somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মৃত স্বজনেরা আমার
কোথায়, কোন ভোরে এক কাঠালচাঁপার সাথে দেখা হয়েছিলো আমার । পৃথিবীর প্রথম সকালে যেদিন কৃষ্ঞচূড়া ফুটলো তার খোঁপার জন্য, আমি সেই কৃষ্ঞচূড়াকে দু’হাতে তুলতে গিয়ে দেখি হাতে লেপটে যাচ্ছে রক্তের দাগ ! তুমুল বর্ষায় ভেসে যাচ্ছে নীল নীল রাতজাগা সব সোহাগী চিঠি ।প্রিয় কচুরি ফুলের শরীর চেটে খাচ্ছে ঠিক শাপ না অথচ সাপের মতো দেখতে প্রানী।

একটা অদ্ভুত শহরের সাথে পরিচয় ঘটেছিলো ঘটনাক্রমে । সেখানকার মানুষগুলো ইশ্বরপুত্রের মতোন অন্ধের চোখে হাত বোলালেই খুলে যেতো দৃষ্টি । অথচ আমি সেখানে পৌছানো মাত্র ওদের পবিত্র হাতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ওরা আমার চোখ কেড়ে নিলো । বুকের যে পাশটায় মানুষের স্বপ্ন থাকে বলে কবি অথবা অকবিরা আন্দাজ করেন, সেখানটায় পুরে দিলো আগুনে জ্বলতে থাকা উত্তপ্ত লোহার শিক । আর একটা শকুন আমার মৃত শরীরকে খুবলে খাওয়ার বদলে কেমন বিস্ময়কর ভাবে আবার বাঁচিয়ে তুললো ! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400428 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400428 2011-06-21 21:36:22
মধ্যবয়স্ক স্মৃতির সুড়ঙ্গে...
আমার বন্ধু সকাল সন্ধ্যা একটা করে কাঠাল কেনে । কাঠাল তার প্রিয় ফল । কাঠাল খেতে খেতে তার দিন পেরিয়ে যাচ্ছে ! আমার তার মতো সুখি হতে খুব সাধ জাগে ! কিন্তু আমি তো আমি, সে তো সে ! আমরা কেউ কারো মতো হতে পারি না । সুইসাইড করে খুন হয়ে যাওয়া প্রিয় শিক্ষকের কথা আমার মনে পরে । মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার লেকচার টোকা ডায়েরী, ক্লাসে প্রেসিডেন্ট বুশের কথা বলতে বলতে মুখ থেকে ছিটকে আসা থুথু, তার মৃত দেহ থেকে বিচ্ছুরিত প্রতিরোধ আর না-পারার অক্ষমতা ভালো লাগতে থাকে আমার।

সুদিন আনবে বলে যে মেয়েটা বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজতে গিয়েছিলো রেফারেন্স সেকশনে, গলায় রশি বেঁধে জীবনের ভারসাম্য করতে হলো তাকে ! বর্তমান সময়ে জিতে যাওয়া ভালো; না হারতে হারতে শেষমেষ মরে যাওয়া ? আমি মেয়েটার মতো মরে যাওয়ার পক্ষে বাজি ধরতে রাজি আছি ! টোনাটুনির মতো সারাদিন ক্যাম্পাসের এপাশ ওপাশ ঘুরে বেড়ানো আমার বন্ধু ও তার প্রেমিকা । ওদের এক সময় দেখতে আমার ভালো লাগতো । এখন ওরা কেমন মলিন হয়ে যাচ্ছে । ওদের মলিন হয়ে যাওয়া তাকিয়ে দেখতে আমার ভালো লাগে । খারাপ লাগে!

আমাদের রাজীব দত্ত । সারাদিন ঝুপড়ির টেবিলে অনড় হয়ে বসে থাকে ! মাঝে মাঝে ওকে আমার ঐ টেবিলটার মতো বস্তু মনে হয় ! ওকে অনেক দিন ঝুপড়ির ঐ টেবিলটায় বসতে দেখি না । ওকে আমার দেখতে ইচ্ছা করে । কিন্তু ওকে দেখলে আমার খারাপ লাগে ! হাসতে হাসতে যে মেয়েটা ঝুপড়ির আড়াল ছেড়ে কোথায়, কই হারিয়ে গেছে; ওর হারিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে খারাপ লাগে !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400426 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400426 2011-06-21 21:32:37
চড়ুই পাখি, তোর সঙ্গে চড়ুইভাতি !


সবাই চড়ুই পাখি ডাকতো তাকে । আমি বলতাম অলকানন্দা ! অমন হলুদ সুন্দর দেখলে হয়তো ভ্যানগগও সানফ্লাওয়ার আঁকতেন না । তারপর ঘুমঘুম চোখে অলকানন্দার হাতে সিন্দুক খোলা চিঠি ! পাখিরা যখন চিঠি পড়ে বা খাতায় বিস্ময় চোখ রেখে চিঠি লেখে, তখন সেটা অন্যরকম সুন্দর ! কিংবা অলকানন্দা খোঁপায় সাদা জবা জড়িয়ে যখন ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে যায় , সেটা... ! অলকানন্দার হাত ধরে সকাল বেলার চায়ের কাপে মুখ ! অমন সুন্দর করে চা খেতে জানে যে পাখি বা মানুষ , তার জন্য পূনজন্ম দরকার পরে না ।



সবাই চড়ুই পাখি ডাকতো তাকে । আমি বলতাম অলকানন্দা ! অলকানন্দার বুকের তিন জোড়া হাড় নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছিলাম সুযোগ বুঝে ! কখন আবার হারিয়ে যায় ! পাখিদের তো সব কাজেই বড় তাড়াহুড়া, তুষারের দেশে গিয়ে বৃষ্টির জন্য কান্না জমিয়ে রাখা !


একবার আবদার করেছিলাম, চল, চড়ুইভাতি করি! দু’জন মিলে । কিছু ছোট্ট হাড়ি পাতিল, ঝরনার জলে সিদ্ধ ভাত আর পাহাড়ি মরিচের আলু ভর্তা ! তারপর তোর জন্য হলুদ রঙের শাড়ি । খোপায় হলুদ গাঁদা! চল, চড়ুইভাতি...


কিন্তু দুপুর আসতে না আসতেই বজ্জাত বৃষ্টি ! মেঘ কালো করা কান্নার আবেগ কদমের ডালে! অলকানন্দা একলা একা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ভ্যানগগের হলুদ বিষন্নতার ভেতর ডুবতে ডুবতে মুছে ফেলে আলতার ঘ্রান! ওম ওঠা সিদ্ধ ভাতের হাড়ি চিৎ হয়ে পড়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত সড়কে! আর উঁইপোকা খেতে থাকে সিন্দুক সিন্দুক চিঠি !


চড়ুইপাখি, তোর সঙ্গে চড়ুইভাতি!

হলো না!

হলো না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400418 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29400418 2011-06-21 21:27:40
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মহান মেরুদন্ডি’ পুলিশি প্রশাসনের নির্যাতন : রক্ত আর সম্ভ্রমহানির হিস্যা চায় লড়াকু শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয় একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে, জ্ঞান আর তরুণ সম্ভাবনাকে উসকে দেবে, এটা খুব-ই কাম্য। কিন্তু অ™ভুত উটের পিঠে চড়ে বসা এ দেশে এগুলো কেবলই পুস্তকই বুলি। বরং এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চিত্র খুবই চমকপ্রদ ! মহান বিশেষণ পিঠে করে গজিয়ে ওঠা তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এখন ক্যাডার আর ছাগল উৎপাদনের কেন্দ্র। সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের ছুড়িকা আর পেশী প্রদর্শনের চমৎকার উদ্যান। এই ছিলো এই পর্যন্ত বাস্তবতা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি প্রশাসনের অমানবিক নির্যাতন আর ক্যাডারবাজি, লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থী শায়েস্তা করার পদ্ধতি, ছাত্রীদের উপর হামলে পড়ার দৃশ্য বাস্তবতা, ওড়না ধরে টান মারা অথবা পুলিশি লাঠি দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য দাখিলের যে কায়দা তাতে সম্ভবত প্রশাসনকেও তার ক্যাডারবাজির জন্য একটা উপযুক্ত বিশেষনে বিশেষিত করা দরকার।

আমার ক্যাম্পাসে যখন পুলিশ লাঠি উচিয়ে ঘুরে বেড়ায় আমাকে পেটাবে বলে, যখন আমার ক্যাম্পাসে আমার সহপাঠীনির উপর পুরুষ পুলিশের লাঠি আর লোলুপতা কালো দাগ হয়ে লেপটে থাকে পত্রিকার পাতায়, যখন আমার-ই বিপক্ষে প্রশাসন পুলিশ লেলিয়ে দেয়, নির্লজ্জের মতো গণগ্রেফতার করা হয়, বাছ-বিচার ছাড়া যাকে পাওয়া যায়, তাকে ধরে গাড়িতে তোলা হয় প্রশাসনের নিদের্শে আর যাচাই বাচাই-এর নামে রাতভর অমানবিক নির্যাতন করা হয় পুলিশ লাইনে নিয়ে গিয়ে, তখন কোথায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্ট থেকে জন্ম হওয়া মধুর বুলিসমূহের ! আমাদের অভিভাবক মাননীয় উপাচার্য যখন পুলিশ দিয়ে আমাদের পেটানোর বন্দোবস্ত করেন, আমাদের ঘাড়ে মামলা ঝুলিয়ে দেন, উচ্ছৃঙ্খল বলে বিশেষায়িত করেন, তখন ক্যাম্পাসে লাঠি হাতে হামলে পড়া সব পুলিশের মুখে মাননীয় উপাচার্যের মুখ ভেসে ওঠে ! আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে পুলিশের গাড়িতে তুলতে থাকা পুলিশটির অবয়বে আমাদের মাননীয় অভিবাবক একাকার হয়ে যান। লাঠি হাতে পুলিশ আর আমাদের অভিভাবক মাননীয় উপাচার্যের পার্থক্য ঠাওর করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য ।
সেদিন শত শত টিয়ার গ্যাস আর রাবার বুলেটের তুমুল আক্রমনে হতবাক হয়ে পড়েছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস। ছাত্রীহলে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আর ছাত্রীদের উপর লাঠিসোটা হাতে হামলে পড়ে প্রশাসনের তাবেদার পুলিশ কি চেষ্টা করেছিলো ! তোমরা বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রতিবাদ করবে কেন ? বেতন বৃদ্ধি করা তোমার মহান প্রশাসনের নৈতিক অধিকার ! চাইলে পড়বে, না চাইলে পড়বে না। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু যায় আসে না! যখন দেশের সমস্তটায় শিক্ষা আর অধিকার না থেকে পন্য হয়ে উঠছে, তখন তুমি কেন কম বেতনে পড়তে চাও ! তোমার বাবা চাষা, দিনমজুর, তুমি টাকা না থাকার জন্যে বিকেল বেলা নাস্তা না করে একসাথে সাতটা বাজতে না বাজতে ডাইনিং-এ দৌড় দেও কিনা সেটা দেখবার দায়িত্ব তো প্রশাসনের নয় ! আমরা আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয় চালাবো, উপাচার্য আর উপ-উপাচার্যের নাস্তা বিল ৫ লক্ষ টাকা করবো, লক্ষ লক্ষ টাকা মোবাইল বিল দেবো, কিন্তু তাতে তোমাদের কি , হে শুদ্র শিক্ষার্থী বৃন্দ ! হ্যা, যদি প্রশাসন এমনটা বলতো , তাতে হয়তো শিক্ষার্থীরা দমে যেতো । স্মারক লিপি দেয়া, রোদে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিসি মহোদয় বরাবর আবেদন নিবেদন জানিয়ে যাওয়াটা তাদের কাছে অযৌক্তিক ঠেকতো । তারা আন্দোলন আর দাবি না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে খুব নিরবে একে একে ঝড়ে পড়তো ! রিক্সাঅলা’র দেয়া ভ্যাটের টাকা দিয়ে রাষ্ট্র আর তার কলকব্জারা আয়েস করে চলবে, মোজ-মাস্তি করবে, এই দৃশ্য যখন এদেশে খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তখন আমরা কেন আর আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে বাড়তি দাবি করবো !

গণ গ্রেফতারের পর অনেক শিক্ষার্থীকে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। ইচ্ছে মতো পুলিশি খায়েস চালানো হয় তাদের উপর দিয়ে। দিনের বেলা পুলিশি রাবার বুলেট রক্তাক্ত হয় বিভিন্ন শিক্ষার্থীর শরীর। শহীদ মিনার চত্বরে ছাত্রীদের উপর পুলিশের বর্বর লাঠিপেটা আর শীøলতাহানির চেষ্টা মানুষ হিসেবে, স্বাধীন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখা সাধারন শিক্ষাথী হিসেবে নিজেদের কাছে নিজেদের খুব ছোট করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় তার কথা মতো চলতে নারাজ সাধারন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে। কতো কতো মামলা ! কতো কতো রকমারি সে সব জিনিস ! কিন্তু আমি একজন সাধারন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার সহপাঠিনীর সম্ভ্রমহানি আর আমার বন্ধুর শরীর থেকে ঝড়ে পড়া রক্তের হিস্যা চাই। সম্ভ্রমহানির বিচার চাই !

