একটি কথা আগেই বলে নিতে চাই। ওনাদেরকে আমি রাজাকার বলবো না, ও যারা বলবেন, তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী হবো। আমি নিজেও ওনাদের মতোই এধরণের প্রতিবাদ অনেক করেছি। আমাকে তারপরও কেউ কখনো রাজাকার বলে নি এবং না বলার কারণটি আমার পরিস্কার অবস্থানের কারণেই। কিন্তু দ্রুতই টের পেলাম, যাদেরকে সামনে রেখে এই প্রতিবাদ, তাদের অবস্থান আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিয়ুদ্ধকে ঘিরে কতোটা কলুষিত। প্রতিটি ছত্রে ছত্রে তাদের চেষ্টা থাকে বঙ্গবন্ধুরকে অবদানকে ছোট করার, নয়মাসের হত্যাজজ্ঞকে স্বাভাবিক যুদ্ধকেন্দ্রিক এক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার। প্রমান হিসেবে ত্রিভুজের একটি পোষ্টের কিছু অংশ তুলে ধরছি।
„দেশবাসীকে হত্যা, ধর্ষন এবং লুটপাটের ইতিহাস কোন দলে নেই? একটা উদাহরণ দিন, যে এই দল এইসব থেকে মুক্ত! ৭১ এর হত্যা-ধর্ষন আর ৭১ পরবর্তী হত্যা-ধর্ষনের মাঝে আমি কোন বিশেষ পার্থক্য পাই না। ৭১এর চাইতেও ভয়াভয় লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ৭১ এর পরে ঘটেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়াতেই... রক্ষী বাহিনীর কথা আপনার জানার কথা।„
৭১ এর হত্যা-ধর্ষন আর ৭১ পরবর্তী হত্যা-ধর্ষনের মাঝে ওনারা কোন বিশেষ কোন পার্থক্য খুজে পান না। অনস্বীকার্য যে, একাত্তুরের পরে যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের জন্যে ভীষন কলঙ্কজনক, এদেশের মানুষের প্রতি প্রতারণা হিসেবে গনতান্ত্রিক ক্ষমতার অপব্যবহার হলেও একে গনহত্যা হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়না। সুতারাং ত্রিভুজের মতানুযায়ী একাত্তুরেও কোন গনহত্যা হয়নি। এটা ত্রিভুজের কথাই নয়, তার পক্ষসমর্থনকারী আরো অনেকেরই কথা।
ওনারা ধর্মের মৌলবাদীতে বিশ্বাসী। “আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় ও মোহাম্মদ (স
১) ভারতকে সুবিধা প্রদান করার জন্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা হচ্ছে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান শোসন ও এদেশের মুক্তিকামী জনগনের সংগ্রামের ফসল।
২) একাত্তুরে বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাজজ্ঞ চালানো হয়েছে, এটা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম গনহত্যার মাঝে অন্যতম।
৩) এই গনহত্যার হোতা ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদেরকে সহায়তা করেছে জামাতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস।
এখানে আরো অনেক কথা আসতে পারতো। আমার কাছে বিতর্কিত না হলেও অনেকের জন্যে বিতর্কিত হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর কথা তাই বাদই রাখলাম। বাদ রাখলাম ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সপ্নের কথা। বাদ রাখলাম মুক্তিযোদ্ধাদের ভুমিকা, তাদের শরীরে শেষ রক্তের রঙও আলোচনায় আনলাম না। বাদ রাখলাম সন্তানহারা মা বোনদের কথা। নিজের ভেতরে ভয়ঙ্কর লজ্জাবোধ হলেও মনে নিলাম, এসব আলোচনা বুদ্ধিবৃত্বিক তর্কে স্থির করার একচ্ছত্র অধিকার বুদ্ধিজীবিদেরই। এই তিনটি বক্তব্যে যারা মনেপ্রানে বিশ্বাসী, এই ব্লগের তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের ভাষায় তারাই ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা। এখানে এর বেশী বলার সহস কি করে রাখি?
আবার ফিরে যাচ্ছি এই তিনটি মৌলিক স্তম্ভে। নিজের কাছে কাছে ও আমার বিশ্বাস আরো অনেকের কাছেই এই তিনটি স্তম্ভই যে কোন আলোচনা চালানোর সর্বপ্রথম ও নুন্যতম শর্ত। এই তিনটি কথা মেনে নেবার পরপরই যে কোন বিষয়েই গঠনমূলক আলোচনার পরিধি বিস্তার সম্ভব। এটা বুদ্ধিজীবি মানস চৌধুরীর চোখে “অবসেসড” হলেও তার বুদ্ধিবৃত্তিক বাক্যবানে আমাকে তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন না। এমনকি যারা এই তিনটি বিষয় মানতে চায় না, তাদেরকে রাজাকার বা নব্য রাজাকার বলায় আমার কোন আপত্তি নেই। তেমনি কারো সাফাই যদি আমাদের কোন বুদ্ধিজীবি গেয়ে থাকেন, তাহলে কি ওনার কাছে এই তিনটি শর্ত অপরিহার্য নয়? যদি হয়, তাহলে তার কেন দেশবিরোধী চক্রকে শক্তিশালী করতে যুক্তির ফাঁদ বুননে ঝাপিয়ে পড়েন? এই বুদ্ধিজীবিদের প্রতিই অনুরোধ, তা না করে আপনাদের বুদ্ধিবৃত্তির ব্যাবহারে শুধুমাত্র এই তিনটি বক্তব্য মানানোর চেষ্টা করুন অন্যপক্ষকে। এটাই তাদের একমাত্র 'রাজাকার অপবাদ' মুক্ত হবার পথ। আর কেউ কি আছেন, যারা এই তিনটি মৌল শর্ত অস্বীকার করেন? তাদের কথাও জানতে আগ্রহী আমি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

