আর্থিকভাবে সচ্ছল পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হওয়াই নারীর জীবনের মূল লক্ষ্য !!!
০৪ ঠা জুন, ২০০৬ সকাল ৭:৪৬
নারী মুক্তি আন্দোলন, নারী স্বাধীনতার কথা বলা হলেও আমাদের দেশের খুব কম পরিবারই মেনে নিতে পারে যে তাদের কন্যা সন্তানের বিয়ের ব্যাপারে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। সমাজ এখনো মেয়েদের কিছু কিছু ব্যাপারে কোণঠাসা করে রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী অধরার (ছদ্মনাম) কথাই ধরা যাক। অধরা পড়াশুনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আগে বিয়ে করতে চায় না। কিন্তুতার পরিবার এটা মানতে নারাজ। পরিবারের লোকজন মনে করেন আর্থিকভাবে সচ্ছল পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হওয়াই নারীর জীবনের মূল লক্ষ্য। আর এ জন্যই তার পড়ালেখা করা। চাকরি করতে হবে কেন? শুধু আর্থিক নিশ্চয়তা নয় -একটা মেয়ের মানসিক তৃপ্তির জন্যও যে সে চাকরি করতে পারে এটা তারা বুঝতে চায় না। আর্থিকভাবে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাই অধরাকে মেনে নিতে হচ্ছে পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তকে। তাকে প্রায়ই পাত্রপক্ষের সামনে সেজেগুজে উপস্থিত হতে হয় আর উত্তর দিতে হয় তাদের উদ্ভট কিছু প্রশ্নের। অধরা আক্ষেপ করে বললেন, 'আসলে মেয়েদের স্বাধীনতা মানে পরাধীনতার বেড়াজালে আটকে থাকা সংকীর্ণ স্বাধীনতা।'
ক্ষেত্র বিশেষ পিতা-মাতা বা অভিবাবক অধরার যুক্তি মানলেও আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা তা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের একই প্রশ্নকোনোই তো সমস্যা নেই তুমি কেন বিয়ে করছো না?
আজকাল অনেক প্রগতিশীল বাবা-মাই বিয়ের ব্যপারে মেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এই সংখ্যা একবারেই হাতেগোনা। অধিকাংশ পরিবারেই মেয়ের নিজের পাত্র নির্বাচন করাকে বাঁকা চোখে দেখে। মেয়েটির পছন্দের পাত্র যতোই গুণের অধিকারী হোক না কেন অভিভাবকরা তার দোষ খুঁজতে সিদ্ধহস্ত_ এ ব্যাপারে অবশ্য ছেলের বাবা-মায়েরাও কম যায় না।
নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই বলা যাবে যখন একটি মেয়ে তার জীবনের সব ক্ষেত্রেই নিজের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে। আর এই অবস্থা সৃষ্টি করার জন্য প্রথমে দরকার আমাদের সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন আনা। পরিবারের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে তবেই একটি মেয়ে পারবে তার জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
- আমার সর্বশেষ পোস্ট "যৌতুক বিরোধী সামাজিক আন্দোলন চাই" এর ছায়া অবলম্বনে
প্রকাশ করা হয়েছে: বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
দিন বদলের দিন এসেছে।বিয়েসহ যাবতীয় ব্যাপারে আমরাই আমাদের সিদ্ধান্ত নেব; এমন দিন আসবেই।
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
মিতুন, আপনি ভালো আছেন ?
অতিথি বলেছেন:
এই সেক্সিষ্ট রাম ছাগলটাকে ক্যান কেউ কান ধইরা বাইর কইর্যা দেয় না এইটা বুঝি না। ওর জরুরি ভিত্তিতে মন্তব্য করার অধিকার হরন করা দরকার।
অতিথি বলেছেন:
আরো একটি চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ নাসিমা। নারীদের এসব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এই সাইটে খুব বেশি লেখা হয় না। আপনি নিশ্চয়ই অন্ধকার কিছু কিছু এলকায় আলো ফেলবেন। আমাদের সমাজের পশ্চাৎপদতার বিষয়গুলো আরো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
অতিথি বলেছেন:
মিতুন ঃ ভালো লিখেছেন...............!!!!
অতিথি বলেছেন:
একটা কথা মিস হয়ে গিয়েছে...এই পৃথিবীতে কেউই সিদ্ধান্ত নেবার পূর্ন স্বাধীনতা পায় না। পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক.. এবিষয়ে তর্ক করে সারা জীবন পার করে দেয়া যাবে.. কিন্তু সঠিক কোন ফলাফল আসবে না।
নারীদের উপর কিছু বর্বর পুরুষ অত্যাচার করে থাকে.. ... কিন্তু এর পেছনে মূল কারনটা যদি খুঁজে দেখেন তাহলে দেখবেন বিয়েটি এরেঞ্জ মেরিজ ছিল না। অথবা মেয়েটির ফ্যামিলির সাথে ছেলেটির ফ্যামিলির ভালো আন্ডাষ্টেন্ডিং নেই। এর মূল কারন হচ্ছে ঐ ছেলে এবং মেয়ের বিয়েতে দুই পরিবারেরই মতামত ছিল না।
সত্যি কথা কি জানেন... তরুন তরুনীরা চলে আবেগের বশে... অভিবাবকরা সবসময় তার মেয়ে বা ছেলের ভাল চায়। তাই তারা বুঝেন কোথায় বিয়ে দিলে তার ছেলেটি বা মেয়েটি সুখে থাকবে। এই ক্ষমতাটা যদি আপনি তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়াটাকে অধিকার বলেন তাহলে আপনাদের জীবনে দুর্গতি বাড়বে বই কমবে না।
অল্পকথায় এসব বুঝানো মুশকিল। ...
