বিবাহ পরবর্তী জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা লইয়া ইতিপূর্বে নারীদ্বেষ নামক পর পর দুইটি পোষ্ট লিখিয়াছিলাম ইতিপূর্বে।তাহাতে বন্ধুরা নিজের জীবনের মিল খুজিয়া পাওয়াতে যারপর নাই খুশি হইয়াছিল কিন্তু আমার গৃহে তাহার উত্তাপ যেনো দাবানল কেও হার মানাইয়াছিল.. দৈনন্দিন খোটা আর চোখ রাঙ্গানীতে ভাবিয়াছিলাম এই পথ আর মাড়াইবনা।
আগামী কাল আমার প্রিয় বন্ধু রাব্বি! আমার আরেক বান্ধবী অনিন্দিতা একার গায়ে হলুদ।রাব্বি কিছুক্ষন আগে মুঠোফোনে বলিল ইহা লইয়া যেন একটা উৎসাহব্যঞ্জক কিছু একটা লিখি.... তথাস্তু... বন্ধুর অনুরোধ। গৃহীনির গঞ্চনা সহ্য করিয়া চুপি চুপি ব্লগ লিখিতে বসিলাম।চুপটি করিয়া বলিয়া রাখি। রাব্বি আমার বউ এর খুব প্রিয় একজন মানুষ। কিছুকাল আগেও তাহার হলুদে কি পড়িবে তাহা লইয়া অত্যন্ত আহ্লাদিত ছিল। কিন্তু সেই রাব্বিকে লইয়া এই মাঝ রাত্তিরে কেন ব্লগ লিখিব তাহা লইয়া খন্ড যুদ্ধ করিতেও পিছপা হয়নাই... হায়রে নারী জাতী... কখন যে কে কাহার শত্রু আর কখন যে কে কাহার মিত্র হইয়া যায় তাহা মনে হয় বিধাতাও বুঝিতে পারেন না।
যাহা হোউক... ভাবিলাম খুব খুশির কিছু একটা লিখিব। কিন্তু হায়... রাব্বির জন্য চোখ কেবল ঝাপসা হইয়া আসিতেছে। কোরবানীর আগে গরুকে যেমন ধুইয়া প্রস্তুত করানো হয়... ফাসীর মঞ্চে উঠিবার আগে আসামীকে যেমন করিয়া গোছল করানো হয়... বন্ধু তোমার গায়ে হলুদ এর প্রক্রিয়াও তেমনি। তোমাকে শাহী মসলা মাখাইয়া কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হইতেছে... তুমি আজীবনের জন্য ফাসির দড়িতে ঝুলিতে যাইতেছ... ইহাতে এক্ষুনি তুমি যতই দাত কেলাইয়া, বুক ফুলাইয়া হাসিতেছ... তাহা যে কিছু কাল পরেই আজীবনের জন্য হারাইয়া যাইবে... তাহার জন্যই তীব্র মর্মবেদনায় পুড়িতেছি।
জীবনে যে অমোঘ নিয়তি তোমাকে ঘিরিয়া রাখিবে তাহাতে প্রতি সন্ধায় ইমনের দোকানে আড্ডা আর হুট হাট করে কোথাও হারাইয়া যাইবার ব্যামো গুলো এক্কেবারেই লোপ পাইবে।
ভাবিতেছি তোমার বাসর রাত কেমন হইবে? ডিসকো বান্দরের মত করুন পরিনতি কি তোমার জীবনেও আসিবে? যদি বলিয়া বসে আপাতত আমরা আরো কয়েক বছর বন্ধুর মত কাটাইয়া দেই...
