আমার প্রিয় পোস্ট

প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও নির্মিত হয়নি ভিন্ন ধর্মালম্বীদের কোন উপাসনালয়!

২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:০৮

শেয়ারঃ
0 0 0




প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)-তে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের জন্য নির্মিত হয়নি কোন উপসানলয়। বর্তমানে ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হিন্দু ধর্মালম্বী ও ২ শ’এর মত খ্রিষ্টান শিক্ষার্থী থাকলেও এদের জন্য নেই কোন উপসানলয়। ফলে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ ক্রমান্বয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন চবির বিভিন্ন বিভাগে অধ্যায়নরত ভিন্নধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী হিন্দু ধর্মালম্বী, ০৭ শতাংশ বৌদ্ধ ও ০১ শতাংশ খ্রিষ্টান শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। কিন্তু এদের ধর্মীয় রীতিনীতি, উৎসব অনুষ্ঠান পালনের জন্য চবিতে নেই কোন উপসানলয়। অথচ চবি’র প্রতিটি আবাসিক হল, ফ্যাকাল্টি, ইনস্টিটিউট, কলোনিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৫ টি মসজিদ রয়েছে। এমনকি উত্তর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রিয় খেলার মাঠের পশ্চিম পাশে নির্জন এলাকায়ও একটি মসজিদ আছে। কিন্তু প্রায় ৪ হাজার ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও তাঁদের জন্য নেই কোনো ধমীয় প্রার্থণাস্থল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল চবিতে শিক্ষারত ‘সংখ্যালঘু’ স¤প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে হল ও উপসানলয় নির্মানের দাবি তুললেও এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। একসময় চবির সনাতন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষর্থীরা চট্টগ্রাম মহানগরের জেএমসেন হলে গিয়ে তাঁদের পূজা করতেন। ১৯৯৯ সালে সনতান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মান্নান অস্থায়ীভাবে জারুলতলায় পূজার আয়োজন করার অনুমতি দেন এবং স্থায়ীভাবে মন্দির নির্মাণের জায়গাদানের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার আমলে আর তা আর হয়ে ওঠে না। এরপরে ২০০২ সালে উপাচার্য প্রফেসর এ জে এম নূরদ্দিন চেীধুরী আশ্বাস দিয়েও জারুলতলা পূজা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপর ২০০৩ সালে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নবীন বরন ও বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও তৎকালীন উপাচার্য আলাদাভাবে হল ও উপাসনালয় নির্মানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তিতে এ ব্যাপারে কোন আগ্রহ দেখান নি তিনি। পরে ২০০৯ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দ্বিতীয় বারের মত গণস্বাক্ষর অভিযান হয়, কিন্তু এত কিছুর পরও চবি ক্যাম্পাসে উপসানলয় নির্মানের জায়গা হয়নি ভিন্ন ধর্মাল¤ী^ শিক্ষার্থীদের। তবে বিদেশি সাহায্য সংস্থা রেডক্রসের সহযোগিতায় ভান্তে জ্যোতি পাল মহারথো বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছাত্রদের জন্য ১৯৯৬ সালে চবি ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি ছাত্রাবাস নির্মান করেন। সেখানে একটি বিহার আছে । এ প্রসঙ্গে ঐ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রিয়াসিস চাকমা শীর্ষ নিউজ ডট কমকে বলেন, এটি ব্যক্তি উদ্যেগে নির্মিত। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আলাদা করে হল নির্মান করতে হবে। আমরা এটাকে প্রশাসনের কর্তব্য বলেই মনে করি। আমরা বিভিন্ন হলে থাকতে অন্য ধর্মালম্বিদের দ্বারা নিগ্রহিত হই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চবিতে প্রবলভাবে সক্রিয় মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের আধিপত্য, প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগকৃত প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পরোক্ষ হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষকদের অনীহা ও উদাসীনতার কারনে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মন্দির বা গির্জা নির্মিত হয় নি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক, পালি ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষর্থী লিটন মিত্র জানান, একটি মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন ও তাদের উপরে ছায়ার মত দাঁড়িয়ে থাকা জামাত-শিবিরের প্রশাসন সর্বদাই চেয়েছে যাতে চবিতে কোন মন্দির বা গির্জা নির্মিত না হয়। এতে করে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় চেতনা যেমন অবিকশিত থেকে যাবে, তেমনি তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারেও তা সহায়ক পরিবেশ হিসেবে সাহায্য করবে। আর এর সাথে প্রশাসনের অনীহা তো আছেই ! এ ব্যপারে জানতে চাইলে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার সভাপতি মীর মোশারেফ হোসেন বলেন,মানুষ হিসেবে এখনও আমাদের পরিপূর্ণ বিকাশ হয়নি। আমরা সর্বদাই আমাদের নিয়ে ভাবি, পাশের লোকটির কথা ভাববার মত উদারনৈতকতা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা আমাদের তৈরী হয়নি। ! বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই মন্দির ও গির্জা থাকাটা জরুরি। আর সেজন্য আমাদেরকে আরও মানবিক, উদারনৈতিক হতে হবে। মার্কেটিং স্টাডিজ ও এন্ড ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ বলেন, সনাতন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পূজা আয়োজন করার জন্য স্থায়ী জায়গার আবেদন করে আসছে। সব উপাচার্য শুধু আশ্বাসই দেন। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের জন্য কোন উপাসনালয় নির্মিত হবে কিনা সে ব্যপারে জানতে চাইলে চবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সা¤প্রদায়িক স¤িপ্রতিতে বিশ্বাস করে। আর শিক্ষার্থীদের এই দাবিটাও খুবই যৌক্তিক। আমি এ ব্যপারে আন্তুরিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যপারে পদক্ষেপ নেবে। কবে নাগাদ মন্দির বা গির্জা নির্মিত হবে সে ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, গৃহিত সমস্ত সিদ্ধান্ত পাশ করতে বিভিন্ন বৈঠক অতিক্রম করতে হয়। এ ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।


