somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তীরন্দাজের দৃষ্টিপাত: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্বর ঘটনা, "প্রশ্ন কত"র পোষ্ট ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

১১ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চেতনাবোধ কাদের থাকে? থাকে সেসব মানুষের, যারা নিজেদের অতীত, বর্তমান, সৃষ্টি ও পারিপার্শিকতাকে আত্মার গভীরে স্পর্শিত করে ভবিষ্যতের পথে তাকাতে অনুপ্রানিত হন। প্রতিটি অতীতের স্তরে স্তরে আরোহন করেই স্থাপিত হয় বর্তমানের ভিত্তিপ্রস্তর। চেতনাবোধসম্পন্ন মানুষ এসব স্তরের মাঝেই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জীবনের অনুপ্রেরনা পান, কারণ তারা তাদের শিক্ষাকে পাথেয় হিসেবে গ্রহন করে জানেন, অতীতকে উপেক্ষা, অতীতের শিক্ষাকে উপেক্ষা করে যে পথ চলা, সেটা মানুষের নয়, পশুর। আর পৃথিবীতে চেতনাহীন মানুষ যারা, তারাও পশুর সমতুল্য।

চেতনাবোধের মাঝেও পার্থক্য রয়েছে। কিছু কিছু চেতনাবোধ অনড় হয়ে নিজস্ব উতপত্তিগত কারণেই আমাদের সাথে অংগাঙ্গীভাবে জড়িত। "আমি অমুক বাবা মায়ের সন্তান" এই চেতনাবোধ জীবনের প্রতিটি মুহুর্তেই অনড়। তেমনি অনড় জাতীয় চেতনাও। "আমি বাংলাদেশী" (কেউ কেউ বলবেন আমি বাঙ্গালী, তাতেও সমস্যা নেই, কারণ এই প্রসঙ্গে পুরোনো আলোচনায় ফেরার আগ্রহ নেই আমার।) এটাও একটি অনড় চেতনা। এই অনড় চেতনাবোধের প্রতি যাদের সন্মানবোধ আছে, তারা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। শুধু সমর্থন করেই দ্বায়িত্ব শেষ করেন নি, সে চেতনাকে লালন করে রেখেছেন নিজেদের ভেতরে। এর মাঝে অনেকেই ভন্ডামোর আশ্রয় নিয়েছেন। এ সত্য অস্বীকার উপায় আমাদের নেই। থাকলে অনেকটাই অন্যরকম হতো আমাদের দেশের চেহারা। কিন্তু সেজন্যে কি প্রতিটি জাতীয় চেতনাই কি ভন্ড? যারা এটা বলেন, তাদের ভেতরে জাতীয় চেতনা তথা মুক্তির চেতনা একেবারেই অনুপস্থিত।

আরো কিছু চেতনাবোধ রয়েছে, যা সময়, সমাজ, পারিপার্শিকতাকে সাক্ষী রেখে পরিবর্তিতও হতে পারে। যারা নিজস্ব গ্রামীন সমাজ ছেড়ে শহুরে সমজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন, তাদেরকে তাদের ভেতরের গ্রামীন চেতনাবোধের অনেকটাই বিসর্জন দিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তেমনি সাজানো আছে ধনী থেকে দরিদ্র, ক্ষমতাধর থেকে ক্ষমতাহীন বা এসবের উল্টো পথগুলো। এসবের সাথে সাথে চেতনাবোধও পাল্টায় তার অলিখিত প্রভাবেই। ধর্মীয় চেতনাবোধও অনড় নয়। যদি তা হতো, কোন ধর্মই থাকতো না পৃথিবীকে। বেশীরভাগ ধার্মিকরাই এই চেতনাবোধকে নিজেদের অবস্থান থেকে অনড় দেখতে চান, আবার অন্য, বিপরীত অবস্থান থেকে পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন। এই দ্বৈত সত্বার যাতাকলে সৃষ্টি হয়েছে অনেক ধ্বংসের বীজ।

আমাদের সহব্লগার 'প্রশ্ন কত' জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করে পোষ্ট দিয়েছেন। অবশ্যই ভাল কাজ করেছেন ওনি। এধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনায় প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি চেতনাশীল মানুষের কর্তব্য। যারা এটা করেছে, তারা কোন ছাত্রদলের সদস্য কি না, এটা বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কর্তব্য, দলমতনির্বিশেষে এর প্রতিবাদ করা। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা নিজস্ব অনড় চেতনাকে বিলুপ্ত করে পাশবিকতায় লিপ্ত হয়েছে। এরা সত্যিকারভাবেই পশু।

কিন্তু 'প্রশ্ন কত' এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের জাতীয় চেতনায় আঘাত কেন করলেন বুঝতে পারছি না। প্রতিটি 'চেতনাধারী' মানুষকে 'চেতনা ব্যবসায়ী' বলে ওনি কি আমাদের জাতীয়তাবোধের চেতনাকে অপমান করলেন না? তার লেখার গতিপ্রকৃতিতে পরিস্কার ভাবেই প্রকাশ পায় যে, এই ঘটনা ঘটায় তিনি যথেষ্ট আনন্দিত। কারণ এই ঘটনাই তাকে আমাদের জাতীয়, মুক্তিযুদ্ধের অনড় চেতনায় কলঙ্কের কালি লেপনের সুযোগ এনে দিয়েছে। ওনি এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন, এখন তা গ্রহন করেছেন সাদরে। তাহলে ওনি কি? তাকে চেতনাবিহীন পশু বলা কি ভুল হবে? আমার মনে হয় ভুল হবে না। যারা এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় ও যারা শ্বাপদের মতো এর সুযোগ গ্রহন করে আমাদের অনড় চেতনাকে অপমান করে, তাদের দুটি দলই ভিন্ন ভিন্ন হিংস্রতার ধারক বাহক ভয়ংকর পশু।
২৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×