somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ছোটগল্প: জান্তব
রাজনীতিতে সফল ছিল মন্জুর। কিন্তু সে সাফল্যের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিপক্ষও আরো শক্তিশালী হয়, এটা জানতে খুব বেশী কাঠখড় পোড়াতে হয়না। সেদিকেও সন্দেহ ঘনিভূত হতে পারে। কিন্তু ডাক্তার যা বলার, তা বলেই দিয়েছে। আর পুলিশও ধস্তাধস্তি বা সে জাতীয় কোনো আলামত খুঁজে পেলনা। অনেকেই ময়না তদন্ত করানোর পরামর্শ দিল। কিন্তু ময়না তদন্তের নামে ডোমের হাতে ছেলের দেহকে কাটাছেড়া করাতে একেবারেই মন চাইল না সালেহা বেগমের। তাই স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নিয়েই জানাজা শেষে কবর দেয়া হলো ছেলেকে।

সারা বাড়ীতে একটি শোকের আবহ কুয়াশার মতো জেকে বসে রইল। এর মাঝে প্রতিদিনই দলে দলে মানুষ আসছে শোকবার্তা জানাতে। শুরুতে ছেলের এতোটা জনপ্রিয়তার কথা ভেবে নিদারুণ এই শোকের মাঝেও কিছুটা গর্বও হলো তাঁর। কিন্তু ক’দিন পর এতো লোকের আসা যাওয়া বিড়ম্বনার কারণই হয়ে দাঁড়ালো। সালেহা বেগমকে একাই সামলাতে হয় সব। বৌমা তো কারো সামনেই যেতে চায়না। যখন এবাড়ীতে থাকে, নিজেকে ঘরের মাঝে বন্দী করে রাখে, বাকী সময়টা বাপের বাড়ীতে কাটায়। বড় মেয়ে মালার ভাবীকে পছন্দ নয় একেবারেই, অনেক সময় অকারণেই। এবাড়ীতে এলেই ভাবীর খুঁত ধরতেই আনন্দ তার। এবারও এসে সে বেশ হন্তদন্ত হয়েই মায়ের কাছে অনুযোগ জানালো,

- ভাইয়ার মৃত্যর পর এবাড়ীর মান সন্মান কি ধুলোয় মিশে যাবে মা?

মেয়েকে দেখে এই শোকের মাঝেও কিছুটা খুশীর আলো দেখলেন সালেহা বেগম। কিন্তু তার চেহারায় আষাঢ়ঘন ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে সে আনন্দ মিলিয়ে গেল সহসা।

- কেন কি হয়েছে?
- এ বাড়ীর বউ যদি স্বামীর মৃত্যুর পর রঙবেরঙের সালোয়ার কামিজ পরে শহরের রেষ্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে আমাদের সন্মান বাড়ে না কমে? লজ্জায় শ্বশুর বাড়ীতে মুখ দেখাতে পারছি না মা! ছি!
- কোথায় দেখেছিস বৌমাকে? বাইরে কোথাও গেলে তো ও একমাত্র বাবা-মা’র কাছেই যায়।
- হ্যা, তার পেয়ারের ভাইবোনদের সাথেই চীনে রেষ্টুরেন্টে দেখেছি। সাথে আরো কেউ কেউ ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর এটা কি ধেইধেই করে ঘুরে বেড়ানোর সময়?
- তাতে কি হয়েছে? বাড়ীতে মন খারাপ করে পড়ে থাকলে কি লাভ হতো?
- লাভ লোকসানের কথা টানছো কেন মা? এ বাড়ীর সন্মান নিয়ে টানাটানি। বাড়ীর বৌ হিসেবে সে কি একটু হালকা রঙের শাড়ী পরে বেরুতে পারে না? এইতো মাত্র ক’টা দিন হলো, মারা গেল ভাইয়া। তাকে কি একটু সন্মানও জানানো যায় না?

ক’দিন আগে বৌমাকে শাড়ী পরতে নিজেও একবার অনুরোধ করেছিলেন সালেহা বেগম। কিন্তু তার সে অনুরোধ রাখা হলো কি না হলো, সে দিকে খেয়াল রাখেন নি তিনি। এসব নিয়ে এতো বেশী মাথা ঘামাতেও ইচ্ছে হয়না তার। মেয়েকে সে কথা বললে তো আবার আগুনে ঘৃত ঢালাই হবে। তাই বললেন,
- ঠিক আছে, ওকে শাড়ী পরার কথা বলবো। তুই মুখহাত ধুয়ে চা-নাস্তা খেয়ে নে।
- একটু জোর দিয়েই বলে দিও মা। নাহলে এসব বেলেল্লাপনা দেখলে এবাড়ীতে আসাও ছেড়ে দেবো। তোমার জামাই তো আসতেই চায়না। আমিই তোমার কথা ভেবে বারবার জোরজারি করে নিয়ে আসি। নিজে দেখেছে বলে এবার তো সাথে আনতেই পারলাম না!

মেয়ে যে ডাহা মিথ্যে বলছে, তা ভাল করেই জানেন সালেহা বেগম। জামাই শাহেদকে তিনি ভাল করেই জানেন। শান্তশিষ্ট একটি মানুষ, বৌএর জ্বালায় তটস্থ। অনেক সময় কিছু বলার চেষ্টা করেও না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছে। কোনো উত্তর না দিয়ে মেয়েকে চা-নাস্তা দিলেন সালেহা বেগম। সেটা শেষ হলে মায়ের সাথে একটু গল্প করে চলে গেল মালা। ভাবীর সাথে সামান্য দেখা করার কথাটিও ভাবলো না।

ছেলের কথা ভেবে আবার কাঁদলেন সালেহা বেগম। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে তার। মেয়েটি রুক্ষ স্বভাবের, আরো রুক্ষ হয়ে উঠছে দিনকে দিন। ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যরকম। ভেতরে ভালোবাসা, মায়া মমতার চেয়ে আত্মগত এক কাঠিন্যই যেন বেশী ছিল তার। সে কাঠিন্য ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের নিষ্ঠুরতা হয়ে প্রকাশ পেয়েছে বাইরে। পোষা বিড়ালের বাচ্চাকে পানিতে ডুবিয়ে রেখে মরার একটু আগেই তুলে আনতো বারবার। বাচ্চাটি তাতে মারা যায়নি বটে, কিন্তু হিংস্র এক প্রাণীতে পরিণত হলো। একমাত্র মন্জুর ছাড়া অন্য কেউ কাছে এলেই চাপা গর্জন করে আক্রমণের জন্যে তৈরী হতো। আরেকবার নিজের বোনকে শীতের সময়ে ঠান্ডা পানিতে বসিয়ে রাখলো, কতোটা কষ্ট পায়, তা দেখার জন্যে। সালেহা বেগম সময়মতো টের না পেলে ঠান্ডা লেগে হয়তো মরেই যেতো মালা। এ ছাড়াও নানা ধরনের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ দিয়েছে সে। স্বামী যখন মারা যান, তেরো বছর বয়েস মন্জুর। মৃত্যুর সময় চারপাশে সবাই বসে। নিজেও কাঁদছেন। ছেলের দিকে চোখ যাওয়াতে ভয়ে কান্না থেমে গেলো তার। কেমন যেন ভাবলেশহীন মৃত চোখের দৃষ্টি নিয়ে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হলো মৃত্যু শুধু নিরীক্ষণযোগ্য, মৃত্যুকে শুধুমাত্র নিরীক্ষাই করে যাচ্ছে সে দৃষ্টি। বাবা মারা যাবার পর অবশ্য অনেক কেঁদেছে ছেলে। কিন্তু সে দৃষ্টির কথা আজও ভুলতে পারেন নি, সালেহা বেগম।

স্কুলেও দুরন্তপনার চেয়ে নিষ্ঠুরতাই ছিল বেশী । যে সব অভিযোগ আসতো, বাইরের সবাই তা দুরন্তপনা হিসেবে দেখলেও ছেলের নিষ্ঠুরতাই বেশী চোখে পড়তো তাঁর। পড়াশোনায় তেমন ভাল না হলেও ইউনিভার্সিটি অবধি গেলো মন্জুর। তারপর ছাত্ররাজনীতির সূত্র ধরে ক্যাডার হয়ে রাজনীতিকেই ব্যবসার পাশাপাশি পেশা হিসেবে বেছে নিল। মাঝে মাঝে নানা অস্বাভাবিক ঘটনার উড়ো আভাস ভেসে এলেও এ নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাননি মা। বরং ছেলেকে বিয়ে দিয়ে সংসারী করলেন। দেড় বছর পর পোয়াতী হলো বৌমা। নামী ডাক্তারের সার্বক্ষণিক নজরে থাকলেও কোন এক অজানা কারণে মায়ের পেটেই নষ্ট হয়ে গেলো সে সন্তান। বৌমা বেশ কয়েক মাস শোকে ঘরের কোনে বসে রইলো। ছেলের রাজনৈতিক জীবনে নানা মারপিটের আর সহিংসতার কথা শোনা গেলেও সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিলেন তিনি। আর ছেলে তো স্বাভাবিকই ছিল তার? মায়ের সুবিধা অসুবিধার দিকে যে ছেলের এতোটা নজর, তাকে কি করে অস্বাভাবিক বলবেন তিনি? বরং বললে সবাই উল্টো অবিশ্বাস করতো তাতে। স্বামী যখন বেঁচে ছিলেন, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে তিনিও বিরক্ত হতেন।

দারোয়ান এসে একটি নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেলো। মন্জুর যে রাজনৈতিক দলের নেতা ছিল, তাদের শোকসভা। সবাইকে যেতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে যেতে সালেহা বেগমের ইচ্ছে করেনা একেবারেই। তারপরও যাবেন বলে ঠিক করলেন। ছেলেতো নেই আর, এখন বৌমাকে নিয়ে একা সংসার। ছেলের দলের লোকজন সন্মান করে। কখন কোন্ কাজে দরকার পড়ে কে জানে! বৌমাকেও নিয়ে যাবেন বলে ঠিক করলেন। জোর দিয়ে বলবেন শাড়ী পরে যাবার জন্যে।

সময় মাঝে মাঝেই তার চলার পথে সাপের মতো ফনা তুলে ছোবল মারে। সে বিষে অসময়েই বিদায় নিলেন স্বামী, এবার ছেলেও গেলো। একমাত্র সালেহা বেগমই টিকে আছেন মালাকে নিয়ে। সেও এখন পরের ঘরে। মাঝে মধ্যে আসে বটে, তবে নানা অভিযোগ জানাতেই তার বেশী আনন্দ। এ বাড়ীর কাঠিন্যের দেয়ালে টক্কর খেয়ে জামাইও সহজে এমুখো হতে চায় না। কিন্তু তাঁকে তো টিকে থাকতে হবে। একাই তো সামলালেন জীবনের অনেকটা বছর। আর সেজন্যে পরিকল্পনার দরকার আছে যথেষ্ট। নিজেকে শক্তও হতে হবে। এসব ভেবে, বৌমার জন্যে অনুষ্ঠানের সাথে মানানসই একটি শাড়ীও কিনে আনলেন।