কিন্তু আমি জানি, আমার বিচার চাওয়ার কোনো জায়গা নষ্ট হয়ে যাওয়া অ™ভুত এই দেশের কোথাও নাই! নাই !!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29222661 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29222661 2010-08-14 20:02:40
প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও নির্মিত হয়নি ভিন্ন ধর্মালম্বীদের কোন উপাসনালয়!

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)-তে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের জন্য নির্মিত হয়নি কোন উপসানলয়। বর্তমানে ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হিন্দু ধর্মালম্বী ও ২ শ’এর মত খ্রিষ্টান শিক্ষার্থী থাকলেও এদের জন্য নেই কোন উপসানলয়। ফলে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ ক্রমান্বয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন চবির বিভিন্ন বিভাগে অধ্যায়নরত ভিন্নধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী হিন্দু ধর্মালম্বী, ০৭ শতাংশ বৌদ্ধ ও ০১ শতাংশ খ্রিষ্টান শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। কিন্তু এদের ধর্মীয় রীতিনীতি, উৎসব অনুষ্ঠান পালনের জন্য চবিতে নেই কোন উপসানলয়। অথচ চবি’র প্রতিটি আবাসিক হল, ফ্যাকাল্টি, ইনস্টিটিউট, কলোনিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৫ টি মসজিদ রয়েছে। এমনকি উত্তর ক্যাম্পাসের কেন্দ্রিয় খেলার মাঠের পশ্চিম পাশে নির্জন এলাকায়ও একটি মসজিদ আছে। কিন্তু প্রায় ৪ হাজার ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও তাঁদের জন্য নেই কোনো ধমীয় প্রার্থণাস্থল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল চবিতে শিক্ষারত ‘সংখ্যালঘু’ স¤প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে হল ও উপসানলয় নির্মানের দাবি তুললেও এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। একসময় চবির সনাতন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষর্থীরা চট্টগ্রাম মহানগরের জেএমসেন হলে গিয়ে তাঁদের পূজা করতেন। ১৯৯৯ সালে সনতান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মান্নান অস্থায়ীভাবে জারুলতলায় পূজার আয়োজন করার অনুমতি দেন এবং স্থায়ীভাবে মন্দির নির্মাণের জায়গাদানের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার আমলে আর তা আর হয়ে ওঠে না। এরপরে ২০০২ সালে উপাচার্য প্রফেসর এ জে এম নূরদ্দিন চেীধুরী আশ্বাস দিয়েও জারুলতলা পূজা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপর ২০০৩ সালে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নবীন বরন ও বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও তৎকালীন উপাচার্য আলাদাভাবে হল ও উপাসনালয় নির্মানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তিতে এ ব্যাপারে কোন আগ্রহ দেখান নি তিনি। পরে ২০০৯ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দ্বিতীয় বারের মত গণস্বাক্ষর অভিযান হয়, কিন্তু এত কিছুর পরও চবি ক্যাম্পাসে উপসানলয় নির্মানের জায়গা হয়নি ভিন্ন ধর্মাল¤ী^ শিক্ষার্থীদের। তবে বিদেশি সাহায্য সংস্থা রেডক্রসের সহযোগিতায় ভান্তে জ্যোতি পাল মহারথো বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছাত্রদের জন্য ১৯৯৬ সালে চবি ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি ছাত্রাবাস নির্মান করেন। সেখানে একটি বিহার আছে । এ প্রসঙ্গে ঐ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রিয়াসিস চাকমা শীর্ষ নিউজ ডট কমকে বলেন, এটি ব্যক্তি উদ্যেগে নির্মিত। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আলাদা করে হল নির্মান করতে হবে। আমরা এটাকে প্রশাসনের কর্তব্য বলেই মনে করি। আমরা বিভিন্ন হলে থাকতে অন্য ধর্মালম্বিদের দ্বারা নিগ্রহিত হই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চবিতে প্রবলভাবে সক্রিয় মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের আধিপত্য, প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগকৃত প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পরোক্ষ হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ভিন্ন ধর্মালম্বী শিক্ষকদের অনীহা ও উদাসীনতার কারনে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মন্দির বা গির্জা নির্মিত হয় নি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক, পালি ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষর্থী লিটন মিত্র জানান, একটি মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন ও তাদের উপরে ছায়ার মত দাঁড়িয়ে থাকা জামাত-শিবিরের প্রশাসন সর্বদাই চেয়েছে যাতে চবিতে কোন মন্দির বা গির্জা নির্মিত না হয়। এতে করে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় চেতনা যেমন অবিকশিত থেকে যাবে, তেমনি তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারেও তা সহায়ক পরিবেশ হিসেবে সাহায্য করবে। আর এর সাথে প্রশাসনের অনীহা তো আছেই ! এ ব্যপারে জানতে চাইলে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার সভাপতি মীর মোশারেফ হোসেন বলেন,মানুষ হিসেবে এখনও আমাদের পরিপূর্ণ বিকাশ হয়নি। আমরা সর্বদাই আমাদের নিয়ে ভাবি, পাশের লোকটির কথা ভাববার মত উদারনৈতকতা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা আমাদের তৈরী হয়নি। ! বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই মন্দির ও গির্জা থাকাটা জরুরি। আর সেজন্য আমাদেরকে আরও মানবিক, উদারনৈতিক হতে হবে। মার্কেটিং স্টাডিজ ও এন্ড ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ বলেন, সনাতন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পূজা আয়োজন করার জন্য স্থায়ী জায়গার আবেদন করে আসছে। সব উপাচার্য শুধু আশ্বাসই দেন। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের জন্য কোন উপাসনালয় নির্মিত হবে কিনা সে ব্যপারে জানতে চাইলে চবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সা¤প্রদায়িক স¤িপ্রতিতে বিশ্বাস করে। আর শিক্ষার্থীদের এই দাবিটাও খুবই যৌক্তিক। আমি এ ব্যপারে আন্তুরিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যপারে পদক্ষেপ নেবে। কবে নাগাদ মন্দির বা গির্জা নির্মিত হবে সে ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, গৃহিত সমস্ত সিদ্ধান্ত পাশ করতে বিভিন্ন বৈঠক অতিক্রম করতে হয়। এ ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29164983 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29164983 2010-05-29 16:08:59
মিডিয়ার ভাষা বিকৃতিজাত গোলাম অথবা আলোকিত খচ্চর প্রজন্ম বাঙালির কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। বাঙলা শুধুই গ্লানি সঞ্চার করে। তাই আমাদেরকে বাংলা বলার সাথে চোস্ত কিছু ইংরেজি না মেশালে বলায় ভাব আসে না। তাই বাংলাদেশ জুড়ে পালে পালে প্রসবিত হয় উপনিবেশিক জন্তুদের উত্তরাধিকার চমৎকার খচ্চরগণ, যারা ভুল বাংলা ও ভুল ইংরেজি মিশিয়ে এক ধরনের বিকট অশ্লীল বমিজাগানো ভাষার জন্ম দিয়েছে। যাদের মুখের মধ্যে এমন একটা কিছু ঢুকে আছে, যে মুখ-জিহবা সহজে নাড়াচাড়া করা যায় না। যারা হেয়ার জেলে আমির খান সেজে ভাষাকেন্দ্রিক আধিপত্য প্রয়োগের সম্পর্ককে জারি রেখে বহুজাতিক কর্পোরেশনের খেদমৎগার মিডিয়া প্রভু নির্মিত গোলামির সংস্কৃতিকে বয়ে বেড়ায় রক্তে। চেতনায়। মাতৃভাষায়।

আমাদের একুশ আর একাত্তর, আমাদের সমগ্র স্বপ্ন আর বিশ্বাস আজ বেহাত হয়ে গেছে। যে ভাষার স্বপ্নে আর অহংকারে আমরা আমাদের মগজ আর জমিনকে স্বাধীন করেছিলাম, সে ভাষার সর্বত্র আজ বিকৃতির অনপনেয় কালিমা। মিডিয়া দানবদের কর্পোরেট ধান্দাবাজি আর গোলকায়ন মোড়কে পুঁজি-মুনাফার উপনিবেশ আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে এফ এম রেডিও, ডিজুস কালচার। তাই আমাদের শুনতে হয় : ডিয়ার লিইসোনার্স, আপনাড়া শুনছেন ড়েডিও ...ওক্কে, শুরু হলো একটি নতুন দিন। আর এই সঙ্গে তোমাদের যাদেড় হ্যাপি বার্থ ডে তাদেড় উইশ করে নিচ্ছি...ভেরি ভেরি ভেরি হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ। আর টেলিভিশনের পর্দায় একজন নাটক নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী (আলোকিত খচ্চর প্রজন্মের প্রতিভূ) যখন লেখেন,

-পুলা না মাইয়া হইছে দেইখা আইতে এ্যাত সময় লাগল?
--উস্তাদ আজান তো পরে নাই।
- আজান না পড়–ক। পুলা না মাইয়া বাচ্চাডার উপর-নিচে দেইখা আইলেই ত হয়।

তখন বমি পায় আমাদের। লজ্জায় ঘৃণায় নতমুখ হতে হতে একবিন্দু হয়ে যায় আমাদের শহীদ মিনার !

মানুষকে শিক্ষিত করার যে বাহাদুরি বুলি দিয়ে মিডিয়া তার মতাদর্শিক ও বাণিজ্যিক ফিকিরকে প্রতিনিয়ত আগ্রাসী করে তুলেছে, তার ধরনধারন, যাবতীয় অশ্লীল প্রকল্পসমূহের গোছা ধরে টান মারার সময় এসেছে। তাই আমরাও সচেষ্ট হই প্রতিনিয়ত চালাকবাক্স (সুশোভিত নাম টেলিভিশন) তার পর্দায় ঝুলিয়ে রাখা জগাখিচুড়ি মার্কা কিম্ভুতকিমাকার ভুলে ভরা বিকট এক ভাষা, যাকে ভাষাবোদ্ধাদের কেউ কেউ আদর করে ‘বাংলিশ’ বলে ডাকেন, তার মাজেজা উদ্ধারের। আমাদের টিভির অক্ষর সংযোজকেরা ভুলে যান ণত্ব-ষত্ব বিধানের ব্যাকরণ, ই-কার ঈ-কারের ব্যবহার বিধি। অন্যদিকে দার্শনিক ‘গ্লোবালাইজড(!)’ চলচ্চিত্র নির্মাতারা হিন্দির কঙ্কালে বাংলার শরীরে জন্ম দেন বান্দি (বাংলা+হিন্দি) নাটক ও সিনেমার, যার রমরমা কাটতি আমাদের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতকে নিরাপদ করে তোলে !!! আর মোটাসোটা করে তোলে পেপসির বাজার, প্রসাধন সামগ্রীর রমরমা বাণিজ্য। অন্যদিকে একজন শিক্ষিত রসিক সম্পাদকের পত্রিকা জুড়ে লেখা হয়Ñ পৃয়, আফৃকা, কৃয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ ঋ-কার ও র-ফলা, ই-কার এবং ঈ-কার রসিক সম্পাদকের কাছে মূল্যহীন। চন্দ্রবিন্দুকে এ রসিক সম্পাদকের বউয়ের কপালের টিপ মনে হয়েছে যে, সুন্দর লাগলো না বলেই ফেলে দিলাম। চাদাবাজি, চাদপুর, সাড়াশি, পাচ শব্দগুলো প্রতিনিয়তই মুদ্রিত হতে থাকে ভাষাপ্রেমিক এ সম্পাদকের আশীর্বাদে। তারা ‘কাটাতার’ লিখেছে কাঁটাতার বোঝাতে। প্রশ্ন জাগেÑকাটা আর কাঁটা, হাঁসা আর হাসা কেমন করে এক হলো। ‘বিকৃত’ আর ‘বিক্রীত’ শব্দ দু’টির অর্থ আলাদা হয়ে গেল বানানের ভিন্নতার কারনেই, এ হুঁশ সম্পাদকের নেই৫।

