৎ থমকে যাই, চমকে তাকিয়ে দেখি
বিচিত্র এই জাহান ।
আঁধারে তোমার খুজি,
আলোতে অবহেলায়
জানি যদিও সবি তোমার ।।


ব্যান্ড : সাইকোভিনা
এ্যালবাম : স্বপ্নচূড়া -২

অডিও লিংক




(ব্লগে এসে যে বন্ধুদের ভালবাসা পেয়েছি, আরও পেয়েছি যে ভাই বা বোন, যাদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি সব সময় তাদের জন্য আমার ক্ষুদ্র লেখাটি।)


অবাক ভালবাসা

নীহারিকার পথ ধরে
ধূসর সময়ের পথ মাড়িয়ে,
যখন একলা হেঁটেছি বন্ধু
তখন তোমরাই দিয়েছিলে হাত বাড়িয়ে।

পথের ক্লান্তি বুকে নিয়ে,
দীর্ঘশ্বাস গেছে মহাকাশে ছাড়িয়ে,
আমার কাঁধে নির্ভরতার হাতটি রেখে
তখন তোমরাই ছিলে পাশে দাঁড়িয়ে।

যখন কেটেছে নির্ঘুম রাত
হারিয়ে গেছি কোন নষ্ট সময়ের তীরে,
তোমারদের ভালবাসা তারা হয়ে
জেগেছে আমার পাশে, অনেক দুঃস্বপ্নের ভীরে।

কখনো ক্লান্ত এ জীবনের ভার নিয়ে
ইচ্ছে হয়, চলে যাই এক জীবন দূরে,
তোমাদের মমতা বেঁধে রাখে আমায়
হেরে যাই এই অবাক ভালবাসার তরে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28769162 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28769162 2008-02-11 07:58:24
আবার আসিলাম ফিরিয়া <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />
কিছুদিন পূর্বে আমার একটি বন্ধু নামীয় কলংক আমাকে দূরআলাপনী যোগে জানাইলো যে, সে আরো দুটি নরাধম সহযোগে আমার বাটিতে সত্তর ভ্রমন করিতে ইচ্ছুক। ইহা শুনিয়া আমি অতিশয় আহ্লাদিত হইয়া উঠিলাম। ইহার মধ্যে দুইটি নরাধমের সহিত আমার তিনটি বৎসর ব্যাপী কোন প্রকার সাক্ষাত করিবার অবকাশ হয়নাই। আমি উহাদিগকে আমার বাটির ঠিকানা জানিয়ে আমার গোয়াল ঘরখানি পরিস্কার করিতে প্রবৃত্ত হইলাম। কারন উহারা আমার আমার ঘরখানি দেখিয়া মাস্তক ঘূর্ণন পূর্বক পড়িয়া যায়, ইহা আমার ব্রত ছিল না।

যাহা হইক, সন্ধ্যা অতিবাহিত হইয়া গেল উহাদের কোন নিশানা দেখিলাম না। অতঃপর আমার দূরআলাপনীর ঘন্টাটি বাজিয়া উঠিলো। আমি উত্তর করিবা মাত্র উহারা বলিয়া উঠিলো যে "আমার তোমার সারা শহরময় উদ্বাস্থ হয়ে উচ্ছিষ্টের ন্যায় ভাসিয়া বেড়াইতেছি "।প্রতি উত্তরে আমি বলিলাম তোমরা তিন বৎসর কাল পূর্বে যেমন বেকুব ছিলে আদ্যবধি তেমনি আছো। তোমরা যেখানে দন্ডায়মান আছো সেখাই ঠায় দাঁড়িয়ে থাক আমি তোমার দিগকে উদ্ধার করিতে আসিতেছি।
অতঃপর তাহারা তিন বৎসর কাল পর আমাকে দেখিবা মাত্র যে প্রশ্নটি প্রথম করিলো তাহা হইতেছে, "তুমি আমাদিগের জন্য কি রন্ধন করিয়াছো?" প্রতি উত্তরে আমি উহা দিগকে বলিলাম তোমাদের হস্তের মনোহর রন্ধন খাইবো বলিয়া আমি পেয়াজ মরিচ কর্তন করিয়া রাখিয়া আসিয়াছি। উহা শুনিয়া তাহারা যে মধুর সম্ভাসন আমাকে করিল তাহা আর জনসন্মুখে বিবৃত করিলাম না।