অনুষ্ঠান যেমন হবার, তেমনই হলো। শোক প্রকাশ আর জ্বালাময়ী বক্তৃতায় শোকের চেয়ে মঞ্চে নিজেদেরকে দাঁড় করানোই জরুরী বলে প্রমাণ করলো উদ্যোক্তারা। নিজের ইচ্ছের চেয়ে প্রয়োজনটা বেশী অনুভব করে তিনি নিজেও দাঁড়ালেন মঞ্চে। কিন্তু বৌমা যে কিভাবে রেহাই পেয়ে গেল, তা নিজেও টের পেলেন না।

বাসায় ফেরার পথে গাড়ীতে শাহানার দিকে চেয়ে মনটা আবার নরম হয়ে গেল তার। শূন্য দৃষ্টিতে গাড়ীর জানালা পেরিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে। হুহু করে উঠলো তার বুকের ভেতরটা। এত্তটুকু একটি মেয়ে, বয়েস তিরিশও পেরোয় নি! কী কষ্ট নিয়ে কাটাবে বাকী জীবনটা, ভাবতে ভাবতে খুব মায়া হলো তার। পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করতে গিয়েই চমকে উঠলেন সালেহা বেগম। সারা পিঠ এমনভাবে কাটা কাটা অমসৃণ দাগ, যেন চাবুক মেরেছে কেউ। তিনি আরেকটু ভাল ভাবে পরখ করতে চাইলেই সরে বসলো শাহানা। তারপরও তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
- কি হয়েছে তোমার পিঠে বৌমা। এসব কিসের দাগ?
ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলো শাহানা। কিন্তু চোখের তারায় বেদনা আর কান্নার ভরাট সাগর।
- এসব কিছু নয় মা! সময় পেরুলেই ঠিক হয়ে যাবে সব!

যেন চাবুকের আঘাত পড়লো মুখে। ছেলে যে তার কতোটা অচেনা ছিল, আরেকবার ভাল করে টের পেলেন মা! শাড়ী পড়তে না চাওয়ার কারণটি জলের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠলো। বাইরে তখন অন্ধকার জমাট বাঁধছে ধীরে ধীরে। আকাশের জমানো মেঘ সে অন্ধকারকে আরো ঘন করার প্রচেষ্টায় ছড়িয়ে পড়ছে যত্রতত্র। সালেহা বেগম সেদিকেই শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28807801 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28807801 2008-06-09 15:12:36
ছোটগল্প: বুয়া তাই অফিসের এক কলিগের যোগাযোগে শাহেদ যখন একে নিয়ে বাসায় এলো, কালো আর গম্ভীর হয়ে উঠলো সুমীর চেহারা। দু’জনেই অনেকদিন ধরে একে তাকে বলে বলে বুয়া খুঁজে হদ্দ। কোথায় পাবে? সব গরীব মেয়েরা তো গার্মন্টসএ কাজ করতেই বেশী আগ্রহী। একজন দু’জনকে পেলেও তাদের যা খাই, কেরানীর মাইনেতে কি তা মেটানো সম্ভব? তাই এই বুয়াকে দেখেই আষাঢ়ের মেঘের মতো চেহারা হলো সুমির। তাকে রান্না ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে টেনে শাহেদকে নিয়ে গেল শোবার ঘরে।
- কান্ডজ্ঞান কি পুরো খেয়ে বসেছো? একে নিয়ে এসেছ! আমার তো দেখলেই ভয় হয়! এমনকি বাচ্চারাও ভয় পাবে। আমাদের তিন্নিকে দেখনা, ফকির দেখলেই ভয় পায়!
শাহেদ সুমির কথাকে একেবারেই পাত্তা না দিয়ে হেসে উঠলো। ওর যেন কিছুতেই কোন ভাবনাচিন্তা নেই।
- কি যে বলো! ভয় হতে যাবে কেন? ও তো আমাদের মতোই মানুষ!
এবার তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো সুমি। এমনিতেই গরমে মেজাজ খারাপ ছিল তার। এর মাঝে মাছওয়ালা প্রায় দ্বিগুন দাম চেয়ে আরো গরম করে দিয়েছে মাথাটা।
- ছাড় তোমার মারফতি কথা! আমি ভয় না পেলেও ছেলেমেয়েরা তো পাবে। একে আমি রাখবো না।
- তোমার যা মর্জি! তবে সংসারের ঘানি টানতে টানতে শেষ হয়ে যাচ্ছ, একথা আর বলতে পারবে না!
বলে এবারও এবারও হাসলো শাহেদ।
- ওমা, এমন কথা আমি কবে বলেছি?
- বলনি! তবে রাতের বেলা একটু আদর করতে গেলেই তো ছ্যাত করে ওঠো। অন্যদিকে ফিরে তারপরই ঘুম!
শাহেদের কথা শুনে এবার হেসে উঠলো সুমি নিজেই। চেহারাতেও লালিমা ছড়ালো অনেকটা। রান্নাঘরের উনোনের উত্তাপে যে লাল গাল আরো লাল হয়ে গেল।
- ঠিক আছে গো। আর ছ্যাত করবো না, সারারাত প্রেমই করবো। তারপর দেখবো পরদিন কি করে অফিসে যাও তুমি!

দু’জনেই হেসে উঠলো একসাথে। কিন্তু ঘরের বাইরে এসে অবাক হলো ওরা। রান্নাঘরের দাওয়ার বুয়ার কোলে বসে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে তিন্নি। আর বুয়া চোখ বড়বড় করে হেসে গড়িয়ে পড়ছে। ওদের দিকে নজরই করলো না কেউ। সুমির মুখের দিকে প্রশ্নবোধক চোখে তাকালো শাহেদ। আবার শোবার ঘরে ফিরে গেল দু’জন। নতুন করে আলোচনা চললো। সকাল বিকেল বুয়ার চাকুরী হলো এবাড়ীতেই।
কিন্তু প্রথমদিনই বিরক্ত হলো সুমি। চেহারার সাথে সাথে কথা বলার ভঙ্গীও ভাল নয় বুয়ার। সকাল বেলা মাত্র ঘুম থেকে উঠেও নি, তখনই দরজায় ধুম ধুম ধাক্কা। ঘুম ঘুম চোখে গিয়ে দরজা খুলল সুমী। খুলেই দেখে বুয়া দাঁড়িয়ে বাইরে।
- খাইছেগো! আম্মা! রইদ উইঠ্যা গেছে, অহনও ঘুমাইতাছেন!
- এটা আবার কোন ধরণের কথা! আমার সামনে খাইছে খাইছে করবে না।
- ঠিক আছে আম্মা, কমুনা।
- আম্মাও বলবে না।
- খাইছে! আপনেরে তাইলে কি কমু আম্মা।
- খালা বলবে।
- ঠিক আছে আম্মা, আপনেরে খালাই ডাকমু।
বুয়ার কাজ ভালো, রান্না ভাল। খেয়ে শাহেদ তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ঘরবাড়ীও বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। শরীরের তুলনায় খাওয়ার পরিমানও বিরাট কিছু নয়। তবে বুয়াদের অধিকারের যে একটি সীমাবদ্ধতা থাকে, তা জানতে চায়না একেবারেই। তিন্নিকে পড়াশোনা, বা দুষ্টুমির কারণে সামান্য বকাবকি করলেও গলা বাড়িয়ে ঝগড়া করে সুমির সাথে। মুদ্রাদোষের কথা বার বার বলেও ছাড়ানো যায়নি। বুয়ার আস্কারায় এমনকি তিন্নিও মাঝে মাঝে “খাইছে” বলে ফেলে। তারপর মায়ের বকা খেয়ে আবার বুয়ার পেছনে গিয়েই দাঁড়ায়। তাতে সুমির বিরক্তি বেড়েই চলে।
সুমির ঘ্যানঘ্যানানিতে অস্থির হয়ে এরই মধ্যে শাহেদ অন্য বুয়াও খুঁজেছে গোপনে। কথা বলে পছন্দ হলেও বেতনের দাবী শুনে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। কোন বুয়া বাদে নিজের হাতেই কাজকর্ম চালিয়ে দেবে বলে ভেবেছিল সুমি। কিন্তু তার শরীরের কথা ভেবে শাহেদই সায় দিতে চাইল না। নতুন শিশুর আগমনি বার্তায় শরীরও ভারী, যখন তখনই দুর্বলতা এসে ভর করে। তাছাড়া প্রসবের পরও তিন্নিকে দেখাশোনার জন্যে হলেও কাউকে দরকার।
আঘাত বাইরে থেকেও এলো। হঠাৎ অশুভ ঘনঘটায় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে লাগলো হুহু করে। পঁচিশ টাকা কেজি চালের দাম এক লাফে গিয়ে উঠলো পয়তাল্লিশের ঘরে। অন্যান্য খাবার দাবারও চালের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে উপরে উঠলো। এমনি অবস্থা যে, নিজেদের খাবার জোগাড়ই প্রায় অসাধ্য হয়ে দাঁড়ালো। সুমির অপছন্দের কারণে না হলেও এই অভাবের কারণেই একদিন বুয়াকে বিদায় নিতে হলো। তিন্নিকে কোলে তুলে আদর করে ও শাহেদ আর সুমির পায়ে সালাম করে বুয়া তার সেদিনকার ভাত-তরকারী নিয়ে চলে গেল এবাড়ী ছেড়ে।
কিন্তু তাতে যতটুকু খাবার বাঁচলো, তাতে শুন্যস্থানটি পূরণ হবার নয়। তাই শাহেদের বার বার নিষেধ সত্বেও একদিন খুব ভোরে ন্যায্যমুল্যের দোকানে চালের জন্যে লাইন দিল সুমি। শ’য়ে শ’য়ে অভাবী মানুষ চাল কেনার আশায় ভীড় জমিয়েছে। সবারই অপেক্ষায়, কখন খুলবে দোকান। এরই মাঝে কিছু কিছু লোক দেখা গেল, যারা গায়ের জোরে ঠেলে পেছন থেকে সামনে আসতে হম্বিতম্বি চালিয়ে যাচ্ছে। একজন আরেকজনকে চিৎকার করে যেভাবে কথা বলছে, তাতে তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট ভাবেই প্রকাশ পেলো।
দোকানের খোলার সাথে সাথে দেখা গেল সেই আলামত। পেছন থেকে ধাক্কাধাক্কি আর হই হই রব। পাহাড়াদার পুলিশের দল কি এক অজানা কারনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। পেছনের হঠাৎ ধাক্কায় সামনে ছিটকে পড়ে যাচ্ছিল সুমি। মাথাটাও ঘুরে উঠেছিল। মনে হলো পেটের ভেতরে শিশু যেন মা মা বলে চেচিয়ে উঠলো। শেষ মুহুর্তে কেউ একজন ধরলো পেছন থেকে শক্ত হাতে। সুমী মুখ ফিরিয়ে বুয়াকে দেখার আগেই শুনতে পেল,
- খাইছে! আম্মাগো আম্মা, আপনেও এইহানে? আমি আপনের পিছেই আছি। দেহি কোন হালায় আপনেরে ধাক্কা দেয়। কইলজাডা লগে লগে ছিড়্যা লমু না!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28803107 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28803107 2008-05-26 20:27:16
ছোটগল্প: ডোনা ম্যাডোনা
এর কারণও রয়েছে অনেক। বস্তির বাসিন্দাদের জন্যে কম করেছে নাকি ডোনা ম্যাডোনা! ইচ্ছে করলেই ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। রিকার্ডোর ছেলেটা যখন কলেরায় পড়লো, ভয়ে ত্রিসীমানাও মাড়ায়নি কেউ। রিকার্ডো আর তার রক্তশূন্যতায় ভোগা বউ দাওয়ায় বসে হাঁউ হাঁউ কান্না ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নি। একমাত্র ডোনা ম্যাডোনাই ছুটলো শহরে। ফিরে এলো স্যালাইনের বহর নিয়ে। নাওয়া খাওয়া শিকেয় রেখে ছেলেটির পাশে ঠায় হয়ে বসে রইল স্যালাইনের মগ হাতে। তিনদিন পর ওঠে দাঁড়ালো ছেলেটি। এখন তো দিব্যি তাগড়া জোয়ান। পাসেকোর মেজো মেয়েটিকে নাকি বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ায় এদিক সেদিক।

