somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার একটা ঘটনা (বাকী অংশ)

০৭ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খেয়ে উঠে পড়লাম। সেদিন গেল। ২দিন পরে আমাকে ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা। তুমি বড়লোক হতে চাও কিনা? কিভাবে হবে? তোমার এত বুদ্ধি কেন? এত বুদ্ধি নিয়ে ঘুমাও কোথায়?
আমি বললাম, আমার বোনের বাম পাশে আমি ঘুমাই।
আবার বলল , মাথার নিয়ে কি দিয়া ঘুমাও।
বললাম, তুলার বালিশ দিয়ে ঘুমাই। শুনে হাসল।
আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলি, শুনেছি অনেক মেয়ে অফিসে বসের পি.এ. হিসাবে জব করে অনেক টাকা জমায়, কিভাবে?
আমি বললাম, আমি কিভাবে বলবো।
আবার বলল, শুনেছি, তারা নাকি বসকে না হয় বসের ছেলেকে হাত করে টাকা কামায়।
বললাম, হতে পারে, তো এতসব আমাকে শোনাচ্ছেন কেন?
বলল, তোমার অনেক টাকা মালিক হতে ইচ্ছা করে না? কিন্তু সেটা মালিক কিংবা মালিকের ছেলেকে হাত করে, নিজের যোগ্যতায়।
আমি তো বুঝলাম উনি বলতে চাচ্ছে। আমি বললাম স্যার, আমি যেখানে জব করি বা করব, আমাকে যদি বস এরকম কোন প্রস্তাব দেয়, তো আমি উইথাউট নোটিশে চাকুরী ছেড়ে চলে যাবো। তারপরদিনই আসা বন্ধ করে দিবো।

এরপর আর বাড়াল না, গেল সপ্তাহ খানেক। আবার একদিন আমাকে ডাকল, বসো তোমার সাথে কথা আছে। বসলাম।
বস: আমি তোমাকে একটা জরুরী কথা বলবো।
আমি: বলেন।
বস: তোমাকে অনেক ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম তুমি বুঝলে না। তো এখন আমি তোমাকে সরাসরি বলছি।
আমি: কি বলবেন, বলেন।
বস: আমার তোমাকে খুব পছন্দ, (ওহ: তার মেয়ে তখন নবম শ্রেনীতে পড়ে) তুমি ২ বছর আমার সাথে থাকো। আমি তোমাকে একটা ফ্ল্যাট কিনে দেবো, আমার গাজীপুরে আমার জমি আছে, একবিঘা জমি তোমার নামে লিখে দিবো।
আমি: (শুনে তো হা, হাসলাম কিছুক্ষন, সে তাকিয়ে আছে) স্যার আপনি যে প্রস্তাব দিলেন, ভালো প্রস্তাব কিন্তু আমি এ প্রস্তাবে রাজি নই। যদি আপনি এই প্রত্যয় নিয়ে থাকেন, তো আমি চাকুরী করবো না। আমি তাহলে স্যার কালকে থেকে আর আসবো না।
বস: না না তোমাকে চাকুরী ছাড়তে কে বলল, ঠিক আছে ভেবে দেখো। তারপর আমাকে জানিও।
আমি: ঠিকআছে। (ঠিক আছে বললাম এইজন্য যে, আমি আমার বোনের ঘাঢ়ের উপর বসে খাই। ২দিন পরে রোজা শুরু, সামনে ঈদ, এখন যদি চাকুরী ছাড়ি তো এ মাসে চাকুরী পাবো না, তাই ভাবলাম, দেখি রোজার মাসটা কোনমতে কাটিয়ে দেয়া যায় কিনা।, এরই মাঝে আমি আমার ছবি সহ সিভি গোপনে তার ডাইরী থেকে সরিয়ে ফেলেছি। বাসার নাম্বার ডিলেট করে দিয়েছি।)