যাহা হউক, রাত্রিকালে নরাধম গুলিকে আমার গোয়াল ঘরটি ছাড়িয়া দিয়া আমি এক বন্ধুবরের সহিত রাত্রি যাপনের উদ্দ্যশে গমন করিলাম। আমার সেই ব্ন্ধুবরটির রাত্রি কালীন শয়ন নিয়া নানাবিধ কথা প্রচলন থাকায় আমি কিন্চৎ ভীত ছিলাম। অতঃপর উপায়ান্ত না দেখিয়া তাহার কোল বালিশটি আমাদের মধ্যখানে দিয়া দোয়া ইউনুস পড়িতে পড়িতে রাত্রি অতিবাহিত করিলাম।
পরদিন প্রত্যুসে উহারা আমাকে জোরপূর্বক স্কন্ধে তুলিয়া উহাদের মটর যানে প্রবেশ করাইলো। আমার কোন কথা শুনিবার অবকাশ উহাদের ছিল না। পথিমধ্য আমি উহাদের বলিলাম "আমি তোমাদিগের কারনে কোন বস্ত্র আনিতে পারিলাম না। এখন আমি কি বিবস্ত্র হইয়া থাকিবো।" ইহা শুনিয়া উহাড়া আমাকে পথিমধ্য হইতে বস্ত্র ক্রয় করিয়া দিল। আমি কোন মতেই ছাড়া পাইলাম না। যাহা হউক, অতঃপর বিভিন্ন শহর ভ্রমন করিয়া রাত্রি কালে আমরা উহাদিকের বাটির উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম। অবিরাম তুষার পরিবার হেতু মহাসড়কের অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না। ইতিমধ্য আমাদের সঙ্গীত নামিয় চিৎকারে মোটর যানটির মস্তিস্ক বিগড়াইয়া গেল। রাত ২ ঘটিকার সময় আমরা দেখিলাম সারা পৃথিবীর আমাদিগের চারিদিকে প্রদক্ষিন করিতেছে। অতঃপর একটি খাদের কিনারে আমরা আমাদিগকে আবিস্কার করিলাম।এমতবস্থায় মোটর যানটির একটি দরজা দিয়া চারটি নরাধম কোনক্রমে বাহির হইয়া আসিলাম। মোটর যান হইতে বাহিরে আসিবার পর সঙ্গীদিগের কু দৃষ্টি লক্ষ্য করিয়া বুঝিলাম আমি তখনো সঙ্গীত সাধনা করিয়া যাইতেছি। ইহার পর দেড়টি ঘন্টা মাইনাস ২০ ডিক্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা খোলা প্রান্তরে থাকিয়া, বাচিবার হেতু শাখামৃগের ন্যায় তুষার ঝরা সড়কে কত যে লাফালাফি করিতে হইলো তাহা আর উল্লেখ করিলাম না। আর এক ফিট পরিমান অগ্রসর হইলে আমি হয়তো এখন দোজখে বসিয়া চলচিত্রের নায়িকা দের সহিত কুতকুত খেলিতাম।
যাহা হইক কাহিনি আর লম্বা করিলাম না। আমি আবার সব বান্দর, বান্দরিদের ঢিল দিতে বাঁচিয়া আসিয়াছি ইহাই বড় কথা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28763707 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28763707 2008-01-24 05:35:07
আপনারা সবাই সামী কে ভুলে গেলেন??!! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif" width="23" height="22" alt=":-*" style="border:0;" />
আমি সামি মিয়াদাদের আনব্যান চাই এবং সেটা এখনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28761683 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28761683 2008-01-17 11:21:21
"আমি শূকরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করি ।" -- বিষাক্ত মানুষ
এই পোষ্ট টা বিষাক্ত মানুষের। আজ সে ব্যান হয়ে যাওয়াতে তার পোষ্ট টা আমার ব্লগ থেকে পোষ্ট করলাম। আজ যারা ব্যান হইছে তারা আমারি ভাই। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতই আমি তাদের স্যালুট করি।
ব্লগার 'মানুষ', ব্লগার 'বিষাক্ত মানুষ' এরা কতজনকে গালি দিয়েছিল? আজ কতগুলো গুলো রাজাকারের বাচ্চাদের জন্য এই সম্ভাবনাময় তরুন গুলোকে হারাতে হলো। দেশ হচ্ছে মা, এই মাকে নিয়া কথা বললে আপনি সহ্য করবেন? মডারেটরা একবার তাদের ব্লগ দেখুন আর রাজাকার গুলোর ব্লগ দেখুন। আজ এ নাদান কথা দিচ্ছে আমার ভাইরা আনব্যান না হওয়া পর্যন্ত সে কোনদিন এখানে আর লিখবে না। আমিও লড়ে যাব ব্যান না হওয়া পর্যন্ত। দরকার হলে এক নাদান আজ একশো নাদান হবে।

বিমার পোষ্ট :


একটা তথাকথিত বাগান যেটাতে অনেকেই রোজ ঘুরতে আসে, সুন্দর সুন্দর অনেকগুলো ফুলের গাছ ... দেখতে অসাধারন সুন্দর লাগতো । মাঝে মাঝে যে ফুলের সুগন্ধের সাথে গোবরের গন্ধও নাকে আসতো না তাও না ,,, এটা তো সহ্য করতেই হবে। বাগানে গাছ থাকবে ফুল থাকবে প্রজাপতি উড়বে ফুলের রেণু বাতাসে ভাসবে এরসাথে যদি মাঝে মাঝে একটু গোবরের গন্ধ নাকে চলেই আসে সেটা সহ্য করাই যায়। বিশ্বাস করুন সেটা মেনে নিবো ।

কিন্তু একপাল শুকরছানা বেড়া ভেঙ্গে বাগানে ঢুকে যদি সব তছনছ করে দেয় তখন বাগানে ঘুরতে আসা মানুষদের কাছ থেকেও মালিক পক্ষ কি আশা করে !!!