জিকো মাতাল হয়ে বাড়ী ফিরে পিটিয়ে বৌকে মেরেই ফেলছিল প্রায়। যে রকম দশাসই চেহারা তার, কার সাধ্যি বাঁধা দেয়! একমাত্র ডোনা ম্যাডোনাই এগিয়ে গেল। সার্টের পেছনের কলার ধরে ঠেলে ঘরের বাইরে এনে বসিয়ে দিল। জিকো একটি বারও ডোনা ম্যাডোনার চোখের দিকে তাকাতেও সাহস পেলো না।

তার তিনকুলে কেউ আছে, নাকি নেই, সে কথা জানা নেই কারো। এই বস্তির জন্মলগ্ন থেকেই এখানে তার বাস। আর এখন তো ষাট পেরিয়ে বয়েস! বিশাল পাহাড়ের মতো শরীর, অথচ চেহারায় শিশুর সারল্য। ধর্মগুরু সেইন্ট ক্রিষ্টোফারের প্রতি অপার বিশ্বাস! বস্তির নানা ঝঞ্ঝাটের মাঝে সময় পেলেই ধর্মগুরুর প্রতি প্রর্থনায় ডুবে যায়। সব ধরনের বিপদ আপদে তার এই ধর্মগুরুই নাকি রক্ষা করেন তাকে।

এরকম একটি মানুষ সহজে পাগল হয়ে যাবে, তা কি সহজে মেনে নেয়া যায়? বিশেষ এই কঠিন বিপদের মুখোমুখি যার উপর ভরসা সবার, সে ই যদি পাগল হয়ে যায়, তাহলে চলবে কি করে? কিন্তু পরিস্থিতি অনেক কিছুই মেনে নিতে বাধ্য করে। ডোনা ম্যাডোনার পাগল হওয়া মেনে নিতে বাধ্য হলো সবাই। এতোদিনের এই বস্তি ছেড়ে যে অন্য কোথাও যেতে হবে, তাও মেনে নিতে হবে একদিন। অথচ সরকারপক্ষীয় লোকজন তো অন্য কথাই বলে এসেছে বারবার। বলেছে, নামমাত্র ভাড়ার বিনিময়ে সরকার তাদেরকে স্থায়ীভাবেই থাকার অনুমতি দেবে। ছোট ছোট পাকা বাসা, পানি আর গ্যসের বন্দোবস্ত, সবই নাকি করা হবে। এমনকি ভাড়ার অংক নিয়েও হিসেব নিকেষ করা শুরু হয়েছিল। অবশ্য ভোটের আগে এ ধরনের কথা অনেকেই বলে।

কিন্তু হঠাৎই পাল্টে গেলো সব। বস্তির পাশে বড় ডোবাটি পেরিয়েই বিশাল ধুধু মাঠ। মরুভূমির মতো শুকনো। কিছু কিছু চাষী সেখানে গম চাষ করতো। ডোনা ম্যাডোনাদের বস্তিকে প্রায় মাড়িয়ে একদিন গোটা বিশেক ট্রাক্টর রওয়ানা হলো সেদিকে। মাটি চাষ করা হলো, চার কিলোমিটার দূরের নদীতে পাইপ বসিয়ে পানি এনে ভরাট করা হলো ডোবাটি। সেই পানি ব্যাবহার হলো সেচের জন্যে। বড়োবড়ো আখের চারায় সবুজ হয়ে উঠলো পুরো মাঠটি। এত চিনি কে খাবে, এ নিয়ে উতাল পাতাল ভাবনা শুরু হরার আগেই আসল কারণটি জানতে পেলো সবাই। চিনির বদলে নাকি তেল বের করা হবে আখ থেকে। আর তেল বিক্রির পয়সায় ধনী হবে ব্রাজিল আর গাড়ী চলবে ইউরোপ, আমেরিকার রাস্তায়।

প্রথমে খুশীই হয়েছিল বস্তির লোকজন। কিছু লোক সেখানে কাজও পেলো। বুড়ো বয়েসে কাজ না পেলেও একটি কারণে ডোনা ম্যাডোনাও ধন্যবাদ জানালো সেইন্ট ক্রিষ্টোফারকে। আগে যে ডোবাটি বছরের বেশীরভাগ সময়েই শুকিয়ে শীর্ণ হয়ে থাকতো, তলানীতে কালো নোংরা পানি, সেটি এখন সর্বক্ষণই ভরাট। খাওয়া, গোসল করার, কাপড় ধোয়ার সমস্যা এখন তো আর নেই বললেই চলে। সেইন্ট ক্রিষ্টোফারের কৃপা ছাড়া কার কপাল এত চওড়া হতে পারে?

আখ মাড়াইএর কারখানা হবে, বস্তি এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হবে ওদেরকে, এটা যখন প্রথমবার গুজবের মতো ছড়ালো, তেমন একটা পাত্তা দিল না ডোনা ম্যাডোনা। সেইন্ট ক্রিষ্টোফার যেখানে দয়ার হাত তুলেছেন ওদের উপর, সেখানে এসব গুজব কতোটাই বা শক্তিশালী হতে পারে? তারপর যখন গুজবটি একটু পাকাপোক্ত আর সূত্রগুলো আরো নির্ভরযোগ্য হতে শুরু করলো, তখন কিছুটা চিন্তা হলো তার। কিছুদিন পর একজন দু’জন সাংবাদিক এসে প্রশ্নও করলো, কোথায় যাবে, কি করবে, ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও ডোনা ম্যাডোনা সেইন্ট ক্রিষ্টোফারের উপর ভরসার কথা বলে অটল হয়ে রইল। এই ভরসার প্রভাব বস্তির লোকদেরকেও ইতিবাচক হয়ে সান্ত্বনা দিতে লাগলো।

কিন্তু একদিন সেই সরকারপক্ষের লোকদের সাথে করেই আরো গাট্টাগোট্টা কয়েকজন এলো বস্তিতে। জানিয়ে গেলো, একমাসের মাঝে বস্তি ছেড়ে যেতে হবে ওদেরকে। তখনও ডোনা ম্যাডোনার অপার ভরসা সেইন্ট ক্রিষ্টোফারের উপর! বস্তির লোকদের নিয়ে সভা করলো, মিছিল করলো শহরে, কিছু মাঝারি ছোট রাজনীতিবিদ আর আমলার সাথে দেনদরবারও হলো । কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হলো না। পৃথিবীব্যাপী পরিবেশদূষণকে কমিয়ে আনা, আর সেই সুযোগে নিজেদের ব্রাজিলকে ধনী করে তোলার পাশাপাশি কয়েকজন বস্তিবাসীর আর্জি ধর্তব্যের মাঝেও আনলোনা কেউ।

একমাস সময়ের কুড়িদিন পেরোনোর পরই সেই গাট্টাগোট্টা লোকগুলো এলো আবার। সরকার পক্ষের লোকগুলোর বদলে এবার গুন্ডাগোছের আরো কিছু লোক এলো সাথে। তাদের সর্দারের সাথে কিছু তর্কাতর্কি হলো ডোনা ম্যাডোনার। সর্দার তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে তার ঘরের সামনে লাগানো সিমগাছকে মাড়িয়ে এগিয়ে যায়। ডোনা ম্যাডোনা পেছন থেকে কেঁদে কেঁদে বললো,

- ধাক্কা দিলে তুমি! পবিত্র ক্রিষ্টোফার বিচার করবেন তোমার এই অভদ্রতার।

সর্দার চলে যাচ্ছিল। ডোনা ম্যাডোনার দিকে পেছন ফিরে তাকিয়ে বললো,

- তোমার ক্রিষ্টোফার আবার কি বিচার করবে আমার? ওকে তো পাছার ভেতরে লুকিয়ে রাখি আমি!

বলেই নিজের বিশাল নিতম্বে একটি চাপড় মেরে দেখিয়ে দিল। তখনই নাকি সর্দারের পাছায় সেইন্ট ক্রিষ্টোফারকে দেখে আধপাগল হয়ে যায় সে। যারা সেইন্ট ক্রিষ্টোফারকে পাছার ভেতরে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা কতো ক্ষমতাধর হতে পারে, তা ভেবেই প্রথম ধাক্কাটি খেলো। আবোল তাবোল বকতে শুরু করলে একজন এসে নিয়ে যায় তার ডেরায়। সেখানে একটি পুরোনো খবরের কাগজে জর্জ বুশের পাছায় দেখে যীশুকে। টেলিভিশনে বিন লাদেনের একটি ভিডিও চলার সময় তার পাছায় দেখে মুহম্মদকে। এভাবে বিভিন্ন মনীষী মহামনীষীদের নানা প্রভাবশালী লোকের পাছার ভেতরে দেখে দেখে এখন বদ্ধ পাগল ডোনা ম্যাডোনা। সারাক্ষণ বিড়বিড় করে আর নিজের মাথার চুল ছেড়ে।

বস্তির লোকরা বেশ বিপদেই পড়েছে। একদিকে বস্তি ছেড়ে দেয়ার এই ভয়াবহ বিপদ, অন্যদিকে ডোনা ম্যাডোনার পাগল হয়ে যাওয়া। ডোনা ম্যাডোনাকে ওরা ভালোবাসতো, ওর উপর ভরসাও করতো। এখন এই পাগলীকে নিয়ে কোথায় যাবে, কি করবে, ভেবে কূলকিনারা পায়না কেউ। আশায় আছে, একদিন পাছায় অন্য কোন মনীষী নিয়ে কেউ একজন সদয় হবে ডোনা ম্যাডোনার প্রতি, বস্তিবাসীর প্রতি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28798989 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28798989 2008-05-17 16:44:15
ছোটগল্প: মুরগীচোর
- আম্মাগো, মুরগীর সালুন খাইতে কইলজা পোড়ে! দিবেন নি আম্মা?