 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩৫
হাজারি বলেছেন: ভালো একটা ব্যাপার তুলে এনেছেন

শুভ কামনা
৩. ২৯ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন: আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র। আমার জানামতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর পরই উত্তর ক্যাম্পাসের বৌদ্ধ বিহার টি স্থাপিত হয়েছিলো। ইতোমধ্যে তা প্রায় সাড়ে তিনশত ছাত্রের আবাসিক সুবিধাসহ একটি বিশাল স্থাপনা। তাহলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য এখানে কোন উপসনালয় নাই জাতীয় বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য কোন মন্দির নাই - এ কথা সত্য। থাকা দরকার। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন সবসময়েই দেখেছি ফ্যাকাল্টিতে পূজাঁ হতে। বিশেষ করে স্বরস্বতী পূঁজা চট্ট্গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো বন্ধ ছিলো না। ভি.সি. হিলের পাদদেশে প্রায়শ: এটি হতো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হলো নন-মুসলিমদের, বিশেষ করে চাকমাদের অতি-নিরাপদ ঘাঁটি। সংখ্যালঘুরা স্বীয় ধর্মীয় কারনে এখানে অত্যাচারিত হয়েছে - এ রকম কখনো শোনা যায়নি। শুধুমাত্র ‘মৌলবাদ বিরোধী মিডিয়া-বান্ধব’ অসত্য বক্তব্য প্রচার না করে দেশের অন্যতম প্রধান এই বিদ্যাপীঠের লেখাপড়ার্ মানের কথা তুলে ধরুন। ধারনা করছি আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সো ডোন্ট বি সেলফ-রিফিউটিং, হয়েন ইটস নট দ্যা ফ্যাক্ট। থ্যাঙ্ক্স।
৪. ২৯ শে মে, ২০১০ রাত ১০:৪৮
নাসিমূল আহসান বলেছেন: যেটা আছে, সেটা একদম-ই বেসরকারী অর্থায়ানে নির্মিত । আমি মূলত প্রশাসনের উদাসীনতা এবং প্রশাসনের যে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের দিকে মনোযোগ নাই এবং তাদের ধর্মপালন নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যাথা নাই, সে ব্যাপারটাই তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
৫. ২৯ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১৩
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন: হতে পারে উদাসীনতা। এটি চ.বি. প্রশাসনের একমাত্র উদাসীনতার উদাহরণ নয়, অন্যতম। আপনি জানেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ যে জ্ঞান-গবেষণা সেখানে কী পরিমাণে অবহেলা চলছে সে ব্যাপারে পড়ুন Click This Link
যাহোক, আমার জানামতে চ.বি.তে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য হিন্দুরা কখনো দৃশ্যমানভাবে কোন দাবী, স্বাক্ষর সংগ্রহ বা আন্দোলন করে নাই। তাহলে কিভাবে বলা যাবে, তাঁদেরকে অবহেলা করা হয়েছে? বলতে পারেন, প্রশাসন স্ব-উদ্যোগে কেন করে নাই? বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বীয় দায়িত্বপালনে স্বত:প্রণোদিত হয়ে উদ্যোগী হতো তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অন্যরকম হতো। একটি সেনসেটিভ বিষয়ে কথা বলার ব্যাপারে আপনি অধিকতর সতর্ক ও সত্যাশ্রয়ী হতে পারতেন। এ বিষয়ে অধিকতর মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি মাংসের টুকরো থেকে দূরে ছিলাম। আমি নতজানু হবার বদলে নিগ্রহকে বরণ করেছিলাম। আমি পিঠে কুঁজের বদলে বুকে ছুড়িকাকে সাদরে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