বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যার ৯০% জনগণ ইসলাম ধর্ম পালন করেন। ৯% হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং ১% অন্যান্য ধর্ম পালন করে থাকেন (তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া)। আওয়ামী সরকারের নির্বাচনী ওয়দা মোতাবেক তারা '৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবে এবং বাংলাদেশকে সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে পরিণত করবে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে।
বর্তমানে আমরা হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই হিসাবে বসবাস করছি। এক হিন্দু ভাইয়ের সুখে আরেক মুসলিম ভাই শামিল হচ্ছি। আবার মুসলিম ভাইয়ের দুঃখে আরেক হিন্দু ভাই পাশে থাকছেন। ঈদ, পূজা-পার্বনে এক সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করছি। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, “ভাই দেশ তো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তা এইটা হয় কেমনে?” আমার উত্তর একটাই, “যা বলেছি সত্য বলেছি, বাংলাদেশে এটাই হয়; হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই আমরা সবাই। আমাদের মাঝখানে কোন বিভক্তি নাই”।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমরা যখন হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই হিসাবে বাংলাদেশে আছি তখন ধর্মনিরপেক্ষতার ধূঁয়া কেন তোলা হচ্ছে? এটা কি আমাদের বিভক্তি করার চেষ্টা করা হচ্ছে না? কিছু চরিত্রহীন রাজনীতিবিদেরা বলে থাকেন যে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আসলেই কি তাই? যারা নির্যাতন করে তারা সন্ত্রাসী আর তাদের ধর্মই সন্ত্রাস। কোন ধর্মে সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি। কারণ বর্তমানে ধর্মকে বিক্রি করে রাজনীতি করা হচ্ছে যা ধর্মকে কলুষিত করছে। আশা করি আপনিও আমার সাথে একমত হবেন।
বাংলাদেশকে সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ করে কি করা হবে তা আমার জানা নেই। কার সন্তুষ্টির জন্য সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে তাও আমার জানা নেই। বাংলাদেশে আইন-কানুন অনেক আছে কিন্তু বিচারের সময় দোষীরা ছাড়া সহজেই পেয়ে যায়। আইন অমান্যকারী রাজনীতিবিদের সংখ্যা কিন্তু কম না। যদি কোন কিছুর জন্য কারো সদিচ্ছা না থাকে তাহলে তা জোর করে আইন দিয়ে করা সম্ভব না।
ধর্মনিরপেক্ষতার ধূঁয়া তুলে বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাইদের বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভারতের চরিত্রহীন রাজনীতিবিদেরা হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাইদের বিভক্ত করে নির্বাচনে ফায়দা লুটে থাকেন। তাই কি বাংলাদেশের চরিত্রহীন রাজনীতিবিদেরা সুযোগ নিতে চলেছেন? জাতির পিতার হত্যাকারীদের শাস্তিও হয়ে যাচ্ছে আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও শুরু হবার পথে। এ ইস্যুগুলো যদি শেষ হয়ে যায় তখন কি হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাইদের বিভক্ত করে নোংরা রাজনীতি শুরু হবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