না বললে দ্বিতীয়বার আর চায় না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটতে শুরু করে। গেট অবধি গিয়ে পেছন ফিরে তাকায় একবার। ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায় বাইরে। তারপর পাশের বাড়ীতে একই প্রত্যাশায়।

- আম্মাগো, মুরগীর সালুন খাইতে কইলজা পোড়ে! দিবেন নি আম্মা?

কেউ দেয়, কেউ বা বকাঝকা দিয়ে বিদায় করে। শান্তা দেয় মাঝে মধ্যে। কিন্তু কতটুকুই বা দিতে পারে? ছেলেমেয়েদের সবাইকে নিয়ে খাবার পর সামান্যই বাড়তি থাকে। জুটলেও একটা দু’টো হাড়ই হয়তো জোটে বুড়ির কপালে। সেটাই চেটেপুটে খেয়ে প্রাণভরে দোয়া করতে করতে চলে যায়। কখনো প্লাষ্টিকের বাটিতে করে নিয়েও যায়।

শিশুরা সরল-সুন্দর, নির্মমও হতে পারে। ওদের একটি দল পেছনে লাগলো বুড়ির। একজন হঠাৎ মুরগীচোর বলে তাড়া দিল। বাকী সবাই যোগ দিল তাতে। একজন ঢিল ছুঁড়ে রক্তাক্ত করে দিল বুড়ির মাথা। বাকীরা রক্ত দেখে ভয়ে থেমে গেলো। বুড়ি কিছু না বলে মাথায় হাত চেপে হাঁটতে হাঁটতে পাড়া ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।

বুড়িকে অনেক দিন আর দেখা গেল না। কেউ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো, কেউ ভাবলো, মরেই গেছে বুড়িটা । কারো মনও খারাপ হলো। যেমন শান্তার । জাহিদ সেই সকালেই অফিসে চলে যায়, একটু পরে ছেলেমেয়েরাও স্কুলে। তারপর একা একা সময়। বুড়ি এলে ভালই লাগে। খেতে খেতে নানা ধরনের গল্প শোনায় শান্তাকে। ও কিছুটা মায়ায় পড়ে গেছে বুড়ির।

শুক্রবার ছুটির দিন, ভালমন্দ খাওয়া দাওয়া এই দিনেই হয়। জাহিদ মুরগী কিনলো আজ। ছেলেমেয়েরাও বাবামায়ের সাথে থাকতে পেরে খুশী। বাড়ীতে কেমন যেন একটা উৎসব উৎসব ভাব। বেশ যত্ন করেই রান্না করলো শান্তা। গোসল সেরে একসাথে মিলেমিশে খেতে বসলো সবাই। কিন্তু টেবিলে বসে এত বেশী মন খারাপ করলো ও, যে খেতেই পারলো না। মুরগীর তরকারীতে হাতই দিল না। বাকী খাবারও প্লেটে নিয়ে নেড়েচেড়ে উঠে পড়লো। দৃশ্যটা জাহিদের নজর এড়ালো না। একটা হাড় চিবুতে চিবুতে জিজ্ঞেস করলো,

- কি হলো বউ, উঠে পড়লে যে? এত তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ!
- মন চাইছে না।
- কেন, শরীর খারাপ?
- না না! শরীর ভালই আছে।
- আম্মার মন খারাপ! ফোড়ন কাটলো তিন্নি।
- মন খারাপ কেন? কেউ বকেছে?

উত্তর না দিয়ে কলঘর থেকে হাত ধুয়ে এলো শান্তা। বাকী সবার খাওয়াও শেষ হলো। ছেলেমেয়েরা ক্যারামের আসর বসিয়েছে বসার ঘরে। জাহিদ শুধুমাত্র ছুটির দিনেই দুপুরের খাবারের পর একটু পান চিবোয়। শান্তা ওকে পান দিয়ে খাবার টেবিল পরিষ্কার করায় ব্যস্ত। আরাম করে পান চিবুতে চিবুতে জিজ্ঞেস করলো জাহিদ,

- কিগো, মন খারাপ কেন?
- এমনি।
- এমনি বুঝি মন খারাপ করে কেউ! আমাকেও বলবে না?
- না গো, বলার মতো কিছুই ঘটেনি। ঘটলে, তোমাকে না বলে থাকতে পারি?
- তাহলে মুখটা কালো কেন?

কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো শান্তা। এসব ছোটখাট অনুভূতির কথা বলবে কি? অনেকসময় এগুলো দুর্বলতারই কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাসির পাত্র হতে হয় কখনো। অনেকবারই হয়েছে এরকম। তবে জাহিদ মোটেও সেরকম নয়। যতটুকু পারে, ও ততটুকু নিয়েই আগলে রাখে শান্তাকে।

- আমাদের মুরগী পাগল বুড়িকে দেখেছো কখনো?
- কেন দেখব না। প্রতি শুক্রবারই তো আসে। তোমার কাছে ওর গল্পও শুনেছি।
- কিন্তু আজ আসেনি।
- তাই নাকি? কি হয়েছে?
- গত সপ্তাহ ধরে আসে না। ছেলেরা ঢিল মেরে ওর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
- হায় আল্লাহ্! মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে? কি দোষ করেছে বুড়ি? একটা দু’টো মুরগীর হাড় ভিক্ষে চাওয়া ছাড়া তো আর কিছুই চাইতে শুনিনি।
- সেই তো! তারপরও ছেলেরা ওকে মুরগীচোর বলে বলে পেছনে লাগলো।
- কি আর বলবো! সময়টা ভাল নয়! শান্তবউ আমার! মন খারাপ করোনা। দেখবে কাল ও ঠিকই হাজির হবে।

শনিবার না এলেও, রোববার ঠিকই এলো বুড়ি। চেহারাটা আগের চেয়েও আরো বেশী মলিন। মাথায় একটি ন্যকড়া বাঁধা। তাতে রক্তের ছোপ্। আবারও মুরগী খেতে চাইল।

- আম্মাগো, মুরগীর সালুন খাইতে কইলজা পোড়ে! দিবেন নি আম্মা?

শান্তা রেখে দেয়া মাংসের কয়েকটি টুকরো ফ্রিজ থেকে বের করে দিল। বুড়ি প্লাষ্টিকের বাটিতে ঢেলে নিয়ে দোয়া করতে করতে চলে গেল। আবারও ছেলে মেয়েরা পেছনে লাগে কি না, সে ভয়ে দরজা অবধি এগিয়ে এলো শান্তা । এবার কিন্তু তেমন হলো না। বুড়িকে দেখেও ছেলেরা দূর থেকে তাকিয়ে রইল। বুড়ি ওদেরকে পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনের রাস্তায় বাঁক নিল।

পরের শুক্রবার বাজার থেকে দু’টো মুরগী কিনে বাড়ী ফিরল জাহিদ। শান্তা অবাক হলো খুব। জিনিসপত্রের যা দাম, তাতে এতো বিলাসিতা করার সুযোগ কোথায়! ওদের তো একটিতেই বেশ চলে যায়। আর অতিথি কেউ আসার কথা থাকলে তো জাহিদ, আগেই জানাতো।

- কি ব্যাপার? দু’টো মুরগী আনলে যে আজ?
- হ্য, দু’টোই, একটা আমাদের, একটা বুড়ির।
- যাহ্!
- যাহ্ নয়। সত্যিই বউ! আজ বুড়ি ইচ্ছে মতো মুরগী খাবে। সঙ্গেও নিয়ে যাবে। ওর সামনেই জবাই করা হবে। ওর সামনেই রান্না হবে।
- আস্ত এক পাগল তুমি!

মনটা নরম মোমের মতো তরল হয়ে গেল শান্তার। এই পাগল লোকটা এত বেশী বোঝে তার তার মন! হোক না অভাবের সংসার, হোক না একঘেঁয়ে দৈনন্দিন জীবন। তারপরও এই লোকটা তার জীবনের কত বড় ঐশ্বর্য, তা প্রতিবারই সে টের পেয়েছে। এবারও আনন্দে জল গড়িয়ে এলো ওর চোখ বেয়ে।

কিছুক্ষণ পর বুড়ি এলো। তার জন্যে মুরগী কেনা হয়েছে শুনে অবাক হয়ে একবার শান্তার দিকে, আরেকবার জাহিদের দিকে তাকালো। বিশ্বাসই করতে পারছে না। তারপর কিছুক্ষণ ওদেরকে পরখ করে ঝুলিটি নামিয়ে বসলো মাটিতে।

একটি মুরগী ধরতেই কক্ কক্ করে উঠলো। শান্তা পাখা আর পা-দুটো মিলিয়ে ধরলো। জাহিদ ছুরি চালালো গলায়। রক্তের ফিনকিতে লাল হয়ে গেলো মাটি। মুরগীটি হাত থেকে মাটিতে রাখতে রাখতেই বুড়ির দিকে নজর পড়লো। আঁতকে উঠলো শান্তা। বুড়ি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে বোঁচকার উপর লুটিয়ে পড়ে আছে। ভয় পেয়ে দু’জনেই দৌড়ে গেল ওর কাছে।
মাথায় ও মুখে পানির ঝাপটা দেয়া হলো। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে উঠে বসলো বুড়ি। শীর্ণ, কুঁচকানো চোখের কোনে অঝোর কান্না। সে কান্নার দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছে ওর শীর্ণ শরীর। মুরগীটি মরণ যন্ত্রণায় তখনো ছটফট কর‌ছে ...।

- এই মুরগী আমি খামু-না আম্মা, এই মুরগী খাইতে পারুম না ...!
- তোমার জন্যে আনলাম, আর তুমি খাবে না!
- নাগো আম্মা, এই মুরগী আমার গলা দিয়া ঢুকব না।
- কেন? কি হয়েছে এই মুরগীর।
- মুরগীর কিছু অয় নাই, আম্মাগো! যুদ্ধের সময় হেরা আমার সোয়ামীরে এমুন কইরাই জবাই করছিল আমার সামনে। এই কাটা মুরগীডার মতোনই ছটফটাইয়া মরছিল আমার সোয়ামী!
- কারা করেছিল জবাই?
- রাজাকারেরা! আম্মা, রাজাকারেরা! ধইরা গলাডা কাইট্টা দিছিলগো...! কাইট্টা দিছিল...!