ঠোঁট সরু করে আদুরে আদুরে গলায় বলবে -
- এই এই তোমরা এটা কি করছো !! এটা তো তোমাদের জায়গা নয় । তোমাদের বসবাসের স্থানের নাম 'খোয়ার'.. যাও তোমরা সেখানে যাও।

মালিক পক্ষ আপনারা যদি এইটা আশা করেন !!!

তাইলে আমি মাফ চাই ...
ছাগলে যেমন লাত্থি ছাড়া কথা শুনে না ... শুকরছানাদের জন্যও একই দাওয়াই ।

হাত দিয়া আলতো কৈরা শুকরের ছানাপোনাগোরে কৈতে পারুম না 'এই যাও তোমরা খোয়ারে যাও'

পুরিষ মাখা জুতা দিয়া বাইড়াইয়া শুকর ছানাগো পিছনের হাড্ডি ছুটায় ফেলুম ।

হয় এটা "বাগান" থাকবো নইলে "খোয়ার" হইবো

শুকরের ছানাপোনাগো লগে সহাবস্থান করতে পারুম না ।

"আমি শূকরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করি ।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28758672 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28758672 2008-01-08 07:28:02
শেষ বিকেলের রূপকথা জীবনের সব চাওয়ার পাওয়া ইছে গুলোকে কোনদিন মূল্য দেয়নি আমি। বিধাতা সেদিনি মনে হয়তো মুচকি হেসেছিলেন। হঠাৎ সব কেড়ে নেয়া ঝড়ের মত সেই কিশোর ছেলেটি একটি কিশোরী মেয়ের শান্ত পৃথিবীটাকে এলোমেলো করে দিলো। কি পাগলের মত ভালবাসতো সে আমাকে। আমার একটু অবহেলায় আষাঢ়ের মেঘ হয়ে যেত পাগলটার চোখ। কখনো বিধাতার কাছে কিছু চাইনি, শুধু একটি জিনিষ চেয়েছিলাম বিধাতার কাছে। যেন প্রতিদিন ঘুম ভেঙ্গে এই পাগলটার মুখ যেন দেখতে পাই। আমি কোনদিন আর তার কাছে কিছু চাইবো না। পাগলটা কতদিন আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলতো...

আমার মাঝে আমি আজ
অচিন কোন বোধ,
ও মেয়ে, এ তোর
কেমন প্রতিশোধ?

আমি অভিমান করে বলতাম

আমার স্বপ্ন চুরি করে
তুই ঘুরিস সারাক্ষন,
কত বলি ,তুই একটুখানি শোন!

আমার ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে চুপ করিয়ে দিতো সে। তারপর আমার হাত দুটো ধরে আমার চোখের দিখে তাকিয়ে বলতো

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি মানুষ কতোবার জন্মে আর মরে।
তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
বুকের মধ্যে কেমন করে মেঘ খেলা করে।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি ঘাস ফুল হয়ে বেঁচে থাকাও কত সুখ।
তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি শিশির কণাতেও কেন ভরে যায় তার বুক।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না,
কোন এক বিষন্ন সাঁঝে
কেন অচেনা গাঙচিল উড়ে উড়ে কাঁদে,
একরাশ বেদনা নিয়ে বুকের মাঝে।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
কেমন করে একটি ছোট্ট মেয়ে,
সকল দুঃখ ঢেকে দেয় মোর
তার অনেক ভালবাসা দিয়ে।

কিছুই বলতে পারতাম না আমি। চোখের পানি লুকানোর জন্য অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে অনেক দূরে তাকিয়ে থাকতাম। মনে মনে প্রার্থনা করতাম আমি স্বর্গ চাইনা বিধাতা তুমি এই মূহূর্ত টুকু আমার জন্য স্থায়ী করে দাও।

হয়তো এক জীবনে অনেক বেশী পাওয়া হয়েছিল। তাই কাল বৈশাখী ঝড় এসে এলোমেলো করে দিলো আমার জীবন। বাবা বিয়ে ঠিক করলো আমার। মায়ের পা ধরে কত কেঁদেছি, বলেছি আমাকে মেরে ফেলো মা, আমাকে একটু দয়া করো। কিন্তু সেওতো একটি মেয়ে কতটুকুই বা তার সাধ্য। আমাকে বুকে চেপে ধরে আমার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে শুধু বলতো, একটু ধৈর্য ধর মা, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি আমাকে আবার হতে হলো আদর্শ মেয়ে। বিয়ে করে চলে আসলাম অনেক দূরে। বিয়ের দিনে একটি বার দেখতে চেয়েছিলাম পাগলটার মুখ, শুধু একটি বারের জন্য, সেটাও দেখতে দেয়নি আমাকে। আজ আমি একজন আদর্শ স্ত্রী। আজ সব আছে আমার কিন্তু শুধু যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28757485 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28757485 2008-01-07 08:22:50
তুই রাজাকার
যে মা তোদের করলো বড়
নিজের ছেঁড়া আঁচলে ঢেকে,
সেই আঁচল তোরা তুলে দিলি
বিদেশী সব শকুন ডেকে?

