যে আগ্রাসন ক্রমাগত বাড়িয়ে চলছে নারী ভোক্তার সংখ্যা তার ঐন্দ্রজালিক বিজ্ঞাপন কলার মাধ্যমে।
মেয়েরা কেন লিপিষ্টিক ঘষে? প্রশ্নটা সহজ মনে হলেও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সহজ নয় ! আমি অনেক মেয়েকে প্রশ্ন করে দেখেছি; তার কোনো যৌক্তিক উত্তর সরবারহ করতে পারনে নাই। বেশির ভাগ মেয়ের উত্তর যে; তারা এমনি সারা ঠোঁট জুড়ে লিপিষ্টিক ঘষে ঘসে ক্লান্ত হয় বিনাকারনেই। কিন্তু আমরা যখন এর দৈহিক মনস্তত্ব বিশ্লেষনে যাব তখন এর ভয়াবহ উত্তর মিলবে ।
নারী রঙিন হয় যতটা না নিজের তাগিদে ; তার চেয়ে পুরুষের তাগিদটা থাকে বেশি। পুরুষতান্ত্রিককিবি সাহিত্যিকেরা তাদের কাগজেকলমে নারীকে করে তুলছে উর্বশী; ভোগের অনন্য উপকরন । তার অনবরত বলে গেছে নারী তুমি সাজ। সাজতে সাজতে বিকৃত করে মুখের ভুগোল। তারই উত্তারাধিকার আমাদের নারীরা বয়ে চলেছে মগজের কোষে কোষে। লহুতে লহুতে।
নারী ঠোঁটে লিপিষ্টিক ঘষে তাঁর ঠোটকে বিশেষয়ায়িত করে তুলতে চায়। সে বলতে চায় পুরুষ দেখো আমার এই ঠোঁট; এর পেলবতা তোমারে চেয়ে কোমল। কামুক। এটা যৌনতার ক্ষেত্র। সে প্রিয় পুরুষের সামনে যায় ঠোঁট রাঙিয়ে; সে যখন হাসে ঠোট বাকিয়ে। এই রাঙানো বাকানোর উপাখ্যান নির্মানের দায় আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার। যারা কিশোরীকে মানুষের মত বড় হতে দেয় না। ওঁর সামনে পুরোটা শৈশব থেকে হাজির করতে থাকি হাজার পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক উপকরন।
পুরুষ শিশুটির হাতে তুলে দেই খেলনা পিস্তল; নারী শিশুর হাতে থালাবাসন; আলতা স্নো। (দুখিত ; আমি শিশুকে নারী পুরুষে বিভাজিত করতে চাই নাই; কিন্তু বিষটা বোঝোনোর অন্য কোনো কৌশল আমার জানা নাই। )
একটা শিশু বড় হতে না হতে তার হাতে আমার তুলে দেই আলতা-স্নো। তারপর একসময় সে দেখতে শেখে টেলিভিশন; সেখানকার নায়িকার মতো করে সে সাজাতে চায় ঠোঁট। সে হয়ে ওঠে পুরুষতান্ত্রিক পুজিবাদের প্রধান টার্গেট। তাকে ঘিরে নির্মিত হয় হরেক রকম পন্য; বিজ্ঞাপনে নারীকে বিক্রি করা হয় নারীর কাছে।
আমার এই বিকৃত থেকে মুক্তি চাই। আমার চাই একটা শিশু আলতা স্নোর ব্যবহার না শিখে গাতে তুলে নেবে বই। লিপিষ্টিক না ঘষে সে যুক্ত হবে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায়।আমাকে তখন আর নারী শব্দটা উচ্চারন করতে হবে না। আমি বলে উঠতে পারবো মানুষ। আমি নারী পুরুষের পৃথিবী না বলে বলতে পারবো এটা মানষের পৃথিবী। সাম্যের পৃথিবী।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