বলেই বোঁচকাটা নিয়ে ধীরে ধীরে কষ্টে উঠে দাঁড়ালো বুড়ি। আঘাত আর বিস্ময়ে হতবাক শান্তা ও জাহিদ কিছু বলার আগেই বাইরের গেটের দিকে এগিয়ে গেলো। বেরিয়ে যাবার সময় অন্যান্য দিনের মতো আজ আর পেছন ফিরে তাকালো না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28793454 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28793454 2008-05-02 06:07:19
ছোটগল্প: শীতবালিকা
খুব সাধারণ একটি মেয়ে। বাবা তিন বছর “চাউল কিনতে গেলাম” বলে সেই যে বেরিয়ে গেলো, আজও ফেরেনি। মা পরের বাড়ীতে গতর খেটে খেটে নয় বছরের ছেলে আর বারো বছরের মেয়েকে নিয়ে এখনও আশায় আশায় দিন রাত পার করে। রাতে একা একা শাপ শাপান্ত করে, কখনও নিজের ভাগ্যকে, কখনো উধাও সোয়ামীকে। সেসময় ছেলেমেয়েরা বাড়তি কিছু চাইলে দু’চার ঘা এদের গায়েও পড়ে। ওদের কান্না বস্তির আরো কিছু ওদের মতোই দিনমজুরের ছেলেমেয়েদের কান্নার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

এবারের শীতও যেন সুনামী হয়ে এসেছিল। বস্তির যে ঘরটিতে এদের বাস, সেখানে হু হু করে শীত ঢোকে কেউটে সাপের মতো হিসহিসিয়ে। তেল চিটচিটে ছেড়া কাথায় যতোটা ওম ধরে রাখা যায়, তা সহজেই বরফের আচড় দিয়ে শরীর থেকে পিছলে বেরিয়ে যায়। ভিক্ষের সময়ে কোন এক সাহেব মেয়েটিকে একটি আধছেড়া সোয়েটার দিয়েছিল। নিজের গায়ে না পড়ে ভাইকে নিজেই প্রতিদিন ঢেকেঢুকে রাখে বোন। ছেলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মমতায় মা সেটা স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছে।

এমনি এক শীতের সকালে মা গেল গতর খাটতে। ভাইকে হাতে ধরে বোনও বেরুলো একটুকরো রোদের ওম ও কারো দয়া দাক্ষিন্যে সামান্য ছিটেফোটা খাবারের আশায়। কখনো সখনো পুন্যের আশাতেও দান খয়রাত করে বসে কেউ। রেললাইন ধরে কিছুক্ষন এগুলেই একটা বড়মানুষের বসতি চোখে পড়ে। মাঝে মাঝে সকালের নাস্তা থেকে বেঁচে যাওয়া এক আধ ঠুকরো রুটি কপালে জুটলে দুজনের ক্লিষ্ট চেহারায় আনন্দের বান ছোটে। মাঝে মাঝে সে রুটিতে আঠার মতো লেগে থাকে চিটেগুড়। ওদের আত্মার ভেতরের ডায়েরীতে সে দিনগুলো শীতের সোনালী রোদের হীরককলমে আঁকা হয়ে থাকে। সে দিনটিও ওদের জন্যে তেমনি আঁকা হয়ে গেল। আজ চিটেগুড়ের বদলে এক টুকরো বাসী মিষ্টি। খাওয়া শেষ হবার পরও হাতের চোটো চাটতে চাটতে সামনের দিকে এগুলো ওরা।

ওদের চোখের তারাতেও সকালের সোনালী রোদের ঝলমলে আনন্দ। চলতে চলতেই বোন হঠাৎই এক উচ্ছসিত শিশুতে পরিণত হলো। ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলল,
- চল, আইজগা লুকান্তি খেলি।
এই খেলা ওরা অনেকবারই খেলেছে। বস্তির শিশুরা এই খেলাটিই খেলতে পারে সহজে। কোন সরন্জামের বালাই নেই। ভাই খুব খুশী।
- হ, বইন। তয় আমি আগে লুকামু!
অনেক সময়ই এ নিয়ে ছোট ঝাগড়া বাঁধে দু’জনের। কিছুটা কৃত্রিম মান অভিমান। প্রতিবারই সামান্য দেরীতে হলেও ছাড় দেয় বোন। আজ সেরকম দেরীও হলোনা। হাতে চোখ ঢেকে বোন পেছন ফিরলেই সমান্য এগিয়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়লো ভাই। তারপর কুউ…..।

এমনি ভাবেই চললো এদের খেলা। পৃথিবীর অন্যান্য সুখী শিশুদের সাথে ওদের কোন পার্থক্য রইল না তখন। খেলাই হয়তো একমাত্র, যা ধনী গরীব নির্বশেষে পৃথিবীর সমস্ত শিশুকে সুখী করে দেয়। এটা যদি ঈশ্বর জানতেন, তাহলে এত ইবাদত বন্দেগী না দিয়ে খেলায় খেলায় ভরে দিতেন পৃথিবী।

বাজারের সামান্য আছে নতুন ক’ঘর মানুষের বাস। একটা দুটো করে ধীরে ধীরে নতুন বাড়ীঘর গড়ে উঠছে। কোন কোন জায়গায় থরে থরে ইট সাজানো। তারই আশেপাশে বালির টিবি। সেখানে আসার পর লুকোনোর পালা বোনের। একটু পরেই শোনা গেল তার গলা। কুউ…।

ভাই হালকা পায়ে ছুটলো। ডানদিকে ইটের স্তরের আড়ালে খুঁজলো বোনকে। না পেয়ে পাশের বালির টিবির আড়ালে। সেখানেই নেই বোন। ছুটে গেল ডানদিকে। সেখানেও নেই। আরেকটু দুরে এক আধভাঙ্গা দেয়ালের আড়ালে। নেই! একটি শেওড়া গাছে কিছুটা দুরে। সেখানেও নেই। চারিদিকে হন্যে হয়ে বোনকে খুঁজে বেড়ালো ভাই। সুর্য তখন অনেকটাই মাথার উপর উঠে এসেছে। খোঁজার ক্লান্তি, ঘাম আর চোখের জল মিলেমিশে একাকার। তখন অনেকটা দুর থেকে স্পষ্ট হলো একটি চেহারা। কোন এক অবসন্ন ক্লান্তিকে ছোট্ট শরীরে বহন করে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে কাছে। কাঁদতে কাঁদতে সেদিকে দৌড়ে গেল ভাই। ছোট্ট হাতে বোনকে জড়িয়ে ধরলো আদরে।

জড়িয়ে ধরেই চমকে উঠল ভাই। থরথরিয়ে কাঁপছে শরীর। বোনকে শীতে অনেকবারই কাঁপতে দেখেছে ভাই। কিন্তু এ কাঁপুনি সে কাঁপুনির চেনে আলাদা, নয় বছর বয়েসেও টের পেলো সে। হাজার বছরের শীত যেন একসাথে জমা হয়েছে শরীরে। চোখে শুকানো অশ্রুর নোনা দাগ আর বরফের মতো রক্তশুন্য সাদা চেহারা। বরফের চেয়েও যেন শীতল শরীর। অনেক প্রশ্ন করেও কোন উত্তর পেলো না ভাই। নিজের গা থেকে সোয়েটার খুলে পড়িয়ে দিল বোনকে। তারপর কাঁপতে কাঁপতে সীমাহীন পথ পেরিয়ে ফিরে বাড়ীতে।

সারাদিন না খেয়েই কাটিয়ে দিল দু’জন। এভাবে এরা অনেকবারই কাটিয়েছে। কিন্তু এবারের কাটানো আলাদা। মা নিজের ভাগ্যকে অভিসম্পাত করতে করতে শাকভাত রান্না করে গিয়েছিল মাটির হাড়িতে। সে খাবার হাড়িতেই পরে রইল। বোনকে পাশে শুইয়ে কাথায় ঢেকে ভাই বসে রইল পাশে। কিন্তু ক্ষুধা আর ভয়ে নিজেই জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে একসময় নিজেও এলিয়ে পড়লো বিছানায়।

সারাদিনের গ্লানি আর ক্লান্তি নিয়ে মা ফিরে এলো সন্ধ্যাবেলায়। মেয়ের পাশে ছেলেকে জ্বরে কাঁপতে দেখে বিগড়ে গেল মেজাজ আরো বেশী।
- হারামজাদী, ভাইডা জ্বরে কাঁপতাছে, খবর নাই মাগী!
মেয়ে কোন জবাব না দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসল। তার চেহারার ক্লান্তি আর কালিমা সন্ধ্যার আধো অন্ধকার আর নিজের বিবশ শরীর ছাপিয়ে চোখে পড়ল না মায়ের। চাটাশ করে একটা চড় বসিয়ে দিল গালে।
- এই মাগী, তুই সুইটার পড়ছস ক্যান। ভাইটা মরতাছে, আর তুই এইডা গতরে দিয়া আরাম করস। খানকী মাগী..!
বলেই মেয়ের চুল টেনে ধরলো। কিন্তু পুরো শক্তিতে টেনেও মেয়েকে জায়গা থেকে সরাতে পারলো না মা। একসময় হাল ছেড়ে দিতেই আস্তে করে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল মেয়ে। তারপর মোয়েটারটি খুলে পরম মমতায় ঘুমন্ত ভাইয়ের শরীরটা ঢেকে দিল। তারপর নিজে শুয়ে পড়লো আগের মতোই পাশে।

পরের দিন বস্তির পাশের একটি আমগাছে লাশ ঝুললো মেয়েটির। সেদিন রোদকে অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশী সময় ধরে আটকে রাখল কুয়াশা।

একটু পরই পুলিশ এলো। কোন ঘটনায় এদেরকে ডাকলে ওরা কখনো আসে না বস্তিতে। কিন্তু যে কোন অপমৃত্যুতে ওরা সবসময়েই হাজির। মেয়েকে নিয়ে গেল ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে। মেয়েটির শরীরে রক্তাক্ত চিহ্নগুলো দেখে ডোম ছুরি বসানোর আগেই বোঝা গেল সেদিন কয়েকবারই ধর্ষন করা হয়েছিল ওকে।

বস্তিপাড়ায় আলোচনার ঝড়। অনেক ঘটনা ঘটে, যা বস্তিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে দেয়। এবার ভাগ হলো দু’টো। একভাগ বলে, ধর্ষনের গ্লানিতেই আত্মহত্যা করেছে মেয়েটি। অন্য ভাগ বলে, মায়ের দেয়া অপমান সহ্য না করতে জীবন দিয়েছে সে। আরো অনেক কারণই থাকতে পারে। সাহেব পাড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ এসবের কারন খুজে বের করার চেষ্টা করে। বস্তি এলাকায় ঘটনা নিয়ে কেউ বেশীদিন ভাবে কি?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28790216 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28790216 2008-04-22 17:32:38
ছোটগল্প: এক্কা দোক্কা, ঠুস!
অন্দর মহল থেকে সকিনার আর্তনাদ ভেসে এলো। সেই সাথে দাইএর খনখনে গলা। সকিনার জন্যে বেশ মায়া হলো কামরুদ্দীনের। এক একটি জন্মের জন্যে এত কষ্ট! দশ মাস পেটে বয়ে বেড়ানো, তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা এতো কঠিন যন্ত্রণা! সে তুলনায় মৃত্যুকে কতো সহজ! এই রাইফেলেরই একটা গুলি জায়গামতো। ঠুস্! একমুহুর্তের মাঝেই জীবন থেকে মরনে পা। অনেকটা এক্কা দোক্কা খেলার মতো। হঠাৎ ছোটবেলার পাতানো দোস্ত ফরিদের কথা মনে এলো। এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতেই একসাথে বড় হয়েছে দু’জনে। ফরিদ ছাড়া গ্রামের আর কারো কাছেই তো পাত্তা না পেতো না। যখন রাজাকারে যোগ দেবে বললো, তখনও ফরিদ দিনে দুপুরে সাথে সাথেই ছিল। কতো অনুনয় বিনয় করলো,

- দোস্ত, তুই যাইস না রাজাকারের দলে! যারা আমাগো মানুষ মারতাছে, হেগো দলে যাওন ঠিক অইব না দোস্ত।
- এইডা কি কস ফরিদ্যা? আমাগো মুসলমানের দেশ পাকিস্তান। এইডারে শত্রুরা দখল করব, আর আমি ঘরে বইয়া থাকমু! তুইও লগে চল! মুসলমান তুই, মুসলমানের কাম কর!
- তারপরও হেরা বিদেশী। দেশী অইলে এমন কইরা আমাগো মারতো হেরা? দেশ স্বাধীন অইলে হেরা ভাগব। তহন তুই কই যাবি?
- স্বাধীন দেশের আবার স্বাধীনতা কি রে ফরিদ্যা। আর হেরা মানুষ মারে নাই, মারছে কাফির আর গাদ্দার! হেরারে বিদেশী কস! হেরাই অইল আসল দেশী। সব মুসলমান দেশী। হগলেই ভাই ভাই। আমাগো মসজিদের মৌলবিসাব জুম্মার দিন কি কইল, শুনস নাই?

