প্রবাসে বৈচিত্রময়, তবুও নিরানন্দ সময়!
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৩
সোনামুখী ধান যখন গরম হাড়িতে ডালা হয়, ফট ফট শব্দে লাফিয়ে উঠে হাসিমুখো খই। তার হাসি আর তেজের সোনালী আমেজে মৌ মৌ হয় চারপাশ। কিছু কিছু খইএর গায়ে ল্যপ্টে থাকে বিদায়ী ধানের সোনালী শরীর। কিষানীর সোহাগী হাতে একটি একটি করে আলাদা হয় আদরে। পাটালী গুড়ের রসালো গন্ধ আর নতুন ভাজা খই এর ওম ওম শরীর...! আহা! কি সে স্বাদ, সে কি আনন্দ!
এ স্বাদ শুধুমাত্র খই এর নয়, এ স্বাদ সময়ের, এ স্বাদ সে সময়ের, সে পরিবেশের সারল্যের। এ স্বাদ আর আনন্দ কিষানীর নরম আদর আর সারল্যের।
অনেক দেখেছি পৃথিবীর। পা ফেলেছি প্রান্তে প্রাত্যান্তে বহুবার। কিন্তু কখনোই এতোটা একান্তে নয়। এই একান্ত থেকে দুরে সরা জীবন থেকেও দুরে সরারই সামিল।
এ একান্ততা থেকে দুরে সরে আমরা, প্রবাসীরা আমাদের চোখের দৃষ্টিতে দৃষ্টিতে যতোটা তৃপ্ত, অন্তরের অন্তস্থলে কি তাই?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): দেশ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দেশাচার বিভাগে ।
চোর বলেছেন:
কি জানি!আমার মধ্যে এসব ভাবাবেগ তেমন কাজ করে না। সব অবস্থায় 'বেস্ট অপশন'-এ সুখী থাকার বদভ্যাসের শিকড় অনেক গভীর হয়তোবা!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
তীরুদা , অনেক দিন পর লিখলেন !
তীরন্দাজ বলেছেন:
আমার ভেতরেও তা এতটা করতো না চোর। কিন্তু একসময়ে অবশ্যম্ভাবী হয়ে আসে ´ও প্রচন্ড শক্তিতে।আপনার ভেতেরও আসবে, অপেক্ষা করুন।
সুমন, মনটা অন্যরকম ছিল অনেকদিন। তাছাড়া ব্যস্তও ছিলাম বেশ।
সবাইকে ধন্যবাদ!
তীরন্দাজ বলেছেন:
Ich war sehr beschaeftigt und unkonzentriert Shumon. Das Leben macht ja manchmal einen Strich durch die Rechnung.Aber jetzt geht es mit gut. Danke Shumon!!
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
চাক্কু দিয়া ঘা দিলেন ...লেখার স্টাইলটাও হেভী হইছে ... খইয়ের মাঝে প্রাণের সঞ্চালন
তীরন্দাজ বলেছেন:
সুমেরু, নিজের লিখতে ভাল লাগলেই লিখি। অনেক সময় নিজের লেখাও ক্ষনিক পরে আর ভাল লাগে না। সুতরাং আপনার ভালো না ও লাগতে পারে। তারপরও জানানোর জন্যে ধন্যবাদ।জ্বিনের বাদশা, খুশী হলাম। ভালো আছেন?
পরাগ জাফর, সুমন জার্মান ভাষায় তার মন্তব্য জানিয়েছিলেন, আমিও সে ভাষাতেই তাকে জানালাম। মনে কিছু করবেন না।
ছোটবেলার আমার অনেক ভালো লাগা আমার নিজের ছোট বোন বা অন্যান্য পিচ্চিদের দেখি অত গুরুত্বের সাথে নেয় না। অত ভালো লাগে না ওদের। তার মানে, ওই জিনিসগুলোর ভালো লাগা জাগিয়ে তোলার ইউনিভার্সাল ক্ষমতা নেই। সুন্দর করে বলেছে, স্বাদটা আসলে সেই সময়ের। মিড লাইফ ক্রাইসিস?
চোর বলেছেন:
আমার মনে হয়, এই নিরানন্দ সময়ের কষ্টটা আসে মানুষের আশাবাদী মনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। দেশে হাজারটা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাই আমরা। সুখের 'ঘটনা'র চেয়ে অনবরত চোখের সামনে দেখি দুঃখের 'ঘটনা'। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার একটা বড় কারণ, দেশের সে পরিবেশ থেকে 'মুক্তি' পাওয়া।বিদেশে এসে অধিকাংশ মানুষই প্রথমে ধাক্কা খায় জীবনের স্পিড অনেকগুণে বাড়াতে হয় বলে। একসময় সে স্পিডে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তারপরে আসে আবার দেশের সে চিন্তা, স্মৃতি রোমন্থন। মজার ব্যাপার হলো, কোনো কারণে দেশের দুঃখের স্মৃতিগুলো ফিলটারড আউট হয়ে যায়, অনুভূতিতে সুধু সুখ আর ভালোলাগার স্মৃতিগুলোই লেগে থাকে। হয়তো জন্মসূত্রে প্রাপ্ত ভালোবাসার টানই এর কারণ।
মাঝে মাঝে দেশে গিয়েও ঠিক দেশের জীবনের অরিজিনাল স্বাদ আর পাওয়া যায় না। নিজে অতিথির মতো। একটা ভালোবাসা, ভালোলাগার আবেশ সবসময় সে জীবনের সারফেসে রাখে, কখনো গভীরে পৌঁছাতে দেয় না।


