বাংলা ভাষা যখন বাঙালির চোখে মুখে ঝুলিয়ে রাখে উপনিবেশিক বাবাদের থেকে পাওয়া হীনমন্যতার, ‘অপর’ হয়ে ওঠার তিক্ত সাধ, তখন তাকে তথাকথিত আধুনিকতার মোড়কে বন্দি করতে হয় নিজেকে। আর সে আয়োজন সারতে তাকে যেতে হয় বাংলিশের কাছে। বাঙালির এই হীনমন্যতাবোধের খবর চাউর হতেই বণিকেরা ছুটে আসেন। ভাষার মধ্যে এতোদিন যে ক্ষমতা আর ‘অপর’ হয়ে ওঠার বিস্তর কাহিনী ছিল, তার সাথে ঘটকালি হয় পয়সাপাতি, মুনাফার ব্যাপারস্যাপারের। পয়সাঅলা আয়েশি মধ্যবিত্তটি পয়সার উপস্থিতিকে জানান দিতে ভাষা বিকৃতির পথে নামে, সঙ্গে মিডিয়া বাবাতো আছেই। দশর্ক থেকে ভোক্তা হবার যে স্তরগুলো অতিক্রম করতে হয় আম-বাঙালিকে, সেখানে অজস্র ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে তাকে বিদেশী পণ্যমুখি হওয়ার হাতছানি দেয়া হয়। ব্যক্তির মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় দিল মাঙ্গে মোর’র যাদু। আর আমরা সেই যাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে বাংলার পোঁদে লাথি মেরে ছুটছি ইংরেজির কাছে। ছুটছি হিন্দির কাছে। আশা করা যায় বাঙালির আধুনিক হওয়ার এই খায়েশ খুব তাড়াতাড়ি পরিপূর্ণতার দিকে যাবে আর ফূর্তিবাজি ‘ড়েডিও’ জকিরা নতুন নতুন শব্দে ভারি করে তুলবে বাংলা অভিধান। পাশাপাশি মিডিয়াপ্রভুরা ইংরেজি-বাংলার মিশেলে এমন সব শব্দকল্প তৈরি করবেন, যা বাঙালিকে বারবার ধলা মনিবদের শ্রদ্ধাভরে মনে করিয়ে দেবে, দীর্ঘকালের দাসত্বের কলঙ্ককে প্রলম্বিত করবে আর করবে...। আহ বাঙালি !!! জয় হোক একুশের। একাত্তরের।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29150430 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29150430 2010-05-07 14:40:15
প্রথাবিরোধীতাবাজ মাস্টারপিস ভদ্র মহোদয়ের প্রভূবৃত্তি, বুদ্ধির বাটখাড়া বাজি ও বঙ্গীয় জ্ঞানকান্ডের মাছি সমাচার
পর্ব : ১*০= ০

যাহা বলিব তাহা সত্য বলিব, সত্য বই মিথ্যা বলিব না। কিন্তু বঙ্গদেশে সত্য বলাটা খানিক বিব্রতকর, শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও বটে। দেশের মহান চেয়ারগুলোতে যে সব রথি মহারথিগুলান বসে আছেন, ত্যানারা আমাদের মত শুদ্রদের ভাগ্য বিধাতা হিসেবে নাজিল হবেন আজ বা কাল। তাই তাদের বিরুদ্ধে বলা, বেয়াদবি করা খানিক ঝুকির ও! দেশ আজ পালে পালে বুদ্ধির বাটখাড়াদের জন্ম দিচ্ছেন, যারা সব জানেন, সব বোঝেন। আর তারা দেশের মিডিয়া মার্কেট, সাহিত্য মার্কেট, সংস্কৃতির হাট, ছাগল উৎপাদন কেন্দ্র (বিশ্ববিদ্যালয়)সমূহ দখল করে রাখছেন। এক মুরব্বি বুজুর্গ টাইপের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার তো এখন পশ্চিমা সাহিত্য বঙ্গীকরনে মাস্টারপিস হয়ে উঠছেন। তারা পরামর্শ বাতলান, হে মূর্খ বঙ্গবাসী, তোমরা লালন বোঝো না। লালন কে বুঝতে হলে তোমাদেরকে লাকা পড়িতে হইবে। যে লাকাকে জানিবে না, সে লালনকে বুঝিবে না। কই, আমার বাউল, চায়ের দোকানদার তো লাকাকে চেনে না, কিন্তু লালন শুনতে শুনতে সে তো মগ্ন হয়ে যায়। হয়ত বুজুর্গের মতে কৃষকেরা সব মুর্খ গোয়ার, চায়ের দোকানদারেরা হাবিজাবি নইলে মহাত্মা লালনকে এই রকম আসমানি বয়ানের আলোকপাত কেন। দেশীয় জ্ঞানকান্ডের মাথায় এখন পশ্চিমকে না ঝুলাইলে ব্যবসাটা জমে ওঠে না। তাই নব্য প্রজেক্ট আনো আর দেশীয় জ্ঞানকান্ডের পোঁদে পশ্চিমকে ঢুকাই দিয়া বেতন বাড়াও। চেয়ার আরোহন সহজতর কর। (চলবে)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29148536 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29148536 2010-05-04 19:24:25
বাণিজ্যের ঘোড়ায় সওয়ার কবিতা যখন পণ্যপ্রভূর দাসখতে... কবিতাকে তোমরা লিপিস্টিক বানাতে চাও
কবিতাকে তোমরা রিকন্ডিশনড্ গাড়ি বানাতে চাও
কবিতাকে তোমরা রুনালায়লা বানাতে চাও
এবং
আজকাল
বাংলাদেশ (অর্থাৎ বৃটিশ) টোব্যাকো কোম্পানির ক্যালেন্ডারে
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিপ্লবী কবিদের
কবিতাও ছাপছে। ( ফরহাদ মজহার : ১৯৮৩, নভেম্বর)



পাঠক, শুরুতেই একবার মাশআল্লাহ্ বইলা ন্যান। আপনারা অবগত আছেন, সৃষ্টিশীল বাঙালি সর্বদাই, সর্বকাজেই এক নম্বর হয়। কিছুদিন পূর্বে এই উৎপাদনমুখর সৃষ্টিশীল প্রজাতিটি বোকাচোদা বাঙালিকে এমন এক সৃষ্টিকর্ম উপহার দিয়াছেন, যা এই বিশ্ব সংসারের আর কারও মুরোদে কুলায় নাই। নারীর স্তনপাছাঊরুকে কবিতাপণ্যের মায়াযাদু দিয়া মুইড়া নতুন ডায়ালগ হাজির করছেন, কবিতা সমাজের পরিধেয় । বাহ্, চমৎকার বাহ ! প্রদর্শনবাজ তরুনের কাছে কবিতাকে বেইচা দিয়া, পণ্যগ্রস্থ মাইয়ালোককে স্তনবাজি করবার শিল্পসম্মত রাস্তা বাতলাইয়া দিয়া সমাজের ইজ্জত বাড়ানোর কী চমৎকার ব্যবসা !

প্রতিদিন ধান্দার অজস্র গলিঘুপচিতে আটকাইয়া আছি আমরা। সকাল বিকাল নানা কায়দার নানা সাইজের ধান্দাকলা লইয়া রোড-ঘাট পার হই, সমাজ সেবা করি, রাষ্ট্রের পোঁদে লাথি মাইরা পর্যটন সন্ত্রাস জারি রাখি, গরিবের গোয়ায় আঙুল দিয়া রক্তেরসে উন্নয়ন প্রকল্পের আমদানি বাড়াই। আর আমাদের কবিতাপ্রিয় গেঞ্জিবিক্রেতা প্রতিষ্ঠার শ্লোক গেঞ্জির পোঁদেপাছায় কবিতার বাণিজ্যিক ছাপ দিয়া কবিতাকে ধন্য করে তোলেন, পণ্য করে তোলেন। মুর্খঅসংস্কৃতশিল্পমনস্কতাহীন বাঙালিকে, তার অনুর্বর ন্যাংটো সমাজকে কবিতার পোশাক পরিয়ে কাব্যময় রোমান্টিকতায় ভরিয়ে তোলেন। পাঠক, এতাকাল আমরা জানতাম কবিতা পাঠের জিনিস। আর এখন কর্পোরেট গেঞ্জিবিক্রেতারা বলেন কবিতা প্রদর্শনের জিনিস। কবিতা দিয়া নারীর স্তন ঢাকোন লাগবো, কবিতার ক’ না-বোঝা তরুনের প্রদর্শনজাত কাব্যপ্রীতি জাহিরের জন্য কবিতার ছাপ মারোন লাগবো টি-শার্টে।

পাঠক, বাংলাদেশে এইসব ধান্দার বিসমিল্লাহ্ হয় একুশ আর একাত্তরকে বিক্রি করার মধ্যে দিয়া। দ্যাশের পতাকা দিয়া মাইয়ালোকের জামা পায়জামা তৈয়ার কইরা দেশ প্রেম জাহিরের কী ভয়াবহ সাংস্কৃতিক আন্দোলন ! শিল্পকলা ব্যবসার মুনাফার মিঠাই আর বোকাচোদা বাঙালিকে আরও বোকাচোদা করবার সুখে চতুর্দিকে সদ্য গজিয়ে ওঠা গেঞ্জিবিক্রেতা ভাইবেরাদাররা সুলতান জয়নুল জীবনবাবু গুণ শামসুর রাহমানদের বিক্রি করার ধান্দা হাতে নেয় আর সফলও হয়। দ্যাশ, দ্যাশের তরুন পোলাপানের আবেগকে কাজে লাগাইয়া ব্যবসা প্রসারিত হয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে। কাটতি বাড়ে নকশা ( দৈনিক প্রথম আলোর বিনোদন বাণিজ্যের সাপ্তাহিক প্রকাশনা) পাতার। আহ্, দ্যাশের চোট্টা মিডিয়া ছহবতে কত সুন্দর মিইলা যায় গেঞ্জিবিক্রেতার সাথে! গেঞ্জিবিক্রেতারা হইয়া ওঠে পত্রিকার স্টার। আর এইভাবে দ্যাশপ্রেমিক সংবেদনশীল বাঙালি প্রজাতিটি তার দ্যাশপ্রেমের চেহারামোবারক দ্যাখানোর তাগিদে ছোটে নিত্য উপহারে, ছোটে শিল্পসংস্কৃতির বাণিজ্যিকীকরণের প্রধান কেন্দ্র আজিজ সুপার মার্কেটে। এরই ধারাবিহকতায় শ্লোক বিশ্বের প্রথম কবিতার টি-শার্ট প্রকাশনা বের করে তাক লাগিয়ে দেয়। কবিতা হয়ে ওঠে ব্যবসার প্রধানতম মসলা। কবিতা হয়ে ওঠে অষ্টাদশী পণ্যনারীর মাংসল বুকে গেঁথে থাকা চমৎকার শিল্পকলা !

সাধারন পাবলিকের মত আমাগোর কবিতাপ্রভুরাও খুব প্রদর্শনপ্রিয় হইয়া উঠছেন আজকাল। প্রতিমিডিয়ার গল্পবাজ ভাবুক কবি তার কাব্য প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটান কবিতাকে টি-শার্ট বিক্রেতার কাছে তুলে দিয়ে। অসম্ভব শ্রদ্ধাস্পদ কবিরা পা ফাঁক করে শুইয়া পড়েন পুঁজিদানবের সামনে। আমাদের আনিসুল হক নির্মলেন্দু গুণ রফিক আজাদেরা প্রথম আলোর নকশা পাতায় কবিতার ছাপ মারা গেঞ্জি ঝুলাইয়া পোজ দ্যান, তারা আমজনতারে কী বুঝাইতে চান, কোন ঐশী বাণী প্রচার করতে চান, আমরা বোকাচোদারা কী তা বুঝি না ?? শ্লোক তার নিজস্ব বাণিজ্যিক ধান্দায় বেছে নেয় পুঁজিবাদী স্বপ্ন ও দর্শণের সমর্থক এলিট প্রদর্শনপ্রিয় কবিগোষ্ঠিকে। যাগোর দিয়া খাঁড়া করা হইতাছে একটা ট্রেন্ট। যে ট্রেন্টে কবিকে হতে হয় টি-শার্ট বিক্রির এজেন্ট। কবির এই রকম বাণিজ্যিক চোট্টামি দেখে তার ভক্ত ছোটেন কবিতার ছাপঅলা টি-শার্টের খোঁজে। নারী তার স্তনপাছাকে আর কাব্যময় করে তুলবার জন্য ছোটেন কবিতার ছাপঅলা জামা পায়জামা কাচুঁলির খোঁজে !