কোন যুক্তিতেই বোঝাতে না পেরে তখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল ফরিদ। কিন্তু মনে মনে যে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেবার পরিকল্পনা করেছে, সেটা জানতো কামরুদ্দীন। মৌলভী সাহেবের পরামর্শেই একদিন কামরুদ্দীন গিয়ে হাজির হলো পাকিস্তানীদের ক্যাম্পে। সৈন্যদের দেখে খুবই আনন্দ হলো তার। কি জোয়ান জোয়ান একেকটা মানুষ আর কি জেল্লাই তাদের চেহারা! অস্ত্রসস্ত্রের কি বহর! এদের সাথে পাল্লা দেবে হাভাতে মুক্তিবাহিনীর দল! এদের জোর কোথায়? এমনকি ধর্মের জোরও নেই। শালারা চলে তো ইন্ডিয়ার হিন্দুদের কথাতে। বেইমানী করে দেশটা ওদের কাছে বেঁচে দিতে চায়, আর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আমাসী মুজিবের কথায় ওঠে বসে।

দুই মাস চললো ট্রেনিং। দলের বেশীরভাগই মাদ্রাসার ছাত্র। ট্রেনিং শেষে ডাক পড়ল মেজর জহর বাটের অফিসে। এক সৈন্য নিয়ে গেল তার কাছে। লম্বা এক সালাম ঠুকে মেজরের ঘরে ঢুকলো কামরুদ্দীন। মেজর তার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন আপাদমস্তক চিনে নিল একসাথে। তারপর উর্দুতে জিজ্ঞেস করলো,
- নাম কি?
- আমার নাম কামরুদ্দীন স্যার। মোহাম্মদ কামরুদ্দীন খান।
- খান! তোমার মতো কালা আদমীর নাম খান কি করে হয়?
প্রশ্ন শুনেই ভয় পেলো কামরুদ্দীন। খান অংশটি যে বানানো, টের পেয়ে গেল নাকি মেজর? তাই হাত কচলানো ছাড়া আর কিছু বলার সাহস পেলো না সে।
- তুমি হিন্দু?
এবার জিব কাটলো কামরুল্লাহ। মাথার গোলটুপিটা হাতড়ে দেখলো, যথাস্থানে আছে কি না।
- আমি মুসলমান হুজুর, আমার বাপও মুসলমান।
- তোমার বাপ আছে, বাঙ্গালী আদমীদের বাপ থাকে? এটা কেমন কথা। বাপ থাকলে তোমরা মুসলিম ভাইদের সাথে যুদ্ধ করতে, ষড়যন্ত্র করতে?
- আপনে ঠিকই কইছেন। যারা যুদ্ধ করে, তাদের বাপ নাই জনাব, ওরা বেশ্যার পোলা। আমার বাপ আছে।
- মুক্তিবাহিনী কোথায় পালিয়ে আছে জান?
- মুক্তিবাহিনী আবার কারে কয় হুজুর। হেরা তো হিন্দু শয়তানের দল। একজন দুইজন থাকলেও চিনিনা, তবে খুইজ্যা বাইর করতে পারমু।
- খুজে বের কর এই হারামীদের। এরা দেশের শত্রু, মুসলমানদের শত্রু, আমাদের শত্রু।
খান নামের বিপদ থেকে আপাতত: মুক্তি পেয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল কামরুদ্দীন।
- ইমানে কইতাছি, ওদের একটারেও বাচতে দিমুনা হজুর!
- হ্যা, বাঙ্গালীর আবার ইমান। যাও! ভাগো! আমার জুতাগুলো ভাল করে পরিস্কার করে রেখো। দরকার পড়লে জিব দিয়েও চাটবে!

আবার আরেকটা লম্বা সালাম ঠুকে মেজর সাহেবে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো কামরুল্লাহ। নিজেকে অনেক লম্বা মনে হলো। কত বড় কামেল মানুষের সেবায় সে, লম্বা মনে হবারই কথা। ধর্মের প্রতি কি ভক্তি মেজরের! ধর্মকে বাঁচানোর জন্যে কত দুর পথ পাড়ি দিয়েছে। দেশের দ্বায়িত্ব এদের হাতে না থাকলে, থাকবে কাদের হাতে?

মেজর সাহেবের সেবা করতে খুব ভাল লাগতো তার। এমন মানুষের সেবা করা তো সোয়াবের কাজ। সাহেবের পা টিপতে টিপতে স্বর্গসুখের অনুভুতি পেতো। একদিন মেজরের ডান পায়ের তলায় বড় একটি কাল দাগ দেখে ভয় পেলো কামরুদ্দীন। হয়তো কোন ক্ষত, কোন যুদ্ধের চিহ্ণ! কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেলো না সে। কিন্তু তার দু:শ্চিন্তা টের পেলো মেজর। এটা যে জন্মদাগ সেটা শোনার পর অনেকটা শান্তি হলো তার। প্রথমে কিছুটা অবিশ্বাস হলেও বারকয়েক খুটিয়ে দেখার পর নিশ্চিত গলো সে। পায়ের এই দাগটায় মালিশ করতে তার খুব ভাল লাগতো, আর মেজর সাহেবও যেন বেশী আরাম পেতো।

ধর্মের সামনে ভাই, বোন, দোস্তের হিসেব নেই। তাই মেজর সাহেব, আর আরো কিছু সৈন্য নিয়ে হাজির হলো কামরুদ্দীন একদিন ফরিদের বাড়ীতে। ফরিদ তাকে দেখে এতোই হতচকিত হলো যে, পালানোরও চেষ্টা করলো না। বোবা অবিশ্বাস আর আতংক চোখে তাকিয়ে রইল শুধু। পিস্তলের গুলির নাকি দাম বেশী, তাই তার এই বন্দুক নিয়েই মেজর সাহেব ফরিদের কপালে গুলি করলেন। ঠুস! ফরিদ জীবন থেকে এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে মরণে ঘরে পা রাখলো। জন্ম যত কঠিন, মরণ তার থেকে অনেক অনেক সহজ। শত্রুর মাল গনিমতের মাল। সে মাল ভোগ করা মুসলমানদের কর্তব্যের মাঝে পড়ে। ফরিদের বউও গনিমতের মাল। তাই সবার আগে মেজর, তারপর বাকী সৈন্যদের একজন একজন করে ভোগ করল ফরিদের বৌকে। কিন্তু কামরুদ্দীনের পালা আসার আগেই তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে মরে গেল বৌটি। সেই দৃষ্টির কথা মনে হলে এখনও গা শিরশিরিয়ে ওঠে তার।

যাতে গ্রামের লোকজনের কাছে সন্মান বাড়ে, সেজন্যে নিজের বাড়ীতেও নিয়ে গিয়েছিল মেজর সাহেবকে। মেজর সকিনাকে ‘বহিন’ ডেকেছেন। সকিনার হাতের রান্না খেয়ে খুব ভাল লেগেছিল তার। তাই বেশ কয়েকবারই গিয়েছেন তাদের বাড়ীতে। বলতেন, যুদ্ধ শেষ হলে ওদেরকে নাকি পাকিস্তানে নিয়ে যাবেন। সকিনা মাঝে মাঝে বিরক্ত হতো। কিন্তু মেয়েমানুষের কথায় বেশী পাত্তা দিলে কি চলে?

কিন্তু কি ভাবে কি হলো, বোঝা গেলো না। ডিসেম্বরের এক রাতে হঠাৎ আক্রমন হলো ক্যাম্পে। চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো মুক্তিবাহিনী। সে রাত সকিনার কাছে বাড়ীতেই ছিল কামরুদ্দীন। নিজের বন্দুকটি বাড়ীর পেছনে এক গর্তে পলিথিনে মুড়ে লুকিয়ে পালিয়ে বাঁচলো সে। সকিনাকে পাঠালো পাশের গ্রামে তার বাবামায়ের কাছে। আগুন জললো ক্যাম্পে। মেজর সাহেবে লাশ পাওয়া গেল ক্যাম্পের পুকুরের পাড়ে। একমাস এদিক সেদিক ভোল পাল্টে কাটিয়ে কামরুদ্দীন মুক্তিবাহিনী সেজে ওদের সাথেই ঢুকলো এসে গ্রামে। তারপর তাকে কেউ কিছু বলে, এই সাধ্য কার!