ইহা যদি নাও হয় তবে বিবাদ একটা লাগিবেই সেই রাত্তিরেই। ইহার কোন ব্যত্যয় নাই। হয়ত বলিয়া বসিবে তুমি এত জোরে নাক ডাক আগে তো বল নাই... বলিয়া নিজে তারচেয়েও তীব্র ভাবে নাক ডাকিয়া ঘুমাইতে যাইবে... সাবধান... তাহা যদি ধরাইয়া দিতে যাও উল্টা নারী নির্জাতনের মামলায় ফাসিয়া যাইতে পার।
অনেক কথা আসিতেছে মনে.. কিন্তু লিখিয়া বিবাদ কে তরন্বিত করিবার ইচ্ছে নাই।কারন তাহা বউ ঘরে আসিবার সাথে সাথেই উহাকে যৌতুক স্বরুপ লইয়া আসে।
কেবল কিছু মহান বানী শুনিয়া রাখ...
"হে পুরুষ যেইদিন তোমার বিবাহ হইয়াছে সেই দিন তুমি তোমার শারীরিক পুরুষত্ব প্রমান করিলেও মনের পুরুষত্বযে যেকোন সময় হারাইয়া যাইতে পারে তাহার শংকা জাগিয়াছে। সুতরাং সাধু সাবধান।"
"বিবাহের প্রথম রাত্তীরে বিড়াল মারার সনাতন পদ্ধতি ভুলিয়া যাও.. ইহাতে সমূহ বিপদ। আধুনিক পদ্ধতি হইতাছে ফিশিং গেম। যে যত সময় লাগাইয়া খেলিয়া খেলিয়া মাছ ধরিতে পারে সেই পাকা মৎস শিকারী। তেমনি করিয়া খেলিতে হইবে.. পর্যবেক্ষন করিতে হইবে... টোপ গিলাইতে হইবে... যখন পুরোপুরি আয়ত্বে চলিয়া অসিবে তখন রাজত্ব তোমার।"
"বিবাহের পর যথা সম্ভব বধির হইয়া যাও... নারীর প্রথম এবং একমাত্র কাজ হইতেছে অভিযোগ করা। শুনিবার চেষ্টা করিলেই বিপদ। তাহার মাত্রা বাড়িতেই থাকিবে। বলিতে থাকিলে এমন একটা ভাব করিবে যেনো খুব শুনিতেছ। প্রতিউত্তরে দীর্ঘসস্বাস ছেড়ে বলিবে... "ঠিকই বলিয়াছ... দেখি কি করা যায়"।
কিন্তু তুমি কিছুই করিবে না। আপন কাজ কর। ওরা এম্নিতেই ভুলিয়া যাইবে... মনে রাখার মত স্মরন শক্তি তাহাদের নাই.. কারন মস্তিস্কে তো কিছু থাকিতে হইবে.. "
"ঝগড়া বাধিবেই। তাহাতে চিন্তার কিছু নাই। কিন্তু তাহাকে প্রলম্বিত হইতে দিবা না। সহজ উপায় সামনে থেকে সরিয়া যাও। বাইরে ঘুরিয়া আস.. বিড়ি ফুকিয়া আস... এমন একটা ভাব নিয়া বাইরে যাইবে যাহাতে মনে হইবে তুমি আজ রাগে খুব সাংঘাতিক কিছু একটা করিয়া ফেলিবে... কিছুক্ষন পর ফিরিয়া আস... দেখিবে সব কিছুই স্বাভাবিক হইয়া গিয়াছে..."
বউকে সব কিছু বলিও না... নিজের গোপন তো দুরে থাকুক... অন্যের গোপন কিছুও বলিওনা... সন্দেহ প্রবন নারীর মনকে আরো সন্দেহ প্রবন করিয়া তুলিও না।
সর্বশেষ বানী।
বন্ধু বলিয়া আমরা যারা ছিলাম ভুলিয়া যাও... অন্তত কিছুকাল। কারন যে বন্ধুদের কল্যানে আজ এতকিছু হইতেছে সেই বন্ধুরাই কিন্তু তোমার বউ এর সতীন হিসাবে আবিভূর্ত হইবে। তাহাদের লইয়া তোমার কিসের এত আদিখ্যেতা... ই্ত্যাদি বক্র বানে জর্জরিত হইতে হইবে।
আপাতত এতটুকই থাকুক। পরবর্তীতে সুস্থ খাকিলে (তুমি) আবার কথা হইবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