আমরা বোকাচোদারা কবিতা লইয়া এই ধান্দাবাজি মানি না। কবিতাপ্রভূদের মগজে পন্যের, প্রসারের, প্রদর্শনের যে মল ময়লা জমা হইতাছে নিত্যদিন, আমরা আর কিছু না পারি তাগোর খারিজ কইরা দিয়া প্রতিশোধ তুলতে পারি বর্ণমালার অথবা আমরা কিছুই পারি না। আমাগোর সব কিছু যেমন ব্যাচা হইয়া গেছে, ভাইস্যা গেছে পুঁজির প্রশ্রাবে, তেমনি কবিতা আর কবিরাও ব্যাচা হইয়া যাইবো। গেঞ্জির বিজ্ঞাপনে কবির মুখ ভাইসা উঠবো চালাক বাক্সে; পত্রিকার লিপস্টিকমার্কা রূপসী পাতায়, পন্যনারীর পাছায়পিঠেঊরুতে বমির মতো মাইখ্যা থাকবো কবিতার ম্লান মলিন অক্ষরমালা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29034492 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/29034492 2009-10-30 06:36:32
খারাপ বাঙালি, সন্ত প্রথম আলো এবং ছুড়ি চাপাতির ইশারাজাত দিনবদল! আমি জিগাই, বাঙালির পাপমুক্তির শপথ নেয়ার অধিকার প্রথম আলো কর্তৃপক্ষকে কে দিছে? এই শক্তি, তাকত একটা কর্পোরেট মিডিয়া দেখায় কি কইরা !

পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপন গুলো মারাহইতাছে, যে শপথের কীত্তন গাওয়া হইতাছে, তার উপস্থাপনে কেনো ছুড়ির ধার দেখা যায়? ছুড়ি চাপাতির ধার দিয়া কি দিন বদল হয়???

দেশ জুইড়া আলো নাই, তাই আমাগোর আলো বিলাইতে গ্রামীন ফোন মরিয়া। বাণিজ্য করার ধান্দায় বানিজ্যিক উপনিবেশকে যে আলো হীন, অথর্ব কইরা তুলতে হয় আর নিজোগেরে মুক্তিদাতা হিসাবে খাড়া করাইত হয়, এ কাহিনি জারি রাইখা বাঙালির পোঁদ মারার ধান্দা আর কতোকাল !!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28959957 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28959957 2009-06-04 10:45:38
গরু , সৌন্দর্য বর্ধক ক্রিম আর বাঙালি সন্তরা
আমাদের স্টাটাস বাড়িয়ে দেয় এই চমৎকার জবাই কাহিনি। বড় শিং , বড় পা আমাদের শ্রেনী উত্তরণে কি দারুণ ভূমিকা রাখিতে পারে। আমরা জবাই দেই; আর চমৎকার এলিট হয়ে উঠি। সারা বছর গরিবের পাছা মেরে তারপর একদিন আহ্ একিদন কি জবাই কাহিন। কি দয়াবান আমরা। সবচেয়ে ভালো মানুষটি হয়ে যায় সবচেয় বড় অসভ্য টি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28880743 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28880743 2008-12-10 14:20:42
ব্যক্তিগত ব্যর্থতাসমাচার
মানুষের জীবন বোধহয় ভুল হয়ে গেল-
মানুষ না হয়ে তোর নাকের ডগায় জমে ওঠা
একফোঁটা ঘাম হতাম যদি!
কিংবা ধর্-
তোর হাতের একমুঠো নীল চুড়ি।
অথবা
হতাম যদি-
তোর সবুজ করতলে ফুঁটে থাকা বকুলমালা।
কিংবা চোখ থেকে ছলকে পরা খানিক জল
বা হতাম যদি বুকের সাথে লেপটে থাকা সিন্ধ অন্তর্বাস !

মানুষের জীবনে বোধহয় ভুল হয়ে গেল
যদি হতাম তোর ছোট্ট নাকফুল । সবুজ শাড়ি।
কাজল চোখ। অমল অধর। নীল চুড়ি। লাল মলাটের বই।

মানুষের জীবন বোধহয় ভুল হয়ে গেল
মানুষ না হয়ে হতাম যদি -
তোর ঘাম
স্নিগ্ধ অন্তর্বাস
নীল চুড়ি
লাল মলাটের বই
অথবা বকুল মালা।

মানুষের জীবন বোধহয় ভুল হয়ে গেল!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28880660 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28880660 2008-12-10 03:41:18
একজন লালনকে হত্যা করা হলো যেদিন ! একজন আব্বাস উদ্দিনের কোমড়ে দড়ি বেঁধে তাকে হিরহির করে
টেনে-হিঁচড়ে নামানো হলো বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস থেকে।
আমাদের সব ভাস্কর্য হয়ে উঠলো ইহুদি নাছাড়ার মূর্তি ।
বাংলাদেশের মুখে লেপে দেয়া হলো উগ্র ধর্মিকতার উত্তেজিত আবর্জনা।
আর একজন আমিনী আমাদেরকে ধমক দিলেন।
পশুর মুখে আমাদরেকে হুমকি দিলেন-ক্ষমতার মাংসে ভাগ বসাতে পারলে ওনারা আমাদের সব মূর্তি ভেঙে চুরমার করে ফেলবেন।
ইউনিভার্সিটি এলাকার মারাত্বক সব ইসলাম বিরোধী যে মূর্তি বানানো হয়েছে, মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন সেগুলো।
তারপর অপারাজেয় বাঙলার গায়ে লাগবে উগ্র ধার্মিকতার থু থু।
জয়দেব পুরের জাগ্রত চৌরঙ্গীর অসহায় মুক্তিযোদ্ধাটি লজ্জায় ঘৃনায় মুখ নিচু করে বসে পড়বেন।
আমাদের শিখা অনির্বান নিভে যাবে নূরানী-আমিনীর পেচ্ছাবে।

হুজুরেরা একটানে ছিড়ে ফেলে দিল বাঙালির অসাম্পদায়িক ঐতিহ্যেও সব দলিল।
আর আমাদের সবার গালে কষে থাপ্পর মারল ধর্মের রাজনীতিক ব্যবসায়ীরা।
আমাদের সবার গালে সেই থাপ্পরের কালো দাগ লাগলো । আমাদের রাষ্ট্র বাঙলার ইতিহাসে নপুংশকতার এক দারুন দলিল উপহার দিলেন। রাষ্ট্রের প্রধানেরা কিছু অন্ধ-অসংস্কৃত মাদ্রাসাবালকের হুমকিধামকিতে জিয়া আন্তজার্তিক বিমানবন্দর এ নির্মানাধীন লালন ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিলেন।
আমরা পরাজিত হতে হতে রুখে দাঁড়ালাম। মিছিলে পা বাড়ালাম।
আর মিছিলে হাজির হলো আমাদের মহান ত্রাতারা ; পুলিশেরা।
সম্ভবত এই চমৎকার দেশ এর চেয়ে এই রকম অদ্ভুদ কায়দার রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে এর চেয়ে সভ্য আচরণ আশা করা আমাদের অন্যায়। দেশে জুড়ে যে অনন্য জরুরী আইন বলবত আছে তার ফায়দা লোটে উগ্র মৌলবাদিরা।
আর যখন মিছিলে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক-ছাত্র-সংস্কৃতি কমীরা ,তখন পুলিশ বাঁধা দেয় ; ডান্ডার ভয় দেখায়।
বাংলাদেশ এখন কেবল ডান্ডার ভয়ে কাঁপে সারান।
আমরা রাষ্ট্রের এই নপুংশকতার প্রতিবাদ জানাই। আঘাত ফিরিয়ে দেবার জমিন খোঁজার জন্য পথে নামি । জানি, পথ আমরা পাবই। আমরা আমাদের লালণকে আমরা আবার বাঁচিয়ে তুলবো। আমাদের আব্বাস উদ্দিনেরা আবার দরাজ গলায় গান ধরবেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28859419 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28859419 2008-10-25 10:52:37
একটি প্রস্তাবনা: দেশ জুড়ে টুপি আর বোরখাময় ফোয়ারা আর মিনার গড়ে তোলা হোক!
দেশ জুড়ে টুপি আর বোরখাময় ফোয়ারা আর মিনার গড়ে তোলা হোক!
আর ভেঙে ফেলা হোক ইহুদি নাছারার যত মূর্তি , যাবতীয় মেনাফেকিপনা। সবাই প্লাস দ্যান ! আমরা সবাই এখন মুমিন মোসলমান হইতে ব্যাকুল। আমাদেরকে নূরানী-আমিনিরা মেসালমান না বানাইয়া ছাড়বো না।

রাষ্ট্র প্রধান,
দেশ জুড়ে টুপি আর বোরখাময় ফোয়ারা আর মিনার গড়ে তুলুন। কারন, আপনি সবচেয়ে বড় বড় প্রতেবেশি আমিনীর, নূরানীর, টুপির। আর সবচেয় বড় শত্রু বাঙালি ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতির।
রাষ্ট্র প্রধান,
দেশ জুড়ে টুপি আর বোরখাময় ফোয়ারা আর মিনার গড়ে তুলুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28858075 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28858075 2008-10-22 12:16:02
লালন ভাস্কর্য ভাঙিয়া মুসলমান হইবার পথ পরিস্কার করিলাম : সবাই বলেন আল্লাহামদুলিল্লাহ...
আমাগোর নবীজি মক্কা ইসলাম কায়েমে করিতে গিয়া ইহুদি নাছারাগো ৩৬০ টা মূর্তি ভাঙছিলেন। আমরা কেবল মাত্র একটা ভাঙলাম। বাংলাদেশ ইসলাম কায়েমর পথে আগাইয়া যাইতেছে। আগাইয়া যাউক। মোল্লাগোর দ্যাশে ইহুদি নাছারাগো এইসব জিনিস শোভা পায় না। তাই সামনে আমরা অপরাজেয় বাংলা ভাঙুম, জাগ্রত চৌরঙ্গি ভাঙুম...। আমরা সবাই মোসলমান হইয়া উঠুম। ঘেন্না লাগে!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28857658 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28857658 2008-10-21 11:09:36
রূপকথা হয়ে যায় আমাদের গ্রাম

গ্রামের ছেলেরা এখন আর ঘুড়ি উড়ায় না আকাশে। কেননা, আমাদের সব ঘুড়ি; সব আকাশ এখন আটকে যায় গ্রামীন ফোনের টাওয়ারে। লাল ইট বানানোর মিলে। কোথাও আর শোনা যায় না ভাটিয়ালির নতুন সুর। নতুন কোনো গান। এখন কেবল পদ্মার জলে ভাসে অভুক্ত মরে যাওয়া জেলে-শিশুর লাশ। সবুজ ধানক্ষেত উজার করে রাক্ষুসে বণিকেরা আমাদের গ্রামজুড়ে বানাচ্ছে ইট বানানোর মিল। চাক চাক করে কেটে ফেলছে আমাদের উঠান। ঘাসে ঢাকা মাঠ। দানবের মতো মিলগুলো ঢেকে দিচ্ছে মায়াবী আকাশ। কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী মলিন করে ফেলছে মেঘ আর আকাশের সব সৌন্দর্য। দম নিতে গেলে নিশ্বাসে ঢোকে কালো আবর্জনা। শিশুদের চোখে জ্বালা ধরানো এই ধোঁয়া বদলে ফেলছে ঋতু বদলের সব সমীকরন।

একসময় গ্রামের কোল জুড়ে ছিল ভরাট বুকের নদী। কুমারেরা যাদুকরের মতো আঙুলের স্পর্শে বানাতো মাটির হাড়ি-পাতিল ; ছোট্ট-পুতুল। যেন ওদের হাতে ছিল রবীন্দ্রনাথের পেনসিল, যা দিয়ে ওরা আঁকত মাটির কবিতা। লাল হলুদ সবুজ। আর এখন শরীফ মেলামাইন, তাজ প্লাস্টিকের আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির কারিগরেরা। শিশুরা এখন আর নুতন মাটির পুতুলের স্বপ্নে বিভোর থাকে না । আমরা; আমাদের পাস্টিক সভ্যতা ওদের হাতে তুলে দিয়েছি খেলনা পিস্তল, ছুরি, তলোয়ার, প্লাস্টিকের সাপ।

একদিন আমাদের নদী জুড়ে ভেসে বেড়াত চমৎকার সব নৌকা। মাঝিরা ভাটিয়ালি গাইতে গাইতে এপার ওপার করতো কতো-শতো মুখ ! জেলেরা মনভরে মাছ ধরতো। ভরপেট খেত তিনবেলা। হাট থেকে সন্তানের জন্য কিনত লাল জামা, নিজের নতুন জাল। অথচ এখন পদ্মার পাড় জুড়ে যান্ত্রিক ট্রলারের ভটভটানি। প্রযুক্তির গতির কাছে হেরে যাওয়া জেলেরা মরে যাচ্ছে দিন দিন। হারিয়ে যাচ্ছে নৌকার সৌন্দর্য। মাটির কবিতার শৈল্পিক শুভ্রতা।

এমনিকরে হারিয়ে যায় জেলে পাড়া। মাঝি পাড়া। কুমার পাড়া। তাঁতী পাড়া। গ্রাম জুড়ে নির্মিত হয় শহুরে ঢঙের ইটকাঠের চারদেয়াল। কৃষকের ধানক্ষেত বন্দি হয় দেয়ালে। তাঁতীর কল জেলের জাল যায় যাদুঘরে যাদুঘরে। ছবির শিল্পীরা কৃষকের কঙ্কালসার ছবি তুলে বিখ্যাত হন। মরে যাওয়া গ্রাম নিয়ে কাব্য করে দেশ-বিদেশ ঘোরেন বুদ্ধিজীবী। আর আমাদের শাইখ সিরাজেরা কৃষককে নিয়ে ওয়াটার পলো খেলেন। বানরের মতো তেল মাখানো কলাগাছে চড়ান। বানর আর কৃষক একাকার হয়ে যায়। আমাদের গ্রাম হয়ে ওঠে বানরের গ্রাম; চমৎকার রূপকথা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28856772 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28856772 2008-10-19 10:51:17
প্লাস্টিক আগ্রাসন : হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎকবিতার কারিগরেরা !
মানুষগুলোর হাতে যেন যাদুর কাঠি ; যেন রবীন্দ্রনাথের পেনিসল !
একদিন ওরা আঙুল নাচাতো আর জন্ম নিত এক একটা মাটির কবিতা। নীল পদ্ম। সেই কবিতার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতাম আমরা । সাজিয়ে রাখতাম আমাদের ছোট্টঘর। ছোট্ট খুকিটাকে কিনে দিতাম প্রজাপতির পাখার মতো সুন্দর মাটির হাড়ি। লাল-নীল বর-বউ!