এসব ভাবতে ভাবতে বন্দুকটা পরিস্কার করার জন্যে একটি পুরোনো কাপড়ের জন্যে এদিক এদিক তাকালো সে। তক্ষুনি দাই হাসিমুখে বেরিয়ে এলো আতুড় ঘরের বাইরে। তার ছেলের জন্মের কথা শুনে অযু করে খুশীতে আজান দিল কামরুদ্দীন। তারপর ঢুকলো আতুর ঘরে। বউ সকিনা ক্লান্ত শরীরে এলিয়ে আছে বিছানায়। তারপরও উজ্জল চেহারায় ইশারা করলো পাশে শোয়া ছেলের দিকে। সাবধানে ছেলেকে কোলে নিল কামরুদ্দীন। আদরে হাত বোলালো মাথায়, গালে, শরীরে। ধুপ জালানো হয়েছে ঘরে। তারই সুগন্ধ যেন আরো গভীর হয়ে লেগে আছে ছেলের শরীরে। হাতের গন্ধ, পায়ের গন্ধ নাকে লাগিয়ে শুকলো। ছোট্ট ছোট্ট মোলায়েম হাত আর পা। ছুয়েই আরাম বোধ হয় শরীরে। প্রথম বা’পাটি নাকের কাছে নিয়ে শুকলো। তারপর ডান পা। মায়ের পেট থেকে বাইরের আলো বাতাসে আসার ক্লান্তিতে একটু যেন কুচকে আছে। পায়ের তলায় তাকিয়ে চমকে উঠলো কামরুদ্দীন। কালশিটের মতো কালো দাগ একটা। ভয় পেলো, জন্মের কোথাও কোন জখম হলো কি? তারপরই চট করে মনে হলো, কতোটা পরিচিত এই দাগ নিজের কাছে। একই চেহারার একটি দাগে কতোবার মালিশ করেছে সে। রক্তশুন্য চেহারায় বিধ্বস্ত কামরুদ্দীন কোন কথা না বলে ছেলেকে মায়ের কাছে রেখে দ্রুত বেরিয়ে এলো বাইরে।

কিছুটা সময় চুপচাপ বসে থাকার পর একটু শান্ত মনে হলো নিজেকে। তার চেহারায় রক্ত ফিরে এলো আবার। এবার মনে মনে ধন্যবাদ জানালো অপার করুনাময় আল্লাহকে। আল্লাহর ঈশারাতেই তার সন্তানের রূপ ধরে এই কামেল মানুষটি ফিরে এসেছে ঘরে। দেশে ইসলাম রক্ষার জন্যে এসব মানুষেরই দরকার। কিন্তু সকিনার কথা ভেবে যুক্তিহীন উন্মাদের ঘৃণা জমলো ভেতরে। এই বউকে নিয়ে কি করে জীবন কাটাবে সে? এসব ভাবতে ভাবতে বন্দুকটি হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো কামরুদ্দীন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28787154 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28787154 2008-04-12 18:32:47
দুর্দিনের ছোটগল্প: ভালোবাসা ও নুন ঝালের দিনগুলো
- বাসে ভীড় ছিল বেশী? জানতে চাইলেন সামিনা।
- হ্যা! সংক্ষেপে উত্তর দিলেন মাজেজ।
- সেজন্যে দেরী হলো?
- হ্যা, একটা বাসে উঠতে পারিনি। পরেরটায় উঠেছি।
- এত কষ্ট! একটা রিকশা করে চলে আসতে?

কোন উত্তর দিলেন না মাজেজ। বুক ফেড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইছিল। সেটাও চেপে রাখলেন। দশ বছরের ছেলে মৃদুল আর মেয়ে সাত বছরের মালা একটু দুরে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে তাকিয়েছিল। বাবার এই অবস্থা দেখে কাছে আসতেও সাহস পাচ্ছিল না। একটু সুস্থির হয়ে এদের দিকে ইশারা করতেই এগিয়ে এলো তারা। এই গরমের মাঝেও ওদের শরীরের উত্তাপে আত্মার ভেতরে এক শীতল শান্তি অনুভব করলেন মাজেজুল আলম।

খাবার ঘরে গিয়ে দেখেন, আগে থেকেই সাজিয়ে রেখেছেন সামিনা। শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি আর পেটে জলন্ত ক্ষিদে। দ্রুত মুখহাত ধুয়েই খেতে বসলেন।

খাবার মুখে তুলেই চেহারা বিকৃত করলেন মাজেজ। নুনে, ঝালে একাকার! সামিনা কিছুটা ঝাল ভালবাসলেও বাবা ও ছেলে মেয়ে কেউই ঝাল খেতে চায়না। তাই এবাড়ীতে কম ঝালেই রান্না হয় সচরাচর। আজ ও এমন করলো কেন? মেজাজ খারাপ করে মুখের দিকে তাকাতেই মুখ নামিয়ে ফেললেন সামিনা। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টিতে এমন কিছু দেখলেন, যে চুপ করে যেতে বাধ্য হলেন মাজেজ। রোজকারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক ভাত খেয়ে হাত ধুয়ে উঠে গেলেন খাওয়া ছেড়ে।

রাতে ঘুমোতে গিয়ে মশারী তুলে বিছানায় ঢুকে দেখেন অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে চুপচাপ শুয়ে আছেন সামিনা। ছেলে মেয়ে তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। খুব আস্তে, আদরে স্ত্রীর পিঠে হাত রাখলেন মাজেজ। শরীরটা কেঁপে উঠলো যেন। কাঁদছে কি সামিনা? স্ত্রীকে নিজের দিকে ঘোরাতে আকর্ষন করলেন। সামিনা কোন বাঁধা না দিয়ে ঘুরলেন স্বামীর দিকে। কিন্তু হাত দুটোয় চোখ ঢাকা। সামিনা কাঁদছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।

- সামিনা সোনা, সামিনা সোনা, তোমার কি হয়েছে? তোমার চোখে জল কেন? নরম আদরে স্ত্রীকে জড়িয়ে বললেন মাজেজ।
উত্তরে আরো জোরে কেঁদে উঠলেন সামিনা। কান্নার দমকে কেঁপে উঠল তার বাড়ন্ত শরীর। আবারো আদরে সামিনা সোনা বলে ডেকে ডেকে তার মাথায়, চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন মাজেজ। এতে মনে হলো কিছুটা শান্ত হলেন সামিনা।
- তুমি আজ কিছুই খেতে পারোনি। নুন, ঝাল এতো বেশী ছিল! বলেই আবার কেঁদে উঠলেন সামিনা।
- তাতে কি হয়েছে? এজন্যে কি কেউ কাঁদে নাকি সামিনা সোনা, লক্ষী বউ আমার। কাল ঠিক করে রাঁধলেই তো হলো। বলেই স্ত্রীকে ঘন করে কাছে টানলেন মাজেজ।

কিন্তু শরীর শক্ত করে দুরেই রইলেন সামিনা। আবারও টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়লো চোখের কোল বেয়ে। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন,
- কালও রান্না এমনই হবে। নুন, ঝাল বেশীই থাকবে।
- কেন? একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন মাজেজে।
- ঘরে বেশী চাল নেই। মাস খরচের টাকাও শেষ। বাকী এক সপ্তাহ চলবে কি করে জানিনা। নুন, ঝাল বেশী দিলে ছেলেমেয়ে সহ আমরা সবাই একটু কম খাই। তাতে যদি এ সপ্তাহটা চলে!

বলেই আরো জোরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন সামিনা। ছেলে মেয়েরাও সে কান্না শুনে জেগে উঠলো। জড়িয়ে ধরলো মা কে । শুধুমাত্র নির্বাক মাজেজুল হক মশারীর ফাঁক দিয়ে উপরের কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28786335 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28786335 2008-04-09 13:16:31
কতৃপক্ষের মুছে দেয়া পোষ্ট: রাশেদ ও এস্কিমোর ব্যান ফিরিয়ে নেয়ার পুরোনো দাবী রাশেদ আর এক্সিমোকে ব্যান করার পর এই পোষ্টটি দিয়েছিলাম এখানে। কোন কারণ না জানিয়েই মুছে দিয়েছিলেন কতৃপক্ষ। কোন পরিবর্তন না করে আবার সে লেখাটি দিলাম। আশা করি এবার মুছলে কারণ জানাবেন কতৃপক্ষ। না হলে সামহোয়ারে এটাই আমার শেষ পোষ্ট।


দেখলাম, পান্জেরী ও সাগর নীল নামে দুই স্বাধীনতাযুদ্ধ বিকৃতকারী রাজাকার জাতীয় প্রাণীকে বেশ কঠিন ভাবেই ব্যন করা হয়েছে। সেজন্যে আপনাদেরকে ধন্যবাদ। দেখতে পাচ্ছেন, এদের পক্ষে তো কেউ একজনও কিছুই বলতে আসছেন না। কারণও রয়েছে। তারা তাদের "পাকি দালাল" অবস্থানের কারণেই তাদের কয়েকজন একই জাতীয় দোসর ছাড়া সবার কাছে ঘৃণ্য। তারা জেনেশুনেই অপকর্মে লিপ্ত হয় ও তাদের দোসররাও তাদের কর্মকে অপকর্ম হিসেবেই জানে। তাই এদের পক্ষে বলার যৌক্তিক বক্তব্য দাঁড় করানোর সৎসাহস এদের নেই। এরা ইতিহাসে ধিকৃত, তাই বিকৃত করে সে ইতিহাস বার বার। এদের বিকৃতি হঠাৎ নজর কাড়লেও ইতিহাসে এরা ঘৃণ্যই থেকে যায়। কিন্তু এই অল্প সময়ে ওরা যে ক্ষতি করে যায়, তা অপূরনীয়। সেখানে আপনাদের আরো সাবধানতা কাম্য ছিল।

এরা প্রতিদিনই বিকৃত করছে মুক্তিযুদ্ধের, এই মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের ইতিহাস। এরা বিকৃত করছে সেই ইতিহাসকে, যে ইতিহাসকে দাঁড় করাতে শহীদ হয়েছেন তিরিশ লাখ বাঙ্গালী নর নারী। এই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ও তাদের দোসরদের পৈশাচিকতায় সম্ভ্রম হারিয়েছেন দুই লাখ মা-বোন। এই ইতিহাস বিকৃতি তো সেই নিয়মেরই পরিপন্থী, যে নিয়ম আমাদের প্রায় সবার দাবীতে আপনারা নির্ধারণ করেছেন। তাহলে আপনাদের প্রতিক্রিয়ার আশায় এতো কাঠ খড় কেন পোড়াতে হয় আমাদের। কেন প্রতিবারই অভিযোগ জানিয়ে কোন উত্তর আশা করতে পারি না।

অনেকের ধৈর্যশক্তি অন্যদের মতো বিশাল নয়। বিশালতারও একটি সীমা রয়েছে। আপনাদের ঔদাসীন্য সেই শেষ সীমাতেই দাড় করিয়েছে আমাদের। ফলস্রুতিতে যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন রাশেদ আর এস্কিমো। আমাদের সবার সমর্থন রয়েছে তাদের প্রতি। তাই প্রায় প্রতিটি নিয়মিত ব্লগারই তাদের ব্যন মুক্তির দাবী জানাচ্ছেন। এটা কি আপনাদের চোখে পড়ে না? আপনারা নীতিমালা কলেছেন, আমরা সবাই তাতে সমর্থন দিয়েছি। এখন এই নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত ও পালন করার দ্বায়িত্ব আপনাদের নয় কি? কি অন্যায় রাশেদ আর এস্কিমো করেছেন, তা একবার জানিয়েছেন কি? আমি ওদের পরিবর্তিত পোষ্ট গুলো পড়েছি। সেখানে এমন কিছু দেখিনি, যা নীতিমালার বাইরে। পোষ্টপরিবর্তন নিয়মের বাইরে হলেও এ সম্পর্কেও আপনাদের সঠিক কোন নীতিমালা নেই। আর কি পরিস্থিতিতে এই দু'জন এই পন্থা অবলম্বন করেছেন, তার প্রতি কি আপনাদের সামান্যও সহানুভুতি নেই? যদি পাণ্জেরী ও সাগর নীলের কর্মকে আপনারা নীতিমালা বিরোধী হিসেবে দেখেন (দেখেছেন অবশ্যই, নাহলে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতেন না নিশ্টয়ই), তাহলে তো রাশেদ আর এস্কিমোর অবস্থানে প্রতি আপনাদের সহানুভুকিই থাকার কথা।
তাই রাশেদ ও এস্কিমোর শর্তহীন ব্যনমুক্তির দাবী প্রতি আমি আমার অকুন্ঠ সমর্থন জানাচ্ছি। যতদিন তা না হয়, এই লেখা দেবার পরপরই আমি নিজে লগিন করবো না ও যাদের আমার এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন আছে, তাদেরকে তাদের নাম জানানোর আহব্বান জানাচ্ছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28786255 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28786255 2008-04-09 02:49:59
বিশ্ববাজারে খাদ্যঘাটতি ও বাংলাদেশ: “ক্ষুধিতের বিপ্লব শুরু হতে আর দেরী নেই” গতকাল এক জার্মান পত্রিকায় “ক্ষুধিতের বিপ্লব শুরু হতে আর দেরী নেই” শীর্শক খবরটি পড়ে এই লেখাটি শুরু করছি। শিরোনামের পর এভাবে লেখা হয়েছে। “ইকুয়াডরের চাল, জার্মানীতে দই অথবা ফ্রান্সের রুটি, যাই হোক না কেন, সারা পৃথিবী জুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম ক্রমাগত ও ভায়াবহ গতিতে বেড়ে চলেছে। কিন্তু সবচেয়ে বিপদে আছে গরীব রাষ্ট্রের গরীব নাগরিকরা। তাই বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সাহায্যসংস্থাগুলো দ্রুত বিশ্বব্যপী এই সমস্যার জন্যে বিশ্বোপযোগী সমাধান দাবী করছে।“