যে মায়ের জল কাঁদা মেখে
নিজের দেহ করলি বড়,
সেই মায়ের বুকের রক্ত নিতে
হাত কাঁপেনা একটিবারো?

যে মা তোদের ঠাঁই দিয়েছে
তার জীর্ণ বুকের মাঝে,
সেই মাকে তোরা ধুলায় লুটাস
এমন পশু আর কি আছে?

মায়ের চোখের জল দেখে আজ
যে পশুদের আজ মুখে হাসি,
সেই পশুদের করবো বিচার
মায়ের কাছে পণ করেছি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28755035 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28755035 2007-12-30 09:09:41
এক পৃথিবী দূরে...

আমার পৃথিবী থেকে এক পৃথিবী দূরে,
যেখানে কবিতাগুলো স্বপ্নের সাথে লুটোপুটি খেলে,
প্রিয়তমার নাকের ঘাসফুল যেখানে
জোছনার আলো ছড়ায়।
সেই পৃথিবী থেকে আমি এক পৃথিবী দূরে...

হয়তো সেখানে আজো কলমি লতার মতো মেয়েগুলো
তিরতির করে কাঁপে উত্তরী বাতাসে,
গোধূলীর রাঙ্গা আলোর পরে সোনালী ধানের শীষে,
কিশোরীর গাল ছুঁয়ে যায় সন্ধ্যার শেষ আলো,
সেই পৃথিবী থেকে আজ আমি এক পৃথিবী দূরে...

যেখানে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের আকাশে মুখ লুকোয় লাল ঘুড়ি,
ছিপ ফেলে উদাস চোখে তাকিয়ে থাকে কিশোর,
দমকা বাতাস এলোমেলো করে দেয় বুড়ো বটের চুল,
সেই পৃথিবী থেকে আমি এক পৃথিবী দূরে...

তারপর পাখির ডানার শব্দে গাঢ় হয় অন্ধকার,
কিষানীর কুটিরে শুকতারা হয়ে জলে মাটির প্রদীপ,
জোনাকিরা দল বেঁধে উৎসব করে ফেরে এপাড়া ওপাড়া
সেই পৃথিবী থেকে আজ আমি এক পৃথিবী দূরে...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753904 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753904 2007-12-25 23:34:24
আকাশ ও নদীর গল্প


কোন এক উদাস করা হেমন্তের রাতে,
আলো মাখা প্রথম তুষার বিন্দুটি
যখন আমার চোখের পাঁপড়ি ছুয়েছিলো,
তখন নিজের অজান্তেই, নিজেকে হারিয়েছিলাম একবার।

সেই একবারই, তারপর কত পথ
হেঁটেছি ; দেউরী থেকে দেউরীতে
কড়া নেড়েছি; তবু আজও আমার
যাযাবর নামটি ঘুচলো না ।

কোন মায়াতে আমার চোখ দুটি
কেড়ে নিয়েছিলে প্রীতিকণা?
সেই তোমাকেই আমার প্রথম দেখা, আবার
শেষ দেখাও তুমি ।

জানি কোনদিনও জানবে না
নদী কতটা পেয়েছিলো আকাশের থেকে,
কত বিন্দু বিন্দু ভালবাসা দিয়ে
আকাশ ভরিয়ে দিয়েছিলো নদীর আঁচল ।

তোমার কি মনে আছে কণা?
তেমনি ধূষর কোন রাতে তুমি বলেছিলে,
নদীর বুকেও চর পড়ে, সেখানেও আগাছা জন্মে,
সেদিন বিশ্বাস করার মত সাহস ছিলনা ।

আজ শুধু একটু দেখে যাও
কতটা রক্তাতো ক্ষত বিক্ষত
আজ আকাশের বুক,
সেই আগাছা আর কাঁটাগাছে ।

আকাশের বুক ফাটা সব বৃষ্টিতে
নদীর সৃষ্টি হয়না,
সেই বৃষ্টিকে ভালোবেসে
নদীকে নদী হতে হয় ।

নিজের সবটুকু দিয়েও
আকাশ নদীকে পায়নি কোনদিন
তবু অবুঝ ভালবাসায় আজও
আকাশের সবটুকু নদীর জন্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753902 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753902 2007-12-25 23:32:04
অনুরোধ


দোহাই তোমার
এমন করে আর কেঁদোনা,
কষ্টগুলো হৃদয় তারে
এমন করে আর বেধোনা ।

সেই স্বপ্নবেলায়,
নীল রঙ্গা মেঘ চোখের কোনে,
বেঁধেছিল স্বপ্ননীড় আপন মনে,
তারে তুমি বৃষ্টি করে
আর ভেসোনা।

দোহাই তোমার
এমন করে আর কেঁদনা ।

যে স্বপ্নগুলো দস্যু হয়ে
তোমায় কাঁদায়,
তাকে তোমার আঁচল দিয়ে
আর ঢেকোনা।

দোহাই তোমার
এমন করে আর কেঁদোনা ।

কষ্টগুলো দাও উড়িয়ে আকাশ পানে,
প্রজাপতির মত আজ উড়িয়ে ডানা
তোমার স্পর্শে ফুটুক হাসি সবার প্রাণে,
নিত্য যাদের দুঃখ কষ্টে আনাগোনা।

