somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গালিবাজ না বিশ্বাসঘাতক?

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গালিবাজ না বিশ্বাসঘাতক? আপনাকে যদি দু'টো দলের মাঝে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, কোনটি নেবেন আপনি? যদিও নিজে গালাগাল জানিনা, পছন্দও করি না, তারপরও আমার কাছে বিশ্বাসঘাতকদের চেয়ে গালিবাজই অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য। এদের তুলনায় গালিবাজরা অনেক বেশী স্বচ্ছ। এই স্বচ্ছতার কারণেই সুযোগ থাকবে গালির কারণ খুঁজে বের করার। গালির পেছনে কারণ থাকলে সে কারণ খুজে বের করারও অবকাশ থাকবে। সে কারণ যদি অযৌক্তিক হয়, অবকাশ থাকবে প্রতিবাদ করার। প্রয়োজনে সে গালির বিপক্ষে নিজের যুক্তিকে দাঁড় করানোরও সুযোগ থাকবে।

কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের কর্মের পেছনে কোন যুক্তি দাঁড় করিয়ে কাজ হয়না। অন্ধকারে যুক্তি দাড় করানো যায়? বিশ্বাসঘাতকদের বিনাশক কর্মের পেছনে স্বচ্ছতার লেশমাত্রও থাকে না। এদের চিন্তার পেছনে কোন নীতিবোধের কাঠামো নেই, আছে এদের চারিত্রিক দৈর্বল্যের নিষ্ঠুরতা। যে কোন যুক্তির ব্যবহারেও এদেরকে সংজ্ঞায়িত করা যায়না। এদেরকে চেনা একেবারেই অসম্ভব। আমার কাছে এরা যো কোন পশুর চেয়েও অধম। এদেরকে চেনার ক্ষমতা আমার নেই।

ব্লগে ঢালাওভাবে ধর্মভীরুদের "রাজাকার" গালি দেয়ার যে ঢালাও অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কথাটি একেবারেই ঠিক নয়। অমি অনেককে জানি, যারা ধর্মভীরু, কিন্তু তাদেরকে রাজাকার বলার সাহস আজ অবধি কারো হয়নি। উদাহরণ হিবেবে নিচ্ছি "মাহবুব সুমনকে"। অনেক ধর্মীয় বক্তব্যের প্রতি তার সমর্থন দেখেছি। কিন্তু রাজাকার তথা জামাতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট ও অবিচল। তার এই স্পষ্টতার কারনেই তাকে কেউ রাজাকার বলার দু:সাহস দেখাননি। এরকম আরো কয়েকটি উদারণ দেখানো যেতে পারে। আরেকজনের নাম বলছি, জ্বিনের বাদশা। তিনিও ধার্মিক, পাশাপাশি রয়েছে দেশদ্রোহী রাজাকারদের বিরুদ্ধ তার স্পষ্ট অবস্থান। আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি। এক ইরান, পাকিস্তান ও রাজাকার প্রভাবিত ব্লগার নিজেকে ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে গালাগালির শিকার হয়েছে। এটা ঘটেছে তার অস্পষ্ট, অন্ধকার চরিত্রের কারণেই। এই ব্লগার দেশের চাইতে পাকিস্তান ও ইরানের প্রতি আনুগত্যের দোষে দুষ্ট। রাজাকারদের পদলেহন করায় তার ক্ষমতা অপরিসীম। এটা যেসব ব্লগারের বাংলাদেশে স্বাধীনতার প্রতি যাদের সন্মান রয়েছে, তাদের সবারই জানা। তাই তাকে গালি খেতে হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ক্রিকেট হলে, আমার মন পাকিস্তানেরই পক্ষে চলে যায়। সেকথা একবার ব্লগে প্রকাশও করেছিলাম। আমাকে কোন গালি খেতে হয়নি, রাজাকার বলার দু:সাহসও কারো হয়নি। কারণ একটাই। আমার নিজের স্পষ্ট অবস্থানের কারণে আমাকে চেনেন সবাই।

অমি পিয়াল চিহ্নিত রাজাকারদের গালাগাল করেন। তার সাথে আরো অনেকেই এরকম করেন। আমি নিজে গালি না দিলেও যারা গালি দেন, তাদের যন্ত্রনা অনুভব করতে পারি। সাধারনত: বিশ্বাসঘাতকেরা আড়ালে আবডালে লুকিয়ে তাদের অভিযান চালায়। এই ঘাতকেরাই যখন সবার সামনে এসে এদের প্রভুদের গুনগান গায়, তখন অনেকেরই পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব হয়না। এরা যখন একাত্তুরের স্বাধীনতা বিরোধী খুনিদের, এদেশের লাখো লাখো মা-বোনের ধর্ষকদের পয়গম্বর সাজাতে সাহস পায়, তখন আগুন জ্বলে ওঠে রক্তে। সেসময় এই বিশ্বাসঘাতকদের সামনাসামনি পেলে কি হতো জানিনা। কিন্তু যেহেতু সে সুযোগ নেই, তাই প্রতিবাদের ভাষাগুলো গালি হয়ে বেরিয়ে আসে। এ গালিকে আমি গালি হিসেবে দেখি না। এ গালি নিজের অসহায়তার প্রকাশ, এ গালি দেশ ও মাটির প্রতি নিজের ভালবাসার প্রকাশ। অনেকেই হয়তো থমকে যাবেন, বিশেষ করে কিছু সুবিধাবাদী ব্লগার, যারা নিজেদেরকে স্বাধীনতার ধারক বাহক হিসেবে প্রকাশ করেও রাজাকারদের প্রতি সমর্থন দিতে দ্বিধা বোধ করেন না। তাদেরকে স্পষ্ট করে বলছি, আমার ভাল করেই জানা, কোন গালাগাল কাউকে আক্রমণ করার নোংরা উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, আর কোন গালাগাল রাজাকারী বর্বতার বিরুদ্ধে অসহায় প্রতিবাদ। আমাকে তাদের কেউ যেন তাদের ছদ্দ সুশীলতা শেখাতে না আসেন!

বিশ্বাঘাতক চাই না। এদের পেছনে যে অন্ধকার, তার চেহারা একাত্তুরে দেখেছি। এদের চেহারার যে কুটিলতা, তাও টের পেয়েছি একাত্তুরের প্রতিটি মুহুর্তে। এদের খড়গের রক্তস্রোতে লাল হয়ে এদেশের নদীনালা, এদের বিষনিশ্বাসে পুড়েছে এদেশের শহরবন্দর, এদের লোলুপ লালসার শিকার হয়েছে আমাদেরই মা বোন। বিশ্বাসঘাতক চাই না, ভদ্র চেহারায় এদের সুশীল সমর্থকদেরও চাইনা। এদের চেয়ে গালিবাজ আমার কাছে অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:২০
২৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×