মনটা ভালো ছিলো আজ, বেশ বেশ ভালো। সচরাচর এতো ভালো থাকে না, আমি নিজেই অবাক ছিলাম। এর থেকে বেশি ভালো হবে তেমন আশাও ছিলো না, কিন্তু বৃষ্টি তো বৃষ্টিই।
এক বন্ধুর কথা মনে পড়ল, আমাকে সবসময় বলতো, তুই কি রবীন্দ্রনাথ যে বৃষ্টি দেখলেই মাথা খারাপ করতে হবে? আমি হাসতাম, ও তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলত। একদিন আমি বৃষ্টিতে ভিজিনি-কোনো পাগলামি করিনি-লাফ দেইনি-হাতটাও ভেজাইনি, পান্থর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। আমি বসে তার অস্থিরতা দেখেছিলাম। আজ বলতে ইচ্ছে করছে পান্থকে, দোস্ত, সেদিন আমি মনে মনেই সেদিন ভিজেছিলাম, আর মনে মনেই হেসে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম। সেদিন চুপ থাকাই ছিলো আমার
আরও গল্প মনে এসে ভিড় করছে, বৃষ্টি ভেজা গল্প, বৃষ্টি ভেজার গল্প।
স্কুলের মাঠে, বাসার ছাদে, কলেজের বারান্দায়, রমনায়, ধানমন্ডি লেক, রিকশায় এখানে-সেখানে, টি এস সি এবং আমার সবচে ভালোবাসার আমাদের প্লিন্থ (আমাদের আর্কি বিল্ডং এর উঠোন বলা যেতে পারে)। মায়ের বকা আর কঠিন কবে-তুমি-বড়-হবে দৃষ্টি, বৃষ্টি ভেজা বন্ধুদের মুখ, ছুটে বেড়ানো, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া, কাদায় ফুটবল খেলা, মা'র বকার ভেয়ে বাসায় না ফিরে বড় বোনের বাসায় ফেরা এবং ভাগনীদের সাথে মুড়ি মাখায় মেশানো আড্ডা। সব মনে পড়ছে, আনন্দের সব স্মৃতি। বাতাস এসে কাঁপিয়ে দেয়ার আগে বুঝিনি যে ততক্ষণে আমি কাক ভেজা।
ঘরে এসে হাত মুখ মুছতে মুছতেই টিভিতে চোখ পড়ল, একুশেতে লাইভ কনসার্ট হচ্ছে, টুটুলের। আমার বেশ লাগে, সুতরাং তার বোবাত্ব থেকে মুক্তি দিলাম।
কাল সকালে ক্যাম্পাসে যাব, ৫-২ এর গ্রান্ড জুরি কাল। একে তো আর এক ব্যাচ পরেই আমাদের পালা, তারউপর আমার প্রিয় কিছু প্রজেক্টের জুরি আছে, সুতরাং যাবই। তাই ভেবেছিলাম আজ তাড়াতাড়ি ঘুমাবো, হলো না। যত দোষ বৃষ্টির।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৮ রাত ৩:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