আপনার পোষ্টের বিষয়বস্তু ভাল.. কিন্তু আপনার স্বাধীনতার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিটা সঠিক নয়।
যাই হোক... ভাল থাকুন।
নওরীণ সুলতানা বলেছেন:
ত্রিভুজ,পুরুষের কাজ ও নারীদের কাজ বলতে আপনি কি বোঝাতে চাইছেন বুঝিয়ে বলবেন কি?
অতিথি বলেছেন:
প্রগতিশীল বাবা-মা হাতে গোনার মতো থাকলেও, এই সংখ্যাটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আপনি যেমনটা বল্লেন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন - এই গ্যাড়াকলে পড়ে অনেক প্রগতিশীল বাবা-মা-ও সন্তানের পছন্দের প্রতি মূল্য দিতে নারাজ থাকেন।ব্যাপারটা আসলেই প্যাথেটিক। পাছে লোককথাকে এখনো যে ভয় আমাদের সমাজে !
হযবরল বলেছেন:
র্অথনৈতিক স্বাধীনতা বিহীন মানুষ স্বাধীনতা, নখদন্ত হীন বাঘের মত। ভাল অবতারনা। ত্রিভূজ এ বিষয়ে হয়তো ভাল জানে সেই বলুক, আমরা শুনি।
হযবরল বলেছেন:
মন্তব্যটার একটা লাইন গায়েব হয়ে গেছে। র্অথনৈতিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা একে অপরের হাত ধরে আসে।
অতিথি বলেছেন:
যা বোঝা যায় না সেখানে -ছেলেদের- পড়তে হবে।
অতিথি বলেছেন:
point to be noted ছেলে এবং মেয়েদের কাজ আলাদা। একমাত্র বায়োলজিকাল কাজ ছাড়া যেমন মেয়েদের child birth আর
কালপুরুষ বলেছেন:
অর্থ কখনই একক ভাবে একটা মানুষের যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। কখনই না। একটা চরিত্রহীন লস্পট মাতালের কাছে কোন বাবাই জেনে শুনে তার মেয়েকে তুলে দেবেন না। তার যত টাকাই থাকুক। সে যত শিক্ষিতই হোক। আমি বলবো একটা ভাল মানুষই একটা নারীর যোগ্য স্বামী যার যার অর্থনৈতিক অবস্থানে। আমি ভীষণ গরীব কিন্তুু ভাল মানুষ, আমি কোনভাবেই বিত্তশালীর কোন মেয়েকে পাত্রী হিসেবে পাব না। কারণ আমার সেই শ্রেণী বা গোত্রের সমপর্যায়ের সামাজিক মর্যাদা নেই। তাহলে আমি এখানে পাত্র হিসেবে নিস্ক্রিয়। আবার আমি খুব বড়লোক কিন্তু চরিত্রহীন এক্ষেত্রে আমাকে জেনে শুনে কেউ বড় বা খান্দানি ঘরের কোন মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেবে না। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে ? কাউকে না কাউকে ছাড় দিতে হবে বা হচ্ছে। গরীর ঘরের মেয়ে বড়লোকের টাকার কাছে বিক্রি হচ্ছে। আর বড়লোক শশুর টাকার জোড়ে গরীব ছেলেকে কিনে নিচ্ছে। এখানে ব্যালান্সড "ট্রেড অফ" হচ্ছে না। ছাড় দেয়া আর মেনে নেয়া এক কথা নয়। কেউ সহ্য করছে আর কেউ মনের ইচ্ছার বাইরে মেনে নিচ্ছে এই অসম বিয়ে। আর অসম বিয়ের ক্ষেত্রে যত বৈষম্য তত বিভেদ। আর যত বিভেদ তত অনাসৃষ্টি। নারী সব ক্ষেত্রেই বলির পাঁঠা। সংসার সুখের না হলেও নারীর দোষ, স্বামী লম্পট হলেও স্ত্রীর দোষ। স্বামীকে নাকি ধরে রাখতে জানে না। স্বামীতো কচি দুধের শিশু কোলে করে ধরে রাখবে।
বিয়ের ক্ষেত্রে ভাল পাত্রের চেয়ে আগে ভাল মানুষ খোঁজা দরকার তারপর সে পাত্র মানানসই কিনা সহজেই বোঝা যাবে। নারী অর্থ আর বৈভবের কাছে বিক্রি হলে সেই সংসারে কখনও সুখ আসবে না। তাই নারীর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ একটা ভাল মানুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়া যাতে জীবন চলার পথে একজন অরেকজনকে কাছে কাছে পায়। বিপদে আপদে যেন একজন আরেকজনের উপর নির্ভর করতে পারে। বিশ্বাস করতে পারে। বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পারে। দুজনের সুখদুঃখ যেন দুজনে শেয়ার করতে পারে। আর তা করতে পারে একজন ভাল মানুষ। আর্থিক অবস্থা তার যেমনই হোক না কেন। আমাদের জীবনটাইতো সমঝোতা। যে যত সমঝে চলতে পারবে থার তত কম অশান্তি। শান্তিদেয় ভাল মানুষ হিসেবে ভাল স্বামী বেশী টাকা না।বরং টাকা অনেক সময় শান্তি কেড়ে নেয়।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