এতসব কিছুর পরও সে কোন সাড়াশব্দ করলনা। আমিও চুপ। হঠাৎ রোজা শুরু হল। আমিও রোজা, সেও রোজা। বিকেল বেলা, অফিসে কেউ নেই। একটা ছেলে আসল, ঈদের জন্য ক্লাবের চাদা চাইতে, সে পারবে না বলে বিদায় করল। এর আমাকে বলে-
বস: এরকম কোন ছেলে এসে যদি আমাদের ডাকাতি করে। দরজা বন্ধ করে দেই।
আমি: কিছু না ভেবে বললাম দেন স্যার। সত্যিই তো যদি এরকম হয়।
একটু পরেই বাসায় চলে যাবো। আমি বের হবো। হঠাৎ সে আমাকে তার টেবিলের সামনে বসতে বলল, বসলাম।
বস: দরজা আটকানো, অফিসে তুমি আর আমি, তোমার ভয় লাগে না।
আমি: কেন ভয় কিসের।
বস। কেন আমাকে ভয় লাগে না।
আমি: কেন আপনাকে ভয় কিসের আপনি বাঘ না ভাল্লুক।
বস: তোমাকে আমি সেদিন যে কথা বলছিলাম। কিছুতো বললে না।
আমি: স্যার রোজা রেখে এসব কথা মুখে তুললেন না, পাপ হবে।

বস ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠতে লাগল দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম, আমি তাড়াতাড়ি চেয়ার ছেড়ে আমার টেবিলে গেলাম। উনি আমার টেবিলের ওপারে এসে আমাকে হাত ধরে টানতে লাগল, আসো আমার কাছে আসো। আমি সাথে সাথে মোটা এবং বড় সাইজের একটা এন্টিকার্টার ছিল ড্রয়ারে বের করে বললাম,
বেশি যদি বাড়াবাড়ি করেন, তো আমি আপনার চেয়ে সাইজে বড়, সো আপনাকে জবাই করে কেটে টুকরো টুকরো করে চলে যাবো। সে ভয় পেয়ে সরে গেল। আমি এই ফাঁকে দৌড়ে বান্দায় চলে আসলাম, ব্যাগ নিয়ে, এসে বললাম আমি যাচ্ছি স্যার। এরপর সে দরজার কাছে এসে হাত ধরে টানাটানি করল, আমি বারান্দার গ্রিল ধরে থাকলাম, সে বলতে লাগল, আমি তোমাকে কিছু বলবো না ভিতরে চল।
আমি: না, আমি ভিতরে যাবো না, আর আপনি আমার হাত ধরবেন না, লজ্জা করে আমার মতো আপনার একটা মেয়ে আছে, রোজা রেখেছেন, আবার নামাজ পড়ছেন, ছি: আপনাদের মতো পুরুষদের আমি ঘৃনা করি, ঘৃনা করি। আপনাকে আমি শ্রদ্ধা করতাম। বাকী জীবন আপনাদের মতো পুরুষকে আমি শুধু ঘৃনাই করবো। বলে আমি বের হয়ে আসলাম সোজা অফিসের বাইরে। আর যাইনি। বেটা দিনে ২০বার ফোন করতো আমাদের বাসায়। পরে আপাকে ঘটনা বলি, সে আচ্ছা মতো বকুনি দিয়েছে। তারপর আর কোন রাস্তা না পেয়ে, তার বউকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছে, তাকে আমি ইচ্ছা মতো বকে দিয়েছি। আপনার স্বামী একটা লম্পট, লুচ্চা, তার ছাপাই গাইতে আসেন আবার, লজ্জা করে না, আর কখনও এখানে ফোন করবেন না। ঐ শেষ, তারপর প্রতিদিন ২/৩ বার করে ফোন করতো কেউ নাম্বার দেখে ধরতো না, এরপর একদিন বন্ধ হয়ে গেল।

আমি সত্যি আজও ঘৃনা করি সেই লোকটাকে। পরে শুনেছি, আমি একমাত্র মেয়ে তার জীবনে যে, তার খাচায় ধরা পড়ি নাই। এশ্রেনীর মানুষগুলো সমাজের কলঙ্ক। এরা মেয়েদের শত্রু। আমি না ভয় না পেয়ে, চাকুরী না ভয় না পেয়ে বাঁচতে পেরেছি, যে মেয়েটা অভাবি, সব পথ বন্ধ, রোজগারের আর কোন পথ নাই, তাদের মতো মেয়েদের কি হয় এবার ভাবুন।
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×