প্রকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবর্তন, জ্বালানী তেলের উর্ধমুখী দাম, চীন ও ভারতের নিজেদের বর্ধিত চাহিদা খাদ্যদ্রব্যের এর অবিরাম ও রেকর্ডপরিমাণ উর্ধগতিতে সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে। হাইতিতে নুডলস এর দাম দ্বিগুন, মিশরে বেড়েছে রুটির ৩৫% ও ভোজ্যতেলের দাম ২৫% ।

পাশাপাশি দ্রুত উন্নতিশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে চীন ও ভারতে ভোজ্যপন্য ব্যাবহারের পরিমানও বেড়েছে অনেক। চীনে ১৯৮০ সাল থেকে মাথাপিছু মাংস খাওয়া বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। সেখানে শুয়রের মাংসের দাম গতবছরে বেড়েছে ৫৮ শতাংশ।

এই অবধি পত্রিকার খবর ও তার সারাংশ। এসবের আলামত অনেকদিন যাবৎই চোখে পড়ছে। আমার স্ত্রী একটি কোম্পানীতে কাজ করে, যারা পাইকারী হারে চীন সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে জার্মানীতে অরগ্যানিক খাবারদাবার আমদানী করে। তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। গতবছর অবধিও চীন নিজ দেশের রপ্তানীকারকদের সাবসিডি দিয়ে উৎসাহিত করতো। ওদেরকে কোন ট্যক্স দিতে হতো না। এবছর সে সাবসিডি বন্ধ করেছে, নানা ধরণের ট্যক্স বসিয়ে পুরোনো রপ্তানীচুক্তিকে আরো বেশী কঠিন করতে চাইছে।

মোদ্দা কথা হচ্ছে এই যে, প্রতিটি দেশই এখন খাদ্যসংকটে ভুগছে। যাদের নেই, তারা তাদের ক্ষমতানুযায়ী আমদানী করে সে সংকট পূরণ করতে চাইছে, যাদের আছে, তারা তা রপ্তানী না করে সামনের দিনের জন্যে মজুদ রাখতে চাইছে। ফলে ধনী দেশের মানুষ কোনভাবে খেতে পারলেও, আমরা না খেয়ে বা আধপেটা থাকছি।

আমাদের দেশে চালের দাম এখন দ্বিগুনের চেয়েও বেশী। অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারন মানুষ। এই অবস্থাকে দুর্ভিক্ষ বলা যেতে পারে কি, এ নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়েছে। আমরা ভারত কে চালের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযুক্ত করি। এসব বিষয় ও তার কারণ নিয়ে একটু আলোকপাত করতে চাইছি। ভারতের দিকে আঙ্গুল তুলে ভারত বিদ্বেষীরা রাজনৈতিক উদ্দেস্য হাসিল করতে পারে বটে, তবে তাতে আসল সমস্যা ধারেকাছেও আসা হবে না। ভারত আমাদের কথা না ভেবে, তার নিজের নাগরিকদের কথাই ভাববে ও এটাই স্বাভাবিক। ভারত বিদ্বেষীরা ভারতের কাছে যা আশা করে, নিজেদের পরিমন্ডলে নিজেরাও তা পূরণ করতে সক্ষম নয়। এরা কোনদিনও নিজের সন্তানের পেটে আগে খাবার না দিয়ে অন্যকে সাহায্য করতে চাইবে না। আমি নিজেও তা করতে যাব না। তারপরও জানি যে, অন্যের আছে এধরণের দাবী বা প্রত্যাশার অধিকারও আমার নেই। ওরা তা জানে না, বা জানতে চায় না, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলই এদের কাছেই মুখ্য বলেই আঙ্গুল তুলে অন্যকে দোষারোপ করে। আমি ভারতপন্থীও, ভারতবিদ্বষীও নই, কারণ জানি, নিজেদের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে কেউ আমাদের জন্যে কিছুই করবে না ও এটাই স্বাভাবিক। কোন দেশই নিজের লাভ না দেখে অন্যের জন্যে কিছু করবে না। আমদের দেশ ধনী হলেও করতো না।

১) বাংলাদেশের বাজারদর নির্ধরিত হয় বড় ব্যাবসায়ী ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের হাতে। পাশাপাশি ব্যাবসায়িক সুবিধার আশায় এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বার্থও বহন করে। এরা জানে, তত্বাবধায়ক সরকার সাময়িক। এরা তাই সরবরাহ কমিয়ে বা বন্ধ করে দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে।
২) সিডরের ক্ষতি।
৩) আন্তর্জাতিক খাদ্য পরিস্থিতি।
৪) সরকারের অযোগ্যতা।

এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি, যা আরো বেশী ভয়ংকর মনে হয়। ধনী ও উন্নত দেশগুলো ইদানীং “পরিবেশবাদের ধুয়ো তুলে” জৈব জ্বালানীর দিকে ঝুকছে। আলামত টের পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালভাবেই। জার্মানীতে যোগাযোগমন্ত্রী পেট্রোলে যাতে জৈব জ্বালানীর পরিমান ৫% এর বেশী না হয়, সে নির্দেশ দিয়েছেন। গরীব দেশের প্রতি অনুকম্পা তার কারণ নয়, কারণ কিছু পুরোনা মডেলের ইন্জিনের এই খাদ্য নাও হজম হতে পারে। অর্থাৎ জৈব জ্বালানী এখন আর পরিকল্পনা নয়, চরম বাস্তবতা। ৫% হলেও এখনই এখানকার গাড়ীতে মানুষের মুখের আহার কেড়ে জৈব জ্বালানী ঢোকানো হচ্ছে। বুশও গরীব রপ্তানীকারক দেশগুলোকে আখের চাষ করতে বাধ্য করাতে চাইছে, যাতে আমেরিকায় জ্বালনী তেলের অভাব না হয়।

সে সমস্ত দেশের সাধারণ চাষীদেরকে এ ধরণের চাষে বাধ্য করছে সে দেশের জমিদার শ্রেনীর ব্যাবসায়ীরা। অনেকটা আমাদের দেশে বৃটিশ ঔপনিবেশিক সময়ের কুখ্যাত “নীল চাষের” মতো। কী ভয়ংকর! মানুষের পেটের খাবার কেড়ে নিয়ে যন্ত্রের পেটে ঢোকানো! কিন্তু এটা সত্যি, সাইন্স ফিকশন বা বানোয়াট কোন কাহিনী হয়। আমাদের সত্যিই দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে এবার। এখন প্রবল চাপে নি:শ্বাস বন্ধ হতে বাকী।

কিন্তু করনীয় কি? আমার মতো চুনোপুটির কি বলার থাকতে পারে? শুধুই বলতে পারি আমাদের সমস্যার আরো কাছাকাছি আসার চেষ্টা করা উচিৎ। এখন তথাকথিত বিশ্বায়নের যুগে প্রতিবেশীর দিকে আঙ্গুল তুলে অভিসম্পাত বিদ্বেষ বাড়াতে পারবে বটে, কিন্তু লাভ হবেনা সামন্যও। যেখানে পৃথিবীর অনেক অংশে সীমানাই তুলে দেয়া হয়েছে, সেখানে আমরা প্রতিবেশীর সাথে বাস, ট্রেন যোগাযোগ বা করিডোর হলেই “সব নিয়ে গেল, মারলো রে, খাইল রে” বলে পাড়া মাত করি। পাড়া মাত করার দিন এখন শেষ। আমাদেরকে প্রসারিত দৃষ্টি নিয়ে আরো দুরে তাকাতে হবে। নিজেদের দেশে সাবধানতা, পরিকল্পনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও আন্তর্জাতিক জনমত তৈরী করতে হবে। ইওরোপের সাধারণ মানুষের মাঝে অনেকে রয়েছেন তাদের সরকারে আগ্রাসী বানিজ্যক মনোভাবকে সমর্থন করেন না। তারা অনেকেই এখনই সোচ্চার। তাদের মাঝেও জনমত তৈরী করতে হবে, যাতে জৈব জ্বালানী উৎপাদন মানবিক কারণেই পুরো নিষিদ্ধ করা হয়। এরা বিশ্বায়ন বিশ্বায়ন বলে গলা ফাটায়, গরীব দেশগুলোর খাদ্য সমস্যাও যে বিশ্বায়নের একটি জরুরী অংশ, সেটা পরিস্কার বুঝিয়ে দিতে হবে বিশ্ববাসীকে। তা না হলে “ক্ষুধিতের বিপ্লব শুরু” করা না ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না ক্ষুধিতের।



(এখানে লিখব না বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু অনেকসময় জরুরী প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28785415 http://www.somewhereinblog.net/blog/nantublog/28785415 2008-04-05 14:29:36
মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা মা-বোনের সংখ্যা দুই লক্ষ। এটা নীচে নামানোয় তাদের স্বার্থ কি ও কারা তারা?
তাদেরকেই বলছি। অপরাধবোধ দুর করা সাজানো সংখ্যাতত্বের ভিত্তিতে সম্ভব নয়, কুলাঙ্গারের দল! এই বোধ বারবারই আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে, কুরে কুরে শেষ করবে প্রতিনিয়ত। একমাত্র নিজেদের দোষ, নিজেদের ইতিহাসের দোষ নতজানু হয়ে স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেই প্রশমিত হবে সে অপরাধবোধ। জামাত আজ অবধি একবারও তা করে নি।

কিছু কিছু ইতরের দল সে এই ধর্ষনের কথা তুললেই স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক ধর্ষনের কথা তোলে। সে ইতরদেরকেই বলছি, যে কোন ধর্ষন অমার্জনীয় অপরাধ। প্রতিক্ষেত্রেই অপরাধীদের কঠিন সাজা হওয়া দরকার। কিন্তু একটা ইস্যু নিয়ে যখন কথা হয়