গ্রীলের রংটা সাদা।
আকাশটা নীল। ফ্যাকাশে টাইপ নীল না, কেমন যেন গাঢ় একটা আসমানী।
আর তার মধ্য চাঁদটা রূপালী একটা বলয় তৈরি করেছে। সবসময় যেমন করে তেমন না, আরও মোটা একটা বলয়।
সময়টাও তো আর দশটা সময়ের মতন না। সূর্য উঠি উঠি করছে। মনে হয় একেই বলে সুবহে সাদিক।
কাজ শেষ না হওয়ার ফ্রাস্টেশন তাড়াতে সিগারেটটা ঠোঁটে লাগাই। আগুন ধরানোর সময়ই কই থেকে জানি ঝির ঝিরে বাতাস আসলো দক্ষিণ থেকে। প্যাকেটে ঢুকিয়ে পকেটে চালান হয়ে গেলো সিগারেটটা।
ভোরের এই আলো ফোটার সময়টা বেশ ইন্টারেস্টিং। অনেকটা আহ্লাদী বাচ্চা মেয়ের ঘুম থেকে উঠার মত করে শহরটা জাগতে থাকে একটু একটু করে।
আর ঘন্টা দুই পরে ঘুমাবো। শফিককে ঘুম থেকে তুলে। ও অফিসে যাবে। কি অদ্ভুত আমাদের জীবনটা। ও ঘুম থেকে উঠে কাজে যায় আর আমি কাজ শেষ করে ঘুমাতে। একই শহরে থেকেও দেখা হয় না। সপ্তাহান্তের ছুটির দিনটাও যে আমার ছুটি না। আমার কাজের যেমন মাথা-মুন্ডু নাই, ঠিক নাই আমার শিডিউলেরও। আর শফিক, ঘুম থেকে উঠা থেকে প্রতিটা জিনিস করে ঘড়ির কাঁটা ধরে, ওর জীবনটাই কেমন ঘড়ির নিয়মে বন্দী।
একসময় ওর সাথে আমার জীবনটাও ঘড়ির ঐ চক্রে পড়ে যাবে না?
বুক ভরে নেই নিঃশ্বাসের সাথে নিকোটিন,যেন মাথা ঠান্ডা করে কিছুটা। অবাক হয়ে নিজের হাতের দিকে তাকাই, ওটাকে না পকেটে ঢুকালাম?
জানালার দিকে তাকাই, নিজকে শান্ত করার জন্য।
চাঁদের বলয় তার স্বভাবিক আকারে ফেরত গেছে।
আকাশটা ফ্যাকাসে একটা আসমানী, যেন আবীরের অপেক্ষায়।
সাদা রঙের গ্রীল, কেমন যেন ঘড়ির কাঁটার মতন দেখায়
এলোমেলো মুহূর্ত - ২
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