দোহাই তোমার
এমন করে আর কেঁদোনা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753900 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753900 2007-12-25 23:29:52
জীবন ও সময়


সময়ের তাপে মোমের মত
গলে যায় প্রিয় মুখ গুলো,
চিতা জ্বলবার পর
পড়ে থাকে কিছু ছাইভষ্ম,
এ জীবনে হয়তো
এতটুকুই পাওয়া ।

নিঃসঙ্গ বাবুই পাখিটি
আবারো সপ্নবোনে,
শালিক ঠোঁটে করে
ভালবাসা নিয়ে উড়ে যায়,
আমাদের বুকে তখনো থাকে
নিঃস্ব রিক্ত হবার স্বপ্ন ।

এমনি করে জলের বুকে
সারা জীবন আঁচর কেটে চলা
এ জীবনের ছায়া আঁচর কাটেনা
নিঃলিপ্ত পৃথিবীর বুকে
তবুও একজোড়া মায়া চোখে
জীবনের মানে খুজে ফেরা ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753897 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753897 2007-12-25 23:23:59
ঋণশোধ

তুমি কেমন আছ কনা?
আকাশের নীল কবিতা গুলো কি এখনো
তেমনি করে তোমার সাথে কথা কয়?
আর তোমার পায়ের মল? সেখানে কি আজও
তারা গুলো মিটিমিটি করে হাসে...
কোন নিঃস্ব যুবকের পানে চেয়ে?

কত কথাই তো জানা হল না,
কোন দিন জানতেও চাইনি, শুধু জেনেছি
এই আমার নিয়তি; আমাকে ক্ষেপা ঘোড়ায়
সওয়ার হয়ে স্বপ্ন শিকারে যেতে হবে,
ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে আমাকে
বর্জ্রকে বুক পেতে নিতে হবে...

তাই আজও আমি নক্ষত্রলোকে
তন্ন তন্ন করে খুজে বেরাই তোমার
নাক ফুল হয়ে ফুটে থাকা সন্ধাতারা,
দ্বাদশীর চাঁদের কাছে আমি
হাত পেতে নেই একটুখানি করূণাধারা ।

এমনি করেই হয়তো একদিন মুক্তি পায়
পৃথিবীতে ভালবেসেছিলো যারা ।
এমনি করেই হয়তো শুধতে হয়
প্রতিটি অশ্রু বিন্দু দারা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753893 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753893 2007-12-25 23:16:55
একটি নিরীহ প্রশ্ন ব্যক্তিগত রাজ্য ছিল,
বুকের মধ্যে অনেক পাওয়ার পদ্য ছিল,
বাধ্যগত প্রজা ছিল, অবহেলায় স্বপ্ন নিয়ে
খেলা ছিল।

আমি ছিলাম নিঃস্ব পথিক,
মোর ছিলনা আকাশ ছোঁয়া
স্বপ্ন অধিক।
ছোট্ট একটি হৃদয় ছিল।
সেই হৃদয়ে ভালবাসার গল্প ছিল।

তোমার তো মে' অনেক ছিল,
তবু কেন গল্পটুকু করলে চুরি?
নিলেই যদি নিঃস্ব করে
খেলা শেষে কেনই তাকে
ফেললে ছুঁড়ে?

এই আমি আজ কি নিয়ে আর
বাঁচি বলো। শেষ টুকুও
হারিয়ে আমি ছন্নছাড়া,
জীবন নিয়ে খেলার তোমার
এ কোন ধারা?


(ধুর !! এটা কোন লেখা হলো ! আমার নিজেরি পছন্দ হয়নি, তাও দিলাম)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753499 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28753499 2007-12-24 10:29:41
ভুল সময়ের রূপকথা
সিডি প্লেয়ারে একটা রবীন্দ্রসংঙ্গীত ছেড়্বে দিয়ে বারাব্দায় বসে নিতু। বৃষ্টির শব্দের সাথে মিশে যায় গান...

ভালবেসে যদি সুখ নাহি
তবে কেন--
তবে কেন মিছে ভালবাসা।
মনদিয়ে মন পেতে চাহি।
ওগো, কেন--
ওগো, কেন মিছে এ দুরাশা।
হৃদয়ে জ্বালায়ে বাসনার শিখা,
নয়নে জালায়ে মায়ামরীচিকা,
শুধু ঘুরে মরি মরুভূমে।
ওগো, কেন--
ওগো, কেন মিছে এ পিপাসা।

আজ সারাটাদিন কি অস্থির আকুলতা নিতে বসেছিল নিতু। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ফোনটা আসবে। বার বার সেল ফোনটা দেখছিল। মনে হচ্ছিল আচ্ছা ফোনে ঠিকমতো চার্জ আছেতো? কলটা মিস করিনিতো? কোন ফোনটা বেজে উঠলেই বুকটা মধ্যে ভাবে কেঁপে উঠতো যেন মনে হতো এখনি হৃদপিন্ডটা বেরহয়ে আসবে। কিন্তু অবহেলা করেও আমার জন্য দুটো মিনিট সময় হলনা তার।