আর আমাদের শিশুরা এখন রোবোকপ-পিস্তল-তরবারি নিয়ে খেলা করে। বুঁদ হয়ে থাকে ভিডিও গেমেসর বীভৎসতা!। ঘর সাজাই দামি দামি কত্ত কত্ত জিনিসপত্রে। মৃৎশিল্প আমাদের কাছে এখন ময়লা ভিখারী। ডাস্টবিনে ঘুরঘুর করা বিবর্ণ কিশেরা। তাই আমরা আজ ভুলে যাচ্ছি ছুড়ে ফেলে দিচ্ছি মাটির কারিগরদের। তাঁরা রবীন্দ্রনাথের পেনসিল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে সেলাই মেশিনের ঘটরঘটর। রিকসার হ্যান্ডেল।

আর পুজিঁবাদের কারখানায় জন্ম নিচ্ছে প্লাস্টিকের পিস্তল; শরীফ মেলামাইন;ফুল সাজাবার চমৎকার সব দানি। গ্রামের কুমার শহুরে কারখানার দারোয়ান গিরি করতে পেরে ধন্য হচ্ছে। আর গ্রাম জুড়ে মরে যাচ্ছে আমাদের কমদামি কুমারেরা। মাটিতে তৈরী হাস্যকর বস্তুরা।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28854299 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28854299 2008-10-13 19:28:46
দালানে দালানে বন্দি আমাদের শৈশব!
শহরের বুকে পিঠে মস্ত মস্ত দালান । দালানের উপর দালান। আমাদের শিশুদের শৈশব চাপা পড়ে যায় সে দালানের নিচে। বইয়ের বস্তার ভারে নুয়ে পড়ে ওদের সমগ্র চেতনা।
আমরা আমাদের শিশুদের বন্দি করে ফেলছি বড় বড় দালানে। আর তাদেরকে হরলিকস খাইয়ে খাইয়ে দেশ ও জাতিকে একটি মেধাবি প্রজন্ম উপহার দেয়ার চেষ্টায় ছুটছি দোকানে দোকানে। বিভোর হয়ে তাকিয়ে তিনবেলা দেখছি বিজ্ঞাপনের সৌন্দর্য!

শিশুদের জন্য আমারা রাখিনি কোনো স্বাস্থ্যকর খেলার মাঠ। শিশু বিনোদনকে সহজলভ্য করার নামে আমরা বানিয়েছি কিছু বানিজ্য নির্ভর পার্ক। যেখানে প্রবেশযোগ্যতা নাই সব শিশুর।

শিশু তুমি এখন কেবল জানালার গ্রীল ধরে দাড়িয়ে আকাশ দেখবে। বৃষ্টি দেখবে। আকাশ ছোঁয়ার কৌতুহল নিয়ে কখনও ঘর থেকে বের হতে পারবে না তুমি। বৃষ্টিতে ভিজতে পারবে না। বৃষ্টিতে ভেজার মতো কোনো উঠান রাখা হয় নাই তোমার জন্য। ঝড়ের দিনে আর আম কুড়ানো হয় না তোমার। মানুষ-প্রকৃতি-সুন্দর পৃথিবী -প্রজাপতি সম্পর্কে তোমার সব অভিজ্ঞতা গড়ে ওঠে কেবল টেলিভিশন দেখে দেখে। তোমাকে; তোমার বাবা-মাকে শেখানো হয় হরলিকস ওভালটিন মালটোভাতেই রয়েছে মেধাবী হয়ে ওঠার সব উপাদান। তুমি চার দেয়ালে বসে বসে সারাদিন মালটোভা গেল আর মেধাবী হযে ওঠো! আর সকাল দুপুর বইয়ের বস্তা কাঁধে নিয়ে ছুটে যাও এ পাড়া ও পাড়া।বইয়ের ভারে ছোট হতে হতে একদিন মাটির সাথে মিশে যাও!

মাটির সাথে মিশে যাও!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28853184 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28853184 2008-10-10 23:25:29
নকশা : প্রথম আলোর মাংসল বিনোদনবানিজ্যের হাতিয়ার আমার বিভিন্ন বস্তুর নাম অর্থ পরিবর্তনে খুব-ই পটু। মীরজাফর সাহেব একদা শুয়োরবৃত্তি করে তার নামের অর্থেল বদল করেছিলেন। তারপর আমাদের রাজনীতিকের বদলে দিয়েছিলেন দেশপ্রেম শব্দটার যাবতীয় সব ভুগোল। আমাদের আমিরেরা বদল করেছেন ইসলাম শব্দটার সব অর্থ। আর এখন প্রচারপটুতায় প্রথম শ্রেনীতে প্রথম তথাকথিত ভালোর সঙ্গে থাকা প্রথম আলো পত্রিকা বদলে ফেলছে ভালোর সব সংগা।

প্রথম আলো পত্রিকাটির কাছে সবচেয়ে ভালো কাজটি হচ্ছে নারীর মুখস্তনজংঘাঠোটঁ বিক্রি করা।
প্রথম আলো বাঙালিদেরকে বিনোদন দিতে দিতে মাত করে তুলছে । তাদের প্রকাশিত নকশা হয়ে উঠছে বিনোদনের হারেম। এখানে পাঠককে দেখানো হয় নানা সাইজের রুপসি মডেলের ফর্সা চেহারা। দেয়া হয় ফেয়ার এন্ড লাভলীর মনমাতানো বিজ্ঞাপন। যে বিজ্ঞাপন ঘষেই ফর্সা হয়ে যেতে পারে একজন বাঙালি নারী।

নকশা তার পাঠককে জানায় কিভাবে ফর্সা হয়ে উঠতে হবে; কিভাবে নখটাচুলটা কাটতে হবে। শাড়িটা পড়লে কিভাবে পড়তে হবে। আর কেবল এইগুলান বলেই তারা খান্ত দেয় না; তার বলে চলে কোথায় গেলে মিলবে প্রসাধন চর্চার এইসব উপকরণ।

লক্ষকরুন পাঠক ; প্রথমে পাবলিককে শেখানো কিভাবে কত বেশী বেশী ভোগ করতে হয় ; তারপর বাতলে দেয়া হয় কোন পথে গিয়ে পাঠক তার এই ভোগের পিপাষা মেটাতে পারবে।

নকশা খুললে নারীর মুখ আর স্তন দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই আমরা । নকশা পতিবেদকেরা ছবিতুলয়েরা নারী মতাংস ছাড়া আর কোনো শিল্পকলা জানে না। নকশা যে মতার্দশ বহন করে তা হলো পাঠকের চোখে ধান্দা লাগাইয়া দাও; পাবলিকরে চ্যাংদোলা কইরা ছাইড়া দাও ভোগের স্বর্গে।
পাবলিক মরুক; চুড়ি-জামা-টিশার্ট-পায়জামা-নখপালিশ কিনতে কিনতে মরুক। ভোগের পর আরও বেশি ভোগ করনের জন্য পয়সা খরচ করুক।

(রি-পোষ্ট)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852904 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852904 2008-10-10 02:57:09
মোবাইল বণিকেরা সরিয়ে নাও ঘাতক থাবা !
আমাদের চিলেকোঠার দখল নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। একদিন যে চিলেকোঠায় দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতাম আমরা, ভিজতাম বৃষ্টিতে; সেখানে এখন গ্রামীনফোন-একটেল-বাংলালিংঙ্কের ধাতব টাওয়ার। চিলেকোঠায় ঘর বাঁধার বাউন্ডেলে স্বপ্ন আর এখন আর তাড়িয়ে বেড়ায় না আমাদের। এর চেয়ে লাভজনক চিলেকোঠাগুলোকে বিক্রি করে দেয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়া।

আমাদের ধানক্ষেতজুড়ে পা ছড়িয়ে দাড়িয়ে আছে দানবের মতো মস্ত মস্ত টাওয়ার। একসময় আমাদের দিগন্তজুড়ে দেখা যেত তাল-নারিকেল গাছের সারি; এখন যান্ত্রিক টাওয়ার। ভেঙে পড়ছে আমাদের সব তালগাছের সারি; নির্মিত হচ্ছে লোহারক্করে বানানো দানব। আমাদের চিলোকোঠা; আমাদের ধানক্ষেত দখল করে নিচ্ছে ওরা। ব্যস্ত সড়কের মাথায় ঝুলিয়ে দিচ্ছে পন্যনারীর মুখশোভিত বিলবোর্ড। ঢেকে যাচ্ছে দিগন্ত; আকাশের নীল ; মেঘের লুকোচুরি। আমাদের সবুজ চুরি করে মোবাইল বণিকেরা তাদের বিজ্ঞাপন বসাচ্ছে। পন্যনারীর মুখ আর জংঘার সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিচ্ছে গোটা বাংলাদেশ।

আমার কেউ বিলবোর্ড দেখতে চাই না। আমরা আকাশ দেখতে চাই। আমরা আবার চিলেকোঠায় দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে চাই। টাওয়ার দেখিয়ে নয়; তালগাছের সারি দেখিয়ে চিহ্নিত করতে চাই আমাদের মায়ামাখা গ্রামকে।
মেঘ আর চাঁদের লুকোচুরির বদলে আমরা আর বিলবোর্ড দেখতে চাই না। সেবার মুখোশে আমরা আর লুন্ঠনের আওয়াজ শুনতে চাই না টেলিভিশন আর সংবাদপত্র জুড়ে।
আমাদের আকাশ ফিরিয়ে দাও। আমাদের চিলোকোঠা ফিরিয়ে দাও। আমাদের সবজ গাছপালা আর ধানক্ষেতের সৌন্দর্য ফিরিযে দাও। সরিয়ে নাও ঘাতক থাবা!