স্বচ্ছলতা একটা জরুরী অনুষঙ্গই বটে, যে কারণে বৃদ্ধর্সতরুণী ভার্যা কিংবা পয়সাওয়ালা বিস্টের সঙ্গে প্রচুর বিউটিকে দেখা যায়। আসলে আমাদের সামাজিক অবকাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা একজন ছেলেকে 30 এর আগে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযো গ দেয় না। যাদের বাপের জমিদারী আছে কিংবা ব্যবসায়ী তাদের কথা আলাদা।
অতিথি বলেছেন:
নাসিমার সাথে একমত যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে সমস্যাটা অনেকটা দূর হবে।তবে, একইসাথে সামাজিক শিক্ষার মানোন্নয়নেরও প্রয়োজন আছে।
কর্মজীবি মেয়েরাও বিয়ের পর সমস্যায় পড়েন, দেখা যায় তাঁরা আয় করছেন, কিন্তু তাঁদের ব্যায়ের ব্যাপারে অনেক নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত স্বাবলম্বী মেয়েরাও/ছেলেরাও সমাজের ভয়ে ডিভোর্সের কথা ভাবতে পারেনা, সহ্য করে যায়।
আবার প্র্যাকটিকা্যলি, সবাই কর্মজীবি হবে তাও সম্ভব না; বাচ্চা পালনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বাবা অথবা মায়ের একজনকে ঘরের দেখাশোনা করার দরকার হতে পারে।
সুতরাং, বর্তমানে আমাদের সামাজিক শিক্ষায় ঘরের কাজেকে যে সামাজিক মর্যাদা দেয়া হয়না এ সত্যটি উপলব্ধি করে ঘরের কাজের মর্যাদাও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আসলে আমার মতে এটা একটা বড় ইস্যু। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সাথে এখানে আমাদের একটা বড় গ্যাপ আছে।
হাবিবমহাজন বলেছেন:
পরিবারে ও সমাজে উপার্জনশীলদের কদর সর্বাগ্রে। সুতরাং নারী ুরুষের মধ্যে এ বৈষম্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত অরাজকতা চলবেই।ওঃ কানে কানে আরেকটা কথা বলি, পন্ডিতের মত মুখে যতই শিক্ষার কথা বলি না কেন টাকার প্রয়োজন আগে। এক কথায় যার টাকা নাই- সমাজও পরিবারে তার দাম নাই। হোক না সে শিক্ষায় শিক্ষিত। এজন্যই উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের ঘাড়ে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত ছেলেদের চাপিয়ে দেয়া হয়।
নাসিমা, আপনার নারীবাদী লেখায় পরিপক্কতা বিদ্যমান। আপনাকে ধন্যবাদ।
রনী বলেছেন:
জয়তু নাসরিনদের মুক্তি...........................................
শারমিন বলেছেন:
Very nice to find your blog. Good to see that you also brought up this topic. I would like to add that girls have to come forward to establish there case. If we can't leave the confort of being take care of no one can help us. I have seen cases where girls are afraid to take steps becuase she has to take the responsibility. I have a post on related issue
Take a look here:
Click This Link
Feel free to visit us drop comments.
-Sharmin
পরিবার হচ্ছে মানব সমাজের সবচেয়ে আদিম প্রতিষ্ঠান। পুজি সভ্যতার শুরু হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক পরিবার পরিবার প্রথার মাধ্যমে। নারী স্বাধীনতার বধ্যভুমির উপর গড়ে উঠেছে এই পরিবার। আজ সেই পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের অনেক অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু মেয়েরা ফিরে পায়নি স্বাধীনতা।
ভালো লেখা।
















আমার তো মনে হয় দুনিয়ার নিয়ম যদি এরকম হতো যে, 'মেয়েরা সব চাকরি বাকরি করবে আর ছেলেরা বাসায় থাকবে' তাহলেও মনে হয় আপনারা বলতেন এটা বৈষম্য... মেয়েরা খালি কষ্ট করে উপার্জন করবে আর ছেলেরা বসে বসে খাবে.. এটি হতে পারে না.. :-)
পুরষের কাজ নারীর করার মাঝে কোন মহত্ব নেই। এই সত্যটা ধরতে চেষ্টা করুন।
ভাল থাকুন।