গানের সুর কোনো এক অতীতে চলে যায় নিতুকে। নিতু জানে তার জীবনে নিতুই প্রথম নয়। তাই বলে কি এতটুকু বাকি নেই আজ আর কিছু নিতুর জন্য। মঝে মঝে মনে হয় কেন ছুটছি আমি এই মিথ্যা মরিচিকার পিছনে, হয়তো কোনোদিন আমাকে সে কনাটুকুও দিতে পারবেনা। কি আমার এই অবুঝ মনকে মানাবে কে। সে কখন, কেমন করে আমার সর্বস্ব নিয়ে গেলো এতটুকু যদি আগে জানতাম। যখন জানলাম তখন কিছুই করার নেই আর। কি মায়া দেখলাম ঐ চোখদুটিতে? এর পর কত চোখতো দেখলাম কিন্তু এমন করে আর কোন চোখ তো আমার সব কিছু এলোমেলো করে দেয়নি। অত অবহেলা, এত অপমান তবু কেন আমার সব কিছু বিলীন হয়ে যায় তার চোখের দিকে তাকালে। আমাকে কেন এমন করে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সে।

প্রথম যখন ভালবাসা বুঝতে শিখি তখন থেকে বিশ্বাস কর‌তাম, যদি কাউকে সর্বস্ব দি্যে ভালবাসা যায় তাহলে সেই ভালবাসা উপেক্ষা করার সাধ্য কারো নেই, তাহলে এই এতগুলো বছর, মাস, দিন, প্রতিটি মিনিটের বিন্দু বিন্দু ভালবাসা কেন এমন মিথ্যা মনে হয়। কেন সে বোঝেনা তার মুখের একটু সুখের কথা আমার আকাশকে সোনালী আলোয় ভরিয়ে দেয়। মনে হয় আহা বেঁচে থাকাটা এত সুন্দর কেন।

এত সব ভাবতে ভাবতে আবারো কখন যে নিতুর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে, সে নিজেই জানেনা। কখনো মনে হয় হয়তো আমি তার যোগ্য নই। কত সাধারন একটা মেয়ে আমি। কেন ভালবাসবে সে আমার মত একটি নগণ্য মেয়েকে। তাকে ধরে রাখার মত কিছুইতো নেই আমার কাছে। আমি শুধু পারি আমার সবকিছু্‌ দিয়ে তাকে ভালবাসতে। এছাড়া কিবা আছে আমার।
পৃথিবীতে কেও আসে সবকিছু নিয়ে যেতে। কেও আসে সব কিছু ভরিয়ে দিতে। সবকিছু হারিয়ে যতটুকু নিঃশ্ব হয়েছে সে, আমি শুধু চেয়েছি আমার সবকিছু দিয়ে সেটুকু ভরিয়ে দিতে। নিজের জন্য আজ আর কিছুই চাইনা। তবু তুমি সুখি হও।

কোনদিন যদি হারিয়ে যাই,
ঐ নীল নক্ষত্রলোকে।
হাসিটুকু তোমার ধরে রেখ শুধু,
ম্লান করোনাকো মোর শোকে।

যেটুকু মোরে পারনি দিতে,
অনেক যত্ন করে রেখ।
সবটুকু দিয়ে ভরিয়ে দিও,
যদি আবার আসে কেহ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28750589 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28750589 2007-12-10 09:38:28
ভুলে যাওয়া আকাশ একলা পাখি আমার --
তুষার ঝরা রাত চোখে নিয়ে
ক্লান্ত হয় জীবনের সব বোধ।

তার ডানার স্পর্শে নীল হয়েছে
যে আকাশ, দু একটি নক্ষত্র তার
বড় বেশি উজ্জল, দূর নগরীর
রুপালী আলো পর।

যখন বুকের মধ্যে জেগে ওঠে
সময়ের শব, আহা-
ডানা ভাঙ্গা পাখি আমার,
দীর্ঘ হ্য় জীবনের রাত।

যে জীবন ছিল দোয়েলের মত,
আকাশ আজ তার কাছে পর,
বুকের মধ্যে তাই নক্ষত্র রেখে
প্রতিক্ষা শুধু হারিয়ে যাবার।