(রি-পোস্ট)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852603 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852603 2008-10-09 11:45:00
নারী : তোমার গন্তব্য যখন কেবল ফরসা ত্বক আর পুরুষ ধরা ! লাবন্য-ই এই সুসভ্য যুগে সবচেয়ে বড় প্রতিভা! ফেয়ার এন্ড লাভলী ঘষে ঘষে ফরসা করে তোলো তোমার চামড়া। তবে সংসারে, সঙ্গমে নিশ্চিত হবে তোমার আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। পারিবারে তোমার গ্রহণযোগ্যতা নির্মান করে দেবে রাধুনি গুড়ামশলা। রাধুনির গুনে তুমি সুগৃহিনী হয়ে উঠেবে। তোমার গুনের ফিরিস্তি টিফিন ক্যারিয়ার করে পৌছে যাবে স্বামীর অফিস পর্যন্ত।

লাক্স তোমাকে সুপার স্টার করে দিবে। মিডিয়া নির্মিত তোমার পৃথিবীতে লাক্স ঘষা ছাড়া স্টার হওয়ার আর কোনো পথ নাই। তোমাকে এখন রূপকথার পরীর সাজে দেখতে পাওয়া যায় পত্রিকার পাতায়। তোমার পিঠে গুঁজে দেয়া হয়েছে চমৎকার একজোড়া ডানা। তোমার মুক্তি নাই এই লাক্স মাখা ছাড়া। তুমি সাবান মাখো আর রূপকথার পরী হয়ে যাও। তারপর নাটকে নামো। চলচিত্রে যাও। ইউনিলিভারের পণ্য বিক্রির মাংসল পণ্যনারী হয়ে ওঠো। তোমার জীবন হয়ে উঠুক ইউনিলিভারময়। লাক্সময়। তোমার মেধা বুদ্ধিমত্তা প্রতিভা নয়; তোমার চামড়া-ই হয়ে উঠুক-তোমার ভবিষ্যতের নির্মাতা।

সমাজ তোমার জন্য সাজিয়ে রেখেছে অনন্য এক পেশা বিয়ে। ছোটবেলা থেকে ঘরকন্না করে করে তুমি যোগ্য হয়ে ওঠে এই মহান পেশার। পরিবারের এই সামাজিকায়নের পাশের লাইনে দাড়ায় মিডিয়া । তোমাকে 'ধরতে' শেখায় তোমার চেয়ে উন্নত পুরুষ প্রজাতিটিকে। আর এই জন্য তোমার দরকার ফরসা চামড়া আর জুঁই ফুলের গন্ধমাখা দীঘল কালো কেশ। তাহলেই তোমার চামড়া আর চুলের প্রতিভায় তুমি মজাতে পারবে কোনো তরুনকে। নিশ্চিত করতে পারবে তোমার নিরাপত্তা।
নারী তোমার বিরুদ্ধে কুৎসিত পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ বহনকারী সমাজ ও মিডিয়ার যৌথতার এই দেয়াল কি ভাঙতে পারবে কখনও? বর্ণবাদিতায় নয়; মানবিকতায় বিশ্বাসী করে তুলতে পারবে নিজেদেরকে? মিডিয়া নির্মিত ফরসা তক্ব আর দীঘল চুলের এই বয়ানের শৃঙ্খল ভেঙে সৃষ্টিশীলতা আর সৃজনশীলতার পথে হাঁটেতে পারবে তো তোমরা! নাকি হয়ে উঠবে কেবল ইউনিলিভারের মাংসল পণ্যনারী; চার দেয়ালে বন্দি অনন্য দাসি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852259 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28852259 2008-10-08 12:16:33
মিডিয়া-অবতার নির্মিত মানসিক সাম্রাজ্যবাদ : আমাদের প্রতিরোধ একসময় যাহা ছিল ইশ্বরের হাতে; তাহা হাত বদলের নিয়তিতে আসিল বণিকের হাতে। বন্ধ্যা ঈশ্বরের অবতার উৎপাদনের দিন অতীত হইলো বটে কিন্তু অতীত হইলো না অবতার উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা। ধলা বণিকের তেলেসমাতি নকল করিয়া বঙ্গদেশে জন্ম নিলো ধলাকালো নানান জাতের বণিকের। তাহার পর বঙ্গদেশের চেহারার ঝলকানি বাড়িতেই থাকিলো। বণিকেরা ছড়িয়া পড়িলেন বিদ্যাবুদ্ধি অর্জনে। ধুতি-পাঞ্জাবী আর মোল্লা টুপিরা দলে দলে রাজনীতির ময়দানে শামিল হইলেন দেশদশের মঙ্গল সাধনায়। তাহার পর ধুতি-পাঞ্জাবী মোল্লাটুপির জরুরত পড়িল বার্তাবাহক নির্মানের। ততদিনে ধলাদের দেশে কাগুজে অবতারের রমরমা কাটতি। সে কাটতির বায়ু ছড়িয়া পরিল বঙ্গদেশের বনিক ঘিলুজীবির মগজে। মগজ হইতে মগজে! বাঙালি অর্জন করিল মিডিয়া নামের ম্যাজিকাল অবতারের। তাহার পর বনিকেরা আরও বনিক। বনিকেরা প্রযুক্তির উদ্ভাবক। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ঘোড়ায় চড়ে কাগুজে অবতারেরা আরও ঝকমকির সৃষ্টি করিল। ঝকমকি বাড়িতেই থাকিল। চারিদিকে আরও তেলেসমাতি। পশ্চিম হইতে আসিল এক আজব যন্ত্র। যে অবতারের মতো বড় গলায় কথা জানে। যাহার ভেতরে রঙের ছড়াছড়ি; শব্দ আর মানব আকৃতির রঙিন ফানুশের যাতায়াত। প্রথম মিডিয়া যুগ হইতে আমরা প্রবেশ করিলাম দ্বিতীয় মিডিয়া যুগে।

তথ্য দিতে উদগ্রীব এইসব ম্যাজিকাল অবতারেরা তথ্য উৎপাদন ও বিপনন করিতে থাকিল। তথ্যের মহাসড়কে সগৌরবে বাঙালি শুনিল তাহাদের যাত্রার প্রতিধ্বনি। রাজনীতিক প্রভুর মধুময় জবানি বৈদ্যুতিন অবতারের মাধ্যম পেীছাইল জনগনের নিকট। বণিকেরা বিজ্ঞাপন দিয়া দিয়া বাঙালিকে ভাসাইলো ভোগের সাগরে। বাঙালি সে সাগরে ভাসিতে ভাসিতে একশেষ করিয়া ছাড়িল তবু আজও ঘুচিল না ভাসাভাসির সেই আদিম কাহিনি।

মায়ের কোল ছাড়িয়া মিডিয়া যখন নামিল বঙ্গদেশে; তখন বহুত অতিকথন শুনিতে হলো বাঙালিকে। পন্ডিতেরা মিডিয়াকে মাসমিডিয়া ডাকিয়া সম্মানিত করিলেন বোকা জনসাধারনকে। আজও এই সুসভ্য বঙ্গে মিডিয়াকে গণের বলে অবিহিত করা হইয়া থাকে! অতিতে অবতার কখনো সাধারনের জন্য জন্ম নেয় নি; জন্ম নিয়েছিল প্রভুর প্রচারণা আর অস্তিত্বকে ব্চিয়ে রাখার তাগিদে। এই বিশ্বভ্রমান্ডে মিডিয়া অবতারের জন্মও ওই একই তাগিদে। পুঁজিবাদ ঘিলুবাদ নীতিবাদকে কোলে করে বাঁচিয়ে রাখার সুমহান দায়িত্ব কাঁধে বয়ে বেড়াইতেছে আমাদের ম্যাজিক জানা মিডিয়া অবতারেরা।

আলোচনা আর বাহাসে গণের বলিয়া প্রচার পাইলো সাধের মিডিয়া কিন্তু কার্যত ইহা হইয়া রহিল রাজনীতিকের। বনিকের। মৃত পুরোহিতের। প্রাচীন অবতারের। গণমানুষ তথ্যমহাসড়কে হাঁটিল। ভোগবাদিতার চুড়ান্ত করিয়া ছাড়িল। আর সেই আনন্দে বগল বাজাইলো বণিকেরা। গণমানুষের প্রাত্যহিক জীবনের যাবতীয় বাস্তবতা নির্মান করিবার সম্মোহনী ক্ষমতা প্রযুক্তি আর টাকার প্রাচুর্যে নিজের করিয়া নিল মিডিয়া। দখল করিয়া নিল আমাদের মননের সমস্ত মানচিত্র।
আমরা হইয়া উঠিলাম মিডিয়ার গোলাম। মিডিয়া যেভাবে আমাদের হাসতে বলে; আমরা সেভাবেই হাসি। মিডিয়া যেভাবে বোকা বাঙালিকে ভাবতে বলে ; বাঙালি সেইভাবেই ভাবে। আমরা খাই যাহা খাইতে বলে বিজ্ঞ মিডিয়া। মিডিয়ার এই গন্ডি থেকে কাহারওই আর বাহির হইবার গতি নাই। উল্টোভাবে বাঙালি এখন টাকা দিয়া মিডিয়ায় প্রদর্শিত মালমশলা কেনে। তথ্য কেনে। বিনোদন কেনে। ধর্ম কেনে। মাংসল নারী কেনে। যৌনতা কেনে। ওবামা কেনে।

বেচিবার এই ফিকির মিডিয়ার আদিম প্রবনতা । বেচিবার তাগিদেই এই সোনার মিডিয়া খুইলা বইছে বণিকেরা। প্রচলিত বাংলাদেশে যে সকল মিডিয়া অবতার আছে তাহাদের সবাই বড় বেশি বানিজ্যিক। ধলাদের মতই এদের স্বভাব। বাণিজ্য করিতে করিতে হাঁটিয়া যায় লুন্ঠনের পথে। মনোজাগতিক লুন্ঠনে সমাজে নির্মান করে পুঁজিবাদ সমর্থিত ভোক্তা শ্রেণী । চুরি হয়ে যায় আমাদের মানবিক মূল্যবোধ। মূলধারার মিডিয়া যা কিছু উপকার করিবে তা করিবে নিজের টিকে থাকিবার স্বার্থে। উপকারীর কাজে বাঁধা দেয়া কহার ও কাম্য নয়! কিন্তু এই সকল কাগুজে-বৈদ্যুতিন অবতারেরা যখন আমাদের ক্ষতি করিয়া নিজেদের লাভের বোঁচকা বাঁধিবার ধান্দা করিবে; আমাদের এই ছোট্ট গ্রুপ সেখানেই বাঁধা দিবে। ভোক্তা শ্রেনীর মধ্যে জনমত নির্মান করিবে যাতে বণিকেরা গরিবের কথা মনে রাখে । ক্ষতি করিবার পূর্বে সামান্য ভাবিয়া লয়। ভোক্তাদের মধ্যে নির্মান করিবার চেষ্টা করিবে সংগঠিত শক্তি; যাহার মিডিয়াকে ঘাড় ধরিয়া লইয়া যাইবে গনমানুষের কাছে। নিজের লাভালাভির হিসাব কষিবার পাশাপাশি মিডিয়াকে বাধ্য করিবে সংগঠিত ভোক্তা শ্রেণীর কথা ভাবিতে।


গ্রুপ লিংক : "মিডিয়া : পাঠ ও আলোচনা"

http://www.somewhereinblog.net/group/mediapoa]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851897 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851897 2008-10-07 14:32:22
মিডিয়া-অবতার নির্মিত মানসিক সাম্রাজ্যবাদ : আমাদের প্রতিরোধ
একসময় যাহা ছিল ইশ্বরের হাতে; তাহা হাত বদলের নিয়তিতে আসিল বণিকের হাতে। বন্ধ্যা ঈশ্বরের অবতার উৎপাদনের দিন অতীত হইলো বটে কিন্তু অতীত হইলো না অবতার উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা। ধলা বণিকের তেলেসমাতি নকল করিয়া বঙ্গদেশে জন্ম নিলো ধলাকালো নানান জাতের বণিকের। তাহার পর বঙ্গদেশের চেহারার ঝলকানি বাড়িতেই থাকিলো। বণিকেরা ছড়িয়া পড়িলেন বিদ্যাবুদ্ধি অর্জনে। ধুতি-পাঞ্জাবী আর মোল্লা টুপিরা দলে দলে রাজনীতির ময়দানে শামিল হইলেন দেশদশের মঙ্গল সাধনায়। তাহার পর ধুতি-পাঞ্জাবী মোল্লাটুপির জরুরত পড়িল বার্তাবাহক নির্মানের। ততদিনে ধলাদের দেশে কাগুজে অবতারের রমরমা কাটতি। সে কাটতির বায়ু ছড়িয়া পরিল বঙ্গদেশের বনিক ঘিলুজীবির মগজে। মগজ হইতে মগজে! বাঙালি অর্জন করিল মিডিয়া নামের ম্যাজিকাল অবতারের। তাহার পর বনিকেরা আরও বনিক। বনিকেরা প্রযুক্তির উদ্ভাবক। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ঘোড়ায় চড়ে কাগুজে অবতারেরা আরও ঝকমকির সৃষ্টি করিল। ঝকমকি বাড়িতেই থাকিল। চারিদিকে আরও তেলেসমাতি। পশ্চিম হইতে আসিল এক আজব যন্ত্র। যে অবতারের মতো বড় গলায় কথা জানে। যাহার ভেতরে রঙের ছড়াছড়ি; শব্দ আর মানব আকৃতির রঙিন ফানুশের যাতায়াত। প্রথম মিডিয়া যুগ হইতে আমরা প্রবেশ করিলাম দ্বিতীয় মিডিয়া যুগে।

তথ্য দিতে উদগ্রীব এইসব ম্যাজিকাল অবতারেরা তথ্য উৎপাদন ও বিপনন করিতে থাকিল। তথ্যের মহাসড়কে সগৌরবে বাঙালি শুনিল তাহাদের যাত্রার প্রতিধ্বনি। রাজনীতিক প্রভুর মধুময় জবানি বৈদ্যুতিন অবতারের মাধ্যম পেীছাইল জনগনের নিকট। বণিকেরা বিজ্ঞাপন দিয়া দিয়া বাঙালিকে ভাসাইলো ভোগের সাগরে। বাঙালি সে সাগরে ভাসিতে ভাসিতে একশেষ করিয়া ছাড়িল তবু আজও ঘুচিল না ভাসাভাসির সেই আদিম কাহিনি।