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28749069 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28749069 2007-12-03 03:18:30
ছার একডা কতা হুনবেন...
বিশ্বাস করেন ছার দুইদিন পানি ছাড়া কিছু খাইনাই। খিদার চোটে মায়ের জন্যও কান্দন আইতোনা। কত ছারগো পায়ে দরছি, কইছি,ছার আমার মায়ে মইর‌্যা গেছে, দুইডা দিন কিছু খাইনাই আমারে দুইডা ট্যাহা দেন,হেরা আমার কতা বিশ্বাস করেনাই। আমার কান মইল্যা দিছে আর আমার লগে মস্করা করছে। খিদায় যহন চৌখ্যে কিচু দেহিনা তহন এক আপার পায়ে দইর‌্যা কাইন্দা দিলে, হেয় আমারে দশ ট্যাহা দিছে। হেই ট্যাহা দিয়া রুডি কিনয়্যা খাইছি।
হের পর থাইক্যা ফুটপাতে থাহি। বাজারে মিন্তি খাডি। মাজে মাজে সাহেবেরা এত ট্যাহার বাজার করে যে, মাতায় কইর‌্যা বইতে পারিনা। তহন পিয়াসে কইলজ্যাডা ফাইড্যা যায়। কি করমু কন, টানতে না পারলে ট্যাহা দিবোনা। উল্ডা মাইর দিবো তাই জানডা শ্যাষ অইয়া গেলেও কিচু কইনা। খাইতেতো অইবো।

হারাদিন কাম কইরা ফুটপাতেই হুইয়া পরি। একদিন বৃষ্টির লাইগ্যা মার্কেটের বারান্দায় হুইছিলাম। ঘুমের মইদ্দে নাইট গাড আইয়্যা পিডের মদ্দে এমুন বারিদিছে, মনে অইলো যেন পিডের মইদ্দে বাজ পড়ছে। হের পরেরদিন পিডের ব্যাতায় মিন্তি বাইতে পারিনাই। হারাদিন না খাইয়া আছিলাম। অহন বৃষ্টি অইলে হারা রাইত যাত্রী ছাউনির নিচে বইয়া থাহি।
একদিনের কতা কই ছার হুনেন... এক ব্যাডায় আইয়া কইলো মিছিল করলে নাকি বিশ ট্যাহা কইরা দিব। কার মিছিল জানিনা। আমাগোরে যা কইতে কইলো আমরা হেইডা কইয়া মিছিল করতাছি, এমুন সময় পুলিশ আইয়া এমুন মাইর দিলো যে মাইরের চোটে জ্বর আইয়া পড়লো। তহন খালি মায়ের কতা মনে পড়তো আর কান্দন আইতো। মনে অইতো মইর‌্যা গেলেই বালা, মায়ের কাচে যামুগা।
অহন রাইতের বেলা হুইলে শীতকরে। গায়ে দেওনের একখান কাপুর পাইলে বাইচ্চা যাইতাম। দেহি কত সোন্দর সোন্দর জামা কাপুর পইরা পুলা মাইয়্যারা বাপ মায়ের হাত দইর‌্যা ইসকুলে যায়। মনে কয় আমার বাপ মা থাকলে আমারেও কিন্যা দিত। রাইতের বেলা ঠান্ডায় নিণ্দ আহেনাগো স্যার। হুনছি আপনারা নাহি বড় বড় হোটেলে খাইতে গিয়া কত ট্যাহা বকসিস দেন। আমারে একখান পুরান কাপড় কিন্যা দিয়া আমারে বাচানগো ছার। আমার মায়ে আপনের লাইগ্যা দোয়া করবো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28748507 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28748507 2007-11-30 10:00:46
আমার ফুটুক ব্লগ ( নিজের তোলা) http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28747804 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28747804 2007-11-26 23:15:21 ভুলে ভরা ডাইরি - শেষ পর্ব জয়িতা, অচেনা বাঙালি, ছায়ার আলো, িসহাব চৌধুরী, মনের কথা, প্রিয়তি, নীল সমুদ্র, তুষারমানব, পজিটিভ, বকলম, ৈকলাশ, েজবীন, অলস, রুধীণ, সুমি, অন্যরকম, মোসতফা মনির সৌরভ, মেহরাব শাহরিয়ার, রাশেদ, মানুষ, আহমেদ শারফুদ্দীন, বিহংগ, তানজিলা হক, মুকুল ভাই কে উৎসর্গ করলাম।




ভুলে ভরা ডাইরি - শেষ পর্ব

অনিচ্ছা সত্বেও মায়ের কাছে থেকে চিঠিটা নেয় পরী। খুব অবাক হয় রঞ্জন ভাইয়ের চিঠিটা দেখে। রঞ্জন ভাই নীলের খুব কাছের বন্ধু। কৌতুহলী হয়ে তারাতারি চিঠিটা খোলে পরী। রঞ্জন ভাই লিখেছে গত মাসের বাইশ তারিখে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে নীল। পরীকে লেখা একটি চিঠি নীলের পকেটে ছিল। সেটি পরীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন উনি।

এইটুকু পড়ার পর পরীর মনে হয় পৃথিবীর সব যেন শব্দ থেমে গেছে। একফোটা বাতাসের জন্য তার বুকটা মনে হয় ফেটে যাবে এখন। তারপর আর কিছু বলতে পারেনা পরী। চেতনা হারায় পরী।

এরপর প্রায় তিন মাস কেটে গেছে। সারাদিন রাত নীলের চিঠিটা নিয়ে বসে থাকে পরী। নীল লিখেছে...