মায়ের কোল ছাড়িয়া মিডিয়া যখন নামিল বঙ্গদেশে; তখন বহুত অতিকথন শুনিতে হলো বাঙালিকে। পন্ডিতেরা মিডিয়াকে মাসমিডিয়া ডাকিয়া সম্মানিত করিলেন বোকা জনসাধারনকে। আজও এই সুসভ্য বঙ্গে মিডিয়াকে গণের বলে অবিহিত করা হইয়া থাকে! অতিতে অবতার কখনো সাধারনের জন্য জন্ম নেয় নি; জন্ম নিয়েছিল প্রভুর প্রচারণা আর অস্তিত্বকে ব্চিয়ে রাখার তাগিদে। এই বিশ্বভ্রমান্ডে মিডিয়া অবতারের জন্মও ওই একই তাগিদে। পুঁজিবাদ ঘিলুবাদ নীতিবাদকে কোলে করে বাঁচিয়ে রাখার সুমহান দায়িত্ব কাঁধে বয়ে বেড়াইতেছে আমাদের ম্যাজিক জানা মিডিয়া অবতারেরা।

আলোচনা আর বাহাসে গণের বলিয়া প্রচার পাইলো সাধের মিডিয়া কিন্তু কার্যত ইহা হইয়া রহিল রাজনীতিকের। বনিকের। মৃত পুরোহিতের। প্রাচীন অবতারের। গণমানুষ তথ্যমহাসড়কে হাঁটিল। ভোগবাদিতার চুড়ান্ত করিয়া ছাড়িল। আর সেই আনন্দে বগল বাজাইলো বণিকেরা। গণমানুষের প্রাত্যহিক জীবনের যাবতীয় বাস্তবতা নির্মান করিবার সম্মোহনী ক্ষমতা প্রযুক্তি আর টাকার প্রাচুর্যে নিজের করিয়া নিল মিডিয়া। দখল করিয়া নিল আমাদের মননের সমস্ত মানচিত্র।
আমরা হইয়া উঠিলাম মিডিয়ার গোলাম। মিডিয়া যেভাবে আমাদের হাসতে বলে; আমরা সেভাবেই হাসি। মিডিয়া যেভাবে বোকা বাঙালিকে ভাবতে বলে ; বাঙালি সেইভাবেই ভাবে। আমরা খাই যাহা খাইতে বলে বিজ্ঞ মিডিয়া। মিডিয়ার এই গন্ডি থেকে কাহারওই আর বাহির হইবার গতি নাই। উল্টোভাবে বাঙালি এখন টাকা দিয়া মিডিয়ায় প্রদর্শিত মালমশলা কেনে। তথ্য কেনে। বিনোদন কেনে। ধর্ম কেনে। মাংসল নারী কেনে। যৌনতা কেনে। ওবামা কেনে।

বেচিবার এই ফিকির মিডিয়ার আদিম প্রবনতা । বেচিবার তাগিদেই এই সোনার মিডিয়া খুইলা বইছে বণিকেরা। প্রচলিত বাংলাদেশে যে সকল মিডিয়া অবতার আছে তাহাদের সবাই বড় বেশি বানিজ্যিক। ধলাদের মতই এদের স্বভাব। বাণিজ্য করিতে করিতে হাঁটিয়া যায় লুন্ঠনের পথে। মনোজাগতিক লুন্ঠনে সমাজে নির্মান করে পুঁজিবাদ সমর্থিত ভোক্তা শ্রেণী । চুরি হয়ে যায় আমাদের মানবিক মূল্যবোধ। মূলধারার মিডিয়া যা কিছু উপকার করিবে তা করিবে নিজের টিকে থাকিবার স্বার্থে। উপকারীর কাজে বাঁধা দেয়া কহার ও কাম্য নয়! কিন্তু এই সকল কাগুজে-বৈদ্যুতিন অবতারেরা যখন আমাদের ক্ষতি করিয়া নিজেদের লাভের বোঁচকা বাঁধিবার ধান্দা করিবে; আমাদের এই ছোট্ট গ্রুপ সেখানেই বাঁধা দিবে। ভোক্তা শ্রেনীর মধ্যে জনমত নির্মান করিবে যাতে বণিকেরা গরিবের কথা মনে রাখে । ক্ষতি করিবার পূর্বে সামান্য ভাবিয়া লয়। ভোক্তাদের মধ্যে নির্মান করিবার চেষ্টা করিবে সংগঠিত শক্তি; যাহার মিডিয়াকে ঘাড় ধরিয়া লইয়া যাইবে গনমানুষের কাছে। নিজের লাভালাভির হিসাব কষিবার পাশাপাশি মিডিয়াকে বাধ্য করিবে সংগঠিত ভোক্তা শ্রেণীর কথা ভাবিতে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851730 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851730 2008-10-07 02:14:36
মোবাইল বণিকেরা সরিয়ে নাও ঘাতক থাবা ! আমাদের চিলেকোঠার দখল নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। একদিন যে চিলেকোঠায় দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতাম আমরা, ভিজতাম বৃষ্টিতে; সেখানে এখন গ্রামীনফোন-একটেল-বাংলালিংঙ্কের ধাতব টাওয়ার। চিলেকোঠায় ঘর বাঁধার বাউন্ডেলে স্বপ্ন আর এখন আর তাড়িয়ে বেড়ায় না আমাদের। এর চেয়ে লাভজনক চিলেকোঠাগুলোকে বিক্রি করে দেয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়া।

আমাদের ধানক্ষেতজুড়ে পা ছড়িয়ে দাড়িয়ে আছে দানবের মতো মস্ত মস্ত টাওয়ার। একসময় আমাদের দিগন্তজুড়ে দেখা যেত তাল-নারিকেল গাছের সারি; এখন যান্ত্রিক টাওয়ার। ভেঙে পড়ছে আমাদের সব তালগাছের সারি; নির্মিত হচ্ছে লোহারক্করে বানানো দানব। আমাদের চিলোকোঠা; আমাদের ধানক্ষেত দখল করে নিচ্ছে ওরা। ব্যস্ত সড়কের মাথায় ঝুলিয়ে দিচ্ছে পন্যনারীর মুখশোভিত বিলবোর্ড। ঢেকে যাচ্ছে দিগন্ত; আকাশের নীল ; মেঘের লুকোচুরি। আমাদের সবুজ চুরি করে মোবাইল বণিকেরা তাদের বিজ্ঞাপন বসাচ্ছে। পন্যনারীর মুখ আর জংঘার সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিচ্ছে গোটা বাংলাদেশ।

আমার কেউ বিলবোর্ড দেখতে চাই না। আমরা আকাশ দেখতে চাই। আমরা আবার চিলেকোঠায় দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে চাই। টাওয়ার দেখিয়ে নয়; তালগাছের সারি দেখিয়ে চিহ্নিত করতে চাই আমাদের মায়ামাখা গ্রামকে।
মেঘ আর চাঁদের লুকোচুরির বদলে আমরা আর বিলবোর্ড দেখতে চাই না। সেবার মুখোশে আমরা আর লুন্ঠনের আওয়াজ শুনতে চাই না টেলিভিশন আর সংবাদপত্র জুড়ে।
আমাদের আকাশ ফিরিয়ে দাও। আমাদের চিলোকোঠা ফিরিয়ে দাও। আমাদের সবজ গাছপালা আর ধানক্ষেতের সৌন্দর্য ফিরিযে দাও। সরিয়ে নাও ঘাতক থাবা!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851586 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28851586 2008-10-06 17:17:56
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : তোমাকে ঈদের শুভেচ্ছা ! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ,শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবাইকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। সবার ঘরে উৎসবের আলো ছড়িয় পড়–ক। ঈদের সৌন্দর্যে আলোকিত হোক সবার জীবন।

আর যারা শব্দের কারিগর; শব্দ দিয়ে বদলাতে চান সমাজের কাঠামো; যারা ভেঙে ফেলতে চান সব শেকল; শোষিত মানুষকে নিয়ে যেতে চান দেয়ালের বাইরে; তারা সদস্য হতে পারেন আমাদের গ্রুপের। আমারা একসাথে পথ চলতে চাই; আমাদের প্রিয় রুগ্ন দেশটাকে সুস্থ করে তুলতে চাই শব্দের হাতিয়ার কাঁধে নিয়ে।
আমরা ভাগাভাগি করে নেব আমাদের সব স্বপ্ন; আমরা পথ করে দেব নতুন
প্রজন্মকে; যাদের কে দেখতে হবে না রাষ্ট্রের ময়লা রূপ। যারা চোখ মেললেই দেখবে চারিদিকে সুখি মানুষের কোলাহল!
এই ঈদে সব ব্লগারের নিমতন্ন রইলো আমার বাড়ি; নিমতন্ন রইলো সবার; আমার অপেক্ষায়; একটা ঢু কিন্তু মারবেন বন্ধুগন:


Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28850354 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28850354 2008-10-02 11:58:10
ঈদ আইছে: বাঙালি মোসলমান বড়ই আনন্দিত! তাঁরা হাটবাজার জুড়ে বাকবাকুম গেয়ে ফিরছে। শপিংমলগুলোর রোশনাই-এ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাস্তার ভিখারিটি। কত্ত আলো বাংলাদেশ জুড়ে। এ দিনে আনন্দ হবে খুব। যারা সারা বছর তিন বেলা খাবার পায় না ; তারা আচ্ছা করে খেতে পারবে! শহুরে টাকাঅলারা এক একটা দানবীর মহসীন হয়ে উঠবে। দান-খয়রাতের কাপড় আনতে যেয়ে মারা যাবে অসহায় নারী আর খয়রাত দিতে পেরে জান্নাতুল ফেরদাউসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকবে প্রতিভাবান বাঙালি শহুরে বড়লোকটি।
বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামবে গার্মেন্টস এর শ্রমিক। আতœহত্যা করার জন্য হায়ে ডিজেল ঢালবে বোকা শ্রমিক। আর দেশের রাজারাজড়ারা তাদের পিছে লেলিয়ে দেবে পুলিশ। তারপর পুলিশ পেদিয়ে রাস্তাজুড়ে সামরিকতত্বাবধায়কতন্ত্র উদ্ধার করে ছাড়বে। সরকার ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে গার্মেন্টস শ্রমিকের সাথে, মরে যাওয়া পাটকল শ্রমিকের সাথে! আহ সরকারের কতো আনন্দ! তাদের আমলে চারিপাশে খুশির কেমন ম-ম গন্ধ! সবাই হাসছে। কৃষক মরে যেতে যেতে হাসছে। শ্রমিক হাসছে। আমলারা ইদবোনাসের গন্ধ পেয়ে আনন্দে ঘুমিয়ে পড়ছে আবার জেগে উঠছে। আর দানবীর মহসিনেরা জান্নাতের স্বপ্নে হাসছে। কোলাহলে ঢেকে ফেলছে গোটা বাংলাদেশকে।

শ্রমিকের শিশুরা অভুক্ত থাকবে। ময়লা কাপড় পড়ে সারদিন নিজেদের লুকিয়ে রাখবে ঘরের কোণে। আর সন্তানকে নতুন জামা কিনে দিতে না পেরে অক্ষম বাবা বার বার হাতে তুলে নেবে মোটা রশি কিন্তু পারবে না রশির উত্তম ব্যবহার করতে। সারের দাবিতে যে কৃষকের মাথা ফাটল তার পরিবার খেয়ে না খেয়ে কাটিয়ে দেবে খুশির ঈদের দিনকে। আর আমাদের সাংবাদিকেরা পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে দেবে খুশির বার্তা। টেলিভিশনগুলো উৎসবে উৎসবে ভরিয়ে দেবে বাঙালির সব দুখ-যাতনা। রাষ্ট আনন্দে আতœহারা হয়ে ছুটি ঘোষনা করেবে সুখি আমলাদের জন্য । শ্রমিকের শিশুরা অভুক্ত থাকবে। পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে খুশির বার্তা।
আবার ঈদ আইছে। আবার বারবার ঈদ আইবো। কিন্তু শ্রমিকের শিশুরা প্রতিবারই অভুক্ত থাকবে। পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে খুশির বার্তা।

(রি-পোষ্ট)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849995 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849995 2008-10-01 09:40:11
ইশকুল বাস
খুব ছোটবেলায় যখন কপালে মায়ের এঁকে দেয়া কাজল-টিপ
নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম এ পাড়া ও পাড়া; শ্লেটচক আর আদর্শলিপি বুকে করে হেঁটে যেতাম ইশকুলের পথে; তখন এক বন্ধু ছিল আমার। যাকে অনেকদিন আগে হারিয়ে ফেলেছি আমি। এখন ও মাঝে মাঝে যে স্বপ্নে ডেকে যায় আমায়। যার জংধরা ধাতব পাত আর ইঞ্জিনের ভটভট শব্দ এখনও ডাকাতি করে নিযে যায় আমাকে; আমার শৈশবে।
খব ছোটবেলায় পিচ্চি আমি কপালে একে দেয়া মায়ের আদুরে টিপ নিয়ে এসে দাড়াতাম শহরের বড় সড়কটায় । এরপর ভটভট শব্দ তুলে আমাদের দিকে ছুটে আসতো রাজহাসের মতো মাঝারি সাইজের ইশকুল বাসটা। আমাকে; আমার মতো আরো শিশুকে বুকে নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ইশকুলের দিকে ছুটতো বাসটা। তখন শহরের সব সড়ক কেঁপে উঠতো প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনের ভটভটানিতে। শহরের সব পাখি ; সব প্রজাপতি ভয় পাওয়ার বদলে গান গেয়ে উঠতো । যেন আজ কারো জন্মদিন ওদের!
কে জানে হয়ত প্রতিদিনই লেগে থাকতো পাখিদের জন্মদিন কারো।

আমাদের প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া ইশকুল বাসটা যিনি চালাতেন তাকে আমারা ডাকতাম চাচা বলে। আকমল চাচা। খুব দুখি ছিল বেচেরা। সারাদিন কেমন মুখ ভার করে রাখতো লোকটা। অথচ লোকটা যখন দেখতো আমাকে; কেমন বদলে যেত ওর চোখ। ময়লা মাখা হাতে কালো ছিপছিপে মানুষটা বারবার টেনে দিত আমার থুতনি আর আদর করে বসাতো ওর চেয়ারের ঠিক পাশের চেয়ারটাতে। যেতে যেতে বলতো ওর পরিবারের কথা। ডায়রিয়ায় মরে যাওয়া ছেলে ছোটকুর কথা। ওর ছোটকু নাকি দেখতে আমার মতোই ছিল। আমার মতো নাকি কালো ডাগর চোখ; মায়া ভরা মুখ ছিল ছেলেটার। ওর ছোটকু নাই তাই হয়ত আমার ভেতর খুজে ফিরতো ছোটকুকে। কিনে দিত চকলেট আর সন্দেস। মেলায় নিয়ে খাওয়াত ইয়া মস্ত মস্ত গরম রসগোল্লা।

আমার খুব মনে পড়ে ভটভট শব্দ করা সাদারঙের ইশকুল বাসটাকে। রসগোল্লা আর সন্দেস উপহার দেয়া আকমল চাচাকে । ইশকুল বাসটায় চড়ে আমার খুব ছুটে যেতে ইচ্ছা করে ইশকুলের বৃষ্টি ভেজা বারান্দায়। শুনতে ইচ্ছা করে প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনের ভটভটানি। হাজির হতে ইচ্ছা করে পাখি আর প্রজাপতির জন্মদিন উৎসবে।
কিন্তু সে সময়,সে সুযোগ আর নাই। নাই আমার অনেক প্রিয় ইশকুল বাসটাও! তার বদলে ইশকুলে এসেছে নতুন বাস। শহরের কোথাও এখন আর শোনা যায় না ভটভট শব্দ।
কিন্তু পাখিরা এখনও আয়োজন করে পালন করে জন্মদিন উৎসব। নীল রঙের নতুন বাসটা শিশুদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় শহড়ের সমস্ত সড়ক। আমি কেবল পড়ে থাকি জংধরা প্রায় বাতিল হয়ে যাওয়া বুড়ো বাসটার কাছাকাছি। বুকের ভেতেরে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849528 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849528 2008-09-30 01:39:32
শব্দ-ই হোক দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখার হাতিয়ার!
আমাদের ক্যাম্পাসে সুবজ পাতা আর নীল প্রজাপতিময় পাহাড়ের মাথায় লেজ ঝুলিয়ে নাঁচে অষ্টমীর চাঁদ। শরতের দিনে এখানে ওখানে ঝকমক করে জ্বলে কাশবন। যখন চাঁদ ওঠে; জোস্নায় রূপসীর আঁচল হয়ে যায় কাটা পাহাড়ের পথ। আর তারপর রাত বাড়ে; অস্তিত্বের সবটা সমর্পন করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে অজস্র মুখ। জোস্নায় ভিজতে ভিজতে চাঁদ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া সব তরুনেরা। খুব সকালে শিশিরের নিরব কোলাহলে ঘুম ভাঙে পাখিদের। প্রজাপতির। ঘাসফুলের। তারপর...ট্রেন ছোটে ঝকঝক...ঝকঝক...।
হৈ চৈ পড়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দালানে। কলাভবনের বারান্দা নেঁচে ওঠে বেণী দোলানো তরুনীর স্যান্ডেলের নিবিড় আঘাতে। অনেক অনেক সবুজ বুকে নিয়ে ঘুমে আর জাগরণে কেটে যায় ফরেস্টি বিভাগের সকালদুপুররাত্রি। পাহাড়ের সাথে গল্প করে সময় কাটায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ।
গান গেয়ে ওঠে ঝুপড়ির খুব ছোট্ট ছোট্ট দোকান গুলো। জমে ওঠে আড্ডা। জমে ওঠে বিতর্ক । ঝুপড়ির ছোট ছোট টেবিল মুখর হয়ে ওঠে সম্ভাবনাময় তারুন্যের স্পর্শে। সার দিন কেবল বদলে দেয়ার গল্প! রাষ্ট্র; রাস্ট্রের হাত-পা'এ যে পঁচন ধরেছে তা নিয়ে আলোচনা আর ক্ষোভে একাকার হয়ে যায় সব ক্লাসরুম। ছবি আঁকতে আকঁতে ঘুমিয়ে যায় রং-তুলি হাতের তরুন। হয়ত একটু পরে আবার সে জেগে ওঠে। ছবি আঁকে। একটা ছবি। একটা ক্ষুধাহীন প্রতারকহীন বাংলাদেশের ছবি। হুমায়ুন আজাদের আমার অবিশ্বাস কাঁধে করে করে ঘুরে বেড়ায় বাউল চুলের অজস্র ব্যর্থ মানুষেরা।
নতুন নতুন ভাবনা ভাবে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রচলিত বুদ্ধিবৃত্তিক দূবৃত্তায়নের মুখোশ খুলে দেয়ার প্রচেষ্টায় রাত জেগে বই পড়ে। বিনয় ঘোষ-গ্রামসি-ফুকো-সাঈদ-প্যারেন্টি-হুমায়ুন আজাদ-ইলিয়াস পড়তে পড়তে স্বপ্ দেখে একদিন ওরাও...!
সে স্বপ্নের গর্ভে জন্ম নেয় নতুন নতুন ভাবনা । তারপর তাগিদ বাড়ে। সে বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে রাখার পথ খুজতে খুজতে পৌছে যায় সামহয়্যারের দরজায়।
তারপর একদিন...
গোটা বাংলাদেশের প্রচলিত সমাজকাঠামোকে ভেঙে দেয়ার স্বপ্নে জন্ম নেয় আমাদের এ ছোট্ট গ্রুপ। নামে বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতায়। মানুষকে নিয়ে যেতে চায় তাঁকে ঘের দেয়া দেয়ালের ওপাশের পৃথিবীতে!
দেয়াল ভাঙার এ আয়োজনে আপনাকে চাই আমরা।
শব্দ-ই হোক আমাদের হাতিয়ার।
বেঁচে থাকার; দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849521 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28849521 2008-09-30 01:23:56
ঈদে শিশুদের হাতে বই তুলে দিন
আমরা যারা বড় ,তাদের কাছে ঈদ জিনিসটা কেমন পানসে! কিন্তু যারা ছোট; মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে আকাশের মিষ্টি চাঁদটার মতো মিষ্টি মিষ্টি ছড়া কাটে; ওদের কাছে ঈদ-ই সবচেয়ে সুন্দর দিন পৃথিবীর।

বাবা-মায়ের কাছে কত্ত আবদার ওদের! লাল-জামা,নীল-ফ্রক, চুল বাঁধার হলুদ ফিতা, রঙিন স্যান্ডেল। আর আমরা, বড়রা ওদের আবদার মিটিয়েই যেন সুখ প্ইা বেশি। বাড়ি ফেরার পথে ছোট ভাইটার জন্য নিয়ে যাই সবুজ জামা। প্রিয় সন্তানের মুখ মনে করে সাধ্যের সবটুকু উজার করে কিনি ওর ঈদ-পোষাক। চাকুরিজীবি ছেলেটা ঈদে বাড়ি ফেরার সময় বুড়ো বাবার জন্য কিনে নিযে য়ায় ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি। মায়ের জন্য খুব বেছে বেছে কিনে নেয় একটা বয়স্ক ধরনের শাড়ি!

ইদের দিনে উৎসবের সৌন্দর্যে উজ্জল হয়ে ওঠে আমাদের প্রতিটি উঠান।
বিপনি-বিতানগুলোতে হৈ চৈ পড়ে যায়। আমরা আমাদের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য কিনি নতুন জামাকাপড়। শিশুদের হাতে তুলে দেই নক্সী করা স্যান্ডেল।
এই সব কিছুর পাশাপাশি আমরা এই দিনে কি প্রচলন করতে পারি প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়ার সংস্কৃতি। যদি আমরা আমাদের শিশুদের হাতে নতুন জামাকাপড় দেয়ার পাশাপাশি অন্তত একটি করে বই তুলে দিতে পারি, তবে আমার সৃষ্টি করতে পারবো একটি সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ। আমাদের শিশুরা নতুন জামাকাপড় পরে বুক ভরে নিতে পারবে নতুন বইয়ের ঘ্রান। ঈদের নামাজ সেরে বাড়িতে ফিরে মাথা দুলিয়ে পড়বে শামসুর রাহমান। হুমায়ুন আজাদ। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। বইয়ের পাতা থেকে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে ওদের ঘুম চুরি হয়ে যাবে। অন্ধকারে গন্ধরাজ হয়ে উঠবে আমাদের প্রতিটি শিশু। শামসুর রাহমানের সাথে তারা ঘর ছেড়ে বের হবে হারিয়ে যাওয়া
স্মৃতির শহর খুজতে। সাযেন্স ফিকশন পড়ে পড়ে আমাদের শিশুরা বিজ্ঞানী হবার স্বপ্নে বুদ হয়ে থাকবে দিনমান। ওরা স্বপ্ন দেখবে মহাশুন্যের সব রহস্য ভেদ করবার। বইয়ের আলোয় সুন্দর হয়ে উঠবে ওদের সব সকাল; সব সন্ধ্যা।

এই ইদে শিশুদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেবার পাশাপাশি আমার যেন ওদের হাতে তুলে দেই একটি করে নতুন বই। যে বই ওদের স্বপ্ন আর বাস্তবতাকে আলোড়িত করবে। ওদের ভেতর জন্ম দেবে নতুন নতুন স্বপ্ন। ওদের হাতে হাত রেখে আমরা পৌছে যেতে পারবো এক নতুন বাংলাদেশে।

(পোষ্টটা আবার দিলাম। স্বপ্নটা সংক্রামক । আমার সব ব্লগার ভাইয়ের মধ্যে স্বপ্নটা ছড়াই পড়ুক! বার বার দেয়ার জন্য মাফ চেয়ে নিলাম তাদের কাছে; যাদের কাছে পোষ্টা বিরক্তির উৎপাদন করবে। )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28848925 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28848925 2008-09-28 14:45:56
সাধারনের খাদ্য চুরি করে আপনারা অসাধারন সাধারনের স্বপ্ন চুরি করে অসাধারন আপনারা
নিপাট করে চুল আচঁড়ান
টাই বাধেঁন
শপিংমল যান
আপনারা অসাধারন
আপনাদের হাতে সাধারনের জীবন
সাধারনের খাবারের মেনু বানিয়ে দেন আপনারা
সাধারনকে ন্যাংটো রাখেন আপনারা
সাধারনের ঘরের উনুন নেভান আপনারা

সাধারনের স্বপ্ন চুড়ি করে অসাধারন আপনারা
আপনাদের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই সাধারনের
অথবা সাধারনের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক আপনাদের।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28848000 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28848000 2008-09-26 02:16:44
শ্রমিকের লাশ কাঁধে নেবে কী রাষ্ট্র?
চারপাশের কলগুলোতে মরে থাকা এত এত লাশগুলোর ভার কে নেবে? আমাদের রাষ্ট্রপধান কি নেবে এই সব মৃত শ্রমিকদের দায়ভার। লাশগুলোকে ফেল আসবে বুড়িগঙ্গায়! তার পর নামসাকিনহীন এই সব শ্রমিকের দেহ চুষে খাবে শকুনেরা। শিয়ালেরা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28847149 http://www.somewhereinblog.net/blog/nasimulahsanblog/28847149 2008-09-24 01:12:06