পরী
তোমাকে কি বলে সন্মোধন করবো সেই চিন্তা করতে করতে অনেক ক্ষন ধরে কাগজ কলম নিয়ে বসে আছি। কোন কিছুই যেন যথার্থ মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে পৃথিবীর এমন কোন ভাষা নেই যা আমার বুকের এই মহাবোধকে ধারন করতে পারে। তারপর হঠাৎ মনে হলো তোমার এই সাধারন অথচ বিষ্ময়কর নাম নামটি ছাড়া যেন কোন কিছুই যথার্থ হতে পারেনা। তুমি হয়তো "বিষ্ময়কর" শব্দটি শুনে ইতিমধ্যে ভুরু কুঁচকে ফেলেছো। বিষ্ময়কর কেন বলবনা বলো, এই একটি নাম শুনলে আজও আমার মনে হয় এই একটি মাত্র শব্দ ছাড়া পৃথিবীতে আমি আর কোন ভাষা জানিনা। এই একটি নাম আজো আমার প্রতিটি রক্তবিন্দুকে পাড় মাতাল করে তোলে, মনে হয় অবলীলায় আমি তাজমহল দান করতে পারি কোন ভিখিরিকে।

জানি, হাসছো আমার কথা শুনে, ভাবছো কি বোকা ছেলেরে বাবা। হয়তো আমি বোকাই। বোকারাই পারে ভালবেসে সব দিয়ে দিতে। এত হিসেব কষেতো ভালবাসা যায় না। এ এমন এক অবুঝ অলৌকিক বোধ যা ছাড়া মানুষ কোনদিন হয়তো তার নিজেকে সত্বাকে চিনতে পারে না। শুধু তোমাকে ভালবেসে আমি উপলব্ধি করেছি জীবনের পরম সত্যকে। তাইতো হারানোর ভয় করিনা আর কোন কিছুকে।

তুমি কেমন আছো জানতে চাইবো না। আমি জানি তুমি ভাল আছো কারন আমার সারা জীবনের ভাল কাজটুকুর বিনিময়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে তোমার ভাল থাকা টুকু চেয়ে নিয়েছি। আর আমি? অনেক ভাল আছি। জাগতিক কোন দুঃখ কোনদিন আর আমাকে আর স্পর্শ করতে পারবে না।
এখন ভাবি, একদিন কত অবুঝ ছিলাম আমি। স্বপ্ন দেখতাম কোন পূর্ণিমা রাতে আমাদের ছোট্ট কুঠিরের উঠোনে খেলা করবে আমাদেরি ছোট ছোট দুটি নীল পরী। তখন সবকিছু চিন্তা করতাম আমার করে। তোমাকে ভালবেসে আজ আমি সেই ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাই সামনের মাসের সাত তারিখে একটি স্কুল মাষ্টারের চাকরি নিয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছি। আমার ভালবাসা দিয়ে সেখানে ফোটাতে চাই শত শত নীল পদ্ম।

নিজের প্রতি খেয়াল রেখো আর তোমার মাথা ব্যথার অষুধ খেতে ভুলে যেওনা কখনো। মন খারাপ হলে সন্ধ্যাতারাটিকে সব কিছু বলে দিও। আমি তার কাছে থেকে সব কিছু জেনে নেবো।

ইতি

নীলাভ

যতবার নীলের চিঠিটি পড়ে, ততবার চোখের পানিতে প্লাবিত হয় পরী। একটি মহৎ ভালবাসা একজনকে কতটা ঐশ্বর্যবান করে তোলে তা নীলকে দেখে বুঝেছে পরী। নিজেকে আজ তার নিঃশ্ব রিক্ত মনে হয়। নীল বলেছে...

ভালবেসে ভূল কোরো নাকো তুমি
ভূল করে একবার ভালোবেসো ।
তোমার নীল রংঙের তুলি দিয়ে
আঁচর কেট একবার
তাকে মূর্ত করে তুলো নাকো কখনো ।

পৃথিবীতে থাক না কিছু ভালবাসা
ঘাসফুল হয়ে --- তোমার আমার
শালিকের চোখ নিয়ে
জলছবি নয়, জলে আঁকা ছবি হয়ে...

কোনদিন যদি বুঁনো ফুলের গন্ধ
তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়...
সেদিন তার দেখা পাবে তুমি.. হয়তো
একটি ঘাস ফড়িং হয়ে তোমার পাশে ।

পৃথিবীতে সব ভালবাসা
ভালবাসা হয়না...
ভালবাসা পাখি হয়, নদী হয়
চোখের কাঁজল মেশানো নদী...
হয়তো তেমন ভালবাসাই চেয়েছিনু আমরা ।


আজ বসে বসে পরী ভাবে, নিজেকে সে এভাবে হেরে যেতে দেবেনা। নীলকে এভাবে চলে যেতে দেবেনা সে। নীলকে সে বাঁচিয়ে রাখবে, নীলের স্বপ্ন গুলকে পূর্ণতা দিয়ে। নীলের দেয়া ভালবাসাকে সে ছড়িয়ে দেবে, ছোট ছোট শিশুদের মুখের হাসি ফুটিয়ে তুলতে। অনেক দিন পর পরীর বুক থেকে মনে হয় একটা পাথরের বোঝা নেমে যায়।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28746681 http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28746681 2007-11-21 05:35:16